“মামার বাড়ির আবদার নয়”-রাকসু নির্বাচন নিয়ে ক্ষোভ উপাচার্যের

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আসন্ন রাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তোমরা তালা দেবে, তোমরা মারামারি করবে, আর আমাকে নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে—এটা তো মামার বাড়ির আবদার।”
উপাচার্য মনে করেন, যদি শিক্ষার্থীরা রাকসু নির্বাচনে ছাত্রসুলভ আচরণ প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়, তবে সেটিই তাদের অযোগ্যতার প্রকাশ। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা প্রমাণের দায়িত্ব তাদের নিজেদের, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নয়।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসন্ন রাকসু নির্বাচন নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক নকীব বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া যেকোনো ঘটনার প্রভাব রাকসু নির্বাচনে পড়তে পারে। তাই সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।” তিনি আরও জানান, রাকসু নির্বাচন কমিশনার ও সংশ্লিষ্টদের তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। রোববার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেখানে অশালীন ভাষায় স্লোগান দেওয়া হয় এবং উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে, সেই মুহূর্তেও কমিশন দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ায়নি।
উপাচার্যের ভাষায়, “তারা উচ্চ নৈতিকতা ও আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন মানুষ। কিছু শিক্ষকও আছেন, যারা জঘন্য পরিস্থিতির মধ্যেও নিজেদের দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে যাননি। আমাদেরও সুযোগ ছিল দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার। কিন্তু শিক্ষার্থীরা যখন তালা দেয়, মারামারি করে, তখন প্রশাসনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না যে আমরা সবকিছু সামলাবো। যদি শিক্ষার্থীরা নিয়মকানুনের মধ্যে থাকতে না পারে, তাহলে তারা নিজেরাই রাকসুর জন্য অযোগ্য বলে প্রমাণিত হবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রক্টরিয়াল বডি সব সময় ধৈর্য ধারণ করেছে এবং কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। এ কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। তার মতে, দোষ যাদের, আলাপ আলোচনা হওয়া উচিত তাদের নিয়েই।
রাকসু নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য নকীব বলেন, “আমি চাইতাম আমাদের নিজস্ব সক্ষমতা ও ভেতরের সৌন্দর্য দিয়েই রাকসু নির্বাচন সম্পন্ন হোক। কিন্তু বাস্তবতায় অনেক বিষয় চিন্তা করতে হয়। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, এ ধরনের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন হলে তা আমাদের ছাত্রসমাজ এবং পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য দুঃখজনক ব্যাপার হবে।”
প্রসঙ্গত, গত রোববার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়ে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রদলের কর্মীরা। এ সময় তারা একটি চেয়ার ভাঙচুর করে, টেবিল উল্টে ফেলে এবং ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন সাবেক সমন্বয়ক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে এলে তাদের বাধা দেওয়া হয়।
ঘটনার পর ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরাও সেখানে উপস্থিত হয়ে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এতে কয়েক দফায় ধস্তাধস্তি হয় এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ফটকের তালা ভেঙে ফেলে। চার ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর দুপুর দুইটার দিকে মনোনয়নপত্র বিতরণ পুনরায় শুরু হয় এবং বিতরণের সময় একদিন বাড়ানো হয়।
-রফিক
ষড়ঋতুর পালাবদলে নতুন সাজে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
লালমাটির কোল ঘেঁষে গড়ে উঠা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা এবং প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অনন্য মিলনকেন্দ্র। এখানে প্রতিবছর ছয়টি ঋতু নানানরূপে ধরা দেয়, যা ক্যাম্পাসটিকে করে তুলে আরো প্রাণবন্ত, মনোমুগ্ধকর। এর ফলে এখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয় পড়াশোনার এক মনোরম পরিবেশ।
গ্রীষ্মঃ রৌদ্রজ্জ্বল কর্মচঞ্চল কুবি
গ্রীষ্মের রোদ ঝলমলে ক্যাম্পাসে সবুজ গাছপালা গুলো যেন উজ্জ্বল আলোয় ঝলমল করে উঠে। ক্যাম্পাসের চারপাশে আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে। ক্যাম্পাসের গাছে গাছে দেখা যায় নানান ফল যেমনঃ আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, ইত্যাদি। সেই সাথে সকালের ক্লাস, কুবির কেন্দ্রীয় মাঠের খেলাধুলার আনন্দ, লাইব্রেরির নিঃশব্দ অধ্যয়ন, আর রঙিন ফুলের ছোঁয়া দিনের শুরুকে করে তোলে কর্মমুখর ও প্রাণবন্ত। একাডেমিক ভবন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় মাঠ পর্যন্ত প্রতিটি স্থানেই গ্রীষ্মের এই উজ্জ্বলতা আর কর্মমুখরতার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠে।
.jpeg)
বর্ষাঃ বৃষ্টিস্নাত কুবি
বর্ষার আগমন যেন কুবি ক্যাম্পাসে সজীবতার বার্তা নিয়ে আসে। কখনো ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আবার কখনো মুষলধারার বৃষ্টিপাতে ক্যাম্পাস হয়ে উঠে আরো প্রাণবন্ত ও সবুজ। কখনো কখনো ফ্যাকাল্টির উপর বৃষ্টি যেন ঝাপটে পরে। বৃষ্টির এই অঝোর ধারা দেখলে মনে হয় পাহাড়ি ঝরণার মতো জলধারা নেমে এসেছে।এছাড়াও ছাতা মাথায় দিয়ে শিক্ষার্থীদের পদচারণা আর ভেজা লাল মাটির ঘ্রাণে বৃষ্টিস্নাত ক্যাম্পাসকে এক প্রাণচঞ্চল পরিবেশ বিরাজ করে।

শরৎঃ কাশফুলের শুভ্রতা মোড়ানো কুবি
শরতের আগমনে কুবির নীল আকাশে যেন সাদা মেঘের ভেলার দেখা মেলে। সেই সাথে সাদা কাশফুলের শুভ্রতার দোলা লাগে স্নিগ্ধ ক্যাম্পাসে। শিক্ষক, শিক্ষার্থীর পাশাপাশি বিভিন্ন দর্শনার্থীরাও এই সময় কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসে ক্যাম্পাসে। সবমিলিয়ে শরতের ছোঁয়ায় লালমাটির ক্যাম্পাসটি হয়ে উঠে আরো স্নিগ্ধ ও সুন্দর।

হেমন্তঃ নবান্ন উৎসবে উৎসবমুখর কুবি
হেমন্তে কুবির ক্যাম্পাসে অন্যতম আকর্ষণ হলো নবান্ন উৎসব। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, সংগঠন গুলো হেমন্ত ঋতুকে স্বাগত জানাতেই মূলত নবান্ন উৎসবের আয়োজন করে থাকে। এই উৎসবে কুবির শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। সকলের এই উপস্থিতি ক্যাম্পাসে এক আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করে।

শীতঃ কুয়াচ্ছন্ন কুবি
শীত মানেই শিশির ভেজা পথ আর কুয়াচ্ছন্ন সকাল। শীতের এই সময়ে কুবি এক নতুন রূপে সেজে উঠে। শিশির আর কুয়াশায় পরিপূর্ণ হয়ে থাকে সমগ্র ক্যাম্পাস। শীতের শুরুতেই যখন ক্যাম্পাসের গাছগুলোর সবুজ পাতাগুলো ঝরে পড়া শুরু করে আর ক্যাম্পাসের চারপাশ শিউলি ফুলের ঘ্রাণে সুশোভিত হয়। শীতের সকালে শিক্ষার্থীদের আড্ডা জমে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় এক কাপ চা অথবা কফি হাতে। শীতের এই সময়ে বিভিন্ন বিভাগ কর্তৃক পিঠা উৎসব, বারবিকিউ পার্টি, কালচারাল উইক, কার্নিভাল, চড়ুইভাতির আয়োজন করা হয়। অর্থাৎ শীতকালেও কুবিতে এক উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করে।

বসন্তঃ বর্ণিল সাজে কুবি
বসন্তের শুরুতেই ক্যাম্পাসের প্রতিটি গাছে নতুন পাতা গজায়। গোলাপ, ডালিয়া, গাঁদা, ক্যাসিয়া জাভানিকা, কৃষ্ণচূড়া ইত্যাদি নানান ফুল কুবির শোভাবর্ধন করে।বসন্তকে বরণ করে নিতেই বসন্তবরণ উৎসব উদযাপিত হয়। ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণা বর্ণিল সাজে সেজে উঠে। সব মিলেমিশে বসন্তেও কুবিতে নানান রঙের দোলা লাগে।
কুবি ক্যাম্পাসের ষড় ঋতুর পালাবদল কেবল নৈসর্গিক সৌন্দর্যই নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের মন ও সৃজনশীলতাকে উজ্জ্বীবিত করে। ষড় ঋতুর আগমনে কুবিও সেজে উঠে রঙিন সাজে। গ্রীষ্ম, বর্ষা বা শীত
বছরের ছয়টি ঋতুতেই প্রকৃতির ছোঁয়া আর শিক্ষার্থীদের বর্ণিল আয়োজনে লালমাটির এই ক্যাম্পাসকে করো তোলে আরো প্রাণবন্ত এবং আনন্দময়।
লেখকঃ শিক্ষার্থী, জান্নাতুল ফেরদৌস প্রীতি,
লোকপ্রশাসন বিভাগ,
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
উইলস লিটল ফ্লাওয়ারে বিচারপতির বিরুদ্ধে শিক্ষক হেনস্তার অভিযোগ: আইনমন্ত্রী যা বললেন
রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাম্প্রতিক উত্তাল পরিস্থিতি এবং একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা শিক্ষক হেনস্তার অভিযোগ দেশের বিচারিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল দশম শ্রেণির একটি পদার্থবিজ্ঞান ক্লাসে এক শিক্ষার্থীর অশোভন আচরণ এবং তার প্রেক্ষিতে শিক্ষকের চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংকটের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ উঠেছে, ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক, যিনি একজন উচ্চপদস্থ বিচারপতি, পরবর্তী সময়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ওই শিক্ষককে নিজ বাসভবনে ডেকে নিয়ে চরমভাবে অপমান ও মানসিক নির্যাতন করেছেন। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের ভেতরে সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে রাজপথের বিক্ষোভ এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি পেশ পর্যন্ত গড়ায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে, যেখানে অনেকেই একজন বিচারপতির এমন ব্যক্তিগত আচরণকে পদের অপব্যবহার হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
শনিবার ঢাকার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সাংবাদিকরা যখন বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ আছে কি না জানতে চান, তখন মন্ত্রী সরাসরি জানান যে এই বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত নয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে যদি সদাচারণ বহির্ভূত বা 'মিসকন্ডাক্ট'-এর অভিযোগ আসে, তবে সেটি তদন্ত ও বিচার করার দায়িত্ব কেবল 'সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল'-এর। দেশের সংবিধান অনুযায়ী বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে সরকার বা নির্বাহী বিভাগ এ ধরনের বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে না। আইনমন্ত্রীর এই মন্তব্যের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, অভিযুক্ত বিচারপতির বিষয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কাঠামোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের এই ঘটনাটি কেবল একটি একক প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় পদের নৈতিক সীমা এবং শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষার এক বৃহত্তর প্রশ্নে রূপ নিয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্লাসরুমের একটি সাধারণ শৃঙ্খলাজনিত বিষয়কে যেভাবে বিচারপতির বাসভবন পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশকে ক্ষুণ্ণ করেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক দাবি করেছেন যে, ১৮ এপ্রিল তাকে সমঝোতার কথা বলে ডেকে নিয়ে চরম মানসিক চাপের মুখে ফেলা হয়। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে যাতে বিচারিক পদের মর্যাদা ব্যবহার করে কেউ সাধারণ নাগরিক বা শিক্ষকদের ওপর অন্যায় প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। আইনমন্ত্রীর স্বচ্ছ বক্তব্যের পর এখন জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে যে, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এই অভিযোগটি আমলে নিয়ে কোনো দৃষ্টান্তমূলক তদন্ত শুরু করবে কি না।
উল্লেখ্য যে, ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে মূলত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই গবেষণাটি বিচার ব্যবস্থার সংষ্কার ও প্রতিবন্ধকতা নিরসনের উপায় নিয়ে আলোকপাত করে। তবে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান যখন বিচারিক প্রক্রিয়ার উৎকর্ষ নিয়ে কথা বলছিলেন, তখনই উইলস লিটল ফ্লাওয়ারের এই চাঞ্চল্যকর ইস্যুটি সামনে চলে আসে। বর্তমানে বিষয়টি দেশের সচেতন মহলে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে, যেখানে একদিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং অন্যদিকে সাধারণ মানুষের আত্মসম্মান ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা সমান্তরালভাবে আলোচিত হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এই বিতর্কের চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে।
ক্যাম্পাসের ব্যস্ততা পেরিয়ে ঈদের ছুটিতে কুবি শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার আনন্দ
.png)
জান্নাতুল ফেরদৌস প্রীতি
স্টাফ রিপোর্টার
ঈদের ছুটি মানেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনন্য অনুভূতি।রোজার বেশিরভাগ সময়টাই তাদের কেটে যায় ক্লাস, টিউশন ইত্যাদি নানান ব্যস্ততায়। এই ব্যস্ততার মাঝেওএই ব্যস্ততার মাঝেও তাদের মনটা অপেক্ষা করে থাকে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার।এছাড়াও অনেক শিক্ষার্থীর জন্য এই ঈদে থাকে নিজের টাকায় শপিং করার নতুন অভিজ্ঞতা যা ঈদের আনন্দকে আরো দ্বিগুণ করে তোলে।আর এই অনুভূতিগুলোই কুবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৭ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মোরসালিনা আক্তার মুনতাহা বলেন, "রোজার বেশিরভাগ সময়টাই কেটেছে ক্যাম্পাসে ক্লাস, টিউশন, ইফতার আয়োজন আর পড়াশোনার ব্যস্ততায়। সেই ছুটোছুটির পর যখন বাড়ি ফিরলাম, পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে, মনে হলো যেন ঈদের আগেই আরেকটা ঈদ পেয়ে গেছি।বাড়িতে সবার সঙ্গে ইফতার করা, সেহেরি খাওয়া আর মাকে কাজে সাহায্য করার মধ্যেই অন্যরকম শান্তি—পরিবার যেন সব ক্লান্তি দূর করে দেয়। নিজের টাকায় শপিং করে মা আর ছোট বোনের জন্য উপহার কিনতে পারাটাও ভীষণ ভালো লাগছে, এটা যেন দায়িত্ব আর ভালোবাসার প্রকাশ।ক্যাম্পাসের রুটিনভরা জীবনের তুলনায় এখন সময় কাটছে পরিবারের সঙ্গে, আনন্দ আর প্রস্তুতিতে। যদিও ব্যস্ততা আছে—ঘর সাজানো, রান্নার পরিকল্পনা, চাঁদ রাতের আয়োজন, সালামির হিসাব—তবুও এই ব্যস্ততাটা অনেক বেশি আনন্দের।সব মিলিয়ে, বাড়ি ফেরার আনন্দ সত্যিই যেন দ্বিগুণ হয়ে গেছে।"
পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ১৮ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী, সিফাতুল্লাহ মুমিন বলেন, "ঈদের আনন্দ যেন দিন দিন আমাদের মাঝ থেকে কিছুটা হারিয়ে যাচ্ছে—এটা সত্যিই কষ্টের। শহরে ক্যাম্পাস জীবনে ক্লাস, টিউশন, মেসের ঝামেলা, ঠিকমতো খাওয়া না হওয়া—সব মিলিয়ে দিনগুলো অনেক সময়ই কষ্টের হয়ে ওঠে। তবে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরে সেই ব্যস্ততা থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া যায়, কষ্ট কমে—আর সেই স্বস্তিই ঈদের আনন্দকে দ্বিগুণ করে তোলে।নিজের টাকায় শপিং করা প্রতিটি ছেলেরই এক ধরনের স্বপ্ন। নিজের জন্য কেনার পাশাপাশি বাবা-মা, ভাই-বোনের জন্য কিছু কিনতে পারা—এটা শুধু আনন্দই নয়, বরং স্বাবলম্বী হওয়ার এক গভীর তৃপ্তি। আগে যখন নিজের আয় ছিল না, তখন শপিংয়ের জন্য বাবার উপর নির্ভর করতে হতো, আর তাঁর মুখের চিন্তার রেখাগুলো কষ্ট দিত। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।ক্যাম্পাস জীবনের শুরুটা যতটা রঙিন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকের কাছেই তা কিছুটা একঘেয়ে হয়ে ওঠে। পড়াশোনার চাপ, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তা—সব মিলিয়ে এক ধরনের ক্লান্তি তৈরি হয়। এই ব্যস্ততা আর বিরক্তি থেকে কিছুটা দূরে সরে, বাড়িতে এসে শান্তিতে ঘুমানো এবং কিছু সময়ের জন্য সবকিছু থেকে মুক্ত থাকা—এটাই এখন সবচেয়ে বড় স্বস্তি।তবে এই বিরতিটা দীর্ঘ না হয়ে স্বল্প সময়ের হলে তবেই তার আসল আনন্দ থাকে। জীবনের এই ছোট ছোট বিরতিগুলোই মানুষকে নতুন করে শক্তি জোগায়"। গণ যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৮ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আনিকা ইসলাম সুমাইয়া বলেন, "ক্যাম্পাসের ব্যস্ততায় এবারের রোজার দিনগুলো বেশ অন্যরকম কেটেছে। বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার, তারাবির নামাজ আর রাত জেগে পড়াশোনা—সব মিলিয়ে সময়টা এক অদ্ভুত মায়ায় ঢাকা ছিল। তবে দিনশেষে মন পড়ে থাকত বাড়িতে। তাই সব ব্যস্ততা একপাশে সরিয়ে যখন বাড়ির পথে রওনা দিলাম, মনে হচ্ছিল এক বিশাল প্রশান্তি ফিরে পেয়েছি। পরিবারের সঙ্গে চিরচেনা ডাইনিং টেবিলে বসে ইফতার করা আর মা-বাবার হাসিমুখ দেখা—এই আনন্দের কাছে ক্যাম্পাসের সব ক্লান্তি নিমিষেই ধুয়ে গেছে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদ যেন শিকড়ে ফেরার এক পরম পাওয়া।
নিজের উপার্জনের টাকায় প্রথম শপিং করার অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এটা শুধু কিছু জামাকাপড় কেনা নয়, বরং আত্মনির্ভরশীলতার এক বড় প্রমাণ। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের হাত ধরে শপিংয়ে যাওয়া, আর এখন নিজের জমানো টাকায় তাঁদের জন্য এবং নিজের জন্য পছন্দের জিনিস কেনা—এই পরিবর্তনের মধ্যেই এক অদ্ভুত গর্ব আর তৃপ্তি কাজ করে। নিজের সামর্থ্যে প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটানোর আনন্দ—এটাই সবচেয়ে মূল্যবান।ক্যাম্পাসের জীবন যেখানে ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন আর সময়ের সঙ্গে দৌড়ের মধ্যে আবদ্ধ, সেখানে প্রতিটি মুহূর্তই ছিল হিসেব করা। আর এখনকার সময়টা একেবারেই ভিন্ন—কোনো ডেডলাইনের চাপ নেই, নেই সকালের ক্লাসে যাওয়ার তাড়া। এই ভারমুক্ত সময়টুকুই যেন ঈদের আসল আনন্দকে আরও গভীর করে তুলেছে।"
গণিত বিভাগের ১৮ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মো.শরিফুল আলম বিজয় বলেন,"রোজার বেশিরভাগ সময় ক্যাম্পাসে কাটানোটা একাডেমিক ব্যস্ততার মাঝেও ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা ছিল। সারাদিন রোজা রেখে ক্লাস, টিউশন আর বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার—সব মিলিয়ে সময়টা দ্রুত কেটেছে। ইফতারের পর ক্যাম্পাসের শীতল হাওয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটতে বের হলে সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয়ে যেত, মনে হতো ক্যাম্পাসেও যেন আরেকটি পরিবার আছে।তবে সব ব্যস্ততা শেষে পরিবারের কাছে ফিরে আসার মধ্যে আলাদা শান্তি আছে। মনে হয়, আসল ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গেই। এখানে নেই ক্লাস বা টিউশনের চাপ—শুধু একসঙ্গে সময় কাটানো আর ইবাদতের সুযোগ, যা ক্যাম্পাসে অনেক সময় মিস হয়ে যেত।ঈদে বাড়িতে আসার সবচেয়ে ভালো দিক হলো নিজের উপার্জনের টাকায় বাবা-মা ও ভাই-বোনদের জন্য শপিং করা। এতে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি কাজ করে—নিজের দায়িত্ব নিজে নেওয়ার আনন্দ, ছোট জিনিসেও বড় অর্জনের অনুভূতি।
ক্যাম্পাসের ব্যস্ত জীবনের বিপরীতে এখন সময় কাটছে শান্তভাবে—পরিবারের সঙ্গে গল্প, কাজে সাহায্য আর একসঙ্গে খাওয়ার মধ্যে। আগে সময় দ্রুত কেটে যেত, এখন সেই সময়টাকে উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছি।"
পরিশেষে বলা যায়, ক্যাম্পাসের সকল ব্যস্ততার মাঝেই ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়া, নিজের উপার্জনের টাকায় পরিবারের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো ইত্যাদি সত্যিকার অর্থেই ভালোলাগার বিষয়।যা কুবি শিক্ষার্থীদের মনেও আনন্দের খোরাক জাগায়।
রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও বিচার দাবি করল জুলাই ঐক্য
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনকে সংবিধান লঙ্ঘন ও গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদের মাধ্যমে অভিশংসন করে পদ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে ‘জুলাই ঐক্য’ নামে একটি সংগঠন। একই সঙ্গে তাকে গণহত্যার সহযোগী হিসেবে বিচারের আওতায় আনার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক ফাহিম ফারুকী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ ও সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে সংসদের মাধ্যমে অভিশংসন করা সম্ভব। তাদের দাবি, রাষ্ট্রপতি তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংবিধানের শপথ ভঙ্গ করেছেন।
ফাহিম ফারুকীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, এই ভাষণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপিকে দুটি শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা জুলাই সনদের শপথ গ্রহণ করেনি।
পরিবর্তে সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের আয়োজন করা হয়েছে বলে দাবি করে সংগঠনটি।
জুলাই ঐক্যের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে।
তাদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করা হলে এর রাজনৈতিক পরিণতি গুরুতর হতে পারে।
সংগঠনটির অভিযোগ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি একাধিকবার শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেছেন।
ফাহিম ফারুকী বলেন, রাষ্ট্রপতি দাবি করেছিলেন যে ২০২৪ সালের অক্টোবরে জুলাই ঐক্য বঙ্গভবন ঘেরাও করতে গিয়েছিল।
কিন্তু সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, জুলাই ঐক্যের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে ২০২৫ সালের মে মাসে, ফলে ওই দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সংবাদ সম্মেলনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের যেসব সদস্য এখনো শপথ নেননি, তাদের দ্রুত শপথ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সংগঠনকে সক্রিয় ও সমন্বিত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানায় জুলাই ঐক্য।
সংগঠনটি ঘোষণা দিয়েছে, আগামী ২৫ মার্চ পর্যন্ত দেশজুড়ে সংগঠন সংগ্রহ কার্যক্রম চালানো হবে, যার মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করা হবে।
-রফিক
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঢাবির নতুন সিদ্ধান্ত
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) সাময়িকভাবে সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী সোমবার (৯ মার্চ) থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষ হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।
রোববার (৮ মার্চ) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এই সভা আহ্বান করা হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সিন্ডিকেট ম্যানেজমেন্ট টিম (এসএমটি)-এর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে পাঠানো নির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে ৯ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। এর ফলে এই সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা এবং অন্যান্য শিক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রশাসনিক কাজকর্ম পুরোপুরি স্থগিত করা হয়নি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসসমূহ স্বাভাবিক নিয়মেই খোলা থাকবে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ৯ মার্চের পর অফিস কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, প্রশাসনিক বিভাগগুলো খোলা থাকবে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং জাতীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের সুবিধা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের বাড়ি যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে এবং রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের চাপও কিছুটা কমাতে সহায়তা করবে।
তারা মনে করেন, ছুটির সময়সূচি আগাম ঘোষণা করা হলে শিক্ষার্থীরা তাদের ভ্রমণ ও ব্যক্তিগত পরিকল্পনা আরও সহজে সমন্বয় করতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্যও সুবিধাজনক।
-রাফসান
কলঙ্কময় রাত থেকে রক্ষা পেল ঢাবি: মিত্র চাকমা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে এক পথশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টাকালে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। ঢাবির সলিমুল্লাহ মুসলিম হলসংলগ্ন ফুটপাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়। এই ঘটনাকে একটি কলঙ্কময় রাত আখ্যা দিয়ে বুধবার (৪ মার্চ) রাতে একটি পোস্ট দিয়েছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা।
তিনি পোস্টে লেখেন, ‘এক কলঙ্কময় রাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।’
‘মাহবুবুর রহমান, কাজ করেন পার্শ্ববর্তী পলাশী মার্কেটে, দুধ সাপ্লাইয়ের কাজ করেন। আজ রাতে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের পার্শ্ববর্তী ফুটপাতে এক পথশিশুকে ধর্ষণ চেষ্টায় হাতেনাতে ধরা পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের হাতে।’
‘সিভিল সোসাইটির শর্তানুযায়ী কোনো ধরনের শারীরিক আঘাত ছাড়াই তাকে শাহবাগ থানায় আনা হয়, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা আমাকে ফোন দিয়ে জানায় এবং তৎক্ষণাৎ থানায় যাই। অভিযুক্ত তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে। তিনি জানান, শয়তানের প্ররোচনায় তিনি এ কাজ করেছেন। তিনি জানেন না তিনি কীভাবে এ কাজ করতে গিয়েছিলেন।’
‘বাচ্চা শিশুটার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছি। সাধারণত ধর্ষণ চেষ্টায় খুব একটা সিগ্নিফিকেন্ট প্রমাণাদি থাকে না। কৌশলে জিজ্ঞেস করলে সে মোটামুটি স্বীকার করে, কিন্তু এটা কনক্রিট কোনো প্রমাণ না। মামলার খরচ চালানো, আইনি জটিলতা ইত্যাদির কারণে মামলার বাদী হিসেবে কেউ থাকতে না চাওয়ায় মামলা না দিয়ে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।’
‘যারা কথায় কথায় আইনের দোহাই দেন, এবার একটু চোখ খুলুন। দেখুন, আমি আইনের বাইরে যেতে পারিনি আজ! আইন কতভাবে আমাদের হাত-পা বেঁধে রেখেছে, দেখুন!’
ইবিতে লোমহর্ষক কাণ্ড: শিক্ষক খুন, ঘাতকের আত্মহত্যার চেষ্টা
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ দপ্তরে কুপিয়ে হত্যা করেছেন ফজলু নামের এক কর্মচারী। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। ঘাতক কর্মচারী শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। হঠাৎ করে কর্মচারী ফজলু ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিভাগীয় প্রধান আসমা সাদিয়া রুনার ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর জখম হন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ফজলু নিজেকে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান।
বিভাগে চিৎকার ও গোলযোগের শব্দ শুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি এবং ইবি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা দুজনকে রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সম্ভবত তাঁর মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মচারী বর্তমানে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ক্যাম্পাসের ভেতরে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো পূর্বশত্রুতা বা সুনির্দিষ্ট কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এই নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
/আশিক
ঢাবি ছাত্রদলের আলটিমেটামে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে ‘মিথ্যা প্রোপাগান্ডা’ ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আজ রাত ৮টার মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় অভিযুক্ত ডাকসু প্রতিনিধি এবং প্রশাসনের নির্লিপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সংগঠনটি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে। ছাত্রদলের অভিযোগ, গত সেপ্টেম্বরের বিতর্কিত ডাকসু নির্বাচনের পর থেকে একটি বিশেষ সিন্ডিকেট ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি ও দোকান উচ্ছেদের রাজত্ব কায়েম করেছে।
স্মারকলিপিতে ছাত্রদল দাবি করেছে যে, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এবং কতিপয় শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় নির্দিষ্ট কিছু ডাকসু প্রতিনিধি একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গঠন করেছেন। এই সিন্ডিকেটই মূলত ক্যাম্পাসে দোকান উচ্ছেদ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানির সাথে সরাসরি জড়িত। ছাত্রদলের অভিযোগ, এই চক্রটি নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে ভুয়া অভিযোগ ছড়িয়ে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় ছাত্রদল তাদের স্মারকলিপিতে দুই দফা দাবি উত্থাপন করেছে। প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ক্যাম্পাসে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও দোকানপাট পরিচালনার সঠিক নীতিমালা সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে এবং তা সর্বসাধারণের কাছে প্রচার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, চাঁদাবাজি এবং দোকান ভাঙচুরের সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত সকল ডাকসু প্রতিনিধি বা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন। তিনি দাবি করেন যে, আসন্ন নির্বাচন এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির পক্ষে যে দেশব্যাপী গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, তাকে ম্লান করতেই পরিকল্পিতভাবে ছাত্রদলকে চাঁদাবাজির তকমা দেওয়া হচ্ছে। শিপন বলেন, দীর্ঘদিনের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে সামনে এনে এই প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের চোখে ছাত্রদলকে ছোট করা যায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানান যেন আজ রাতের মধ্যেই চাঁদাবাজির প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতেই হবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে এক ধরণের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে নাহিদুজ্জামান শিপন আরও বলেন যে, যদি এই ধরণের অসামাজিক বা অপরাধমূলক কাজের সাথে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়, তবে সংগঠন নিজ উদ্যোগেই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি মনে করেন, একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে হলে এই ধরণের ‘সিন্ডিকেট সংস্কৃতি’ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে মুক্ত করা জরুরি। ছাত্রদলের এই কঠোর অবস্থান এবং আলটিমেটামের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। ক্যাম্পাস জুড়ে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের পরবর্তী বার্তার অপেক্ষায় রয়েছে।
জকসু নির্বাচনে শিবিরের জয়জয়কার
দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল। বুধবার দিবাগত রাত ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ৩৮টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলাফলে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে রিয়াজুল ইসলাম ৫ হাজার ৫৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। ভিপি পদে জয়ের ব্যবধান ৮৭০ ভোট হলেও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন শিবিরের আব্দুল আলীম আরিফ। তিনি ৫ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের খাদিজাতুল কুবরাকে (২,২২৩ ভোট) ৩ হাজার ২৫২ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদেও শিবিরের মাসুদ রানা ৫ হাজার ২০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। কেন্দ্রীয় সংসদের ১৮টি সম্পাদকীয় ও সদস্য পদের মধ্যে অধিকাংশ পদেই শিবিরের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। ১১টি সম্পাদকীয় পদের ৮টিতেই জয় পেয়েছে ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল, যেখানে ছাত্রদল পেয়েছে মাত্র ৩টি পদ (সাহিত্য ও সংস্কৃতি, পাঠাগার ও সেমিনার এবং অন্য একটি)। সাতজন সদস্য পদের মধ্যে ৪টিতে শিবির, ২টিতে ছাত্রদল এবং একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক মো. নূরনবী, শিক্ষা ও গবেষণা ইব্রাহিম খলিল এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে নওশীন নওয়ার জয়া বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।
একই দিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল ‘নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী’ হল সংসদেও শিবিরের প্যানেল পূর্ণ জয় পেয়েছে। হলের ভিপি জান্নাতুল উম্মি তারিন, জিএস সুমাইয়া তাবাসসুম এবং এজিএস রেদওয়ানা খাওলাসহ শীর্ষ পদগুলো এখন শিবিরের দখলে। তবে নির্বাচনের এক চমকপ্রদ ও বিরল ঘটনা ঘটেছে সংগীত বিভাগে, যেখানে জিএস ও এজিএস পদে শিবিরের প্রার্থীরা একটি ভোটও পাননি। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) কোনো প্রকার সহিংসতা ছাড়াই জবি ক্যাম্পাসে এই ঐতিহাসিক ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কেন্দ্রীয় সংসদে ৬৫ শতাংশ এবং হল সংসদে ৭৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। ২১ বছরের দীর্ঘ বিরতি শেষে হওয়া এই নির্বাচন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
পাঠকের মতামত:
- চোখের ক্লান্তি ও কালো দাগ দূর করতে আলু নাকি শসা, কোনটি সেরা?
- ৬৪ বছর আগের ব্রাজিলীয় ইতিহাস ছোঁয়ার হাতছানি আর্জেন্টিনার সামনে
- শনিবারের টাকার রেট: জেনে নিন বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার
- শত উত্তেজনার মাঝেও বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণে মার্কিন সবুজ সংকেত
- বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট, সুরক্ষায় মোতায়েন সহস্রাধিক নিরাপত্তাকর্মী
- বিদ্যুতের দাম বাড়লেও রেহাই পাচ্ছেন ৬৫ শতাংশ গ্রাহক: ডা. জাহেদ উর রহমান
- ইরানের সাথে সংঘাত নিয়ে খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি: ডোনাল্ড ট্রাম্প
- ধোঁয়াশার মাঝেই নতুন পে-স্কেলে মিলল সুখবর
- ৭ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
- শনিবার রাজধানীর কোন কোন এলাকার মার্কেট ও দোকান বন্ধ?
- শনিবারের ঢাকা: এক নজরে দেখে নিন আজকের সব কর্মসূচি
- বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- বিশ্বমঞ্চে বীরের সম্মান: ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে দাগ হ্যামারশোল্ড পদক
- হরমুজ প্রণালীতে রণক্ষেত্র: মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলা
- হাদি হত্যা মামলার বাদী জাবের কেন? প্রশ্ন তুললেন বোন মাসুমা হাদি
- সাহারার মৃত্যুফাঁদে ৪৯ প্রাণ: বিকল ট্রাক, ফুরিয়ে যায় পানি, মরুভূমিতেই শেষ যাত্রা
- মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা ও মার্কিন সুদের শঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় ধস
- দৌলতদিয়ায় ফের নদীতে বাস দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ৩৭ যাত্রী
- জেনে নিন আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার দর
- ঢাকাসহ ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- ইরান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ভোট: ট্রাম্পকে কি সত্যিই ঠেকানো যাবে?
- পারকুল এলাকায় ৬ মাসের বেশি বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, পুলিশের উপস্থিতিতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন
- এমপি হতে আওয়ামী লীগের সুবিধা নেন হান্নান মাসুদ: রাশেদ খান
- আওয়ামী লীগের ফাঁদে পা দিয়ে তাদের ফেরানোর পাঁয়তারা করছে সরকার: আসিফ মাহমুদ
- বন্ধ ও অলাভজনক সরকারি কারখানা চালু করতে শিগগিরই সরকারের 'রোড শো'
- ঢাকাসহ ৪৮ জেলায় রেকর্ড তাপপ্রবাহ, তীব্র গরম কবে কমবে জানাল আবহাওয়া অফিস
- দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের রহস্যময় কাঠামো: হঠাৎ দেখা দিয়ে উধাও, তুঙ্গে উত্তেজনা
- ফুটবলের মহাবিশ্বকাপে বাংলাদেশের নাম, অফিশিয়াল অ্যালবামে ঠাঁই পেলেন ডিজে সঞ্জয়
- তীব্র প্রতিবাদের মুখে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহার
- কাগজে-কলমে চুক্তি হলেও যুদ্ধবিরতি মানছে না ইসরাইল, লেবাননে ব্যাপক হামলা
- টাকা ছাড়াও শাহ সুলতান বলখীর (র.) মাজারে মিলল সোনা ও বিদেশি মুদ্রা
- কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক দেবিদ্বারের সড়ক আবারও রক্তাক্ত: বাস উল্টে নিহত ১, আহত ১৫
- হাদি খুন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য: মমতার বিরুদ্ধে ভারতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি রয়েছে: মির্জা ফখরুল
- প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের 'লাল টেলিফোন'র তার চুরি: ২ চোর ও ভাঙারি ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
- আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যুতে অবহেলা স্পষ্ট, আইনি ব্যবস্থার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
- ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে হাম: আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় বাবা-মায়েদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
- ৪ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- আর্জেন্টিনাকে সতর্কবার্তা দিল আলজেরিয়া, ডাচদের হারিয়ে বিশ্বমঞ্চের আগে হুংকার
- ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতি মানে একটু আস্তে গুলি চালানো: ট্রাম্প
- মিশরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে একাদশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত কোচ কার্লো আনচেলত্তির
- তেল-গ্যাসের পর এবার বিদ্যুৎ: ধাপে ধাপে মূল্যবৃদ্ধিতে সংসার চালানোয় টান
- বিএনপির পক্ষ থেকে যুবদলের ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাহী কমিটির আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ
- দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের ১০টি পুশইন অপচেষ্টা রুখে দিল বিজিবি
- মুকেশ আম্বানিকে টপকে এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী টিকটকের ঝ্যাং ইমিং
- ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ০০৭: জেমস বন্ড সেজে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট
- দেশের ৪ অঞ্চলে আজ দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস
- সাহারার মৃত্যুফাঁদে ৪৯ প্রাণ: বিকল ট্রাক, ফুরিয়ে যায় পানি, মরুভূমিতেই শেষ যাত্রা
- বিশ্বকাপের মহড়ায় আজ রাতে মাঠে নামছে ব্রাজিল: প্রতিপক্ষ পানামা
- ৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৪ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৩ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর: এজেন্ডায় ৯ লাখ কর্মীর ভাগ্য ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
- ৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, এক লাফে কমল স্বর্ণের দাম
- ইউটিউবে বিনামূল্যে দেখা যাবে বিশ্বকাপের ১০৪ ম্যাচ, নেপথ্যে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
- ১ জুন ২০২৬: আজ দিনভর কেমন থাকবে রাজধানীসহ দেশের আবহাওয়া?
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
- জমি বিরোধের জেরে সাতক্ষীরার ঝায়ামারীতে গৃহবধূকে পথরোধ করে বর্বর হামলা








