মিসরের কায়রোতে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের হুমায়রা মাসুদ

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ১২ ১৮:১৪:৩৬
মিসরের কায়রোতে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের হুমায়রা মাসুদ
অন্য বিজয়ীদের সঙ্গে বাংলাদেশি তরুণী হুমায়রা মাসুদ | ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের তরুণী হুমায়রা মাসুদ মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় মেয়েদের বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে ইতিহাস গড়েছেন। ছেলেরা যেমন বৈশ্বিক পরিসরে কোরআন তেলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতায় লাল-সবুজের পতাকা ওড়াচ্ছেন, সেই ধারাবাহিকতায় এবার সুনাম অক্ষুণ্ন রাখলেন হুমায়রা।

মঙ্গলবার ১১ নভেম্বর কায়রোতে 'ইন্দোনেশিয়ান কোরআন রিসাইটারস অ্যাসোসিয়েশন' আয়োজিত প্রতিযোগিতার সমাপনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মেয়েদের গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকারী হিসেবে হুমায়রার নাম ঘোষণা করে আয়োজক কমিটি।

প্রতিযোগিতার ফলাফল

প্রতিযোগিতায় ১২টি দেশের মোট ১৪৩ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। মেয়েদের জন্য নির্ধারিত বিভাগে প্রথম হন হুমায়রা মাসুদ।

প্রথম স্থান: হুমায়রা মাসুদ (বাংলাদেশ)

দ্বিতীয় স্থান: আয়েশা ইজ্জত মুসলিমা (ইন্দোনেশিয়া)

তৃতীয় স্থান: কায়রানি নফসুল মুতমাইন্না (ইন্দোনেশিয়া)

অন্যদিকে, ছেলেদের বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন বশির উসমান ইমাম (নাইজেরিয়া)। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আল-আজহার মসজিদের ইমাম ও ক্বারী শায়খ ফাওযী আল-বারবারী আজহারি।

হুমায়রার পরিচিতি ও অর্জন

হুমায়রা মাসুদের বাড়ি চাঁদপুর জেলার হাইমচর থানার চর ভৈরবী গ্রামে। বর্তমানে তিনি মিসরের বিখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক থিওলজি অনুষদে অধ্যয়নরত। মেধাবী এই তরুণী নারায়ণগঞ্জের উম্মে আইমান (রা) আন্তর্জাতিক বালিকা মাদ্রাসা থেকে হিফজ এবং জামিয়া ইব্রাহিমিয়া আমিনিয়া মহিলা মাদ্রাসা থেকে দাওরা হাদিস সম্পন্ন করেছেন।

এর আগেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উজ্জ্বল সাফল্য পেয়েছেন হুমায়রা মাসুদ। ২০১০ সালে জর্ডানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় তিনি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। আর ২০২৫ সালে মিসরের ওয়াক্ফ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ৩১তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় অনারবদের জন্য নির্ধারিত বিভাগে পঞ্চম হন তিনি।

স্বামীর উচ্ছ্বাস ও মন্তব্য

স্ত্রীর এমন ঐতিহাসিক সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হুমায়রার স্বামী মাওলানা মাসুম বিল্লাহ গুলজার আজহারি। তিনি বলেন:

"তার এই অর্জন নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য গৌরবের। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোরআন তেলাওয়াতে বাংলাদেশের মেয়েদের এমন সাফল্য আমাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উজ্জ্বল প্রতিফলন।"

তিনি আরও বলেন, হুমায়রা প্রমাণ করেছেন, বাংলাদেশের মেয়েরাও বৈশ্বিক পরিসরে কোরআনের খেদমতে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারেন।


ভারতে নাইটক্লাবে ভয়াবহ আগুন

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৭ ০৯:০৩:৩৮
ভারতে নাইটক্লাবে ভয়াবহ আগুন
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের উত্তর গোয়ায় একটি জনপ্রিয় নাইটক্লাবে আগুন লেগে অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৫০ জন যাদের উদ্ধার করে গোয়া মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় কর্মকর্তা ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত রবিবার ৭ ডিসেম্বর ভোরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে নিহতদের মধ্যে ৩ থেকে ৪ জন পর্যটক ছিলেন এবং বাকি ১৯ জনই ওই নাইটক্লাবটির কর্মী।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে রাত আনুমানিক ১টার দিকে এই আগুনের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা ছিল রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে গোয়ার পুলিশ মহাপরিচালক বা ডিজিপি জানিয়েছেন পরিদর্শনের সময় সিলিন্ডারগুলো অক্ষত পাওয়া গেছে যা ঘটনার কারণ নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন বিস্ফোরণ এতটাই তীব্র ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা বের হওয়ার কোনো সুযোগই পাননি।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লিখেন আজ গোয়ার সবার জন্য খুব বেদনাদায়ক একটি দিন কারণ আরপোরায় একটি বড় অগ্নিকাণ্ডে ২৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। যারা দায়ী সাব্যস্ত হবে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের প্রমোদ সাওয়ান্ত জানান তিনজন দগ্ধ হয়ে এবং বাকিরা ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।

রাতভর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল এবং আগুনে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে হতাহতদের শনাক্ত করতে এবং তাদের পরিবারকে খুঁজে বের করতে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।


ভারতে শেখ হাসিনা কতদিন থাকবেন তা তাঁকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে: জয়শঙ্কর

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৬ ১৮:২৭:১২
ভারতে শেখ হাসিনা কতদিন থাকবেন তা তাঁকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে: জয়শঙ্কর
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : সংগৃহীত

ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটিতে যতদিন ইচ্ছা থাকতে পারবেন কি না তা নিয়ে মুখ খুলেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একটি লিডারশিপ সামিটে এনডিটিভির সিইও এবং এডিটর ইন চিফ রাহুল কানওয়ালের সঙ্গে আলাপকালে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কথা বলেন।

যতদিন চান হাসিনা ভারতে থাকতে পারবেন কি না জানতে চাইলে জয়শঙ্কর বলেন এটি ভিন্ন বিষয় এবং তিনি এখানে একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এসেছিলেন। তিনি মনে করেন সেই পরিস্থিতি স্পষ্টতই তাঁর সাথে যা ঘটে তার একটি কারণ। তবে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন যে এটি এমন একটি বিষয় যেখানে তাঁকেই নিজের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে জয়শঙ্কর জোর দিয়ে বলেন ভারত তার প্রতিবেশী দেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দেখতে চায়। তিনি বলেন বাংলাদেশে যারা এখন ক্ষমতায় আছেন তারা অতীতের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। তাই যদি সমস্যা নির্বাচন হয় তবে প্রথম কাজ হবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।

জয়শঙ্কর আরও বলেন ভারত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদী এবং দুই দেশের সম্পর্ক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতেই সবচেয়ে ভালো অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। তিনি মন্তব্য করেন যে তাঁরা বাংলাদেশের মঙ্গল কামনা করেন। একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত চায় জনগণের ইচ্ছা একটি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিফলিত হোক।


মার্কিন চাপের মধ্যেই দিল্লিতে রুশ প্রেসিডেন্ট

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৪ ২১:৩৯:৩৮
মার্কিন চাপের মধ্যেই দিল্লিতে রুশ প্রেসিডেন্ট
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের সরকারি সফরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। পালাম বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ রাতেই দুই নেতা নৈশভোজে মিলিত হবেন আর শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে তাঁদের দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক। শীর্ষ বৈঠকের আগে রাষ্ট্রপতি ভবনে পুতিনকে দেওয়া হবে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা। পরে তিনি দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন এবং সেখানেই অবস্থান করবেন।

২০২১ সালের পর প্রথমবারের মতো ভারতে সফরে এলেন পুতিন। গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মস্কোয় গিয়ে বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। বর্তমান সময়টি দুই দেশের জন্যই বেশ চ্যালেঞ্জের। পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন চাপের মুখে আছেন অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ও রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে নানা নিষেধাজ্ঞা সব মিলিয়ে ভারতের জন্যও বছরটি কঠিন যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে পুতিন দিল্লি সফরে এসেছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এনডিটিভি ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয় শুক্রবার সকালে পুতিন মহাত্মা গান্ধীর সমাধি ও স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে রাজঘাটে যাবেন। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে আরও রয়েছে নয়াদিল্লিতে রাশিয়ার গণমাধ্যম আরটি ইন্ডিয়ার উদ্বোধন এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজে অংশগ্রহণ। শুক্রবার প্রায় রাত ৯টার দিকে পুতিনের ভারত ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এটাই পুতিনের প্রথম ভারত সফর। স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে দুই দেশের মধ্যে। বিশ্লেষকরা বলছেন দুই দেশই বিকল্প পেমেন্ট সিস্টেম তৈরি ও বাণিজ্য বাড়ানোর উপায় খুঁজছে। ক্ষুদ্র মডুলার নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরও সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। পুতিনের সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আবারও নতুন গতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিক্রিয়া সামলেই ভারতকে এই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে।


রাষ্ট্রীয় মদদে যেভাবে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে ভারত

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৩ ২০:৫২:১১
রাষ্ট্রীয় মদদে যেভাবে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে ভারত
ছবি : সংগৃহীত

ভারতে মুসলিম খ্রিস্টান এবং কাশ্মীরিরা বর্তমানে ক্রমবর্ধমান রাষ্ট্র সমর্থিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তারা সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক গোঁড়ামির শিকার হচ্ছেন যার ফলে দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ ভিত্তিও পুরোদস্তুর হুমকির মুখে পড়েছে। বিজেপির হিন্দু জাতীয়তাবাদী বাগ্মিতা ভারতের ২২ কোটিরও বেশি মুসলিম জনসংখ্যার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাজস্থানের বিকার শহরে প্রায় ২০০ জনের একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী গির্জার প্রার্থনাসভায় হামলা চালায় এবং লোহার রড দিয়ে উপাসনাকারীদের মারধর করে। বর্তমানে ভারতে মুসলমান খ্রিস্টান এবং কাশ্মীরিদের জন্য ভয় নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। মুসলিম মহল্লাগুলিতে উচ্ছেদ পুলিশি অভিযান আটক এবং হয়রানির ঘটনাও বাড়ছে। একইভাবে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ও চার্চে হামলা এবং প্রার্থনা সভার সময় হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করছে।

ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্ডিয়া হেট ল্যাবের বা আইএইচএলের তথ্য অনুসারে ২০২৪ সালে ভারতে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের ঘটনা ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটি বলছে এই উদ্বেগজনক বৃদ্ধি ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি এবং বৃহত্তর হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের আদর্শগত আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। সর্বশেষ ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দু হলেও মুসলমানরা বৃহত্তম সংখ্যালঘু যাদের সংখ্যা ১৪ শতাংশ এবং খ্রিস্টানরা ২ শতাংশের সামান্য বেশি।

নয়াদিল্লি ভিত্তিক খ্রিস্টান অধিকার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউনাইটেড ক্রিশ্চিয়ান ফোরাম বা ইউসিএফ জানিয়েছে ভারতে প্রতিদিন গড়ে দুইজনেরও বেশি খ্রিস্টান আক্রান্ত হচ্ছেন। গত এক দশকে এই হামলা বহুগুণ বেড়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায় ২০২৪ সালে ৮৩৪টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল যেখানে ২০১৪ সালে সংখ্যাটি ছিল মাত্র ১২৭। ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে ধর্মান্তর বিরোধী আইন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং খ্রিস্টানরা দাবি করছেন হিন্দু উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলি তাদের আক্রমণ করার জন্য এই আইন ব্যবহার করছে।

অন্যদিকে সাউথ এশিয়া জাস্টিস ক্যাম্পেইনের ২০২৫ সালের একটি পর্যালোচনা অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বেশ কিছু রাজ্য কর্তৃপক্ষ প্রধানত মুসলিম এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে যাকে প্রায়শই বুলডোজার ন্যায়বিচার বলা হয়। শুধু ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে সারা ভারতে ৭ হাজার ৪০০টিরও বেশি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে যার ফলে ৪১ হাজারেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। এই ধ্বংসের শিকার হওয়াদের প্রায় ৩৭ শতাংশই মুসলিম।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অজয় গুদাবর্থী মনে করেন হিন্দু জাতীয়তাবাদ এখন কাঠামোগত রূপ নিয়েছে। অধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন আরও উল্লেখ করেছে হিন্দু জনতা কর্তৃক মুসলিমদের লক্ষ্য করে নজরদারিমূলক সহিংসতা বেড়েছে যেমন গবাদি পশুর পরিবহন বা গো মাংস খাওয়ার সন্দেহে হামলা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন রাষ্ট্রীয় নীতি যখন হিন্দুত্বের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে তখন ভারতের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

সূত্র: টিআরটি


নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানাল বিএনপি

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ০৩ ০৮:৩৩:৫৩
নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানাল বিএনপি
বিএনপির লোগো ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি : সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই ধন্যবাদ জানানো হয় যা দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পোস্টে উল্লেখ করা হয় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং তাঁর প্রতি সুচিন্তিত বার্তা ও সদয় শুভেচ্ছার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ। বিএনপি এই সদিচ্ছার নিদর্শন এবং সমর্থন প্রদানের প্রস্তুতির প্রকাশকে গভীরভাবে সাধুবাদ জানায় বলে দলটির অফিশিয়াল হ্যান্ডেল থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন ভারত যে কোনোভাবে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনেও এ তথ্য জানানো হয়েছিল।

ওই পোস্টে নরেন্দ্র মোদি লিখেছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বিষয়ে জেনে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশের জনজীবনে বহু বছর ধরে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে উল্লেখ করে মোদি তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে ভারত সম্ভাব্য সব সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও তিনি আশ্বাস দেন। মোদির এই মানবিক বার্তার বিপরীতে বিএনপির এই ত্বরিত ও সৌজন্যমূলক প্রতিক্রিয়া কূটনৈতিক অঙ্গনে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।


ফের কাঁপল ইন্দোনেশিয়া এবং ভারতের মণিপুর

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৭ ১২:১৪:০৬
ফের কাঁপল ইন্দোনেশিয়া এবং ভারতের মণিপুর
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতের মণিপুর রাজ্যে ৩ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার ২৭ নভেম্বর ভোর ৫টা ৪২ মিনিটে এই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। তবে এতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে প্রতিবেশী দেশ ভুটান ও বঙ্গোপসাগরেও ক্ষুদ্র মাত্রার দুটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে রাত ২টা ৫৯ মিনিটে ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে যার গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। এছাড়া বুধবার ২৬ নভেম্বর রাত ১১টা ৩২ মিনিটে ভুটানে ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

এদিকে ইন্দোনেশিয়ার নর্থ সুলাওয়েসি অঞ্চলেও মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছে। বুধবার ২৬ নভেম্বর দিবাগত রাত ১২টায় ৪ দশমিক ৫ মাত্রার এ ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বা ইউএসজিএস জানায় ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল তন্দানোর ২৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং এর গভীরতা ছিল ১২০ দশমিক ৯ কিলোমিটার। এখানেও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য এর আগে গত রোববার ২৩ নভেম্বর ইন্দোনেশিয়ার উত্তর মালুকু প্রদেশের হালমাহেরা অঞ্চলে ৫ দশমিক ২ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। প্রশান্ত মহাসাগরের রিং অব ফায়ার অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই এ ধরনের ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।


বাংলাদেশের অনুরোধ পেয়ে হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে ভারত জানাল তাদের অবস্থান

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৬ ২০:১৪:৫০
বাংলাদেশের অনুরোধ পেয়ে হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে ভারত জানাল তাদের অবস্থান
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত অনুরোধটি পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার ২৬ নভেম্বর নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট জানান যে তাঁরা বাংলাদেশের সেই অনুরোধ পেয়েছেন এবং বিষয়টি বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন বাংলাদেশের জনগণের প্রতি ভারতের অঙ্গীকার অটুট রয়েছে এবং এ বিষয়ে তাঁরা সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে আলোচনা চালিয়ে যাবেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘোষিত রায়ের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমগুলো জানায় গত বছরের জুলাই মাসের আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিবরণ অনুযায়ী গত বছরের ৫ আগস্ট ঢাকার চকবাজারের চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তাঁকে দায়ী করা হয়েছে। ৭৮ বছর বয়সী এই অপসারিত নেত্রী বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়। সেই অনুরোধই এখন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার অধীনে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দিল্লি।


ভারতের চিকেন নেকে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২২ ২১:৪৯:৫৮
ভারতের চিকেন নেকে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গাড়ি বিস্ফোরণ ও বিভিন্ন কারণে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা জোরদার করতে তৎপর হয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। এরই অংশ হিসেবে শনিবার শিলিগুড়ির সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো বা আইবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো এক উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক। দেশের অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই করিডরের নিরাপত্তা অবকাঠামো নতুন করে খতিয়ে দেখতেই এই বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রায় সব কটি প্রধান নিরাপত্তা ও সামরিক সংস্থার প্রতিনিধিরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স বা সিআইএসএফ বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ সীমান্ত সুরক্ষা বল বা এসএসবি এবং ইন্দো টিবেটিয়ান বর্ডার পুলিশ বা আইটিবিপি। এছাড়াও রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স বা আরপিএফ জেনারেল রিজার্ভ পুলিশ বা জিআরপি ভারতীয় স্থলসেনা বাহিনী ভারতীয় বায়ুসেনা আর্মি ইন্টেলিজেন্স কেন্দ্রীয় সড়ক দফতর এশিয়ান হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগসহ একাধিক কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা এই বৈঠকে অংশ নেন।

সূত্রের খবরে জানা গেছে বৈঠকে চিকেন নেক করিডরে নজরদারি আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় দ্বিগুণ তৎপরতা চালানো এবং গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উত্তর পূর্ব ভারতকে দেশটির মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা সরু এই করিডরে যাতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি না হয় মূলত সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতেই তৎপর হয়েছে বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা। দিল্লির সাম্প্রতিক ঘটনা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


দিল্লির ‘কাঁটা’ শেখ হাসিনা, সম্পর্কে টানাপোড়েন কতদিন?

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ১৯ ১৪:৩৯:৫০
দিল্লির ‘কাঁটা’ শেখ হাসিনা, সম্পর্কে টানাপোড়েন কতদিন?
ছবিঃ সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতেই অবস্থান করছেন। এখন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারত বাংলাদেশের কাছে ফেরত দেবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে চলছে নানা বিশ্লেষণ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা সম্প্রতি এ নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে সীমা আখতার নামের ২৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী ফুটবল অনুশীলনের সময় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের খবর পান। তার কাছে এই রায়টি ন্যায়বিচারের এক মুহূর্ত বলে মনে হয়েছে। গত বছর শেখ হাসিনার নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে সীমার কয়েকজন বন্ধুও নিহত হয়েছিলেন। সীমা আল-জাজিরাকে বলেন, ক্ষমতাচ্যুত শাসক ভেবেছিলেন তাকে কখনোই পরাজিত করা যাবে না এবং তিনি চিরকাল ক্ষমতায় থাকবেন। এই মৃত্যুদণ্ড শহীদদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় পদক্ষেপ। তবে তিনি মনে করেন, শুধু সাজা ঘোষণাই যথেষ্ট নয়, এই রায় কার্যকর হতে দেখতে চান তারা।

শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত তাতে সাড়া মেলেনি। গত ১৫ মাস ধরে বিষয়টি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় এই উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও ভারত শেখ হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী, তবুও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নয়াদিল্লি সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে—এমন দৃশ্য কল্পনা করা কঠিন।

ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী প্রশ্ন তুলেছেন, নয়াদিল্লি কীভাবে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে? শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার এবং ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর তিনি টানা ১৫ বছর দেশ শাসন করেন। তার শাসনামলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর অধিকাংশই বিরোধী দল বর্জন করেছিল অথবা প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পায়নি। এই সময়ে হাজার হাজার মানুষকে গুম ও বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। যদিও হাসিনা সরকার অর্থনৈতিক সাফল্যকে পুঁজি করে তাদের শাসনের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হলে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন অভিযানের পর তা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলনের তীব্রতায় ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই সরকার ভারতের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তির কথা উল্লেখ করে বলেছে, হাসিনাকে ফেরত পাঠানো নয়াদিল্লির জন্য আবশ্যিক দায়িত্ব। ভারত যদি তাকে ক্রমাগত আশ্রয় দিয়ে যায়, তবে তা হবে অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ পদক্ষেপ।

তবে ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভিন্ন মত পোষণ করছেন। নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঞ্জয় ভরদ্বাজ মনে করেন, ভারত এই ঘটনাকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক শক্তির প্রতিশোধ হিসেবে দেখছে। তার মতে, নয়াদিল্লি মনে করে বর্তমানে বাংলাদেশে যারা ক্ষমতায় আছে, তারা ভারতবিরোধী। হাসিনাকে হস্তান্তর করার অর্থ হবে সেই 'ভারতবিরোধী শক্তিকে' বৈধতা দেওয়া। প্রত্যর্পণ চুক্তিতে 'রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের' ক্ষেত্রে যে ব্যতিক্রমী ধারার সুযোগ রয়েছে, ভারত সেটি ব্যবহার করতে পারে।

হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রায়ের বিষয়ে অবগত এবং বাংলাদেশের সব অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকবে। তবে বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক বেশ শীতল। ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী মনে করেন, বর্তমান সরকারের অধীনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই যাবে। তবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সূচনা হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ভারতের জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, হাসিনার বিষয়ে ভারত একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। বাংলাদেশে তার প্রতি জনগণের ক্ষোভকে উপেক্ষা করা দিল্লির পক্ষে সম্ভব নয়। ভারত হয়তো চাইবে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরুক, কিন্তু বাস্তবতা হলো—হাসিনাকে আর কখনোই সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। তাই ভারতের উচিত ঢাকার অন্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা। তিনি আরও বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মিত্রতা আগের মতো না থাকলেও একে অপরের প্রতি শিষ্টাচার বজায় রাখা প্রয়োজন।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও ব্যক্তিগত। ১৯৭৫ সালে পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর তিনি ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ ছয় বছর সেখানে নির্বাসনে ছিলেন। তার শাসনামলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সমৃদ্ধ হয়েছিল। ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যখন তার পালানোর প্রয়োজন হয়, তখন ভারত তাকে আশ্রয় দেয়। পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর মতে, ভারত তাকে থাকতে দিয়েছে কারণ তখন আর কোনো বিকল্প ছিল না। বিশেষ করে এখন যখন তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে, তখন তাকে ফেরত পাঠানো ভারতের জন্য নৈতিকভাবে কঠিন।

ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক দক্ষিণ এশীয় বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, ভারতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যে একটি 'কাঁটা' হয়ে থাকবে। তবে এর মাধ্যমে ভারত তার মিত্রদের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার প্রতিশ্রুতি পালন করতে সক্ষম হয়েছে। কুগেলম্যানের মতে, হাসিনার রাজনৈতিক প্রভাব এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা যায় না। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে দেখা যায়, পরিবারকেন্দ্রিক দলগুলো কঠিন সময়ে পড়লেও পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায় না।

সূত্র: আল-জাজিরা

পাঠকের মতামত:

ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করতে হবে

ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়তে হলে রাষ্ট্রকে অবশ্যই তার সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করতে হবে

রাষ্ট্রের ধারণাটি একসময় কেবল প্রশাসনিক ক্ষমতা, আইনের শাসন এবং নিরাপত্তা প্রদানের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। কিন্তু আধুনিক বিশ্বে রাষ্ট্রের ভূমিকা এখন... বিস্তারিত