চীনের ডালিয়ান থেকে বুলেট ট্রেনে বেইজিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৪ ১৮:১২:৩১
চীনের ডালিয়ান থেকে বুলেট ট্রেনে বেইজিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী 
ছবি : সংগৃহীত

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ডালিয়ান থেকে হাই-স্পিড বা বুলেট ট্রেনে রওনা হয়ে বুধবার (২৪ জুন) চীনের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে তিনি বেইজিং রেলওয়ে স্টেশনে এসে পৌঁছান। এর আগে দুপুর ২টায় তিনি ডালিয়ান থেকে ট্রেনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।

বেইজিং সফরের ঠিক আগেই বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বিশেষ উদ্যোগ ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। ১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস শীর্ষক এই আয়োজনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলঝাস বেকতেনভ, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন সেওক, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিয়াম ওসর উচরাল এবং মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোইকো স্পাইজিচ উপস্থিত ছিলেন।

এবারের এই বৈশ্বিক সম্মেলনে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ এবং অঞ্চল থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পোদ্যোক্তা, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের অংশগ্রহণ দেশের জন্য বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব বয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে এই বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের পথ সুগম হওয়া এবং কর্মসংস্থানের বড় ধরনের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের টেকসই উন্নয়ন ও সফল অর্থনৈতিক মডেলগুলোর অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ফলে বাংলাদেশের জাতীয় সক্ষমতা আরও সুসংহত হবে। প্রসঙ্গত, মালয়েশিয়ায় দ্বিপাক্ষিক সফর সম্পন্ন করে গত সোমবার (২২ জুন) চীনের ডালিয়ান শহরে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

/আশিক


কোন বয়সী শিশুরা পাবে ভিটামিন ‘এ’? জেনে নিন কবে থেকে শুরু

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৪ ১১:২৩:৫২
কোন বয়সী শিশুরা পাবে ভিটামিন ‘এ’? জেনে নিন কবে থেকে শুরু
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় ১৪ মাস বিরতির পর আবারও শুরু হচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহৎ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। শিশুদের অন্ধত্ব প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপুষ্টিজনিত ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। এদিন ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখেরও বেশি শিশুকে বিনামূল্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার মোট ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন শিশুকে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

দেশব্যাপী কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্র মূলত নিয়মিত ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী জানিয়েছেন, ক্যাম্পেইনের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্ধারিত দিনে সন্তানদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, অপুষ্টি কমাতে এবং চোখের স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এবার দেশের ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্গম অঞ্চলের শিশুদের কর্মসূচির আওতায় আনতে মূল ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত চার দিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে কর্মসূচির যাত্রা শুরু হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণে মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, হামসহ বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো এবং সামগ্রিক শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত এই কর্মসূচি শিশু মৃত্যুহার কমাতেও কার্যকর অবদান রাখে।

সূত্র: বাসস


চীনে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিলেন তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৪ ১১:০৭:২৮
চীনে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিলেন তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত

চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দালিয়ানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার প্ল্যানারি সেশনে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে তিনি আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিস্তৃত পরিসরে উদ্ভাবন’ (Innovation at Scale) শীর্ষক প্ল্যানারি সেশন শুরু হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী নেতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। তিনি প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু অভিযোজন, শিল্পখাতের আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এই গুরুত্বপূর্ণ সেশনে বাংলাদেশের পাশাপাশি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক, কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ, মঙ্গোলিয়ার প্রধানমন্ত্রী উছরাল নিয়াম-ওসর, মন্টিনিগ্রোর প্রধানমন্ত্রী মিলোজকো স্পাজিচ এবং গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু ওউরি বাহ অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক পর্বের বাইরে সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের এলডিসি-উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনৈতিক বাস্তবতা, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদনশীল শিল্পায়ন এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সামনে তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে এই সফরের মাধ্যমে।

-রফিক


বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন মোড়, হতে পারে ১৭ চুক্তি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৪ ০৯:২৯:১৫
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন মোড়, হতে পারে ১৭ চুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের জন্য শতভাগ শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা চালু রেখেছে চীন। কিন্তু এত বড় সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে প্রত্যাশিত মাত্রায় রপ্তানি বাড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। বরং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্য দিন দিন আরও একপেশে হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরে বাণিজ্য বৈষম্য কমানো এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বর্তমানে বার্ষিক মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে এর মধ্যে প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলারই চীনের অনুকূলে চলে যাচ্ছে। বিপরীতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১ বিলিয়ন ডলারেরও নিচে অবস্থান করছে, যা অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি এবং আর্থিক সহযোগিতাসহ প্রায় ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, এলডিসি-পরবর্তী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধি।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে যাবে। ফলে বর্তমানে পাওয়া শুল্কমুক্ত সুবিধা আর বহাল থাকবে না। এ কারণেই এখন থেকেই বিকল্প ব্যবস্থাপনা হিসেবে চীনের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে এফটিএ বাস্তবায়নের জন্য যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে সহজ শর্তে অর্থায়নের বিষয়টিও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষ করে চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে নতুন অর্থায়ন কাঠামো নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষি খাতেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের আম ও কাঁঠাল চীনের বিশাল বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্প্রতি চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস বাংলাদেশি তাজা আম আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ফাইটোস্যানিটারি বা উদ্ভিদ স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুমোদন দিয়েছে। ফলে এই সফরকে কৃষি রপ্তানির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, আম ও কাঁঠাল রপ্তানির প্রোটোকল বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে এবং কৃষকরা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারের সুবিধা পেতে শুরু করবেন।

এদিকে পণ্য বাণিজ্যের পাশাপাশি সেবা খাতেও চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে মোংলায় দ্বিতীয় একটি চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়েও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হতে পারে।

ডিজিটাল অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতেও নতুন সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি বিনিয়োগ জোরদার করতে একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশে চীনা ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক এবং চীনের ন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রেগুলেটরি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মধ্যে নতুন সহযোগিতা চুক্তি হতে পারে।

অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতুর সংস্কার এবং নবম চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু নির্মাণ প্রকল্প।

বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা নিয়েও উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে পারে।

আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট ব্রিকস এবং আরসিইপিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও চীনের সমর্থন চাওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশ-চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিআই) পক্ষ থেকেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের বিভিন্ন শহরে ৩০টি ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ প্রদর্শনী ও বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন, প্রযুক্তি দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ২০টি পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশে একটি চীনা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা।

-রফিক


জলবায়ু ‘ক্ষয়ক্ষতি তহবিল’ দ্রুত কার্যকরের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৩ ২১:৫০:১৩
জলবায়ু ‘ক্ষয়ক্ষতি তহবিল’ দ্রুত কার্যকরের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

চীনের ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন অ্যা শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক সেশনে অংশ নিয়ে তিনি জলবায়ু ‘ক্ষয়ক্ষতি তহবিল’ (Loss and Damage Fund)-কে শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়নকে আরও সহজলভ্য, শর্তহীন করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর জোর দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জলবায়ু সহনশীলতা তৈরিতে অর্থায়ন, প্রযুক্তি এবং যৌথ অঙ্গীকারের পাশাপাশি ‘সবুজ জলবায়ু তহবিল’ (Green Climate Fund)-কে কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কেবল প্রশমন (Mitigation) নয়, বরং অভিযোজনও (Adaptation) সমানভাবে অপরিহার্য। সম্মেলনস্থলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান এবং তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ডব্লিউইএফ-এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি। উল্লেখ্য, ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত চলমান ‘বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন’ প্রতিপাদ্যের এই সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৩ ২০:১০:৫০
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ
ছবি : সংগৃহীত

চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান জভিংগি। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ডব্লিউইএফ-এর বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা ডেল্টা রাষ্ট্র ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর সহযোগিতায় ফোরামকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি জলবায়ু রক্ষায় বাংলাদেশের নেওয়া বিভিন্ন দূরদর্শী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে ২৫০ মিলিয়ন বৃক্ষরোপণের বিশাল উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ চলছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে উৎসাহ দিতে সৌরবিদ্যুতে কর-সুবিধা প্রদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশের এসব পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে আলোইস জভিংগি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগকে বৈশ্বিক পরিসরে কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্ট আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশের এই জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগকারীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করবে। বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে তিনি ফোরামের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনা নিয়ে মুখ খুলল ভারত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৩ ১৯:৪৮:০৯
দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনা নিয়ে মুখ খুলল ভারত
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে আটকে রাখা এবং অভিবাসন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনার প্রায় ৯ দিন পর অবশেষে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২৩ জুন) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করেন যে, ডা. জাহেদকে শেষ পর্যন্ত ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তবে তিনি নিজেই আর প্রবেশ না করে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, গত ১৪ জুন ডা. জাহেদ উর রহমান একটি ব্যক্তিগত পাসপোর্ট এবং সার্ক (SAARC) ভিসা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারতে পৌঁছান। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (IORA) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ২৮তম বৈঠকে অংশ নেওয়া। তবে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দেশটির অভিবাসন (ইমিগ্রেশন) কর্মকর্তারা তাকে আটকে দেন এবং বেশ কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

রণধীর জয়সওয়াল আরও জানান, মূলত ভারতের একটি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ নজরদারি তালিকায় (Watchlist) ডা. জাহেদের নাম থাকায় অভিবাসন কর্মকর্তারা নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে সাময়িকভাবে আটকে রেখেছিলেন। পরবর্তীতে তার সফরের উদ্দেশ্য এবং পরিচয় পুনঃনিশ্চিত হওয়ার পর ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে দেশে প্রবেশের পূর্ণ অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিমানবন্দরে দীর্ঘক্ষণ আপত্তিকর আচরণের শিকার হওয়ার পর ক্ষুব্ধ ডা. জাহেদ নিজ সিদ্ধান্তেই আর ভারত সফর না বাড়িয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের একজন উচ্চপদস্থ সরকারি উপদেষ্টাকে দিল্লির বিমানবন্দরে এভাবে আটকে রাখার ঘটনায় ঢাকার কূটনৈতিক মহলে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। এই ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। সেই কূটনৈতিক প্রতিবাদের প্রেক্ষাপটেই ঘটনার ৯ দিন পর ভারত সরকার এই আনুষ্ঠানিক স্পষ্টীকরণ দিলো।

/আশিক


আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে: তথ্য উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৩ ১৮:২৯:২২
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে: তথ্য উপদেষ্টা
ছবি : সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত দেশের আদালত তথা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিচার সম্পন্ন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত সরকারের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সদ্য সমাপ্ত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান ও তৎপরতা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো মূলত একটি প্রতীকী কারণে মাঠে অবস্থান করছে। কারিগরি বা আইনি দিক থেকে বলতে গেলে, আওয়ামী লীগ চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ কি না, তা আদালতের রায়ের পর নির্ধারিত হবে। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগগুলো বিচারের মুখোমুখি রয়েছে। এই বিচারাধীন সময়ে দলটির যেকোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইন ভঙ্গকারী হিসেবে গণ্য হবে। আর এমনটি ঘটলে সরকার আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, এখানে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠে নামার কোনো প্রয়োজন নেই।

আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনসমক্ষে আসার মতো কোনো নৈতিক সাহস দলটির নেতা-কর্মীদের নেই। যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের জন্য ন্যূনতম যে নৈতিক শক্তির প্রয়োজন হয়, তা তাদের হারিয়ে গেছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, দেশের মানুষের স্মৃতিভ্রম বা ডিমেনশিয়া না হওয়া পর্যন্ত এই দলের পক্ষে বড় গলায় কথা বলা সম্ভব নয়। অতীত কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি টেনে তিনি মন্তব্য করেন, কিছু চিহ্নিত লুটপাটকারী, মাফিয়া ও দুর্নীতিবাজদের পক্ষে কোনো রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

ব্রিফিংয়ের অপর এক অংশে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকালীন দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অচলাবস্থা কাটিয়ে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কার্গো জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’র (আইএমও: ৯৭৯৩৮২০) সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার খবর নিশ্চিত করেন তথ্য উপদেষ্টা। গত ১১৫ দিন ধরে পারস্য উপসাগরের চরম ঝুঁকিপূর্ণ জলসীমায় আটকে থাকা বাংলাদেশি পতাকাবাহী এই জাহাজটির নিরাপদে মুক্ত হওয়া এবং আন্তর্জাতিক রুট অতিক্রমের ঘটনাকে বিশ্ব নৌ-ইতিহাসের এক অনন্য মাইলফলক বলে অভিহিত করেন তিনি।

ডা. জাহেদ উর রহমান এই সফল অভিযানকে বিশ্ব মেরিটাইম ইতিহাসের অন্যতম সেরা ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট’ বা সংকট ব্যবস্থাপনার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সীমাহীন সাহসিকতা, সুনিপুণ নৌ-কৌশল এবং বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সার্বক্ষণিক কূটনৈতিক তৎপরতা ও দিকনির্দেশনার কারণেই এই চরম সংকটময় পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে। জাহাজটির নিরাপদ প্রত্যাবর্তন দেশের সমুদ্র বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে।

/আশিক


মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান-পেট্রোনাস বৈঠক, বাড়ছে জ্বালানি সহযোগিতা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৩ ১১:১২:২২
মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান-পেট্রোনাস বৈঠক, বাড়ছে জ্বালানি সহযোগিতা
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট মহল এই বৈঠককে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের একটি কৌশলগত অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।

সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি-লা হোটেলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অংশ নেন পেট্রোনাস গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডাতুক সাজালি হামজা। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের প্রথম মালয়েশিয়া সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

উচ্চপর্যায়ের এ আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ এবং একটি টেকসই অংশীদারত্ব কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি।

বৈঠকে পেট্রোনাসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে বাংলাদেশের দ্রুত শিল্পায়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারের নীতিগত সংস্কার, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং জ্বালানি খাতের আধুনিকায়ন কার্যক্রমের বিষয়েও বিস্তারিত অবহিত করেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হলে বাংলাদেশের জন্য বহুমাত্রিক সুবিধা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে এলএনজি আমদানি, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি সংরক্ষণ অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রগুলোতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে জ্বালানির চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলাকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

-রফিক


পতিত শক্তিকে আর ফিরতে দেওয়া হবে না: রিজভী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২৩ ১০:৫৩:৫২
পতিত শক্তিকে আর ফিরতে দেওয়া হবে না: রিজভী
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক প্রতিবাদ মিছিল থেকে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তি নতুন করে সংগঠিত হয়ে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এসব তৎপরতার মোকাবিলা করা হবে।

মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে বিএনপি এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মিছিলে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি নয়াপল্টন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নাইটিংগেল মোড় ঘুরে আবারও দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

রিজভী তার বক্তব্যে বলেন, দেশবিরোধী শক্তি বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থ ব্যবহার করে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ব্যবহার করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে এবং এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে বাংলাদেশে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার কোনো সুযোগ নেই। জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশের স্বাধীন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর বাইরের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা অতীতেও ছিল এবং এখনও কিছু শক্তি সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তবে জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কারণে বাংলাদেশকে আর কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাববলয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও তারা নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করবেন। পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করে যেকোনো সহিংসতা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তারা জানিয়েছেন।

-রফিক

পাঠকের মতামত: