মিসরের কায়রোতে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের হুমায়রা মাসুদ

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ১২ ১৮:১৪:৩৬
মিসরের কায়রোতে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের হুমায়রা মাসুদ
অন্য বিজয়ীদের সঙ্গে বাংলাদেশি তরুণী হুমায়রা মাসুদ | ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের তরুণী হুমায়রা মাসুদ মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় মেয়েদের বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে ইতিহাস গড়েছেন। ছেলেরা যেমন বৈশ্বিক পরিসরে কোরআন তেলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতায় লাল-সবুজের পতাকা ওড়াচ্ছেন, সেই ধারাবাহিকতায় এবার সুনাম অক্ষুণ্ন রাখলেন হুমায়রা।

মঙ্গলবার ১১ নভেম্বর কায়রোতে 'ইন্দোনেশিয়ান কোরআন রিসাইটারস অ্যাসোসিয়েশন' আয়োজিত প্রতিযোগিতার সমাপনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মেয়েদের গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকারী হিসেবে হুমায়রার নাম ঘোষণা করে আয়োজক কমিটি।

প্রতিযোগিতার ফলাফল

প্রতিযোগিতায় ১২টি দেশের মোট ১৪৩ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। মেয়েদের জন্য নির্ধারিত বিভাগে প্রথম হন হুমায়রা মাসুদ।

প্রথম স্থান: হুমায়রা মাসুদ (বাংলাদেশ)

দ্বিতীয় স্থান: আয়েশা ইজ্জত মুসলিমা (ইন্দোনেশিয়া)

তৃতীয় স্থান: কায়রানি নফসুল মুতমাইন্না (ইন্দোনেশিয়া)

অন্যদিকে, ছেলেদের বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন বশির উসমান ইমাম (নাইজেরিয়া)। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আল-আজহার মসজিদের ইমাম ও ক্বারী শায়খ ফাওযী আল-বারবারী আজহারি।

হুমায়রার পরিচিতি ও অর্জন

হুমায়রা মাসুদের বাড়ি চাঁদপুর জেলার হাইমচর থানার চর ভৈরবী গ্রামে। বর্তমানে তিনি মিসরের বিখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক থিওলজি অনুষদে অধ্যয়নরত। মেধাবী এই তরুণী নারায়ণগঞ্জের উম্মে আইমান (রা) আন্তর্জাতিক বালিকা মাদ্রাসা থেকে হিফজ এবং জামিয়া ইব্রাহিমিয়া আমিনিয়া মহিলা মাদ্রাসা থেকে দাওরা হাদিস সম্পন্ন করেছেন।

এর আগেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উজ্জ্বল সাফল্য পেয়েছেন হুমায়রা মাসুদ। ২০১০ সালে জর্ডানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় তিনি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। আর ২০২৫ সালে মিসরের ওয়াক্ফ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ৩১তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় অনারবদের জন্য নির্ধারিত বিভাগে পঞ্চম হন তিনি।

স্বামীর উচ্ছ্বাস ও মন্তব্য

স্ত্রীর এমন ঐতিহাসিক সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হুমায়রার স্বামী মাওলানা মাসুম বিল্লাহ গুলজার আজহারি। তিনি বলেন:

"তার এই অর্জন নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য গৌরবের। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোরআন তেলাওয়াতে বাংলাদেশের মেয়েদের এমন সাফল্য আমাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উজ্জ্বল প্রতিফলন।"

তিনি আরও বলেন, হুমায়রা প্রমাণ করেছেন, বাংলাদেশের মেয়েরাও বৈশ্বিক পরিসরে কোরআনের খেদমতে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারেন।


চিকেন্স নেকে ভূগর্ভস্থ রেলপথ: উত্তর-পূর্বে ভারতের বড় কৌশলগত চাল

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৭:২৮:২০
চিকেন্স নেকে ভূগর্ভস্থ রেলপথ: উত্তর-পূর্বে ভারতের বড় কৌশলগত চাল
'চিকেন্স নেক' আর আসামে মাটির নিচে গভীর সুড়ঙ্গ বানাচ্ছে ভারত (সংগৃহীত ছবি)

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখা অতি গুরুত্বপূর্ণ সরু স্থলপথ শিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেন্স নেক’ নামে পরিচিত, সেখানে ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। একই সময়ে আসামে ব্রহ্মপুত্র নদ-এর নিচ দিয়ে দীর্ঘ রেল-সড়ক সুড়ঙ্গ নির্মাণ প্রকল্পেও অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

শিলিগুড়ি করিডরে ৩৬ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ রেলপথ

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার তিন মাইল হাট থেকে শিলিগুড়ি হয়ে রাঙাপাণি পর্যন্ত প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্ব রেলের মুখপাত্র কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত হলেও এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি। তবে কেন্দ্রীয় বাজেট-পরবর্তী সময়ে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব প্রকাশ্যে প্রকল্পটির উল্লেখ করায় অনুমোদন এখন সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে।

গড়ে মাত্র ২০–২২ কিলোমিটার চওড়া এই করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একমাত্র স্থলসংযোগ। পূর্বে বাংলাদেশ, উত্তরে চীন, পশ্চিমে নেপাল ও ভুটানের সান্নিধ্যে থাকায় এলাকা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের ক্ষেত্রেও এই পথ ব্যবহৃত হয়।

নতুন পরিকল্পনায় প্রায় ৩৫.৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বৈত সুড়ঙ্গ নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। টানেল বোরিং মেশিন ব্যবহার করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সুড়ঙ্গ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান দুই লাইনের রেলপথ চার লাইনে উন্নীত করার উদ্যোগও রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি রুপি।

বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন বিহারের কিশানগঞ্জ ও পশ্চিমবঙ্গের চোপড়ার কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দুটি নতুন ঘাঁটি নির্মাণাধীন, যার পাশ দিয়েই যাবে এই প্রস্তাবিত সুড়ঙ্গপথ। তৃতীয় ঘাঁটি তৈরি হচ্ছে আসামের ধুবড়িতে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভূগর্ভস্থ রেলপথ এমনভাবে নির্মাণ করা হবে যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নিরাপত্তা ঝুঁকি বা সম্ভাব্য আক্রমণের মধ্যেও যোগাযোগ সচল রাখা যায়। মোটা কংক্রিট কাঠামোয় নির্মিত সুড়ঙ্গ ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণেও টিকে থাকতে সক্ষম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার প্রবীর সান্যালের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল। তার ভাষায়, সুড়ঙ্গ চালু হলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা শত্রুপক্ষের জন্য কঠিন হবে।

কৌশল বিশ্লেষক প্রতিম রঞ্জন বসু বলেন, বর্তমানে ভারতের অবকাঠামো পরিকল্পনায় সামরিক প্রয়োজন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। চিকেন্স নেক দিয়ে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট কেবল, তেল ও গ্যাস পাইপলাইন যাওয়ায় মাটির ওপর নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ঝুঁকিপূর্ণ; তাই ভূগর্ভস্থ ব্যবস্থা বেশি নিরাপদ।

ব্রহ্মপুত্রের নিচে ভারতের প্রথম রেল–সড়ক সুড়ঙ্গ

১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটি আসামে ব্রহ্মপুত্র নদের নিচ দিয়ে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বৈত সুড়ঙ্গ নির্মাণে অনুমোদন দেয়।

সমান্তরাল দুটি সুড়ঙ্গের একটিতে চলবে ট্রেন এবং অন্যটিতে থাকবে চার লেনের সড়ক। এতে গোহপুর ও নুমালিগড় সরাসরি যুক্ত হবে। বর্তমানে এই দুই এলাকার মধ্যে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দূরত্ব ও সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

মোট ৩৩.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ ব্যবস্থার মধ্যে প্রায় ১৫.৭৯ কিলোমিটার অংশ থাকবে ব্রহ্মপুত্রের নিচ দিয়ে। সরকারি বিবৃতিতে একে ভারতের প্রথম ভূগর্ভস্থ রেল-সড়ক সুড়ঙ্গ প্রকল্প বলা হয়েছে।

এই সংযোগের মাধ্যমে বিশ্বনাথ ঘাট ও তেজপুর যুক্ত হবে। পাশাপাশি তেজপুর ও অরুণাচল প্রদেশের ইটানগর বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। তেজপুরের ভারতীয় বিমানবাহিনীর ঘাঁটি চীন সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ; সেখানে সুকই যুদ্ধবিমানের বহর রয়েছে। সম্প্রতি ঘাঁটি সম্প্রসারণে ৩৮৩ একর জমি অধিগ্রহণের বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়েছে।

সরকারের দাবি, ব্রহ্মপুত্রের নিচে রেল-সড়ক সুড়ঙ্গ নির্মাণ কেবল কৌশলগত নয়, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা


অনলাইন গেম যখন মরণফাঁদ: ৯ তলা থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ল তিন বোন

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৯:০০:৩৬
অনলাইন গেম যখন মরণফাঁদ: ৯ তলা থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ল তিন বোন
ছবি : সংগৃহীত

অনলাইন গেমের নেশা কীভাবে একটি সাজানো সংসার নিমেষেই ধ্বংস করে দিতে পারে, তার এক মর্মান্তিক দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে ভারতের উত্তর প্রদেশে। রাজ্যের গাজিয়াবাদের 'ভারত সিটি' আবাসন কমপ্লেক্সে মঙ্গলবার গভীর রাতে তিন বোন তাদের নবম তলার ফ্ল্যাট থেকে নিচে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিহতরা হলো—বিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২)। এই মর্মান্তিক পরিণতির আগে তারা একটি ডায়েরিতে আট পৃষ্ঠার দীর্ঘ সুইসাইড নোট লিখে রেখে গেছে, যার শেষে লেখা ছিল, "আমি সত্যিই দুঃখিত, স্যরি পাপা।"

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত তিন বোনই অনলাইন গেমে প্রচণ্ড আসক্ত ছিল। কোভিড-১৯ মহামারির সময় তাদের এই আসক্তি শুরু হয়, যা পরবর্তীতে চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। গেমের প্রতি এই নেশার কারণে তারা গত দুই বছর ধরে স্কুলে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল। তারা একটি 'কোরিয়ান লাভ গেম' এবং কোরীয় সংস্কৃতির প্রতি এতটাই আচ্ছন্ন ছিল যে, তারা নিজেদের কোরীয় নামও রেখেছিল। তাদের মা-বাবা যখন তাদের মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমিয়ে দেন এবং গেম খেলা বন্ধের চেষ্টা করেন, তখন তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রিয় গেম খেলতে না পারার ক্ষোভ থেকেই তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে তিন বোন তাদের বাসার বারান্দার দরজা ভেতর থেকে আটকে দিয়ে জানালা দিয়ে একে একে নিচে লাফিয়ে পড়ে। তাদের আর্তচিৎকার এবং মাটিতে আছড়ে পড়ার বিকট শব্দে মা-বাবা ও প্রতিবেশীদের ঘুম ভেঙে যায়। মা-বাবা বারান্দার দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার আগেই সব শেষ হয়ে যায়। সহকারী পুলিশ কমিশনার অতুল কুমার সিং ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিন বোনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ তাদের ঘর থেকে যে আট পৃষ্ঠার সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে, সেখানে তাদের গেমিং এবং মোবাইল ব্যবহারের খুঁটিনাটি বিবরণ লেখা ছিল। নোটের এক জায়গায় আঁকা ছিল একটি কান্নার ইমোজি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন বোনের বাবা চেতন কুমার দুই স্ত্রীকে নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করেন। নিহতদের মধ্যে দুজন এক স্ত্রীর এবং অন্যজন দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান ছিল। তারা মেজ বোন প্রাচীর নেতৃত্বেই সব কাজ করত। বুধবার সকালে আবাসন কমপ্লেক্সের নিচে তিন মেয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকার দৃশ্য দেখে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। শোকে বিহ্বল মা এবং স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং অনলাইন গেমের ভয়াবহতা নিয়ে এই ঘটনাটি এখন ভারতজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


ভারতের বাজেটে বাংলাদেশের বরাদ্দ ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ১৮:৫৯:১০
ভারতের বাজেটে বাংলাদেশের বরাদ্দ ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক সহায়তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভারতের লোকসভায় এই বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন' ও অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী

বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি ভারতের নতুন বাজেটে বাংলাদেশের জন্য উন্নয়ন সহায়তা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এই বরাদ্দের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ কোটি রুপি। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে (Revised Estimate) বাংলাদেশের জন্য এই সহায়তার পরিমাণ কমিয়ে ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ রুপি করা হয়েছিল। সেই তুলনায় এবার বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ৭৪ শতাংশ। তবে উল্লেখ্য যে, গত বছরের মূল বাজেটে (Budget Estimate) বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ছিল ১২০ কোটি রুপি, যা সংশোধিত বাজেটে অনেক কমিয়ে আনা হয়েছিল। সেই দিক থেকে নতুন বরাদ্দ গত বছরের মূল বরাদ্দের তুলনায় কম হলেও সংশোধিত বরাদ্দের চেয়ে অনেক বেশি।

চাবাহার বন্দরে বরাদ্দ শূন্য বাজেটের সবচেয়ে বড় ও বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত হলো ইরানের কৌশলগত চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য কোনো বরাদ্দ না রাখা। গত কয়েক বছর ধরে এই প্রকল্পে ভারত ধারাবাহিকভাবে শত শত কোটি রুপি বিনিয়োগ করলেও এবার তা 'শূন্য' (Nil) করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর ওপর সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের হুমকির মুখে ভারত এই কৌশলগত পিছুটান দিয়েছে। চাবাহার বন্দরের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ছাড় বা 'ওয়েভার' আগামী ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শেষ হতে যাচ্ছে।

বরাবরের মতো সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে ভুটান, যার পরিমাণ ২,২৮৯ কোটি রুপি।

তালেবান শাসিত আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তার জন্য বরাদ্দ ১০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১৫০ কোটি রুপি করা হয়েছে (৫০% বৃদ্ধি)।

নেপালের জন্য বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০০ কোটি রুপি।

অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে থাকা শ্রীলঙ্কার বরাদ্দ ৩৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৪০০ কোটি রুপি করা হয়েছে।

মালদ্বীপ ও মরিশাস এই দুই দেশের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৫০ কোটি রুপি করে।

সামগ্রিক বাজেট ও পররাষ্ট্র নীতি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MEA) জন্য এই বাজেটে মোট ২২,১১৮ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মোট বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তার পরিমাণ প্রায় ৬,৯৯৭ কোটি রুপি। বাজেটের এই তথ্যগুলো থেকে স্পষ্ট যে, ভারত তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক রক্ষা এবং বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি মোকাবিলার মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।


নয়াদিল্লিতে বিরল সম্মান: লোকসভায় খালেদা জিয়াকে মোদীর শ্রদ্ধা

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৮ ২১:১৬:৩৩
নয়াদিল্লিতে বিরল সম্মান: লোকসভায় খালেদা জিয়াকে মোদীর শ্রদ্ধা
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পার্লামেন্টের লোয়ার হাউজ বা লোকসভার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনের সূচনা হয়েছে এক অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে। আজ বুধবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ অধিবেশনের প্রথম দিনে ভারতের আইনপ্রণেতারা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সম্প্রতি প্রয়াত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রি প্রেস জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, অধিবেশন শুরু হওয়ার পরপরই স্পিকারের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক শোক প্রস্তাব আনা হয়। এই প্রস্তাবে সম্প্রতি বিমান দুর্ঘটনায় নিহত মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার এবং লোকসভার সাবেক পাঁচ সদস্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের সাবেক সরকারপ্রধান বেগম খালেদা জিয়ার নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। এই সময় মৃতদের আত্মার শান্তিকামনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ লোকসভার সকল সংসদ সদস্য দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী কোনো দেশের সাবেক প্রধানকে নিয়ে ভারতের পার্লামেন্টে এ ধরনের শোক প্রস্তাব গ্রহণ করাকে অত্যন্ত উঁচু মাপের কূটনৈতিক শিষ্টাচার হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তাঁর মৃত্যুর পরপরই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকা সফরে এসেছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ লিখিত শোকবার্তা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। আজ লোকসভার অধিবেশনে সেই একই শ্রদ্ধার প্রতিফলন দেখা গেল যা ভারতের সাথে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পর্কের একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানকে নির্দেশ করে।

ভারতের এই বাজেট অধিবেশনটি আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে যেখানে ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী। আজ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের মধ্য দিয়ে অধিবেশনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও খালেদা জিয়ার প্রতি এই শ্রদ্ধা নিবেদন ছিল দিনের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয়। অধিবেশনের সূচি অনুযায়ী আগামী ২৯ জানুয়ারি দেশটির অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ করা হবে। লোকসভার পাশাপাশি রাজ্যসভাতেও এই শোক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের বর্তমান মোদী সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি যে সম্মান প্রদর্শন করছে, খালেদা জিয়ার প্রতি লোকসভার এই শ্রদ্ধা নিবেদন তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ।


বাংলাদেশ-ভারত সামরিক সম্পর্কে ফাটল নেই, সব যোগাযোগের পথ খোলা: নয়াদিল্লি 

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৩ ১৮:৫৪:৪১
বাংলাদেশ-ভারত সামরিক সম্পর্কে ফাটল নেই, সব যোগাযোগের পথ খোলা: নয়াদিল্লি 
ছবি : সংগৃহীত

ভারত ও বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যেকোনো ধরনের ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ এড়াতে একাধিক যোগাযোগের চ্যানেল বা মাধ্যম সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নয়াদিল্লিতে সেনাবাহিনীর বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের নতুন সমীকরণ ভারতের জন্য কোনো ‘হুমকি’ কি না—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে জেনারেল দ্বিবেদী ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ক্ষমতায় কোন ধরনের সরকার রয়েছে, তা বোঝা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি উল্লেখ করেন, “যদি এটি একটি অন্তর্বর্তী সরকার হয়, তাহলে আমাদের দেখতে হবে তারা যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে, সেগুলো দীর্ঘমেয়াদী চার থেকে পাঁচ বছরের জন্য নাকি কেবল আগামী চার-পাঁচ মাসের জন্য। আমাদের বিবেচনা করতে হবে— এখনই আমাদের কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রয়োজন আছে কি না।”

ভারতীয় সেনাপ্রধান জানান যে, বর্তমানে ভারতের তিন বাহিনীই (সেনা, নৌ ও বিমান) বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের সব পথ পুরোপুরি খোলা রেখেছে। জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেন, “ভারতীয় সেনাবাহিনীর একাধিক যোগাযোগের চ্যানেল সক্রিয় রয়েছে এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছি।”

সেনাপ্রধান আরও তথ্য দেন যে, ভারতের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল, যারা মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছে। একইভাবে ভারতীয় নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরাও তাদের সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

যোগাযোগের এই সক্রিয়তার মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো ধরনের ‘যোগাযোগের বিভ্রাট’ বা ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ যেন তৈরি না হয়। জেনারেল দ্বিবেদী আশ্বস্ত করে বলেন, “আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে চাই যে এই মুহূর্তে তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে, তার কোনোটিই ভারতের বিরুদ্ধে নির্দেশিত নয়।”

সক্ষমতা উন্নয়নের বিষয়টিকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ভারত যেমন নিজের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, অন্য দেশগুলোও তা করছে। তবে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ভারতীয় সেনাবাহিনী অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে তিনি জানান।


নরম নীতি’র যুগ শেষ, অবৈধ বাংলাদেশি হটাতে কঠোর আসামের মুখ্যমন্ত্রী 

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০১ ১৮:৫৮:৩৫
নরম নীতি’র যুগ শেষ, অবৈধ বাংলাদেশি হটাতে কঠোর আসামের মুখ্যমন্ত্রী 
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের আসাম রাজ্যে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ অভিবাসীদের হটাতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ‘নরম নীতি’র যুগ এখন শেষ হয়ে গেছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী এখন থেকে বিদেশি হিসেবে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিতাড়নের ক্ষেত্রে আর কোনো দীর্ঘ কূটনৈতিক বা আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষা করবেন না।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, আগে কাউকে বিদেশি সাব্যস্ত করা হলে বাংলাদেশের সঙ্গে যাচাই-বাছাইসহ দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতো। কিন্তু এখন থেকে কাউকে বিদেশি ঘোষণা করে আদেশ জারি হওয়া মাত্রই তাকে ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে উচ্ছেদ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এটি আসামের নিজস্ব ‘পরিচয়’ রক্ষার লড়াই। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যের পরিচয় রক্ষা করতে না পারলে উন্নয়ন অর্থহীন হয়ে পড়বে।

উল্লেখ্য যে, একটি অনুষ্ঠানে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেছেন, বর্তমানে আসামের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই সংখ্যা যদি আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তবে আসাম ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত’ হয়ে যাবে। ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগেই এই ‘অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুকে মূল এজেন্ডা হিসেবে তুলে ধরেছেন বিজেপি নেতা হিমন্ত। পরিচয় রক্ষার এই শাসননীতি আসামের রাজনৈতিক মহলে যেমন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, তেমনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের প্রতিবেশী সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


দিল্লি ও কলকাতায় উত্তাল বাংলাদেশ মিশন

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২৩ ১৮:৫৬:৩৮
দিল্লি ও কলকাতায় উত্তাল বাংলাদেশ মিশন
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনে উগ্র বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে কয়েক শ মানুষ জড়ো হয়ে উত্তেজিত স্লোগান দিতে শুরু করে। তারা পুলিশের তৈরি করা অন্তত দুটি নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রায় একই সময়ে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সামনেও অনুরূপ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখানেও বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড উপড়ে ফেলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায় যা সামলাতে কলকাতা পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর কথিত হামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এবং বজরং দল এই বিক্ষোভের ডাক দেয়। ময়মনসিংহে দিপু চন্দ্র দাস নামক এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারীরা গেরুয়া পতাকা হাতে নিয়ে উস্কানিমূলক স্লোগান দেয়। নয়াদিল্লিতে হাইকমিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হলেও উত্তেজিত জনতা তা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সাথে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে।

মিশনগুলোতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার চেষ্টার প্রতিবাদে এবং বাংলাদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে আজ মঙ্গলবার সকালেই ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রণয় ভার্মা পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের দপ্তরে হাজির হন। অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এই বৈঠকে দিল্লি ও কলকাতাসহ ভারতের অন্যান্য স্থানে থাকা বাংলাদেশি মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দিল্লির প্রতি কড়া আহ্বান জানানো হয়। উল্লেখ্য যে গত মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে এটি ভারতীয় হাইকমিশনারকে দ্বিতীয়বারের মতো তলবের ঘটনা যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

এর আগে গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে কলকাতায় বাংলাদেশবিরোধী একটি বড় ধরণের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকেই ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশি মিশনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। গত ১৪ ডিসেম্বরও প্রণয় ভার্মাকে তলব করে ভারত থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উস্কানিমূলক বক্তব্যের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল ঢাকা। বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লির বাংলাদেশ মিশনে হামলার এই চেষ্টা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর নতুন করে ছায়া ফেলেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ভিয়েনা কনভেনশন মেনে কূটনীতিক ও মিশনগুলোর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভারতের দায়িত্ব।


কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাস থাকতে দেব না: শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২২ ২১:৩৯:৫৭
কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাস থাকতে দেব না: শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভার বিরোধী দলীয় নেতা ও বিজেপি ব্যক্তিত্ব শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসের সামনে এক বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে বিক্ষোভ চলাকালীন শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনকে আর অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সুরক্ষা এবং সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি সরাসরি মিশনটি তালাবদ্ধ করার ডাক দেন।

কলকাতার রাজপথে প্রায় ২ হাজার বিজেপি কর্মীকে নিয়ে আয়োজিত এই সভায় শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশের ময়মনসিংহে দীপু দাস নামক এক শ্রমিককে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে মারার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি অভিযোগ করেন যে বাংলাদেশে ধারাবাহিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে এবং এর প্রতিবাদে আগামী ২৪ ডিসেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যজুড়ে হিন্দু সংগঠনগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রাস্তা অবরোধ করবে। এছাড়া আগামী ২৬ ডিসেম্বর আরও ১০ হাজার মানুষ নিয়ে পুনরায় বাংলাদেশ উপদূতাবাস ঘেরাও করার আল্টিমেটাম দিয়েছেন এই বিজেপি নেতা।

বিক্ষোভ চলাকালীন আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। শুভেন্দু অধিকারী তার বক্তব্যে পরিষ্কার করে বলেন যে বাংলাদেশে যদি এই ধরণের হামলা ও নির্যাতন বন্ধ না হয় তবে তারা কলকাতায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক কার্যক্রম চলতে দেবেন না। তিনি আরও ঘোষণা করেন যে ২৪ ডিসেম্বর সীমান্ত এলাকায় এক ঘণ্টার প্রতীকী অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে যাতে ওপার থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়।

কলকাতার এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও বিজেপি কর্মীদের হার্ডলাইন অবস্থান দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর আগে দিল্লির হাইকমিশন নিরাপত্তা জনিত কারণে তাদের সেবা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছিল যার রেশ এখন কলকাতায় আরও তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে শুভেন্দু অধিকারীর এই ধরণের উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং দূতাবাস বন্ধ করার হুমকি ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। ২৬ ডিসেম্বরের বড় কর্মসূচির ঘোষণা নিয়ে এখন কলকাতায় বাড়তি উদ্বেগ ও সতর্কতা বিরাজ করছে।


হামলা ও বিক্ষোভের জেরে দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের বড় পদক্ষেপ

ভারত ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২২ ২১:২২:৩৪
হামলা ও বিক্ষোভের জেরে দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের বড় পদক্ষেপ
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে কনস্যুলার সেবা ও ভিসা প্রদানের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) হাইকমিশনের মূল ফটকে একটি জরুরি নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে যে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই সেবাগুলো বন্ধ থাকবে। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মূলত গত কয়েক দিনে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোর সামনে নজিরবিহীন বিক্ষোভ এবং ভিসা সেন্টারে হামলার ঘটনার পর কর্মীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের হাইকমিশন ও উপদূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন বড় ধরণের সংকটের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা সেন্টারে ভাঙচুর এবং কলকাতায় উপদূতাবাসের সামনে উগ্র বিক্ষোভের ঘটনায় কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন যে কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক রীতিনীতি বা ভিয়েনা কনভেনশন এক্ষেত্রে চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো এই ধরণের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক বিধিবিধান অনুযায়ী যে ধরণের কঠোর নিরাপত্তা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল তা দৃশ্যমান হচ্ছে না বলে কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ভালুকায় ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। সেখানে দিপু চন্দ্র দাস নামে একজন পোশাক শ্রমিককে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার পর থেকে ভারতের বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে আসাম এবং কলকাতায় বেশ কিছু সংগঠন নিয়মিত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। সোমবারও কলকাতায় বাংলাদেশের উপদূতাবাসের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এর আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে দিল্লিতেও। নিরাপত্তা ইস্যু প্রকট হওয়ায় দূতাবাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দিল্লিতে কনস্যুলার সেবা বন্ধ হওয়ার ফলে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক এবং যারা বাংলাদেশ ভ্রমণের জন্য ভিসার অপেক্ষায় ছিলেন তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এই টানাপোড়েন নিরসনে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা জরুরি। অন্যথায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে তা দিল্লির জন্য আন্তর্জাতিক মহলে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার আগে পুনরায় সেবা চালু করার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাঠকের মতামত: