ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট

শরীয়তপুর ১: বিএনপির কোন্দল বনাম জামায়াতের চ্যালেঞ্জ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৬ ২১:১১:০৬
শরীয়তপুর ১: বিএনপির কোন্দল বনাম জামায়াতের চ্যালেঞ্জ
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শরীয়তপুর সদর ও জাজিরা উপজেলা নিয়ে গঠিত শরীয়তপুর ১ আসনটি এখন রাজনৈতিক উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে এটি আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এখানে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ভোটের মাঠে নতুন নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছে।

বিএনপির প্রার্থী ও অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ

এই আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলামকে। তিনি মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই পথসভা গণসংযোগ ও মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাঁর পথ মসৃণ নয়। সাঈদ আহমেদ আসলামের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মাঠে নেমেছেন দলের আরেক প্রভাবশালী নেতা ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি সরদার এ কে এম নাসির উদ্দীন কালুর সমর্থকরা। গত ২৮ নভেম্বর জেলা শহরে মশাল মিছিল এবং ২৭ নভেম্বর জাজিরা উপজেলার কাজীর হাটে শরীয়তপুর ঢাকা সড়ক অবরোধ করে তাঁরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন যা বিএনপির জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী ও কৌশল

বিএনপির এই গৃহদাহের মধ্যে বেশ গুছিয়ে মাঠে নেমেছে জামায়াতে ইসলামী। এই আসনে দলটির মনোনয়ন পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ডক্টর মোশারফ হোসেন মাসুদ। উচ্চশিক্ষিত এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিত এই নেতা বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় বিশ্লেষকরা মনে করছেন বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে জামায়াত তাদের সুশৃঙ্খল ভোটব্যাংক এবং সাধারণ ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে। ডক্টর মোশারফ হোসেন মাসুদের ক্লিন ইমেজ এখানে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে।

অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী

মাঠের লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই অন্য দলগুলোও। এই আসন থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি তোফায়েল আহম্মেদ কাসেমী গণঅধিকার পরিষদ থেকে ইমরান আল নাজির এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক রিয়াজ মোর্শেদ প্রচারণায় রয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাজিরা উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত লেফট্যানেন্ট কর্নেল নজরুল ইসলাম রাসেলের নামও বেশ জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে।

ভোটের সমীকরণ

শরীয়তপুর ১ আসনটি মূলত সদর উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন এবং জাজিরা উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। অতীত পরিসংখ্যান বলছে ১৯৭৯ সালে একবার বিএনপি এবং ৮৬ ও ৮৮ সালে জাতীয় পার্টি জিতলেও বাকি অধিকাংশ সময় এটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। এবার আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় মূল লড়াইটা বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে বিএনপির বিদ্রোহী অংশ যদি শেষ পর্যন্ত নিস্ক্রিয় থাকে বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে তবে ভোটের ফলাফল যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে।


কোনটি প্রমাণিত হয়েছে?—দুর্নীতি ইস্যুতে মধ্যরাতে হাসনাতের বিস্ফোরক প্রশ্ন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৭ ০৯:২১:১৮
কোনটি প্রমাণিত হয়েছে?—দুর্নীতি ইস্যুতে মধ্যরাতে হাসনাতের বিস্ফোরক প্রশ্ন
হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ১১ মাসের অনুসন্ধান শেষে আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়ার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এরই পর শুক্রবার (৬ মার্চ) সে খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দুর্নীতি ইস্যুকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন এনসিপির নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। সেই স্ট্যাটাসে তিনি মূলত একটি প্রশ্ন ছুড়েছেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, ‘এনসিপির বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে যেসব দুর্নীতির অভিযোগ আনা হচ্ছে, তার মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনটি প্রমাণিত হয়েছে?’

এদিকে তার এই পোস্টে একজন কমেন্ট করে লিখেছেন, ‘সত্যের পথে থাকুন। জনগণের সমর্থন পাবেন। গতানুগতিক রাজনীতিকে চূড়ান্ত লালকার্ড দেখাবে মানুষ। সময়ের ব্যাপার।’মিথিলা খুশবু নামে একজন লিখেছেন, ‘কারও কথা কানে না নিয়ে এগিয়ে যান। এদেশের মানুষ মুখে যাই বলুক মনে মনে একটা রাজনৈতিক পরিবর্তন সবাই চায় এবং সেটা অবশ্যই তরুণদের হাত ধরেই সম্ভব।’

এর আগে, শুক্রবার (৬ মার্চ) নিজের ফেসবুক পোস্টে মোয়াজ্জেম হোসেন লেখেন, দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, গত ৫ আগস্ট পরবর্তী সরকারে দায়িত্ব গ্রহণের পর উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রথমে তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে এবং পরে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন তদবির ও ব্যক্তিগত সুবিধা দেওয়ার জন্য চাপ তৈরি হয় বলে দাবি করেন তিনি। অনৈতিক সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং এক পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ৩১১ কোটি টাকার তদবির-বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে পোস্ট করা হয় বলে উল্লেখ করেন মোয়াজ্জেম। পরবর্তীতে কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে একই অভিযোগ প্রকাশিত হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, দুদকের অনুসন্ধান চলাকালে তিনি সংস্থাটিকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছেন। তবে এ সময় তাকে এবং তার পরিবারকে সামাজিক ও মানসিকভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

মোয়াজ্জেম হোসেন আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যম তার গ্রামের অন্য একজনের নির্মাণাধীন বাড়িকে তার নামে প্রচার করে সংবাদ প্রকাশ করেছে।

ফেসবুক পোস্টের শেষে তিনি দুদকের অনুসন্ধান ও নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত নথি সংযুক্ত করেন এবং সবার কাছে দোয়া চান। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি চাই শান্তিতে বাঁচতে আর কারও জীবনে যেন এমন মিথ্যা অভিযোগ ও হয়রানির অভিজ্ঞতা না আসে।’

/আশিক


অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা বাংলার নতুন মীরজাফর: মো. তাহের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৬ ১০:৪২:৪৩
অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা বাংলার নতুন মীরজাফর: মো. তাহের
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি দাবি করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টাকে বাংলার নতুন ‘মীরজাফর’ আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে সাবেক তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা ও সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের নাম উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে খলিলুর রহমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, ৫৩টি আসনে ভোট গ্রহণ নিয়ে অভিযোগ আছে জামায়াতের। সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানার বক্তব্যের মাধ্যমে বিগত সরকারের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগের ব্যাপারে জাতির কাছে অন্তর্বর্তী সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে। বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ছিলেন লন্ডন ষড়যন্ত্রের মূল হোতা। বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় আনতে তিনি বিগত সরকারের মধ্যে থেকে নানা ষড়যন্ত্র করেছেন।

আবদুল্লাহ তাহের আরও বলেন, সাবেক এই উপদেষ্টারা জাতির সুষ্ঠু নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষাকে ভণ্ডুুল করে দিয়েছেন। তারা বাংলার নতুন মীরজাফর। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অভিযুক্ত সাবেক দুই উপদেষ্টাকে আইনের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।

তিনি বলেন, গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু এই সরকার সংস্কার প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে নানাভাবে জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে। সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এটা সরকারের স্পষ্ট ব্যর্থতা।

জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, সংবিধানের আলোকে সরকারের পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাব পেলে ডেপুটি স্পিকার পদ নিয়ে ভেবে দেখবে জামায়াত। তবে সে ক্ষেত্রে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে।

তিনি বলেন, পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকে ইরান যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রত্যাশা করেছে জামায়াতের প্রতিনিধিদল। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং দেশের তরুণদের কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে দুই দেশের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

/আশিক


নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৫ ২২:০২:৩৩
নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির সিনিয়র নেতাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় নিঃশর্ত ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত ৯টা ১১ মিনিটে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি। তার পোস্টটি নিচে হুবহু দেওয়া হলো।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে বিএনপির একজন সিনিয়র নেতাকে নিয়ে আমাকে আপত্তিকর মন্তব্য করতে দেখা যায়। ভিডিওটিতে একটি শিশুকেও কথা বলতে শোনা যায়, যা বিষয়টিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

উল্লেখ্য, ভিডিওটি নির্বাচনকালীন সময়ে ধারণ করা হয়েছিল এবং এটি আমাদের একটি ক্লোজড গ্রুপে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে গতকাল (৪ মার্চ) এই ভিডিওটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।ভিডিওটির জন্য আমি নিঃশর্ত আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। এই কাজটি করা কোনোভাবেই উচিত হয়নি। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে পারস্পরিক শালীনতা ও সৌহার্দ্য বজায় থাকে—তা নিশ্চিত করতে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

ফ্যাসিবাদ-উত্তর রাজনীতিতে ব্যক্তিগত আক্রমণ, ঘৃণা বা বিদ্বেষ ছড়িয়ে রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নষ্ট করার সংস্কৃতিকে আমরা কোনোভাবেই সমর্থন করি না। সুস্থ, সহনশীল ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চাই সবার প্রত্যাশা।

আমার কাজের জন্য আমি আবারও দুঃখপ্রকাশ করছি।

/আশিক


সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠনে অবহেলার পথে সরকার: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৫ ১৯:৩৩:৩৪
সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠনে অবহেলার পথে সরকার: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় দায়িত্ব বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) সন্ধ্যায় দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ন করে এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতিকে ব্যাহত করে এমন পদক্ষেপ জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। বিচারিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা এবং সংস্কার কার্যক্রম বিলম্বিত করার প্রচেষ্টাকে তিনি গভীর উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার গঠনের পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। তার দাবি, দুর্নীতিগ্রস্ত অভিজাত ও ঋণখেলাপিদের প্রভাবশালী পদে বসানো হয়েছে, যা দেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং জবাবদিহিতার দুর্বল প্রয়োগ জাতীয় সম্পদের অব্যবস্থাপনা ও শোষণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

এ সময় তিনি জানান, জাতীয় সংসদের ভেতরে ও বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই দায়িত্বশীল ও নীতিগত বিরোধিতায় জাতীয় নাগরিক পার্টি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ইফতার মাহফিলে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও অংশ নেন।

/আশিক


কৃষি ঋন ও বীমা এখন আরও সহজ: কৃষক কার্ড নিয়ে সরকারের মাস্টারপ্ল্যান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৫ ০৯:৪৬:২৫
কৃষি ঋন ও বীমা এখন আরও সহজ: কৃষক কার্ড নিয়ে সরকারের মাস্টারপ্ল্যান
ছবি : সংগৃহীত

পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উপলক্ষে আগামী ১৪ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, কর্মসূচি তদারকির জন্য অর্থ সচিবের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, কৃষি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেসসচিব বলেন, ‘কৃষক কার্ড কেবল একটি পরিচয়পত্র নয়; এটি দেশের প্রতিটি কৃষকের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতীক হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে ধাপে ধাপে কৃষকদের বিভিন্ন সরকারি সেবা দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘কৃষক কার্ডের আওতায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বীমার সুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ, কৃষি প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবহাওয়া ও বাজার সংক্রান্ত তথ্য এবং ফসলের রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে পরামর্শ পাবেন।’

এ সুবিধা শুধু শস্য উৎপাদনকারী কৃষকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; মৎস্য চাষী, প্রাণিসম্পদ খামারি ও দুগ্ধ খামারিরাও এই কার্ডের আওতায় আসবেন বলে জানান প্রেসসচিব।

সালেহ শিবলী বলেন, ‘প্রাক-পাইলট পর্যায়ে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সব শ্রেণির কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর দেশের ৮ বিভাগের ৯টি উপজেলার ৯টি ব্লকে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। নির্বাচিত উপজেলাগুলো হলো—টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুমিল্লা সদর ও কক্সবাজারের টেকনাফ।’

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করবে।এ কর্মসূচির আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা গড়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভর্তুকি বা কৃষি উপকরণ সহায়তা পাবেন।এ ছাড়া খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুমে নির্দিষ্ট শ্রেণির কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত হারে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে।

প্রেসসচিব জানান, প্রাক-পাইলট ও পাইলট পর্যায় শেষ করে আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

/আশিক


ব্যাংক ব্যালেন্স ফাঁস! দুর্নীতির জবাবে সপরিবারে ওপেন চ্যালেঞ্জ আসিফ মাহমুদের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ২১:৫৮:৪৯
ব্যাংক ব্যালেন্স ফাঁস! দুর্নীতির জবাবে সপরিবারে ওপেন চ্যালেঞ্জ আসিফ মাহমুদের
ছবি : সংগৃহীত

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের জবাবে ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব তুলে ধরেন তিনি।

বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ-সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে আমার আয় ও সম্পদের সম্পূর্ণ বিবরণী পেশ করে এসেছি। এরপরও যেহেতু এসব নিয়ে জল্পনা করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তখন আমি মনে করছি, আমার এবং আমার পরিবারের সবার ব্যাংক হিসাব জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা প্রয়োজন। যেন এই বিষয়গুলো নিয়ে কেউ কোনো ধরনের বিভ্রান্তি করতে না পারে।’

তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আমি শুধু আমার ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করার কথা জানিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে আমারসহ পরিবারের সবার ব্যাংক স্টেটমেন্ট উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিই, যেন এই বিষয়গুলোতে আর কোনো প্রশ্ন অবশিষ্ট না থাকে।’

পরিবারের সদস্যদের সম্পদের বিবরণ জানিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার বাবার পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। এই পাঁচটি ব্যাংকে মোট ক্রেডিট আছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। কিন্তু আমার বাবার সার্ভিস লোন আছে, উনি শিক্ষক হিসেবে ১০ লাখ টাকার একটি সার্ভিস লোন নিয়েছিলেন। যেটা প্রতি মাসে উনার সেলারি থেকে কেটে নেওয়া হয়। সার্ভিস লোনের এখনো পেমেন্ট বাকি আছে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা। সুতরাং, যা ক্রেডিট আছে সেটা যদি বাদ দিই তাহলে এখনো ৮২ হাজার ৩৫ টাকার মতো দেনায় আছেন তিনি।’

তিনি বলেন, ‘আমার মায়ের একটিই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। যেখানে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা আছে। এ ছাড়া আমার স্ত্রীর একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে, সেখানে ৬১৩ টাকা আছে। আর আমার নিজের দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। এরমধ্যে সোনালী ব্যাংকে আমার একটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট। এই অ্যাকাউন্টে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা আছে। আরেকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হলো আমার সেলারি অ্যাকাউন্ট। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় যাতায়াতসহ সরকারের অন্যান্য ভাতার লেনদেন এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই হতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ১৬ মাস দায়িত্বে ছিলাম। সেলারি গড়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার করে ধরে ভাতাসহ অন্যান্য সব লেনদেন এই অ্যাকাউন্টেই হয়েছে। বর্তমানে এই অ্যাকাউন্টে মোট ৯ লাখ ৭৮ হাজার6২৬ টাকা আছে। সব মিলিয়ে এই অ্যাকাউন্টে বেতনসহ মোট ক্রেডিট হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা। আর ডেবিট হয়েছে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে আমার দুটি অ্যাকাউন্টে মোট ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৬ টাকা রয়েছে।’


প্রশাসনিক গতি বাড়াতে দুই প্রভাবশালী উপদেষ্টার কাঁধে নতুন দপ্তরের ভার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১৬:২৪:৪৩
প্রশাসনিক গতি বাড়াতে দুই প্রভাবশালী উপদেষ্টার কাঁধে নতুন দপ্তরের ভার
ছবি : সংগৃহীত

সরকারের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অধিকতর গতিশীলতা আনতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দুই রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব ও দফতর পুনরবণ্টন করেছেন। বুধবার (৪ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী এই নতুন দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।

নতুন এই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মন্ত্রী পদমর্যাদার রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানকে তাঁর বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদের ওপর দেশের কৃষি খাতের তদারকির ভার অর্পণ করায় মন্ত্রণালয়টির কাজে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, অপর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী আহমেদকে তাঁর বর্তমান পদের সঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের শিল্প খাতের উন্নয়ন এবং নীতিনির্ধারণী বিষয়ে তিনি এখন থেকে সরাসরি ভূমিকা রাখবেন। সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই দুই উপদেষ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়াকে প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নজরুল ইসলাম খান এবং রুহুল কবীর রিজভী আহমেদকে পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের ১০ দিনের মাথায় তাঁদের দফতর সুনির্দিষ্ট করে দিয়ে এই নতুন আদেশ জারি করা হলো, যা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


এনসিপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ১০:২৫:৩১
এনসিপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এনসিপির লোগো ও যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস পল কাপুর। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস পল কাপুর বর্তমানে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে এনসিপির মিডিয়া উইং থেকে জানানো হয়েছে যে, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টায় পল কাপুরের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতাদের একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এনসিপির পাঠানো বার্তায় বৈঠকের সময় নিশ্চিত করা হলেও নিরাপত্তার খাতিরে এর স্থানটি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার পর দিল্লি হয়ে পল কাপুর ঢাকা পৌঁছালে বিমানবন্দরে তাঁকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

মার্কিন এই প্রভাবশালী কর্মকর্তার ঢাকা সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ আজ বুধবারের সূচি বেশ ব্যস্ততায় কাটবে। আজ তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে মিলিত হবেন। দিন শেষে সন্ধ্যায় আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্স আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং পরে তাঁর সম্মানার্থে আয়োজিত একটি নৈশভোজে অংশ নেবেন।

সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার এনসিপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গেও বৈঠক করবেন পল কাপুর। এছাড়া ওই দিন তিনি জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও রাজনৈতিক মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে। পল কাপুর প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন এবং সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে তাঁর সফর শেষ করবেন। মার্কিন দূতাবাসের মতে, এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অভিন্ন স্বার্থ রক্ষায় কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা।

/আশিক


আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব: ফেসবুকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন সাবেক উপদেষ্টা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৪ ০৯:২২:৩১
আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব: ফেসবুকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন সাবেক উপদেষ্টা
ছবি : সংগৃহীত

মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে আসিফ মাহমুদ নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং এর পাল্টা জবাব দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, স্বচ্ছতার খাতিরে আগামীকাল তিনি নিজেই তাঁর ব্যাংক স্টেটমেন্ট সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেবেন। এছাড়া পদত্যাগের আগেই তিনি তাঁর আয় ও সম্পদের যাবতীয় হিসাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়ে এসেছেন বলেও দাবি করেন।

এর আগে গত সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে বিএফআইইউর পক্ষ থেকে দেশের ৫৬টি তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের সব তথ্য বিএফআইইউতে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একদল ব্যক্তির দায়ের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এই অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন আসিফ মাহমুদ।

আসিফ মাহমুদ তাঁর ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন যে, ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে খেলতে না দেওয়ায় একটি পক্ষ ‘মব’ সৃষ্টি করে তাঁর বিরুদ্ধে দুদকে এই ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করেছে। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, দুদকে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি যেকোনো শাস্তি মেনে নিতে প্রস্তুত আছেন। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী এই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে এমন তদন্তের খবর রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: