সংস্কার ইস্যুতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপির তীব্র মতানৈক্যর নেপথ্যে যা থাকছে

নির্বাচনের সময়কাল, সরকারের নিরপেক্ষতা ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে চলমান অনিশ্চয়তা ও দ্বন্দ্ব কিছুটা প্রশমিত হলেও, সামগ্রিক রাজনীতিতে জটিলতা কমেনি। সম্প্রতি লন্ডনে বিএনপির হাইকম্যান্ডের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সংলাপ পরবর্তী পরিস্থিতি আংশিক আশাব্যঞ্জক মনে হলেও, রাজনৈতিক ঐকমত্য ও সংস্কার প্রক্রিয়া ঘিরে একাধিক দিক থেকে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
বিএনপি ও অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে বিশ্বাসের সংকট কিছুটা নিরসন হলেও, অন্যান্য রাজনৈতিক দল বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও অন্যান্য ছোট দলগুলোর মধ্যে সংস্কার ইস্যুতে তীব্র মতানৈক্য রয়ে গেছে। এর ফলে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে বহুবার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ড. আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ স্বাভাবিক হলেও মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো। তবে বাস্তবতা হলো, সংবিধানের কাঠামো, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কিংবা সাংবিধানিক সংস্থা গঠনের মতো ইস্যুতে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি একমত নয়।
বহু দল ঐকমত্য কমিশনের ‘একজন ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না’ এই প্রস্তাব সমর্থন করলেও বিএনপি এতে দ্বিমত পোষণ করছে। তাদের প্রস্তাব, দুই মেয়াদের পর একটি ‘গ্যাপ’ রেখে ব্যক্তির তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জনগণের চাহিদা থাকলে ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রয়োজন দেখা দিলে তৃতীয়বারের সুযোগ থাকা উচিত।
অন্যদিকে, জামায়াত ও এনসিপি নেতারা মনে করেন, একই ব্যক্তি বারবার ক্ষমতায় এলে দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসনের ঝুঁকি বাড়বে এবং অতীত আন্দোলনের আত্মত্যাগ নিষ্ফল হবে।
সংস্কার বাস্তবায়নের সময় নিয়েও মতানৈক্য প্রকট। জামায়াত ও এনসিপি চায়, নির্বাচনের আগেই মৌলিক সংস্কারগুলো কার্যকর হোক তারা বলছে, না হলে নির্বাচনের পরে সেগুলো বাস্তবায়নের সম্ভাবনা ঝুলে যাবে। এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, অধ্যাদেশ জারি করেও এসব বাস্তবায়ন সম্ভব। এই সংস্কার ছাড়া নির্বাচনের আগে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে না।
সংবিধান সংশোধন হবে, না কি পুরোপুরি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হবে এই প্রশ্নেও বিভক্ত রাজনৈতিক দলগুলো। বিএনপি ও জামায়াত সংশোধনের পক্ষে থাকলেও এনসিপি চায় নতুন সংবিধান। তাদের দাবি, সংশোধনমূলক সংবিধান ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে আবারও বাতিল হতে পারে যেমনটি অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের ক্ষেত্রে ঘটেছে।
বিএনপি বলছে, যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে, সেগুলো নিয়েই ‘জুলাই সনদ’ হবে। বিরোধপূর্ণ ইস্যুগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের সময় জনমত যাচাই করে পরে বাস্তবায়ন করবে। বিএনপির যুক্তি, সবার সঙ্গে সব ইস্যুতে একমত হওয়া সম্ভব নয়, তবে মৌলিক বিষয়ে সহমত তৈরির প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।
তবে এনসিপি ও জামায়াত বলছে, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ রেখে ঐকমত্য হলে তা রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তনের লক্ষ্যে যথেষ্ট হবে না। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, মৌলিক সংস্কার ছাড়া জুলাই সনদ তাদের কাছে অর্থবহ নয়।
জামায়াত মনে করে, যেসব ইস্যুতে ঐকমত্য হবে না, সেগুলোর মীমাংসা হতে পারে গণভোটের মাধ্যমে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মৌলিক ইস্যুগুলো ফেলে রাখা যাবে না। জনগণের রায়ের মাধ্যমেই এগুলোর স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ আশাবাদী। তিনি বলছেন, “আমরা কাউকে বাধ্য করতে পারি না, তবে যদি দলগুলো কিছুটা ছাড় দেয়, তবে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গঠন সম্ভব হবে।”
ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের শীর্ষ পদ থেকে জাবের ও জুমার পদত্যাগ
ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী পরিচালক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল জাবের এবং সংগঠনটির বর্তমান সহসভাপতি ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ফাতিমা তাসনিম জুমা নিজ নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যক্তিগত আইডিতে পৃথক দুটি বিবৃতির মাধ্যমে তাঁরা এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে তাঁরা স্পষ্ট করেছেন যে, সাংস্কৃতিক সংগঠনটির দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিলেও মূল প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর কার্যক্রমে তাঁরা আগের মতোই যুক্ত থাকবেন।
সংগঠনটির নেতৃত্ব ও মালিকানা সংক্রান্ত এই বড় পরিবর্তনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে শহীদ ওসমান হাদির উত্তরাধিকারীদের অধিকার এবং আইনি দলিলপত্রের বিষয়টিকে সামনে আনা হয়েছে। জাবের এবং জুমা উভয়েই জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শহীদ ওসমান হাদির ওয়ারিশদের দাবির মুখে এবং বিদ্যমান যাবতীয় নথিপত্রের ওপর ভিত্তি করে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারকে প্রকৃত দাবিদারদের কাছে হস্তান্তর করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল জাবের তাঁর ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, শহীদ ওসমান হাদি জীবদ্দশায় এবং শাহাদাত বরণের পূর্বে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি সেই কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করে যেতে পারেননি। শুরু থেকেই এই সাংস্কৃতিক সংগঠনটিকে জনগণের একটি পবিত্র আমানত হিসেবে পরিচালনা করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল।
তবে গত ছয় মাস ধরে এই সংগঠনের উত্তরাধিকার ও মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান করার চেষ্টা করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি দিন দিন আরও সংকীর্ণ ও জটিল রূপ ধারণ করেছে। শহীদ ওসমান হাদিকে সৃষ্টিকর্তা যে মহান মর্যাদা দিয়েছেন, সেই সম্মানের পবিত্রতা রক্ষা করার স্বার্থেই তাঁর ওয়ারিশদের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সংগঠনটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা তাঁর ফেসবুক পোস্টে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কিছু মতাদর্শিক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বড় রাজনৈতিক দলের লোভনীয় প্রস্তাব ও সুযোগ ফিরিয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ দেশপ্রেম এবং বাংলাদেশপন্থী সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যেই তিনি ইনকিলাবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। তবে সময়ের আবর্তে এই সংগঠনটি তার মূল সাংস্কৃতিক এজেন্ডা ও কর্মকাণ্ডের গণ্ডি পেরিয়ে ক্রমান্বয়ে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে প্রবেশ করতে শুরু করলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
জুমা আরও জানান, শহীদ ওসমান হাদির প্রয়াণের পর থেকেই মূলত এই উত্তরাধিকার সংক্রান্ত সমস্যা ও জটিলতা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। ট্রাস্ট গঠনের সর্বাত্মক চেষ্টা করা হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। পরবর্তী সময়ে এই সমস্যাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য ময়দানে নানা বিতর্ক, কুৎসা, অপপ্রচার ও ব্যক্তিগত মানহানিকর মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ার কারণে তিনি তীব্র মানসিক চাপের সম্মুখীন হন। শহীদ ওসমান হাদির সম্মান অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থেই সমস্ত নথিপত্র সাপেক্ষে সেন্টারটি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।
আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়ে ডাকসুর এই নেত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, শহীদ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে পরিচালিত সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যে ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। তবে এরপর থেকে তাঁর নিজের দায়িত্বকালীন সময়ে সেন্টারের যাবতীয় আর্থিক লেনদেন ও ব্যয়ের হিসাব অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করা হবে। ইনকিলাবের প্রতি দেশের সাধারণ মানুষের যে অগাধ বিশ্বাস ও ভালোবাসা রয়েছে, তার মর্যাদা রক্ষা করতে তাঁরা বদ্ধপরিকর এবং প্রয়োজনে অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংস্কৃতির এই লড়াই জারি রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
/আশিক
সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক ঘোষণা: এবার অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের পড়াশোনা সম্পূর্ণ ফ্রি
দেশের নারী শিক্ষার অভূতপূর্ব প্রসার এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে স্নাতক বা অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের সম্পূর্ণ অবৈতনিক (ফ্রি) শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে মেধা বৃত্তি প্রদানের এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী মহাপরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ বিতরণের সুনির্দিষ্ট সরকারি রোডম্যাপও সংসদে উন্মোচন করেন তিনি।
আজ বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের করা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সম্পূরক প্রশ্নের সরাসরি জবাবে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এই বৃহৎ সিদ্ধান্ত ও দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা দেশবাসীকে জানান।
সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের এক সুনির্দিষ্ট সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান বিএনপি সরকার নারী শিক্ষার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে নারী এম্পাওয়ারমেন্ট বা নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও শক্তিশালী করে তুলতে ইতোমধ্যে দেশব্যাপী বিশেষ ফ্যামিলি কার্ড (Family Card) চালু করেছে।
এর পাশাপাশি আমরা নারী শিক্ষার প্রসারে আরেকটি মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। অতীতে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা ইন্টারমিডিয়েট বা দ্বাদশ (এইচএসসি) শ্রেণী পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফ্রি করেছিলেন। বর্তমান সময়ের বাস্তবতায় নারীদের উচ্চশিক্ষায় আরও উৎসাহিত করতে আমরা এবার ডিগ্রি বা অনার্স (স্নাতক) পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ফ্রি বা অবৈতনিক করতে চাই।’
সংসদের দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজকে অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে আমাদের সংসদের গ্যালারিতে অনেক নারী শিক্ষার্থী সশরীরে উপস্থিত আছে এবং তারা সরাসরি এই ঐতিহাসিক সংসদ অধিবেশনটি প্রত্যক্ষ করছে। আমরা অনার্স পর্যন্ত নারীদের যে শিক্ষা ব্যবস্থা ফ্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কেবল তা-ই নয়; উচ্চশিক্ষার আঙিনায় তাদের মধ্যে যারা মেধার স্বাক্ষর রেখে ভালো রেজাল্ট করবে, তাদের প্রত্যেককে আমরা বিশেষ সরকারি স্কলারশিপ বা মেধা বৃত্তি দিতে চাই।’
পরবর্তীতে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তারের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিকের খুদে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের নেওয়া বড় উপহারের ঘোষণাটি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চাদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।
একই সঙ্গে আমরা প্রতিটি বাচ্চার হাতে উন্নত মানের স্কুল ব্যাগও তুলে দেব। আমি এই পবিত্র সংসদের মাধ্যমে দেশের সকল সম্মানিত সংসদ সদস্যকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই, আমরা পর্যায়ক্রমে সমগ্র বাংলাদেশের সরকারি প্রায় ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম পৌঁছে দেব। বর্তমানে এই ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় এক কোটি ২০ লাখের মতো বাচ্চা পড়াশোনা করছে; আমরা পর্যায়ক্রমে ক্লাস ওয়ান থেকে ফাইভ পর্যন্ত এই বিশাল সংখ্যক সকল বাচ্চার কাছেই এই ফ্রি উপহার পৌঁছানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
/আশিক
দেশের ৬৫ হাজার সরকারি স্কুলের ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে বড় সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশের ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ বিতরণের এক মেগা ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি দেশের ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন, কৃষির আধুনিকায়ন এবং বিগত স্বৈরাচারী আমলের লুটপাটে ধসে যাওয়া পুঁজিবাজারের আমূল সংস্কার নিয়ে বর্তমান সরকারের সুনির্দিষ্ট মহাপরিকল্পনা ও দূরদর্শী উদ্যোগের কথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। আজ বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা জানান।
জাতীয় সংসদে বর্তমান শিক্ষা খাতের বেহাল দশার তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের আমলে শিক্ষা ক্ষেত্রে শুধু বড় বড় বিল্ডিং নির্মাণ ও অবকাঠামোগত চটকদারি দেখানো হয়েছে; কিন্তু প্রকৃত হিউম্যান রিসোর্স বা মানবসম্পদের কোনো গুণগত উন্নয়ন করা হয়নি। বর্তমান সরকার কেবল অবকাঠামো নয়, শিক্ষার মূল মানে জোর দিচ্ছে। এজন্য দেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুব্যবস্থা করার পাশাপাশি ধাপে ধাপে তাঁদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।’
দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি কৃষির অভূতপূর্ব অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিকীকরণ নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া সব রাষ্ট্রায়ত্ত কৃষিভিত্তিক কলকারখানা বর্তমান সরকারের উদ্যোগে আবার চালু করা হবে। সনাতনী বা পুরোনো আমলের চাষাবাদ পদ্ধতির বদলে দেশের সামগ্রিক কৃষিতে আধুনিক ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তির সংযোজন করতে নানামুখী কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।’ এ সময় কৃষিপণ্যের বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, বাংলাদেশ থেকে এবার সরাসরি চীনে পুষ্টিকর ফল কাঁঠাল রপ্তানি করার চুক্তি ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
বিগত ১৬ বছরের চরম অরাজকতায় ধুঁকতে থাকা দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম স্তম্ভ শেয়ারবাজারের শৃঙ্খলা ফেরানো নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে ইতিহাসের নৃশংসতম শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থ লুটের সঙ্গে পর্দার আড়ালে বা সামনে যারা জড়িত ছিল, তাদের প্রত্যেককে কঠোরভাবে চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।’ একই সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ও সংস্কারমুখী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন যুগোপযোগী ও স্বচ্ছ আর্থিক সংস্কারমূলক উদ্যোগের কারণে দেশের পুঁজিবাজার খুব দ্রুতই আবার বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ফিরছে এবং ভালো অবস্থার দিকে যাচ্ছে বলেও তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
/আশিক
রোহিঙ্গা থেকে সেফ সিটি, ঢাকার পাশে ইসলামাবাদ?
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, আধুনিক নগর নিরাপত্তা, পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা এবং মানবিক বিভিন্ন ইস্যুতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে উভয় দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির ইন্টেরিয়র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী। বৈঠকের তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ শাখা এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে।
দুই দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট অপরাধ, মাদক পাচার রোধ, সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা, নগর নিরাপত্তায় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আলোচনার শুরুতে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র মন্ত্রীর ঢাকা সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ওই সফরের ধারাবাহিকতায় মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক পদার্থের অবৈধ পাচার এবং অপব্যবহার প্রতিরোধে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ভবিষ্যতে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ককে আরও ইতিবাচক পর্যায়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
বৈঠকে পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের বিভিন্ন মানবিক সমস্যার বিষয়ও তুলে ধরেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় পারিবারিক নথিপত্র বা ‘ফ্যামিলি ট্রি’ না থাকায় অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পরিবার পাকিস্তানের কম্পিউটারাইজড ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড (সিএনআইসি) সংগ্রহে জটিলতার মুখে পড়ছেন। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টির মানবিক সমাধানে পাকিস্তান সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
নগর নিরাপত্তা আধুনিকায়নের বিষয়েও বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে বাস্তবায়িত ‘সেফ সিটি’ প্রকল্পের প্রশংসা করে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ বিষয়ে কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদ, লাহোর, মুলতান ও করাচির ‘সেফ সিটি’ প্রকল্প পরিদর্শন করেছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের প্রধান শহরগুলোতেও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে।
বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের সহযোগিতা কামনা করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। আধুনিক অপরাধ দমন, সাইবার নিরাপত্তা এবং নগর পুলিশিংয়ের মতো বিষয়ে যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে সৌদি আরবে অবস্থানরত অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে দুই দেশের সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তিনি পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করতে, যাতে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র মন্ত্রী বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাকিস্তান সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ সুবিধাজনক সময়ে ইসলামাবাদ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
-রফিক
জুলাইযোদ্ধার ২০০ আবেদন ভুয়া, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত হওয়ার দাবি করে জমা দেওয়া নতুন আবেদনগুলোর যাচাই-বাছাইয়ে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। সরকারি তদন্তে প্রায় ২০০টি আবেদন সরাসরি ভুয়া বলে শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৬০০টি আবেদনে তথ্যগত অসঙ্গতি, একই ব্যক্তির একাধিক আবেদন, শহীদের পরিচয়ে আহত হিসেবে আবেদন এবং বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদের তালিকা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন আবেদনগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো মোট ২ হাজার ৩৮৮টি আবেদন যাচাই করে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৯০ জনের তথ্য সঠিক পাওয়া গেছে। তাদের জুলাইযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান।
মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তিনটি ক্যাটেগরিতে মোট ১৪ হাজার ৩৭০ জন আহত জুলাইযোদ্ধা সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। নতুন করে যাচাইয়ে উত্তীর্ণ ১ হাজার ৫৯০ জনের নাম যুক্ত হলে মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ১৫ হাজার ৯৬০ জনে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম এখনও বন্ধ হয়নি। নতুন আবেদনগুলোও পর্যায়ক্রমে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা মিললে তাদেরও সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অন্যদিকে, যাদের তথ্য মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর প্রমাণিত হবে কিংবা পূর্বে ভুল তথ্য দিয়ে গেজেটভুক্ত হয়েছেন—তাদের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শুরুতে জুলাই শহীদ ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের প্রথম গেজেট প্রকাশের পর বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরে বিপুলসংখ্যক নতুন আবেদন জমা পড়ে। এসব আবেদনকারীরা নিজেদের আহত জুলাইযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানান।
এর আগে প্রকাশিত গেজেট নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ওঠার পর ১৩ জন শহীদ এবং ২১৯ জন আহত জুলাইযোদ্ধার নাম বাতিল করা হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার কোনো ধরনের বিতর্ক এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে বিস্তারিত তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গেজেট প্রকাশের পর মোট ৩ হাজার ৩১৬টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ২ হাজার ৩৮৮টি আবেদন তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। যাচাই শেষে ১ হাজার ৫৯০টি আবেদন গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের মধ্যে ৭৮৯ জনকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরও ২৭৬ জনের এমআইএস অন্তর্ভুক্তির কাজ চলমান রয়েছে এবং ২১০ জনের তথ্য যাচাই শেষ হয়েছে।
তদন্তে শুধু ভুয়া আবেদনই নয়, বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির চিত্রও উঠে এসেছে। প্রায় ২০০টি আবেদন সরাসরি মিথ্যা হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৬০০টি আবেদন নিয়ে দুই তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এসবের মধ্যে একই ব্যক্তি একাধিকবার আবেদন করেছেন, শহীদের নামে আহত হিসেবে আবেদন করা হয়েছে, আবার কোথাও ব্যক্তিগত তথ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিতে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই বিতর্কিত আবেদনগুলোর মধ্যে আরও প্রায় ১০০টির সত্যতা শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হতে পারে।
তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, অনেক আবেদনকারী আহত হওয়ার দাবির পক্ষে গ্রহণযোগ্য চিকিৎসা নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। কোথাও চিকিৎসার কাগজপত্র মিলেনি, কোথাও জমা দেওয়া ছবি ও তথ্য যাচাই করে অসত্য প্রমাণিত হয়েছে। এমনকি একজন শহীদের পরিচয় ব্যবহার করে আহত হিসেবে আবেদন করার ঘটনাও তদন্তে ধরা পড়েছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিশাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন বলেছেন, প্রকৃত আহত ব্যক্তিদের যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতেই প্রতিটি আবেদন কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। কোনো ভুয়া আবেদনকারী যাতে সরকারি সুবিধা বা গেজেটভুক্তির সুযোগ না পান, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে সরকারি গেজেট অনুযায়ী জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ৮৪৩ জন শহীদ এবং আহত তিন শ্রেণিতে মোট ১৪ হাজার ৩৭০ জন স্বীকৃতি পেয়েছেন। সরকারি নীতিমালা অনুসারে শহীদ পরিবারের জন্য এককালীন ৩০ লাখ টাকা, মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা, আবাসনসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে আহতদের জন্য ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী এককালীন আর্থিক সহায়তা, নিয়মিত ভাতা, চিকিৎসা ও প্রশিক্ষণ সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে জুলাইযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। সরকারের লক্ষ্য হলো, কেবল প্রকৃত অংশগ্রহণকারীদেরই সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে এই তালিকা নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্ক বা প্রশ্নের সুযোগ না থাকে।
-রফিক
সাইবার প্রযুক্তির পরীক্ষা জালিয়াতি রুখতে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের মেগা বিল পাস
ডিজিটাল কারসাজি, প্রশ্নপত্র ফাঁস, জাল সনদ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সব ধরনের পরীক্ষা জালিয়াতির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তির আইনি বিধান রেখে বহুল প্রতীক্ষিত ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ আজ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বাংলাদেশের পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থার ঐতিহ্যগত স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরীক্ষা পদ্ধতির সুষ্ঠুতা বজায় রাখার বজ্রকঠিন লক্ষ্য নিয়েই এই যুগোপযোগী বিলটি প্রণয়ন ও পাস করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে তা উপস্থিত সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। এই নতুন বিলের মাধ্যমে সুদীর্ঘ ৪৫ বছর পুরোনো ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০’-এর অচল ও দুর্বল বিধানগুলো সংশোধন করে বর্তমানের সাইবার প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা জালিয়াতি এবং সিন্ডিকেটভিত্তিক নতুন ধরনের অনিয়ম কঠোরভাবে মোকাবিলার আইনি রাস্তা উন্মুক্ত করা হয়েছে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রায় সাড়ে চার দশক আগে প্রণীত বিদ্যমান আইনটি সনাতন পদ্ধতির নকল ও অনিয়ম প্রতিরোধের জন্য করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে আধুনিক সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পূর্বের আইনের বিধানগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
এই সংশোধনীতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো 'ডিজিটাল কারসাজি'-এর একটি আধুনিক আইনি সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে; যার আওতায় পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য পরিবর্তন, জালিয়াতির মাধ্যমে সংশোধন, রেজাল্ট মুছে ফেলা বা গোপন করাকে কঠোর অপরাধের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন সংযোজিত ধারা ৫এ (5A) অনুযায়ী, ডিজিটাল কারসাজির এই অপরাধে অপরাধীকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, মোটা অঙ্কের অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের আইনি বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নকল প্রতিরোধে ধারা ৩এ (3A) সংযোজন করে পরীক্ষা কর্তৃপক্ষের নিষিদ্ধ ঘোষিত যেকোনো ধরনের স্মার্ট বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে বা নেওয়ার চেষ্টা করে পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশ করা এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত বৈধ নির্দেশনা ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। অন্যদিকে, দেশজুড়ে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র ফাঁসের মরণব্যাধির শাস্তি আরও কঠোর করতে বিদ্যমান ধারা ৮ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এখন থেকে পরীক্ষার আগে যেকোনো উপায়ে প্রশ্নপত্র বা উত্তরপত্র নিজের কাছে অবৈধভাবে রাখা, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা অন্য উপায়ে প্রকাশ, প্রচার বা বিতরণ করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।
শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও অনুমোদনহীন পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন বা পরিচালনাকে শক্ত হাতে রুখতে নতুন ধারা ৯এ (9A) যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে অবৈধ কেন্দ্র পরিচালনায় জড়িত ব্যক্তি এবং জেনেশুনে অবৈধ পরীক্ষার জন্য নিজস্ব স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া মালিকদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের স্বেচ্ছাচারিতা ও কারসাজি ঠেকাতে ধারা ১০এ (10A) সংযোজন করা হয়েছে; কোনো পরীক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত বা কম নম্বর প্রদান কিংবা এ ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে পরীক্ষার ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের মুখোমুখি হবেন।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, ধারা ১২এ (12A)-এর মাধ্যমে কোনো কোচিং সেন্টার, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন বা সেবাদানকারী সংস্থা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধে সহায়তা করলে বা কর্মীদের যথাযথ তদারকি করতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রাতিষ্ঠানিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বড় সুযোগ রাখা হয়েছে।
তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে নতুন ধারা ১৩এ (13A)-তে বলা হয়েছে, এ আইনের অধীনে অভিযুক্ত কোনো শিশুর বিচার সাধারণ আদালতে নয়, বরং ‘শিশু আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী কিশোর বিচারব্যবস্থার বিশেষ আওতায় পরিচালিত হবে। এছাড়া নতুন ধারা ১৩বি (13B)-তে সৎ উদ্দেশ্যে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধের তথ্য ফাসকারী বা প্রকাশকারী তথ্যদাতাদের (হুইসেলব্লোয়ার) সব ধরনের দেওয়ানি, ফৌজদারি বা বিভাগীয় প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা থেকে পূর্ণ আইনি সুরক্ষা দেওয়ার এক যুগান্তকারী বিধান রাখা হয়েছে।
সংশোধিত এই নতুন আইনে সব ধরনের পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধকে সম্পূর্ণ ‘আমলযোগ্য’ (কগনিজেবল) ও অ-জামিনযোগ্য করা হয়েছে, যাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আদালতের পূর্বানুমতি বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই অপরাধীদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করে ব্যবস্থা নিতে পারে। ঢাকা ও অন্যান্য মহানগর এলাকায় মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা পর্যায়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্রুততম সময়ে সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে (Summary Trial) এসব মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করবেন।
/আশিক
সংসদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কুশল বিনিময়
জাতীয় সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করতে আসা দেশের বিভিন্ন খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কুশল বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি তরুণ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে নিজেদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানান।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের মাগরিবের নামাজের বিরতির সময় প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবনেই এসব শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
বর্তমান সরকারের বিশেষ উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংসদ ভবনের ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলী পরিদর্শন এবং সরাসরি সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার এক অনন্য সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন বিদেশি শিক্ষার্থীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এই সংসদ ভবন পরিদর্শনে অংশ নেন।
দুপুরে জাতীয় সংসদে এসে তারা প্রথমে সংসদ ভবনের বিশ্ববিখ্যাত স্থাপত্যশৈলী ঘুরে দেখেন, সংসদীয় লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন এবং ভবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্মৃতিচারণমূলক ছবি তোলেন। পরবর্তীতে তারা মূল গ্যালারিতে বসে সরাসরি সংসদ অধিবেশনের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। এরপর নামাজের বিরতি শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাদের সরাসরি সাক্ষাতের এক চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানান, পরিদর্শনে আসা দলগুলোর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিলিয়ে ৬৯ জন অংশ নেন।
এছাড়া ঢাকার ঐতিহ্যবাহী নটর ডেম কলেজ থেকে ৪৩ জন শিক্ষার্থী ও ১০ জন শিক্ষক, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইডের (BLAST) মাধ্যমে আসা যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের (University of Oxford) চারজন বিদেশি শিক্ষার্থীসহ আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এবং সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের (CGS) ১৮ সদস্যের একটি বিশেষ প্রতিনিধিদলও এদিন সংসদ অধিবেশন সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন। প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য আলাপকালে তাদের পড়াশোনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিশদ জানতে চান এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও টেকসই অগ্রযাত্রায় অবদান রাখতে আধুনিক জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
/আশিক
শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও বর্ষায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিস্তারিত ছক জানালেন এ্যানি
উত্তরাঞ্চলের জীবন-মরণ সমস্যা তিস্তা নদীর টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়নে নেওয়া ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’র (Teesta Mega Plan) আওতায় ১১০ কিলোমিটার নদীশাসন, ১১০ কিলোমিটার ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণ, ৬৭টি গ্রোয়েন ও স্পার নির্মাণ-মেরামত এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার দীর্ঘ ভূমি পুনরুদ্ধারের মেগা প্রস্তাব করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজীর এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে এই তথ্য জানান পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
জাতীয় সংসদে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, তিস্তা নদী বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণসহ নানা ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। ফলে তিস্তা সেচ প্রকল্পসহ সামগ্রিক কৃষি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
অন্যদিকে, বর্ষা মৌসুমে উজানের অতিবৃষ্টির কারণে উত্তরবঙ্গে আকস্মিক বন্যা ও তীব্র নদীভাঙনের সৃষ্টি হয়। এই সংকট মোকাবিলায় তিস্তা অববাহিকার পাঁচটি জেলা—রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটে নদীভাঙন রোধে ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২২২ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ইতোমধ্যে ৪২ দশমিক ১৭ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণকাজ সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক এই টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (Feasibility Study) সম্পন্ন হয়েছে। সেই সমীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই নদীশাসন, ড্রেজিং, বাঁধ ও সড়ক নির্মাণ, স্পার মেরামত এবং ১৭০ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধারের মতো বিশাল প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানান, সমীক্ষার কারিগরি ও আর্থিক বিষয়গুলো বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এই মেগা প্রকল্পটি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ ও সেচসুবিধা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে, যা কৃষি উৎপাদন ও ফসলের বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করবে।
পাশাপাশি নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন রাস্তা, সেতু ও বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে স্থানীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস, নৌযোগাযোগের আধুনিকায়ন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের এক নতুন সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে বলে সমীক্ষা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
/আশিক
ঢামেকের ৮০ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: আট দশকের অবদান জাতির গর্ব
ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) গৌরবময় ৮০ বছর পূর্তি ও ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন ও বর্তমান সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এক বিশেষ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, “বিগত আট দশকে দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য সেবায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের অনন্য অবদান সমগ্র জাতির জন্য এক পরম গর্বের বিষয়।”
শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “একটি জাতির সার্বিক অগ্রগতি শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে না; তা মূলত নির্ভর করে একটি সুস্থ, দক্ষ ও মানবিক জনগোষ্ঠীর ওপর। আর সেই ভিত্তিটি মজবুতভাবে নির্মাণে মানসম্মত চিকিৎসা শিক্ষা, উন্নত চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষণা ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার ভূমিকা অপরিসীম। এই ধারাকে আরও যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করতে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।”
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ঐতিহাসিক পথচলার স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, “১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান প্রধান বাতিঘর হিসেবে গড়ে উঠেছে। দীর্ঘ এই পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি অসংখ্য বিশ্বমানের দক্ষ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক চিকিৎসক তৈরি করেছে, যাঁরা দেশে ও বিদেশে নিজেদের পেশাগত উৎকর্ষ, নেতৃত্ব এবং নিঃস্বার্থ সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের মর্যাদাকে বিশ্বমঞ্চে সমুন্নত রেখেছেন।”
জাতীয় ক্রান্তিলগ্নে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানসহ প্রতিটি জাতীয় সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিনিয়ত ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের অবিস্মরণীয় অবদান জাতি চিরকাল গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”
বর্তমান পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্র অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ তার গৌরবময় ঐতিহ্যকে ধারণ করে আগামী দিনেও বিশ্বমানের চিকিৎসক, বিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্যনেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।”
একই সাথে তিনি দেশে-বিদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত ঢামেকের সকল শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনাদের প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক কল্যাণ, বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা সহায়তা এবং জাতীয় ক্রান্তিলগ্নে সাধারণ রোগীদের সেবায় আরও নিবিড়ভাবে এগিয়ে আসুন। এতে এই মহান প্রতিষ্ঠানের প্রতি আপনাদের ঋণ কিছুটা হলেও শোধ হবে।”
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- মেসির পেনাল্টি মিস নিয়ে তর্ক, সংঘর্ষে নিহত ১
- কুমিল্লা আন্তঃজেলার ৭ ডাকাত সর্দার গ্রেফতার খুন, ধর্ষণ, ডাকাতিসহ ১৫-২০টি করে মামলা
- ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের শীর্ষ পদ থেকে জাবের ও জুমার পদত্যাগ
- আজ রাতেও ইরানে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- এফবিআইয়ের কঠোর তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনার ফুটবল প্রশাসন
- আর্জেন্টিনার বিতর্কিত জয় নিয়ে এবার মুখ খুললেন বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তিরা
- মাঠের উত্তেজনা ছাড়িয়ে আর্জেন্টিনার জয়ে কাঠগড়ায় রেফারিং, জবাব দিলেন মেসি
- জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার থেকে নির্দিষ্ট এলাকায় ২৪ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধের ঘোষণা
- স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- মার্কিন প্রেসিডেন্টের এক ঘোষণায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস
- ঢাকার ট্রাফিক জট নিরসনে চার মাসের মেগা পরিকল্পনা কাঁচপুরে
- নির্বাচনে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১১ দলকে হারানো হয়েছে: শফিকুর রহমান
- সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক ঘোষণা: এবার অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের পড়াশোনা সম্পূর্ণ ফ্রি
- দেশের ৬৫ হাজার সরকারি স্কুলের ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে বড় সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: ৮ জুলাই মার্কিন-ইরান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের ঘোষণা ট্রাম্পের
- ৮ জুলাই ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৮ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৮ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- রোহিঙ্গা থেকে সেফ সিটি, ঢাকার পাশে ইসলামাবাদ?
- আর্জেন্টিনার জয়ের পর ক্ষুব্ধ মিশর, ‘ম্যাচ পাতানো’ অভিযোগ
- বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল: কার প্রতিপক্ষ কে? দেখুন সূচি
- জুলাইযোদ্ধার ২০০ আবেদন ভুয়া, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
- ৮ জুলাইয়ের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- ইরাকে পৌঁছেছে খামেনির মরদেহ, আজ কারবালায় শোকযাত্রা
- এক ধাক্কায় কমল স্বর্ণের দাম, নতুন ভরি কত
- বুধবার কোথায় বন্ধ দোকান-মার্কেট? দেখে নিন তালিকা
- মার্কিন হামলার পর ইরানের হুঁশিয়ারি, ‘আরও কঠোর জবাব দিব’
- খেলা জিতে চোখের জলে মেসির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
- ফিলিস্তিনের কষ্ট যে বোঝে না সে মানুষই না: মিসরীয় কোচ
- সাইবার প্রযুক্তির পরীক্ষা জালিয়াতি রুখতে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের মেগা বিল পাস
- সংসদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কুশল বিনিময়
- পাহাড়ধসের তীব্র ঝুঁকি: অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো সাজেক ভ্যালি
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ ভেন্যুতে বিশ্বকাপের খেলা সম্প্রচার সাময়িক বন্ধ
- ৭ বারের আফ্রিকা সেরা মিসরের মুখোমুখি আর্জেন্টিনা: সতর্ক স্কালোনি
- এক দলের বদলে অন্য দলের লুটপাটের জন্য ছাত্র-জনতা জীবন দেয়নি: নাহিদ ইসলাম
- বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নিশ্চিত ৬ পরাশক্তি, কার সামনে কোন প্রতিপক্ষ?
- শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও বর্ষায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিস্তারিত ছক জানালেন এ্যানি
- বাবা হিসেবে সবকিছু আবারও করতে প্রস্তুত: ভেঙে পড়া নেইমারকে বাবার আবেগঘন চিঠি
- ঢামেকের ৮০ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: আট দশকের অবদান জাতির গর্ব
- বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন শেষ
- গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারিতে মার্কিন নির্ভরতা: ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বড় দুর্বলতা ফাঁস
- যুদ্ধবিধ্বস্ত কিয়েভের চেয়েও পিছিয়ে: বিশ্বের অন্যতম কম বাসযোগ্য শহর হিসেবে ঢাকার রেকর্ড
- মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত, সিলেট সার্কিট হাউসে সুখবর দিলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী
- ৭ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৭ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২০৩০ বিশ্বকাপ কোথায়? জানুন সব ভেন্যু
- ঢাকাসহ ১৭ জেলায় বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস, সতর্কতা জারি
- আজ ১৬ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
- আজকের ক্রীড়াসূচি: বিশ্বকাপ, উইম্বলডন ও টি-টোয়েন্টি
- মঙ্গলবারের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় প্রকাশ
- নরওয়ের বিপক্ষে নেইমার খেলবেন? জানালেন আনচেলত্তি
- ‘ইরান এখন সমঝোতায় মরিয়া’, খামেনির দাফনে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দিলাম: ট্রাম্প
- আরাগচি-গালিবাফ হত্যাচেষ্টার খবর নাকচ ইসরায়েলের
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি
- এলপিজির নতুন দর নিয়ে বড় ঘোষণা আজ
- স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন মূল্য
- রোনালদোর ম্যাচসেরা পুরস্কার ঘিরে তুমুল বিতর্ক
- ‘নেতানিয়াহু জানেন, আসল বস কে’- ট্রাম্প
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- খামেনির কফিন ঘিরে আবেগে ভাসছে তেহরান
- ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’: সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার শিক্ষা
- ‘অন্য ভাষায় জবাব পাবেন’ ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান
- আরাগচি-গালিবাফকে ঘিরে হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের, ইরানকে আগাম সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের
- সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে গতি, সূচকে শক্তিশালী উত্থান
- তাপপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু, এবার ঝড়-বন্যার নতুন শঙ্কা








