বিশেষ প্রতিবেদন
আলী রীয়াজকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী নিয়োগ: জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নতুন সমীকরণ?

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন সদ্য মেয়াদ শেষ হওয়া জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনে তাঁর নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে যে, বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব পালনকালে আলী রীয়াজ উপদেষ্টার পদমর্যাদা, বেতন কাঠামো ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজের নিয়োগকে রাজনৈতিক মহল অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের বিশিষ্ট অধ্যাপক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক রাজনীতি, গণতন্ত্র, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সুশাসন নিয়ে গবেষণার সাথে সম্পৃক্ত। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সংবিধান সংস্কার কমিশন (National Reform Commission) এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অসংখ্য সংলাপ, সনদপ্রণয়ন প্রক্রিয়া এবং জটিল মতভেদ নিরসনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। পরে তাঁকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি করা হয়, যেখানে তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোট প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক আস্থা পুনর্গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
৩১ অক্টোবর জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক কাঠামো নির্মাণ, সংস্কার বাস্তবায়নের রোডম্যাপ এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে অধ্যাপক আলী রীয়াজকে বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, চলমান রাজনৈতিক ধাঁধা, সংস্কারকেন্দ্রিক মতভেদ এবং জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় প্রধান উপদেষ্টার অত্যন্ত কাছের একজন মস্তিষ্ক হিসেবে আলী রীয়াজকে এগিয়ে আনা একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
এ নিয়োগে স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের কাঠামো, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রধান উপদেষ্টা একটি অভিজ্ঞ, গবেষণা-নির্ভর এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতি–বিশ্লেষকের ওপর নির্ভর করতে চাইছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সংলাপ-অভিজ্ঞতা প্রধান উপদেষ্টার সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে বলেই মনে করছে বিভিন্ন মহল।
অধ্যাপক আলী রীয়াজের নতুন ভূমিকা অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি–চিন্তা কোন দিকে যাচ্ছে, জুলাই সনদের কোন অংশ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, এবং গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে আয়োজনের পরিকল্পনা কতটা বাস্তবসম্মত—এসব প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দুতেও তাঁকে নিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর নেতৃত্বে রাজনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়া আরও বেগবান ও পদ্ধতিগত হতে পারে, এমন প্রত্যাশাও রয়েছে বিশ্লেষকদের একটি অংশের।
এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর অনেকেই নতুন এই নিয়োগকে সরকার–দল সম্পর্ক মেরামত, আস্থার সংকট কাটানো এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, রাজনৈতিক মেরুকরণের এই সময়টিতে সংলাপ-অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন নীতি–বিশ্লেষককে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের রোডম্যাপ, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, গণভোটের সম্ভাব্য তারিখ এবং সার্বিক রাজনৈতিক সংকটের সমাধানে এই নিয়োগ কী প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
প্রধানমন্ত্রী ১০০ টাকায় লাঞ্চ করেন, আমরা মন্ত্রীরাও তাই করি: সখীপুরে আযম খান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন শুরু করে দিয়েছেন এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক খাতকে একটি শক্ত ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চান বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। সোমবার (৬ জুলাই) টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা হলরুমে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি সখীপুর উপজেলা শাখা আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন’ শীর্ষক এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, “আমি এটি বলবো না যে তিনি মাত্র ৫ বছরেই বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করে ফেলবেন। তবে তিনি যদি রাষ্ট্র পরিচালনায় আরও কিছু সময় পান, তাহলে সত্যিকার অর্থেই নিজ দূরদর্শিতায় বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে একটি উন্নত ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রে নিয়ে যাবেন।”
সরকারের প্রশাসনিক ও কাঠামোগত ইতিবাচক পরিবর্তনের বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজে দুপুর বেলা মাত্র ১০০ টাকার সাধারণ খাবার খান, যা বর্তমানে সখীপুরের মতো এলাকাতেও পাওয়া কঠিন। আমরা মন্ত্রীরাও এখন প্রত্যেকে দুপুর বেলা এই ১০০ টাকার খাবারই খাই। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সকাল পৌনে ৯টার মধ্যে দপ্তরে চলে আসেন। পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে আমাদের ওপরেও; আমরা মন্ত্রীরা এখন প্রতিদিন পৌনে ৯টার মধ্যে যার যার অফিসে হাজির থাকি। এমনকি আমার দপ্তরে কোনো দিন সাড়ে ৮টা বা পৌনে ৯টায় গেলেও দেখবেন আমি উপস্থিত আছি। অর্থাৎ শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনটা একদম শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু হয়ে গেছে।”
দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে যে ধস বা স্থবিরতা নেমে এসেছে, আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই ভগ্নদশা থেকে এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে বের করে নিয়ে আসতে হবে। শিক্ষক সমাজের কাছে বর্তমান নতুন জাতি ও রাষ্ট্রের অনেক বড় বড় প্রত্যাশা রয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানের সুশৃঙ্খল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব বেগম নার্গিস সিদ্দিকা, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি সখীপুর উপজেলা শাখার সভাপতি খুরশিদ জাহান এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক টিটুসহ স্থানীয় শিক্ষা খাতের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
/আশিক
গুলশান-বনানী লেকের দূষণ রোধ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ
রাজধানীর গুলশান-বনানী-বারিধারা ও নিকেতন লেকের সার্বিক পরিবেশ সুরক্ষা, মারাত্মক পানি দূষণ রোধ এবং একটি সুশৃঙ্খল সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৬ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষ সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সভার বিস্তারিত গণমাধ্যমকে জানিয়ে বলেন, গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার বহুতল ভবনগুলোর অভ্যন্তরীণ পয়ঃনিষ্কাশন (স্যুয়ারেজ) সংযোগ ব্যবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা এবং এই গুরুত্বপূর্ণ লেকগুলোকে সম্পূর্ণরূপে দূষণমুক্ত করার সার্বিক কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যেই মূলত এই জরুরি সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লেকের তলদেশে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ, পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যান্য সংস্থাগুলোকে এককভাবে কাজ না করে সম্পূর্ণ সমন্বিতভাবে মাঠে নামার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ঢাকার এই অভিজাত এলাকার লেকগুলোকে দূষণমুক্ত ও সচল করতে ইতিমধ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বহুমুখী বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার প্রাথমিক ও জরুরি অংশ হিসেবে গুলশান-বনানী এলাকার যেসব আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের ক্ষতিকারক পয়ঃবর্জ্য সরাসরি পাইপের মাধ্যমে লেকের পানিতে গিয়ে পড়ছে, তা অবিলম্বে কঠোর হস্তে রোধ করা এবং ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন।
সভায় লেকের পরিবেশ আমূল বদলে দিতে সর্বাধুনিক স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) বা পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের বিষয়েও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কারিগরি আলোচনা করা হয়। এছাড়া লেক এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত চারপাশের সবকটি খাল যাতে পলিথিন ও অন্যান্য ময়লায় ভরাট না হয়, সেজন্য সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ এবং পানির প্রাকৃতিক প্রবাহ সচল রাখতে আধুনিক খনন বা ড্রেজিংয়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীতো হয়। একই সঙ্গে কড়াইল বস্তির বিশাল জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন গৃহস্থালি বর্জ্য যাতে সরাসরি লেকের পানিতে মিশে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটাতে না পারে, সেজন্য সেখানে বিশেষ কী ধরনের টেকসই কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া যায়, তা নিয়েও সভায় পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা হয়েছে বলে জানান উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
উচ্চপর্যায়ের এই নীতি-নির্ধারণী সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সচিব এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
/আশিক
‘ভূতুড়ে বিলের’ সুনির্দিষ্ট কারণ ও অভিযোগ সমাধানের উপায় জানালেন বিদ্যুৎ সচিব
সদ্য বিদায়ী জুন মাসে সাধারণ গ্রাহকদের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অসংখ্য অভিযোগ আসার প্রেক্ষিতে এর সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ ও সম্ভাব্য সমাধানের উপায় ব্যাখ্যা করেছেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি ‘ভূতুড়ে বিল’ সংক্রান্ত যাবতীয় সংকটের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের মূল কারণগুলো ব্যাখ্যা করে বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে জুন মাসে বিলের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি শুধুমাত্র ট্যারিফ বা বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে ঘটেনি, বরং এই সময়ে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের সামগ্রিক ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়াটাও অন্যতম একটি প্রধান কারণ। তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যুতের অফিশিয়াল দাম বৃদ্ধি, তীব্র গরমে গ্রাহকদের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া এবং অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বিল উচ্চতর স্ল্যাবে (ধাপে) প্রবেশ করার কারণেই মূলত অনেকের বিল অস্বাভাবিক এসেছে। তবে সাধারণ এই কারণগুলোর বাইরে কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিভাগের মাঠপর্যায়ের করণিক ভুল বা টাইপিংয়ের ভুলও তারা শনাক্ত করতে পেরেছেন এবং সে ধরনের অভিযোগগুলো নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ইতিমধ্যে যথাযথ প্রতিকার করা হয়েছে।
করণিক ভুলের একটি সুনির্দিষ্ট উদাহরণ তুলে ধরে সচিব বলেন, খাগড়াছড়িতে সম্প্রতি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত করণিক ভুল প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে এক সাধারণ গ্রাহকের প্রকৃত ব্যবহৃত বিদ্যুৎ ইউনিট মাত্র ৭০ হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু ডেটা এন্ট্রির সময় অসাবধানতাবশত করণিক ভুলের কারণে সেটি কাগজে-কলমে ৭০০ ইউনিট হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে যায়।
ফলে নতুন বর্ধিত বিদ্যুতের মূল্য দিয়ে যখন ওই বিশাল ইউনিটকে গুণ করা হয়, তখন গ্রাহকের কাছে একটি অস্বাভাবিক ও কাল্পনিক বিল চলে আসে। এ ঘটনার সুরাহা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলা ও করণিক ভুলের জন্য দায়ী বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আইন অনুযায়ী কঠোর বিভাগীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং একই সঙ্গে ভুক্তভোগী গ্রাহকের বিলটি সম্পূর্ণ সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ সচিব আরও জোর দিয়ে বলেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে আসা সব ধরনের ‘ভূতুড়ে বিলের’ অভিযোগ অনুসন্ধান ও দ্রুত সত্যতা যাচাইয়ের জন্য দেশের প্রতিটি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাকে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ও কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও সরকার দেশের সাধারণ গ্রাহকদের স্বস্তির কথা বিবেচনা করে বিদ্যুৎ খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দেওয়া অব্যাহত রেখেছে, যাতে করে উৎপাদনের সম্পূর্ণ ব্যয়ের চাপ সাধারণ মানুষের ওপর না পড়ে।
সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতের সার্বিক উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা, সিস্টেম লস সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা, প্রিপেইড ও স্মার্ট মিটারিং ব্যবস্থার দ্রুত সম্প্রসারণ এবং গ্রাহক সেবার মানোন্নয়নে মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বক্তব্যের শেষাংশে সচিব বলেন, যেসব সম্মানিত গ্রাহকের নিজস্ব বিদ্যুৎ বিল সম্পর্কে কোনো ধরনের সন্দেহ, অসঙ্গতি বা অভিযোগ রয়েছে, তাদের আতঙ্কিত না হয়ে সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার স্থানীয় কার্যালয়ে যোগাযোগের জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হচ্ছে। গ্রাহকদের সুবিধার্থে প্রয়োজন হলে ল্যাবে মিটার পরীক্ষা করা, বিল পুনর্যাচাই করা এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তির সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
/আশিক
অক্টোবরে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, প্রথম ধাপে ইউপি ও পৌরসভায় ভোটের সম্ভাবনা
আগামী অক্টোবর মাস থেকে দেশে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আইনি ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে প্রায় সব স্তরের বকেয়া নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর নির্বাচন ভবনে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় সাপেক্ষে মাত্র এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই এসব নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি শেষ করা সম্ভব। কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভাগুলোতে ভোট গ্রহণ করা হতে পারে। পুরো দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচন কমিশনার জানান, কোন স্তরের নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে কমিশনের চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও বাস্তবতা ও প্রশাসনিক কারণে প্রথমে ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। উপজেলা পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে এই দুটি নির্বাচনের গুরুত্ব থাকায় এগুলো আগে শেষ করে পরে উপজেলা নির্বাচনের দিকে এগোবে ইসি।
নির্বাচনের সময়সূচি বা তফসিল নির্ধারণের ক্ষেত্রে পাবলিক পরীক্ষা, ধর্মীয় উৎসব, বর্ষা মৌসুম এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক ও যোগাযোগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হবে। এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা বা চিঠি না এলেও ইসি নিজস্ব উদ্যোগে প্রাথমিক প্রস্তুতি এগিয়ে রাখছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ বর্তমানে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সংশোধিত আচরণবিধির খসড়া এরই মধ্যে ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মতামত চাওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত মতামত যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় সংযোজন ও বিয়োজন করা হবে। নতুন বিধিমালায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যার মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি অন্যতম।
এবারের নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না। এছাড়া ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ও পোস্টাল ব্যালটের ব্যবহার বাতিল করা হয়েছে এবং জাতীয় নির্বাচনের মতো পোস্টার ব্যবহারের সুযোগও থাকছে না। বর্তমানে দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং আনসার সদস্যদের প্রাথমিকভাবে দায়িত্ব পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন যেহেতু অঞ্চলভিত্তিক ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হবে, তাই প্রতিটি ধাপের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপের নিরাপত্তা ছক তৈরি করা হবে। আব্দুর রহমানেল মাছউদ উল্লেখ করেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে অতীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোতে সংঘাত বেশি হতো, তবে এবার সহিংসতা কমিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার মান স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ধরে রাখতে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম ও ভোটারদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে কমিশন।
এদিকে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে ইসি ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে এবং নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন করতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
/আশিক
বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতালের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ, না মানলে বাতিল হবে লাইসেন্স
দেশজুড়ে নিরাপদ মাতৃসেবা নিশ্চিত করতে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। আগামী শনিবার (১১ জুলাই)-এর মধ্যে দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে বাধ্যতামূলকভাবে লেবার রুম (ডেলিভারি রুম) স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রসূতি ও নবজাতকের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে মানসম্মত ডেলিভারি সেবা থাকা অপরিহার্য। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লেবার রুম স্থাপন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কোনো ধরনের ছাড় দেবে না। যেসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক সরকারি নির্দেশনা অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিলসহ আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিসরে জনবল নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এক লাখ নতুন জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার নারী নিয়োগ পাবেন এবং সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে মিডওয়াইফদের। সরকারের লক্ষ্য হলো মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য এবং দক্ষ জনবলনির্ভর করে তোলা।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, গত দুই মাস ধরে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে লার্ভা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ট্যাবলেট সরবরাহের কার্যক্রমও শুরু হবে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বাধ্যতামূলক লেবার রুম স্থাপনের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে নিরাপদ প্রসবসেবা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যুঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে নতুন জনবল নিয়োগ এবং মিডওয়াইফের সংখ্যা বাড়ানো হলে দেশের প্রাথমিক ও মাতৃস্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘোষিত সময়সীমা শেষে সারাদেশে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-রফিক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়া। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন রাষ্ট্রদূত।
সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এটি ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
বৈঠকে সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের শুভেচ্ছা ও বার্তা পৌঁছে দেন। চিঠির বিষয়বস্তু আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, কূটনৈতিক মহলের ধারণা, দুই দেশের সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ এবং চলমান সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো এতে গুরুত্ব পেয়েছে।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। শ্রমবাজার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা, হজ ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক কূটনীতি এসব ক্ষেত্র দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। যদিও আলোচনার বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি, তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে সহায়ক হতে পারে।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। সৌদি প্রতিনিধিদলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের উপ-রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আবদুল্লাহ।
-রফিক
কলকাতার সেনা আবাসিকে কেন তিন বাংলাদেশি জেনারেল? নতুন তথ্য ঘিরে বাড়ছে নানা প্রশ্ন
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে সম্প্রতি কলকাতার একটি সুরক্ষিত সেনা আবাসিক এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলে একাধিক নিরাপত্তা সূত্রের দাবি। এই তিনজন হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (বরখাস্ত) মো. মুজিবুর রহমান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন এবং মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ। বিষয়টিকে ঘিরে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঢাকা ও কলকাতার একাধিক নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এর আগে তারা কলকাতার সল্টলেক ও নিউ টাউনের সঞ্জিবা গার্ডেন কমপ্লেক্সে পরিবারসহ বসবাস করছিলেন। তবে সম্প্রতি তাদের সেখান থেকে সরিয়ে হুগলি সেতুর (হাওড়া ব্রিজ) নিকটবর্তী একটি উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত সেনা আবাসিক এলাকায় নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রগুলোর দাবি।
নিরাপত্তা সূত্রগুলোর ভাষ্য, সাধারণ মানুষের প্রবেশ যেখানে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত, এমন একটি সামরিক আবাসিক এলাকায় এই তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে স্থানান্তরের ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ। তাদের মতে, বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং এর পেছনে বৃহত্তর কৌশলগত বিবেচনাও থাকতে পারে।
সূত্রগুলোর আরও দাবি, এই তিন কর্মকর্তা নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গেও বৈঠক করছেন। তাদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ভবিষ্যতে আবার রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনার সম্ভাব্য কৌশল নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নিরাপত্তা সূত্রের তথ্যমতে, কলকাতার সিটি সেন্টার-২ এবং পার্ক স্ট্রিট এলাকায় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তাদের একাধিক বৈঠক হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এমনকি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গেও তাদের সাক্ষাতের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সূত্রগুলোর ভাষ্য।
তিন কর্মকর্তার মধ্যে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (বরখাস্ত) মো. মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। তাদের মতে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, আয়নাঘর পরিচালনা এবং বিরোধী দল দমনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। একই সঙ্গে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র' (RAW)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে বাংলাদেশের সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। পরে ১১ সেপ্টেম্বর তাকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর তিনি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে যান বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
অন্যদিকে সাবেক ডিজিএফআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেনের বিরুদ্ধেও গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনে ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রগুলোর মতে, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন এবং বিরোধী দল দমনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদের বিরুদ্ধেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর তিনি দেশত্যাগ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। পরবর্তীতে বিশেষ ব্যবস্থায় তিনি তামাবিল সীমান্ত হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন বলেও জানা গেছে।
এদিকে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশ বিষয়টিকে বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর মতে, ভারত যদি সত্যিই এই সাবেক কর্মকর্তাদের বিশেষ নিরাপত্তা দিয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। তার ভাষায়, "ভারত তাদের কেবল মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছে—এমনটি মনে করার সুযোগ খুব কম। ভবিষ্যতে তাদের বিভিন্ন কৌশলগত প্রয়োজনে ব্যবহার করা হতে পারে।"
আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক অধ্যাপক এম শহীদুজ্জামানও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এসব সাবেক কর্মকর্তা বাংলাদেশের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামো সম্পর্কে অত্যন্ত স্পর্শকাতর তথ্য জানেন। ফলে তাদের বিদেশে অবস্থান এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক যোগাযোগ জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি আরও বলেন, যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের উচিত আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা সরকারের একাধিক সাবেক সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা দেশ ছেড়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং অন্যান্য সংস্থায় মামলা ও তদন্ত চলমান রয়েছে।
-সূত্র: আমার দেশ।
নিরাপত্তা কৌশল যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না ঠেলে, পিজিআরকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল যেন কোনোভাবেই সরকারপ্রধানকে দেশের সাধারণ জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে সর্বোচ্চ ও বিশেষভাবে নজর রাখার জন্য প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) সকল স্তরের কর্মকর্তাদের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে তিনি জনগণের বিশ্বাস, আস্থা এবং ভালোবাসার ওপরই নিজের পূর্ণ নির্ভরতা বজায় রাখতে চান। তাই নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি, যাতে দেশের সাধারণ মানুষ নিজেদের সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন বা দূরবর্তী মনে না করেন। এই বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করার জন্য তিনি পিজিআর সদস্যদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদেরই এই মর্যাদাপূর্ণ রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়ম অনুযায়ী অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে। যেহেতু পিজিআর সেনাবাহিনীরই অধীন একটি অত্যন্ত বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান, তাই পেশাদারিত্ব, অটল আনুগত্য এবং কঠোর শৃঙ্খলার সমন্বয়ে সদস্যরা নিজেদের ওপর অর্পিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন বলেই তিনি প্রত্যাশা করেন।
পিজিআরের মূল দায়িত্বটিকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের (ভিআইপি) নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্ব পালন করা এই বাহিনীর অন্যতম প্রধান কর্তব্য। এই কঠিন দায়িত্ব পালনকালে তাদের প্রতিনিয়ত নানামুখী জটিল ও স্পর্শকাতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তবে সব পরিস্থিতিতেই পিজিআর সদস্যরা তাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ এবং নিখুঁত কর্তব্যপরায়ণতার মাধ্যমে নিজেদের একটি অনন্য সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করতে সক্ষম হয়েছেন।
এই অনন্য শৃঙ্খলার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি স্বরূপ ‘পিজিআর’ চলতি বছর মর্যাদাপূর্ণ ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারে মনোনীত হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। এই অসামান্য সাফল্যের জন্য তিনি বাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সশস্ত্রবাহিনীকে দেশের গৌরব এবং জনগণের সাহসের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর অকুতোভয় ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা আমাদের সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, দেশের সশস্ত্রবাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখে, তবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনই কোনো হুমকির মুখে পড়বে না।
পিজিআরের আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বিশেষায়িত বাহিনীর সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখার পাশাপাশি আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করা অত্যন্ত অপরিহার্য। বর্তমান আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে প্রথাগত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বহুমাত্রিক ও নতুন ঘরানার নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাই সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন হামলা কিংবা তথ্যযুদ্ধের মতো সর্বাধুনিক ক্ষেত্রগুলোকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।
এসব আধুনিক চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করতে শুধুমাত্র পিজিআরই নয়, বরং দেশের প্রতিটি বাহিনীকেই যুগোপযোগী ও বিশ্বমানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রাখা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। তারেক রহমান আরও আশ্বাস দেন যে, সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ‘সফিস্টিকেটেড’ বাহিনীগুলোকে আরও বেশি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
বক্তব্যের শুরুতে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে পিজিআরের গোড়াপত্তনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে মূলত ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ নামে একটি নতুন রেজিমেন্ট প্রথম আত্মপ্রকাশ করেছিল। পরবর্তীতে তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর এই ইউনিটটির সাংগঠনিক কাঠামো সংস্কার করে ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’ বা পিজিআর নামকরণ করেন, যা এই বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান করে।
পিজিআরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই ঐতিহাসিক দিনে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় শোকাবহ এবং হৃদয়বিদারক অধ্যায়ের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে মহান স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরণের সময় কর্তব্য পালনরত পিজিআরের কয়েকজন সাহসী সদস্যও ঘাতকদের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হয়েছিলেন। আজকের এই বিশেষ দিনে তিনি পিজিআরের সেই বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তাদের এই আত্মত্যাগ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের নিরাপত্তার প্রতি অটল আনুগত্য এবং জীবন উৎসর্গের এক চূড়ান্ত ও অনন্য দৃষ্টান্ত, যা পিজিআরের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সদস্যদের জন্য যুগ যুগ ধরে দেশপ্রেমের বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিজিআরের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অফিশিয়াল কেক কাটেন এবং পিজিআর সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে একটি স্মারক চারা রোপণ করেন। এরপর তিনি ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে শহীদ হওয়া পাঁচ পিজিআর সদস্যের পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশে কুশল বিনিময় করেন।
উল্লেখ্য, স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির দৈনন্দিন নিরাপত্তা, বঙ্গভবনের প্রটোকল ও অন্যান্য বিশেষ সামরিক দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই বিশেষায়িত এই বাহিনী গঠিত হয়। সেই থেকে প্রতি বছর ৫ জুলাই ঢাকা সেনানিবাসে পিজিআর সদর দপ্তরে বার্ষিক দরবার ও সুসজ্জিত কুচকাওয়াজের মাধ্যমে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে দিনটি উদযাপিত হয়ে আসছে।
/আশিক
ওপারে তীব্র যুদ্ধ ও আতঙ্কের মাঝে মিয়ানমার সীমান্তে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদারের ঘোষণা
মিয়ানমার সীমান্তে চলমান মারাত্মক অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কয়েক গুণ জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। রোববার (৫ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের ফলে সীমান্তের এপারে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, ওপারের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নতুন করে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নজরদারি ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিভিন্ন মহলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির প্রধান গুরুতর আহত হয়ে গোপনে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা গোয়েন্দা রিপোর্ট আছে কি না—সাংবাদিকদের এমন সরাসরি প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, এই বিষয়টি সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের কাছে এখন পর্যন্ত অফিশিয়াল কোনো তথ্য নেই।
উল্লেখ্য যে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রাখাইন রাজ্যে দেশটির সরকারি সামরিক বাহিনী এবং আরাকান আর্মির মধ্যকার সশস্ত্র সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীনভাবে তীব্রতর হয়েছে। ওপারে ভারী অস্ত্রের বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির বিকট শব্দে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী টেকনাফ ও উখিয়া এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে পুরো পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে, যাতে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ থাকে এবং সীমান্তে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সংকট বা উসকানিমূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- তিতাসের জরুরি বিজ্ঞপ্তি: মঙ্গলবার ১৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- নানিয়ারচর সেনা জোনের উদ্যোগে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ
- ৩ বাহিনীর প্রধানের উপস্থিতিতে পিজিআর সদর দপ্তরে কেক কেটে ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
- ইরানের সাথে বৈষম্যের পর এবার ট্রাম্পের ক্ষমতার খেল, ২০২৬ বিশ্বকাপের সৌন্দর্য নষ্টের নেপথ্যে
- বোলাররা জেতালেও ব্যাটাররা ডোবাল, তুলনামূলক দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হতাশাজনক পরাজয়
- গাজায় দীর্ঘ ২০ বছরের শাসনের অবসান, নিজেদের শাসন কমিটি বিলুপ্ত করল হামাস
- আমাদের সালাহ ও ২৬ জন মেসি আছে: আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে মিশরীয় কোচের হুংকার
- গ্রাম ও শহর সবখানেই ৯ শতাংশের উপরে মূল্যস্ফীতি, খরচের চাপে সীমিত আয়ের মানুষ
- প্রধানমন্ত্রী ১০০ টাকায় লাঞ্চ করেন, আমরা মন্ত্রীরাও তাই করি: সখীপুরে আযম খান
- ব্রাজিল বধের নায়ক হালান্ডের দানবীয় শক্তির অদ্ভুত রহস্য ফাঁস
- খামেনির জানাজার মাঠে ‘কিল ট্রাম্প’ স্লোগান, তেহরানে প্রতিশোধের আগুনে উত্তপ্ত লাখো জনতা
- গুলশান-বনানী লেকের দূষণ রোধ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ
- এক আঘাতেই খতম করার ট্রাম্পের হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সভ্যতা নিয়ে খোঁচা দিল ইরান
- ‘ভূতুড়ে বিলের’ সুনির্দিষ্ট কারণ ও অভিযোগ সমাধানের উপায় জানালেন বিদ্যুৎ সচিব
- অক্টোবরে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, প্রথম ধাপে ইউপি ও পৌরসভায় ভোটের সম্ভাবনা
- ৬ জুলাই ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৬ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৬ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- খামেনির শোক র্যালিতে জনসমুদ্র, প্রতিশোধের লাল পতাকায় মুখর তেহরান
- সহিহ হাদিসে জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত হওয়ার ১২ আমল
- ‘আমেরিকাই একমাত্র নয়, ভারতের মতো বড় বন্ধু আছে’-ভ্যান্সকে জবাব নেতানিয়াহুর
- বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতালের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ, না মানলে বাতিল হবে লাইসেন্স
- তাপপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু, এবার ঝড়-বন্যার নতুন শঙ্কা
- প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
- আজকের ক্রীড়া সূচি, একদিনে তিন বড় লড়াই
- হালান্ডের আঘাতে ভাঙল ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ স্বপ্ন, কান্নাভেজা বিদায় নেইমারের
- অ্যাজটেকার আগুনে ইংল্যান্ডের বেঁচে ফেরা, মেক্সিকোকে কাঁদিয়ে শেষ আটে টুখেলের দল
- প্রিয় দল হেরেছে? মন ভালো রাখার ৭ কার্যকর উপায়
- কলকাতার সেনা আবাসিকে কেন তিন বাংলাদেশি জেনারেল? নতুন তথ্য ঘিরে বাড়ছে নানা প্রশ্ন
- ডেঙ্গুর নতুন হটস্পট ১৪ জেলা, বাড়ছে বড় শঙ্কা
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজ রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- খামেনির জানাজায় জনস্রোত, তেহরানের বার্তা কী?
- ৬ জুলাইয়ের নামাজের সময় প্রকাশ, জেনে নিন এখনই
- স্বর্ণ কিনতে বাড়তি খরচ, কার্যকর নতুন মূল্যতালিকা
- আমির-গৌরীর বিয়ে, আলোচনায় গৌরীর সম্পদের পরিমাণ
- সোমবার টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়
- নিরাপত্তা কৌশল যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না ঠেলে, পিজিআরকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
- ওপারে তীব্র যুদ্ধ ও আতঙ্কের মাঝে মিয়ানমার সীমান্তে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদারের ঘোষণা
- বিএনপি যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই কুমিল্লার উন্নয়ন হয়: গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী
- মেক্সিকোর মাটিতে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ ঘিরে চরম উত্তেজনা, সর্বোচ্চ সতর্কতায় প্রশাসন
- অত্যন্ত বিপজ্জনক ও রাক্ষুসে রূপ নিয়ে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’
- ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনে দেশজুড়ে সরকারের বহুমাত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা
- নির্ভরযোগ্য ডাটাই সঠিক পরিকল্পনা ও জাতীয় উন্নয়নের মূল ভিত্তি: আমির খসরু
- সারা দেশের আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস ছাত্রদল-বিএনপি পুড়িয়ে দিয়েছিল: রাকিব
- আজ রাতে ইতিহাস বদলানোর মিশনের আগেই বড় ধাক্কা খেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল
- ওসলো থেকে মার্সেই: নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়হীন থাকার চার ঐতিহাসিক কারণ
- পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানালেন ইরানি রাষ্ট্রদূত
- জুলাই হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত বিচারেই রক্তাক্ত অধ্যায়ের অবসান ঘটবে: ভিপি নুর
- পণ্যবাহী জাহাজে অজ্ঞাত হামলাকারীদের হানা, লোহিত সাগরের নৌপথে নতুন উত্তেজনা
- নরওয়ের বিপক্ষে নেইমার খেলবেন? জানালেন আনচেলত্তি
- ‘ইরান এখন সমঝোতায় মরিয়া’, খামেনির দাফনে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দিলাম: ট্রাম্প
- আরাগচি-গালিবাফ হত্যাচেষ্টার খবর নাকচ ইসরায়েলের
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি
- এলপিজির নতুন দর নিয়ে বড় ঘোষণা আজ
- স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন মূল্য
- রোনালদোর ম্যাচসেরা পুরস্কার ঘিরে তুমুল বিতর্ক
- দোহায় আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, দাবি ট্রাম্পের
- ‘নেতানিয়াহু জানেন, আসল বস কে’- ট্রাম্প
- দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের খবর নাকচ ইরানের
- খামেনির কফিন ঘিরে আবেগে ভাসছে তেহরান
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’: সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার শিক্ষা
- আরাগচি-গালিবাফকে ঘিরে হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের, ইরানকে আগাম সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের
- সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে গতি, সূচকে শক্তিশালী উত্থান








