সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে বড় ধাক্কা? জেনে নিন সঞ্চয়পত্রের নতুন নিয়ম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০২ ২০:১২:২৮
সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে বড় ধাক্কা? জেনে নিন সঞ্চয়পত্রের নতুন নিয়ম
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আর্থিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আগামী ছয় মাসের জন্য জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সরকারি ঋণ ও আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তা ফারহানা জাহান উপমা স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের পর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) সঞ্চয় অধিদপ্তর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ ও মোট বিনিয়োগের পরিমাণ বিবেচনা করে একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে শুরু করে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত সুদ বা মুনাফা পেয়ে থাকেন। বৃহস্পতিবার সরকারের নেওয়া সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একজন বিনিয়োগকারী সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে আগের মতোই সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ সুদ পাবেন, যা বিনিয়োগের মেয়াদ ও স্কিম অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হবে।

এর আগে, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর সঞ্চয় অধিদপ্তর সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, যা চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। সেই স্থগিত হওয়া প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জানুয়ারি-জুন মেয়াদে সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা বা এর কম বিনিয়োগের বিপরীতে সর্বোচ্চ মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। কিন্তু সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সঞ্চয়পত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে—এমন আশঙ্কায় মাত্র চার দিন পর, অর্থাৎ ৪ জানুয়ারি সেই প্রজ্ঞাপনটি স্থগিত করা হয়। ফলে জানুয়ারি-জুন মেয়াদেও আগের হারেই সুদ বহাল থাকে এবং এখন জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের জন্যও তা অপরিবর্তিত রাখা হলো। বর্তমানে সরকার প্রতি ছয় মাস পরপর সঞ্চয়পত্রের সুদহার পুনর্নির্ধারণ করে আসছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রের সুদের হার

পরিবার সঞ্চয়পত্র

এই স্কিমে সর্বোচ্চ মুনাফার হার আগের মতোই ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ বহাল থাকছে। তবে বিনিয়োগের পরিমাণ সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি হলে সুদের হার হবে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। উল্লেখ্য, সঞ্চয় স্কিমগুলোর মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্রই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়।

বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র

পাঁচ বছর মেয়াদি এই সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে সুদের হার আগের মতোই ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ থাকছে। আর সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই হার ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ।

তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র: এই স্কিমে সাড়ে সাত লাখ টাকার কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সুদের হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ হলে তা ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডাকঘর সঞ্চয়পত্র

তিন বছর মেয়াদি এই সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সুদের হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ বহাল থাকছে।

নিয়ম অনুযায়ী, একক বা যৌথভাবে সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে এক ধরনের সর্বোচ্চ সুদহার পাওয়া যায়, তবে বিনিয়োগের পরিমাণ সাড়ে সাত লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেলে সুদের হার কিছুটা কমে আসে। সরকার প্রতি ছয় মাস পরপর নতুন সুদহার ঘোষণা করলেও নিয়ম হলো—সুদহার যখনই বদলাুক না কেন, গ্রাহক যখন যে স্কিমে বিনিয়োগ করবেন, সেটির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কেনার সময়কার পুরোনো সুদহারই বহাল থাকবে।

/আশিক


স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন মূল্য

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০২ ১০:৩১:৫৯
স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের নতুন মূল্য
ছবি : সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। টানা দুই দফা মূল্যহ্রাসের পর এবার স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, যা বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের প্রবণতা, কাঁচা স্বর্ণের আমদানি ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য কার্যকর থাকবে। তবে স্বর্ণালঙ্কারের নকশা, কারুকাজ ও প্রস্তুতপ্রণালীর ওপর নির্ভর করে মজুরি পৃথকভাবে যুক্ত হবে। এছাড়া প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারেও প্রতিফলিত হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক স্পট গোল্ডের মূল্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয়, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে স্থানীয় বাজারে নিয়মিত মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজন হচ্ছে।

চলতি বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এটি স্বর্ণের দামের ৮৫তম সমন্বয়। এর মধ্যে ৪২ দফা দাম বৃদ্ধি, ৪২ দফা দাম হ্রাস এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অর্থাৎ, ২০২৬ সালে স্বর্ণবাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যহ্রাস প্রায় সমান হারে ঘটেছে, যা বাজারের উচ্চ অস্থিরতারই প্রতিফলন।

-রাফসান


১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতন: আরও সস্তা হলো সোনা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০১ ২০:০১:৪০
১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতন: আরও সস্তা হলো সোনা
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্যে বড় ধরনের পতনের ধারা কোনোভাবেই থামছে না। ২০১৩ সালের পর অর্থাৎ গত ১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক (কোয়ার্টারলি) দরপতনের রেকর্ড গড়ার পর, নতুন বছরের দ্বিতীয়ার্থের প্রথম দিনেও মূল্যবান এই ধাতুর দাম আরও হ্রাস পেয়েছে। মূলত মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ মুনাফা (ইয়েল্ড), আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন জোরালো আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে সোনার ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।

বুধবার (১ জুলাই) এশিয়ার বাজারে লেনদেন চলাকালীন স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৭৪ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগামী আগস্টে ডেলিভারির অপেক্ষায় থাকা মার্কিন গোল্ড ফিউচারস ১.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৮৭ ডলারে লেনদেন হতে দেখা যায়। বিশ্ববাজারে শুধু সোনাই নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও আজ তীব্র নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে; যার ফলে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

এর আগে মঙ্গলবার লেনদেনের একপর্যায়ে স্পট গোল্ডের দাম আকস্মিক নেমে এসেছিল প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৪৩ ডলারে, যা গত বছরের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন রেকর্ড। একই সঙ্গে সদ্য সমাপ্ত জুন মাসে টানা চতুর্থ মাসের মতো দরপতনের শিকার হলো সোনা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুনে শেষ হওয়া বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সোনার দাম সামগ্রিকভাবে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। ২০১৩ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের পর এটিই সোনার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক দরপতনের ঘটনা।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ কিছুটা কমতে শুরু করায় এবং বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি ও ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদবৃদ্ধির আগ্রাসী নীতির কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা সোনা থেকে দ্রুত মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। যেহেতু সোনা এমন একটি অচল সম্পদ যেখান থেকে সরাসরি কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না, তাই বাজারে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে বন্ডের দিকে ঝুঁকে পড়েন বিনিয়োগকারীরা, যার ফলে সোনার চাহিদা ও দাম একযোগে কমে যায়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, স্বল্পমেয়াদে এমন তীব্র চাপ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগের (সেফ হ্যাভেন) অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে সোনার চিরন্তন গুরুত্ব এখনও বিশ্ববাজারে অটুট রয়েছে।

/আশিক


স্বর্ণের পর এবার কমল রুপার দাম, প্রকাশ নতুন তালিকা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ১২:৪৯:৩৪
স্বর্ণের পর এবার কমল রুপার দাম, প্রকাশ নতুন তালিকা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের মূল্যবান ধাতুর বাজারে স্বস্তির খবর এসেছে রুপার ক্রেতাদের জন্য। স্বর্ণের দাম সমন্বয়ের পর এবার রুপার মূল্যও কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৪৯১ টাকা। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দর সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি রুপা বা পিওর সিলভারের দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারেও নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা, স্থানীয় কাঁচামালের মূল্য এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাজুসের সর্বশেষ মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৪৯১ টাকা, ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ২৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৭৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা, কারুকাজ ও প্রস্তুতপ্রণালীর ওপর ভিত্তি করে মজুরি পৃথকভাবে নির্ধারিত হতে পারে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক মূল্য ওঠানামা, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় কাঁচামালের দামের পরিবর্তনের কারণে স্বর্ণ ও রুপার বাজারে নিয়মিত মূল্য সমন্বয় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব মূল্যবান ধাতুর বাজারেও প্রতিফলিত হচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৫১ বার রুপার দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ২৫ দফা দাম বৃদ্ধি এবং ২৬ দফা দাম হ্রাস করা হয়েছে। অর্থাৎ, এ বছর রুপার বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যহ্রাস প্রায় সমান হারে ঘটেছে।

-রাফসান


স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ১০:০২:২৪
স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর দামের ওঠানামা এবং সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও মূল্য সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক ধাক্কায় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের এক ভরির নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা, যা ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে এবং মঙ্গলবারও একই দামে বিক্রি হচ্ছে।

সোমবার (২৯ জুন) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারেও নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা, স্থানীয় কাঁচামালের মূল্য এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

সর্বশেষ মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২,২৫,২৯০ টাকা, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২,১৫,১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১,৮৪,৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১,৫০,৯৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস আরও জানিয়েছে, পরবর্তী মূল্য সমন্বয়ের ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই নতুন দর কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। একই সঙ্গে স্বর্ণালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ওঠানামা করছে মূলত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে আগ্রহ বৃদ্ধি এবং ডলারের বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে। এসব বিষয় স্থানীয় বাজারেও সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের স্বর্ণের দামে মোট ৮৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪১ দফা দাম বেড়েছে, ৪১ দফা কমেছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয়ের কারণে মূল্য পরিবর্তন করা হয়েছে। ঘন ঘন এই মূল্য সমন্বয় দেশের স্বর্ণবাজারে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব কতটা দ্রুত প্রতিফলিত হচ্ছে, তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

-রাফসান


আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৯ ০৯:৪৯:৩১
আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাব এবার দেশের স্বর্ণবাজারেও স্পষ্টভাবে পড়েছে। স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণ ও রুপার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। গত শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১০টা থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দরেই স্বর্ণ বিক্রি করা হবে।

বাজুসের প্রকাশিত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকায়। সংগঠনটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও বিশুদ্ধ রুপার দাম বৃদ্ধির কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে চলমান মূল্য ওঠানামাও এ সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বাজুস আরও জানিয়েছে, ঘোষিত এই বিক্রয়মূল্যের মধ্যে সরকারি নির্ধারিত ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। তবে অলঙ্কারের নকশা, কারুকাজ, ওজন এবং প্রস্তুতপ্রণালীর ওপর নির্ভর করে মেকিং চার্জ বা মজুরি অতিরিক্ত যোগ হতে পারে। সে কারণে গহনা কেনার সময় চূড়ান্ত মূল্য ঘোষিত স্বর্ণমূল্যের তুলনায় কিছুটা বেশি হতে পারে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৫ জুন বাজুস স্বর্ণের দাম কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল, যা আগের দামের তুলনায় ২ হাজার ২১৬ টাকা কম ছিল। তবে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে আবারও মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা এবং নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগের প্রবণতা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারেও।

চলতি বছর দেশের স্বর্ণবাজারে দামের অস্বাভাবিক ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ৮২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪১ বার দাম বৃদ্ধি, ৪০ বার দাম হ্রাস এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। ঘন ঘন এই মূল্য পরিবর্তন প্রমাণ করছে যে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের স্বর্ণবাজারও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা বিনিয়োগ বা বিয়ের মৌসুমকে সামনে রেখে স্বর্ণ কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের নিয়মিত বাজুসের সর্বশেষ মূল্যতালিকা অনুসরণ করাই হবে সবচেয়ে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত।

-রাফসান


স্বর্ণের দাম ফের বাড়ল, ভরি এখন যত টাকায়

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৮ ১১:৩০:০৭
স্বর্ণের দাম ফের বাড়ল, ভরি এখন যত টাকায়
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস নতুন দর নির্ধারণের পর ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা।

শনিবার সকালে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বাজুস। নতুন দর কার্যকর হওয়ার পর রোববারও দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে সর্বশেষ নির্ধারিত দামেই স্বর্ণ বিক্রি হবে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ কিনতে গ্রাহককে দিতে হবে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। এক ভরি হিসেবে ধরা হয় ১১.৬৬৪ গ্রাম।

২২ ক্যারেটের পাশাপাশি ২১ ক্যারেট ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দামও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুসের সর্বশেষ দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা।

১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকায়।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বাড়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজার, স্থানীয় চাহিদা, আমদানি ব্যয় ও তেজাবি স্বর্ণের দর মিলিয়েই দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়।

এর আগে সর্বশেষ দর সমন্বয়ের সময় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। তবে কয়েক দিনের ব্যবধানেই আবার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাজুস। ফলে স্বর্ণ কিনতে আগ্রহী ক্রেতাদের জন্য বাজারে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও একই তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬৬৬ টাকায়।

২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা। ১৮ ক্যারেট রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৭৯১ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা।

বাজুসের নির্ধারিত দাম দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের জন্য কার্যকর থাকবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই দরে স্বর্ণ ও রুপা বেচাকেনা চলবে।

তবে গ্রাহকদের মনে রাখতে হবে, বাজুস ঘোষিত দামের সঙ্গে অলঙ্কারের ডিজাইন, কারিগরি কাজ ও প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত মজুরি আলাদাভাবে যোগ হতে পারে। তাই একই ভরির গহনার চূড়ান্ত দাম দোকানভেদে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

গহনা কেনার সময় স্বর্ণের ক্যারেট, ওজন, মজুরি, ভ্যাট, পাথর বা অতিরিক্ত ডিজাইনের খরচ ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে পুরোনো স্বর্ণ বদল বা নতুন অলঙ্কার কেনার ক্ষেত্রে লিখিত রসিদ নেওয়া নিরাপদ।

-রফিক


কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন কী? বেইজিং সফরের পর সংসদের সামনে অর্থমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৭ ১৮:৫৩:০৫
কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন কী? বেইজিং সফরের পর সংসদের সামনে অর্থমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মানদণ্ডকে বিশ্বমঞ্চে স্পষ্ট করেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের এই গুরুত্বপূর্ণ সফরটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের নিজস্ব ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতির ওপর ভিত্তি করেই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১১টায় স্পিকার হাফিজ আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ১৬তম দিনের বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকের শুরুতেই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সার্বিক সাফল্যের ওপর একটি আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের সঙ্গে পূর্ণ ঐকমত্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে যে গুণগত ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা ছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের আচরণের মাধ্যমে তা শুরু করে দিয়েছেন।

অতীতে বিদেশ যাওয়ার সময় কিংবা বিদেশ সফর শেষে দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে হাজার হাজার লোকের শোডাউন ও কৃত্রিম সংবর্ধনা নেওয়ার যে রাজনৈতিক রেওয়াজ বা সংস্কৃতি ছিল, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তা সম্পূর্ণভাবে পরিহার করেছেন। কোনো ধরনের আড়ম্বর ছাড়া তাঁর এই নীরবে যাতায়াত আগামী দিনের বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য একটি ইতিবাচক ও সুস্থ মানদণ্ড স্থাপন করল।

কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, এই সফরের মূল ভিত্তিই ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ, অন্য কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি এবং বাংলাদেশের নিজস্ব কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বা ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’ বজায় রাখা। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশের সঙ্গে সম্পর্কের যে সুনির্দিষ্ট ফ্রেমওয়ার্ক এবং বহুমাত্রিক ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই নতুন সফরের মাধ্যমে সেই ধারাকেই সুদৃঢ়ভাবে অব্যাহত রেখেছেন। দেশ ও দেশের আপামর জনগণের স্বার্থ রক্ষায় বর্তমান সরকার কোনো আন্তর্জাতিক শক্তির কাছে বিন্দুমাত্র আপস করবে না বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

সফরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার নানা দিক বিশ্লেষণ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মালয়েশিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সের একটি বড় স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে। এর পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে আমাদের জ্বালানি, বাণিজ্য এবং নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান।

অন্যদিকে, চীন হচ্ছে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন মেগা অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যকার বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে কীভাবে দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি আরও বাড়ানো যায়, সফরে সেই বিষয়েও বেইজিংয়ের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই বহুমাত্রিক সফর শুধু আগামীর বাংলাদেশের রাজনীতিতেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে না, বরং আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কেমন সমতার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে, তার একটি যুগান্তকারী মানদণ্ড স্থাপন করেছে।

/আশিক


পতনের পরই বিশাল লাফ: রেকর্ড ভেঙে এবার কত হলো সোনার ভরি?

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৭ ১১:২৮:৪৩
পতনের পরই বিশাল লাফ: রেকর্ড ভেঙে এবার কত হলো সোনার ভরি?

দেশের বাজারে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আবারও বড় ধরনের উত্থান ঘটেছে সোনার দামে। স্থানীয় বাজারে খাঁটি বা তেজাবী সোনার (Pure Gold) মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে সব ধরনের সোনার দাম এক লাফে বেশ খানিকটা বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারের সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম এক ধাক্কায় ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে এখন ভ্যাটসহ এই প্রিমিয়াম মানের এক ভরি সোনার গহনা কিনতে ক্রেতাদের রেকর্ড ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা গুণতে হবে। বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শনিবার সকাল ১০টা থেকে নতুন এই চড়া দাম দেশব্যাপী কার্যকর করা হয়েছে।

বাজুসের এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বেশ বড় একটা ধাক্কা, কারণ এর ঠিক আগের দুই দিনই দেশের বাজারে সোনার দামে বড় দরপতন হয়েছিল। গত ২৪ এবং ২৫ জুনের টানা দুই দফায় ভালো মানের সোনার দাম যথাক্রমে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানো হয়েছিল, যার ফলে ভরিপ্রতি মোট ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা সাশ্রয় পাচ্ছিলেন মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতারা। কিন্তু সেই স্বস্তির মেয়াদ ৪৮ ঘণ্টাও পার হতে পারল না। দুই দফার সেই পুরো পতনকে এক দিনেই মুছে দিয়ে আবারও চড়া মূল্যের রেকর্ড ধারায় ফিরল মূল্যবান এই ধাতু।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট ছাড়াও অন্যান্য মানের সোনার দামও সমানতালে বেড়েছে। এখন থেকে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের সোনা ৪ হাজার ৪৯০ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকায়। সোনার পাশাপাশি রুপার দামেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। রুপার গহনা কেনার ক্ষেত্রে আগের মতোই নির্ধারিত মূল্যের ওপর অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাট বহাল রেখে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দামও যথাক্রমে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা, ৩,৭৯১ টাকা এবং ২,৮৫৮ টাকায় পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।


বছরের সর্বনিম্নে সোনা, আজ ভরি কত?

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৭ ০৮:৪১:৩৫
বছরের সর্বনিম্নে সোনা, আজ ভরি কত?
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দর কমার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বাজুস নতুন করে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে। সবশেষ সমন্বয়ের পর দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার, ২৭ জুন, দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে এই নির্ধারিত দরেই সোনা বিক্রি হচ্ছে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য, স্থানীয় চাহিদা, সরবরাহ, মুদ্রা বিনিময় হার এবং দেশের বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণের দরের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত এই মূল্য সমন্বয় করা হয়।

এর আগে সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম বড় অঙ্কে কমানো হয়েছিল। বাজুসের ধারাবাহিক দর সমন্বয়ের ফলে কয়েক দফায় দেশের বাজারে সোনার দাম কমে আসে। এতে দীর্ঘদিন ধরে গহনা কেনার অপেক্ষায় থাকা ক্রেতাদের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান, উপহার কিংবা ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের জন্য যারা স্বর্ণ কিনতে চান, দাম কমার সময় তারা সাধারণত বেশি আগ্রহী হন। তবে সোনার দাম দ্রুত ওঠানামা করায় কেনার আগে বাজুস নির্ধারিত সর্বশেষ দর যাচাই করা জরুরি।

চলতি বছর দেশের স্বর্ণবাজার ছিল বেশ অস্থির। এখন পর্যন্ত ৮১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, ৪০ দফা কমানো হয়েছে এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। ঘন ঘন দর পরিবর্তনের কারণে ক্রেতা ও ব্যবসায়ী—দুই পক্ষই বাজারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন।

ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাজুস ঘোষিত দরে সাধারণত স্বর্ণের মূল দাম নির্ধারিত হয়। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন, কারিগরি মান, মজুরি এবং পাথর থাকলে তার মূল্য আলাদাভাবে যুক্ত হতে পারে। তাই গহনা কেনার সময় ক্যারেট, ওজন, মজুরি ও মোট বিল ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।

বাজুসের নিয়ম অনুযায়ী, স্বর্ণালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকলে গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে অতিরিক্ত ভ্যাট নেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে ক্রেতাদের বিল নেওয়ার সময় ভ্যাট, মজুরি ও অন্যান্য খরচ পরিষ্কারভাবে বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: