কোরআনের বাণী
কোরআনের আলোকে পরকাল: অবিশ্বাসীদের শেষ পরিণতি

সুরা আনআম: পার্থিব জীবনকে পরকালের জন্য কাজে লাগানোর আহ্বান
কোরআনুল কারিম: সুরা আনআম, আয়াত ২৯-৩০
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
وَ قَالُوۡۤا اِنۡ هِیَ اِلَّا حَیَاتُنَا الدُّنۡیَا وَ مَا نَحۡنُ بِمَبۡعُوۡثِیۡنَ﴿۲۹﴾
وَ لَوۡ تَرٰۤی اِذۡ وُقِفُوۡا عَلٰی رَبِّهِمۡ ؕ قَالَ اَلَیۡسَ هٰذَا بِالۡحَقِّ ؕ قَالُوۡا بَلٰی وَ رَبِّنَا ؕ قَالَ فَذُوۡقُوا الۡعَذَابَ بِمَا كُنۡتُمۡ تَكۡفُرُوۡنَ﴿۳۰﴾
আল্লাহর বাণী, "আর তারা বলে, আমাদের পার্থিব জীবনই একমাত্র জীবন এবং আমাদেরকে পুনরুত্থিতও করা হবে না।" (২৯)
এই আয়াতে আল্লাহ অবিশ্বাসীদের মানসিকতা তুলে ধরেছেন। তারা মনে করে যে এই পার্থিব জীবনই একমাত্র সত্য এবং মৃত্যুর পর আর কোনো জীবন নেই। এই ধারণার বশবর্তী হয়ে তারা পরকালকে অস্বীকার করে এবং পার্থিব জীবনের ভোগ-বিলাসকে প্রাধান্য দেয়। ইবনে কাসিরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অবিশ্বাসীরা দুনিয়াতে ফিরে গেলেও একই কথা বলবে।
পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ বলছেন, "আপনি যদি তাদেরকে দেখতে পেতেন, যখন তাদেরকে নিজ প্রতিপালকের সম্মুখে দাঁড় করানো হবে এবং তিনি বলবেন, ‘এ (পুনরুত্থান) কি প্রকৃত সত্য নয়!’ তারা বলবে, ‘আমাদের প্রতিপালকের শপথ! নিশ্চয়ই এটা সত্য।’ তিনি বলবেন, ‘তবে তোমরা যে অবিশ্বাস করতে, তার জন্য তোমরা এখন শাস্তি ভোগ কর।’" (৩০)
এই আয়াতে পরকালের এক ভয়াবহ দৃশ্যের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। যখন কাফের ও পাপীরা আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে, তখন তারা তাদের ভুল উপলব্ধি করবে। কিন্তু তখন তাদের এই স্বীকারোক্তি কোনো কাজে আসবে না। মহান আল্লাহ তাদের মিথ্যাচার ও অবিশ্বাসের জন্য শাস্তি দেবেন।
এই দুটি আয়াত থেকে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, পার্থিব জীবনকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো। এই জীবন আল্লাহর একটি বিরাট নেয়ামত। তাই ইসলামে আত্মহত্যা বা মৃত্যু কামনা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আমাদের উচিত এই জীবনকে পরকালের পাথেয় হিসেবে ব্যবহার করা।
আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্তের ওয়াক্ত
ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে দ্বিতীয় এবং ইমান বা বিশ্বাসের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো নামাজ। পরকালে হাশরের ময়দানে বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেওয়া হবে। তাই কর্মব্যস্ততার মাঝেও সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য অপরিহার্য। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল নামাজের গুরুত্বও অপরিসীম।
আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা)
জোহর: ১২টা ১৫ মিনিট
আসর: ৪টা ১০ মিনিট
মাগরিব: ৫টা ৪৫ মিনিট
এশা: ৭টা ০৩ মিনিট
ফজর (আগামীকাল বুধবার): ৫টা ২২ মিনিট
বিভাগীয় সময়ের পার্থক্য: ঢাকার সময়ের সাথে দেশের বিভিন্ন জেলার সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ঢাকার সময়ের সাথে নিম্নোক্ত সময়গুলো যোগ বা বিয়োগ করে অন্যান্য বিভাগের নামাজের সময় পাওয়া যাবে
বিয়োগ করতে হবে
সিলেট: ০৬ মিনিট
চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট
যোগ করতে হবে
রংপুর: ০৮ মিনিট
রাজশাহী: ০৭ মিনিট
খুলনা: ০৩ মিনিট
বরিশাল: ০১ মিনিট
শবে বরাতের রোজা ও তওবা-ইস্তিগফারের গুরুত্ব
বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে যেসব রাত গভীর গুরুত্ব ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হয়, শবে বরাত তার অন্যতম। ‘শবে বরাত’ মূলত ফারসি শব্দসমষ্টি। এখানে ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ নাজাত বা মুক্তি। এই অর্থের দিক থেকে শবে বরাতকে বলা হয় মুক্তির রজনী। তবে হাদিসের পরিভাষায় এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’, অর্থাৎ শাবান মাসের মধ্যরাত বা ১৪ শাবান দিবাগত রাত।
পবিত্র কোরআনে সরাসরি শবে বরাতের নাম বা বিবরণ উল্লেখ না থাকলেও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাসূত্রে একাধিক হাদিসে এই রাতের ফজিলত প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বহু আলেম এই রাতকে ফজিলতপূর্ণ হিসেবে স্বীকার করেছেন।
বিখ্যাত সাহাবি হজরত মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, অর্ধ শাবানের রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। হাদিসবিশারদদের মতে, এই বর্ণনাটি গ্রহণযোগ্য ও বিশুদ্ধ।
এই হাদিস থেকে স্পষ্ট হয়, শবে বরাত মূলত ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির রাত। তবে একই সঙ্গে এটি সতর্কবার্তাও বহন করে যাদের অন্তরে শিরক কিংবা হিংসা ও বিদ্বেষ রয়েছে, তারা এই বিশেষ রহমত থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
শবে বরাতের মর্যাদা কেবল হাদিসেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সালাফে সালেহিনদের কাছেও এই রাত ছিল বিশেষ গুরুত্বের। হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, পাঁচটি রাতে দোয়া প্রত্যাখ্যাত হয় না, যার একটি হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখের রাত।
ন্যায়পরায়ণ খলিফা ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) এবং ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-ও এই রাতে দোয়া কবুল হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁরা একে মুস্তাহাব আমলের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেছেন, অর্থাৎ এটি পালন করলে সওয়াব রয়েছে, তবে বাধ্যতামূলক নয়।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) তাঁর ফতোয়ায় উল্লেখ করেছেন, শবে বরাতের ফজিলত অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অনেক সালাফ এই রাতে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। তবে তিনি একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেছেন, সম্মিলিত ও নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত ইবাদত থেকে বিরত থাকা উচিত।
এই বক্তব্য শবে বরাত পালনে ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে না অতিরঞ্জন, না অবহেলা।
শবে বরাতের ইবাদত মূলত ব্যক্তিগত নফল আমলের অন্তর্ভুক্ত। তাই এ রাতে নির্দিষ্ট সংখ্যা বা নির্দিষ্ট পদ্ধতির নামাজ আবশ্যক মনে করা ঠিক নয়। বরং হাদিস ও সালাফদের বর্ণনা অনুযায়ী কিছু সাধারণ আমল গুরুত্ব পেতে পারে।
নফল নামাজ আদায় এই রাতের অন্যতম আমল। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে দেখা যায়, এই রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এত দীর্ঘ সেজদায় ছিলেন যে, তাঁর ইন্তেকাল হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল।
তাওবা ও ইস্তিগফার এই রাতের মূল শিক্ষা। ইমাম ইবনে রজব (রহ.) বলেন, যেহেতু এই রাতে আল্লাহ বান্দাদের ক্ষমা করেন, তাই মুমিনের উচিত আন্তরিকভাবে তাওবা করা এবং বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা।
নফল নামাজের পাশাপাশি কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আজকারে মশগুল থাকাও এই রাতের উত্তম আমলের অন্তর্ভুক্ত। এসব আমলের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে।
১৫ শাবানের দিনে রোজা রাখার বিষয়ে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যদিও এর সনদ কিছুটা দুর্বল। তবে যেহেতু এটি ফজিলতপূর্ণ আমলের পর্যায়ে পড়ে এবং শাবান মাসে বেশি রোজা রাখার বিষয়ে সহিহ হাদিস রয়েছে, তাই অনেক আলেম এই রোজাকে অর্থবহ বলে মনে করেন। উত্তম হলো, একে আগের বা পরের দিনের রোজার সঙ্গে মিলিয়ে রাখা।
কবর যিয়ারতের বিষয়েও কিছু বর্ণনা পাওয়া যায় যে, এই রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃতদের জন্য দোয়া করেছেন। যদিও এসব বর্ণনার সনদ নিয়ে মতভেদ রয়েছে, তবু সাধারণভাবে কবর যিয়ারত ও মৃতদের জন্য দোয়া করা ইসলামে অনুমোদিত আমল।
শবে বরাতের প্রকৃত শিক্ষা হলো অন্তরকে শিরক, হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে মুক্ত করা, অতীতের গুনাহের জন্য লজ্জিত হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা এবং ভবিষ্যতের জীবনকে তাকওয়ার আলোয় সাজানোর চেষ্টা করা।
মহান আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে এই মহিমান্বিত রাতের ফজিলত যথাযথভাবে অর্জনের তাওফিক দান করেন। আমিন।
আজ পবিত্র শবেবরাত, খুলেছে রহমতের দরজা
আজ মঙ্গলবার পবিত্র শবেবরাত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মহিমান্বিত রাতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য অশেষ রহমত ও ক্ষমার দরজা উন্মুক্ত করে দেন। হিজরি সনের শাবান মাসের চৌদ্দ তারিখের দিবাগত এই রাতটি মুসলমানদের কাছে সৌভাগ্যের রাত ও মুক্তির রাত হিসেবে সুপরিচিত।
শবেবরাত শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে এসেছে। ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি বা সৌভাগ্য। আরবি ভাষায় এই রাতকে বলা হয় ‘লাইলাতুল বরাত’। এই রজনীকে কেন্দ্র করে মুসলমানরা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ লাভের আশায় ইবাদত-বন্দেগিতে আত্মনিয়োগ করেন।
এই রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে মগ্ন থাকেন। অতীত জীবনের গুনাহ ও ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ, শান্তি ও সফলতা কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করেন।
শবেবরাতের দোয়া শুধু ব্যক্তিগত কল্যাণেই সীমাবদ্ধ থাকে না। মুসলমানরা এই রাতে মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, সমাজ ও রাষ্ট্রের শান্তি কামনার পাশাপাশি সমগ্র মানবজাতির মঙ্গল ও কল্যাণের জন্য দোয়া করেন।
হাদিস শরিফে এই রাতের বিশেষ মর্যাদার কথা উল্লেখ রয়েছে। বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, মধ্য শাবানের রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টিজগতের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং শিরিককারী ও হিংসা পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। এই হাদিস শবেবরাতের রাতকে ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য সুযোগ হিসেবে তুলে ধরে।
শবেবরাতের আগের দিন বা পরের দিন রোজা রাখা সুন্নত হিসেবে বিবেচিত। এ কারণে অনেক মুসলমান শবেবরাত উপলক্ষে দুই দিন রোজা পালন করেন। এতে আত্মসংযমের পাশাপাশি রমজানের প্রস্তুতির দিকটিও গুরুত্ব পায়।
পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে আগামীকাল বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এদিন সব সরকারি অফিস, আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এতে মুসলমানরা স্বাচ্ছন্দ্যে ইবাদত ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে পারবেন।
শবেবরাতকে ঘিরে উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে কিছু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রীতিও প্রচলিত। বাড়িতে বাড়িতে হালুয়া, ফিরনি, রুটি ও বিভিন্ন ধরনের খাবার প্রস্তুত করা হয়। এসব খাবার আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এবং গরিব-দুঃখীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
অনেকে সন্ধ্যার পর কবরস্থানে যান এবং আত্মীয়স্বজন ও পূর্বপুরুষদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। যদিও ইসলামে নির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিকতা বাধ্যতামূলক নয়, তবে এই রাতকে আত্মসমালোচনা, ক্ষমা প্রার্থনা ও মানবিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ হিসেবে দেখা হয়।
পবিত্র শবেবরাত মুসলমানদের জন্য কেবল একটি ইবাদতের রাত নয়; এটি পবিত্র রমজান মাসের আগমনী বার্তাও বহন করে। শাবান মাসের পরই আসে সিয়াম সাধনার মাস রমজান। তাই শবেবরাত থেকেই অনেক মুসলমান মানসিক ও আত্মিকভাবে রমজানের প্রস্তুতি শুরু করেন।
-রফিক
শবেবরাত পালনে কী করবেন, কী করবেন না
ইসলামি সংস্কৃতিতে যেসব রাত বিশেষ মর্যাদা ও তাৎপর্য বহন করে, শবেবরাত তাদের অন্যতম। হিজরি বর্ষের শাবান মাসের চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলমানদের কাছে ‘শবেবরাত’ নামে পরিচিত। হাদিস শরিফে এই রাতকে ‘নিসফে শাবান’, অর্থাৎ শাবান মাসের মধ্যরাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মুসলিম বিশ্বে এই রাত আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও আত্মশুদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি রাতে শবেবরাত পালিত হচ্ছে। একই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও এ রাত পালনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকায় বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাতে সারাদেশে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
সভায় জানানো হয়, সোমবার দেশের কোথাও শাবান মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় রজব মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হয় এবং ২১ জানুয়ারি বুধবার থেকে শাবান মাসের গণনা শুরু হয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী শাবান মাসের চৌদ্দ তারিখের দিবাগত রাত, অর্থাৎ ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে শবেবরাত পালিত হবে। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং স্পারসো থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
শবেবরাতের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে একাধিক বর্ণনা পাওয়া যায়। হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালা অর্ধ শাবানের রাতে তাঁর সৃষ্টির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যক্তি ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, শবেবরাত আল্লাহর ক্ষমা ও অনুগ্রহ লাভের এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের রাত।
আরেকটি দীর্ঘ বর্ণনায় হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, এক রাতে তিনি দেখেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দীর্ঘ সময় সেজদায় মগ্ন আছেন। এত দীর্ঘ সেজদা দেখে তাঁর মনে আশঙ্কা জাগে, নবিজি হয়তো ইন্তেকাল করেছেন। পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানান, এটি শাবানের মধ্যরাত। তিনি বলেন, এই রাতে আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের প্রতি মনোযোগ দেন, ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন, দয়া প্রার্থনাকারীদের ওপর রহমত নাজিল করেন এবং বিদ্বেষ পোষণকারীদের তাদের অবস্থাতেই ছেড়ে দেন।
উল্লিখিত হাদিসগুলো থেকে প্রতীয়মান হয়, শবেবরাতে নির্দিষ্ট কোনো ইবাদতকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি। বরং এই রাতের মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা, নফল নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে নিজেকে আল্লাহর রহমতের উপযুক্ত করে তোলা। বিশেষভাবে অন্তরের হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা পরিহার করার প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে, কারণ এসব মানসিকতা এই রাতের মাগফিরাত থেকে মানুষকে বঞ্চিত করতে পারে।
শবেবরাত তাই কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, আত্মসমালোচনা এবং সম্পর্ক সংশোধনের এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। এই রাত মুসলমানদের স্মরণ করিয়ে দেয়, আল্লাহর রহমতের দরজা সবসময় খোলা থাকে শর্ত শুধু একটাই, আন্তরিকভাবে তাঁর দিকে ফিরে আসা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা।
-রফিক
কীভাবে ইস্তেগফার করবেন, জানুন ফজিলতসহ সহজ নিয়ম
ইস্তেগফার শব্দের অর্থ আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। একজন বান্দা যখন নিজের ভুল, গুনাহ বা অবহেলার কথা স্বীকার করে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চায়, সেটিই ইস্তেগফার। ইসলামী জীবনে এটি কেবল মুখের উচ্চারণ নয়, বরং আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির একটি মৌলিক অনুশীলন।
অন্যদিকে তওবা শব্দের অর্থ ফিরে আসা। অর্থাৎ গুনাহ থেকে সরে এসে আল্লাহর পথে প্রত্যাবর্তন করা। ইস্তেগফার ও তওবা শব্দদ্বয়ের অর্থ কাছাকাছি হলেও, ইস্তেগফার মূলত ক্ষমা চাওয়ার প্রকাশ, আর তওবা হলো সেই গুনাহ পরিত্যাগ করে সঠিক পথে ফিরে আসার দৃঢ় সিদ্ধান্ত।
কোরআনে ইস্তেগফার সম্পর্কে আল্লাহর নির্দেশ
ইস্তেগফারের গুরুত্ব কোরআনে বারবার তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সরাসরি আহ্বান করেছেন তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে। যেমন, কোরআন-এ বলা হয়েছে,“তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল।” (সুরা নূহ, আয়াত ১০)
আরেক স্থানে আল্লাহ নির্দেশ দেন,“তোমার রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো।” (সুরা নাসর, আয়াত ৩)
এমনকি আল্লাহ তাআলা ইস্তেগফারকে আজাব থেকে রক্ষার কারণ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।“আল্লাহ তাদের আজাব দেবেন না, যতক্ষণ তারা ইস্তেগফার করতে থাকবে।” (সুরা আনফাল, আয়াত ৩৩)
এই আয়াতগুলো স্পষ্ট করে যে, ইস্তেগফার শুধু ব্যক্তিগত গুনাহ মাফের উপায় নয়, বরং সামষ্টিকভাবেও আল্লাহর রহমত টেনে আনে।
তওবা কী এবং তওবার শর্তসমূহ
তওবা অর্থ কেবল ‘ক্ষমা চাইছি’ বলা নয়। তওবার প্রকৃত অর্থ হলো নিজের কৃত ভুলের জন্য লজ্জিত হওয়া, আন্তরিক অনুতাপ প্রকাশ করা এবং ভবিষ্যতে সেই গুনাহ আর না করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা।
ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়, তওবার তিনটি মূল শর্ত রয়েছে। প্রথমত, গুনাহের জন্য অন্তর থেকে অনুশোচনা করা। দ্বিতীয়ত, সেই গুনাহ সঙ্গে সঙ্গে পরিত্যাগ করা। তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে তা আর না করার দৃঢ় অঙ্গীকার করা। এর সঙ্গে নেক আমলে মনোযোগী হওয়া তওবাকে আরও শক্তিশালী করে।
কোরআনে আল্লাহ বলেন,“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করো।” (সুরা তাহরিম, আয়াত ৮)আরও বলেন,“নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন।” (সুরা বাকারা, আয়াত ২২২)
রাসুলুল্লাহ ﷺ ও ইস্তেগফারের আমল
রাসুলুল্লাহ ﷺ ছিলেন নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও ইস্তেগফার ও তওবার ব্যাপারে সবচেয়ে অগ্রণী। তিনি বলেছেন, “হে মানুষ, তোমরা আল্লাহর দিকে ফিরে আসো। আমি নিজে প্রতিদিন একশবার তওবা করি।” (মুসলিম)
এ থেকেই বোঝা যায়, ইস্তেগফার কেবল গুনাহগারদের জন্য নয়, বরং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি উচ্চতর ইবাদত।
ইস্তেগফার করার পদ্ধতি ও দোয়াসমূহ
-ইস্তেগফারের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ও সহজ দোয়া হলো:
أَسْتَغْفِرُ اللهَঅর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।
রাসুলুল্লাহ ﷺ ফরজ নামাজের পর এই দোয়া তিনবার পাঠ করতেন। নিয়মিত এই ছোট দোয়া পড়লেও ইস্তেগফারের বড় সওয়াব পাওয়া যায়।
-এর চেয়ে পূর্ণাঙ্গ আরেকটি দোয়া হলো:أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِঅর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসি।
এ ছাড়া আরও দীর্ঘ ও অর্থবহ ইস্তেগফারের দোয়াগুলো হাদিসে এসেছে, যেগুলোতে আল্লাহর একত্ব, বান্দার দুর্বলতা এবং গুনাহের স্বীকৃতি একসঙ্গে প্রকাশ পায়।
-সাইয়্যিদুল ইস্তেগফার: ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া
সাইয়্যিদুল ইস্তেগফারকে বলা হয় ইস্তেগফারের সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া। এতে বান্দা আল্লাহর রবুবিয়্যাত স্বীকার করে, নিজের গুনাহ মেনে নেয় এবং একমাত্র আল্লাহর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করে।
হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি এই দোয়া সকালবেলা পড়ে সন্ধ্যার আগে মারা যায়, অথবা সন্ধ্যায় পড়ে সকালের আগে মারা যায়, তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে। এই দোয়াকে তাই সকাল–সন্ধ্যার জিকির হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইস্তেগফারের দুনিয়া ও আখিরাতের ফজিলত
ইস্তেগফার শুধু আখিরাতের মুক্তির পথ নয়, বরং দুনিয়াতেও এর প্রভাব গভীর। ইস্তেগফার রিজিক বৃদ্ধি করে, অন্তরের প্রশান্তি আনে, বিপদাপদ দূর করে এবং আল্লাহর রহমতকে কাছে টেনে আনে।
নবী-রাসুলদের জীবনীতে দেখা যায়, সংকটের মুহূর্তে তাঁরা ইস্তেগফারকেই আশ্রয় হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাই একজন মুমিনের জীবনে ইস্তেগফার হওয়া উচিত নিয়মিত ও অভ্যাসে পরিণত।
আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্তের ওয়াক্ত
ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে ইমানের পরেই নামাজের স্থান। পরকালে মুক্তির জন্য পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ সঠিক সময়ে আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপরিহার্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন বান্দার আমলসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও ওয়াক্তমতো নামাজ আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), ১৯ মাঘ ১৪৩২ বাংলা এবং ১৩ শাবান ১৪৪৭ হিজরি। শাবান মাসের এই পবিত্র সময়ে ইবাদতের গুরুত্ব অনেক বেশি। ঢাকার আশপাশের এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো।
নামাজের সময়সূচি (ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা)
জোহর: দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট
আসর: বিকেল ৪টা ১০ মিনিট
মাগরিব: সন্ধ্যা ৫টা ৪৫ মিনিট
এশা: রাত ৭টা ০৩ মিনিট
ফজর (আগামীকাল মঙ্গলবার): ভোর ৫টা ২২ মিনিট
ঢাকার সময়ের সঙ্গে অন্য যেসব বিভাগের সময় যোগ বা বিয়োগ করতে হবে
বিয়োগ করতে হবে: চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট সিলেট: ০৬ মিনিট
যোগ করতে হবে: খুলনা: ০৩ মিনিট রাজশাহী: ০৭ মিনিট রংপুর: ০৮ মিনিট বরিশাল: ০১ মিনিট
ঋণ রেখে মৃত্যু হলে কি রূহ “ঝুলে” থাকে? হাদিসের ব্যাখ্যা
সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই একটি বাক্য খুব দৃঢ়ভাবে বলা হয়: কেউ ঋণ রেখে মারা গেলে তার রূহ নাকি “ঝুলন্ত” থাকে, ফলে সে জান্নাতে যেতে পারে না। কথাটি শুনতে চূড়ান্ত রায় মনে হলেও ইসলামী উৎসগুলো বিষয়টিকে একটি শর্তযুক্ত সতর্কতা হিসেবে তুলে ধরে। অর্থাৎ, এখানে দায়, নিয়ত, সক্ষমতা এবং ঋণ পরিশোধের বাস্তব পরিস্থিতি মিলিয়ে ব্যাখ্যা করতে হয়।
এই প্রসঙ্গে বহুল উদ্ধৃত একটি বর্ণনায় সাহাবি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মুমিনের আত্মা তার ঋণের সঙ্গে ঝুলন্ত থাকে যতক্ষণ না তার পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করা হয়।” এই হাদিসটি জামে আত-তিরমিজিতে এসেছে এবং সেখানে একে ‘হাসান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্তু “ঝুলন্ত” শব্দটি এখানে আক্ষরিক কোনো দৃশ্যমান ঝুলে থাকা বোঝায় না। বরং আলিমদের ব্যাখ্যায় এটি একটি মর্যাদাগত বাধা বা স্থগিতাবস্থা বোঝায়, যেখানে আখিরাতে মুমিনের সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছানো বা পূর্ণ স্বস্তি লাভ বিলম্বিত হতে পারে। ইসলামওয়েবের ব্যাখ্যায় বিষয়টি এভাবে এসেছে যে, এই সতর্কতা মূলত সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে বেশি প্রযোজ্য, যে সক্ষম থাকা সত্ত্বেও দেনা পরিশোধে গাফিলতি করেছে, অথবা দেনা নেওয়ার সময় পরিশোধের বিষয়ে আন্তরিক ছিল না।
এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্যটা আসে নিয়তের প্রশ্নে। আরেকটি সহিহ বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ নেয় পরিশোধ করার নিয়তে, আল্লাহ তার পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করে দেন; আর যে নেয় নষ্ট করার উদ্দেশ্যে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করেন।” এই হাদিস সহিহ আল-বুখারিতে এসেছে।
ফলে, “ঋণ থাকলেই জান্নাত বন্ধ” ধরনের একলাইনের সিদ্ধান্ত ইসলামী টেক্সটের সামগ্রিক বক্তব্য নয়। বরং টেক্সটগুলো একটি নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বকে সামনে আনে: ঋণ হলো মানুষের হক, তাই এটাকে হালকা করা যাবে না। একই সঙ্গে, কারও সত্যিকারের সামর্থ্য না থাকলে, বা সে আন্তরিকভাবে পরিশোধ করতে চেয়েও না পারলে, তখন আল্লাহর ন্যায়বিচার ও রহমতের জায়গা টেক্সটগুলো আলাদা করে নির্দেশ করে।
এই আলোচনার ব্যবহারিক দিকও আছে। কেউ মারা গেলে তার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে দেনা পরিশোধের বিষয়টি ফিকহি ভাবে অগ্রাধিকার পায়, কারণ পাওনাদারের হক ঝুলে থাকে। তাই পরিবার, উত্তরাধিকারী বা দায়িত্বশীলদের করণীয় হলো যাচাই করে বৈধ দেনা দ্রুত পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া, যাতে মৃত ব্যক্তির দায়মুক্তি নিশ্চিত হয় এবং পাওনাদারের অধিকারও রক্ষা পায়। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে হাদিসের সতর্কতা আসলে সমাজে আর্থিক ন্যায্যতা এবং আস্থার শৃঙ্খলা বজায় রাখার শক্ত বার্তা।
শবে বরাত কেন গুরুত্বপূর্ণ? জানুন ইবাদত, দোয়া ও বর্জনীয় বিষয়
ইসলামি বর্ষপঞ্জির গুরুত্বপূর্ণ রজনীগুলোর মধ্যে শাবান মাসের মধ্যরাত একটি স্বতন্ত্র আধ্যাত্মিক তাৎপর্য বহন করে। এই রাতটি মুসলিম সমাজে পরিচিত “শবে বরাত” নামে, যা ফার্সি “শব” অর্থ রাত এবং আরবি “বরাআত” অর্থ মুক্তি বা অব্যাহতির সমন্বয়ে গঠিত। ধারণাগতভাবে এই পরিভাষাটি সেই রাতকে নির্দেশ করে, যখন আল্লাহ তায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও ক্ষমার দরজা উন্মুক্ত থাকে বলে বিশ্বাস করা হয়।
হাদীসের ভাষায় এই রাতকে বলা হয়েছে “লাইলাতুন নিসফ মিন শাবান”, অর্থাৎ শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাত, যা ১৪ শাবানের দিবাগত রজনী হিসেবে চিহ্নিত (ইবনে মাজাহ, হা. ১৩৯০; ইবনে হিব্বান, হা. ৫৬৬৫)।
হাদীসের আলোকে শবে বরাতের ফজিলত
হযরত মু’আজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, শাবানের মধ্যরাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টি দেন এবং শিরক ও বিদ্বেষে লিপ্ত ব্যক্তিরা ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করেন (সহীহ ইবনে হিব্বান, হা. ৫৬৬৫; সুনানে ইবনে মাজাহ, হা. ১৩৯০; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ, হা. ৩০৪৭৯; শু‘আবুল ঈমান, হা. ৬২০৪)।
অন্য একটি বর্ণনায় হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে জানা যায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই রাতকে ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করার এবং পরদিন নফল রোজা পালনের প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন। বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে, সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের প্রতি আহ্বান জানাতে থাকেন কে ক্ষমা চায়, কে রিজিক চায় এবং কে বিপদ থেকে মুক্তি চায় (সুনানে ইবনে মাজাহ, হা. ২৩৮৪; শু‘আবুল ঈমান, হা. ৩৮২২; আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব, ২/১৩৩)।
উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বর্ণনায়ও এই রাতের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই রাতে দীর্ঘ সিজদায় মগ্ন ছিলেন এবং পরে ব্যাখ্যা করেন যে, আল্লাহ তায়ালা এই রজনীতে ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহপ্রার্থীদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করেন (শু‘আবুল ঈমান, বায়হাকী, ৩/৩৮২–৩৮৩)।
শবে বরাতের করণীয় আমল
ইসলামি ফিকহবিদ ও মুহাদ্দিসদের মতে, এই রাতে ইবাদতের কোনো নির্দিষ্ট কাঠামো নির্ধারিত নয়। বরং যেসব নেক আমল আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সহায়ক, সেগুলোর প্রতিই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
ফরজ নামাজ বিশেষত মাগরিব, এশা ও ফজর জামাতের সঙ্গে আদায় করা অপরিহার্য। এর পাশাপাশি নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, দরুদ শরিফ, যিকির ও ইস্তিগফার পাঠের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হয়।
তাওবার ক্ষেত্রে ইসলামি শিক্ষায় কয়েকটি মৌলিক শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে—পাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, তাৎক্ষণিকভাবে সেই কাজ থেকে বিরত থাকা, ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা এবং যদি কারও অধিকার ক্ষুণ্ন হয়ে থাকে, তা ফিরিয়ে দেওয়া বা ক্ষমা প্রার্থনা করা (মারাকিল ফালাহ, পৃ. ২১৯; ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম, ২/৬৩১–৬৪১)।
ইস্তিগফারের প্রামাণিক দোয়া ও ফজিলত
সায়্যিদুল ইস্তিগফার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি এই দোয়াটি বিশ্বাস ও আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠ করবে এবং সেই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে (সহীহ বুখারী, হা. ৬৩০৬; তিরমিযী, হা. ৩৩৯৩)।
সংক্ষিপ্ত ইস্তিগফার সম্পর্কেও হাদীসে উল্লেখ রয়েছে, ঘুমানোর আগে এটি তিনবার পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা বান্দার অসংখ্য গুনাহ ক্ষমা করে দেন (তিরমিযী, হা. ৩৩২৯; আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব, ১/১২)।
ব্যক্তিগত ইবাদতের গুরুত্ব
ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে নফল ইবাদত ব্যক্তিগত ও একান্ত সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ। ফরজ নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা আবশ্যক হলেও, নফল ইবাদত নিরিবিলি পরিবেশে একাকী করা উত্তম বলে আলেমদের অভিমত (ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম, ২/৬৩১–৬৪১)।
কারা এই রাতের অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত থাকে
হাদীসের আলোকে কয়েকটি শ্রেণির মানুষের কথা উল্লেখ রয়েছে, যারা এই সাধারণ ক্ষমার রাতেও অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত থাকে যতক্ষণ না তারা তাওবার মাধ্যমে ফিরে আসে। তাদের মধ্যে রয়েছে শিরককারী, বিদ্বেষ পোষণকারী, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী, পিতা-মাতার অবাধ্য ব্যক্তি, মদ্যপানে অভ্যস্ত ব্যক্তি এবং অন্যায় হত্যায় লিপ্ত ব্যক্তি (সহীহ ইবনে হিব্বান, হা. ৫৬৬৫; মুসনাদে আহমাদ, হা. ৬৬৪২; শু‘আবুল ঈমান, ৩/৩৮৩–৩৮৫)।
বর্জনীয় কুসংস্কার ও সামাজিক আচরণ
ইসলামি সূত্র অনুযায়ী, এই রাতে আতশবাজি, অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা এবং বিশেষ খাবারকে ধর্মীয় আমলের অংশ হিসেবে গণ্য করার কোনো প্রামাণিক ভিত্তি নেই। এসব কার্যক্রমকে অপচয় ও ইবাদতের পরিবেশ বিনষ্টকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে (আবূ দাউদ, হা. ৪০৩১; আল-মাদখাল লি ইবনিল হাজ্জ, ১/২৯৯, ১/৩০৬; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৫/২৮৯)।
শবে বরাত কোনো আনুষ্ঠানিক উৎসব নয়, বরং এটি আত্মসমালোচনা, নৈতিক সংশোধন এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ উপলক্ষ। এই রাতের মূল শিক্ষা নিহিত রয়েছে ক্ষমা প্রার্থনা, মানবিক সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং নৈতিক জীবনের প্রতি পুনরায় অঙ্গীকারের মধ্যে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই মহিমান্বিত রাতের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করে আন্তরিকতা ও একাগ্রতার সঙ্গে ইবাদত করার তৌফিক দান করুন। আমীন।
সূত্র:
আজ নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
ইমানের পর ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো নামাজ। পরকালে হাশরের ময়দানে বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেওয়া হবে। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও ওয়াক্তমতো নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুমিনের নৈতিক দায়িত্ব। আজ রোববার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি (১৮ মাঘ ১৪৩২ বাংলা, ১২ শাবান ১৪৪৭ হিজরি)। ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সময়সূচি
আজকের জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে।
বিকেলের আসর নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ৪টা ১০ মিনিটে।
মাগরিবের আজান ও ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে।
এশা নামাজের সময় শুরু হবে রাত ৭টা ০৩ মিনিটে।
এ ছাড়া আগামীকাল সোমবারের ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৫টা ২২ মিনিটে।
বিভাগীয় পার্থক্যের ভিত্তিতে সময় পরিবর্তন
ঢাকার সময়ের সাথে অন্যান্য বিভাগের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দাদের উল্লিখিত সময়ের ৫ মিনিট আগে এবং সিলেট বিভাগের বাসিন্দাদের ৬ মিনিট আগে নামাজ আদায় করতে হবে।
অন্যদিকে, বরিশাল বিভাগের ক্ষেত্রে ঢাকার সময়ের সাথে ১ মিনিট যোগ করতে হবে। খুলনা বিভাগের ক্ষেত্রে ৩ মিনিট, রাজশাহী বিভাগের ক্ষেত্রে ৭ মিনিট এবং রংপুর বিভাগের ক্ষেত্রে ৮ মিনিট অতিরিক্ত যোগ করে নামাজের ওয়াক্ত নির্ধারণ করতে হবে।
যথাযথ সময়ে নামাজ আদায় করা কেবল ধর্মীয় বিধানই নয়, বরং এটি একজন মুমিনের জীবনের সুশৃঙ্খল রুটিনও নিশ্চিত করে। তাই নিজ নিজ এলাকার সময় অনুযায়ী নামাজ আদায়ের জন্য ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পাঠকের মতামত:
- নানিয়ারচর সেনা জোন কর্তৃক অসহায়দের মাঝে শীতবস্ত্র ও নগদ অর্থ প্রদান
- ঢাকাসহ দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
- অজানা মহাবিশ্বের সন্ধানে এআই: হাবল আর্কাইভে মিলল শত শত নতুন গ্যালাক্সি
- অজানা মহাবিশ্বের সন্ধানে এআই: হাবল আর্কাইভে মিলল শত শত নতুন গ্যালাক্সি
- বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে শীর্ষে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট
- অপরাধীরা বাধা দিলেও ভোটাররা কেন্দ্রে যাবেই: সেনাপ্রধান
- প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশ-জাপান ঐতিহাসিক চুক্তি
- ক্রিকেট বিশ্ব যখন টালমাটাল, তখন ভারতকে নতুন আঘাত দিল পাকিস্তান
- রাষ্ট্রপতির কার্যালয়কে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিল জামায়াত
- গায়ক নোবেল ও তাঁর মাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
- আমিও আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নিয়ে নিলাম: নুর
- বিটিআরসির নতুন বার্তা: পুরোনো মোবাইল ফোন বিক্রির আগে সাবধান!
- শেষ চমক দেখাতে কাল দক্ষিণে তারেক রহমান
- মুক্তিযোদ্ধাকে ‘ভাড়া’ করে সাইনবোর্ড দেখাচ্ছে জামায়াত: সালাহউদ্দিন আহমদ
- পাচারকারীদের পেটের ভেতর থেকে টাকা বের করে আনা হবে: জামায়াত আমির
- অচল চট্টগ্রাম বন্দর: আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ
- স্বর্ণের বাজারে নজিরবিহীন কাণ্ড! ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের বাড়ল দাম
- আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- আজকের শীর্ষ দরপতনকারী ১০ শেয়ার
- আজকের শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী ১০ শেয়ার
- হঠ্যাৎ কী কারণে বদলে যাচ্ছে র্যাবের নাম
- ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি? যা জানা গেল
- কোন সবজিতে কী পুষ্টি, জানুন বিস্তারিত
- শিক্ষাবৃত্তির আবেদন নিয়ে নতুন ঘোষণা, জানাল বোর্ড
- শবে বরাতের মহিমান্বিত রাতে ক্ষমা ও রহমত কামনায় তারেক রহমানের বার্তা
- আগামী ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশে পরিবর্তনের সূচনা: জামায়াত আমির
- ফ্রিজে সবজি পচে যাওয়ার বড় কারণগুলো, জানুন সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি
- প্রথম শিকারকে যেভাবে ফাঁদে ফেলেন কুখ্যাত এপস্টেইন ও তার প্রেমিকা
- মাদকসম্রাট ও হাসনাত আব্দুল্লাহ একসাথে থাকতে পারে না: দেবিদ্বারে হুঙ্কার
- চট্টগ্রামে বিএনপির নির্বাচনী পালে নতুন হাওয়া: ভোটের মাঠে ফিরলেন দুই হেভিওয়েট
- ভোটের মাঠে টাকার ঝনঝনানি: হলফনামার তথ্যে শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থী কারা?
- রাজধানীসহ ৪৮ স্থানে কম দামে মাংস-দুধ-ডিম বিক্রি
- বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পোশাকের দাপট: জানুয়ারিতে রেকর্ড আয়
- কুখ্যাত জেফ্রি অ্যাপস্টেইন ফাইলে শেখ হাসিনা ও বিএনপি নেতার নাম
- এপস্টেইন কেলেঙ্কারি: তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে রাজি বিল ও হিলারি ক্লিনটন
- যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য যুদ্ধে ইতি! ট্রাম্পের ঘোষণার পরই চাঙ্গা ভারতের বাজার
- নির্বাচনি ব্যয়ের লাগাম টানার লড়াই: কালো টাকা রুখতে বিএফআইইউ-র কড়াকড়ি
- স্বর্ণের দামে বড় ধস: আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য তালিকা
- আজ ঢাকায় যেসব এলাকার মার্কেট ও দোকান বন্ধ
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? বের হওয়ার আগে দেখে নিন কর্মসূচির তালিকা
- আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্তের ওয়াক্ত
- দেশে ফের ভূমিকম্প, কেঁপে ওঠে কয়েকটি জেলা
- শবে বরাতের রোজা ও তওবা-ইস্তিগফারের গুরুত্ব
- আজ পবিত্র শবেবরাত, খুলেছে রহমতের দরজা
- মঙ্গলের বুকে এআই-এর রাজত্ব: প্রথমবারের মতো মানুষের বদলে পথ দেখালো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
- বিশ্বজুড়ে তোলপাড়: এপস্টেইন ফাইলের ৩০ লাখ পৃষ্ঠায় ক্ষমতাধরদের অন্ধকার জগত
- রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের সুফল: শক্তিশালী অবস্থানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ
- নতুন নকশায় ১০ টাকার ব্যাংক নোট: এক নজরে দেখে নিন নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য
- সদরপুরে পদ্মা নদীর চর থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন: ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা
- স্বর্ণের দামে বড় পতন, ট্রাম্পের ঘোষণায় স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা
- তারেক রহমানকে নিয়ে টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন: ‘Bangladesh’s Prodigal Son’
- বিশ্ববাজারে রেকর্ড দরপতন; দেশেও কমল স্বর্ণের দাম
- স্বস্তি ফিরলো স্বর্ণের বাজারে; আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দাম
- স্বর্ণের দামে বড় ধস: আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য তালিকা
- তিন দিনে ভরিতে বাড়ল ২৮ হাজার, স্বর্ণে রেকর্ড
- আজ ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে একাধিক এলাকা
- রুপার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ, ভরি ছাড়াল যত
- কালিগঞ্জে জমি বিরোধে সংঘবদ্ধ হামলা, চারজন গুরুতর আহত
- একদিনে দুই দফা স্বর্ণের দাম কমাল বাজুস, এক ভরিতে কমল যত
- রেকর্ড ভেঙে ছুটছে স্বর্ণ ও রুপা: নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা
- আজ প্রাইজবন্ডের ১২২তম ড্র: জেনে নিন প্রাইজবন্ডের ফলাফল দেখার সহজ নিয়ম
- আগামী পাঁচ দিন কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া
- রিয়েল এস্টেটে বড় স্বস্তি, ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধনে বিরাট সুখবর
- শবেবরাত পালনে কী করবেন, কী করবেন না








