শেয়ার বাজার

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ক্যাশ ফ্লো বিশ্লেষণ:উত্থানে ১২ কোম্পানি, হঠাৎ ধসে ৯টি

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ২৮ ১৭:৩২:৩৮
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ক্যাশ ফ্লো বিশ্লেষণ:উত্থানে ১২ কোম্পানি, হঠাৎ ধসে ৯টি

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এ তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ২৩টি কোম্পানির মধ্যে ২১টি প্রতিষ্ঠান চলতি ২০২৫ অর্থবছরের মার্চ প্রান্তিক (জুলাই ২০২৪–মার্চ ২০২৫) পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ বা ক্যাশ ফ্লো সংক্রান্ত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ১২টি কোম্পানি ক্যাশ ফ্লোতে শক্তিশালী উত্থান দেখিয়েছে, অন্যদিকে ৯টি কোম্পানির নগদ প্রবাহে হঠাৎ পতন দেখা গেছে।

এই উভয়মুখী প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের জন্য একদিকে যেমন সতর্ক সংকেত, অন্যদিকে কিছু কোম্পানির প্রতি আস্থা বৃদ্ধিরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শক্তিশালী ফিরেছে ১২টি কোম্পানি

ডিএসই সূত্র অনুযায়ী, নিচের ১২টি কোম্পানি উল্লেখযোগ্য হারে তাদের ক্যাশ ফ্লো বাড়াতে সক্ষম হয়েছে:

কোম্পানিআগের বছরের ক্যাশ ফ্লো (Tk)চলতি বছরের ক্যাশ ফ্লো (Tk)পরিবর্তন (Tk)
মেঘনা পেট্রোলিয়াম -14.35 149.31 +163.66
ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস 0.71 57.68 +56.97
যমুনা অয়েল 16.66 88.26 +71.60
ইউনাইটেড পাওয়ার 7.65 15.17 +7.52
পাওয়ার গ্রিড 9.84 15.47 +5.63
তিতাস গ্যাস 3.31 14.02 +10.71
ডেসকো 1.99 8.98 +6.99
সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল 2.18 7.69 +5.51
সামিট পাওয়ার 7.05 7.23 +0.18
বারাকা পাওয়ার 0.67 4.37 +3.70
লুবরেফ বিডি 1.52 2.32 +0.80
লিন্ডে বিডি 3.22 3.80 +0.58

বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে মেঘনা পেট্রোলিয়াম, যার আগের বছর শেয়ারপ্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল নেতিবাচক ১৪.৩৫ টাকা, সেটি এ বছর দাঁড়িয়েছে ১৪৯.৩১ টাকায়। এটি খাতটির মধ্যে সর্বোচ্চ ও অন্যতম নজিরবিহীন ঘুরে দাঁড়ানোর দৃষ্টান্ত। ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস, যমুনা অয়েল ও ইউনাইটেড পাওয়ারের চমৎকার পারফরম্যান্সও বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

ধস নামল ৯টি কোম্পানিতেঅন্যদিকে, ৯টি কোম্পানি চলতি প্রান্তিকে আগের তুলনায় নগদ প্রবাহে লক্ষণীয় হারে হ্রাস দেখিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিপর্যস্ত অবস্থানে রয়েছে পদ্মা অয়েল, যার শেয়ারপ্রতি ক্যাশ ফ্লো এ বছর হয়েছে -২৭.২১ টাকা, যেখানে আগের বছর ছিল +৩.০৮ টাকা।

কোম্পানিআগের বছরের ক্যাশ ফ্লো (Tk)চলতি বছরের ক্যাশ ফ্লো (Tk)পরিবর্তন (Tk)
পদ্মা অয়েল 3.08 -27.21 -30.29
বারাকা পতেঙ্গা -1.78 -5.48 -3.70
ডরিন পাওয়ার 24.97 11.28 -13.69
শাহজীবাজার পাওয়ার 9.32 1.99 -7.33
এমজেএল বিডি 8.04 0.29 -7.75
খুলনা পাওয়ার 3.21 0.81 -2.40
এনার্জিপ্যাক 1.89 0.09 -1.80
ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং 1.44 0.51 -0.93
জিবিবি পাওয়ার 3.08 0.14 -2.94

ডরিন পাওয়ার ও শাহজীবাজার পাওয়ারের মতো শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির নগদ প্রবাহে এই ধরনের পতন বাজারকে অস্থির করে তুলতে পারে। বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের আগেও ক্যাশ ফ্লো নেতিবাচক ছিল, এবার তা আরও নিচে নেমেছে, যা কোম্পানিটির ঋণ পরিস্থিতি ও চলতি খরচের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

বিশ্লেষণ

সবচেয়ে আলোচিত ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ক্ষেত্রে। কোম্পানিটি যেখানে গত অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ক্যাশ ফ্লো দেখিয়েছিল নেতিবাচক ১৪.৩৫ টাকা, সেখানে এই বছর তা দাঁড়িয়েছে ১৪৯.৩১ টাকায়। এটি বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে ক্যাশ ফ্লোর ঘুরে দাঁড়ানোর এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একইভাবে, ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস, যমুনা অয়েল, ইউনাইটেড পাওয়ার, তিতাস গ্যাস, ডেসকো, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল ও সামিট পাওয়ার তাদের আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে নগদ প্রবাহ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এই বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে চাহিদা বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন এবং রাজস্ব সংগ্রহে গতিশীলতা।

অপরদিকে, ডরিন পাওয়ার, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার, শাহজীবাজার পাওয়ার, এমজেএল বিডি, পদ্মা অয়েল, এনার্জিপ্যাক এবং খুলনা পাওয়ারের মতো খ্যাতিমান কোম্পানিগুলো এই প্রান্তিকে ক্যাশ ফ্লোতে হঠাৎ ধসের মুখে পড়েছে। সবচেয়ে হতাশাজনক তথ্য উঠে এসেছে পদ্মা অয়েলের ক্ষেত্রে, যেখানে আগের বছর শেয়ারপ্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ৩.০৮ টাকা, এবার তা নেমে এসেছে মাইনাস ২৭.২১ টাকায়। বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের নগদ প্রবাহ আগেও নেতিবাচক ছিল, এবার তা আরও খারাপ হয়েছে। এই পতনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা দেখছেন উচ্চ সুদে নেওয়া ঋণের চাপ, অপারেশনাল ব্যয়ের বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আদায়ে ধীরগতি।

এই বিপরীতমুখী চিত্র আমাদের মনে করিয়ে দেয়, খাতভিত্তিক ধারণার চেয়ে কোম্পানিভিত্তিক বিশ্লেষণ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদিও সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তথাপি প্রতিটি কোম্পানির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা, আর্থিক পরিকল্পনা এবং ব্যবসার কাঠামো ক্যাশ ফ্লোর ধারাবাহিকতা নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রাখে।

এই প্রান্তিক চিত্রে একটি দিক স্পষ্ট—বাংলাদেশের শক্তি খাতে পুনঃসংগঠনের সময় এসেছে। দক্ষ পরিচালনা ও টেকসই আর্থিক কৌশলের মাধ্যমে যেসব কোম্পানি নিজেদের পুনর্গঠন করতে পারবে, তারাই ভবিষ্যতের বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করবে। অন্যদিকে, যারা পুরনো ধারায় ব্যবস্থাপনা চালিয়ে যাবে, তাদের জন্য সামনে অস্থিরতা ও আর্থিক সংকট অনিবার্য।

সার্বিকভাবে, মার্চ ২০২৫ প্রান্তিকের এই ক্যাশ ফ্লো চিত্র বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্তই এখন সবচেয়ে জরুরি। সময় এসেছে মৌলিক বিশ্লেষণের, এবং এমন কোম্পানিতে বিনিয়োগের, যারা নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পেরেছে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর ওপর আরও নিবিড় নজর দেওয়া এবং কার্যকর নীতিমালা গ্রহণও জরুরি হয়ে উঠেছে, যাতে সামগ্রিকভাবে এই খাতটি অর্থনীতির ভিত মজবুত করতে পারে।


২৩ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৫:২০:৪৪
২৩ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি-তে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। দিনশেষে মোট ৩৯০টি ইস্যুতে লেনদেন হয়, যার মধ্যে ৩৪৭টির দর বেড়েছে, মাত্র ২১টির দর কমেছে এবং ২২টি অপরিবর্তিত ছিল। বাজারে স্পষ্টভাবে ক্রেতা প্রাধান্য লক্ষ্য করা গেছে।

এ ক্যাটাগরিতে ২০৩টি শেয়ারের মধ্যে ১৮০টি বেড়েছে, ১৫টি কমেছে এবং ৮টি অপরিবর্তিত ছিল। বি ক্যাটাগরিতে ৮০টির মধ্যে ৭৪টি ঊর্ধ্বমুখী এবং মাত্র ৩টি পতন হয়েছে। জেড ক্যাটাগরিতেও ১০৭টি লেনদেনযোগ্য শেয়ারের মধ্যে ৯৩টি বৃদ্ধি পেয়েছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩৪টি ইস্যুর মধ্যে ২৫টির দর বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। করপোরেট বন্ডে একটি ইস্যু লেনদেন হয়েছে এবং সেখানে দরপতন হয়েছে। সরকারি সিকিউরিটিজে তিনটি লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে একটি বৃদ্ধি এবং দুটি পতন হয়েছে।

দিনভর মোট ১ লাখ ৫৭ হাজার ২০৫টি ট্রেড সম্পন্ন হয়। প্রায় ২৪ কোটি ২০ লাখ শেয়ার হাতবদলের মাধ্যমে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭১৮ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫০ টাকার বেশি। বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ লাখ ১৫ হাজার ৯৫০ কোটি টাকায়, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

ব্লক মার্কেটে এদিন ৩৪টি কোম্পানির ৫৭টি লেনদেন সম্পন্ন হয়। মোট প্রায় ৯৭ লাখ ৭৩ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়ে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮৮২ কোটি ৮৭ লাখ টাকায়।

সবচেয়ে বড় ব্লক ট্রেড হয়েছে অলিম্পিক শেয়ারে, যেখানে এককভাবে ৭২০ কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ফাইন ফুডস, বিডি থাই ফুড, এমএল ডাইং, সাপোর্টল, সোনারগাঁও, ইউপিজিডিসিএলসহ একাধিক শেয়ারে উল্লেখযোগ্য ব্লক লেনদেন হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগের দিনের সীমিত সংশোধনের পর প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বাজারে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। ব্যাংক, বীমা, উৎপাদন ও খাদ্য খাতে ক্রেতা আগ্রহ বৃদ্ধি সামগ্রিক সূচকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাপক অগ্রসর শেয়ারের সংখ্যা বাজারে আস্থার প্রতিফলন। তবে বড় ব্লক লেনদেনের প্রভাব এবং স্বল্পমেয়াদি ওঠানামা বিবেচনায় বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানির মৌলভিত্তি, আয়-লাভের প্রবণতা ও খাতভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা জরুরি।

-রাফসান


২৩ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৫:১০:২৩
২৩ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শেষভাগে কিছু নির্বাচিত শেয়ারে দরপতন দেখা গেছে। ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের সমাপনী দর (YCP) তুলনায় শীর্ষ ১০ লুজারের তালিকায় শিল্প, ব্যাংক, বিদ্যুৎ, মিউচুয়াল ফান্ড ও বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার স্থান পেয়েছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে মেঘনা সিমেন্ট, যার শেয়ারদর ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ৩৩ টাকায় নেমে এসেছে। আগের দিন শেয়ারটির সমাপনী দর ছিল ৩৪ টাকা ৯০ পয়সা। দিনভর শেয়ারটি ৩২ টাকা থেকে ৩৫ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে লেনদেন হয়েছে, যা তুলনামূলক উচ্চ অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা আইসিবি ইপিএমএফ১এস১ ২ শতাংশ কমে ৪ টাকা ৯০ পয়সায় বন্ধ হয়। তৃতীয় অবস্থানে জিয়াল বাংলা সুগার প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ পতন নিয়ে ১৩৫ টাকা ৭০ পয়সায় অবস্থান করে।

ব্যাংক খাতেও চাপ লক্ষ্য করা গেছে। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমেছে। একইভাবে আইসিবি আগ্রাণী ওয়ান ফান্ড ১ দশমিক ৫১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

সাপোর্টল-এও সামান্য মূল্যসংশোধন হয়েছে, দর কমেছে ১ শতাংশের কিছু বেশি। এছাড়া ফার্স্ট প্রাইম ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড, ক্যাপএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, কেপিসিএল এবং বাটা শু কোম্পানি সীমিত পরিসরে দর হারিয়েছে।

বিশেষ করে বাটা শু-এর মতো উচ্চমূল্যের শেয়ারে ০ দশমিক ৮৯ শতাংশ পতন বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগের কয়েক দিনের আংশিক দরবৃদ্ধির পর কিছু শেয়ারে স্বাভাবিক মূল্যসংশোধন হয়েছে। সিমেন্ট ও বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ-চাহিদা পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক বাজারের মিশ্র মনোভাবের প্রভাব এদিনের লেনদেনে প্রতিফলিত হয়েছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও হালকা বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা গেছে, যা স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের পুনর্বিন্যাস কৌশলের অংশ হতে পারে।

তবে সামগ্রিকভাবে অধিকাংশ লুজার শেয়ারের পতনের হার সীমিত থাকায় বাজারে বড় ধরনের আতঙ্ক নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত সংশোধনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

-রাফসান


২৩ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৫:০৫:৫৪
২৩ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শেষভাগে নির্বাচিত কয়েকটি শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি দেখা গেছে। ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের সমাপনী দরের (YCP) তুলনায় শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকায় শিল্প, খাদ্য, বীমা এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাতের শেয়ার স্থান পেয়েছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে ইপিজিএল, যার শেয়ারদর ৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে ১৭ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন শেষ হয়েছে। আগের দিনের সমাপনী দর ছিল ১৫ টাকা ৮০ পয়সা। দিনভর শেয়ারটি ১৫ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১৭ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা পিএইচপি এমএফ১ ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়ে ২ টাকা ৮০ পয়সায় বন্ধ হয়। তৃতীয় অবস্থানে বিডি থাই ফুড ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৭ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ওয়ান জানাতা এমএফ, এবিবি ফার্স্ট এমএফ এবং ইফিক ফার্স্ট এমএফ যথাক্রমে ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ, ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ দরবৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে আগের দিনের বড় পতনের পর এশিয়াটিক ল্যাব ৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ৬১ টাকায় উঠে আসে, যা বিনিয়োগকারীদের নতুন আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।

অন্যান্য গেইনারের মধ্যে রয়েছে লার্গো গ্লোবাল এমএফ১, এমএল ডাইং এবং ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, যারা যথাক্রমে ৬ থেকে প্রায় ৫.৭ শতাংশ পর্যন্ত দরবৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমূল্যের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে এদিনের দরবৃদ্ধি হয়েছে। পাশাপাশি আগের দিনের মূল্যসংশোধনের পর কিছু শেয়ারে পুনরুদ্ধার প্রবণতাও দেখা গেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, স্বল্পমেয়াদি উল্লম্ফন দেখে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, আয়-লাভের প্রবণতা এবং খাতভিত্তিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

-রাফসান


২২ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১৫:১৬:০৪
২২ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি-তে (ডিএসই) লেনদেনে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দিনশেষে মোট ৩৮৮টি ইস্যুতে লেনদেন সম্পন্ন হয়, যার মধ্যে দর বেড়েছে ১২৩টির, কমেছে ১৯৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৭১টি। পতনশীল শেয়ারের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সামগ্রিক বাজারে চাপের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

এ ক্যাটাগরিতে ২০০টি শেয়ার লেনদেনের মধ্যে ৯৯টি কমেছে, ৬১টি বেড়েছে এবং ৪০টি অপরিবর্তিত ছিল। বি ক্যাটাগরিতে ৮০টি শেয়ারের মধ্যে ৪৩টি কমেছে, ২৬টি বেড়েছে এবং ১১টি অপরিবর্তিত রয়েছে। জেড ক্যাটাগরিতে ১০৮টি লেনদেনযোগ্য শেয়ারের মধ্যে ৫২টি পতন হয়েছে এবং ৩৬টি বেড়েছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩৪টি ইস্যুর মধ্যে ৭টি বেড়েছে, ৭টি কমেছে এবং ২০টি অপরিবর্তিত ছিল। করপোরেট বন্ডে একটি ইস্যু লেনদেন হয়েছে, যেখানে দরপতন হয়েছে। সরকারি সিকিউরিটিজে এদিন কোনো লেনদেন হয়নি।

দিনভর মোট ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৭২টি ট্রেডের মাধ্যমে প্রায় ২১ কোটি ৯৫ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়। লেনদেনের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৫৬৮ কোটি ৮ লাখ ৩৩ হাজার ৫২৫ টাকা। বাজার মূলধন (মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন) দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ লাখ ১০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকায়, যার মধ্যে ইকুইটি খাতের অংশ ৩ লাখ ৫৪ হাজার ১৩০ কোটি টাকার বেশি।

ব্লক মার্কেটে এদিন ২৫টি কোম্পানির মোট ৫৪টি লেনদেন সম্পন্ন হয়। মোট ৪১ লাখের বেশি শেয়ার হাতবদলের মাধ্যমে প্রায় ১৬৫ কোটি ৪১ লাখ টাকার লেনদেন হয়। উল্লেখযোগ্য ব্লক ট্রেড হয়েছে সাপোর্টল, ফাইন ফুডস, এমএল ডাইং, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স এবং জিপি শেয়ারে।

এর মধ্যে সাপোর্টলে এককভাবে প্রায় ৯০ কোটি টাকার বেশি ব্লক লেনদেন হয়েছে, যা দিনের মোট ব্লক ট্রেডের বড় অংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির পর কিছু শেয়ারে স্বাভাবিক মূল্যসংশোধন হয়েছে। ব্যাংক ও ইন্স্যুরেন্স খাতে বিক্রির চাপ এবং নির্বাচিত শেয়ারে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাজারে নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে।

তবে ব্লক মার্কেটে বড় লেনদেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে ওঠানামা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে মৌলভিত্তি শক্তিশালী কোম্পানিতে বিনিয়োগই ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

-রাফসান


২২ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১৫:১১:০৭
২২ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শেষ পর্যায়ে বেশ কয়েকটি শেয়ারে উল্লেখযোগ্য মূল্যহ্রাস লক্ষ্য করা গেছে। ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের সমাপনী দর (YCP) বিবেচনায় শীর্ষ ১০ লুজারের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে এশিয়াটিক ল্যাব, যার শেয়ারদর ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ কমে ৫৭ টাকায় নেমে আসে। আগের দিনের সমাপনী দর ছিল ৬৩ টাকা। দিনভর শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর ছিল ৬৩ টাকা ৪০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ৫৬ টাকা ৭০ পয়সা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এক্সিম ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ কমে ৩ টাকায় লেনদেন শেষ করে। তৃতীয় স্থানে থাকা ফারকেম ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১৩ টাকা ৭০ পয়সায় নেমে আসে।

এ ছাড়া এনবিএল ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ কমে ৫ টাকায়, ফ্যামিলি টেক্স ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১ টাকা ৭০ পয়সায় এবং ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ কমে ৩ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে।

টেক্সটাইল ও শিল্প খাতেও চাপ লক্ষ্য করা গেছে। আল-হাজ টেক্সটাইল ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমে ১৩০ টাকা ২০ পয়সায় এবং শ্যামপুর সুগার মিলস ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে ১৫৭ টাকা ৩০ পয়সায় অবস্থান নেয়।

এছাড়া আইসিবি থার্ড এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ৪ টাকা ৩০ পয়সায় এবং তুংহাই ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়া, মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বিক্রির চাপ এবং নির্বাচিত কোম্পানির শেয়ারে মূল্যসংশোধনের কারণে এই দরপতন হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের উত্থানের পর কিছু শেয়ারে স্বাভাবিক মূল্যসমন্বয় ঘটেছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বাজার পর্যবেক্ষকরা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। মৌলভিত্তি, আর্থিক প্রতিবেদন এবং খাতভিত্তিক প্রবণতা বিশ্লেষণ ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

-রাফসান


২২ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১৫:০১:৫৭
২২ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শেষ পর্যায়ে নির্বাচিত কয়েকটি শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি দেখা গেছে। ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের সমাপনী দরের তুলনায় শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকায় বেশ কয়েকটি ব্যাংক ও মিউচুয়াল ফান্ড স্থান পেয়েছে।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে সোনারগাঁও, যার শেয়ারদর ৯ দশমিক ০১ শতাংশ বেড়ে ৩৭ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন শেষ হয়েছে। আগের দিনের সমাপনী দর ছিল ৩৪ টাকা ৪০ পয়সা। দিনের সর্বোচ্চ দর ছিল ৩৭ টাকা ৭০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ৩৪ টাকা ৪০ পয়সা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে ৫ টাকা ৭০ পয়সায় বন্ধ হয়। তৃতীয় স্থানে থাকা কেবিপিপিডব্লিউবিআইএল ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫২ টাকা ১০ পয়সায় অবস্থান নেয়।

এ ছাড়া আইবিপি ৫ দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে ১৪ টাকা ১০ পয়সায় এবং এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে।

ব্যাংক খাতেও ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। এবি ব্যাংক ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে ৬ টাকা ৬০ পয়সায় এবং ব্র্যাক ব্যাংক ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৬ টাকা ৬০ পয়সায় দিন শেষ করে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড ৪ শতাংশ, পপুলার ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং সাপোর্টল ৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ দরবৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ২ টাকা ৬০ পয়সা, ২ টাকা ৭০ পয়সা ও ৪৬ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে।

বিশ্লেষণ

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমূল্যের শেয়ার ও ব্যাংক খাতে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে এই দরবৃদ্ধি হয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বাজার স্থিতিশীলতার ফলে আস্থা কিছুটা ফিরে এসেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সাময়িক উল্লম্ফন দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত না নিয়ে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, মৌলভিত্তি ও সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা জরুরি।

-রাফসান


শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২০ ১৬:১৫:২৮
শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এর ১৯ ফেব্রুয়ারি সমাপ্ত সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৫.৯৯ পয়েন্ট বা ১.২২ শতাংশ বেড়ে ৫,৪৬৫.৯৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। একই সময়ে ডিএস৩০ সূচক ১.৮৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২,০৯৭.৮৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক সামান্য ০.১৭ শতাংশ কমেছে এবং এসএমই সূচক ২.০৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা খাতভিত্তিক মিশ্র প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

এই সপ্তাহে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫২,৫০২ কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। গড় দৈনিক লেনদেন বেড়ে হয়েছে প্রায় ১০,৫০০ কোটি টাকা, যা ৬৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। ডলারে হিসাবে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৪২৯ মিলিয়ন ডলার। লেনদেনের পরিমাণ ও হাউলা সংখ্যাও দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রতিফলন।

বাজার মূলধন সামান্য ০.১৫ শতাংশ বেড়ে ৭১ লাখ কোটি টাকার উপরে অবস্থান করছে। সপ্তাহজুড়ে ২০৩টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ১৫৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৩টি। বাজারের অ্যাডভান্স-ডিক্লাইন অনুপাত ১.৩৩ হওয়ায় সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

খাতভিত্তিক লেনদেনে ব্যাংক খাত শীর্ষে রয়েছে, যা মোট লেনদেনের ২০ শতাংশের বেশি অংশীদারিত্ব নিয়েছে। ফার্মা ও কেমিক্যাল খাত দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে প্রায় ১৬ শতাংশ লেনদেন করেছে। এছাড়া টেক্সটাইল, জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফুয়েল অ্যান্ড পাওয়ার খাতেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে। বিশেষ করে ফুয়েল অ্যান্ড পাওয়ার এবং আইটি খাতে লেনদেনের প্রবৃদ্ধি চোখে পড়ার মতো।

সাপ্তাহিক টার্নওভারে শীর্ষে রয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, যার লেনদেন মূল্য ৪১৬ কোটি টাকার বেশি। এরপর রয়েছে সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক। ব্লক মার্কেটে গ্রামীণফোন ও অন্যান্য বড় কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে।

সাপ্তাহিক টপ গেইনার তালিকায় বেশ কয়েকটি জেড ক্যাটাগরির কোম্পানি স্থান পেয়েছে, যেখানে এনবিএল ও বিআইএফসি উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখিয়েছে। বিপরীতে, বন্ড ও কিছু ব্যাংকিং শেয়ারে দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। বাজারের সামগ্রিক পিই রেশিও ৯.৯৪, যা তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় মূল্যায়ন নির্দেশ করে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, লেনদেনের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এবং সূচকের ধারাবাহিক উত্থান বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত বহন করছে। তবে এসএমই ও শরিয়াহ সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা বাজারে খাতভিত্তিক ভারসাম্যহীনতার বিষয়টি সামনে এনেছে। সামনের সপ্তাহগুলোতে নীতিগত স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ প্রবাহ বজায় থাকলে বাজারে এই ইতিবাচক ধারা আরও শক্তিশালী হতে পারে।

-রাফসান


১৯ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১৭:১৯:৫৯
১৯ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ১৯ ফেব্রুয়ারি লেনদেনের দিনটি ছিল ব্যাপক বিক্রির চাপে নিমজ্জিত। সমাপনী মূল্যভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী মোট ৩৯২টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে মাত্র ৪৬টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে ৩১৩টির দর কমেছে এবং ৩৩টি অপরিবর্তিত ছিল। সংখ্যাগত বিচারে বাজারে নেতিবাচক প্রবণতাই প্রাধান্য পেয়েছে।

এ ক্যাটাগরিতে ২০৬টি কোম্পানির মধ্যে ১৬৩টির শেয়ারদর কমেছে, যা প্রধান বাজার সূচকের ওপর চাপ তৈরি করেছে। বি ক্যাটাগরিতেও ৭৯টির মধ্যে ৬৩টির দরপতন হয়েছে। জেড ক্যাটাগরিতে ১০৭টি কোম্পানির মধ্যে ৮৭টির দর হ্রাস বাজারের দুর্বল মনোভাবকে আরও স্পষ্ট করেছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩৪টির মধ্যে ২২টির দর কমেছে। করপোরেট বন্ডে সীমিত লেনদেন হলেও সরকারি সিকিউরিটিজেও পতনের চিত্র দেখা গেছে।

লেনদেন ও বাজার মূলধন

দিনশেষে মোট ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৫০টি ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে। মোট শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ৪৫ লাখ ৯০ হাজার ৪১২টি। টাকার অঙ্কে লেনদেন হয়েছে ৫৫৯৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার বেশি, যা আগের দিনের তুলনায় নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

বাজার মূলধনও কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭১ লাখ কোটি টাকায়। এর মধ্যে ইকুইটি খাতের বাজার মূলধন প্রায় ৩৫ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা।

ব্লক মার্কেটে বড় লেনদেন

ব্লক মার্কেটে ২৪টি সিকিউরিটিজে ৫৮টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মূল্যমানের লেনদেন হয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ারে, প্রায় ৬৩ কোটি টাকার সমপরিমাণ। এছাড়া সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ফাইন ফুডস ও জিকিউ বলপেন উল্লেখযোগ্য অঙ্কে লেনদেন হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক দরপতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতার প্রতিফলন হতে পারে। তারা বলছেন, বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে নীতিগত সমন্বয় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে।

-রাফসান


১৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১৬:৩৪:৪২
১৯ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি লেনদেন চলাকালে ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের সমাপনী মূল্যের তুলনায় বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরে উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গেছে। শীর্ষ ১০ দরপতনকারী তালিকায় প্রধানত ফাইন্যান্স ও ব্যাংক খাতের কোম্পানিগুলো স্থান পেয়েছে।

সবচেয়ে বেশি দর কমেছে ফার্স্ট ফাইন্যান্সের। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪ টাকা ৫০ পয়সায় নেমে এসেছে। একইভাবে জিএসপি ফাইন্যান্স এবং প্রাইম ফাইন্যান্সের শেয়ারদরও ১০ শতাংশ করে কমেছে, যা বাজারে বিক্রির চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শুরভিড ইন্ডাস্ট্রিজ প্রায় ৮.৯৫ শতাংশ কমে ৬ টাকা ১০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড ৮.৬২ শতাংশ দরপতনের মাধ্যমে ৫ টাকা ৩০ পয়সায় নেমে এসেছে।

অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স ও এক্সিম ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড উভয়েই ৮.৩৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিআইএফসি ও তুংহাই নিটিং অ্যান্ড ডাইং ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর ৭.৬৯ শতাংশ কমেছে।

ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস ৭.৫০ শতাংশ কমে ৩ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন শেষ করেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আর্থিক খাতে তারল্য সংকট, বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা এবং স্বল্পমূলধনী শেয়ারে অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেনের কারণে এই দরপতন দেখা যেতে পারে। তারা বিনিয়োগের আগে মৌলভিত্তি ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: