স্বপ্নের ব্যানারে ‘মোনাফেকদের দখল’: উমামা ফাতেমার বিদায়ের নেপথ্য কাহিনি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ২৮ ১৭:০৪:৫৬
স্বপ্নের ব্যানারে ‘মোনাফেকদের দখল’: উমামা ফাতেমার বিদায়ের নেপথ্য কাহিনি

জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী অন্যতম জনচিত মুখ, উমামা ফাতেমা, আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতে নিজের ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি যে দীর্ঘ স্ট্যাটাস প্রকাশ করেছেন, তাতে যেমন রয়েছে রাজনৈতিকভাবে গঠিত একটি ছাত্র প্ল্যাটফর্মের অন্দরমহলের কালো চিত্র, তেমনই রয়েছে একজন তরুণ নারীনেত্রীর হৃদয়বিদারক আত্মকথন।

এটি কেবল কোনো ব্যক্তিগত পদত্যাগপত্র নয়, বরং একটি প্রজন্মের আন্দোলনের ভেঙে পড়া স্বপ্ন, আস্থার সংকট ও বিপন্ন ভবিষ্যতের প্রকাশ্য জবানবন্দি।

‘জুলাই-আন্দোলনের অসমাপ্ত দায়িত্ব থেকেই যাত্রা, কিন্তু স্বাধীনতা ছিল না’

উমামা ফাতেমা স্পষ্টভাবে জানান, তিনি এনসিপি গঠনের পর ‘জুলাই অভ্যুত্থানের অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে যুক্ত হন। কিন্তু প্ল্যাটফর্মটিকে স্বাধীনভাবে সক্রিয় রাখার চেষ্টা করতেই শুরু হয় চাপ, ষড়যন্ত্র ও হেনস্তা।

তার ভাষায়:“দলীয় লেজুড় ও প্রেসক্রিপশনের বাইরে এই ব্যানারটি স্বাধীনভাবে কাজ করলে অনেকের রাজনৈতিক ভবিষ্যত হুমকির মুখে পড়ত। তাই আমার উপর অনলাইন, অফলাইনে ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি করা হয় যাতে আমি কাজ না করি।”

‘সহযোদ্ধা’দের মুখোশ খুলে গেল: ভেতরে ছিল দম্ভ, বাইরে কৃত্রিম সৌজন্য

স্ট্যাটাসে উমামা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে লেখেন, “মানুষ বাইরে যত ভালো সাজার চেষ্টা করুক, ভিতর থেকে কতটা ছোটলোক হতে পারে আমি হাড়ে হাড়ে টের পাই ঐ সময়গুলোতে।”

তিনি জানান, যাদের সঙ্গে মিটিং-মিছিল করেছেন, তারাই পরিকল্পিতভাবে জুনিয়রদের দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে Smear Campaign চালিয়েছে। তাঁকে নানা প্রোপাগান্ডার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হয়। আর এ ঘটনা ঘটেছে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ বা নীরব প্রশ্রয়ে।

কমিটি বিতর্ক: নেতৃত্বে গোষ্ঠীপন্থা, তৃণমূলে বঞ্চনা

উমামা স্ট্যাটাসে জানান, এনসিপি গঠনের আগে এবং পরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে কমিটিগুলো ঢালাওভাবে বিতরণ করা হয়। এগুলোর অধিকাংশই ‘ভাই-ব্রাদার ক্লাব’ ভিত্তিক বলে অভিযোগ করেন তিনি।

“কমপ্লেইন আসলে আমি সরাসরি সাবেক আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে জানিয়েছি। কিন্তু আমার কথা শোনা হয়নি। বরং পেইজের এক্সেস আমার কাছে থাকা উচিত হলেও, আমাকে মিডিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, মার্চ মাসে আন্দোলনের অফিসিয়াল পেজ থেকেই তার বিরুদ্ধে পোস্ট দেওয়া হয়—এটি ছিল তার ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগের অন্যতম প্রতীকী ঘটনা।

‘ভোট দেওয়ার এক মিনিট আগেও দ্বিধায় ছিলাম’

প্ল্যাটফর্মের সাম্প্রতিক কাউন্সিল নির্বাচন নিয়েও উমামা গভীর হতাশা প্রকাশ করেন।তিনি জানান, “যারা কাজ করতে চায়, তারা প্রার্থী হতে পর্যন্ত পারেনি। ভোটারদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ক্যাডার।”

তিনি শেষ মুহূর্তে ভোট দেন ঠিকই, কিন্তু বলেন,“ভেবেছিলাম হয়তো শেষবার কিছু ভালো কিছু হবে। কিন্তু রাতে দেখি, যিনি নির্বাচনেই অংশ নেননি, তিনিই কাউন্সিল মেম্বার হয়ে গেছেন।”

‘পদ, ক্ষমতা, স্ট্যান্ডবাজি—প্ল্যাটফর্মটা এখন একটা সুবিধাবাদী কুয়ায় আটকে গেছে’

উমামা আরও জানান,“নেতারা রাতের বেলা হেয়ার রোডে গিয়ে পদ নিয়ে দরকষাকষি করত। আমি জানতাম। অথচ তারা সামনাসামনি আমাকে বলেন, আমিও যেন গিয়ে পদ চাই। আমি তখনই বলি, আমি কেন ওদের কাছে যাব? তারা আমার কে?”

তিনি উল্লেখ করেন, যে নেতৃত্ব পদ দেয়, সেই নেতৃত্ব আদর্শও নিয়ন্ত্রণ করে—এবং এই দাসত্বপ্রবণ সংস্কৃতি আদর্শভিত্তিক ছাত্র রাজনীতিকে ধ্বংস করছে।

উমামা'র ফেইসবুক স্ট্যাটাস দেখতে ক্লিক করুণ

‘আমি রাজনৈতিকভাবে নয়, মানবিকভাবে হেরে গেছি’

উমামা তার স্ট্যাটাসে একপর্যায়ে লেখেন:“আমি অভ্যুত্থানের স্বপ্নকে রক্ষার জন্য এই প্ল্যাটফর্মে গিয়েছিলাম। কিন্তু বুঝতে পারছিলাম, এখানে ভালো কিছু সম্ভব নয়। এখানে সংস্কার, শহীদ, শহীদ পরিবার—সবই মুখের বুলি।”

তিনি নিজেই বলেন, রাজনৈতিক সুবিধা নিতে পারতেন, কিন্তু পারেননি—কারণ তা তার আত্মাকে বিদ্ধ করত।“আমি তো মানুষ, কাদা ছোড়াছুড়ি করতে আসিনি।”

‘আমি প্রত্যাহার করছি আমার ভোট ও সমর্থন’

এই আন্দোলনের মুখপাত্র হয়েও তিনি নিজেকে দলবাজ গোষ্ঠীর কাছে ‘একজন অনাহুত প্রতিবাদী’ বলে বর্ণনা করেন। সে কারণেই শেষমেশ তিনি জানান,“আমি অভ্যুত্থানের কথা ভেবে বৈষম্যবিরোধী প্ল্যাটফর্মে যে ভোট দিয়েছি, যে সমর্থন দিয়েছি, সবকিছুই প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।”

তিনি এটিও লেখেন,“অনেকের স্বপ্ন, সময় নষ্ট হয়েছে। আমি জানি না প্ল্যাটফর্মের ভবিষ্যৎ কী, তবে আমি আমার আত্মাকে এই রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের ছায়া থেকে সরিয়ে নিচ্ছি।”

‘যারা আমাকে মানসিকভাবে ভেঙেছে, তাদের কখনো ক্ষমা করব না’

উমামা ফাতেমা লেখেন,“আমি জানি, আমাকে যারা কষ্ট দিয়েছে, আমার প্রতি ষড়যন্ত্র করেছে, অভ্যুত্থানকে পণ্য করে রাজনৈতিক লাভ তুলেছে—আমি তাদের কখনোই ক্ষমা করব না। আমি রূহের ভেতর থেকে বদদোয়া দিচ্ছি এই মোনাফেকদের।”

একটি স্বপ্ন ভাঙার গল্প, যা ইতিহাস হয়ে থাকবে

উমামা ফাতেমার স্ট্যাটাস কেবল একটি ব্যক্তিগত পদত্যাগ নয়। এটি বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির অবক্ষয়ের এক উন্মোচিত দলিল। যেখানে ‘বৈষম্যবিরোধী’ নামটি থাকলেও বাস্তবে তার ভেতরে রয়েছে গোষ্ঠীতন্ত্র, নেতৃত্ব চোরাচালান ও আদর্শের বিপর্যয়।

জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান যেভাবে হাজারো তরুণকে পথে নামিয়েছিল, সেই অভ্যুত্থানের ব্যানারে দাঁড়ানো এক নারীনেত্রীর এই অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—শুধু বিপ্লব ঘটিয়ে নয়, সেটি টিকিয়ে রাখার নেতৃত্বও প্রয়োজন। আর সেই নেতৃত্ব যদি আস্থাহীন হয়, তাহলে অভ্যুত্থানও হয়ে পড়ে ব্যর্থ স্মারক।

? স্ট্যাটাস উৎস: উমামা ফাতেমার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট?️ প্রতিবেদন: সত্তনিউজ ইনভেস্টিগেশন ডেস্ক


বিসিবি এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহর তোপ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৮ ১৭:১৪:১২
বিসিবি এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহর তোপ
ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। বিসিবির বর্তমান অবস্থাকে তিনি “বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড” হিসেবে অভিহিত করে ক্রিকেট প্রশাসনে চরম বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। ওই সময় অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ বিল-২০২৬’ উত্থাপনের আবেদন করলে হাসনাত আবদুল্লাহ ফ্লোর নিয়ে এর বিরোধিতা করেন এবং বিসিবির প্রসঙ্গটি টেনে আনেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর এমন মন্তব্য দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, “বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড” বলার মাধ্যমে তিনি মূলত বোর্ডের অভ্যন্তরে থাকা স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাতিত্ব এবং স্বচ্ছতার অভাবকে তুলে ধরেছেন।

দেশের ক্রিকেট বোর্ড দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং দলীয় ব্যবস্থাপনার কারণে সমালোচনার মুখে থাকলেও, সংসদের ভেতরে একজন প্রভাবশালী নেতার এমন সরাসরি আক্রমণ বিষয়টিকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে। হাসনাত আবদুল্লাহর এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র ক্রিকেট বোর্ডের সংস্কার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

/আশিক


সংস্কার থেকে সরে এলে আবারও চব্বিশ হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১৯:২৫:০৭
সংস্কার থেকে সরে এলে আবারও চব্বিশ হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের মূল দাবি থেকে বর্তমান সরকার সরে এলে দেশে আবারও গণ-অভ্যুত্থান হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, সময়ের পরিবর্তন ও ক্ষমতার চেয়ারে বসার সাথে সাথেই সরকারের মানসিকতা বদলে গেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ স্পষ্ট করে বলেন, সরকারকে কাঠামোগত পরিবর্তনের জায়গায় একনিষ্ঠ হতে হবে; অন্যথায় ২০২৪ সালের মতো আরেকটি অভ্যুত্থান ঘটা অনিবার্য।

হাসনাত আব্দুল্লাহর মতে, যারা ২০২৪ সালে রাজপথে নেমেছিল, তারা কাউকে সংসদ সদস্য বা উপদেষ্টা বানানোর জন্য আন্দোলন করেনি। বরং তারা রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যেই জীবন বাজি রেখেছিল। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি পুরোনো শাসন ব্যবস্থা এবং সিস্টেম অক্ষুণ্ণ রাখা হয়, তবে যেকোনো ব্যক্তিই ভবিষ্যতে ‘হাসিনা’ হয়ে উঠতে পারেন। তাঁর ভাষায়, হাসিনা কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং এটি অনেকগুলো ফ্যাসিবাদী চিন্তাধারার একটি সমষ্টি। তাই ব্যক্তি পরিবর্তন নয়, বরং কাঠামোগত সংস্কারই ছিল গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত উদ্দেশ্য।

আলোচনা সভায় সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বিরোধিতার তীব্র সমালোচনা করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের অনেক উচ্চপদস্থ ব্যক্তি যারা অতীতে নিজেরাই ভুক্তভোগী ছিলেন, এখন তারাই সংস্কারের বিরোধিতা করছেন, যা অত্যন্ত অসম্মানজনক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ক্ষমতার আসনে বসে কেন তারা আগের অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছেন? মেজরিটি বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে আটকে রাখার কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, নির্বাচনের পর সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি বা তারা কোনো লাভবান হয়নি। উল্টো রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকেই কেবল সুবিধাভোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, রাষ্ট্র যেন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে এবং সাধারণ মানুষ যেন আর আশাহত না হয়। অন্যথায় জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে আরেকটি বড় ধরনের গণজাগরণের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

/আশিক


নর্দমা থেকে ফ্যাসিবাদ তুলে আনার চেষ্টা রুখে দেবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১৭:৫৪:৩৭
নর্দমা থেকে ফ্যাসিবাদ তুলে আনার চেষ্টা রুখে দেবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারের বর্তমান জ্বালানি নীতি ও রাজনৈতিক অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, সরকারি দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বক্তব্য শুনলে মনে হয় বাংলাদেশ যেন তেলের ওপর ভাসছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি অভিযোগ করেন যে, পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহন ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন থাকলেও সরকার রিজার্ভের মিথ্যা দাবি করে প্রকৃত সত্য আড়াল করার চেষ্টা করছে। এমনকি সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি দাবি করেন।

বর্তমান সংসদের গঠন প্রকৃতি তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই সংসদে যারা স্থান পেয়েছেন তাদের প্রায় সকলেই কোনো না কোনোভাবে মজলুম। তাঁদের মধ্যে কেউ জেল খেটেছেন, কেউ আয়নাঘরে বন্দি ছিলেন, আবার কেউ ফাঁসির মঞ্চ বা নির্বাসন থেকে ফিরে এসেছেন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত সংসদ যদি জনগণের দুঃখ না বোঝে, তবে আর কে বুঝবে? তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ৫৪ বছর ধরে যে ফ্যাসিবাদ বাঙালি জাতিকে দাবিয়ে রেখেছিল, ২০২৪ সালের বিপ্লবীরা তাকে বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলেছে। এখন যারা সেই নর্দমা থেকে পুনরায় ফ্যাসিবাদকে তুলে আনতে চাইছে, তরুণ প্রজন্ম ও জামায়াতে ইসলামী তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে জামায়াত আমির ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, বর্তমান প্রজন্ম কেবল ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেনি, তারা চেয়েছিল ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। তিনি দাবি করেন, বিগত নির্বাচনে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হা’ ভোটের মাধ্যমে জামায়াতকে সমর্থন দিলেও সেই জনরায়কে ‘হাইজ্যাক’ ও ‘ডাকাতি’ করা হয়েছে। তাঁর মতে, যেদিন থেকে গণভোটের রায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকেই বাংলাদেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। সংসদ এই রায় মানুক আর না মানুক, জামায়াতে ইসলামী ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে রাজপথে ফিরে যাবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যারা নিজেদের দলের ভেতরে গণতন্ত্র ও ইনসাফের চর্চা করতে পারে না, তারা দেশের ১৮ কোটি মানুষকে নিরাপত্তা বা গণতন্ত্র উপহার দিতে পারবে না। সংসদে উপস্থিত জামায়াতের ৭৭ জন সদস্য জনগণের অধিকার রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করবে এবং জাতির ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেবে না বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। জাগপা-র মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশে পুনরায় ফ্যাসিবাদের ফিরে আসা যেকোনো মূল্যে রুখে দেওয়া হবে।

/আশিক


ড. ইউনূসসহ সব উপদেষ্টাকে রাজপথে নামার ডাক দিলেন নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ১৮:৫৬:১৪
ড. ইউনূসসহ সব উপদেষ্টাকে রাজপথে নামার ডাক দিলেন নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগগুলো রক্ষায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ তৎকালীন সকল উপদেষ্টাকে রাজপথে নামার ডাক দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বিস্ফোরক আহ্বান জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর যে রক্তের বিনিময়ে সংস্কারের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, বর্তমান বিএনপি সরকার গণভোটের রায় উপেক্ষা করে এবং গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত না করে সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ করছে। বিশেষ করে গুম প্রতিকার, মানবাধিকার কমিশন এবং বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিল করে সরকার পুনরায় একটি স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে হাঁটছে বলে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন।

নাহিদ ইসলাম সরাসরি ড. ইউনূস ও আসিফ নজরুলসহ সাবেক উপদেষ্টাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, তারা যে সংস্কারের অধ্যাদেশগুলো করেছিলেন, সেগুলো এখন বাতিল হচ্ছে অথচ তারা মুখ খুলছেন না। তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং'-এর মাধ্যমে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে তারা নিজেদের ক্যারিয়ারে ফিরে যেতে পারেন না।

সংসদের ভেতরে উপযুক্ত সমাধান না পাওয়ায় রাজপথেই এখন এর ফয়সালা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, ড. ইউনূসসহ সাবেক উপদেষ্টাদেরও এই দায় নিতে হবে এবং প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের সাথে রাজপথে আন্দোলনে অংশ নিতে হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের বদলে বিএনপি সরকার জনগণের আস্থা হারাচ্ছে বলেও তিনি হুশিয়ারি দেন।

/আশিক


তারেক রহমানের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে? হাসনাত আব্দুল্লাহর রহস্যময় পোস্ট

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ১৮:৪৭:৪০
তারেক রহমানের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে? হাসনাত আব্দুল্লাহর রহস্যময় পোস্ট
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা নিয়ে এক বিস্ফোরক প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ তার পোস্টে গত ২৯ নভেম্বরের একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি টেনে উল্লেখ করেন যে, সেই সময় তারেক রহমান দেশে ফেরার আকুতি জানালেও বলেছিলেন যে এটি তার একক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে না। এমপির প্রশ্ন, গত ২৫ ডিসেম্বর দলের অনেকের দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও তিনি যখন দেশে ফিরলেন, তখন সেই সিদ্ধান্তটি আসলে কাদের ছিল এবং গুম ও মানবাধিকার অধ্যাদেশ বাতিলের মতো স্পর্শকাতর বিষয়েও কি সেই অদৃশ্য শক্তির প্রভাব রয়েছে?

ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ সরাসরি জানতে চান, তারেক রহমান কি প্রকৃতপক্ষেই নিজের স্বাধীন সিদ্ধান্তে দেশ পরিচালনা করতে পারছেন, নাকি নেপথ্যে এমন কেউ রয়েছেন যাদের সাধারণ জনগণ চেনে না। তিনি আরও গভীর প্রশ্ন তোলেন যে, দেশে ফেরার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে যদি অন্যদের প্রভাব থাকে, তবে দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রেও কি তিনি সেই একই শক্তির দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছেন?

সবশেষে এনসিপির এই নেতা সেই নেপথ্যের কারিগরদের পরিচয় স্পষ্ট করার দাবি জানান, যাদের সিদ্ধান্তের ওপর তারেক রহমানের দেশে ফেরা থেকে শুরু করে বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের মতো বিষয়গুলো নির্ভর করছে বলে তিনি মনে করেন। তার এই স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।

/আশিক


উত্তাল রাজধানী! গণভোটের রায়ে সরকারের বাধার মুখে ১১ দলের বিক্ষোভ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ১৮:২৪:৪৮
উত্তাল রাজধানী! গণভোটের রায়ে সরকারের বাধার মুখে ১১ দলের বিক্ষোভ
ছবি : সংগৃহীত

গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের অবস্থানের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা। আজ শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) বিকেল সোয়া ৫টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়েছে।

পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সমাবেশে যোগ দিতে দুপুরের পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকেন। আন্দোলনকারীদের হাতে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’ ও ‘গণভোট মানতে হবে’ লেখা সম্বলিত শত শত প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে, যেখান থেকে সরকারবিরোধী ও গণভোটের স্বপক্ষে তীব্র স্লোগান দেওয়া হচ্ছে।

সমাবেশে ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে অভিযোগ করেন যে, সরকারি দল সংসদ পরিচালনায় চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা দেশের গণতন্ত্রের ওপর একতরফা ফ্যাসিবাদী প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি আরও হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, জনস্বার্থ রক্ষা এবং জনগণের রায় প্রতিষ্ঠিত করতে রাজপথের আপসহীন আন্দোলন ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

এর আগে গত বুধবার বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারি দলের কর্মকাণ্ডে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত গণভোটের রায়কে বর্তমান সরকার সুকৌশলে উপেক্ষা করছে। এই প্রতিবাদে সংহতি জানিয়ে সংসদের ষষ্ঠ দিনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলো সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।

/আশিক


আন্দোলন ছাড়া আর পথ নেই: সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ২২:১১:৪০
আন্দোলন ছাড়া আর পথ নেই: সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেছেন যে, সংবিধান সংস্কারের চূড়ান্ত রায়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটায় এখন আন্দোলনের পথই তাদের একমাত্র বিকল্প। বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ সংক্রান্ত নোটিশের ওপর দুই ঘণ্টার আলোচনা শেষে স্পিকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই হুশিয়ারি দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সংসদের ভেতরেই সমাধান চেয়েছিলাম এবং জনগণের রায়কে সম্মান জানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু স্পিকার ও সরকারি দল তা গ্রহণ না করে জনগণের অভিপ্রায়কে অবমূল্যায়ন করেছে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতের তিনটি গণভোটে জনগণের রায় যথাযথভাবে গ্রহণ করা হলেও এবার সরকারি ও বিরোধী দল একমত থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষিত হয়েছে।

এই অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, তারা সংসদ ‘গিভ আপ’ করেননি, বরং জনগণের দাবি আদায়ে সংসদের অংশ হিসেবেই লড়াই চালিয়ে যাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতা আরও জানান, জামায়াতসহ ১১টি দল দ্রুত বৈঠকে বসে পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচি নির্ধারণ করবে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ইনশাআল্লাহ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এই আন্দোলন কোনো দল বা ব্যক্তির স্বার্থে নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক চরিত্র রক্ষা ও প্রকৃত সংবিধান সংস্কারের স্বার্থে।”

এর আগে সংসদে আলোচনার পর স্পিকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী দল ওয়াকআউট করলে স্পিকার জানান, একটি মুলতবি প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে এবং সেখানে তারা তাদের উত্তর পাবেন। তবে বিরোধী দল সেই আশ্বাসে সন্তুষ্ট না হয়ে আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

/আশিক


সংখ্যাগরিষ্ঠরা ভণ্ডামি করছে: সংসদ ছেড়ে ফেসবুকে বিস্ফোরক হাসনাত আব্দুল্লাহ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ২১:১৮:৫৮
সংখ্যাগরিষ্ঠরা ভণ্ডামি করছে: সংসদ ছেড়ে ফেসবুকে বিস্ফোরক হাসনাত আব্দুল্লাহ
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা ডাকার বিষয়ে কোনো সুরাহা না হওয়ায় এবং প্রস্তাব নিয়ে সৃষ্ট টানাপোড়েনের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর একটি পোস্ট রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংসদ অধিবেশন চলাকালীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবটি 'চাপা দেওয়ার' অভিযোগ তুলে বিরোধী দলগুলো তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করে। এর পরপরই কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি সরাসরি অভিযোগ করে লেখেন, ‘Hypocrisy by Majority- where truth and pretension are infused.’ অর্থাৎ, সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভণ্ডামিতে সত্য এবং ছদ্মবেশ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাসনাত আবদুল্লাহ এখানে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ’ বলতে সংসদে থাকা সরকারি দল বা ট্রেজারি বেঞ্চকেই ইঙ্গিত করেছেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা ডাকার বিষয়ে কোনো প্রতিকার না পেয়ে বিরোধী শিবিরের এই ক্ষোভ সংসদীয় কার্যক্রমে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির এই ওয়াকআউট এবং পরবর্তী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করে তুলল।

/আশিক


মুক্তিযুদ্ধ আমাদের পরিবারের রক্ত আছে: সংসদে আবেগঘন জামায়াতের আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ২০:০৭:৫৮
মুক্তিযুদ্ধ আমাদের পরিবারের রক্ত আছে: সংসদে আবেগঘন জামায়াতের আমির
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামায়াতের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান | ছবি : সংগ্রহীত

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামায়াতের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের একটি মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি নিজেকে 'শহীদ পরিবারের সন্তান' হিসেবে দাবি করেছেন। মূলত গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করতে গিয়ে তিনি এই ব্যক্তিগত পরিচয় তুলে ধরেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও মানুষের পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। স্পিকারকে সম্বোধন করে তিনি বলেন, "আপনি একজন গর্বিত বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীর বিক্রম। আমিও ক্ষুদ্র একটি শহীদ পরিবারের সন্তান।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছিলেন, তার পরিবারের সদস্যদের রক্তও সেই তালিকায় মিশে আছে।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে তিনি নিজেকে শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিলেও, জাতীয় সংসদের ফ্লোরে দাঁড়িয়ে এবারই প্রথম এমন দাবি করলেন তিনি। তার এই বক্তব্য সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে, কারণ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতার মুখ থেকে এ ধরনের পারিবারিক পরিচয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

/আশিক

পাঠকের মতামত:

৮ এপ্রিল: দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার

৮ এপ্রিল: দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ শেয়ার

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বুধবারের লেনদেনে শীর্ষ গেইনার তালিকায় শক্তিশালী উত্থান লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে বিভিন্ন খাতের কোম্পানিগুলো উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি... বিস্তারিত