বিদেশে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমে আউটসোর্সিং: গোপন তথ্য ঝুঁকিতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চরম অস্থিরতা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ আগস্ট ০৪ ১০:২০:৩০
বিদেশে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমে আউটসোর্সিং: গোপন তথ্য ঝুঁকিতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চরম অস্থিরতা
ছবিঃ ডেইলি সান

বাংলাদেশের বিদেশি মিশনগুলোতে ই-পাসপোর্ট সেবা পরিচালনার জন্য বেসরকারি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কার্যক্রম চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এর বিপক্ষে কঠোর আপত্তি তুলেছে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ সমিতি। তাঁদের অভিযোগ, কোনো ধরনের উন্মুক্ত দরপত্র বা সঠিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে, যা দেশের গোপন ও সংবেদনশীল তথ্য তৃতীয় পক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার সামিল। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্ট (প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী) খোদা বখশ চৌধুরী এবং সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণির কাছে ১৩ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে। এতে আউটসোর্সিং না করে মন্ত্রণালয়ের পাসপোর্ট ও ভিসা উইং-এর মাধ্যমে বিদেশি মিশনের কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কল্যাণ সমিতির কয়েকজন নেতা বলেন, সামরিক শাসনের আমলে যেসব আউটসোর্সিং কোম্পানি বিতর্কিতভাবে সুযোগ পেয়েছিল, তাদেরকেই আবারও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কয়েক কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, “সার্ভিস কোয়ালিটি বাড়াতে জনবল বাড়ানো যায়, অথচ কেন বিদেশি কোম্পানিকে পাসপোর্টের মত সংবেদনশীল তথ্য হস্তান্তরে এত আগ্রহ? নির্বাচনের আগে বড় ব্যবসা করতে চায় কেউ কেউ।”

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন বিভাগ) মো. শামীম খান বলেন, “আমাদের কর্মকর্তারা বিদেশে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা কাজ করেন, বাকি সময় ঘোরাঘুরি করেন। সে কারণে আমরা আউটসোর্সিং ভাবছি—সেবার মান নিশ্চিত করতেই। এর বাইরে আর কিছু নয়।” তবে খোদা বখশ চৌধুরী ও নাসিমুল গনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

স্মারকলিপির মূল অভিযোগসমূহ:১. গোপন তথ্য ঝুঁকিতে: আউটসোর্সিংয়ের ফলে পাসপোর্ট সংক্রান্ত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তৃতীয় পক্ষের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।

২. নির্ভরযোগ্যতা সংকট: নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মার নাম সংশোধন কিংবা এনআইডি সমস্যা সমাধানে এই কোম্পানিগুলোর কোনো আইনগত ক্ষমতা থাকবে না—প্রবাসীরা ভোগান্তিতে পড়বেন।

৩. নিয়োগে স্বজনপ্রীতি: আউটসোর্সিং কোম্পানিগুলো দক্ষ জনবল নিয়োগ না করে আত্মীয়-স্বজনকে অগ্রাধিকার দেয়, ফলে সেবার মান ও জবাবদিহিতা কমে।

৪. দুর্নীতির পুরনো নজির: অতীতে আউটসোর্সিং করা আইরিশ কোম্পানি সৌদি আরবে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে পড়েছিল।

৫. রাজস্ব গরমিল: সরকারি রাজস্ব ঠিকমতো জমা না দেওয়া এবং অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

৬. দমনযোগ্য দূতাবাস: এসব কোম্পানির সিন্ডিকেট শক্তির কারণে দূতাবাস কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে।

৭. সরকারি তদারকি সংকট: আউটসোর্সিং কোম্পানির অধীনে গোপন তথ্যের নিরাপত্তা ও প্রবাসীদের সেবা তদারকির সুযোগ হারাবে সরকার।

৮. যন্ত্রপাতি ও সার্ভারের নিরাপত্তা ঝুঁকি: ব্যয়বহুল যন্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত সার্ভার কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকবে, যার ফলে চুরি বা ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে।

৯. অননুমোদিত ব্যক্তিকে পাসপোর্ট: এসব কোম্পানি রোহিঙ্গা বা ভিনদেশি নাগরিকদের তথ্য এনরোল করে পাসপোর্ট দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

১০. চুক্তি শেষে সেবাবন্ধ: মালয়েশিয়ার উদাহরণ টেনে বলা হয়, চুক্তি শেষ হলেও কোম্পানিগুলো মামলা ঠুকে কার্যক্রম জারি রাখে—ফলে সেবাদান বন্ধ হয়ে যায়।

পাসপোর্ট ও ভিসা উইং বহু বছর ধরে দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে প্রবাসীদের পাসপোর্ট-ভিসা সেবা দিয়ে আসছে। অথচ এই সেবা খাতকে আবারও বিতর্কিত কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সুত্রঃ ডেইলি সান


নির্বাচনে কোনো সহিংসতা হবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৮:২৮:৫৫
নির্বাচনে কোনো সহিংসতা হবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
ছবি : সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আশ্বস্ত করেছেন যে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং এ নিয়ে কোনো ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা নেই। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে কোনো ধরনের ভীতি কাজ করছে না এবং তথাকথিত 'মব ভায়োলেন্স' বলে এখন আর কিছু নেই। নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে বাহিনীগুলোর প্রস্তুতি অত্যন্ত সন্তোষজনক উল্লেখ করে তিনি জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নিয়মিতভাবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান চালানো হচ্ছে। নির্বাচনে কোনো প্রার্থী যদি অশোভন আচরণ করেন বা আইন ভঙ্গ করার চেষ্টা করেন, তবে সামাজিক ও আইনিভাবে তাঁদের কঠোর পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো প্রার্থী সীমা লঙ্ঘন করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতবিনিময় সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। এ ছাড়া অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিসহ রাজশাহী বিভাগের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং ভোটাররা যেন নির্ভয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী নিশ্চিত করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের উস্কানি বা অপতৎপরতা রুখে দিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


ভোট সংক্রান্ত সব তথ্য মিলবে হেল্পলাইনে, জানুন কিভাবে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৪:২৭:০৪
ভোট সংক্রান্ত সব তথ্য মিলবে হেল্পলাইনে, জানুন কিভাবে
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নাগরিকদের জন্য সঠিক, নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-এর সহযোগিতায় এবং এটুআই কর্মসূচির ব্যবস্থাপনায় জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩–এর মাধ্যমে একটি বিশেষ নির্বাচন তথ্যসেবা চালু করা হয়েছে।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে জানানো হয়, দেশের যেকোনো মোবাইল অপারেটর ব্যবহার করে টোল ফ্রি নম্বর ৩৩৩-এ কল করে ৯ প্রেস করলে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা পাওয়া যাবে।

এই সেবার আওতায় ভোটাররা ভোট দেওয়ার নিয়ম ও প্রক্রিয়া, নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রের অবস্থান, জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত জিজ্ঞাসা, নির্বাচনকালীন আচরণবিধি এবং প্রবাসী ভোটারদের জন্য নির্ধারিত ভোট প্রদানের নিয়মাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।

এ ছাড়া প্রতিবন্ধী, প্রবীণ ও নারী ভোটারদের জন্য বিদ্যমান বিশেষ সুবিধা, নির্বাচন সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগ নম্বর সম্পর্কেও তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে এই হেল্পলাইনের মাধ্যমে। ফলে ভোটারদের জন্য একটি সমন্বিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যকেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে ৩৩৩।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত Smart Election Management BD এবং Postal Vote BD অ্যাপ ব্যবহারের নিয়ম ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কেও হেল্পলাইনের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, যা ডিজিটাল সেবাকে আরও সহজলভ্য করবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ জানুয়ারি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প) চালু হওয়া এই বিশেষ সেবার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৬৪৩ জন নাগরিক নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা গ্রহণ করেছেন।

একই সঙ্গে, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, সম্ভাব্য অস্থিরতা আগাম শনাক্তকরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করার একটি সহায়ক মাধ্যম হিসেবেও ৩৩৩-এর ৯ নম্বর ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, এই সেবা সরাসরি পুলিশ কন্ট্রোল রুম হিসেবে কাজ করবে না। বরং এটি একটি “Information Intake, Early Warning & Forwarding System” হিসেবে পরিচালিত হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাপ্ত তথ্য ৯৯৯ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

-রফিক


নবম পে-স্কেল ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক: সুযোগ না কি নতুন বৈষম্যের শঙ্কা?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ০৯:৫৭:০০
নবম পে-স্কেল ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক: সুযোগ না কি নতুন বৈষম্যের শঙ্কা?
ছবি : সংগৃহীত

নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হলেও এর সুফল নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও শঙ্কায় রয়েছেন দেশের কয়েক লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারী। নতুন এই বেতন কাঠামোতে সরকারি কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বেতন বৈষম্যের শিকার হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মূল বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা ও অনিশ্চয়তা অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পে কমিশনের সদস্যদের সূত্র অনুযায়ী, সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় যারা বেতন পান, নতুন পে-স্কেল অনুমোদিত হলে তাদের সবারই সুযোগ-সুবিধা বাড়ার কথা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরাসরি সরকারি কর্মচারী না হলেও তারা সরকারের নির্দিষ্ট গ্রেড অনুযায়ী বেতন পান। যদিও এই বেতনটি 'অনুদান' হিসেবে দেওয়া হয়, তবুও নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষকদের মূল বেতন শতভাগ বাড়ার কথা। মূল বেতন বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই বৈশাখী ভাতা ও উৎসব ভাতার পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।

বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার বৈষম্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলেও দীর্ঘদিনের বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার বৈষম্য ঘোচার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, মূল বেতন বাড়লেও বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের মাত্র ১৫ শতাংশ পাবেন। যেখানে সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে এই হার ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। একইভাবে চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও ব্যাপক ব্যবধান থেকে যাচ্ছে। বর্তমানে শিক্ষকরা মাসে মাত্র ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই ভাতা ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিতই থাকছেন।

ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টিফিন ভাতা বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে, যা এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পান না। এ ছাড়া সরকারি কর্মচারীরা নির্দিষ্ট সময় পর পর মূল বেতনের সমপরিমাণ বিনোদন ভাতা পেলেও শিক্ষকদের জন্য এমন কোনো ভাতার ব্যবস্থা নেই। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈষম্য দেখা গেছে শিক্ষা ভাতার ক্ষেত্রে। সরকারি চাকরিজীবীরা বর্তমানে দুই সন্তানের জন্য মাসিক এক হাজার টাকা করে শিক্ষা ভাতা পান, যা নতুন পে-স্কেলে দুই হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সন্তানদের জন্য এমন কোনো শিক্ষা ভাতার ব্যবস্থা বিদ্যমান নেই।

সব মিলিয়ে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলেও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ার আশঙ্কায় হতাশায় ভুগছেন সারা দেশের শিক্ষক সমাজ।


১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুই দফা ভূমিকম্প: বড় কোনো বিপদের সংকেত দিচ্ছে প্রকৃতি?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ০৯:০২:২২
১৭ মিনিটের ব্যবধানে দুই দফা ভূমিকম্প: বড় কোনো বিপদের সংকেত দিচ্ছে প্রকৃতি?
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তে মাত্র ১৭ মিনিটের ব্যবধানে পরপর দুইবার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশ। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাত ৯টা ৩৩ মিনিটে প্রথম কম্পনটি অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯। এর ঠিক ১৭ মিনিট পর রাত ৯টা ৫১ মিনিটে ৫ দশমিক ২ মাত্রার দ্বিতীয় দফা ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ৬৭ দশমিক ৮ কিলোমিটার গভীরে উৎপন্ন এই কম্পনের প্রভাবে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

একই দিনে তিন দফা কম্পন ও অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি মঙ্গলবার কেবল রাতেই নয়, বরং ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটেও সাতক্ষীরা অঞ্চলে ৪ দশমিক ১ মাত্রার একটি হালকা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। গত বছরের ২১ নভেম্বর ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর থেকে গত দুই মাসে ঘনঘন এমন কম্পন জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ এখন আর কেবল প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূমিকম্পের প্রবারে কাঁপছে না, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ ফল্ট লাইনগুলোও সক্রিয় হয়ে উঠছে। সম্প্রতি নরসিংদীর মাধবদী, সাভার ও বাড্ডা এলাকায় হওয়া ভূমিকম্পগুলো সেই বিপদেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

টেকটোনিক প্লেটের চাপ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ভূ-তাত্ত্বিকদের মতে, বাংলাদেশ ভারতীয় প্লেট, ইউরেশীয় প্লেট এবং বার্মা মাইক্রোপ্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। জিপিএস পরিমাপ অনুযায়ী, এসব ফল্ট লাইন প্রতি বছর কয়েক মিলিমিটার করে সরে যাচ্ছে, যার ফলে ভূ-অভ্যন্তরে বিশাল শক্তি জমা হচ্ছে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের ডাউকি ফল্ট, ঢাকা-টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্ট এবং চট্টগ্রাম-মিয়ানমার সীমানা এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতিহাস বলছে, ১৭৬২ সালে চট্টগ্রাম-আরাকান ভূমিকম্পে ঢাকায় ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং ১৮৮৫ সালের বেঙ্গল ভূমিকম্প ও ১৯১৮ সালের শ্রীমঙ্গল ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

ঢাকার মাটির গঠন ও লিকুইফ্যাকশন ঝুঁকি রাজধানী ঢাকার ঝুঁকি সমতলের চেয়ে অনেক বেশি। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকার নরম পলিমাটির কারণে এখানে ‘সাইট অ্যামপ্লিফিকেশন’ প্রক্রিয়া ঘটে, ফলে মাঝারি মাত্রার কম্পনও বহুগুণ শক্তিশালী হয়ে অনুভূত হয়। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে কিছু এলাকায় মাটি দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা ‘লিকুইফ্যাকশন’ বা ভূমিকম্পের সময় মাটি তরলের মতো আচরণ করার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান রুবাইয়াত কবির জানান, ভারতীয় প্লেটের ওপর অবস্থানের কারণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সচেতনতা ও যন্ত্রপাতির সংকট ভূ-দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ মোহন কুমার দাস বলেন, দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতির এখনও ঘাটতি রয়েছে। ভূমিকম্পের সময় সাধারণ মানুষের করণীয় কী, সেই বিষয়ে জনসচেতনতার অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে জাতীয় বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর জোর দিচ্ছেন।


অপরাধীরা বাধা দিলেও ভোটাররা কেন্দ্রে যাবেই: সেনাপ্রধান 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ২১:২১:৫৫
অপরাধীরা বাধা দিলেও ভোটাররা কেন্দ্রে যাবেই: সেনাপ্রধান 
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের জন্য সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) গাজীপুর জেলা পরিদর্শন ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন আয়োজনে সম্মিলিত সক্ষমতা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিও অনুযায়ী, সেনাপ্রধান বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা আমাদের আছে। নির্বাচন কমিশন, সরকার, প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী—সবাই আগ্রহী। এখানে নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।” তিনি জানান, একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য ভোট উপহার দিতে রাষ্ট্রীয় সকল বাহিনী এখন একযোগে কাজ করছে।

সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধ আর্থিক লেনদেন এবং অপরাধীদের তৎপরতা নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কিছু আর্থিক লেনদেন হতে পারে, যা রোধে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে। এছাড়া কিছু অপরাধী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে এই ধরনের অপতৎপরতা রুখে দেওয়া হবে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, ভোটের দিন মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।

তিন বাহিনী প্রধানের গাজীপুর সফর নির্বাচনী প্রস্তুতির মাঠপর্যায় পর্যবেক্ষণে সেনাপ্রধানের এই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। তিন বাহিনীর প্রধানেরা যৌথভাবে গাজীপুর জেলা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন। নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা।


প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশ-জাপান ঐতিহাসিক চুক্তি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ২১:০৪:০৩
প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশ-জাপান ঐতিহাসিক চুক্তি
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ঢাকা ও টোকিও’র মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির পথ সুগম হলো।

প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল লক্ষ্য ও রূপরেখা জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চুক্তিটি স্বাক্ষরের দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান এবং জাপানের পক্ষে দেশটির রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এই চুক্তিতে সই করেন। এই চুক্তির অধীনে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ প্রকল্পের মাধ্যমে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি বিনিময় করা হবে।

নিয়ন্ত্রণ ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ চুক্তিতে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কঠোর নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হস্তান্তরিত সরঞ্জাম বা প্রযুক্তি যাতে তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে না যায় এবং নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে চুক্তিতে সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও যাচাই-বাছাইয়ের কঠোর প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সহযোগিতার ফলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এটি কেবল দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই জোরদার করবে না, বরং এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


হঠ্যাৎ কী কারণে বদলে যাচ্ছে র‌্যাবের নাম  

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১৪:৪৮:২৭
হঠ্যাৎ কী কারণে বদলে যাচ্ছে র‌্যাবের নাম  
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, বহুল আলোচিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী Rapid Action Battalion–এর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে নিরাপত্তা প্রশাসনে বড় ধরনের নীতিগত রদবদল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

মঙ্গলবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, র‌্যাবের নতুন নাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)’। প্রধান উপদেষ্টা এই নাম অনুমোদন দিয়েছেন এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি হলে নতুন নামে বাহিনীর কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, শুধু নাম পরিবর্তনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না এই উদ্যোগ। নতুন নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাহিনীর পোশাক ও বাহ্যিক পরিচিতিতেও পরিবর্তন আনা হবে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই রূপান্তরের লক্ষ্য হলো বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও পেশাদার, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।

উল্লেখযোগ্য যে, এই বাহিনীর নামকরণ নিয়ে অতীতেও পরিবর্তন এসেছে। প্রাথমিকভাবে বাহিনীটির নাম ছিল ‘র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম (র‌্যাট)’। পরে ২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)’ নামে বাহিনীটি গঠিত হয় এবং দ্রুতই এটি দেশের অন্যতম প্রভাবশালী বিশেষ বাহিনীতে পরিণত হয়।

তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই র‌্যাবের বিরুদ্ধে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে আসছে। এসব অভিযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাব এবং বাহিনীটির সাতজন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ও পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথকভাবে জারি করে। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার ফলে তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার সময় সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে United Nations Office of the High Commissioner for Human Rights একটি তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে র‌্যাব বিলুপ্ত করার সুপারিশও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা সরকারের জন্য একটি বড় বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।

নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা Human Rights Watch দীর্ঘদিন ধরেই র‌্যাব বিলুপ্ত বা মৌলিক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। সংস্থাটি তাদের বিভিন্ন প্রতিবেদনে র‌্যাবের কর্মকাণ্ডকে গুরুতর মানবাধিকার উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘র‌্যাব’ থেকে ‘এসআইএফ’ নামকরণ কেবল একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়; বরং এটি সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মহল ও দেশের জনগণের কাছে একটি রাজনৈতিক ও নৈতিক বার্তা। এখন দেখার বিষয়, নাম ও পোশাক পরিবর্তনের পাশাপাশি বাহিনীর কার্যক্রম, জবাবদিহি ও আইনি কাঠামোয় কতটা বাস্তব সংস্কার আসে।

-রফিক


নির্বাচনি ব্যয়ের লাগাম টানার লড়াই: কালো টাকা রুখতে বিএফআইইউ-র কড়াকড়ি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ০৯:৩৮:০০
নির্বাচনি ব্যয়ের লাগাম টানার লড়াই: কালো টাকা রুখতে বিএফআইইউ-র কড়াকড়ি
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনি হাওয়া। তবে এই উৎসবের আমেজ ছাপিয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্বাচনি ব্যয় ও কালো টাকার প্রভাব। প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয়ে ব্যস্ত সময় পার করলেও পর্দার অন্তরালে নগদ টাকার প্রবাহ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা উদ্বেগ। বিশেষ করে গত দুই মাসে ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, তা এক কথায় নজিরবিহীন।

নির্বাচনি ব্যয়ের নির্ধারিত সীমা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিয়ম অনুযায়ী, একজন প্রার্থী ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা অথবা এককালীন ২৫ লাখ টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটি বেশি হবে, তা ব্যয় করতে পারবেন। সেই হিসেবে গাজীপুর-২ আসনের প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ৮০ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩০ টাকা এবং ঝালকাঠি-১ আসনের প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা; প্রচারণার ধরণ দেখে অনেক ক্ষেত্রেই এই সীমার তোয়াক্কা না করার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যাংক থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন নির্বাচনি খরচ মেটাতে ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের হিড়িক পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন যে, গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—এই দুই মাসেই ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪০ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। নভেম্বরে যেখানে ব্যাংকের বাইরে ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি টাকা, জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকায়। দীর্ঘ কয়েক মাস মানুষের হাতে নগদ টাকা কমার ধারাবাহিকতা থাকলেও নির্বাচনের প্রাক্কালে এই নাটকীয় উল্লম্ফন সরাসরি নির্বাচনি ব্যয়ের সাথে সম্পৃক্ত বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কালো টাকা রোধে বিএফআইইউ ও ইসির কঠোর পদক্ষেপ নির্বাচনে অর্থের অপব্যবহার রুখতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) বেশ কিছু প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে

কোনো হিসাবে দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি লেনদেন হলে তা বাধ্যতামূলকভাবে বিএফআইইউ-কে জানাতে হবে। সাপ্তাহিক ভিত্তিতে এই রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আগামী ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো সেবাগুলোতে দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি প্রতিটি একক লেনদেন ১ হাজার টাকার বেশি করা যাবে না।

নির্বাচনকালীন সময়ে ব্যক্তিগত এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে (P2P) ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর বন্ধ থাকবে।

রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন ও বিশেষজ্ঞ অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদল সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি রাজনীতিকে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ হিসেবে গ্রহণ করায় কালো টাকার এই আধিপত্য বাড়ছে। এরা জনসেবার চেয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে লুটপাটের মাধ্যমে খরচের টাকা কয়েক গুণ বাড়িয়ে তুলতে চায়। এই দুষ্টচক্র ভাঙতে না পারলে গণতন্ত্রের প্রকৃত বিকাশ সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল প্রযুক্তিগত কড়াকড়ি নয়, বরং ভোটারদের সচেতনতা এবং নির্বাচন কমিশনের কঠোর প্রয়োগই পারে নির্বাচনের এই ‘টাকার খেলা’ বন্ধ করতে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন


ফেব্রুয়ারিতে এলপিজির নতুন ধাক্কা: আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হচ্ছে বাড়তি দাম

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ১৭:১৭:১৯
ফেব্রুয়ারিতে এলপিজির নতুন ধাক্কা: আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হচ্ছে বাড়তি দাম
ছবি : সংগৃহীত

ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আরও এক দফা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ভোক্তা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টা থেকেই সারা দেশে এই নতুন দাম কার্যকর হবে।

বিকেলের সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ নতুন এই দাম ঘোষণা করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরামকো ঘোষিত ‘সৌদি সিপি’ (কন্ট্রাক্ট প্রাইস) অনুযায়ী এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা করা হয়েছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে তা আরও ৫০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর রান্নার খরচ আরও বেড়ে গেল।

এলপিজির পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও। ফেব্রুয়ারি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে ২ টাকা ৩৪ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এতে মুসকসহ অটোগ্যাসের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ৬২ টাকা ১৪ পয়সা, যা গত মাসে ছিল ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা। চলতি বছরের শুরু থেকেই টানা দুবার গ্যাসের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে।

পাঠকের মতামত: