স্বাস্থ্য জিজ্ঞাসা

মোটা হলেই কি অসুস্থ? বাস্তবতা, বিজ্ঞান ও ভুল বোঝাবুঝির অনুসন্ধানে

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ০৬ ১৮:১২:৩০
মোটা হলেই কি অসুস্থ? বাস্তবতা, বিজ্ঞান ও ভুল বোঝাবুঝির অনুসন্ধানে

তুমি অনেক মোটা হয়ে গেছো, শরীর খারাপ হচ্ছে না?” — এই প্রশ্নটা আমাদের সমাজে যেন একধরনের স্বাভাবিক বাক্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই কথাটার পেছনে যে কতটা ভুল ধারণা, কতটা কুসংস্কার এবং কতটা অপমান লুকিয়ে থাকে, সেটা কি আমরা ভাবি? মোটা মানুষদের অনেকেই সামাজিকভাবে হেয় হন, অনেকে নিজের শরীর নিয়ে সংকোচে ভোগেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—অতিরিক্ত মোটা হওয়া কি সবসময়ই অসুস্থতার লক্ষণ?

এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে চিকিৎসাবিজ্ঞান, স্বাস্থ্যসংস্থার বিশ্লেষণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং কিছু মানবিক দৃষ্টিকোণের দিকে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষ্য: মোটা হওয়া মানেই রোগ?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), Mayo Clinic এবং যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (CDC)—তিনটি প্রধান প্রতিষ্ঠানই একমত যে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন এক ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির অবস্থা। তাদের মতে, শরীরে চর্বির মাত্রাতিরিক্ত সঞ্চয় ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যান্সার, জয়েন্টের সমস্যা এবং নিদ্রাজনিত শ্বাসকষ্টসহ বহু জটিল রোগের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষ করে Mayo Clinic সতর্ক করে যে স্থূলতা শুধু শরীরের আকার বা সৌন্দর্যের প্রশ্ন নয়—এটি একটি জটিল বিপাকীয় সমস্যা যা পুরো শরীরকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতেই সব মোটা মানুষ একসঙ্গে সব রোগে আক্রান্ত হন না। অনেকে শরীরের ওজন বেশি হলেও, তাদের রক্তচাপ, ব্লাড সুগার এবং কোলেস্টেরল পুরোপুরি স্বাভাবিক থাকে। সুতরাং, মোটা হওয়া মানেই অসুস্থ—এই সরলীকরণ বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।

কেন বাড়ে শরীরের ওজন? কারণ খুঁজে দেখা যাক

১. অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ ও কম শারীরিক পরিশ্রম

খাবার যতটা খাই, শরীর যদি ততটা খরচ না করে, তাহলে বাড়তি ক্যালরি জমতে জমতে চর্বিতে রূপান্তরিত হয়। বিশেষ করে আধুনিক জীবনে ফাস্টফুড, সফট ড্রিংকস, অতিরিক্ত চিনি, তেল ও পরিমিতির বাইরে খাওয়ার অভ্যাস শরীরের ক্যালরি ভারসাম্য নষ্ট করে। আবার একটানা বসে থাকা, অফিসে দীর্ঘ সময় ডেস্কে কাজ করা, গাড়িতে যাতায়াত—এসব কারণে শরীর পর্যাপ্ত ক্যালরি খরচ করতে পারে না।

২. জেনেটিক বা বংশগত প্রভাব

অনেকে জন্ম থেকেই এমন শারীরবৃত্তীয় কাঠামো নিয়ে জন্মান, যেখানে তাদের মেটাবলিজম কম থাকে। শরীর খাবার ধীরে হজম করে এবং ক্যালরি সঞ্চয় করে বেশি। এমন পরিবারেও দেখা যায়, বাবা-মা মোটা হলে সন্তানরাও সাধারণত একই ধরনের প্রবণতা দেখায়। ফলে বলা যায়, স্থূলতার পেছনে জিনগত কারণও একটি বড় নিয়ামক।

৩. হরমোনগত সমস্যা ও ওষুধের প্রভাব

থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি (Hypothyroidism), কুশিং সিনড্রোম বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মতো সমস্যা শরীরের বিপাকগত গতি কমিয়ে দেয়। ফলে শরীর সহজেই ওজন বাড়িয়ে ফেলে। এছাড়া বিষণ্নতা, মানসিক রোগ বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার জন্য ব্যবহৃত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও ওজন বেড়ে যেতে পারে।

৪. মানসিক চাপ ও আবেগের প্রভাব

চাপ বা স্ট্রেস আমাদের হরমোনে প্রভাব ফেলে এবং ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয়। ফলে আমরা “স্ট্রেস ইটিং”-এর শিকার হই। ঘুমের অভাবও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনকে বিঘ্নিত করে। একইভাবে বিষণ্নতায় ভোগা মানুষরা অনিয়মিত খাওয়ার মাধ্যমে ওজন বাড়িয়ে ফেলতে পারেন।

কী কী রোগের ঝুঁকি বাড়ায় অতিরিক্ত ওজন?

টাইপ-২ ডায়াবেটিস: গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। স্থূল ব্যক্তিদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় ৮৫ শতাংশ বেশি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সামান্য ওজনাধিক্য থাকলেও ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা ৫ গুণ বেড়ে যায়।

হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ: শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমলে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ পড়ে। এতে করে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে।

জয়েন্টের ক্ষয় ও ব্যথা: ওজন বেশি হলে হাঁটু, কোমর ও মেরুদণ্ডে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে করে অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা জয়েন্টের ক্ষয়জনিত ব্যথা দেখা দিতে পারে।

স্লীপ অ্যাপনিয়া ও ঘুমের সমস্যা: গলার চারপাশে ও মুখমণ্ডলে চর্বি জমে গেলে ঘুমের মধ্যে শ্বাস আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যাকে বলা হয় স্লীপ অ্যাপনিয়া।

ক্যান্সার ও মানসিক স্বাস্থ্য: বিশেষ কিছু ধরনের ক্যান্সার—যেমন স্তন, কোলন, কিডনি—ওজনাধিক্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তাছাড়া ওজন নিয়ে হীনম্মন্যতা ও সামাজিক অবহেলা মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ব্যতিক্রম কি আছে? “মোটা কিন্তু সুস্থ” কি সম্ভব?

চিকিৎসা বিজ্ঞানে “Metabolically Healthy Obesity” নামে একটি অবস্থা আছে। এতে কেউ মোটা হলেও তার রক্তচাপ, ব্লাড সুগার, কোলেস্টেরল সবই থাকে স্বাভাবিক। এই ধরনের মানুষদের বলা হয় “সুস্থ মোটা”। তারা দৈনন্দিন কাজ স্বাভাবিকভাবে করতে পারেন, ব্যায়াম করেন এবং সচেতনভাবে খাওয়ার অভ্যাস মেনে চলেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, এই সুস্থ মোটা অবস্থাও চিরস্থায়ী নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, শারীরিক কার্যকলাপ কমে গেলে বা হরমোন পরিবর্তনের ফলে, এদের মধ্যেও জটিল রোগের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ সুস্থ মোটা থাকা সম্ভব হলেও তা একটি অস্থায়ী অবস্থা।

BMI কি সত্যি সব বলে?

শরীরের ওজন ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিরূপণের জন্য সবচেয়ে প্রচলিত সূচক হচ্ছে BMI বা বডি মাস ইনডেক্স। একজন ব্যক্তির ওজন ও উচ্চতার অনুপাতে নির্ধারিত এই সংখ্যা থেকে বোঝা যায় তিনি কোন ওজন শ্রেণিতে পড়েন। সাধারণত ১৮.৫ থেকে ২৪.৯ পর্যন্ত BMI স্বাভাবিক ধরা হয়, ২৫ থেকে ২৯.৯ হলে তাকে অতিরিক্ত ওজন এবং ৩০ বা তার উপরে হলে স্থূল বা মোটা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে BMI-এরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এটি শরীরে চর্বি আর পেশির অনুপাত আলাদা করে বোঝাতে পারে না। ফলে কোনো কোনো পেশীবহুল অ্যাথলেটের BMI হয়তো বেশি, কিন্তু শরীরে অতিরিক্ত চর্বি একেবারেই নেই। আবার কারো BMI স্বাভাবিক হলেও তার পেটে যদি অতিরিক্ত চর্বি জমে, তাহলে ঝুঁকি অনেক বেশি হতে পারে। তাই চিকিৎসকেরা এখন কোমরের মাপ, শরীরের চর্বির বণ্টন, ও অন্যান্য ক্লিনিক্যাল পরীক্ষাকে ওজন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দেন।

সমাজ কী ভাবে মোটা মানুষদের?

এটাই সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক। আমাদের সমাজে মোটা মানুষদের নিয়ে কটাক্ষ, অপমান এবং হাস্যরস তৈরি করা যেন একধরনের বিনোদন হয়ে দাঁড়িয়েছে। "মোটা", "হাতি", "ঢোল", "মামাবাড়ির ভূত"—এই সব ট্যাগ একটি শিশু থেকে শুরু করে পূর্ণবয়স্ক মানুষ পর্যন্ত বহন করতে বাধ্য হন।

বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে শরীরের আকারকে ঘিরে তৈরি হয় সামাজিক চাপ। বিয়ের ক্ষেত্রে, পেশাগত ক্ষেত্রে কিংবা বন্ধুবান্ধবদের মধ্যেও এই ‘শরীর নিয়ে তাচ্ছিল্য’ তাদের আত্মবিশ্বাসকে ভেঙে দেয়। অনেকেই বিষণ্নতায় ভোগেন, আত্মপ্রত্যয় হারিয়ে ফেলেন। এটি এক ধরনের মানসিক সহিংসতা।

তাহলে করণীয় কী?

প্রথমেই দরকার নিজের শরীর সম্পর্কে সঠিকভাবে জানার। শুধুমাত্র ওজন নয়, বরং রক্তচাপ, রক্তে চিনির মাত্রা, কোলেস্টেরল, কোমরের মাপ এবং পারিবারিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। বেশি চিনি, তেল, ফাস্টফুড না খেয়ে সুষম খাবার খেতে হবে, ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তৃতীয়ত, নিয়মিত হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করা উচিত, অন্তত দিনে ৩০ মিনিট। একটানা বসে না থেকে মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে হাঁটলে শরীর সক্রিয় থাকে। চতুর্থত, মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে। স্ট্রেস কমাতে হবে, ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে কাউন্সেলিংয়ের সাহায্য নেওয়া উচিত। এবং অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, বিশেষ করে যদি থাইরয়েড বা অন্য কোনো হরমোনগত সমস্যা থেকে থাকে।

সবশেষে বলা যায়, অতিরিক্ত মোটা হওয়া সবসময়ই অসুস্থতার লক্ষণ নয়। তবে এটি প্রায়শই শরীরের বিপাক ক্রিয়ার জটিলতা বা ভবিষ্যতের কোনো রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। তাই “মোটা হলেই অসুস্থ” কিংবা “মোটা মানেই অলস”—এই স্টেরিওটাইপ আমাদের ভাঙতে হবে। একইসঙ্গে বুঝে নিতে হবে, স্বাস্থ্যবান থাকতে হলে কেবল ওজন নয়, পুরো জীবনধারাই আমাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিত শরীর নয়, স্বাস্থ্যের দিকে। কারণ, "স্বাস্থ্য আগে, শরীর পরে।"


চিকিৎসা জার্নালে পুষ্টি ও লিভারের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন গবেষণা প্রকাশ

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৭ ১৯:৩৫:১১
চিকিৎসা জার্নালে পুষ্টি ও লিভারের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন গবেষণা প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

নিয়মিত টমেটো খাওয়া লিভার সুস্থ রাখতে এবং লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। চিকিৎসাবিষয়ক আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘নিউট্রিয়েন্টস’-এ প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক গবেষণায় এ সংক্রান্ত ইতিবাচক তথ্য উঠে এসেছে। ইতালির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই গবেষণায় মানবদেহের বিপাকীয় প্রক্রিয়া এবং বিশেষভাবে লিভারের ওপর টমেটোর প্রভাব পরীক্ষা করা হয়।

গবেষকদের মতে, টমেটোতে বিপুল পরিমাণে লাইকোপিন নামের একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা লিভারের সুরক্ষায় মুখ্য ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত টমেটো গ্রহণের ফলে লিভারে চর্বি জমার পরিমাণ কম থাকে। লাইকোপিন মূলত লিভারের কোষগুলোকে ক্ষতিকর অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে এবং সামগ্রিক বিপাকীয় প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখে। এ ছাড়া টমেটোতে থাকা প্রাকৃতিক যৌগগুলো প্রদাহবিরোধী প্রভাব ফেলতে সক্ষম, যা লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে অবদান রাখে।

রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি কাঁচা অবস্থায় সালাদ হিসেবে টমেটো সহজে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যুক্ত করা যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র টমেটো খাওয়াকে ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধ বা চিকিৎসার একমাত্র বা নিশ্চিত উপায় ভাবা উচিত নয়। লিভারের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত ব্যায়াম, নিয়ন্ত্রিত ওজন এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ অপরিহার্য। যেহেতু ফ্যাটি লিভার রোগ অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই তৈরি হতে পারে, তাই ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সুষম জীবনযাপনের পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

সূত্র: সামা টিভি


শ্বাসনালির জমে থাকা মিউকাস দূর করতে পেঁয়াজ ও অলিভ অয়েলের জাদুকরী মিশ্রণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৬ ২২:০৬:২৯
শ্বাসনালির জমে থাকা মিউকাস দূর করতে পেঁয়াজ ও অলিভ অয়েলের জাদুকরী মিশ্রণ
ছবি : সংগৃহীত

ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে হঠাৎ ঠান্ডা-গরমের মেজাজ বদলের কারণে গলা খুসখুস, ঢোক গিলতে ব্যথা বা শ্বাসনালিতে জমে থাকা কফ ও মিউকাসের অস্বস্তি ঘরে ঘরে বেড়ে যায়। ঘরোয়া পদ্ধতিতে গলার এই অনাকাঙ্ক্ষিত মিউকাস পাতলা করে দ্রুত স্বস্তি পেতে দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে পেঁয়াজ, মধু ও অলিভ অয়েলের সমন্বয়ে তৈরি একটি প্রাকৃতিক পানীয়।

ঘরোয়া মিশ্রণটি তৈরি করতে প্রয়োজন হবে একটি পেঁয়াজ, এক টেবিল চামচ ভালো মানের অলিভ অয়েল এবং দুই টেবিল চামচ খাঁটি মধু। প্রস্তুতপ্রণালী অনুযায়ী, প্রথমে পেঁয়াজটি মোটা ও গোল চাকতির মতো কেটে কিছুক্ষণ পরিষ্কার পানিতে ফোটাতে হবে। পেঁয়াজ ভালোভাবে সেদ্ধ হয়ে এলে পানি ছেঁকে নিয়ে তাতে অলিভ অয়েল ও মধু ভালোভাবে মিশিয়ে হালকা গরম অবস্থায় অল্প অল্প করে পান করতে হবে।

পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, পেঁয়াজে থাকা সালফারযুক্ত যৌগ ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট 'কুয়েরসেটিন' শ্বাসনালির প্রদাহ কমায় এবং জমে থাকা ঘন কফ পাতলা করে স্বাভাবিক উপায়ে বের হয়ে আসতে সাহায্য করে। পাশাপাশি অলিভ অয়েলে বিদ্যমান 'ওলিওক্যানথাল' গলার টিস্যুর ওপর একটি মসৃণ ও স্বস্তিদায়ক প্রলেপ সৃষ্টি করে কাসির ফলে তৈরি হওয়া জ্বালাভাব প্রশমিত করে। আর মধুর প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ও মিউকাস উপশমকারী গুণাগুণ গলার খাঁজ কেটে দ্রুত আরাম পৌঁছে দেয়। তবে এই প্রাকৃতিক পানীয়টি কেবল সাময়িক লক্ষণীয় উপশমের জন্য কার্যকারী; যদি কফ বা গলার ব্যথা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় কিংবা সঙ্গে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট থাকে, তবে কালবিলম্ব না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


বয়স বাড়ার সাথে পুরুষদের টেস্টোস্টেরন হরমোন হ্রাস: চেনার ৯টি লক্ষণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৪ ২২:০২:২০
বয়স বাড়ার সাথে পুরুষদের টেস্টোস্টেরন হরমোন হ্রাস: চেনার ৯টি লক্ষণ
ছবি : সংগৃহীত

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুরুষের দেহে টেস্টোস্টেরন হরমোনের স্বাভাবিক নিঃসরণ কমতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হরমোনের এই ঘাটতিকে ‘লো টেস্টোস্টেরন’ বা সংক্ষেপে ‘লো টি’ বলা হয়। সমীক্ষা অনুযায়ী, ৬০ বছর বা তদুর্ধ বয়সসীমার প্রতি ১০ জন পুরুষের মধ্যে অন্তত ২ জন এই হরমোনজনিত জটিলতায় ভুগে থাকেন।

অণ্ডকোষে উৎপাদিত এই অতি প্রয়োজনীয় হরমোনটি পুরুষাল যৌন আকাঙ্ক্ষা, পেশির সুদৃঢ় গঠন, হাড়ের সঠিক ঘনত্ব, শক্তি বৃদ্ধি ও শুক্রাণু উৎপাদনের মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। তবে হরমোন নিঃসরণ হ্রাস পাওয়ার প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় অসচেতনতার কারণে সাধারণ মানুষের চোখ এড়িয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে এই হরমোনের ঘাটতি দেখা দিলে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর মধ্যে অন্যতম হলো যৌন উদ্দীপনা বা লিবিডো অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়া এবং যৌন মিলনকালে উত্থানজনিত জটিলতা সৃষ্টি হওয়া। এ ছাড়া মাথার চুলের পাশাপাশি হাত, পা ও মুখের লোম কমে যাওয়া, হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস পেয়ে তা ভঙ্গুর হয়ে পড়া এবং দ্রুত শারীরিক শক্তি কমে যাওয়া এর প্রধান উপসর্গ। চিকিৎসকরা আরও জানান, এই হরমোনের অভাবে মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগে ঘাটতি, হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি, নিদ্রাহীনতা এবং সারাক্ষণ শারীরিক অবসাদ ও ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।

টেস্টোস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে চিকিৎসকরা শারীরিক ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে চরম ঘাটতির ক্ষেত্রে নিছক জীবনযাত্রার পরিবর্তন পর্যাপ্ত নয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষজ্ঞ ইউরোলজিস্ট বা এন্ডোক্রাইনোলজিস্টরা ইন্ট্রামাসকুলার ইনজেকশন, ট্রান্সডার্মাল জেল বা প্যাচ, সাবকিউটেনিয়াস ইমপ্ল্যান্ট কিংবা সন্তান গ্রহণে ইচ্ছুক পুরুষদের ক্ষেত্রে 'ক্লোমিফিন সাইট্রেট'-এর মতো সুনির্দিষ্ট থেরাপি প্রয়োগ করেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্বপ্রণোদিত হয়ে যেকোনো হরমোন থেরাপি গ্রহণ করা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সূত্র: ইউরোলজি স্পেশালিস্টস এনসি


বয়স বাড়লেই বাড়ে ঝুঁকি, জেনে নিন প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার মূল কারণ ও প্রতিকার

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৪ ১৯:৫৭:৪৩
বয়স বাড়লেই বাড়ে ঝুঁকি, জেনে নিন প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার মূল কারণ ও প্রতিকার
ছবি : সংগৃহীত

প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রস্রাব বের হয়ে যাওয়ার স্বাস্থ্যগত সমস্যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স' নামে পরিচিত। যেকোনো বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে এই জটিলতা দেখা দিতে পারলেও সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, প্রাত্যহিক ঘুম, সামাজিক আত্মবিশ্বাস এবং জীবনযাত্রার মান ব্যাহত করলেও সময়মতো সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এর সিংহভাগ কারণই নিরাময় সম্ভব।

চিকিৎসকদের মতে, ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্সের বেশ কয়েকটি ধরন রয়েছে। কাশি, হাঁচি, হাসি বা ভারী জিনিস তোলার সময় প্রস্রাব হওয়াকে বলা হয় ‘স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স’, যা সাধারণত নারীদের প্রসবপরবর্তী সময়ে এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট অস্ত্রোপচারের পর বেশি দেখা যায়। আবার হঠাৎ তীব্র বেগ সামলাতে না পারার ঘটনাকে ‘আর্জেন্সি ইনকন্টিনেন্স’ এবং উভয় লক্ষণের উপস্থিতি থাকলে তাকে ‘মিক্সড ইনকন্টিনেন্স’ বলা হয়। এ ছাড়া মূত্রথলি পুরোপুরি খালি না হয়ে ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব ঝরাকে ‘ওভারফ্লো ইনকন্টিনেন্স’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা, একাধিকবার স্বাভাবিক প্রসব, বয়সের ভারে পেলভিক ফ্লোরের পেশি দুর্বল হওয়া কিংবা মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যাওয়া এর অন্যতম প্রধান কারণ। অপরদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া, প্রোস্টেট ক্যানসারের অস্ত্রোপচার কিংবা বয়সজনিত কারণে মূত্রনালিতে বাধা তৈরি হওয়াকে মূল কারণ হিসেবে গণ্য করেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি স্থূলতা, ডায়াবেটিস, দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, স্নায়ুরোগ এবং অতিরিক্ত চা-কফি বা অ্যালকোহল সেবনের কারণেও উভয় লিঙ্গের মানুষের এই রোগ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, নিয়মিত পেলভিক ফ্লোর পেশির ব্যায়াম (কিগেল এক্সারসাইজ), অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ, ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পরিহার এবং সঠিক সময়ে প্রস্বাবের অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে সমস্যাটি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত পড়া, তলপেটে তীব্র ব্যথা বা জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটলে এটিকে কেবল বয়সকালের স্বাভাবিক পরিবর্তন না ভেবে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


মাথার কাছে মোবাইল রেখে ঘুমানো: ব্রেন টিউমার ও রেডিয়েশন দাবির বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ২০:৩২:০৪
মাথার কাছে মোবাইল রেখে ঘুমানো: ব্রেন টিউমার ও রেডিয়েশন দাবির বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা
ছবি : সংগৃহীত

ঘুমের সময় মাথার কাছে মোবাইল ফোন রাখার ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সম্ভাব্য শারীরিক ক্ষতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। তবে এই বিষয়ে বিদ্যমান বৈজ্ঞানিক তথ্য ও মূল স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর মতামত এবং আপনার প্রদান করা খবরের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) এবং আন্তর্জাতিক অ-আয়নাইজিং রেডিয়েশন সুরক্ষা কমিশন (ICNIRP)-এর মতে, মোবাইল ফোন থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি (RF) হলো অ-আয়নাইজিং বিকিরণ (Non-ionizing radiation)। এক্স-রে বা গামা-রশ্মির মতো আয়নাইজিং বিকিরণ ডিএনএ (DNA) ক্ষতিগ্রস্ত করে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু মোবাইল ফোনের অ-আয়নাইজিং বিকিরণ ডিএনএ অণুর বন্ধন ভাঙতে পারে না বা শরীরের কোষ পুড়িয়ে ফেলতে পারে না। বহু বছরের ব্যাপক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় মাথার কাছে ফোন রেখে ঘুমানোর সাথে ব্রেন টিউমার বা ব্রেন ক্যান্সারের প্রত্যক্ষ ও নিশ্চিত কোনো যোগাযোগ পাওয়া যায়নি।

প্রজনন ক্ষমতার ক্ষেত্রে, কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে পকেটে ফোন রাখা বা প্রজনন অঙ্গের কাছাকাছি অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে নিঃসৃত তাপ (Heat) ও দীর্ঘমেয়াদী প্রয়োগে শুক্রাণুর গুণগত মানে আংশিক প্রভাব পড়তে পারে। তবে রক্তচাপ বা কোলেস্টেরল বৃদ্ধির সাথে সরাসরি রেডিয়েশনের সংযোগ নিয়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রমাণ নেই।

তবে মাথার কাছে মোবাইল রাখার অন্যান্য বাস্তবসম্মত শারীরিক ঝুঁকি রয়েছে

১. ঘুমের ব্যাঘাত

নোটিফিকেশনের শব্দ, ভাইব্রেশন এবং ডিসপ্লের 'ব্লু লাইট' মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে গভীর ঘুম ব্যাহত হয় এবং মানসিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়ে মাইগ্রেন বা মাথাব্যথার লক্ষণ তীব্র হতে পারে।

২. অগ্নিঝুঁকি ও বিস্ফোরণ

বালিশ বা তোশকের নিচে ফোন রাখলে বাতাসের চলাচলা বন্ধ হয়ে যায়। ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে আগুন ধরা বা বিস্ফোরণের বাস্তব ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

নিরাপদ অভ্যাসের অংশ হিসেবে ঘুমানোর সময় ফোন বিছানা থেকে অন্তত কয়েক ফুট দূরে রাখা এবং রাত জেগে ব্যবহারের অভ্যাস এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

/আশিক


গ্যাস্ট্রিক বা দুর্বলতা ভেবে ভুল করছেন না তো? জেনে নিন হার্ট অ্যাটাকের সূক্ষ্ম ৪ লক্ষণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৯:৩৯:৫০
গ্যাস্ট্রিক বা দুর্বলতা ভেবে ভুল করছেন না তো? জেনে নিন হার্ট অ্যাটাকের সূক্ষ্ম ৪ লক্ষণ
ছবি : সংগৃহীত

সাধারণত বুকে তীব্র ব্যথা বা হঠাৎ লুটিয়ে পড়াকে হার্ট অ্যাটাকের প্রধান লক্ষণ মনে করা হলেও, অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসাগত উপসর্গ এতটা স্পষ্ট নাও হতে পারে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই নীরব ও সূক্ষ্ম লক্ষণগুলো বেশি দেখা যায়। হঠাৎ মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব কিংবা শরীর ঠান্ডা হয়ে ঘাম বের হওয়ার মতো শারীরিক অস্বস্তিকে অনেকেই গ্যাস্ট্রিক, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা সাধারণ দুর্বলতা ভেবে ভুল করেন। তবে এসব সাধারণ শারীরিক উপসর্গও ক্ষেত্রবিশেষে হৃদরোগের মারাত্মক পূর্বসংকেত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা।

চিকিৎসক ডা. কুনাল সুদ সম্প্রতি নারীদের হার্ট অ্যাটাকের চারটি তুলনামূলক কম পরিচিত ও বিভ্রান্তিকর লক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। প্রথমত, বুকের মাঝখানে অসচ্ছলতা বা অস্বস্তি হওয়া, যা সব সময় খুব তীব্র ব্যথা নাও হতে পারে; বরং বুক চেপে থাকা, ভারী লাগা বা চাপ বোধ হওয়ার মতো অনুভূতি হতে পারে। দ্বিতীয়ত, ব্যথা কেবল বুকের ভেতরেই সীমাবদ্ধ না থেকে চোয়াল, ঘাড়, পিঠ, এক বা দুই হাত এবং পেটের ওপরের অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে অনেকেই এটিকে সাধারণ পেশির টান বা হজমের সমস্যা মনে করে ভুল করেন।

তৃতীয় প্রধান সতর্কসংকেত হলো হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া। ভারী কোনো কাজ না করা সত্ত্বেও হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা হাঁসফাঁস লাগা হৃদযন্ত্রের জটিলতার অন্যতম লক্ষণ। চতুর্থত, হঠাৎ করেই শরীর ঠান্ডা হয়ে ঘেমে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বমি কিংবা মাথা ঝিমঝিম করার অনুভূতি হওয়া। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গগুলো ফ্লু, অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা অ্যাসিডিটির কারণে হচ্ছে বলে ভুল ধারণা তৈরি হয়।

ডা. কুনাল সুদের মতে, এসব লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, কারণ অন্য অনেক সাধারণ শারীরিক সমস্যার কারণেও একই লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে যদি এই ধরনের একাধিক উপসর্গ হঠাৎ করে শরীরে দেখা দেয় এবং তীব্র হতে থাকে, তবে সেটিকে অবহেলা না করে দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া বা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।

/আশিক


হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়ছে ডেঙ্গু রোগী, মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগের নতুন বার্তা

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১৭:৫৬:০৯
হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়ছে ডেঙ্গু রোগী, মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগের নতুন বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

দেশে বিগত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং একই সময়ে নতুন করে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৫৯৩ জন রোগী। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন এই প্রাণহানির ঘটনায় চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ১৬৪ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারী ছয়জনের মধ্যে খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে একজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন রোগীদের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, বিগত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি হওয়া এক হাজার ৫৯৩ জনের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৫ জন এবং খুলনা বিভাগে ২৯০ জন ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে ঢাকা বিভাগে সিটি করপোরেশনের বাইরে ৩৮৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় ১৭১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩২ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেছেন।

এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ৮২ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩৭ জন, রংপুর বিভাগে ৬৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নতুন রোগীদের নিয়ে চলতি বছর সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ১৬৩ জনে।

/আশিক


অল্প পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট ও ক্লান্তির পেছনে যেসব অজানা কারণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ২০:০৮:৫৩
অল্প পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট ও ক্লান্তির পেছনে যেসব অজানা কারণ

কম বয়সেও অনেকের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘদিনের কাশি কিংবা সামান্য কায়িক পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পড়ার মতো জটিলতা দেখা যায়। এসব সমস্যার পেছনে কেবল কোনো সুনির্দিষ্ট রোগ বা সংক্রমণই একমাত্র কারণ নয়, বরং প্রতিদিনের কিছু অসচেতন জীবনযাপনও দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসের কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে। বিশেষ করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপান, পরিবেশের দূষণ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং নিয়মবহির্ভূত অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার শ্বাসযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তামাকের ধোঁয়া এবং বায়ুদূষণ শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী রোগের অন্যতম প্রধান নিয়ামক।

ফুসফুস তার কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করলে স্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘমেয়াদি কাশি, শ্বাস নেওয়ার সময়ে সাঁই-সাঁই শব্দ হওয়া কিংবা অল্পতেই অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো স্পষ্ট উপসর্গ প্রকাশ পায়। শ্বাসযন্ত্রের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণে চিকিৎসকেরা স্পাইরোমেট্রি নামক একটি বিশেষ পরীক্ষা করিয়ে থাকেন। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ফুসফুস ঠিক কতটা বাতাস ধারণ করতে সক্ষম এবং কত দ্রুত তা নির্গমন করতে পারে, তা সুনির্দিষ্টভাবে পরিমাপ করা হয়। মূলত দৈনন্দিন জীবনের সাতটি বিশেষ অভ্যাসের কারণেই ফুসফুসের এই ক্ষতি তরান্বিত হয়।

শ্বাসনালির জন্য সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব ফেলে তামাক সেবনের অভ্যাস। সিগারেট ও তামাকজাত বিভিন্ন পণ্যের বিষাক্ত রাসায়নিক শ্বাসনালি ও ফুসফুসের ভেতরে গভীর প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসের সূক্ষ্ম টিস্যুগুলোকে নষ্ট করে দেয়। ফলে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডির মতো দুরারোগ্য ব্যাধির আশঙ্কা তীব্র আকার ধারণ করে। তাই শ্বাসযন্ত্র সুরক্ষিত রাখার মৌলিক শর্তই হলো ধূমপান সম্পূর্ণ বর্জন করা বা এটি থেকে দূরে থাকা।

একইভাবে অন্যের ছেড়ে দেওয়া সিগারেটের ধোঁয়া অনিচ্ছাকৃতভাবে শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলেও প্রায় সমপরিমাণ ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়। এই পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে নিয়মিত থাকলে শ্বাসনালির জটিল রোগ বাসা বাঁধতে পারে। ফলে পরিবার, কর্মস্থল কিংবা জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় ধূমপায়ীদের আশপাশ থেকে সতর্কতার সাথে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা জরুরি।

সড়কে বা কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা ছাড়া চলাচল করাও ফুসফুসের সুরক্ষায় বড় অন্তরায়। যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়া, ক্ষতিকর ভাসমান ধূলিকণা এবং কলকারখানার রাসায়নিক উপাদান শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসের গভীরে পৌঁছায়। দীর্ঘ সময় এমন দূষিত আবহে সুরক্ষা ছাড়া থাকলে বিদ্যমান শ্বাসকষ্ট আরও তীব্র হয় এবং নতুন রোগের পথ তৈরি হয়। তাই অপ্রয়োজনে দূষিত স্থানে না থাকা এবং ধোঁয়া ও রাসায়নিকের মধ্যে কাজ করার ক্ষেত্রে সঠিক সুরক্ষামূলক আবরণ ব্যবহার করা আবশ্যক।

বাইরের দূষণের পাশাপাশি আবদ্ধ পরিবেশের অপরিচ্ছন্ন বাতাসও শ্বাসযন্ত্রের মারাত্মক অবনতি ঘটাতে পারে। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ না করা ঘরে রান্নার ধোঁয়া, মশার কয়েল কিংবা জ্বালানি থেকে নির্গত গ্যাস আটকে থাকলে ফুসফুস ক্রমাগত বিষাক্ত উপাদানের সংস্পর্শে আসে। তাই ঘরের ভেতরে যাতে সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে এবং রান্নার ক্ষতিকর ধোঁয়া সহজেই বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে, সে ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত দরকারি।

দৈনন্দিন জীবনে দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকা এবং কায়িক শ্রম থেকে দূরে থাকাও ফুসফুসের সহনশীলতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়। শারীরিক সক্রিয়তা মানুষের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্বাসযন্ত্রের স্থিতিস্থাপকতা ও কার্যকারিতা অটুট রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এ কারণে একটানা দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস পরিহার করে কাজের ফাঁকে হাঁটাচলা এবং শারীরিক সক্ষমতা অনুসারে নিয়মিত শরীরচর্চা বজায় রাখা প্রয়োজন।

সাধারণ সর্দি-কাশি দেখা দিলেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া নিজের সিদ্ধান্তে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের প্রবণতা শরীরে নতুন বিপদের জন্ম দেয়। সাধারণ ফ্লু বা সব ধরনের সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজেই আসে না। বরং অপ্রয়োজনীয় ও যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে শরীরে থাকা ক্ষতিকর জীবাণুগুলো অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী হয়ে ওঠে, যার ফলে ভবিষ্যতে প্রাণঘাতী সংক্রমণের সময় কোনো ওষুধ আর কাজ নাও করতে পারে।

অন্যদিকে শরীরে পানির ঘাটতি হলে শ্বাসনালির স্বাভাবিক প্রতিরক্ষামূলক মিউকাস স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা ফুসফুসের আর্দ্রতার ভারসাম্য নষ্ট করে। তবে কেবল পর্যাপ্ত পানি পান করলেই ফুসফুসের যাবতীয় রোগ ঠেকানো সম্ভব—এমন ধারণা অবৈজ্ঞানিক। ফুসফুস সুস্থ রাখতে পানি পানের পাশাপাশি ধূমপান এড়ানো, দূষণমুক্ত থাকা এবং শারীরিক পরিশ্রম অব্যাহত রাখাই হলো কার্যকর সমাধান।

স্বাভাবিক বয়স বৃদ্ধির কারণে ফুসফুসের ক্ষমতায় কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। তবে দূষিত বায়ু, পরোক্ষ ধূমপান পরিহার, উন্মুক্ত বাতাসের নিশ্চয়তা এবং নিয়মিত চলাফেরার মাধ্যমেই ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব। দীর্ঘদিনের কাশি, তীব্র শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ ধরা ভাব কিংবা সামান্য নড়াচড়াতেও বুক ধড়ফড় করে ক্লান্ত হয়ে পড়ার মতো জটিলতা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

/আশিক


কারণ ছাড়া ওজন কমছে বা ক্লান্ত লাগছে? ক্যানসারের ৫ সংকেত জানাল জনস হপকিন্স

স্বাস্থ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৪ ১৯:৪২:৫০
কারণ ছাড়া ওজন কমছে বা ক্লান্ত লাগছে? ক্যানসারের ৫ সংকেত জানাল জনস হপকিন্স
ছবি : সংগৃহীত

মানবদেহে কোনো রোগ সাধারণত হঠাৎ করে বাসা বাঁধে না; বড় ধরনের অসুস্থতার আগে শরীর প্রায়ই বিভিন্ন নীরব সংকেত দিতে থাকে, যা অনেক সময় অবহেলার কারণে নজর এড়িয়ে যায়। জনস হপকিন্স মেডিসিনের বিশেষজ্ঞদের বরাতে জানা গেছে, মারণব্যাধি ক্যানসারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অবস্থায় শরীর এমন কিছু মৃদু লক্ষণ প্রকাশ করতে পারে, যা সময়মতো শনাক্ত হলে চিকিৎসার সাফল্য বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। তবে এ ধরনের লক্ষণ দেখা দেওয়া মানেই ক্যানসার নয়, বরং অন্য কোনো শারীরিক জটিলতার সংকেতও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা প্রধান যে পাঁচটি লক্ষণের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো কোনো ধরনের ডায়েট বা শরীরচর্চা ছাড়াই হঠাৎ দ্রুত ওজন কমে যাওয়া; বিশেষ করে কয়েক মাসে সাড়ে চার কেজি বা তার বেশি ওজন হ্রাস পেলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র ক্লান্তি ভাব থাকা, কোনো সংক্রমণ ছাড়াই বারবার জ্বর আসা (বিশেষ করে রাতে অতিরিক্ত ঘামসহ জ্বর), এবং কারণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে শরীরের কোনো অংশে ক্রমাগত ব্যথা বৃদ্ধি পাওয়া ক্যানসারের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। টিউমারের চাপ বা রোগ ছড়িয়ে পড়ার কারণে এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তৈরি হতে পারে।

পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণটি হলো ত্বক বা তিলের অস্বাভাবিক পরিবর্তন। ত্বক বা চোখ হঠাৎ হলুদ হয়ে যাওয়া ছাড়াও শরীরের কোনো তিলের আকার, রঙ ও কিনারায় পরিবর্তন এলে, কিংবা তিলটি দ্রুত বড় ও অসমান হতে থাকলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণের পেছনে রক্তস্বল্পতা, মানসিক চাপ বা সাধারণ সংক্রমণের মতো অন্যান্য কারণও থাকতে পারে; তবে লক্ষণগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে সঠিক পরীক্ষা করানোই সুরক্ষার সর্বোত্তম উপায়।

/আশিক

পাঠকের মতামত: