এসপি পদায়নের লটারি কীভাবে হয়েছে তা বিস্তারিত জানালেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৬ ১৬:০৩:০৬
এসপি পদায়নের লটারি কীভাবে হয়েছে তা বিস্তারিত জানালেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের ৬৪ জেলায় পুলিশ সুপার বা এসপি পদায়ন করা হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়ায় লটারি পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল অব. মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন মেধার ভিত্তিতে কর্মকর্তাদের বেছে নেওয়ার পর কে কোন জেলায় যাবেন তা লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার ২৬ নভেম্বর সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে জেলাগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এসপি পদে পদায়নে প্রথমে মেধাবী কর্মকর্তাদের বেছে নেওয়া হয়েছে এবং মেধাবীরা কেউ বাদ পড়েননি। কে কোন জেলায় যাবেন তা নির্ধারণেই মূলত লটারির আয়োজন করা হয়েছিল।

এসপি নিয়োগে লটারির বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে গিয়ে তিনি বলেন সংবাদমাধ্যমে যে খবর এসেছে তা সঠিক এবং যেইভাবে লটারি করার কথা ছিল ওইভাবেই লটারি করে দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তিনটি ক্রাইটেরিয়া বা মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে যা হলো এ ক্যাটাগরি বি ক্যাটাগরি এবং সি ক্যাটাগরি। তিনি স্পষ্ট করেন যে এই ভাগ জেলার আয়তনের ভিত্তিতে করা হয়নি বরং করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।

মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন জেলাগুলো নির্ধারণ করার পর আমরা ঠিক করেছি এসপিদের কারে কারে দেব। ৬৪ জেলা থেকে ১৮ জনকে উঠিয়ে আনা হয়েছে এবং ১৮ জনের জায়গায় আবার নতুন কর্মকর্তা দেওয়া হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন লটারি করে যারটা যেই জেলায় বা যার কপাল যেখানে আছে ওই জেলায় পোস্টিং পড়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ইঙ্গিত দেন যে ওসিদের পদায়নও লটারির মাধ্যমে হতে পারে। ওসিদের পদায়ন লটারিতে হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন ইনশাআল্লাহ। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে প্রথমে মেধাবী এসপিদের বেছে নেওয়া হয়েছে এবং পরে মেধাবীদের মধ্যে কে কোন জেলায় যাবে সেটা লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে।


মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ২১:২১:৪৯
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উদ্যোগে প্রস্তাবিত ‘মক্কা ডিফেন্স প্যাক্ট’ বা নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তিতে যুক্ত হতে বাংলাদেশ আগ্রহী বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার প্রস্তাবিত নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিষয়টিকে ঢাকা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছে।

তিনি বলেন, মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা বহুমাত্রিক করতে বর্তমান সরকার কাজ করবে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উদ্যোগে গঠিত এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির বিষয়েও বাংলাদেশের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। তার নাগরিকত্ব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা এবং একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের প্রসঙ্গ উঠলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বাংলাদেশি। এখানে তো বাংলাদেশের... বাংলাদেশি। আমি মনে করি না এমন কেউ আছে যে আমার বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বা আমার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করবে।’

এ সময় একটি গণমাধ্যমে তার যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব নিয়ে সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি তুলে ধরলে তিনি বলেন, ‘আমি তো সিটিজেন নিয়ে আছি, আপনি বলেন নেটিজেন! কোন নিউজপেপার? কার এত জ্বালা যে কাজ করতে দেবে না, হ্যাঁ?’

পরে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়া দেশপ্রেমিক মানুষ, গণমাধ্যম, দেশবাসী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করবেন।

এদিন সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে হুমায়ুন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশই কাজ করছে। ঢাকা ও দিল্লির সুবিধাজনক সময়ে সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।

বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক বক্তব্যকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে কূটনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করা তার অন্যতম দায়িত্ব। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

—সত্য প্রতিবেদন/আশিক


ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নে হুমায়ুন কবিরের পাল্টা প্রশ্ন, ‘কার এত জ্বালা?’

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ২০:১৮:০৭
ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নে হুমায়ুন কবিরের পাল্টা প্রশ্ন, ‘কার এত জ্বালা?’
ছবি : সংগৃহীত

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তার দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সংবাদ প্রকাশের প্রসঙ্গ উঠলে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘কার এত জ্বালা?’

সোমবার (২৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ব্রিটিশ নাগরিকত্বের বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি বাংলাদেশি। এখানে তো বাংলাদেশের... বাংলাদেশি। আমি মনে করি না এমন কেউ আছে, যে আমার বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বা আমার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করবে।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জন্য কাজ করা কোনো সুবিধাবাদী ব্যক্তির কাজ নয়।

এ সময় সাংবাদিকরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে এবং এ নিয়ে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি শুনে প্রতিমন্ত্রী জানতে চান, কোথায় এ আলোচনা হয়েছে। এক সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হওয়ার কথা জানালে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি তো সিটিজেন নিয়ে আছি, আপনি বলেন নেটিজেন! মানে কোন নেটিজেন? আমি তো সিটিজেন নিয়ে আছি, কাজ করি। আপনি বলেন নেটিজেন!’

এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোন সংবাদপত্রে এ নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কার এত জ্বালা যে মানে কাজ করতে দেবে না, হ্যাঁ? তো তাঁর জ্বালা কেন হচ্ছে? তার কি ২০০৮-এর জ্বালা উঠছে নাকি আবার? মইনুদ্দীন-ফখরুদ্দীনের জ্বালা উঠছে তার আবার? নাকি?’

পরে দেশের স্বার্থে জোরালো অবস্থান নেওয়া মানুষ, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়া দেশপ্রেমিক মানুষ, গণমাধ্যম, দেশবাসী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করবেন।

হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নটি সামনে আসে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার শপথ নেওয়ার পর। সিলেটে জন্মগ্রহণ করলেও আড়াই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে চলে যান তিনি। সেখানে বেড়ে ওঠার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

—সত্য প্রতিবেদন/আশিক


দলিলে এক নাম, খতিয়ানে আরেক—মালিক কে হবেন?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ১৯:৪৮:৪৭
দলিলে এক নাম, খতিয়ানে আরেক—মালিক কে হবেন?
ছবি : সংগৃহীত

জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকার কিংবা সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে বিরোধ বাংলাদেশে নতুন নয়। অনেক সময় জমির নিবন্ধিত দলিলে এক ব্যক্তির নাম থাকলেও সরকারি রেকর্ডে অন্য ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়। আবার কোনো জমি দীর্ঘদিন ধরে অন্য কেউ দখলে রেখেছেন—এমন ঘটনাও রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, আইন অনুযায়ী জমিটির প্রকৃত মালিক কে?

জমির মালিকানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণত নিবন্ধিত দলিল, সরকারি রেকর্ড বা খতিয়ান এবং বৈধ দখল—এই বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো একটি নথিকে সব পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। মালিকানার ইতিহাস, দলিলের বৈধতা, রেকর্ডের ধারাবাহিকতা এবং দখলের আইনগত অবস্থাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়।

বাংলাদেশে জমির সরকারি রেকর্ডের মধ্যে সিএস (CS), এসএ (SA), আরএস (RS), বিএস (BS) এবং বিভিন্ন এলাকায় চলমান বিডিএস (BDS) জরিপের খতিয়ান রয়েছে। জমির মালিকানা যাচাইয়ের সময় পুরোনো রেকর্ড থেকে সর্বশেষ রেকর্ড পর্যন্ত মালিকানার ধারাবাহিকতা দেখা গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ আগের মালিক কে ছিলেন, পরবর্তী সময়ে কীভাবে মালিকানা পরিবর্তিত হয়েছে এবং সেই পরিবর্তনের পেছনে বৈধ দলিল বা অন্য কোনো আইনগত ভিত্তি রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও যাচাই করা হয়।

শুধু সর্বশেষ খতিয়ানে কোনো ব্যক্তির নাম থাকলেই সব ক্ষেত্রে মালিকানা চূড়ান্ত হয়ে যায় না। আগের খতিয়ান, নিবন্ধিত দলিল এবং মালিকানা হস্তান্তরের ধারাবাহিকতার মধ্যেও সামঞ্জস্য থাকতে হয়। তাই জমি কেনার আগে শুধু বর্তমান রেকর্ড দেখলেই যথেষ্ট নয়; মালিকানার পুরো ইতিহাস যাচাই করা প্রয়োজন।

জমি কেনা, দান বা হেবার মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিল গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। তবে দলিলের বৈধতা নির্ভর করে যিনি জমিটি হস্তান্তর করেছেন, তার ওই সম্পত্তির ওপর বৈধ মালিকানা বা হস্তান্তরের আইনগত অধিকার ছিল কি না, তার ওপর। বিক্রেতার নিজের মালিকানাই যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে তার করা দলিল নিয়েও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এ কারণে জমি কেনার আগে বিক্রেতার মালিকানার উৎস, পূর্ববর্তী দলিল, খতিয়ান, নামজারি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করা জরুরি। মালিকানার ধারাবাহিকতায় কোনো অসঙ্গতি থাকলে শুধু একটি নিবন্ধিত দলিলের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করা জটিল হয়ে উঠতে পারে।

জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের দখলের বিষয়টিও অনেক সময় আলোচনায় আসে। তবে কোনো ব্যক্তি ১২ বছর জমি দখলে রাখলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই জমির মালিক হয়ে যান—এমন ধারণা সঠিক নয়। প্রতিকূল দখল বা adverse possession-এর দাবি নির্দিষ্ট আইনগত শর্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। দখল কী ধরনের ছিল, প্রকৃত মালিকের অধিকার কী ছিল এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি নিজের অধিকার রক্ষায় কোনো আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছেন কি না—এসব বিষয়ও বিবেচনায় আসতে পারে।

তাই দীর্ঘদিন কোনো জমিতে বসবাস, চাষাবাদ বা দখলে থাকাকে একাই মালিকানার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ধরা ঠিক নয়। এ ধরনের দাবি থাকলে সংশ্লিষ্ট নথি ও পরিস্থিতির ভিত্তিতে আইনগতভাবে বিষয়টি প্রমাণ করতে হয়।

জমির প্রকৃত মালিক নির্ধারণের ক্ষেত্রে সাধারণত একাধিক প্রমাণকে একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে সিএস থেকে সর্বশেষ জরিপ পর্যন্ত রেকর্ডের ধারাবাহিকতা, বৈধ ও ত্রুটিমুক্ত নিবন্ধিত দলিল, আইনসম্মত দখল, পূর্ববর্তী মালিকানা ও হস্তান্তরের ইতিহাস এবং নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন করসংক্রান্ত নথি গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ বৈধ দলিল, ধারাবাহিক সরকারি রেকর্ড এবং আইনসম্মত দখল—এই বিষয়গুলোর সমন্বিত প্রমাণ জমির মালিকানা নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে প্রতিটি জমির মালিকানার ইতিহাস আলাদা হওয়ায় কোনো একটি সাধারণ নিয়ম সব ক্ষেত্রে একইভাবে প্রয়োগ করা যায় না।

জমি নিয়ে বিরোধ, মালিকানা নিয়ে মামলা বা নথিপত্রে অসঙ্গতি থাকলে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করে আইনজীবী বা ভূমি বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ জমির ধরন, রেকর্ডের ইতিহাস, দলিলের বৈধতা, দখলের প্রকৃতি এবং চলমান মামলার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আইনি অবস্থান ভিন্ন হতে পারে।

/আশিক


মির্জা ফখরুলকে শি জিনপিংয়ের অভিনন্দন, যা বললেন চীনের প্রেসিডেন্ট

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ১৯:৩৬:৩৪
মির্জা ফখরুলকে শি জিনপিংয়ের অভিনন্দন, যা বললেন চীনের প্রেসিডেন্ট
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সোমবার (২৪ আগস্ট) পাঠানো এক অভিনন্দনবার্তায় তিনি বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

অভিনন্দনবার্তায় শি জিনপিং বাংলাদেশ ও চীনকে ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫১ বছরে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উভয় দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ ও উদ্বেগের বিষয়গুলোতেও পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা করে আসছে দুই দেশ।

চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, নিজ নিজ আধুনিকায়নের পথে বাংলাদেশ ও চীন একসঙ্গে কাজ করেছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ ও পরীক্ষার মধ্যেও দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থিতিশীলভাবে এগিয়ে গেছে।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়নকে চীন অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে শি জিনপিং বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কাজ করে দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়া এবং কৌশলগত যোগাযোগ জোরদার করতে তিনি আগ্রহী।

তিনি আরও বলেন, চীন উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক বিনিময় ও সহযোগিতা আরও গভীর করতে চায়। এর মাধ্যমে নতুন যুগে চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারত্ব আরও গভীর ও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শি জিনপিং আশা করেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের এই অগ্রগতির সুফল দুই দেশের জনগণ আরও বেশি উপভোগ করতে পারবেন।

/আশিক


সবাইকে প্রস্তুত নিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেতে হবে: সিইসি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ১৯:২৬:১২
সবাইকে প্রস্তুত নিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেতে হবে: সিইসি
ছবি : সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুধু নির্বাচন কমিশনের একার বিষয় নয় বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীকেও প্রস্তুত থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবাই প্রস্তুত হলেই বোঝা যাবে নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন প্রস্তুত।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘এক্সিকিউটিভ লিডারশিপ ডায়ালগ’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সিইসি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ কবে নির্ধারণ করা হবে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, এখনই নির্দিষ্ট তারিখ বলা সম্ভব নয়। নির্বাচনের সময় নির্ধারণ অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রস্তুতি চূড়ান্ত হওয়ার পর ভোটের আয়োজন করা হবে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে কিছু আইন ও বিধি সংশোধনের কাজ চলছে। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে প্রস্তাব তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের সঙ্গে কিছু বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করে সিইসি বলেন, নির্বাচনে পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজন হবে। তাই এসব বিষয়ে সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্বাচন কমিশনই নির্ধারণ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে। ভোটের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে আবহাওয়া, বর্ষাকাল, বন্যা, পূজা ও পাবলিক পরীক্ষার মতো বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

সম্প্রতি পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি জানান, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পুলিশের প্রস্তুতি, দেশের বিভিন্ন এলাকার পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের জন্য কত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা সম্ভব হবে—এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশকে কিছু পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

সিইসি বলেন, জাতীয় নির্বাচন যেভাবে আয়োজন করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন তার চেয়ে ভালো হবে; কোনোভাবেই খারাপ হবে না। সবার সহযোগিতা নিয়ে এই নির্বাচন সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

/আশিক


স্কুলের খাবার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজর, হবে পাইলট প্রকল্প

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ১৮:০৯:০৮
স্কুলের খাবার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজর, হবে পাইলট প্রকল্প
ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যালয় পর্যায়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রম পরিচালনা, খাবারের পুষ্টিমান এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষার্থীদের দেওয়া খাবার অবশ্যই পুষ্টিকর, নিরাপদ ও মানসম্মত হতে হবে এবং খাদ্যের মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের চলমান কার্যক্রম, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা ও ঝরে পড়া রোধে ট্রাস্টের ভূমিকা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত জানানো হয়।

এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের জন্য চালু হওয়া সার্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রভাব ও অর্জন নিয়েও আলোচনা হয়। ওই কর্মসূচির ফলে মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো, শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিবাহ নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল বলে বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

এই প্রেক্ষাপটে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য সার্বজনীন উপবৃত্তি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাই করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে সম্ভাব্য ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং এর প্রত্যাশিত সামাজিক ও শিক্ষাগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে ছেলেদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি সমান গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। মিড-ডে মিল কার্যক্রম বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয়, ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ এবং খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দুটি বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

দুটি পদ্ধতির কার্যকারিতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা ও সম্ভাব্য ফলাফল যাচাই করতে পৃথক দুটি জেলায় প্রতিটি পদ্ধতির জন্য পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এসব প্রকল্পের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হবে।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


গ্যাস সরবরাহে গতি আনতে এলএনজি আমদানির নতুন অনুমোদন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ১৮:০৪:৪৩
গ্যাস সরবরাহে গতি আনতে এলএনজি আমদানির নতুন অনুমোদন
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান থেকে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

সোমবার (২৪ আগস্ট) অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৪১তম সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপস্থাপিত এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত প্রস্তাবের বিবরণ অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার পোসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকে আগামী ১৩-১৪ সেপ্টেম্বর সময়ের মধ্যে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪.৬২৫ মার্কিন ডলারে এক কার্গো এলএনজি কেনা হবে। এছাড়া যুক্তরাজ্যের টোটাল এনার্জিস থেকে ২৩-২৪ সেপ্টেম্বর সময়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪.২৫ মার্কিন ডলার দরে আরও এক কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। সভায় এলএনজি ক্রয়ের এই প্রস্তাবসহ মোট ১৩টি উন্নয়ন ও ক্রয় প্রস্তাব উপস্থাপন ও অনুমোদন পায়।

/আশিক


ধর্ষণের পর হত্যা বেড়েছে ৮১ শতাংশ, আজও একই প্রশ্ন নারীর নিরাপত্তায়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ০৮:২৪:৪৫
ধর্ষণের পর হত্যা বেড়েছে ৮১ শতাংশ, আজও একই প্রশ্ন নারীর নিরাপত্তায়
ছবি : সংগৃহীত

দেশে নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ভয়াবহতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত বছর পুরো ১২ মাসে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছিলেন ৫৫ জন; অথচ চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই এ ধরনের মৃত্যুর সংখ্যা ৫৮ জনে পৌঁছেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এমন তথ্য সামনে এসেছে। মাসিক গড় তুলনা করলে ধর্ষণের পর হত্যার হার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৮১ শতাংশ বেশি। এমন উদ্বেগজনক বাস্তবতার মধ্যেই আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) পালিত হচ্ছে ইয়াসমিন হত্যা দিবস বা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস।

দিনটি বাংলাদেশের নারী অধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর অধ্যায়ের স্মারক। ১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট দিনাজপুরের কিশোরী ইয়াসমিন ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশের একটি টহল দলের হাতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়। তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়েছিল। পরে তার মরদেহ সড়কের পাশে পাওয়া যায়। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দিনাজপুরে তীব্র গণআন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশের গুলিতে সাতজন নিহত হন। পরবর্তী সময়ে ২৪ আগস্ট নারী নির্যাতন প্রতিরোধের প্রতীকী দিনে পরিণত হয়।

ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ পর্যন্ত হয়েছিল। ১৯৯৭ সালে রংপুরের বিশেষ আদালত তিন পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং ২০০৪ সালে তাদের দণ্ড কার্যকর হয়। কিন্তু তিন দশকের বেশি সময় পরও ইয়াসমিনের ঘটনা যে প্রশ্ন সামনে এনেছিল নারী ও কন্যাশিশু কতটা নিরাপদ তার সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি। বরং সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান যৌন সহিংসতার আরও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে, ২০২৫ সালে দেশে অন্তত ৭৪৯টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। এর মধ্যে ৫৬৯টি একক এবং ১৮০টি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা। গত পাঁচ বছরে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন দুই শতাধিক নারী ও শিশু। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর এসব পরিসংখ্যান মূলত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ও তাদের কাছে আসা ঘটনার ভিত্তিতে তৈরি হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বিশেষ করে যেসব ঘটনা মামলা বা সংবাদমাধ্যম পর্যন্ত পৌঁছায় না।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাম্প্রতিক তথ্যও পরিস্থিতির গভীরতা নির্দেশ করছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে দেশে ২৫৮ নারী ও ৮৩ কন্যাশিশুসহ মোট ৩৪১ জন নারী ও কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছেন। তাদের উপস্থাপিত পরিসংখ্যানে ৬৩টি ঘটনা ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই মহিলা পরিষদের হিসাবে ১ হাজার ৩৫ নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। ওই সময় ২৫০ জন ধর্ষণ, ৬৫ জন সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং অন্তত ১৮ জন ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। একই সময়ে ৫৩ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছিল।

সাম্প্রতিক কয়েকটি নৃশংস ঘটনা এই পরিসংখ্যানের পেছনে থাকা মানবিক বিপর্যয়কেও সামনে এনেছে। মাদারীপুরের শিবচরে ২৮ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে ফারুক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ওই নারীর এক বছর বয়সী শিশুসন্তানকেও আড়িয়াল খাঁ নদীতে ফেলে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় ধর্ষণের পর পরিচয় গোপন করা, অপরাধের আলামত নষ্ট করা কিংবা ভুক্তভোগী যাতে সাক্ষ্য দিতে না পারেন এমন উদ্দেশ্য হত্যাকাণ্ডের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মানবাধিকারকর্মীরা মনে করেন।

নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার পেছনে একক কোনো কারণ নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম সমাজে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা, মাদকের বিস্তার এবং অপরাধের কার্যকর বিচার না হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন। তার বক্তব্যে নৃশংসতার মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এসব ঘটনা নিয়ে কাজ করা মানবাধিকারকর্মীরাও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন।

‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’-এর প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতাকে বড় প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখছেন। তার মতে, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের পাশাপাশি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে মামলা উচ্চ আদালতে যাওয়ার পর সাধারণ ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে পড়ে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালও আইন থাকার পাশাপাশি তার কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণের প্রক্রিয়ায় পুলিশ, চিকিৎসক, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও বিচারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত সহযোগিতা না থাকলে ভুক্তভোগীর বিচার পাওয়ার পথ কঠিন হয়ে যায়। এর সঙ্গে সামাজিকভাবে নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির অর্থনৈতিক, সামাজিক বা রাজনৈতিক প্রভাব যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌন সহিংসতার মামলায় ঘটনার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা ও দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ দ্রুত নথিভুক্ত করা, সময়মতো মেডিক্যাল পরীক্ষা, ডিএনএসহ ফরেনসিক আলামত যথাযথভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে মামলার প্রমাণভিত্তি শক্তিশালী হয়। শিশু ভুক্তভোগীদের ক্ষেত্রে বয়সোপযোগী ও শিশুবান্ধব পরিবেশে সাক্ষ্য ও জিজ্ঞাসাবাদের ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শিশুদের বয়স অনুযায়ী ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, নিরাপদ ও অনিরাপদ স্পর্শ, যৌন হয়রানি শনাক্ত করা এবং বিপদের ক্ষেত্রে কোথায় সহায়তা চাইতে হবে এসব বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ‘পারিবারিক সম্মান’ বা সামাজিক মর্যাদা রক্ষার অজুহাতে নির্যাতনের অভিযোগ গোপন করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ রয়েছে।

ইয়াসমিন হত্যার ৩১ বছর পর তাই ২৪ আগস্ট কেবল একটি মর্মান্তিক ঘটনার স্মরণদিবস নয়; দিনটি রাষ্ট্র ও সমাজের সামনে জবাবদিহির প্রশ্নও তুলে ধরে। ইয়াসমিন হত্যায় দোষীদের সর্বোচ্চ সাজা কার্যকর হয়েছিল, কিন্তু নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছে কেবল কঠোর আইন বা শাস্তির বিধান যথেষ্ট নয়। অপরাধ প্রতিরোধ, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ফরেনসিক সক্ষমতা, সাক্ষী ও ভুক্তভোগীর সুরক্ষা, সময়োপযোগী বিচার এবং নারীর প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন সবগুলো ক্ষেত্রেই সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

-রফিক


বিশ্বব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ পদে সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার নতুন দায়িত্ব

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৩ ২১:০৯:৪১
বিশ্বব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ পদে সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার নতুন দায়িত্ব
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানকে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট কনস্টিটিউয়েন্সির ‘বিকল্প নির্বাহী পরিচালক’ পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আগামী তিন বছরের জন্য তিনি চুক্তিভিত্তিক এ দায়িত্ব পালন করবেন।

রবিবার (২৩ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।

প্রজ্ঞাপনের শর্তানুযায়ী, আবদুর রহমান খানের অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) ও তৎসংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিতের শর্তে এই নিয়োগ কার্যকর হবে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কোনো ধরনের কর্ম-সম্পর্ক বজায় রাখতে পারবেন না। যোগদানের দিন থেকে পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত ওয়াশিংটনে তার এই মেয়াদ কার্যকর থাকবে এবং অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

উল্লেখ্য, মো. আবদুর রহমান খান ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। এর পূর্বে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চলতি বছরের ২৯ জুন এনবিআর চেয়ারম্যান হিসেবে তার নিয়মিত সরকারি চাকরির মেয়াদ সম্পন্ন হয়।

/আশিক

পাঠকের মতামত: