বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে সম্পদমূল্যের ধস: এক প্রান্তিকে ১০ কোম্পানির পতন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর জানুয়ারি-মার্চ ২০২৫ প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট প্রান্তিকে ২১টি কোম্পানির মধ্যে ১০টির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (Net Asset Value Per Share - NAVPS) কমেছে। অন্যদিকে, ১১টি কোম্পানির সম্পদমূল্যে উর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
এনএভিপিএস হচ্ছে একটি কোম্পানির মোট নিট সম্পদের পরিমাণকে মোট শেয়ারের সংখ্যায় ভাগ করে নির্ধারিত একটি সূচক, যা কোম্পানিটির প্রকৃত আর্থিক অবস্থার প্রতিফলন ঘটায়। সাধারণত এনএভিপিএস বৃদ্ধির মানে হলো কোম্পানির স্থিতিশীলতা বাড়ছে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে। তবে এনএভিপিএস কমে যাওয়া সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ব্যালান্স শিট দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে।
২০২৫ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অন্তর্ভুক্ত ২১টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ৯টি কোম্পানির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (NAVPS) হ্রাস পেয়েছে। এই হ্রাস পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে-
বারাকা পাওয়ার, যার এবারের এনএভিপিএস হয়েছে ২২ টাকা ৫৬ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ২২ টাকা ৬৮ পয়সা অর্থাৎ ১২ পয়সা কমেছে। একইভাবে, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার কোম্পানির সম্পদমূল্য ২৭ টাকা ০৯ পয়সা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ০৩ পয়সায় কমেছে ৬ পয়সা।
ডেসকো সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হ্রাসের মধ্যে অন্যতম, যাদের এনএভিপিএস এক বছরে ৪৩ টাকা ৫১ পয়সা থেকে কমে ৩৬ টাকা ১৬ পয়সায় নেমে এসেছে, অর্থাৎ ৭ টাকা ৩৫ পয়সার উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। ডরিন পাওয়ার-এর সম্পদমূল্যও কিছুটা কমে ৫২ টাকা ৩৪ পয়সা থেকে ৫২ টাকা ২৮ পয়সায় নেমেছে হ্রাস মাত্র ৬ পয়সা।
এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির সম্পদমূল্য কমেছে তুলনামূলকভাবে বেশি, ৪২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে কমে ৩৭ টাকা ১৩ পয়সায় এসে দাঁড়িয়েছে, যার মানে ৫ টাকা ৬২ পয়সার পতন।
সবচেয়ে বড় হ্রাস দেখা গেছে লিন্ডে বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ক্ষেত্রে। এ কোম্পানির এনএভিপিএস ৩৯৮ টাকা ৩৪ পয়সা থেকে ২৩৪ টাকা ৬৩ পয়সায় নেমে এসেছে, অর্থাৎ প্রায় ১৬৩ টাকা ৭১ পয়সার বিশাল পতন হয়েছে।
লুবরেফ (বাংলাদেশ) কোম্পানির সম্পদমূল্যও কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ৪৪ পয়সা থেকে ৩৭ টাকা ৪৪ পয়সায় হ্রাস ১ টাকা। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ-এর এনএভিপিএস ১৭৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে ১৩৯ টাকা ১১ পয়সা হয়েছে, অর্থাৎ ৩৪ টাকা ৩৯ পয়সার পতন ঘটেছে।
সবশেষে, শাহজীবাজার পাওয়ার কোম্পানির সম্পদমূল্য ৩৯ টাকা ৩৮ পয়সা থেকে কমে ৩৮ টাকা ৫৫ পয়সায় নেমেছে হ্রাস ৮৩ পয়সা।
এই কমতির অন্যতম কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে বিনিয়োগ ও উৎপাদন ব্যয়ে বৃদ্ধি, উচ্চ সুদহার, জ্বালানি খাতে অপচয়, এবং বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতার কারণে কাঁচামালের আমদানিতে চাপ। বিশেষ করে লিন্ডে বিডি ও পাওয়ারগ্রিডের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর এনএভিপিএসে বড় ধরনের পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
যদিও ১০টি কোম্পানির সম্পদমূল্য কমেছে, অন্যদিকে ১১টি কোম্পানি এনএভিপিএস বৃদ্ধির দিক থেকে স্থিতিশীলতা ও আর্থিক সক্ষমতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এগুলো হচ্ছে: ইউনাইটেড পাওয়ার, এমজেএল বাংলাদেশ, সামিট পাওয়ার, রেনাটা (এনার্জি ডিভিশন), তিতাস গ্যাস, ওসিজিসিএল, বিএম ফিড, ওমেরা ফুয়েলস, ওমেরা পেট্রোলিয়াম, জেএমআই ইন্ডাস্ট্রিজ এবং পারটেক্স স্টার ইনফ্রাস্ট্রাকচার।
তবে এদের বিস্তারিত এনএভিপিএস প্রতিবেদন এই সংবাদে অন্তর্ভুক্ত হয়নি; পাঠকরা ডিএসইর ওয়েবসাইটে তা খুঁজে নিতে পারবেন।
ডিএসই তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে অনেকের এনএভিপিএস এক বছরের ব্যবধানে সামান্য হলেও হ্রাস পেয়েছে। ডলার সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের দামে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই খাতের কোম্পানিগুলো নিট সম্পদে স্থবিরতা অনুভব করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন পরিকল্পনা এবং ব্যয় সংকোচন কৌশল গ্রহণ না করলে এই খাতের আরও কিছু কোম্পানি এনএভিপিএস হ্রাসের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বিনিয়োগকারীদের উচিত এনএভিপিএস কমে যাওয়া কোম্পানিগুলোর কারণ বিশ্লেষণ করা এবং অস্থির সময়ে ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে বিনিয়োগ করা। এই সূচকটি দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির আর্থিক স্বাস্থ্য ও বাজারমূল্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
-রাফসান, নিজস্ব প্রতিবেদক
বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত একাধিক মিউচুয়াল ফান্ড ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাদের দৈনিক নিট সম্পদ মূল্য (Net Asset Value–NAV) প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত এই তথ্য বিশ্লেষণ করলে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, দেশের মিউচুয়াল ফান্ড খাত এখনো দীর্ঘদিনের বাজার মন্দা, আস্থাহীনতা এবং তারল্য সংকটের চাপ থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেনি। অধিকাংশ ফান্ডের বাজারদরভিত্তিক NAV এখনো ফেস ভ্যালু ১০ টাকার নিচে অবস্থান করছে, যা বিনিয়োগকারীদের মনস্তত্ত্ব ও বাজারের সামগ্রিক দুর্বলতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
CAPITECGBF, GLDNJMF, NCCBLMF1, ICBAGRANI1, LRGLOBMF1, MBL1STMF, ICBSONALI1, AIBL1STIMF, GREENDELMF, TRUSTB1MF, POPULAR1MF, PHPMF, FBFIF, EBL1STMF, 1JANATAMFসহ অধিকাংশ মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারদরভিত্তিক NAV ৬ থেকে ৯ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। অথচ একই ফান্ডগুলোর কস্ট প্রাইস ভিত্তিক NAV প্রায় সব ক্ষেত্রেই ফেস ভ্যালুর ওপরে অবস্থান করছে। এই ব্যবধান স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, ফান্ডগুলোর অন্তর্নিহিত সম্পদমূল্য বাজারে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না।
বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, অনেক বড় আকারের মিউচুয়াল ফান্ডেও এই দুর্বলতা বিদ্যমান। উদাহরণ হিসেবে TRUSTB1MF, POPULAR1MF, PHPMF, FBFIF এবং 1JANATAMF–এর মতো ফান্ডগুলোর মোট নিট সম্পদের পরিমাণ হাজার কোটি টাকার ঘরে থাকলেও বাজারদরের NAV তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত নিচে অবস্থান করছে। এতে বোঝা যায়, শুধুমাত্র তহবিলের আকার বড় হওয়াই বাজারে আস্থা ফেরানোর জন্য যথেষ্ট নয়; বরং বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটই এখানে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।
অন্যদিকে, সামগ্রিক দুর্বলতার মধ্যেও কিছু ব্যতিক্রমী চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। RELIANCE1 এবং GRAMEENS2 মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারদরভিত্তিক NAV তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে GRAMEENS2–এর বাজারদরের NAV ফেস ভ্যালুর ওপরে অবস্থান করছে, যা বর্তমান বাজার বাস্তবতায় একটি বিরল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ফান্ডগুলোর পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা, সম্পদ নির্বাচন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো হওয়ায় তারা এই চাপের মধ্যেও ইতিবাচক অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজারদরভিত্তিক NAV এবং কস্ট প্রাইস ভিত্তিক NAV–এর মধ্যে এই বড় ব্যবধান মূলত শেয়ারবাজারের দীর্ঘস্থায়ী মন্দাভাব, বিনিয়োগকারীদের স্বল্পমেয়াদি মনোভাব এবং ইউনিটের প্রতি চাহিদার ঘাটতির ফল। তাদের মতে, এটি মৌলিকভাবে সব ফান্ডের দুর্বলতা নির্দেশ করে না; বরং বাজারচক্র ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব এখানে বড় ভূমিকা রাখছে।
-রফিক
রেকর্ড ডেটের আগে ও দিনে বন্ধ যে বন্ড
বাংলাদেশ সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি একটি ট্রেজারি বন্ডে রেকর্ড ডেট উপলক্ষে সাময়িকভাবে লেনদেন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রকাশিত তথ্যমতে, ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ট্রেজারি বন্ড ১৩/০৭/২০২৭, যার ট্রেডিং কোড TB5Y0727, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্দিষ্ট দুই দিন লেনদেনের বাইরে থাকবে।
ঘোষণা অনুযায়ী, রেকর্ড ডেটের আগের দিন ১১ জানুয়ারি ২০২৬ এবং রেকর্ড ডেটের দিন ১২ জানুয়ারি ২০২৬—এই দুই দিনে উক্ত সরকারি বন্ডে কোনো ধরনের লেনদেন কার্যক্রম পরিচালিত হবে না। রেকর্ড ডেট সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বন্ডটির লেনদেন পুনরায় স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি ট্রেজারি বন্ডের ক্ষেত্রে এ ধরনের সাময়িক স্থগিতাদেশ একটি নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ। রেকর্ড ডেট মূলত কুপন বা সুদ প্রাপ্য বিনিয়োগকারীদের তালিকা নির্ধারণের জন্য নির্ধারিত হয়। এই সময়কালে লেনদেন বন্ধ রাখার উদ্দেশ্য হলো, বিনিয়োগকারীদের অধিকার সুরক্ষা এবং হিসাব সংক্রান্ত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
-রফিক
রেকর্ড ডেট শেষে ফের লেনদেনে ফিরছে দুই সরকারি বন্ড
রেকর্ড ডেট সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের দুটি ট্রেজারি বন্ডে পুনরায় লেনদেন শুরু হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রকাশিত তথ্যমতে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে এই বন্ডগুলোতে আবারও নিয়মিত লেনদেন চালু হবে।
পুনরায় লেনদেনে ফিরছে ০২ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ট্রেজারি বন্ড ০৯/০৭/২০২৭, যার ট্রেডিং কোড TB2Y0727। একই তারিখে বাজারে লেনদেন শুরু হবে ০৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ট্রেজারি বন্ড ১১/০১/২০২৮, যার ট্রেডিং কোড TB5Y0128।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, রেকর্ড ডেট শেষে সরকারি বন্ডে লেনদেন পুনরারম্ভ একটি নিয়মিত ও প্রত্যাশিত প্রক্রিয়া। রেকর্ড ডেট মূলত সুদ বা কুপন প্রাপ্য বিনিয়োগকারীদের তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য নির্ধারিত হয়। এই সময়কালে সাময়িকভাবে লেনদেন বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে বন্ডগুলো আবারও বাজারে সক্রিয় হয়ে ওঠে।
-রফিক
সমতা লেদারের বার্ষিক নিরীক্ষায় উদ্বেগের বিষয়গুলো
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সমতা লেদার (SAMATALETH)–এর সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন নিরীক্ষক। ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য প্রকাশিত অডিট রিপোর্টে Qualified Opinion, Emphasis of Matter এবং Other Matter শীর্ষক আলাদা অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।
নিরীক্ষকের দেওয়া Qualified Opinion সাধারণত নির্দেশ করে যে, আর্থিক বিবরণীর কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে নিরীক্ষক পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত প্রমাণ পাননি অথবা কিছু সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান। যদিও সামগ্রিকভাবে হিসাব বাতিল করা হয়নি, তবুও এই মতামত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনসংক্রান্ত কিছু দুর্বলতা বা অনিশ্চয়তার দিকে ইঙ্গিত দেয়।
অডিট রিপোর্টে থাকা Emphasis of Matter অনুচ্ছেদে এমন কিছু বিষয়ের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, যেগুলো আর্থিক বিবরণীতে উল্লেখ থাকলেও বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে আলাদাভাবে বিবেচনা প্রয়োজন। এসব বিষয় সাধারণত চলমান ঝুঁকি, গুরুত্বপূর্ণ হিসাব নীতি বা ভবিষ্যৎ আর্থিক অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
এছাড়া Other Matter অনুচ্ছেদে নিরীক্ষা প্রক্রিয়া বা রিপোর্ট বোঝার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক কিছু প্রসঙ্গ যুক্ত করা হয়েছে, যা সরাসরি অংকের সঙ্গে সম্পর্কিত না হলেও কর্পোরেট গভর্ন্যান্স ও রিপোর্টিং কাঠামোর প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক পর্যবেক্ষণসহ অডিট মতামত পাওয়া মানে সমতা লেদার–এ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য কোম্পানির ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং ভবিষ্যৎ নগদ প্রবাহ গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, নিরীক্ষকের পূর্ণাঙ্গ মতামত ও বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নথিতে পাওয়া যাবে।
-রফিক
৭ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ বাজার বিশ্লেষণ
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বুধবারের লেনদেন শেষ হয়েছে মিশ্র প্রবণতার মধ্য দিয়ে। মোট ৩৮৮টি শেয়ার ও সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশ নেয়, যার মধ্যে ১৯৩টির দর বেড়েছে, ১৩১টির দর কমেছে এবং ৬৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একইসঙ্গে আশাবাদ ও সতর্কতার মনোভাব কাজ করেছে।
ক্যাটাগরি ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ২০৫টি শেয়ারের মধ্যে ১০৬টির দর বৃদ্ধি পেয়েছে, বিপরীতে ৬৫টির দর কমেছে। এটি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ও শক্তিশালী কোম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার ইঙ্গিত দেয়। বি ক্যাটাগরিতে ৮০টি শেয়ারের মধ্যে ৪১টি বেড়েছে এবং ২৬টি কমেছে, যা মাঝারি মানের কোম্পানিগুলোতেও আগ্রহ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত বহন করে।
অন্যদিকে, জেড ক্যাটাগরিতে ১০৩টি শেয়ার লেনদেন হলেও সেখানে উত্থান ও পতনের সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি ছিল। ৪৬টি শেয়ারের দর বাড়লেও ৪০টির দর কমেছে, যা আর্থিকভাবে দুর্বল বা অনিয়মিত কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের দ্বিধাগ্রস্ত মনোভাবকে তুলে ধরে।
মিউচুয়াল ফান্ড খাতে আজ কিছুটা চাপ লক্ষ্য করা গেছে। মোট ৩৪টি ফান্ড লেনদেনে অংশ নিলেও এর মধ্যে মাত্র ৫টির দর বেড়েছে, বিপরীতে ৯টির দর কমেছে এবং ২০টি অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদি মুনাফা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ইউনিট দামের স্থবিরতা এ খাতে প্রভাব ফেলেছে।
লেনদেন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আজ মোট ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে। মোট শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ কোটি ৭০ লাখ, আর আর্থিক মূল্যে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৪৬৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এই পরিসংখ্যান সাম্প্রতিক দিনের তুলনায় বাজারে সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।
বাজার মূলধনের দিক থেকে ডিএসইতে সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। ইকুইটি সেগমেন্টে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা, মিউচুয়াল ফান্ডে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, এবং ডেট সিকিউরিটিজে প্রায় ৩৫ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মোট বাজার মূলধন অতিক্রম করেছে ৬৮ লাখ কোটি টাকা, যা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য আস্থার জায়গা তৈরি করে।
আজকের ব্লক মার্কেট লেনদেনে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি শেয়ারে বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে। বিশেষ করে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ওরিয়ন ইনফিউশন, গ্রামীণফোন এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংকের শেয়ার ব্লক ট্রানজ্যাকশনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। মোট ২৪টি সিকিউরিটিজে ৬৯টি ব্লক ট্রেড সম্পন্ন হয়ে প্রায় ২৫৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, আজকের ডিএসই বাজারচিত্রে স্পষ্ট হয় যে বাজারে গতি থাকলেও বিনিয়োগকারীরা এখনো পুরোপুরি ঝুঁকি নিতে আগ্রহী নন। শক্তিশালী কোম্পানি ও ব্লক মার্কেটের শেয়ারে আগ্রহ বাড়লেও দুর্বল খাতগুলোতে সতর্কতা বজায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনগুলোতে নীতিগত স্থিতিশীলতা ও কর্পোরেট পারফরম্যান্স বাজারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রাখবে।
-রফিক
ডিএসইতে আজ দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বুধবারের লেনদেন শেষে কয়েকটি শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের দর তুলনায় দেখা যায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগ তহবিলভিত্তিক শেয়ারগুলোতেই সবচেয়ে বেশি বিক্রিচাপ তৈরি হয়েছে, যা বাজারে সতর্ক মনোভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দিনের সর্বোচ্চ দরপতনকারী শেয়ারের তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছে ফেয়ারইস্ট ফাইন্যান্স এবং আইএলএফএসএল। উভয় কোম্পানির শেয়ারই আগের দিনের ৫৭ পয়সা থেকে কমে ৫১ পয়সায় নেমে আসে, যা শতকরা প্রায় ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ দরপতনের প্রতিফলন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের আর্থিক দুর্বলতা ও আস্থার সংকট এই পতনের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে এফএএস ফাইন্যান্স। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ কমে ৫৭ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে। একইভাবে প্রিমিয়ার লিজিং–এর শেয়ার প্রায় ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ দর হারিয়ে ৪৯ পয়সায় নেমে এসেছে।
তালিকার পঞ্চম স্থানে থাকা প্রাইম ফাইন্যান্স–এর শেয়ারদর ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ১ টাকা ১০ পয়সায় সীমাবদ্ধ থাকে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ এই দরপতনের অন্যতম কারণ।
ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে পিপলস লিজিং। দিন শেষে শেয়ারটির দর প্রায় ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ কমে ৪৭ পয়সায় দাঁড়ায়। এর পাশাপাশি শিল্প খাত থেকে আরএসআরএম স্টিল–এর শেয়ারও উল্লেখযোগ্য চাপের মুখে পড়ে প্রায় ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ দর হারিয়েছে।
এছাড়া আর্থিক খাতের আরও দুটি শেয়ার বিআইএফসি এবং জিএসপি ফাইন্যান্স উভয়ই প্রায় ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ দরপতন নিয়ে তালিকায় উঠে এসেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা বাড়ায় এসব শেয়ারে বিক্রি বেড়েছে বলে মনে করছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা।
দশম অবস্থানে থাকা ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড–এর ইউনিট দরও প্রায় ৬ দশমিক ০৬ শতাংশ কমে ৩ টাকা ১০ পয়সায় নেমে আসে, যা মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও স্বল্পমেয়াদি চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, আজকের শীর্ষ দরপতনকারী শেয়ারগুলোর তালিকা বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয় যে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগ তহবিলভিত্তিক কোম্পানিগুলোর ওপরই বিক্রির চাপ সবচেয়ে বেশি ছিল। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বচ্ছতা, আর্থিক পুনর্গঠন ও আস্থার উন্নতি না হলে এসব শেয়ারে স্বল্পমেয়াদে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।
-রফিক
শেয়ারবাজারে আজকের শীর্ষ লাভবান ১০ কোম্পানি
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বুধবার লেনদেন শেষে নির্বাচিত কিছু শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ক্লোজিং প্রাইস ও আগের দিনের দর তুলনায় বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংকিং ও শিল্প খাতের কয়েকটি কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রে উঠে এসেছে, যার ফলে এসব শেয়ারের দামে শক্তিশালী উত্থান ঘটে।
দিনের শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ারের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক। কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের দিনের ৫ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে ৫ টাকা ৭০ পয়সায় দাঁড়ায়, যা শতকরা প্রায় ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। ব্যাংক খাতে বিনিয়োগকারীদের নতুন করে আগ্রহ বৃদ্ধির প্রতিফলন হিসেবে এই উত্থানকে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আনোয়ার গ্যালভানাইজিং–এর শেয়ারদর ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯১ টাকা ৫০ পয়সায় বন্ধ হয়। দিনভর শেয়ারটির লেনদেন পরিসরে ওঠানামা থাকলেও শেষ পর্যন্ত শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
তালিকার তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে যথাক্রমে এসবিএসি ব্যাংক এবং এবি ব্যাংক। এসবিএসি ব্যাংকের শেয়ার প্রায় ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং এবি ব্যাংকের শেয়ার প্রায় ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে দিন শেষ করে, যা ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক ইতিবাচক সেন্টিমেন্টের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ব্যাংক খাতের আরেকটি শেয়ার রূপালী ব্যাংক পঞ্চম স্থানে উঠে আসে। শেয়ারটির দর ৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়ে ২০ টাকা ২০ পয়সায় পৌঁছায়, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
শিল্প খাত থেকে রাক সিরামিক এবং লাভেলো–এর শেয়ারও শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারীদের তালিকায় জায়গা করে নেয়। রাক সিরামিকের শেয়ার ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং লাভেলোর শেয়ার ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যা শিল্প খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ পুনরুজ্জীবনের ইঙ্গিত দেয়।
এদিকে, উচ্চ দামের শেয়ার হিসেবে পরিচিত জিকিউ বলপেন–এর শেয়ারদরও ৪ শতাংশ বেড়ে ৫০৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে সমতা লেদার এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংক যথাক্রমে প্রায় ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ ও ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে শীর্ষ দশে অবস্থান নিশ্চিত করেছে।
সার্বিকভাবে, আজকের শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ারের তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংকিং খাতের শেয়ারগুলোর আধিপত্য বজায় থাকলেও শিল্প ও ভোগ্যপণ্য খাতের কিছু কোম্পানিও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে ইতিবাচক সেন্টিমেন্ট অব্যাহত থাকলে এসব শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বাড়তে পারে।
-রফিক
অলিম্পিক ও কেডিএসের নগদ লভ্যাংশ বিতরণ
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই প্রতিষ্ঠান Olympic Industries Limited এবং KDS Accessories Limited তাদের ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ যথাসময়ে বিতরণ সম্পন্ন করেছে। কোম্পানি সূত্রে জানানো হয়েছে, ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য অনুমোদিত ক্যাশ ডিভিডেন্ড সংশ্লিষ্ট সব শেয়ারহোল্ডারের মধ্যে ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে।
বাজারে পাঠানো পৃথক প্রকাশনায় অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড জানিয়েছে, নির্ধারিত রেকর্ড ডেট অনুযায়ী যেসব বিনিয়োগকারী লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য ছিলেন, তাদের ব্যাংক বা বিও হিসাবের মাধ্যমে নগদ অর্থ হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে লভ্যাংশ প্রাপ্তির অপেক্ষায় থাকা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
একই দিনে প্রকাশিত আরেক ঘোষণায় কেডিএস অ্যাকসেসরিজ লিমিটেডও নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ সফলভাবে বিতরণ করা হয়েছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লভ্যাংশ পরিশোধে কোনো ধরনের জটিলতা হয়নি এবং সব যোগ্য বিনিয়োগকারী সময়মতো অর্থ পেয়েছেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ঘোষিত লভ্যাংশ বাস্তবে পরিশোধ করা বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন অনেক প্রতিষ্ঠান সময়মতো লভ্যাংশ পরিশোধে ব্যর্থ হয়, সেখানে অলিম্পিক ও কেডিএসের এই উদ্যোগ করপোরেট শাসনব্যবস্থার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, নিয়মিত নগদ লভ্যাংশ প্রদান একটি কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা, নগদ প্রবাহের শক্তি এবং শেয়ারহোল্ডারবান্ধব নীতির প্রতিফলন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট শেয়ারের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, লভ্যাংশ বিতরণ সম্পন্ন হওয়ার খবরে আগামী লেনদেন দিবসগুলোতে অলিম্পিক ও কেডিএসের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের নজর বাড়তে পারে। বিশেষ করে আয়ভিত্তিক বিনিয়োগকারীরা এই ধরনের কোম্পানিকে তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।
-রাফসান
ডিএসইতে বন্ড আপডেট, চার ট্রেজারি বন্ডের রেকর্ড ডেট
সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগকারী ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি জানিয়েছে, চারটি দীর্ঘমেয়াদি সরকারী ট্রেজারি বন্ডের কুপন পেমেন্ট পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখকে রেকর্ড ডেট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই তারিখে যেসব বিনিয়োগকারীর নামে সংশ্লিষ্ট বন্ড নিবন্ধিত থাকবে, কেবল তারাই নির্ধারিত কুপন পেমেন্ট পাওয়ার অধিকারী হবেন।এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে Dhaka Stock Exchange PLC।
ডিএসইর ঘোষণায় বলা হয়েছে, ১৫ বছর মেয়াদি 18/07/2027 মেয়াদপূর্তির বাংলাদেশ সরকার ট্রেজারি বন্ড (TB15Y0727)-এর কুপন পেমেন্টের রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ জানুয়ারি। একই সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদি 18/01/2027 মেয়াদপূর্তির ট্রেজারি বন্ড (TB15Y0127)-এর ক্ষেত্রেও একই তারিখ প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, এই দুই দীর্ঘমেয়াদি বন্ডে বিনিয়োগকারীরা যদি নির্ধারিত রেকর্ড ডেটের মধ্যে মালিকানা বজায় রাখেন, তবেই তারা পরবর্তী কুপন আয়ের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবেন।
এছাড়া, সরকারী সিকিউরিটিজ বাজারে বহুল আলোচিত ১০ বছর মেয়াদি 18/01/2027 ট্রেজারি বন্ড (TB10Y0127)-এর কুপন পেমেন্টের ক্ষেত্রেও একই রেকর্ড ডেট ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি বন্ড বিনিয়োগকারীদের জন্যও জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
একই ধারাবাহিকতায়, ১৫ বছর মেয়াদি 16/01/2028 মেয়াদপূর্তির ট্রেজারি বন্ড (TB15Y0128)-এর কুপন পেমেন্ট পাওয়ার ক্ষেত্রেও ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখকেই রেকর্ড ডেট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। চারটি বন্ডের ক্ষেত্রেই একক রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করায় সরকারী বন্ড বাজারে কুপন ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত ও পূর্বানুমানযোগ্য কাঠামো তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রেকর্ড ডেট ঘোষণার ফলে বন্ড বাজারে স্বল্পমেয়াদি লেনদেনে কিছুটা গতিশীলতা দেখা দিতে পারে। কারণ অনেক বিনিয়োগকারী কুপন পাওয়ার উদ্দেশ্যে রেকর্ড ডেটের আগেই বন্ড ধারণ নিশ্চিত করতে চান, আবার কেউ কেউ রেকর্ড ডেটের পর বিক্রির পরিকল্পনা করে থাকেন। ফলে নির্ধারিত তারিখের আগে ও পরে বন্ডের চাহিদা ও দামে স্বাভাবিক ওঠানামা লক্ষ্য করা যেতে পারে।
বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের ভাষায়, সরকারী ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগকারীদের জন্য রেকর্ড ডেট একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। কারণ এই তারিখ মিস করলে কুপন পেমেন্ট থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যদিও বন্ডটি পরবর্তীতে ধারণে থাকলেও। তাই বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, নিজ নিজ ডিপোজিটরি অ্যাকাউন্ট ও ব্রোকারেজ হিসাব সময়মতো যাচাই করে মালিকানা নিশ্চিত করার জন্য।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখটি সরকারী ট্রেজারি বন্ড বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। একাধিক মেয়াদের বন্ডে একই দিনে রেকর্ড ডেট নির্ধারণ বিনিয়োগ পরিকল্পনা সহজ করার পাশাপাশি বাজারে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
-রাফসান
পাঠকের মতামত:
- বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ
- রেকর্ড ডেটের আগে ও দিনে বন্ধ যে বন্ড
- রেকর্ড ডেট শেষে ফের লেনদেনে ফিরছে দুই সরকারি বন্ড
- সমতা লেদারের বার্ষিক নিরীক্ষায় উদ্বেগের বিষয়গুলো
- বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- ব্যবসায়ীদের টাকা নয়, সততার রাজনীতিতে জনগণের সহায়তা চান হান্নান মাসউদ
- কোষ্ঠকাঠিন্যের মহৌষধ ইসুবগুল, পেট পরিষ্কার রাখার জাদুকরী উপায় জানুন
- রোজ সকালে যে পানি খেলে ওজন কমবে ঝড়ের গতিতে
- হাড়কাঁপানো শীতে গরম পিঠার স্বাদ: ঘরেই তৈরি করুন মজাদার দুধপুলি
- স্বপ্ন যখন আকাশছোঁয়া, সফল হতে এই ৫টি অভ্যাস আজই শুরু করুন
- এবার নির্বাচনী ময়দানে থাকবে না কোনো বৈষম্য: সিইসি
- ভারতীয় শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি: বিপাকে পড়তে পারেন ভারতীয় শিক্ষার্থীরা
- ভোররাতে বিকট শব্দে কাঁপল শরীয়তপুর: আধিপত্যের লড়াইয়ে প্রাণ গেল যুবকের
- আজকের স্বর্ণের দাম: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
- প্রবাসী আয়ের শক্তিতে সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশ: শীর্ষ ১০ দেশের তালিকা প্রকাশ
- রেকর্ড ভেঙে ২০২৫ সালেও ইউরোপে অবৈধ প্রবেশে এক নম্বরে বাংলাদেশ
- টিভির পর্দায় আজকের সব খেলার সূচি
- আজ ০৮ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
- আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- আজ রাজধানীর কোথায় কোন কর্মসূচি
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- জকসু নির্বাচনে শিবিরের জয়জয়কার
- কৃষ্ণগহ্বরের তাণ্ডবে ফুটছে আদি মহাবিশ্ব: শুরুর জগত নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন তথ্য
- বাংলাদেশ-পাকিস্তান সামরিক সম্পর্ক এখন তুঙ্গে: রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন গণবিজ্ঞপ্তি জারি, বেসরকারি স্কুল-কলেজের জন্য বড় সুখবর
- চট্টগ্রামের খতনা করাতে গিয়ে চিরতরে ঘুমিয়ে পড়ল ৭ বছরের রোহান
- ব্যালটে সিল মারা পুলিশের কাজ নয়: হাসনাত আব্দুল্লাহ
- ২৬ কেন্দ্রের ফলে পাশা উল্টে গেল: জকসু নির্বাচনের নাটকীয় মোড়
- শীতে বারবার প্রস্রাবের বেগ: সাধারণ ঘটনা নাকি কিডনি রোগের সংকেত?
- সদরপুরে পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্র, গুলি ও ককটেল উদ্ধার
- ভিপি পদে রিয়াজুল বনাম রাকিব: জকসু নির্বাচনের ২০ কেন্দ্রের ফল এক নজরে
- তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কবলে ৩ বিভাগ, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪-৬ ডিগ্রিতে
- সুস্থ থাকতে চায়ের সঙ্গে এই ৫ খাবারের বিচ্ছেদ জরুরি: আজই সতর্ক হোন
- বিচার না করে নির্বাচনে গেলে জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে: রিফাত
- স্যার আমি কি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি?: মোদির অনুরোধে যা বললেন ট্রাম্প
- ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ অনড়: আসিফ নজরুল
- ছড়িয়ে পড়েছে নিপাহ ভাইরাস: মৃত্যুর হার ১০০ শতাংশে পৌঁছানোয় রেড অ্যালার্ট
- উত্তরবঙ্গে তারেক রহমানের ৪ দিনের ‘মেগা সফর’: রুট ম্যাপ দেখে নিন
- গণতন্ত্রের মশাল এখন তারেক রহমানের হাতে: খসরু
- জকসু নির্বাচনে বোটানিতে ফল প্রকাশ, ভোটে চমক
- বিএনপিতে যোগ দিলেন এনসিপির শীর্ষ নেতা
- ৭ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ বাজার বিশ্লেষণ
- ডিএসইতে আজ দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- শেয়ারবাজারে আজকের শীর্ষ লাভবান ১০ কোম্পানি
- জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির দোয়া ও রাজনৈতিক বার্তা
- অলিম্পিক ও কেডিএসের নগদ লভ্যাংশ বিতরণ
- ডিএসইতে বন্ড আপডেট, চার ট্রেজারি বন্ডের রেকর্ড ডেট
- সূচক বাড়ছে, ভলিউম ৯ কোটির বেশি, কী বোঝায়
- বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- শীতকালে বাংলাদেশের ভ্রমণের ৫ সেরা জায়গা: ২০২৬ সালের ট্রাভেল গাইড
- ৯ম পে স্কেলে আমূল পরিবর্তন, সরকারি চাকরিতে বেতনে বড় সুখবর
- ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা কবে
- কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য লম্বা ছুটি ঘোষণা
- আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- নতুন বছরে স্বর্ণের বাজারে বড় পরিবর্তন, আজ থেকে সোনার দর নিম্নমুখী
- বুধবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- ৪ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে আজ শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী তালিকা
- পেটের আলসার: কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
- কাত্তালী টেক্সটাইলের শেয়ারে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর
- অবশেষে অবসান হলো অপেক্ষার: বিশেষ আহ্বান নিয়ে হাজির ড. ইউনূস
- ০৫ জানুয়ারি আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- গয়না কেনার আগে দেখে নিন আজ কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে দেশে
- আবহাওয়া অফিসের বড় দুঃসংবাদ, ধেয়ে আসছে হাড়কাঁপানো তীব্র শীত
- এক নজরে ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের সর্বশেষ NAV
- দৈনিক এনএভিতে কী বার্তা পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা








