সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দুর্নীতি দূর করার প্রতিশ্রুতি বাণিজ্য উপদেষ্টার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ০৭ ১৯:৪৫:৩৭
সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দুর্নীতি দূর করার প্রতিশ্রুতি বাণিজ্য উপদেষ্টার
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের ভেতরে বিদ্যমান দুর্নীতি হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই কথা বলেন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিগত এক বছরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সফল হয়েছি। তবে শুধু অর্জন নয়, আগামী দিনের লক্ষ্য হলো দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা।”

তিনি আরও জানান, “আগামী নির্বাচনের আগেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবো। সেইসঙ্গে জ্বালানি সংকট নিরসনে যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, তা ইতোমধ্যে মধ্যবর্তী ধাপে পৌঁছেছে।”

শেখ বশিরউদ্দীনের মতে, নির্বাচন সামনে রেখে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও জ্বালানি খাতে দৃশ্যমান উন্নয়ন আনাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, “আমরা একটি স্বচ্ছ ও টেকসই প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি রেখে যেতে চাই, যাতে জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়।”

/আশিক


মানুষকে অভাবে রেখে রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ২১:৪৮:৪৭
মানুষকে অভাবে রেখে রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

সাধারণ মানুষকে অভাবের মধ্যে রেখে কিংবা তাদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে কোনো রাষ্ট্রই শক্তিশালী হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনগণের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হয় উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে একটি টেকসই এবং মজবুত অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল বেসরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দেওয়ার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সাংবাদিকদের এ তথ্যাবলি নিশ্চিত করেন।

রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উদ্যোক্তাদের নতুন নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উৎসাহিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেবে। অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা গেলে মানুষের জীবনের গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দেশীয় বিনিয়োগকারীদের প্রতি সরকারের বিশেষ জোর দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ অবশ্যই আহ্বান জানানো হবে, তবে সবার আগে দেশের নিজস্ব উদ্যোক্তাদের পথ সুগম করা প্রয়োজন। ব্যবসার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে স্থানীয় বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে একদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অন্যদিকে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। সরকার সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিকাশ ঘটাতে চায়।

লিজ গ্রহণকারী দুই বৃহৎ শিল্প গ্রুপকে ধন্যবাদ জানিয়ে সরকারপ্রধান আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে লিজ নেওয়া মিলগুলো দ্রুত বাণিজ্যিক উৎপাদনে ফিরবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে বড় অবদান রাখবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী এবং হ্যামকো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা। উক্ত চুক্তি স্বাক্ষর পর্বে বিজেএমসি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দুটির একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


পার্বত্য অঞ্চল ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্রের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ২১:৩৯:৩৭
পার্বত্য অঞ্চল ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্রের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

পার্বত্য অঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকাকে ঘিরে একটি কুচক্রী মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দেশের অখণ্ডতা ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় এই ধরনের অপতৎপরতা দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করতে সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ক্রাউন প্লাজায় আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আদিবাসী শব্দটির অযৌক্তিকতা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্যগত শান্তি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সার্বিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ধারাবাহিকভাবে চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ভৌগোলিক নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণকে সজাগ থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

একই আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহিরউদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহারের যে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে, তার আড়ালের কোনো পাতানো ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর স্বাধিকার, নাগরিক অধিকার ও সাংস্কৃতিক পরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি দেশের প্রধানতম জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাদের অন্তর্ভুক্তিকরণের ওপর জোর দেন তিনি।

রাজধানীর হোটেল ক্রাউন প্লাজায় দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল বৈঠকে দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। সভার মূল সেশনে দেশের প্রায় ৪০ জন বরেণ্য বক্তা বিষয়টি নিয়ে তাঁদের বিশ্লেষণাত্মক বক্তব্য ও মতামত উপস্থাপন করেন।

/আশিক


সরকারি দল ও জোটের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষ, এবার চোখ ২০ আগস্টে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ২১:২৭:১২
সরকারি দল ও জোটের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষ, এবার চোখ ২০ আগস্টে
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সুবিধার্থে ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যদের আসন গ্রহণের জন্য এক বৈঠক আহ্বান করেছেন নির্বাচনকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এবং জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিন অর্থাৎ ২০ আগস্ট দুপুর ২টায় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে জাতীয় সংসদের সদস্যদের এই বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই নির্বাচনে জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারি দল ও ১১ দলীয় ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

/আশিক


রাজনৈতিক প্রভাবে ব্যবসার দিন শেষ: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ২০:১২:৩৪
রাজনৈতিক প্রভাবে ব্যবসার দিন শেষ: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু
ছবি : সংগৃহীত

ব্যক্তিগত পরিচয়, রাজনৈতিক প্রভাব বা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অন্যায্য ব্যবসায়িক সুবিধা নেওয়ার দিন শেষ বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপি সরকারের অধীনে স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার ভিত্তিতে বাণিজ্য পরিচালনা করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) চট্টগ্রামে কাস্টমস ও চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত যৌথ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী এ কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কে কার পরিচিত’ তা আর বাণিজ্যিক সুবিধা পাওয়ার মাপকাঠি হতে পারে না। কোনো ব্যক্তি বা মন্ত্রী যত প্রভাবশালীই হন না কেন, কারও জন্য বাড়তি সুবিধা বা বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ থাকবে না। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর একটি নড়বড়ে অর্থনীতিকে প্রথমে স্থিতিশীল অবস্থায় এনে পরবর্তীকালে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারায় ফেরাতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ, শিল্পায়নের গতি বাড়ানো এবং বাজারে একটি নিরাপদ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করা।

বাণিজ্য পরিচালনা সহজ করার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, প্রশাসনিক জটিলতা ও অতিরিক্ত নিয়মকানুনের কারণে ব্যবসায়ের পথ রুদ্ধ হচ্ছিল। সে কারণেই বাজেটে ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ বা সহজ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে নানা নিয়মকানুন শিথিল বা ডিরেগুলেশনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা আমলাতান্ত্রিক ও প্রক্রিয়াগত সব বাধা ধাপে ধাপে অপসারণ করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের সমন্বয়হীনতা এবং বাড়তি খরচের সার্বিক প্রভাবে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, কাস্টমস ও বন্দরের জটিলতা যত বাড়ে, পণ্য খালাসে তত বিলম্ব হয় এবং ব্যবসায়ীদের পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধি পায়। চূড়ান্ত বিচারে সেই বাড়তি খরচের বোঝা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর গিয়েই পড়ে। তাই পণ্য খালাসের প্রক্রিয়াকে দ্রুততর ও সহজ করার পাশাপাশি অতিরিক্ত খরচ কমানোর সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আমির খসরু জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সমস্যাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সমাধানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত কেবল কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে তা বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের কাস্টমস ও বন্দরের মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়ায় পণ্য খালাস ও রপ্তানির সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আসবে।

বন্দর চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে জট লেগে থাকা কনটেইনার ও পণ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনি বা অন্যান্য জটিলতায় আটকে থাকা কনটেইনার ও অবৈধ চালান দ্রুত নিষ্পত্তি করে বন্দর চত্বরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।

এছাড়া চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে। এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফিলিপাইন থেকে চট্টগ্রামে এসে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করছেন, যা চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব নির্দেশ করে। চট্টগ্রামকে কেবল লজিস্টিকস হাব হিসেবেই নয়, বরং পুরো দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি আঞ্চলিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন জোরদার করা হবে বলে জানান তিনি।

/আশিক


মন খুলে কথা বললে টুইস্ট করা হয়: শিক্ষামন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ১৮:৪৭:১৩
মন খুলে কথা বললে টুইস্ট করা হয়: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশসংক্রান্ত বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন অভিযোগ করেছেন যে, একটি গুপ্ত মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মন্ত্রণালয়ের সভার প্রস্তাবিত রেজুলেশন বা সিদ্ধান্তের চিঠি প্রকাশ হওয়া প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে সভা ও প্রাথমিক প্রস্তাবনা তৈরি হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন মন্ত্রী নিজে। সেই নথি মন্ত্রীর দফতরে অনুমোদনের আগেই কীভাবে জনসমক্ষে এল, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট জানান, প্রস্তাবিত নথির শেষাংশেই উল্লেখ ছিল যে মন্ত্রী সংশোধন সাপেক্ষে তা অনুমোদন করলে তবেই প্রজ্ঞাপন জারি হবে। কিন্তু সেই শর্ত গোপন করে একটি পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক পটভূমির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জুলাই ৩৬-এর ঐতিহাসিক আন্দোলনের পর সবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার সময় এসেছে। কিন্তু বর্তমানে বুঝে কিংবা না বুঝে কথায় কথায় আন্দোলন শুরু করার এক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রকাশ কিংবা পাস-ফেল—সব কিছু নিয়েই অহেতুক বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি খেদ প্রকাশ করেন।

সম্প্রতি ঘোষিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলসংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনের অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলা হয়েছিল খাতায় ইচ্ছামতো নম্বর দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সেই বক্তব্যকে কিছু মাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপন বা বিকৃত করা হয়েছে। তিনি জানান, গণমাধ্যম ও শিক্ষিত সমাজের সামনে খোলামেলা কথা বলার পর যদি মন্তব্যকে অন্য খাতে মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক ভাষাতেই উত্তর দিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষক নিয়োগ ইস্যুতে আন্দোলনে নামার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারাদেশে প্রায় ৭৭ হাজার শূন্যপদে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের জন্য যখন সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন ৫ মাস যেতে না যেতেই বানোয়াট তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আন্দোলনের আবহ তৈরি করা হচ্ছে। পরিশেষে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে প্রায় ২০০০ শহীদের ত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরার এবং সরকারকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান।

/আশিক


জ্বালানি খাতে বড় ধরনের বেসরকারি বিনিয়োগের ঘোষণা বিদ্যুৎমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ১৮:২৩:২১
জ্বালানি খাতে বড় ধরনের বেসরকারি বিনিয়োগের ঘোষণা বিদ্যুৎমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ‘আমাদের সরকার প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেন্ডলি সরকার। পার্টিকুলারলি এনার্জি সেক্টরে প্রাইভেটের ইনভেস্টমেন্ট আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। সেই জন্যই আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রাইভেট সেক্টরের সবার সাথে বসছেন এবং আমি নিজেও বসেছি।’

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট : সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দায়িত্বভার গ্রহণের পরে হঠাৎ করে মিডল ইস্টে যুদ্ধ হয়ে গেল। আমি বারবার বলা সত্ত্বেও যে আমার রিজার্ভ আছে আপনারা ভয় পায়েন না, আপনারা পেট্রল পাম্পে এত লাইন দিয়েন না এবং এই পেট্রল পাম্পে এমন বড় লাইন হলো যে আমার বাড়ির সামনে দুটো পেট্রল পাম্প আছে- তো সারারাত দেখলাম আমার বাড়ির সামনে মোটরসাইকেল দাঁড়িয়ে আছে। তো যা হোক আমরা অনেক চেষ্টা করে এটাকে বন্ধ করতে পেরেছিলাম। তেলের তো অভাব হয়নি।’

‘তারপরেও বিশাল লাইন। পরে দেখা গেল যে ব্ল্যাক মার্কেটিং শুরু হলো। পরে দেখা গেল অনলাইন ব্ল্যাক মার্কেটিং শুরু হলো যে অমুক জায়গায় এই এতো দামে তেল বিক্রি হবে অনলাইনে অর্ডার করলে তেল চলে গেল। এইটা দেখে আমি প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলাপ করলাম যে আমরা তেলের ব্যবসাটা প্রাইভেটে দিয়ে দেই। আমরা তো আছিই আর যারা প্রাইভেট আছে, কারণ আমরা তো অলরেডি প্রাইভেট থেকে তেল কিনি। এই যে কম্প্রেসড করে অকটেন পেট্রল বিক্রি করে কিছু কোম্পানি, তাদের কাছ থেকে আমরা কিনি এবং আমরা কিন্তু অকটেন পেট্রল খুব কম আমদানি করি, দেশ থেকেই কিনি আমরা। তো যদি ওইটা হতে পারে তো আমরা সব ওদেরকেই দিয়ে দেই না কেন। থাকুক দেশে দুইটা পেট্রল পাম্প- থাকুক একটা পদ্মা মেঘনা যমুনা থাকুক আরেকটা বেসরকারি। যেমন ইন্ডিয়াতে আছে ইন্ডিয়ান ওয়েল আর রিলায়েন্স।’

মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী বারবার বলছেন, ‘এই জ্বালানি নিয়ে অনেকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছে। অনেকে ষড়যন্ত্র করছে’। আমিও তাদেরকে অনুরোধ করব, পলিটিক্স আপনারাও করেন, দেশের স্বার্থে করেন। দেশের ক্রাইসিস বাড়িয়ে দিয়ে আপনারা কোনো কিছু হাসিল করতে পারবেন না।’’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন একটা এফএসআরইউ বন্ধ হয়েছে আর সারা দেশে গ্যাসের জন্য হাহাকার লেগে গেছে। গ্যাস সংকট নিয়ে আমরা শিল্পমালিকদের সঙ্গে বসব। আমাদের দেশের শিল্পমালিকরা যেন বিপদে না পড়ে, সেদিকে আমরা খেয়াল রাখছি।’

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘আমাদেরকে খুব সতর্কতার সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে আগাতে হবে। কেননা এগুলো করার কারণে অনেক ফাইন্যান্স বন্ধ হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সোলারের ব্যাপারে আমরা অ্যাগ্রেসিভ। এটাকে বিজনেস অরিয়েন্টেড করার জন্য আমরা কাজ করেছি। দুই মাসের মধ্যে আমরা পলিসি তৈরি করেছি। আমরা যা পলিসিতে বলেছি, ওটাই বাস্তবায়ন হবে। ওপেক্স মডেলে ঢাকা শহর থেকে শুরু করে সারা দেশে সোলার ছড়িয়ে দেওয়া হবে।’


সরাসরি সম্প্রচার ও সরাসরি গণনা: যেভাবে জানা যাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ১৮:০৭:১১
সরাসরি সম্প্রচার ও সরাসরি গণনা: যেভাবে জানা যাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক বৈঠক শেষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ফিরে সাংবাদিকদের কাছে ভোটের বিস্তারিত প্রক্রিয়া তুলে ধরেন ইসি সচিব।

আখতার আহমেদ জানান, কোনো সংসদ সদস্যের পৌঁছাতে দেরি হতে পারে—এমন সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ রাখা হয়েছে। ভোটগ্রহণের সময় সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষে নিজ নিজ আসনেই অবস্থান করবেন এবং নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের কাছে সরাসরি ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন।

তিনি ব্যালট পেপারের গঠন ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রতিটি ব্যালট পেপারে মুড়ি অংশ ও মূল ব্যালট নামে দুটি অংশ থাকবে। মুড়ির অংশে প্রার্থীর ক্রমিক নম্বর, ভোটারের নাম, বিভক্তি নম্বর ও স্বাক্ষরের জায়গা নির্ধারিত থাকবে। অন্যদিকে মূল ব্যালটের ডানদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে এবং পাশে থাকা নির্ধারিত ফাঁকা স্থানে ভোটার (সংসদ সদস্য) তার পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। ভোটারদের সুবিধার জন্য অধিবেশন কক্ষে তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স রাখা হবে, যার যেকোনো একটিতে তারা ভোট ফেলতে পারবেন।

ইসি সচিব আরও উল্লেখ করেন, বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অধিবেশন কক্ষের ভেতরেই ব্যালট বক্সগুলোর সামনে সরাসরি ভোট গণনা শুরু করা হবে। প্রাথমিক প্রক্রিয়ায় ৪ বা ৫ জনের একটি ব্যালট গণক দল ব্যালট পেপার বাছাই করে দ্রুত গণনার কাজ সম্পন্ন করবে। মোট ৩৪৯টি ব্যালটের মধ্যে কতটি বৈধ বা বাতিল হয়েছে এবং কোন প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন, তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) অধিবেশন কক্ষেই সরাসরি সবার সামনে ঘোষণা করবেন। পরবর্তীতে কমিশন সচিবালয় থেকে চূড়ান্ত ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব জানান, অধিবেশন কক্ষ থেকে পুরো ভোটগ্রহণের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ টেলিকাস্ট) করার সুব্যবস্থা রাখা হবে এবং সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকদের নির্ধারিত আসন থাকবে। এ ছাড়া নির্বাচন উপলক্ষে কমিশনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট ২০ জন কর্মকর্তাকে বিশেষ পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে।

/আশিক


তারেক রহমানের সঙ্গে ভিসা প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ১২:৪১:১৪
তারেক রহমানের সঙ্গে ভিসা প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও নগদবিহীন লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভিসা-এর এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন কারপিন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। বৈঠকে ডিজিটাল কমার্সের বিস্তার, নিরাপদ পেমেন্ট অবকাঠামো এবং বাংলাদেশের চলমান ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও গতিশীল করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাতে বাংলাদেশের ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থায় ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও সহযোগিতার সুযোগও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি পেমেন্ট ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা শক্তিশালী করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। দ্রুত সম্প্রসারিত ই-কমার্স ও ডিজিটাল সেবার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক পেমেন্ট প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করেছে।

স্টিফেন কারপিনের এই সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম পেপ্যালের কার্যক্রম চালুর জন্যও একটি বিশেষ কমিটি কাজ করছে। ফলে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে দেশের আর্থিক খাতের সংযোগ বৃদ্ধি বর্তমানে সরকারের ডিজিটাল অর্থনীতি-সংক্রান্ত উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।

ভিসার পক্ষ থেকেও সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়া প্যাসিফিক ও দক্ষিণ এশিয়ার বাজারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানটি সুরেশ শেঠিকে ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার গ্রুপ কান্ট্রি ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেয়। তার দায়িত্বের আওতায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান রয়েছে। তিনি সরাসরি স্টিফেন কারপিনের অধীনে কাজ করছেন। ভিসা নিজেই দক্ষিণ এশিয়াকে তাদের অন্যতম গতিশীল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তিন দিনের সফরে সোমবার বাংলাদেশে পৌঁছান স্টিফেন কারপিন। তার সঙ্গে রয়েছেন সুরেশ শেঠি। সফরসূচি অনুযায়ী, ভিসার এশিয়া প্যাসিফিক প্রধান ১২ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করবেন। এই সফরে সরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি দেশের আর্থিক ও ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে পেমেন্ট প্রযুক্তিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে ভিসা। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্টেবলকয়েন এবং টোকেনভিত্তিক পেমেন্ট প্রযুক্তিতে একাধিক নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে স্মার্টফোনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের সুযোগ বাড়াতে নতুন সক্ষমতাও চালু করেছে। এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল বাণিজ্যে নিরাপত্তা, আস্থা ও সহজ লেনদেন নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল পেমেন্টের বিস্তার শুধু নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয় নয়। কার্যকর ও নিরাপদ ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামো ক্ষুদ্র ব্যবসা, ই-কমার্স, ফিনটেক, আন্তর্জাতিক লেনদেন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এর সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষা, জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মধ্যে আন্তঃসংযোগ নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

-রাফসান


মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব কে হবে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ১০:৩৯:২৫
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব কে হবে
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সেই আলোচনায় বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি সামনে আসছে। দলীয় ও রাজনৈতিক সূত্রের বরাতে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হলেও আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে বিষয়টিকে চূড়ান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হলে এর প্রভাব শুধু রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো এবং সরকারের মন্ত্রিসভাতেও নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তিনি বর্তমানে একই সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকায় তার সম্ভাব্য পদ পরিবর্তনের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নতুন মুখ আসার আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত হলে বিএনপির মহাসচিব পদে কে দায়িত্ব নেবেন, সেটিই দলের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে। বিএনপির চেয়ারম্যানের পর মহাসচিব দলটির দৈনন্দিন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে নতুন মহাসচিব নির্বাচন বা অন্তর্বর্তী সময়ে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগের বিষয়টি দলীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

দলীয় সূত্রের বরাতে আলোচনায় দুটি নাম বিশেষভাবে সামনে এসেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর মধ্যে কাউকে জাতীয় কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বেও পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠবে। সংশ্লিষ্ট মহলের আলোচনায় বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম সম্ভাব্য এলজিআরডিমন্ত্রী হিসেবে উঠে এসেছে। আরেকটি সম্ভাবনা হিসেবে বর্তমান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে একই মন্ত্রণালয়ে রাখা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। সূত্রের দাবি, সরকার গঠনের প্রাথমিক পর্যায়েও সালাহউদ্দিন আহমদের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ ছিল।

সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নেওয়া হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে নতুন মন্ত্রী প্রয়োজন হবে। এই জায়গায় বর্তমান পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির নাম আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকেও সম্ভাব্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনার আলোচনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে।

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তন আসতে পারে। সেক্ষেত্রে বর্তমান মন্ত্রিসভার অন্য কোনো সদস্যের দপ্তর পরিবর্তন করে পানিসম্পদে নেওয়া অথবা মন্ত্রিসভার বাইরে থেকে নতুন কাউকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ফলে একটি পরিবর্তনের সূত্র ধরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে ধারাবাহিক দপ্তর পুনর্বণ্টনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

আলোচনায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নামও রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের ধারণা, সাংগঠনিক দায়িত্বে পরিবর্তন না এলে তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় নেওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে তিনি কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন কিংবা আদৌ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হবেন কি না—এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

একই সঙ্গে বর্তমান মন্ত্রিসভায় আরও দুই থেকে তিনজন নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। সম্ভাব্য রদবদলে শুধু শূন্য হওয়া মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রী নিয়োগ নয়, কয়েকজন বর্তমান মন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তনের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব আলোচনা এখন পর্যন্ত সম্ভাবনার পর্যায়েই রয়েছে।

পুরো সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী করা হলে তার পরবর্তী ধাপে দলীয় নেতৃত্ব, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সম্প্রসারণের বিষয়গুলো সামনে আসতে পারে। শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভার রদবদল বা নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক এখতিয়ার এবং দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তাই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সম্ভাব্য নাম ও দপ্তর বণ্টনের আলোচনাগুলোকে নিশ্চিত সিদ্ধান্তের পরিবর্তে রাজনৈতিক সূত্রনির্ভর সম্ভাবনা হিসেবেই বিবেচনা করা যুক্তিযুক্ত।

-রফিক

পাঠকের মতামত: