স্বাস্থ্য জিজ্ঞাসা
মোটা হলেই কি অসুস্থ? বাস্তবতা, বিজ্ঞান ও ভুল বোঝাবুঝির অনুসন্ধানে

তুমি অনেক মোটা হয়ে গেছো, শরীর খারাপ হচ্ছে না?” — এই প্রশ্নটা আমাদের সমাজে যেন একধরনের স্বাভাবিক বাক্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই কথাটার পেছনে যে কতটা ভুল ধারণা, কতটা কুসংস্কার এবং কতটা অপমান লুকিয়ে থাকে, সেটা কি আমরা ভাবি? মোটা মানুষদের অনেকেই সামাজিকভাবে হেয় হন, অনেকে নিজের শরীর নিয়ে সংকোচে ভোগেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—অতিরিক্ত মোটা হওয়া কি সবসময়ই অসুস্থতার লক্ষণ?
এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে চিকিৎসাবিজ্ঞান, স্বাস্থ্যসংস্থার বিশ্লেষণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং কিছু মানবিক দৃষ্টিকোণের দিকে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষ্য: মোটা হওয়া মানেই রোগ?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), Mayo Clinic এবং যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (CDC)—তিনটি প্রধান প্রতিষ্ঠানই একমত যে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন এক ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির অবস্থা। তাদের মতে, শরীরে চর্বির মাত্রাতিরিক্ত সঞ্চয় ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যান্সার, জয়েন্টের সমস্যা এবং নিদ্রাজনিত শ্বাসকষ্টসহ বহু জটিল রোগের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষ করে Mayo Clinic সতর্ক করে যে স্থূলতা শুধু শরীরের আকার বা সৌন্দর্যের প্রশ্ন নয়—এটি একটি জটিল বিপাকীয় সমস্যা যা পুরো শরীরকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতেই সব মোটা মানুষ একসঙ্গে সব রোগে আক্রান্ত হন না। অনেকে শরীরের ওজন বেশি হলেও, তাদের রক্তচাপ, ব্লাড সুগার এবং কোলেস্টেরল পুরোপুরি স্বাভাবিক থাকে। সুতরাং, মোটা হওয়া মানেই অসুস্থ—এই সরলীকরণ বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।
কেন বাড়ে শরীরের ওজন? কারণ খুঁজে দেখা যাক
১. অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ ও কম শারীরিক পরিশ্রম
খাবার যতটা খাই, শরীর যদি ততটা খরচ না করে, তাহলে বাড়তি ক্যালরি জমতে জমতে চর্বিতে রূপান্তরিত হয়। বিশেষ করে আধুনিক জীবনে ফাস্টফুড, সফট ড্রিংকস, অতিরিক্ত চিনি, তেল ও পরিমিতির বাইরে খাওয়ার অভ্যাস শরীরের ক্যালরি ভারসাম্য নষ্ট করে। আবার একটানা বসে থাকা, অফিসে দীর্ঘ সময় ডেস্কে কাজ করা, গাড়িতে যাতায়াত—এসব কারণে শরীর পর্যাপ্ত ক্যালরি খরচ করতে পারে না।
২. জেনেটিক বা বংশগত প্রভাব
অনেকে জন্ম থেকেই এমন শারীরবৃত্তীয় কাঠামো নিয়ে জন্মান, যেখানে তাদের মেটাবলিজম কম থাকে। শরীর খাবার ধীরে হজম করে এবং ক্যালরি সঞ্চয় করে বেশি। এমন পরিবারেও দেখা যায়, বাবা-মা মোটা হলে সন্তানরাও সাধারণত একই ধরনের প্রবণতা দেখায়। ফলে বলা যায়, স্থূলতার পেছনে জিনগত কারণও একটি বড় নিয়ামক।
৩. হরমোনগত সমস্যা ও ওষুধের প্রভাব
থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি (Hypothyroidism), কুশিং সিনড্রোম বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মতো সমস্যা শরীরের বিপাকগত গতি কমিয়ে দেয়। ফলে শরীর সহজেই ওজন বাড়িয়ে ফেলে। এছাড়া বিষণ্নতা, মানসিক রোগ বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার জন্য ব্যবহৃত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও ওজন বেড়ে যেতে পারে।
৪. মানসিক চাপ ও আবেগের প্রভাব
চাপ বা স্ট্রেস আমাদের হরমোনে প্রভাব ফেলে এবং ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয়। ফলে আমরা “স্ট্রেস ইটিং”-এর শিকার হই। ঘুমের অভাবও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনকে বিঘ্নিত করে। একইভাবে বিষণ্নতায় ভোগা মানুষরা অনিয়মিত খাওয়ার মাধ্যমে ওজন বাড়িয়ে ফেলতে পারেন।
কী কী রোগের ঝুঁকি বাড়ায় অতিরিক্ত ওজন?
টাইপ-২ ডায়াবেটিস: গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। স্থূল ব্যক্তিদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় ৮৫ শতাংশ বেশি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সামান্য ওজনাধিক্য থাকলেও ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা ৫ গুণ বেড়ে যায়।
হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ: শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমলে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ পড়ে। এতে করে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে।
জয়েন্টের ক্ষয় ও ব্যথা: ওজন বেশি হলে হাঁটু, কোমর ও মেরুদণ্ডে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে করে অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা জয়েন্টের ক্ষয়জনিত ব্যথা দেখা দিতে পারে।
স্লীপ অ্যাপনিয়া ও ঘুমের সমস্যা: গলার চারপাশে ও মুখমণ্ডলে চর্বি জমে গেলে ঘুমের মধ্যে শ্বাস আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যাকে বলা হয় স্লীপ অ্যাপনিয়া।
ক্যান্সার ও মানসিক স্বাস্থ্য: বিশেষ কিছু ধরনের ক্যান্সার—যেমন স্তন, কোলন, কিডনি—ওজনাধিক্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তাছাড়া ওজন নিয়ে হীনম্মন্যতা ও সামাজিক অবহেলা মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ব্যতিক্রম কি আছে? “মোটা কিন্তু সুস্থ” কি সম্ভব?
চিকিৎসা বিজ্ঞানে “Metabolically Healthy Obesity” নামে একটি অবস্থা আছে। এতে কেউ মোটা হলেও তার রক্তচাপ, ব্লাড সুগার, কোলেস্টেরল সবই থাকে স্বাভাবিক। এই ধরনের মানুষদের বলা হয় “সুস্থ মোটা”। তারা দৈনন্দিন কাজ স্বাভাবিকভাবে করতে পারেন, ব্যায়াম করেন এবং সচেতনভাবে খাওয়ার অভ্যাস মেনে চলেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, এই সুস্থ মোটা অবস্থাও চিরস্থায়ী নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, শারীরিক কার্যকলাপ কমে গেলে বা হরমোন পরিবর্তনের ফলে, এদের মধ্যেও জটিল রোগের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ সুস্থ মোটা থাকা সম্ভব হলেও তা একটি অস্থায়ী অবস্থা।
BMI কি সত্যি সব বলে?
শরীরের ওজন ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিরূপণের জন্য সবচেয়ে প্রচলিত সূচক হচ্ছে BMI বা বডি মাস ইনডেক্স। একজন ব্যক্তির ওজন ও উচ্চতার অনুপাতে নির্ধারিত এই সংখ্যা থেকে বোঝা যায় তিনি কোন ওজন শ্রেণিতে পড়েন। সাধারণত ১৮.৫ থেকে ২৪.৯ পর্যন্ত BMI স্বাভাবিক ধরা হয়, ২৫ থেকে ২৯.৯ হলে তাকে অতিরিক্ত ওজন এবং ৩০ বা তার উপরে হলে স্থূল বা মোটা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে BMI-এরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এটি শরীরে চর্বি আর পেশির অনুপাত আলাদা করে বোঝাতে পারে না। ফলে কোনো কোনো পেশীবহুল অ্যাথলেটের BMI হয়তো বেশি, কিন্তু শরীরে অতিরিক্ত চর্বি একেবারেই নেই। আবার কারো BMI স্বাভাবিক হলেও তার পেটে যদি অতিরিক্ত চর্বি জমে, তাহলে ঝুঁকি অনেক বেশি হতে পারে। তাই চিকিৎসকেরা এখন কোমরের মাপ, শরীরের চর্বির বণ্টন, ও অন্যান্য ক্লিনিক্যাল পরীক্ষাকে ওজন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দেন।
সমাজ কী ভাবে মোটা মানুষদের?
এটাই সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক। আমাদের সমাজে মোটা মানুষদের নিয়ে কটাক্ষ, অপমান এবং হাস্যরস তৈরি করা যেন একধরনের বিনোদন হয়ে দাঁড়িয়েছে। "মোটা", "হাতি", "ঢোল", "মামাবাড়ির ভূত"—এই সব ট্যাগ একটি শিশু থেকে শুরু করে পূর্ণবয়স্ক মানুষ পর্যন্ত বহন করতে বাধ্য হন।
বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে শরীরের আকারকে ঘিরে তৈরি হয় সামাজিক চাপ। বিয়ের ক্ষেত্রে, পেশাগত ক্ষেত্রে কিংবা বন্ধুবান্ধবদের মধ্যেও এই ‘শরীর নিয়ে তাচ্ছিল্য’ তাদের আত্মবিশ্বাসকে ভেঙে দেয়। অনেকেই বিষণ্নতায় ভোগেন, আত্মপ্রত্যয় হারিয়ে ফেলেন। এটি এক ধরনের মানসিক সহিংসতা।
তাহলে করণীয় কী?
প্রথমেই দরকার নিজের শরীর সম্পর্কে সঠিকভাবে জানার। শুধুমাত্র ওজন নয়, বরং রক্তচাপ, রক্তে চিনির মাত্রা, কোলেস্টেরল, কোমরের মাপ এবং পারিবারিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। বেশি চিনি, তেল, ফাস্টফুড না খেয়ে সুষম খাবার খেতে হবে, ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তৃতীয়ত, নিয়মিত হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করা উচিত, অন্তত দিনে ৩০ মিনিট। একটানা বসে না থেকে মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে হাঁটলে শরীর সক্রিয় থাকে। চতুর্থত, মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে। স্ট্রেস কমাতে হবে, ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে কাউন্সেলিংয়ের সাহায্য নেওয়া উচিত। এবং অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, বিশেষ করে যদি থাইরয়েড বা অন্য কোনো হরমোনগত সমস্যা থেকে থাকে।
সবশেষে বলা যায়, অতিরিক্ত মোটা হওয়া সবসময়ই অসুস্থতার লক্ষণ নয়। তবে এটি প্রায়শই শরীরের বিপাক ক্রিয়ার জটিলতা বা ভবিষ্যতের কোনো রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। তাই “মোটা হলেই অসুস্থ” কিংবা “মোটা মানেই অলস”—এই স্টেরিওটাইপ আমাদের ভাঙতে হবে। একইসঙ্গে বুঝে নিতে হবে, স্বাস্থ্যবান থাকতে হলে কেবল ওজন নয়, পুরো জীবনধারাই আমাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিত শরীর নয়, স্বাস্থ্যের দিকে। কারণ, "স্বাস্থ্য আগে, শরীর পরে।"
দেশে হামের মহামারি আতঙ্ক: আক্রান্ত ১১ হাজার ছাড়াল, বাড়ছে লাশের মিছিল
দেশে হামের প্রকোপ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে এবং আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৮ জনে। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা দেশজুড়ে অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ১৩৩ জনে। এর মধ্যে শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ২৪৮ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৫৭৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৯ জন। তবে আশার কথা হলো, আক্রান্তদের মধ্যে ৫ হাজার ২৪১ জন শিশু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠাৎ জ্বরের সাথে শরীরে লালচে র্যাশ বা দানা দেখা দিলে সেটিকে অবহেলা করা একদমই উচিত নয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চললেও পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত তরল নিশ্চিত করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরিকল্পনা করছে।
/আশিক
হাম নাকি সাধারণ র্যাশ? চেনার উপায় ও চিকিৎসকদের বিশেষ পরামর্শ
তীব্র গরমে শিশুদের মধ্যে জ্বর, ডায়রিয়া ও শরীরে র্যাশের মতো উপসর্গের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এই লক্ষণগুলোর অনেকটাই হামের মতো মনে হলেও সব ক্ষেত্রে পরীক্ষা করে হাম শনাক্ত হচ্ছে না। বিশেষ করে নবজাতক থেকে ৬ মাস বয়সি শিশুরা এই সময়ে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। রাজধানীর শিশু হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের আলাদা ওয়ার্ডে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে অনেক শিশু হাসপাতালে আসার পাশাপাশি কিছু মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যা অভিভাবকদের জন্য চরম সতর্কবার্তাস্বরূপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বরের সঙ্গে পাতলা পায়খানা বা শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে সেটিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করা প্রাণঘাতী হতে পারে।
শিশুর যেকোনো অস্বাভাবিক লক্ষণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি শিশুর অতিরিক্ত দুর্বলতা বা পাতলা পায়খানা শুরু হয়, তবে তাকে পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এছাড়া সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখা এবং ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। সরকারি টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে টিকা প্রদান এবং প্রাথমিক লক্ষণ দেখামাত্রই চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে শিশুদের বড় ধরনের বিপদ থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
/আশিক
সতর্ক হোন! ডায়াবেটিসের এই লক্ষণগুলো অবহেলা করলে বাড়ছে বড় ঝুঁকি
ডায়াবেটিস বর্তমানে অনেকের কাছেই এক সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তবে কেবল নিয়মিত ওষুধ সেবন বা খাবার নিয়ন্ত্রণ করলেই এই রোগ পুরোপুরি আয়ত্তে রাখা সম্ভব হয় না। অনেক সময় রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকলেও শরীরের অভ্যন্তরে এমন কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন ঘটতে থাকে, যা শুরুতে আমাদের নজরে আসে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল ল্যাবরেটরির রিপোর্টের ওপর নির্ভর না করে নিজের শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোর দিকে নিয়মিত নজর রাখা জরুরি। কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষণ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ডায়াবেটিসজনিত বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা আগেভাগেই শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে শরীর কিছু প্রাথমিক সংকেত দেয়, যার মধ্যে অন্যতম হলো ঘনঘন তৃষ্ণা পাওয়া এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি প্রস্রাব হওয়া। এছাড়া পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও যদি শরীর সারাদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগে, তবে বুঝতে হবে রক্তে শর্করার ওঠানামা আপনার জীবনীশক্তি কমিয়ে দিচ্ছে।
খাদ্যাভ্যাসে কোনো পরিবর্তন না আনা সত্ত্বেও যদি শরীরের ওজন হঠাৎ কমে যায় বা বেড়ে যায়, তবে সেটিকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসা ডায়াবেটিসের একটি গুরুতর লক্ষণ, কারণ উচ্চ শর্করা সরাসরি চোখের লেন্সের ওপর প্রভাব ফেলে।
শরীরের কোনো অংশে ছোটখাটো কাটা-ছেঁড়া বা ঘা যদি সহজে শুকাতে না চায়, তবে তা ডায়াবেটিসের জটিলতার স্পষ্ট ইঙ্গিত হতে পারে। অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ শর্করার ফলে স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে হাত-পা ঝিনঝিনি করা, জ্বালাপোড়া বা অবশ হওয়ার মতো অনুভূতি তৈরি হয়। এছাড়া ত্বকের অস্বাভাবিক শুষ্কতা, বারবার সংক্রমণ হওয়া বা চুলকানিও এই রোগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এমনকি হঠাৎ খুব বেশি ক্ষুধা পাওয়া কিংবা খাওয়ার রুচি একেবারে চলে যাওয়াও রক্তে শর্করার ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ হতে পারে।
ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ জীবনযাপন করতে হলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি শরীরের এই ভাষাহীন সংকেতগুলো বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উল্লিখিত লক্ষণগুলোর কোনোটি যদি দীর্ঘসময় ধরে স্থায়ী হয়, তবে কালক্ষেপণ না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, প্রাত্যহিক জীবনের ছোট ছোট শারীরিক পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকলেই ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে চলা সম্ভব।
সূত্র: আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, মায়ো ক্লিনিক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
যেসব শিশুকে দেওয়া যাবে না হামের টিকা! স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সতর্কতা
অসুস্থ বা জ্বর থাকা শিশুদের এই মুহূর্তে হাম-রুবেলার (এমআর) টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। আজ রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ৯টা থেকে জরুরি ভিত্তিতে এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় টিকা দেওয়া হবে। তবে যেসব শিশু বর্তমানে উচ্চ জ্বর, তীব্র সংক্রমণ বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছে, তাদের সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত টিকা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
এছাড়া আগে হামের টিকা নিয়ে যাদের মারাত্মক অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হয়েছিল বা যারা ক্যানসারের চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি স্টেরয়েড সেবনের কারণে দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতায় ভুগছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া টিকা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের জটিলতা কমাতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে। যারা সম্প্রতি রক্ত বা রক্তজাত পণ্য গ্রহণ করেছে, তাদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত টিকা স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে।
এই বিশেষ ক্যাম্পেইনে আগে হামের টিকা নেওয়া শিশুরাও অংশ নিতে পারবে। প্রথম ধাপে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী ২১ মে ২০২৬-এর মধ্যে, অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
/আশিক
ক্যানসার দমনে নিমের অবিশ্বাস্য শক্তি! গবেষণায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
নিমগাছের ভেষজ গুণাবলি এবার অগ্ন্যাশয়ের (প্যানক্রিয়াটিক) ক্যানসার মোকাবিলায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিমের মধ্যে থাকা 'গেডুনিন' এবং 'নিম্বোলাইড' নামক দুটি প্রাকৃতিক যৌগ ক্যানসার কোষ ধ্বংস করতে অত্যন্ত কার্যকর। টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটি হেলথ সায়েন্সেস সেন্টারের গবেষকদের মতে, গেডুনিন যৌগটি ক্যানসার কোষের বৃদ্ধির জন্য দায়ী 'সনিক হেজহগ' নামক সিগন্যালিং পাথওয়েকে বাধা দেয়, যা অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ কেমোথেরাপির তুলনায় বেশি কার্যকর এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও অনেক কম।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নিমের উপাদান ইঁদুর ও কোষের ওপর পরীক্ষায় ক্যানসার কোষের বিস্তার প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। এটি সুস্থ কোষের ক্ষতি না করেই টিউমার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং শরীরের এক অংশ থেকে অন্য অংশে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়া রোধ করে। তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই গবেষণাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই ক্যানসারের বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে শুধু নিমের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মূলধারার চিকিৎসা (সার্জারি বা কেমোথেরাপি) চালিয়ে যাওয়া অপরিহার্য। ভবিষ্যতে ক্যানসারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন নতুন ওষুধ তৈরিতে নিমের এই গুণাবলি বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ক্যানসার ছাড়াও নিমের আরও বহুবিধ স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে। এটি ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষা দেয়। এর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ ব্রণ ও এগজিমা সারাতে কার্যকর। এছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও নিমের জুড়ি মেলা ভার। তবে নিমের নির্যাস বা ক্যাপসুল ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
/আশিক
টিকা নেওয়ার আগেই হামে আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশু! কপালে চিন্তার ভাঁজ চিকিৎসকদের
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের প্রাদুর্ভাব এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৬৫ শতাংশেরই বয়স ৯ মাসের কম। বাংলাদেশের প্রচলিত স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী, শিশুদের হামের প্রথম টিকা দেওয়া হয় ৯ মাস বয়সে। অর্থাৎ, টিকার আওতায় আসার আগেই এই বিপুল সংখ্যক শিশু প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক অশনিসংকেত।
সোমবার পর্যন্ত নতুন করে আরও ১০ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যার ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০২ জনে। হাসপাতালের শিশু বিভাগের তথ্যমতে, গত তিন মাসে মোট ২৭০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মাধ্যমে পরীক্ষা করা ৬৩টি নমুনার মধ্যে ৩৪টিই পজিটিভ এসেছে, যার অর্থ আক্রান্তের হার প্রায় ৫৪ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিশু এসেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে, এছাড়া পাবনা, রাজশাহী ও নওগাঁর শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।
হাসপাতালের শিশু বিভাগীয় প্রধান ডা. সাহিদা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, বর্তমানে আইসিইউতে ১৬টি শিশু অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে, যার মধ্যে ১০ জনই ৯ মাসের কম বয়সী। শিশুদের মধ্যে সাধারণত তীব্র জ্বর কমার পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা হাম দেখা দিচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ শয্যার একটি বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড এবং ১০ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ‘হাম কর্নার’ চালু করা হয়েছে। বর্তমানে বারান্দাতেও রোগী রেখে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকার বয়সের আগেই শিশুদের আক্রান্ত হওয়া প্রমাণ করে যে ওই অঞ্চলে ভাইরাসের প্রকোপ অত্যন্ত বেশি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, যেহেতু ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরা এখনও টিকা পায়নি, তাই তাদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের বাড়তি সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে কোনো শিশুর মধ্যে জ্বর বা কাশির লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হামের লক্ষণ কীভাবে বুঝবেন, বাঁচতে কী করবেন
দেশে পুনরায় হাম রোগের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ভাইরাসজনিত এই অত্যন্ত সংক্রামক রোগটি বিশেষ করে শিশুদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া এই রোগ খুব দ্রুত একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে, ফলে পরিবার ও সমাজ পর্যায়ে দ্রুত বিস্তার লাভের আশঙ্কা থাকে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতো মনে হওয়ায় অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি জটিল ভাইরাস সংক্রমণ, যা সময়মতো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে মারাত্মক জটিলতায় রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে বা যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের জন্য এই রোগ আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
রোগের শুরুতে সাধারণত উচ্চমাত্রার জ্বর দেখা দেয়, যা অনেক ক্ষেত্রে ১০৩ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় সর্দি, নাক দিয়ে পানি পড়া, শুকনো কাশি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া। অনেক ক্ষেত্রে চোখে পানি পড়া এবং আলো সহ্য করতে না পারার সমস্যাও দেখা যায়, যা রোগের অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
পরবর্তী ধাপে, সাধারণত ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে মুখমণ্ডল থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে। এই ফুসকুড়িগুলো ধীরে ধীরে গাঢ় হয় এবং একত্রিত হয়ে বড় আকার ধারণ করতে পারে। একই সঙ্গে মুখের ভেতরে গালের অংশে ছোট ধূসর-সাদা দাগ দেখা যায়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে কপলিক স্পট বলা হয় এবং এটি হাম শনাক্তকরণের একটি নির্ভরযোগ্য লক্ষণ।
হাম রোগের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো এর জটিলতা। চিকিৎসকদের মতে, অবহেলা করলে নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ, এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে।
চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় রোগীকে দ্রুত আইসোলেশনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সহজেই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্তত ৪ থেকে ৭ দিন আলাদা রাখা হলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।
পাশাপাশি, রোগীর শরীরে পানিশূন্যতা যেন না হয়, সে জন্য পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার দেওয়া জরুরি। পুষ্টিকর খাবার যেমন ফল, শাকসবজি এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য রোগীর দ্রুত সুস্থতায় সহায়ক ভূমিকা রাখে। বিশ্রামও এই রোগ মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, ভিটামিন-এ সাপ্লিমেন্ট হাম রোগের জটিলতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এটি বিশেষ করে চোখের ক্ষতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ এবং শিশুদের ক্ষেত্রে এটি একটি অপরিহার্য সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে বিবেচিত।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও সংক্রমণ প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, বিছানা, তোয়ালে এবং অন্যান্য সামগ্রী আলাদা রাখা উচিত এবং নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে।
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। নির্ধারিত বয়সে শিশুদের এমএমআর টিকা প্রদান করলে এই রোগের সংক্রমণ প্রায় সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির আওতা বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।
এছাড়া, যদি রোগীর জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হয়, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় বা কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ প্রকাশ পায়, তাহলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণই এই রোগের জটিলতা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সার্বিকভাবে, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য কিন্তু অবহেলিত হলে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে এমন একটি সংক্রামক রোগ। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো চিকিৎসা এবং টিকাদানের মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের দাবি।
দেশে হামের ভয়াবহ প্রকোপ: টিকা ও পুষ্টির অভাবে সংকটে হাজারো শিশু
বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে হঠাৎ করেই উদ্বেগজনক হারে হামের প্রকোপ বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মতে, গত কয়েক বছরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, শিশুদের পুষ্টিহীনতা এবং ভাইরাসের ধরনে সম্ভাব্য পরিবর্তনের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মার্চ মাস জুড়েই সারাদেশে অন্তত ২০টি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে হামের দুটি টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৩৩ শতাংশের বয়সই ৯ মাসের কম। রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। ময়মনসিংহে সম্প্রতি আরও দুটি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ বিভিন্ন মেডিকেলে রোগীর ভিড় বাড়ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে জানিয়েছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে; একজন আক্রান্ত শিশু থেকে আরও ১৮ জন সংক্রমিত হতে পারে। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যার ফলে নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা তৈরি হয়ে শিশুর মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, গত আট বছর ধরে দেশে কোনো বিশেষ হাম নির্মূল ক্যাম্পেইন না হওয়ার কারণেই এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে। করোনা মহামারি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। এছাড়া শিশুদের মায়ের বুকের দুধ পর্যাপ্ত না খাওয়ানো, কৃমিনাশক ওষুধের অভাব এবং সার্বিক অপুষ্টি সংক্রমণকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। এমনকি বর্তমান টিকার মান বা ভাইরাসের নতুন কোনো রূপান্তর ঘটেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে ৬০০ কোটি টাকা টিকার জন্য বরাদ্দ দিয়েছে। রাজধানীসহ বড় দশটি মেডিকেল কলেজে হামের রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড এবং বিশেষ আইসিইউ-ভেন্টিলেটর সুবিধা চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানিয়েছেন, আগামী জুলাই-আগস্ট মাসে দেশজুড়ে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরুর প্রস্তুতি চলছে। গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গ্যাভি) মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ২ কোটি সিরিঞ্জ সরবরাহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তীব্র জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে র্যাশ দেখা দিলে শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যেহেতু ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ছে, তাই টিকার বয়সসীমা এগিয়ে আনা যায় কি না, সে বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। বর্তমানে আক্রান্তদের উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, সঠিক সময়ে টিকা প্রদান এবং পুষ্টির দিকে নজর দিলে এই রোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা
হেপাটাইটিস ‘ই’ চিকিৎসায় যুগান্তকারী আবিষ্কার: লাখো প্রাণ বাঁচাতে নতুন আশার আলো
প্রাণঘাতী হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাসের চিকিৎসায় এক অভাবনীয় সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন একদল আন্তর্জাতিক গবেষক। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে হেপাটাইটিস ‘সি’ রোগের জন্য পরীক্ষাধীন একটি বিশেষ ওষুধ হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাসের বিরুদ্ধেও অত্যন্ত শক্তিশালী ও কার্যকর। প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৭০ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া এই ভাইরাসের সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা বা অনুমোদিত ভ্যাকসিন এতদিন না থাকায়, এই আবিষ্কারকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল ‘গাট’-এ গত ৬ মার্চ ২০২৬ প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফল থেকে জানা যায়, জার্মানির বোচাম ও হাইডেলবার্গ এবং চীনের বেইজিংয়ের বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন। তারা ‘বিএমএন ফসবিউভির’ (BMN Phosbuvir) নামক একটি যৌগকে হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরিতে বাধা দিতে সক্ষম এক শক্তিশালী উপাদান হিসেবে শনাক্ত করেছেন। বিভিন্ন ওষুধের লাইব্রেরি থেকে নিখুঁত পরীক্ষার মাধ্যমে এই যৌগটি নির্বাচন করা হয়েছে। যেহেতু ওষুধটি ইতোমধ্যে হেপাটাইটিস ‘সি’-এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাই এটি খুব দ্রুতই সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
হেপাটাইটিস ‘ই’ মূলত লিভারের একটি গুরুতর সংক্রমণ, যা সঠিক চিকিৎসা ও প্রতিষেধকের অভাবে অনেক সময় প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ হওয়া এই ভাইরাসটির বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো কোনো অস্ত্র এতদিন বিজ্ঞানীদের হাতে ছিল না। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে। তবে মানুষের ওপর এর চূড়ান্ত কার্যকারিতা এবং দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে আরও কিছু ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলমান রয়েছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সময়সূচি ঘোষণা
- ওসমান হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিমের ১০ বছরের সাজা
- স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কমলো যত
- যুক্তরাষ্ট্রের চাপে যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতায় পাকিস্তান
- আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ডসহ ৩০ আসামির সাজা ঘোষণা
- চুক্তির শর্ত না মানলে ইরানে আরও শক্তিশালী হামলার সতর্কবার্তা ট্রাম্পের
- ৯ এপ্রিলের নামাজের সময় জানুন এক নজরে
- রাতে ইউরোপ মাতাবে হাইভোল্টেজ ফুটবল, জানুন আজকের খেলাধুলা সূচি
- বাজুসের নতুন ঘোষণা, স্বর্ণে রেকর্ড উত্থান
- ইরানকে অস্ত্র দিলে ৫০% শুল্ক, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
- ডলারে নয়, ইউয়ানে টোল! হরমুজ প্রণালিতে ইরান-চীনের বড় চাল
- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুরতা: হামলা, পাল্টা হুমকি ও আঞ্চলিক অস্থিরতা
- রাতভর ৮ বিভাগে কালবৈশাখীর তাণ্ডবের শঙ্কা: ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের সতর্কতা
- যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানি তেল শোধনাগারে হামলা: জ্বলছে লাভান দ্বীপ
- তারেক রহমান ও কোকোকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির দাবি: সংসদে আলোচনার ঝড়
- আগামীকাল ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- লেবাননজুড়ে ইতিহাসের বড় হামলা চালাল ইসরায়েল
- এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র নিয়ে ঢাকা বোর্ডের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি
- দেশে হামের মহামারি আতঙ্ক: আক্রান্ত ১১ হাজার ছাড়াল, বাড়ছে লাশের মিছিল
- যুদ্ধবিরতির মাঝেই কুয়েতে ইরানের ড্রোন বৃষ্টি
- হরমুজ প্রণালি মুক্ত হতেই বিশ্ব শেয়ারবাজারে উৎসব: সূচকের বিশাল উল্লম্ফন
- ১৮০ দিনে ১০ হাজার প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল ধামাকা
- ইরানকে রাজি করাল চীন? ট্রাম্পের ইঙ্গিতে বিশ্বজুড়ে নতুন তোলপাড়
- হাসনাত আবদুল্লাহর কটাক্ষের জবাব দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- বিসিবি এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহর তোপ
- সংসদে ঐতিহাসিক বিল পাস: আইনি সুরক্ষা ও পূর্ণ দায়মুক্তি পেলেন জুলাই যোদ্ধারা
- ৮ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ৮ এপ্রিল: দর পতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৮ এপ্রিল: দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার
- আনচেলত্তির আল্টিমেটাম ও সান্তোসের পরিকল্পনা: নেইমার কি ফিরবেন ব্রাজিলের জার্সিতে?
- হাম নাকি সাধারণ র্যাশ? চেনার উপায় ও চিকিৎসকদের বিশেষ পরামর্শ
- ইরান যুদ্ধে বিরতির জাদুকরী প্রভাব: শেয়ারবাজারে সূচকের বিশাল উল্লম্ফন
- ট্রাম্প ও খামেনি উভয়েরই ‘বিজয়’ দাবি: কার কৌশলে এল এই ঐতিহাসিক সমঝোতা?
- শিক্ষাই জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর মেগা পরিকল্পনার ঘোষণা
- হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা ইরানের
- মোজতবা খামেনির সবুজ সংকেত ও ট্রাম্পের শর্ত: ইরান-মার্কিন চুক্তির নেপথ্য কাহিনী
- হঠাৎ বদলে গেল আবহাওয়া: ৩ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝড়ের দাপট
- আজ ঢাকায় কোথায় কী কর্মসূচি, জানুন এক নজরে
- মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নাটকীয়তা: যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইরানে ইসরায়েলের হামলা
- ৫৩ বার দাম পরিবর্তন: স্বর্ণের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ল ২০২৬ সাল
- বুধবার ৮ এপ্রিল ২০২৬: জেনে নিন আপনার জেলার নামাজের সঠিক সময়
- প্রেসিডেন্ট অসুস্থ ও উন্মাদ,ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করতে নাগরিক অধিকার সংগঠনের ডাক
- ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান: স্থায়ী শান্তির ডাক শাহবাজের
- ৩৮ দিনের সংঘাত শেষে: মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথে ট্রাম্প
- ব্ল্যাক এপ্রিল: অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে ভয়াবহতম জ্বালানি সংকটে বিশ্ব
- যে কারণে বিসিবি সভাপতির চেয়ার হারালেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল
- হিজবুল্লাহ ও ইরানের যৌথ হামলায় কাঁপল ইসরায়েল: উত্তর থেকে দক্ষিণ জুড়ে সাইরেন
- চাঁদের ওপারে নতুন বিশ্ব রেকর্ড: ৪ লাখ কিলোমিটার ছাড়িয়ে ফিরছে আর্টেমিস-২
- সৌদি আরবের জুবাইল শিল্পনগরীতে ইরানের ভয়াবহ ড্রোন ও মিসাইল হামলা
- বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা! ইরানের ৯টি প্রদেশে যুদ্ধের ভয়াবহ রূপ
- সোনায় সোহাগা নয়, আগুনের ছোঁয়া! ভরিতে নতুন রেকর্ড উচ্চতা
- ভারতের বিপক্ষে মহাযুদ্ধ! কাল সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের মেগা ফাইনাল
- বাজুসের নতুন ঘোষণা, স্বর্ণে রেকর্ড উত্থান
- কালিগঞ্জে কাটুনিয়া রাজবাড়ী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহাব চূড়ান্ত বরখাস্ত
- আবারও স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরি ছাড়ালো যত
- আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- নতুন নিয়মে সন্ধ্যার পর যেসব বিপণিবিতান খোলা থাকবে
- আজকের খেলার সূচি, কোথায় কোন ম্যাচ
- ৮ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- আজকের বাজারে কারা এগিয়ে, দেখুন শীর্ষ তালিকা
- ৩ এপ্রিল: আজকের নামাজের সময়সূচি
- ০২ এপ্রিল ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি
- আল জাজিরার লাইভ: ইরান থেকে সফলভাবে ফিরেছেন মার্কিন পাইলট
- ০২ এপ্রিল ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ‘অননুমোদিত যুদ্ধ’ থামাতে চীনের কড়া বার্তা








