চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি নিয়ে রিটকারীর পেছনে ভোমা বিড়াল বসে আছে: অ্যাটর্নি জেনারেল

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি পরিচালনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিদেশি কোম্পানির চুক্তির বৈধতা নিয়ে রিটকারীর পেছনে ভোমা বিড়াল বসে আছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। মঙ্গলবার ২৫ নভেম্বর রিটের শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন যিনি এই রিট করেছেন তিনি একজন ফ্যাট ক্যাট বা ভোমা বিড়াল। তিনি ফ্যাট ক্যাটের পক্ষে এসেছেন। মানে পেছনে কোনো ভোমা বিড়াল বসে আছে টাকা পয়সা নিয়ে। তিনি আরও যোগ করেন পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য রেখে সামনে তারা জনস্বার্থের কথা শোনাচ্ছেন যেটাকে আইন পরিভাষায় বলা হয় ফ্যাট ক্যাট। তারা জনস্বার্থের বিষয়ে আসেননি বরং তারা কিছু ভোমা বিড়ালের স্বার্থ রক্ষার জন্য এসেছেন।
অনেক রাজনৈতিক নেতারাও মিছিল করছেন এবং কথা বলছেন এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন তারা তাদেরটা করতে পারেন তবে আমরা আমাদের আইনি যুক্তি তুলে ধরেছি।
এর আগে সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিদেশি কোম্পানির চুক্তির বৈধতা নিয়ে জারি করা রুলের শুনানি শেষে এ বিষয়ে আগামী ৪ ডিসেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।
রিট আবেদনের শুনানিতে রিটকারীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ ও ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
উল্লেখ্য গত ১৩ নভেম্বর আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছিলেন রুলের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এনসিটি বিদেশিদের কাছে হস্তান্তর করা হবে না। এর আগে গত ৩০ জুলাই এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তির প্রক্রিয়া কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
হাদি হত্যায় অভিযুক্তদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ডিএমপির গোয়েন্দা প্রধান (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, দীর্ঘ তদন্ত ও প্রাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ডিবি প্রধান বলেন, অভিযুক্ত ১৭ জনের মধ্যে ১২ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি ৫ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া ভিডিও বার্তা প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম স্পষ্ট করেন যে, কেউ ভিডিও বার্তা দিতেই পারে, তবে তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অকাট্য তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোডে হাদির ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা ও গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এভারকেয়ারে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় এবং ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে পল্টন থানায় মামলা করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ৩০২ (হত্যা) ধারায় রূপান্তর করা হয়। আদালতের নির্দেশে মামলাটির দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে বলে ডিবি সূত্রে জানা গেছে।
রিমান্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জামিন: সুরভীকে নিয়ে নাটকীয় মোড়
সকাল থেকে চলা টানটান উত্তেজনা ও বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জামিন পেলেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম লড়াকু মুখ তাহমিনা জান্নাত সুরভী। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তাঁর জামিন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পুলিশের তোলা অভিযোগ ও রিমান্ড আদেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুরভীর কারামুক্তির পথ সুগম হলো।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অফিশিয়াল পেজে লেখা হয়েছে, “আলহামদুলিল্লাহ, তাহমিনা সুরভীর জামিন মঞ্জুর হয়েছে।” আজ সকালে গাজীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সুরভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময় সুরভী চিৎকার করে পুলিশ কর্মকর্তা এসআই ফারুকের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির যে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলেন, তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের মুখে সন্ধ্যার পর তাঁর জামিনের এই আদেশ এল।
উল্লেখ্য যে, গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে টঙ্গী পূর্ব থানার গোপালপুর টেকপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে সুরভীকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে জুলাই-আগস্টের হত্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে সুরভীর পরিবার ও আইনজীবীরা শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে, এটি একটি ভুয়া মামলা এবং পুলিশ মূলত ঘুষ না পেয়েই এই হয়রানি চালিয়েছে।
সুরভীর জামিন মঞ্জুরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গাজীপুর আদালত চত্বরে উপস্থিত তাঁর সহযোদ্ধা ও স্বজনদের মধ্যে খুশির জোয়ার বয়ে যায়। সুরভীর আইনজীবী জানিয়েছেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং শীঘ্রই সুরভী কারাগার থেকে বাড়িতে ফিরবেন। একজন জুলাইযোদ্ধাকে এভাবে সাজানো মামলায় হয়রানি করার ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
মা... ওই ফারুক আছে না? টাকা দিই নাই বলে রিমান্ডে নিচ্ছে: সুরভী
“মা... ওই ফারুক আছে না? ফারুক রিমান্ডে চাইছে, ওকে টাকা দিই নাই এ জন্য।” আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) গাজীপুরের আদালত চত্বরে প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময় নিজের মাকে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করে এভাবেই আর্তনাদ করেন জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা তাহমিনা জান্নাত সুরভী। এসআই ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে সরাসরি ঘুষ দাবি এবং বয়স জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আজ সুরভী যে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন, তা নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে সারা দেশ।
গাজীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আজ সুরভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। সুরভীর আইনজীবীদের অভিযোগ, সুরভীর প্রকৃত বয়স মাত্র ১৭ বছর হওয়া সত্ত্বেও মামলার নথিতে তাঁকে ২১ বছর দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। প্রিজন ভ্যান থেকে সুরভী আরও দাবি করেন যে, কোনো প্রকার তদন্ত রিপোর্ট ছাড়াই ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন এবং এই মামলার চারজন আসামির মধ্যে কেবল তাকেই টার্গেট করে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম মো. ওমর ফারুক, যিনি কালিয়াকৈর থানার মৌচাক পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এবং এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। সুরভীর তোলা ঘুষের অভিযোগটি গণমাধ্যমের কাছে অস্বীকার করেছেন তিনি। তবে সুরভীর পরিবারের দাবি, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় গুলশান ও বাড্ডা এলাকায় সংঘটিত হত্যা মামলায় নাম দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং বিভিন্ন সময়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে সাজানো এই মামলায় সুরভীকে ফাঁসানো হয়েছে।
সুরভীর আইনজীবী এই মামলাকে সম্পূর্ণ ‘ভুয়া’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন যে, তারা আগামীকালই আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করবেন। উল্লেখ্য যে, গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে টঙ্গীর গোপালপুর টেকপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। এক ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে করা এই মামলায় সুরভীকে যেভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে, তা নিয়ে মানবাধিকার কর্মী ও জুলাই বিপ্লবের সহযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
মাহমুদুর রহমান মান্নার ভোটযুদ্ধ শেষ: আদালত দিল বড় রায়
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নির্বাচনী স্বপ্নে বড় ধাক্কা লেগেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে তাঁর করা রিটটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিচারপতি মো. বজলুর রহমান এবং বিচারপতি মো. মনজুর আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাহমুদুর রহমান মান্না আর অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে যে মাহমুদুর রহমান মান্নার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান 'আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড' বর্তমানে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের কাছে ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বকেয়া ঋণে জর্জরিত। গত ৩ ডিসেম্বর ব্যাংকের বগুড়া বড়গোলা শাখা থেকে পাওনা অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে একটি 'কল ব্যাক নোটিশ' জারি করা হয়। উক্ত নোটিশে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। লাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে মুনাফা এবং মূল অর্থ পরিশোধ না করায় প্রতিষ্ঠানটিকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই দায় মাথায় নিয়েই মান্না আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কিন্তু আইনগতভাবে তিনি কোনো সুরাহা পাননি।
আদালতে মাহমুদুর রহমান মান্নার পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া শুনানি করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি খারিজ করার আদেশ দিলে মান্নার নির্বাচনী অংশগ্রহণের পথ কার্যত রুদ্ধ হয়ে যায়। তবে তাঁর আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া জানিয়েছেন যে হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে তাঁরা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। ২০১০ সালে ২২ কোটি টাকা বিনিয়োগ অনুমোদন পাওয়ার পর বর্তমান সুদে-আসলে সেই ঋণের পরিমাণ ৩৮ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
উল্লেখ্য যে আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডে মাহমুদুর রহমান মান্নার ৫০ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। বাকি অংশীদারিত্ব রয়েছে তাঁর ব্যবসায়ী পার্টনার এবিএম নাজমুল কাদির শাজাহান চৌধুরী এবং তাঁর স্ত্রীর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে মাহমুদুর রহমান মান্নার মতো একজন হেভিওয়েট প্রার্থীর অযোগ্য ঘোষণা হওয়া নাগরিক ঐক্যের জন্য বড় একটি রাজনৈতিক বিপর্যয়। নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী খেলাপি ঋণের দায়মুক্ত না হলে কোনো নাগরিকের সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ নেই যার কোপে পড়লেন এই প্রবীণ নেতা।
ঋণের নামে লুটপাট: এস আলমের সাম্রাজ্যে দুদকের হানা
জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার দুদকের চট্টগ্রাম-১ কার্যালয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়।
মামলা দুটিতে এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদসহ মোট ৬৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় আসামি করা হয়েছে ৩২ জনকে এবং অপরটিতে ৩৬ জনকে। ঋণের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই আইনি ব্যবস্থা নিল দুদক।
দুদকের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ জানিয়েছেন, প্রথম মামলাটি করা হয়েছে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে ২ হাজার ৩২ কোটি ৩০ লাখ ৪৫ হাজার ৯১৮ টাকা ৪০ পয়সা আত্মসাতের অভিযোগে।
এই মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে সাইফুল আলম মাসুদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তার সঙ্গে আসামি হয়েছেন পরিচালক আব্দুল্লাহ হাসান, সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেডিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল আলমসহ এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালকবৃন্দ।
এছাড়া ঋণ জালিয়াতিতে সহায়তার অভিযোগে জনতা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও এই মামলার আসামি করা হয়েছে। মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০০৯ সালের ২৫ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৬ মার্চ পর্যন্ত কোভিড প্রণোদনা এবং এলটিআর লোনসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ঋণ নিয়ে এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডের বিরুদ্ধে। এই প্রতিষ্ঠানের নামে ১ হাজার ১৫২ কোটি ৫১ লাখ ১৪ হাজার ১০৭ টাকা ৫২ পয়সা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই মামলায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক শাহানা ফেরদৌস, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসকাত আহমেদ এবং জনতা ব্যাংকের দুইজন কর্মকর্তাসহ মোট ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে এই অনিয়ম চলেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
উভয় মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ধারা অনুযায়ী অর্থ পাচারের অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে।
আমি হালুয়া-রুটি খাওয়া সাংবাদিক নই: রিমান্ড শুনানিতে আনিসের হুঙ্কার
রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়েরকৃত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত তবে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন যে কোনো রাজনৈতিক বাধার মুখে তিনি নতি স্বীকার করবেন না এবং ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকবেন না। সোমবার বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে রিমান্ড শুনানিকালে এই কলমযোদ্ধা তার বক্তব্যে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে তিনি গত দুই যুগ ধরে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সরকারকে যেমন প্রশ্নবানে বিদ্ধ করেছেন ঠিক তেমনি বর্তমান ইউনূস সরকার বা ভবিষ্যতের যেকোনো সরকারকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পিছপা হবেন না। নিজেকে হালুয়া রুটি খাওয়া সুবিধাবাদী সাংবাদিকের কাতারে ফেলতে নারাজ আনিস আলমগীর বিচারককে উদ্দেশ্য করে বলেন যে তালেবানদের হাতে আটক হওয়ার সময়েই তার মন থেকে মৃত্যুভয় চিরতরে দূর হয়ে গেছে এবং সত্য বলার ক্ষেত্রে তিনি আপসহীন।
শুনানির এক পর্যায়ে তিনি অভিযোগের সুরে বলেন যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চাইলে গোটা দেশকে কারাগার বা দোজখে পরিণত করতে পারেন কিন্তু প্যারিস ও নিউইয়র্কে বসে থাকা দুইজন ব্যক্তি নির্বাচন বানচালের যে নীল নকশা আঁকছে তার বিরুদ্ধে কথা বলায় তাকে আজ কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন যে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে অন্যায্য সুবিধা পাইয়ে দিতেই প্রধান উপদেষ্টার কাছে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ সাজানো হয়েছে এবং তাকে ফেসবুকে লেখালেখি ও টেলিভিশন টকশোতে কথা বলা থেকে বিরত রাখার গভীর চক্রান্ত চলছে। নিজের পেশাগত সততার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে কারো কাছে নতজানু হওয়া তার কাজ নয় এবং যারা তাকে নির্দিষ্ট কোনো দলের গোলাম বানাতে চায় তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং এর আগে রোববার সন্ধ্যায় তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেন ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।
বিদায়ী অভিভাষণে নিজের ও বিচার বিভাগের ভুল স্বীকার করলেন প্রধান বিচারপতি
বিচারকদের অনেক অভিমতই রাষ্ট্র ও ইতিহাসের গতিপথ নির্ধারণে অসামান্য ভূমিকা রাখে। তবে অতীতের ভুল স্বীকার করে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন বিচারকদের নৈতিক বিচ্যুতিই জনসাধারণকে শেষ পর্যন্ত জুলাই আগস্টের রক্তক্ষয়ী প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার অন্যতম অনুঘটক।
আগামী ২৭ ডিসেম্বর দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে অবসর গ্রহণের আগে রোববার ১৪ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে দেওয়া বিদায়ী অভিভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
বিচার বিভাগের আত্মসমালোচনা বিদায়ী অভিভাষণে প্রধান বিচারপতি অকপটে স্বীকার করেন যে বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্বে বিচার বিভাগ অসাংবিধানিক ক্ষমতা অপশাসন ও রাষ্ট্রীয় কপট কৌশলের অঘোষিত সহযোগী হিসেবেও পরিগণিত হয়েছে। তিনি বলেন দুঃশাসনের বলয়কে আবরণ দিয়েছেন অনেক বিচারক। অন্যায় ও অবিচারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত হয়েছেন। এই সত্য অস্বীকার করা যায় না।
রাজনীতি ও বিচারক বিচারকদের রাজনীতির ঊর্ধ্বে ওঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন কেবল ক্ষমতাবান শাসক শ্রেণির পক্ষে প্রয়োজনীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্ব নিলে বিচার বিভাগের আলাদা কোনো অস্তিত্বেরই প্রয়োজন নেই। সে কাজের জন্য নির্বাহী বিভাগ ও পুলিশই যথেষ্ট। তিনি বিচারকদের সতর্ক করে বলেন পছন্দসই পদায়নের জন্য রাজনৈতিক পদলেহন পরিহার করতে হবে। অসৎ ও অসাধু বিচারকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
জ্ঞান অর্জনের তাগিদ বিচারকদের কেবল প্রথাগত আইনের বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন প্রথাগত পড়াশোনার বাইরে এসে সমাজ সংস্কৃতি নৃতত্ত্ব ইতিহাস অর্থনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তার জগতে জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত করতে হবে। সেই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিবেশ বিজ্ঞান ও সাইবার নিরাপত্তার মতো আধুনিক বিষয়েও বিচারকদের বিচরণ বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।
পৃথক সচিবালয় ও স্বাধীনতা ঐতিহাসিক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন পৃথক সচিবালয় এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে এদেশের আপামর জনসাধারণের সাংবিধানিক সব অধিকার সুরক্ষিত করার প্রধান নিয়ন্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বিচারকদের দ্বারা সৃষ্ট যাবতীয় অন্যায়ের জন্য এখন থেকে অন্যের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ বন্ধ করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং বার কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
গণহত্যার আড়ালে ইন্টারনেট বন্ধের পরিকল্পনায় জয়ের ভূমিকা
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত গণহত্যার তথ্য আড়াল করতে ইন্টারনেট বন্ধের পরিকল্পনার মূল নকশা প্রণয়ন করেছিলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। আর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তাই বাংলাদেশি আইনের আওতায় জয়ের বিচার অবশ্যই বাংলাদেশের আদালতেই হওয়া উচিত বলে তিনি মত দেন।
বুধবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জয় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলেও বিচার থেকে তিনি অব্যাহতি পাবেন না। তার ভাষায়, জয় কখনো বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কহীন ছিলেন না। তিনি সরকারি বিশেষ উপদেষ্টা, প্রজাতন্ত্রের বেতনভুক্ত কর্মী এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের অংশ ছিলেন। বিশেষ করে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
চিফ প্রসিকিউটর অভিযোগ করেন, আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পিতভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যার ঘটনা গোপন করার চেষ্টা হয়েছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন জয়। দেশজুড়ে নৃশংসতার খবর যাতে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে না পৌঁছায়, সেই উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ডিজিটাল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, পলক দেশে বসে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন। আর পরিকল্পনার “নির্দেশদাতা” হিসাবে জয়ের ভূমিকা পরিষ্কার। তাই আইন অনুযায়ী তার বিচার বাংলাদেশের আদালতেই হওয়া আবশ্যক।
ঘটনার সময় জয় দেশে ছিলেন না এই প্রসঙ্গে তাজুল ইসলাম বলেন, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময় শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক নয়। দেশের বাইরে থেকেও ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া বা হত্যার হুমকি প্রদান করা যেতে পারে।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ঘটনাসংক্রান্ত সবপ্রকার প্রমাণ, নথিপত্র ও সাক্ষ্য আদালতে ইতিমধ্যেই জমা রয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়ায় এসব প্রমাণ একে একে উপস্থাপিত হলে পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
এদিন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয়কে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
-রফিক
১২ কোটি টাকার অভিযোগ, এনামুরের কর ফাইল জব্দ
দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের আয়কর সংক্রান্ত সব নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান দুদকের আবেদনের পর শুনানি শেষে এ আদেশ প্রদান করেন।
দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় ডা. এনামুর রহমান ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী তার নামে অনিয়মিতভাবে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ ৯২ হাজার ৭৮৫ টাকা।
এছাড়া তার পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিশ্লেষণে দুদক আরও উদ্বেগজনক তথ্য পেয়েছে। এসব হিসাবে ৬ কোটি ৪৩ লাখ ৪৯ হাজার ১৮ টাকা সন্দেহজনক লেনদেন জমা হয়েছে এবং ৬ কোটি ২৬ লাখ ৮ হাজার ৪৮৭ টাকা উত্তোলনের অসঙ্গতিরও প্রমাণ মিলেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১২ কোটি ৬৯ লাখ টাকার মানিলন্ডারিং–সংক্রান্ত অভিযোগ দুদক তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার মতো তথ্য পেয়েছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
দুদক জানায়, এই মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করতে ডা. এনামুর রহমানের প্রথম করবর্ষ থেকে ২০২৪–২৫ করবর্ষ পর্যন্ত সব আয়কর নথি পর্যালোচনা জরুরি। সংশ্লিষ্ট নথি ঢাকার কর অঞ্চল–১০-এ সংরক্ষিত থাকায় সেগুলো জব্দে আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। আদালত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নথিগুলো জব্দের অনুমোদন দেন।
মামলার প্রসিকিউশন পক্ষের আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমি বলেন, দুদকের সহকারী পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা পাপন কুমার সরকার প্রয়োজনীয় নথি জব্দের আবেদন আদালতে উপস্থাপন করেছিলেন, যা আদালত গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করেছেন।
দুদকের মতে, এসব নথি সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পর অভিযোগ আরও সুস্পষ্ট হবে এবং তদন্ত দ্রুত অগ্রসর করা সম্ভব হবে।
পাঠকের মতামত:
- অর্থনীতি, রাজনীতি ও প্রযুক্তির চাপ বিশ্বে অনিশ্চয়তা, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
- ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও ইরানে হামলার সম্ভাবনা কম: আরাগচি
- ঘরোয়া উপায়ে আঁচিল দূর করবেন যেভাবে
- রেমিট্যান্স ও ডলার বাজার: আজকের বৈদেশিক মুদ্রার দর
- শৈত্যপ্রবাহের কবলে পঞ্চগড়: সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড
- আ’লীগের ভোট কার বাক্সে? শুরু হয়েছে বিএনপি-জামায়াতের নীরব লড়াই
- হাতিয়ায় মাটির নিচ থেকে বের হচ্ছে আগুন! গ্যাস রহস্যে তোলপাড় এলাকা
- সিলিন্ডার গ্যাস চলবে দ্বিগুণ সময়! খরচ বাঁচানোর জাদুকরী কৌশল
- গিজার লাগবে না! বিনা খরচে ছাদের ট্যাংকের পানি উষ্ণ রাখার ৫টি ঘরোয়া উপায়
- চালের গুঁড়া ছাড়াই ঝটপট পাটিসাপটা তৈরির সহজ গোপন টিপস
- জীবন বদলাতে ১০ মিনিটই যথেষ্ট! সকাল ১০টার আগের বিশেষ টিপস
- খামেনিকে চরম হুমকি! ইরানে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন ট্রাম্প
- রোগ প্রতিরোধে ডালিম পাতার যাদুকরী ব্যবহার
- প্রতিদিন কমলা খাওয়ার স্বাস্থ্যগত সুফল
- গ্রিনল্যান্ড দখল না নিলে রাশিয়া-চীন আসবে: ট্রাম্প
- ডিএসইতে সরকারি বন্ড সংক্রান্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
- কেন ৯১-এর পর বদলে গেল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা? জানুন খালেদা জিয়ার সাহসী ভূমিকা
- অডিট আপত্তি ও গুরুত্বের বিষয়, তিন প্রতিষ্ঠানের হিসাব
- ডিএসইতে মির সিকিউরিটিজের গুরুত্বপূর্ণ আপডেট
- সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে ৪২৯ কোটি টাকার লেনদেন
- টিভির পর্দায় আজকের সব খেলার সূচি
- আজ ১০ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
- তরুণদের রক্তে ভাসছে তেহরান! মেশিনগানে ব্রাশফায়ার ও গণকবর? জ্বলছে ইরান
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- ফ্যাসিবাদের কবর খুঁড়তে গণভোট! জানুন কেন ‘হ্যাঁ’ জয়ী করতে মরিয়া সব দল
- স্বর্ণের পর রুপার দামেও বড় ছাড়! আজ থেকে কার্যকর নতুন মূল্য
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- দিন-রাত কখন সমান হয় জানেন কি, জানুন বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ডি ইউনিট পরীক্ষার চিত্র, ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা কবে?
- ক্ষমতার মালিক হবে জনগণ, বললেন আমীর খসরু
- তিতাসের গ্যাস সরবরাহে গ্রাহকদের জন্য দুঃসংবাদ
- পাবনার দুই আসনে ভোট বন্ধের খবর ভুল: নির্বাচন কমিশন
- নির্বাচনবিরোধীরাই মোসাব্বির হত্যায় জড়িত: সালাহউদ্দিন
- বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর বার্তা তেহরানের
- কলকাতায় বাংলাদেশ ভিসা কেন্দ্র খোলা, আবেদন জমা পড়ছে
- ইরান সরকারকে হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- এসএসসি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ
- পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্টে ফি নতুন নীতিমালা কার্যকর
- কোরআন ও হাদিসে জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত
- ছাত্র সংসদ নির্বাচন জাতীয় ভোটে প্রভাব ফেলে না: মির্জা ফখরুল
- ডিএসইর সাপ্তাহিক পূর্ণাঙ্গ বাজার বিশ্লেষণ
- পিএসএলে রেকর্ড, ১৮৫ কোটি রুপিতে বিক্রি যে দল
- খাগড়াছড়িতে রাতের অভিযানে অবৈধ গ্যাস গুদাম ধরা পড়ল
- আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশ
- নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিন প্রস্তাব
- ঢাকার প্রেস থেকে ভোটকেন্দ্র: কীভাবে যাবে ব্যালট
- আজ টিভিতে যত খেলা: বিপিএল থেকে বুন্দেসলিগা
- আজ ঢাকায় বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান
- ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা কবে
- কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য লম্বা ছুটি ঘোষণা
- এসএসসি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ
- নতুন বছরে স্বর্ণের বাজারে বড় পরিবর্তন, আজ থেকে সোনার দর নিম্নমুখী
- বুধবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- ৮ জানুয়ারি ডিএসই মেইন বোর্ডের লেনদেন চিত্র
- ৪ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে আজ শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী তালিকা
- কাত্তালী টেক্সটাইলের শেয়ারে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর
- ০৫ জানুয়ারি আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- এক নজরে ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের সর্বশেষ NAV
- এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের চমক,ডিসেম্বরে রেকর্ড সংখ্যক ভ্যাট নিবন্ধন
- দৈনিক এনএভিতে কী বার্তা পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা
- শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতি, শীর্ষ ২০ শেয়ারের তালিকা বিশ্লেষণ
- দুই কোম্পানির ক্রেডিট রেটিং প্রকাশ, বাজারে প্রতিক্রিয়া
- বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ








