আনিসার জন্য খুলতে পারে পরীক্ষার দরজা!

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ২৭ ০৯:১৩:৫০
আনিসার জন্য খুলতে পারে পরীক্ষার দরজা!

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা জাতির শিক্ষাব্যবস্থাকে বড় এক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। কঠোর নিয়ম, নিষ্ঠুর বাস্তবতা ও মানবিক দুর্যোগের মধ্যে পড়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থী আনিসা আহমেদ তার প্রথম পরীক্ষাটিই দিতে পারলেন না কেবল সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারার কারণে।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) পরীক্ষার দিন সকালে আনিসার মা স্ট্রোক করেন। পরিবারের একমাত্র অভিভাবক হিসেবে হাসপাতালে মাকে ভর্তি করানোর দায়িত্ব নেয় মেয়েটিই। এই করুণ বাস্তবতায় পরীক্ষার কেন্দ্রে পৌঁছাতে তার বিলম্ব হয় প্রায় দেড় ঘণ্টা। কিন্তু কেন্দ্রে আসার পরও তাকে হলে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়নি। কড়া নিয়মের ব্যাখ্যায় দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানিয়ে দেন, "পরীক্ষার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে কোনোভাবেই প্রবেশ সম্ভব নয়।"

কান্নাভেজা মুখে কেন্দ্রের গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা আনিসার দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। হাজারো মানুষ আবেগে, ক্ষোভে এবং হতাশায় প্রতিক্রিয়া জানান। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন এই মেয়েটি কি শখ করে লেট করেছে? তার অবস্থান কি সত্যিই শাস্তির ছিল, না মানবিক সহানুভূতির দাবি রাখে?

এক অভিভাবক বললেন, "একজন পরীক্ষার্থীর চেষ্টা দেখেই বোঝা যায়, সে দায়িত্বশীল। এমন দুর্যোগেও সে কেন্দ্র পর্যন্ত এসেছে এটাই তার অদম্য মানসিকতার প্রমাণ। নিয়মের বাইরে গিয়েও তাকে সুযোগ দেওয়া যেত।"

তবে ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল রাতেই তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে আনিসার বিষয়ে আশাব্যঞ্জক খবর দেন। তিনি জানান, আনিসার কলেজের অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান, আনিসার অসুস্থ মা এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তিনি আইনগত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি বলেন, "২০০০ সালে মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৩২ শিক্ষার্থীর পরীক্ষার অনুমতি নিয়ে যেভাবে আইনি পদক্ষেপ হয়েছিল, সেই নজির আনিসার ক্ষেত্রেও কাজে লাগানো যাবে। আশা করি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বোর্ড মানবিক দৃষ্টিতে বিষয়টি বিবেচনা করবে যাতে তাকে আদালতের দ্বারস্থ না হতে হয়।"

ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে এক ধরনের সোচ্চার মানবিক সাড়া দেখা গেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন নিয়ম কি এতটাই শক্ত যে তা জীবন-সংকটের মতো পরিস্থিতিকেও অগ্রাহ্য করে? পরীক্ষা সময়মতো দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়েও বড় কি মানবিকতা নয়?

একজন শিক্ষাবিদ মন্তব্য করেছেন, "একজন পরীক্ষার্থীর পরিবারে বিপর্যয় ঘটলে তা তার শৃঙ্খলা নয়, সহানুভূতির মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হয়। শিক্ষা শুধু নম্বরের নয়, মূল্যবোধেরও।"

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষা বোর্ডের নিয়মে “ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি” বিবেচনার সুযোগ থাকা উচিত। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় বোর্ড, কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ মিলে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবস্থা থাকলে হয়তো আনিসার মতো শিক্ষার্থী ভবিষ্যতের জন্য বাধাগ্রস্ত হতেন না।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, আনিসার কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বোর্ডের বিশেষ অনুমোদন মিললে হয়তো এই ছাত্রীকে পরীক্ষাটি আলাদাভাবে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। আইনজীবী কাজল জানিয়েছেন, প্রয়োজনে উচ্চ আদালতের সহায়তা নেওয়া হবে।

আনিসার ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শিক্ষাব্যবস্থা শুধু নিয়মে চলে না তার চালিকাশক্তি হওয়া উচিত মানবিকতা ও বিবেচনা। একটি মেয়ে, যার বাবা নেই, মা স্ট্রোকে আক্রান্ত, সেই সংকটে থেকেও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য কেন্দ্র পর্যন্ত এসে পৌঁছেছে এই প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দেওয়া উচিত ছিল আমাদের। এখন দেখার বিষয়, শিক্ষা বোর্ড এই ‘মানবিক ব্যতিক্রম’-কে কীভাবে বিবেচনা করে।

-শরিফুল, নিজস্ব প্রতিবেদক


চাটখিলে কোরবানি হাটের মূল আকর্ষণ ৩০ মণের নোয়াখালীর বস

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ২২:০৯:২২
চাটখিলে কোরবানি হাটের মূল আকর্ষণ ৩০ মণের নোয়াখালীর বস
হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরু। ছবি : কালবেলা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নোয়াখালীর চাটখিলে উৎসুক মানুষের তুমুল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বিশাল আকৃতির এক ফ্রিজিয়ান গরু, যার নাম রাখা হয়েছে ‘নোয়াখালীর বস’। হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের সাদা রঙের এই রাজকীয় গরুটির ওজন প্রায় ৩০ মণ (১২০০ কেজি)। বিশালাকার এই পশুকে দেখতে প্রতিদিনই খামারে ভিড় করছেন শত শত দর্শনার্থী। আসন্ন কোরবানির হাটে তোলার জন্য খামারিরা এই ‘নোয়াখালীর বস’-এর দাম হাঁকছেন ১০ লাখ টাকা।

এই বিশালাকৃতির গরুটির পেছনে রয়েছে দুই প্রবাসীর স্বপ্ন ও পরিশ্রমের গল্প। রাজধানীর সরকারি বাংলা কলেজ থেকে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (আমেরিকা) পাড়ি জমান চাটখিলের তরুণ ফয়সাল। প্রবাসে থাকলেও দেশের মাটিতে একটি স্বপ্নের খামার গড়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। পরবর্তীতে আরেক প্রবাসী আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহের অর্থায়নে এবং ফয়সালের দূরদর্শী দিকনির্দেশনায় গত চার বছর ধরে চাটখিল উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নে সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক উপায়ে এই গরুটিকে লালন-পালন করা হচ্ছে।

খামার পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, বিশাল আকৃতির এই গরুটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে উৎসুক মানুষ ছুটে আসছেন। কেউ এর সঙ্গে সেলফি তুলছেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জন্য ভিডিও তৈরি করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, এত বড় গরু এই অঞ্চলে সচরাচর দেখা যায় না, দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন ছোটখাটো একটা পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে। ফেসবুক ও ইউটিউবে ভিডিও দেখে খামারে আসা দর্শনার্থী মো. আবু হানিফ বলেন, সামনাসামনি দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি। খামারিরা যদি এবার ন্যায্যমূল্য পান, তবেই তাঁদের এই দীর্ঘদিনের পরিশ্রম সার্থক হবে।

খামারটির সার্বিক পরিচালনাকারী মো. শাহরিয়ার জানান, কোনো ধরনের ক্ষতিকর স্টেরয়েড ওষুধ বা কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ ইনজেকশন ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে খামারে গরুটিকে বড় করা হয়েছে। নিয়মিত খড়, তাজা সবুজ ঘাস, গম ও খেসারির ভুসি এবং ভুট্টা খাইয়ে দীর্ঘ চার বছরের নিবিড় যত্নের ফলে গরুটির ওজন এখন প্রায় ৩০ মণে পৌঁছেছে। চাটখিল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহাদাত হোসেন জানান, নোয়াখালীর বস’ গরুটি সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা হয়েছে। খামারিদের এমন বাণিজ্যিক ও আধুনিক উদ্যোগ দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করছে এবং কোরবানি সামনে রেখে এই ধরনের বড় গরু স্বাভাবিকভাবেই হাটের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠবে।

সূত্র: কালবেলা


১৬০ গান ও ১২০ কবিতার জন্মভূমি; দৌলতপুরে নজরুল-নার্গিসের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ২১:৫২:০৯
১৬০ গান ও ১২০ কবিতার জন্মভূমি; দৌলতপুরে নজরুল-নার্গিসের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি
ছবি : মোঃ মাসুদ রানা

‘এ আগুনের পরশমানিক তুমি না দিলে আমি অগ্নিবীণা বাজাতে পারতাম না, আমি ধূমকেতুর ন্যায় বিস্ময়ে উদিত হতে পারতাম না।’ জীবনের প্রথম প্রেয়সী নার্গিসকে নিয়ে এভাবেই নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে ১৯২১ সালে নার্গিসের প্রেমে পড়েই মূলত প্রেমময় হয়ে ওঠেন বিদ্রোহী কবি। এই গ্রামের শান্ত প্রকৃতি, পুকুরপাড়ের আমতলা আর কামরাঙা গাছের শীতল ছায়ায় বসেই তিনি রচনা করেছেন ১৬০টি গান এবং ১২০টি কবিতা। দৌলতপুরের পরতে পরতে আজও ছড়িয়ে আছে নজরুল-নার্গিসের প্রেম ও বিরহের অমলিন স্মৃতি, যা সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, ১৯২১ সালের এপ্রিলে প্রথম কুমিল্লা শহরে আসেন নজরুল। এ সময় পুস্তক ব্যবসায়ী বন্ধু আলী আকবর খানের সঙ্গে নগরীর বীরেন সেনের বাসায় ছিলেন চার-পাঁচ দিন। এরপর মুরাদনগর উপজেলার দৌলতপুরে আলী আকবর খানের বাড়িতে যান। সেখানে পুকুরে সাঁতার কেটে, পলো দিয়ে মাছ ধরে, জ্যোৎস্নারাতে পুকুরপাড়ের আমগাছের নিচে বাঁশি বাজিয়ে সময় কাটিয়েছেন কবি। তিনি ৭৩ দিন ছিলেন দৌলতপুরে।

স্থানীয়রা জানায়, এখানে কবি গ্রামের ছেলেদের গান এবং মেয়েদের নাচ শেখাতেন। কবির সঙ্গে আলী আকবর খানের বড় বোন আসমাতুন নেসার মেয়ে সৈয়দা খাতুনের পরিচয় হয়। তখন নজরুলের বয়স ছিল ২২, সৈয়দা খাতুনের ১৬। কবি সৈয়দা খাতুনকে ভালোবেসে নাম দেন নার্গিস। এরপর তাকে নিয়ে রচনা করেন অনেক কবিতা।

এখানে আলী আকবর মেমোরিয়াল ট্রাস্টের ভবনটি আজও কালের সাক্ষী হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে। এর পাশে আরেকটি ঘর ছিল, যেখানে থাকতেন কবি। বাঁশের তৈরি আটচালা ঘরটির একেবারে পূর্বপাশে নজরুল থাকতেন। এই বাড়িতে থাকার সুবাদেই নার্গিসের সঙ্গে নজরুলের পরিচয় হয় এবং দুজনে প্রেমে মগ্ন হন। এই বাড়িতে দুটি বড় আমগাছ নজরুলের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত। নজরুল একটি আমগাছের তলায় দুপুরে শীতল পাটিতে বসে কবিতা ও গান রচনা করতেন। এই আমগাছের পাশেই ছিল কামরাঙা, কামিনী, কাঁঠালগাছের সারি। কবি ও আলী আকবর খাঁ যখন বিকালে একসঙ্গে এখানে সময় কাটাতেন, তখন নার্গিস নানা কাজের ছলে ছুটে আসতেন।

১৯২১ সালের ১৮ জুন নজরুল ও নার্গিসের বিবাহ সম্পন্ন হয়। জানা যায়, যেই ঘরে তাদের বাসর হয়েছিল, সেটি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত আটচালা ছিল। বর্তমানে চারদিকে বেড়ার আর টিনের ছাউনিতে রূপান্তরিত হলেও আয়তনে কোনো পরিবর্তন হয়নি। নজরুল ও নার্গিসের বাসরে ব্যবহৃত খাট, পালঙ্ক, বিছানা, ২টি বালিশ, কম্বল ও কাঠের সিন্ধুকটি এখনো সংরক্ষিত রয়েছে।

কবির স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য দৌলতপুরে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘নার্গিস-নজরুল বিদ্যানিকেতন’ নামের একটি বিদ্যালয়। এখানে সংগীত, নৃত্য ও নাটক প্রশিক্ষণ এবং পাঠাগারের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘নজরুল নিকেতন পাঠাগার’। দৌলতপুরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করার জন্য স্থাপন করা হয়েছে ‘নজরুল মঞ্চ’। ‘খাঁ’বাড়িতে ঢোকার পথে রয়েছে ‘নজরুল তোরণ’। মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনের নামকরণ করা হয়েছে ‘কবি নজরুল মিলনায়তন’।

নার্গিস-নজরুল বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, দৌলতপুরে কবি নজরুলের অনেক স্মৃতি রয়েছে। এখানে কবি তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটিয়েছেন। তাই দৌলতপুর গ্রামকে কবিতীর্থ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়।

নার্গিস বংশের উত্তরসূরি বাবলু আলী খাঁন বলেন, নার্গিস ও নজরুলের স্মৃতি ধরে রাখতে হলে এখানে সরকারিভাবে বেশ কিছু উদ্যোগ নিতে হবে। নাহলে একসময় এগুলো হারিয়ে যাবে। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, দৌলতপুরে জাতীয় কবির সব স্মৃতি সংরক্ষণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

কুমিল্লায় নজরুলের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন শুরু : কুমিল্লায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন শুরু হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৩ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

ট্যাগ: কুমিল্লা

পাইপলাইন মেরামত: সোমবার ৯ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না বেশ কিছু এলাকায়

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ১৮:১২:০৬
পাইপলাইন মেরামত: সোমবার ৯ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না বেশ কিছু এলাকায়
ছবি : সংগৃহীত

পাইপলাইনের জরুরি প্রতিস্থাপন ও লিকেজ মেরামতের উদ্দেশ্যে আগামীকাল সোমবার (২৫ মে ২০২৬) দেশের বেশ কিছু শিল্প ও আবাসিক এলাকায় টানা ৯ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। আজ রবিবার (২৪ মে) তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে দেওয়া এক জরুরি ও অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে গ্রাহকদের এই সাময়িক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের তথ্য জানানো হয়েছে।

তিতাস গ্যাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে, বিতরণ লাইনের কারিগরি সংস্কার কাজের জন্য সোমবার সকাল ৯টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তারাবো বিশ্বরোড এলাকা থেকে রূপসী, বরপা এবং ভুলতা মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত ৮ ইঞ্চি ১৫০ পিএসআইজি (PSIG) লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত সকল শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হবে। এর পাশাপাশি মুড়াপাড়া, কাঞ্চন ও হাটাবো এলাকার আবাসিকসহ বাণিজ্যিক ও শিল্পকারখানার সকল লাইনেও এই নির্দিষ্ট সময়ে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে এই দীর্ঘ সময়জুড়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার সিএনজি স্টেশন, ক্যাপটিভ পাওয়ার, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক গ্রাহকদের রান্নাবান্নার কাজে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মেরামত কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই এলাকাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। একই সঙ্গে এই উন্নয়নমূলক কাজের কারণে গ্রাহকদের সাময়িক যে অবর্ণনীয় অসুবিধা হবে, সেজন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

/আশিক


৯ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় মেহেরপুরে যুবকের মৃত্যুদণ্ড

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ১৭:৫৪:০৫
৯ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় মেহেরপুরে যুবকের মৃত্যুদণ্ড
শিশু ধর্ষণের অপরাধে আদালতে অভিযুক্ত শাকিল হোসেন

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামে ৯ বছর বয়সী এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণের লোমহর্ষক অপরাধে শাকিল হোসেন নামের এক যুবকের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রবিবার (২৪ মে ২০২৬) দুপুরে মেহেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল (শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল)-এর বিচারক তাজুল ইসলাম আসামির উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। আইনি নির্দেশনা মেনে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে এই ধর্ষণ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে রায় প্রদান করা হয়েছে, যা দেশের বিচারিক ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে রায় ঘোষণার ক্ষেত্রে একটি নজিরবিহীন মাইলফলক।

নথিভুক্ত মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৬ জুন সকালে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা গ্রামের মাঠে কৃষিকাজ করছিলেন। সকালের খাবার নিয়ে বাবার উদ্দেশ্যে মাঠে যাওয়ার পথে চাঁদপুর গ্রামের ঘাস কাটতে থাকা যুবক শাকিল হোসেন শিশুটিকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

পরবর্তীতে শিশুটি শাকিলের কবল থেকে মুক্ত হয়ে কাঁদতে কাঁদতে মাঠে বাবার কাছে পৌঁছায় এবং ঘটনার বিবরণ দেয়। ওইদিনই গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং গাংনী থানায় শাকিল হোসেনকে একমাত্র আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন শিশুটির বাবা।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাকিল হোসেন আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিল এবং রায় পড়া শেষে পুলিশের কড়া পাহারায় তাকে মেহেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। অপরাধ প্রতিরোধ ও ভুক্তভোগীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে মেহেরপুর আদালতের এই দ্রুততম রায়কে দেশের সামগ্রিক বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি বড় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন আইন সংশ্লিষ্টরা।

এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) তুহিন অরণ্য জানান, মেহেরপুরের বিচারালয়ের ইতিহাসে এবং দেশের ধর্ষণ মামলার রেকর্ডে এত কম সময়ে রায় প্রদানের ঘটনা এই প্রথম, যা সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের মাঝে আইনের শাসনের প্রতি আস্থা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

/আশিক


বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সিলেটের বিশ্বনাথে জমে উঠেছে পশুর হাট

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ১২:৫৪:৪৬
বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সিলেটের বিশ্বনাথে জমে উঠেছে পশুর হাট
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় উৎসবের আমেজে পুরোদমে জমে উঠেছে কোরবানি পশুর হাটগুলো। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত বাজারগুলোতে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাময়িক বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টি উপেক্ষা করেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ হাটে ছুটে আসছেন। বাজারে দেশি ও বিদেশি জাতের পর্যাপ্ত পরিমাণ ছোট, মাঝারি এবং বড় আকারের গরু ও ছাগলের সরবরাহ থাকলেও সাধারণ ক্রেতাদের মূল আকর্ষণ ও প্রধান চাহিদা দেখা যাচ্ছে মাঝারি আকৃতির গরুর দিকে।

বিশ্বনাথ উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, এবারের কোরবানি ঈদে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে সর্বমোট ১০টি পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বনাথ পৌরসভার পুরানবাজার এলাকায় উপজেলার সবচেয়ে বড় ও প্রধান পশুর হাটটি বসেছে। তবে কেবল নির্ধারিত হাটগুলোতেই নয়, উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামারি ও প্রান্তিক কৃষকদের বাড়িতে গিয়েও অনেকে বছরব্যাপী লালন-পালন করা পছন্দের গবাদি পশু আগাম কিনে নিচ্ছেন।

সরেজমিনে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, হাটে ক্রেতারা এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে ঘুরে দাম যাচাই করছেন এবং পছন্দ হলেই দরদাম চূড়ান্ত করছেন। বাজারে দুই থেকে আড়াই মণ ওজনের মাঝারি আকারের গরুগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রকারভেদে ৮৫ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। বড় আকারের গরুর ক্রেতা কম থাকায় বিক্রেতারা এবার বড় গরু হাটে কম এনেছেন, যার ফলে বাজারে বড় পশুর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশ অপ্রতুল। অন্যদিকে বাজারে থাকা বড় সাইজের ছাগলগুলো ৩৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

পশুর দাম নিয়ে বিক্রেতারা সন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এবার মাঝারি গরুর দাম বেশ ভালো পাওয়া যাচ্ছে এবং ১ লাখ টাকার ভেতরের গরুর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। বিশ্বনাথ পুরানবাজার হাটের ইজারাদার বশির আহমদ জানান, বাজারে কেনাবেচার গতি বেশ সন্তোষজনক এবং ক্রেতাদের উৎসাহিত করতে বড় গরুর ক্ষেত্রেও হাসিল বা খাজনা মাত্র ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঈদের শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা আরও কয়েক গুণ বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুস শহীদ সার্বিক প্রস্তুতি ও অর্থনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জানিয়েছেন, চলতি বছর বিশ্বনাথ উপজেলায় কোরবানি করার জন্য ষাঁড়, বলদ, গাভী, ছাগল ও ভেড়াসহ সব মিলিয়ে ৮ হাজার ১৩৭টি গবাদি পশু সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে। ক্রেতারা যাতে সুস্থ ও রোগমুক্ত পশু কিনতে পারেন, সেজন্য প্রতিটি হাটে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের বিশেষ মেডিকেল টিম পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সব মিলিয়ে এবার পুরো উপজেলায় প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ কোটি টাকার কোরবানির পশু কেনাবেচা হবে বলে অফিশিয়ালি ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক


রাজধানীতে আজ সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মসূচির ব্যস্ততা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ১১:১৬:০০
রাজধানীতে আজ সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মসূচির ব্যস্ততা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন সরকারি ও রাজনৈতিক দপ্তরের আজকের ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে রবিবার (২৪ মে)। দিনের শুরুতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও রাজনৈতিক সংগঠনের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিগুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর দিয়াবাড়ী পশুর হাট পরিদর্শনে গিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে হাটের সার্বিক পরিস্থিতি, পশুর স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য নেওয়া বিশেষ ব্যবস্থাগুলো সরেজমিনে দেখছেন তিনি।

এদিকে, সকাল সাড়ে ১০টায় ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ‘জাতীয় বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক এই সভায় অর্থনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরোয়ার। সভায় বাজেট নিয়ে দলের পক্ষ থেকে নানা প্রস্তাবনা তুলে ধরা হচ্ছে।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই সংলাপে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে মন্ত্রীর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

দিনের শেষভাগে দুপুর আড়াইটার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার লক্ষে একটি গণসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।

/আশিক


কুমিল্লা সরানো হলো ১৩১ বছরের স্কুল আঙিনার কবরস্থানের সাইনবোর্ড

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ২১:৫৮:২০
কুমিল্লা সরানো হলো ১৩১ বছরের স্কুল আঙিনার কবরস্থানের সাইনবোর্ড
ছবি : মোঃ মাসুদ রানা

১৩১ বছর প্রাচীন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমা প্রাচীরের ভেতরে কবরস্থানের সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। এর আগে স্কুল কমিটি থেকে বাদ পড়ে দুই ব্যক্তি প্রথম জমি নিয়ে মামলা, সংস্কার কাজে বাধা ও দেওয়ালের পিলার ভেঙে ফেলেন। এনিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর শনিবার উপজেলা প্রশাসন ওই স্কুল পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শনের পর সরানো হলো স্কুল আঙিনায় স্থাপন করা কবরস্থানের সাইনবোর্ড।

আজ শনিবার স্কুল পরিদর্শন করেন, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন চন্দ্র রায়, সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) সজীব তালুকদার ও উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার প্রমুখ।

শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, ১৮৯৫ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সাবেক দুইজন সদস্য আবুল কালাম আজাদ ও নুরুল ইসলাম। তারা দাতা সদস্য থাকতে না পেরে জায়গার জন্য মামলা দায়ের করেন। এদিকে ১৮ মে স্কুলের পেছনের দেওয়াল রক্ষাকারী পিলার নির্মাণ করা হয়। ওই রাতে সেই পিলার ভেঙে ইটগুলো দূরে ফেলা দেয়া হয়। ২২ মে স্কুলের সীমানা প্রাচীরের ভিতরে কবরস্থানের সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে।

সদর দক্ষিণ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শামীম ইকবাল ইমন বলেন, আমি ট্রেনিংয়ে আছি। ইউএনও, এসিল্যান্ড মহোদয় ও আমাদের কর্মকর্তারা স্কুলটি পরিদর্শন করেছেন। যেহেতু মামলা চলমান রয়েছে তাই সেখানে যেন কোনো পদক্ষেপ না হয় সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। স্কুলের শিক্ষার পরিবেশ যেন নষ্ট না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।


আড়াই কোটি মানুষ ও কোরবানির পশুর পরিবহন এবার মেগা চ্যালেঞ্জ: সেতুমন্ত্রী

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১৯:৪৬:০৯
আড়াই কোটি মানুষ ও কোরবানির পশুর পরিবহন এবার মেগা চ্যালেঞ্জ: সেতুমন্ত্রী

সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম বলেছেন, ঈদযাত্রা চ্যালেঞ্জিং হলেও এবার তা স্বস্তিদায়ক হবে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অল্প সময়ের মধ্যে আড়াই কোটি মানুষ ও কুরবানির পশু পরিবহণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের অবকাঠামো ও পরিবহণ ব্যবস্থার কারণে প্রতিবছরই ঈদযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সবার সহযোগিতা, জনগণের সচেতনতা এবং অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করা সম্ভব হবে।

শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮৬ জন ও আহত ৩৩ জনের পরিবারের মাঝে মোট ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণের পর সাংবাদিকদের মন্ত্রী এসব কথা বলেন। কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ কুমিল্লা সার্কেলের যৌথ উদ্যোগে, বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের আয়োজনে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নিহত ও আহতদের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।মন্ত্রী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে। এছাড়া অন্যান্য মহাসড়ক উন্নয়নেও সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, প্রতিবছর গড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়। এর প্রধান কারণ চালকদের অদক্ষতা ও আনফিট যানবাহন। জনগণের অসচেতনতাও একটি কারণ। আমাদের এসব কমিয়ে আনতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসনে সরকার কাজ করবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহণ এবং মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, আমরা নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি। দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান ও কারণ চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ফলে দুর্ঘটনার পরিমাণও কমে আসছে।

মন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি জানতে চাই—সড়কে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা কত? ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কত টাকা ব্যয় হয়েছে?

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মো. জিয়াউল হক, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

ট্যাগ: সারাদেশ

কালিগঞ্জে পোস্ট অফিসের চোরাই গ্রিল উদ্ধার: ভাঙারি ব্যবসায়ী ও নাইটগার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ

শিমুল হোসেন
শিমুল হোসেন
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) ব্যুরো
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১৯:৪২:৩২
কালিগঞ্জে পোস্ট অফিসের চোরাই গ্রিল উদ্ধার: ভাঙারি ব্যবসায়ী ও নাইটগার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ছবি : শিমুল হোসেন

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় পোস্ট অফিসের চুরি হওয়া পুরোনো গ্রিল উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এক ভাঙারি ব্যবসায়ী ও পোস্ট অফিসের এক নাইটগার্ডের বিরুদ্ধে চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কালিগঞ্জ পোস্ট অফিসের পুরোনো গ্রিল চুরি হয়। পরে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার বাজারগ্রাম রহিমপুর এলাকার বদর উদ্দিনের ছেলে ভাঙারি ব্যবসায়ী ঈমান আলীর দোকান থেকে ওই গ্রিল উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা সদরের“সাতসজ্জা ফার্নিচার” দোকানের মালিক আব্দুল গফুর ঘটনাস্থলে চোরাই মালামাল বিক্রির বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন। তিনি বসন্তপুর এলাকার মানউল্লাহর ছেলে। এ ঘটনায় পোস্ট অফিসের নাইটগার্ড বাজারগ্রাম রহিমপুর এলাকার মেছের আলী গাজীর ছেলে ইনতাজ আলীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি,তার সহযোগিতায় চুরি হওয়া গ্রিল বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া ভাঙারি ব্যবসায়ী ঈমান আলীর বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন স্থান থেকে চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।এ বিষয়ে কালিগঞ্জ পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার সৈকত ঘোষ সাংবাদিকদের জানান, পোস্ট অফিসের গ্রিল চুরির ঘটনা সত্য এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত নাইটগার্ড ইনতাজ আলীর বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

পাঠকের মতামত: