জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৮ দফা রাষ্ট্রগঠনের রূপরেখা ঘোষণা  

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ০৫ ১৭:৪৩:১৭
জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৮ দফা রাষ্ট্রগঠনের রূপরেখা ঘোষণা
 

‘জুলাই ঘোষণাপত্র’-এ ২৮ দফা রাষ্ট্রচিন্তা: অন্তর্বর্তী সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা প্রকাশঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন। এতে বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঠামোগত সংকট তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন রাষ্ট্রচিন্তার ২৮টি দিকনির্দেশনা উপস্থাপন করা হয়।

ঘোষণাপত্রে উঠে আসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের ব্যর্থতা, রাজনৈতিক শাসনের সংকট ও কাঠামোতান্ত্রিক দুর্বলতার বিষয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য বিকল্প রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও করণীয় স্পষ্টভাবে জানানো হয়।

ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত মূল ২৮ দফা পরিকল্পনা:

১। যেহেতু উপনিবেশ বিরোধী লড়াইয়ের সুদীর্ঘকালের ধারাবাহিকতায় এই ভূখণ্ডের মানুষ দীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তানের স্বৈরশাসকদের বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং নির্বিচার গণহত্যার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করে জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল;

২। যেহেতু, বাংলাদেশের আপামর জনগণ দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই ভূখণ্ডে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বিবৃত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে;

৩। যেহেতু স্বাধীন বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন পদ্ধতি, এর কাঠামোগত দুর্বলতা ও অপপ্রয়োগের ফলে স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল এবং গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ক্ষুণ্ণ করেছিল;

৪। যেহেতু স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতার মূলমন্ত্র গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপরীতে বাকশালের নামে সাংবিধানিকভাবে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে এবং মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করে, যার প্রতিক্রিয়ায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশে সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে একদলীয় বাকশাল পদ্ধতির পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রবর্তনের পথ সুগম হয়;

৫। যেহেতু আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছর ছাত্র-জনতার অবিরাম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং ১৯৯১ইং সনে পুনরায় সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।

৬। যেহেতু দেশী-বিদেশী চক্রান্তে সরকার পরিবর্তনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় ১/১১ -এর ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার একচ্ছত্র ক্ষমতা, আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করা হয়;

৭। যেহেতু গত দীর্ঘ ষোল বছরের ফ্যাসিবাদী, অগণতান্ত্রিক এবং গণবিরোধী শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে এবং একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অতি উগ্র বাসনা চরিতার্থ করার অভিপ্রায়ে সংবিধানের অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক পরিবর্তন করা হয় এবং যার ফলে একদলীয় একচ্ছত্র ক্ষমতা ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়;

৮। যেহেতু শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসন, গুম-খুন, আইন-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং একদলীয় স্বার্থে সংবিধান সংশোধন ও পরিবর্তন বাংলাদেশের সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধ্বংস করে;

৯। যেহেতু, হাসিনা সরকারের আমলে তারই নেতৃত্বে একটি চরম গণবিরোধী, একনায়কতান্ত্রিক, ও মানবাধিকার হরণকারী শক্তি বাংলাদেশকে একটি ফ্যাসিবাদী, মাফিয়া এবং ব্যর্থ রাষ্ট্রের রূপ দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে;

১০। যেহেতু, তথাকথিত উন্নয়নের নামে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী নেতৃত্বে সীমাহীন দুর্নীতি, ব্যাংক লুট, অর্থ পাচার ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের মধ্য দিয়ে বিগত পতিত দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ ও এর অমিত অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং এর পরিবেশ, প্রাণবৈচিত্র্য ও জলবায়ুকে বিপন্ন করে;

১১। যেহেতু শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের জনগণ গত প্রায় ষোল বছর যাবত নিরন্তর গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করে জেল-জুলুম, হামলা-মামলা, গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়;

১২। যেহেতু বাংলাদেশে বিদেশী রাষ্ট্রের অন্যায় প্রভুত্ব, শোষণ ও খবরদারিত্বের বিরুদ্ধে এদেশের মানুষের ন্যায়সংগত আন্দোলনকে বহিঃশক্তির তাবেদার আওয়ামী লীগ সরকার নিষ্ঠুর শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে দমন করে;

১৩। যেহেতু অবৈধভাবে ক্ষমতা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ সরকার তিনটি প্রহসনের নির্বাচনে (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন) এদেশের মানুষকে ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত করে;

১৪। যেহেতু, আওয়ামী লীগ আমলে ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, শিক্ষার্থী ও তরুণদের নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করা হয় এবং সরকারী চাকুরীতে একচেটিয়া দলীয় নিয়োগ ও কোটাভিত্তিক বৈষম্যের কারণে ছাত্র, চাকুরী প্রত্যাশী ও নাগরিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম হয়;

১৫। যেহেতু বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ওপর চরম নিপীড়নের ফলে দীর্ঘদিন ধরে জনরোষের সৃষ্টি হয় এবং জনগণ সকল বৈধ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই চালিয়ে যায়;

১৬। যেহেতু, সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থার বিলোপ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ব্যাপক দমন-পীড়ন, বর্বর অত্যাচার ও মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, যার ফলে সারা দেশে দল-মত নির্বিশেষে ছাত্র-জনতার উত্তাল গণবিক্ষোভ গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়;

১৭। যেহেতু ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে অদম্য ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দল, ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষ যোগদান করে এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বাহিনী রাজপথে নারী-শিশুসহ প্রায় এক হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে, অগনিত মানুষ পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ব বরণ করে এবং আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যগণ জনগণের গণতান্ত্রিক লড়াইকে সমর্থন প্রদান করে;

১৮। যেহেতু, অবৈধ শেখ হাসিনা সরকারের পতন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লক্ষ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে জনগণ অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে, পরবর্তী সময়ে ৫ আগস্ট ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ পরিচালনা করে এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনরত সকল রাজনৈতিক দল, ছাত্র-জনতা তথা সর্বস্তরের সকল শ্রেণী, পেশার আপামর জনসাধারণের তীব্র আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে গণভবনমুখী জনতার উত্তাল যাত্রার মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়;

১৯। যেহেতু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট মোকাবেলায় গণঅভ্যূত্থানের মধ্য দিয়ে ব্যক্ত জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রত্যয় ও প্রয়োগ রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকে যুক্তিসঙ্গত, বৈধ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত;

২০। যেহেতু জনগণের দাবি অনুযায়ী এরপর অবৈধ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রীম কোর্টের মতামতের আলোকে সাংবিধানিকভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে একটি অন্তর্বতীকালীন সরকার গঠন করা হয়;

২১। যেহেতু, বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের ফ্যাসিবাদবিরোধী তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের অভিপ্রায় প্রকাশিত হয়;

২২। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ সুশাসন ও সুষ্ঠু নির্বাচন, ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ, আইনের শাসন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিদ্যমান সংবিধান ও সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক সংস্কার সাধনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে;

২৩। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ বিগত ষোল বছরের দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম কালে এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক সংঘটিত গুম-খুন, হত্যা, গণহত্যা, মানবতা বিরোধী অপরাধ ও সকল ধরনের নির্যাতন, নিপীড়ন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠনের অপরাধসমূহের দ্রুত উপযুক্ত বিচারের দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে;

২৪। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গনঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

২৫। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ যুক্তিসঙ্গত সময়ে আয়োজিতব্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুত প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

২৬। সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে যে একটি পরিবেশ ও জলবায়ু সহিষ্ণু অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের অধিকার সংরক্ষিত হবে।

২৭। বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।

২৮। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রনয়ণ করা হলো।

এই ২৮টি ঘোষণার মধ্য দিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সংকট থেকে উত্তরণের একটি বিকল্প রূপরেখা এবং গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ সময় ড. ইউনূস বলেন, “দেশের ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতে। নতুন প্রজন্মকে এই রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।”

অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, তরুণ প্রতিনিধি ও মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

/আশিক


ঢাকাকে না জানিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, জবাবের অপেক্ষায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০২ ১৯:৩৫:০৮
ঢাকাকে না জানিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, জবাবের অপেক্ষায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের মক্কায় এক মসজিদে অনৈতিক কাজের অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও দেশটির সরকারের কাছ থেকে কোনো জবাব পায়নি ঢাকা। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের পাঠানো চিঠির উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

সোমবার (২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, সৌদি সরকারের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা এবং সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের মিশন যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে গত ১৪ অক্টোবর মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কাজের অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য জানায় সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে বিষয়টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে ঢাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশের পর গত ১৫ অক্টোবর জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি আরবের পররাষ্ট্র দপ্তরে চিঠি পাঠিয়ে বিস্তারিত তথ্য চায়। পরবর্তীতে গত ১৮ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে পুনরায় একই চিঠি হস্তান্তর করা হয়। সোমবার পর্যন্ত সেসব চিঠির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিউত্তর পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

/আশিক


সীমান্ত থেকে পোশাক শিল্পে উসকানি দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০১ ২৩:৪৩:৩৩
সীমান্ত থেকে পোশাক শিল্পে উসকানি দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, স্বার্থ সুরক্ষা এবং দেশের রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১ নভেম্বর) রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পোশাক শিল্পের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের নির্দিষ্ট সময় আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে আগেই মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। মালিক পক্ষের নাম দ্রুত পাওয়া গেলেও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধির নাম পেতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় নাম পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আলোচনার পথ খোলা থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনের নামে পুলিশের গাড়িতে আগুন, ভাঙচুর ও কারখানায় অগ্নিসংযোগের মতো সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও শিল্প ধ্বংসের চক্রান্তে নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে সীমান্তের ওপার থেকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বিশৃঙ্খলা ও নাশকতাকারীদের কঠোরহস্তে দমন করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এছাড়া বন্ধ থাকা কারখানাগুলো পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত চালুর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার শান্তি ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় বদ্ধপরিকর।

উক্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


পোশাক খাতের নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০১ ২০:৪২:০২
পোশাক খাতের নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন সচল রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১ নভেম্বর) রাতে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই তথ্য জানান।

মন্ত্রী জানান, আগামী ডিসেম্বর মাসকে সামনে রেখে পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে সরকার। এর আগে শ্রমিক অসন্তোষের বর্তমান পরিস্থিতি, এর অন্তর্নিহিত কারণ এবং উদ্ভূত সংকট নিরসনে করণীয় নির্ধারণ করতে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টার সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে চলমান সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এদিকে, পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে গেজেট প্রকাশ করেছে। রোববার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে এই গেজেট প্রকাশ করা হয়। গঠিত এই বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বিজিএমইএ’র পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম-মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

/আশিক


১২৫তম প্রাইজবন্ড ড্র: বিজয়ী হলো যেসব নম্বর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০১ ১৯:৩০:৫৮
১২৫তম প্রাইজবন্ড ড্র: বিজয়ী হলো যেসব নম্বর
ছবি : সংগৃহীত

১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ১২৫তম ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ৬ লাখ টাকার প্রথম পুরস্কার জিতেছে ০৯২৩২৮৩ নম্বরটি এবং ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার দ্বিতীয় পুরস্কার জিতেছে ০৮৪২৫১১ নম্বরটি।

রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই ড্র অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা। আয়োজকরা জানান, একক সাধারণ পদ্ধতিতে অর্থাৎ প্রতিটি সিরিজের একই নম্বরের বিপরীতে এই ড্র পরিচালনা করা হয়। এবারের ড্রয়ে মোট ৮৬টি সিরিজের ৪৬টি সাধারণ সংখ্যার বিপরীতে ৩ হাজার ৯৫৬টি প্রাইজবন্ড পুরস্কারের জন্য বিজয়ী নির্বাচিত হয়েছে।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় পুরস্কারের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা করে দুটি তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী নম্বর হলো ০৮৭৩৬১১ ও ০৮৯১৯৫৬। ৫০ হাজার টাকা করে দুটি চতুর্থ পুরস্কার জিতেছে ০৪৫৮৬৫৮ ও ০৯২৪৬৯৫ নম্বর। এ ছাড়া ১০ হাজার টাকা মূল্যমানের পঞ্চম পুরস্কার জিতেছেন ৪০ জন বিজয়ী। প্রাইজবন্ডের নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে, ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ থেকে অন্তত ৬০ দিন পূর্বে বিক্রি হওয়া প্রাইজবন্ডগুলোই কেবল এই ড্রয়ের আওতাভুক্ত হয়েছে। বিজয়ী প্রাইজবন্ডধারীদের আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১১৮ ধারা অনুযায়ী পুরস্কারের অর্থ থেকে ২৫ শতাংশ উৎসে কর কেটে রাখা হবে।

/আশিক


সোলার এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০১ ১৮:৫৯:২০
সোলার এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ৩ নভেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) দুই দিনব্যাপী প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধান অতিথি হিসেবে এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আজ রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ তথ্য জানান।

‘ছাদের প্রতিটি ইঞ্চি কাজে লাগান, সৌরবিদ্যুৎ থেকে আয় বাড়ান’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে এই এক্সপোর আয়োজন করেছে। প্রদর্শনীটি ৩ ও ৪ নভেম্বর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ঘাটতি হ্রাস এবং গ্রীষ্মকালীন জনদুর্ভোগ ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার। এক্সপো চলাকালে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ, জাতীয় জ্বালানি মিশ্রণে এর অংশ বাড়ানো এবং অব্যবহৃত জমি ও ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনে উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ে মোট চারটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) বাস্তবায়ন এবং সৌরবিদ্যুতের প্রসারে সরকারি নীতি ও প্রণোদনা তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

প্রদর্শনীতে আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি বিনিয়োগকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলতে অর্থায়নের সুযোগ তুলে ধরা হবে। এতে নীতিনির্ধারক, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, প্রযুক্তি সরবরাহকারী এবং সাধারণ ভোক্তারা অংশ নেবেন। প্রদর্শনীতে কর ও শুল্ক সুবিধা, সবুজ ও জলবায়ু অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিট, সৌরচালিত সেচব্যবস্থা এবং দক্ষতা উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থান পাবে। সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ এবং বিপিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


এইচএসসিতে শতভাগ ফেল: এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থার নির্দেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০১ ১৮:৩৮:৫০
এইচএসসিতে শতভাগ ফেল: এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থার নির্দেশ
ছবি : সংগৃহীত

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য কিংবা আশঙ্কাজনকভাবে কম, সেগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার (১ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী নিজে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, পাসের হার শূন্য বা আশঙ্কাজনকভাবে কম থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির মুখোমুখি করতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ বছর দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। গত বছর শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি, অর্থাৎ এবার এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯১টি বেড়েছে। অন্যদিকে, এ বছরের পরীক্ষায় শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ১৩৯টি।

/আশিক


সিসিটিভি ফুটেজে মিলল তাহসিফের মৃত্যুর আগের রাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ২০:১৪:৫৮
সিসিটিভি ফুটেজে মিলল তাহসিফের মৃত্যুর আগের রাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য
বারের লিফটে উঠছেন তাহসিফ সাউরি, তার বান্ধবী ও ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ (হেলমেট পরিহিত)। সিসিটিভি ফুটেজ: সংগৃহীত

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। জানা গেছে, ঘটনার দিন টঙ্গীর মাজার বস্তিতে যাওয়ার আগে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ‘নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’-এ প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন তাহসিফ। ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার বান্ধবী এবং জুনিয়র বন্ধু দীপ।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে একটি মোটরসাইকেলে করে তাহসিফ ও তার বান্ধবী উত্তরার ওই রেস্টুরেন্টে পৌঁছান। এর কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে সেখানে যোগ দেন দীপ। এরপর তিনজনে মিলে লিফটে করে বারে প্রবেশ করেন এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা সেখানে অবস্থান শেষে পুনরায় মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে বের হন।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, বার থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফের বান্ধবীকে তার বাসায় নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাহসিফ ও দীপ দুজনে মিলে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকার উদ্দেশে রওনা হন। মৃত্যুর আগের রাতের এই চলাচল ও বিভিন্ন স্থানে তাদের অবস্থানের খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে এ বিষয়ে তদন্তসংশ্লিষ্টরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু দীপকে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

/আশিক


রাজপথে লংমার্চ নয়, সংবিধান সংস্কারে আলোচনার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ২০:১০:৫১
রাজপথে লংমার্চ নয়, সংবিধান সংস্কারে আলোচনার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

সংবিধান সংস্কার ও উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে রাজপথে লংমার্চ না করে সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, উচ্চকক্ষের ক্ষমতা, কর্মপরিধি, এখতিয়ার এবং আইন প্রণয়নে দীর্ঘসূত্রতা এড়ানোর বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা ও আলোচনার কোনো বিকল্প নেই।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, উচ্চকক্ষ গঠিত হলে তার সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা এবং তাদের ক্ষমতা বা এখতিয়ার কী হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। নিম্নকক্ষ থেকে পাস হওয়া আইন পর্যালোচনার জন্য উচ্চকক্সে পাঠানো হলে কত দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট নীতিমালা থাকা দরকার, অন্যথায় সংসদীয় কার্যক্রমে জট লাগতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, উচ্চকক্ষের সদস্যদের জন্য গাড়ি, বাড়ি বা বিশেষ বেতন-ভাতা না রাখার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তিনি তার সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত।

অর্ডার দিয়ে বা গায়ের জোরে সংবিধান পরিবর্তনের বিরোধিতা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেবল আদেশ জারি করে বা সংবিধানকে স্পর্শ করা সমীচীন নয়, এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সমঝোতা ও অঙ্গীকার। অতীতে তিন জোটের সমঝোতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সমঝোতার দলিল থাকলে তা পালনে সবাই বাধ্য থাকে এবং কোনো পক্ষ তা ভাঙলে সংসদে তার রাজনৈতিক জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জনগণের দাবি বিবেচনায় নিয়েই বিএনপি অতীতে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা মেনে নিয়েছিল।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে সবাই সমর্থন করে এবং বর্তমানে বিচারকরা বিচারকার্য পরিচালনায় যথেষ্ট স্বাধীন রয়েছেন। তবে বিচারকদের স্বাধীনতার পাশাপাশি তাদের জবাবদিহির বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া কেবল সাংবিধানিক সংস্কার নয়, বরং যেকোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে আইনি জবাবদিহি ও ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

/আশিক


কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১৮:১৬:৩১
কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়ার সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে বাস্তবায়নাধীন দেশের প্রথম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের আরও একটি নতুন ও অত্যন্ত সংবেদনশীল চালান কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছেছে। এটি এই ইউনিটের চতুর্থ এবং সামগ্রিক প্রকল্প হিসেবে চতুর্থ চালান। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টা ১৭ মিনিটে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা তিনটি বিশেষায়িত লরির একটি বহর পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প চত্বরে নিরাপদে প্রবেশ করে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান এই চালান পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই চালানটির পরিবহন ও যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছিল। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট সাতটি কার্গো ফ্লাইটে ১৬৩টি এবং প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানির জন্য আরও দুটি কার্গোতে ৪৮টিসহ মোট নয়টি চালানে পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কাজও বেশ দ্রুততার সঙ্গেই এগিয়ে চলছে। ভিভিইআর-১২০০ মডেলের দুটি ইউনিটের এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সি’ বা পরীক্ষামূলক চালুকরণ কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) চেয়ারম্যান প্রথম ইউনিটের এই ধাপের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সূত্র জানিয়েছে, ‘স্টেজ-সি’ পর্যায়ে ধাপে ধাপে পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো হবে এবং এর পাশাপাশি টারবাইন-জেনারেটরসহ অন্যান্য আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি নভেম্বর মাসেই পরীক্ষামূলকভাবে এই ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় সঞ্চালন গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: