‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দিয়ে আগুন নিক্ষেপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ০২ ০৯:০০:০৫
‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দিয়ে আগুন নিক্ষেপ

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের বোল্ডার শহরে ইসরায়েলপন্থী একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আগুন নিক্ষেপের ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। রবিবার (১ জুন) স্থানীয় সময় দুপুরে বোল্ডারের ব্যস্ততম এলাকা পিয়ার্ল স্ট্রিট আউটডোর মলে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, হামলার সময় এক ব্যক্তি ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দিতে দিতে একটি হাতঘড়ানো ফ্লেমথ্রোয়ার দিয়ে উপস্থিত জনতার ওপর আগুন ছুড়ে দেন।

ঘটনায় দগ্ধ ছয়জনের বয়স ৬৭ থেকে ৮৮ বছরের মধ্যে। হামলায় কেউ গুরুতরভাবে, আবার কেউ হালকাভাবে দগ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারী একটি জ্বালানিভর্তি বোতল ও আগুন ছোড়ার যন্ত্র ব্যবহার করেন, যার ফলে উপস্থিত অনেকের শরীরে আগুন ধরে যায়।

পুলিশ হামলার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে ৪৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাব্রি সোলাইমান নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে। তিনি নিজেও কিছুটা আহত হন এবং বর্তমানে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তার আঘাতের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পুলিশ।

এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট মার্ক মিশালেক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, এটি একটি “টার্গেটেড টেরর অ্যাটাক”, যা ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়। তবে বোল্ডার পুলিশপ্রধান স্টিভ রেডফার্ন বলেন, “এখনই হামলাকারীর উদ্দেশ্য নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা দায়িত্বজ্ঞানহীন হবে।” তিনি জানান, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি গ্রহণ চলছে।

সমাবেশটি আয়োজন করেছিল ইসরায়েলের গাজায় আটক বন্দিদের মুক্তির দাবিতে গঠিত আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘Run For Their Lives’। এ সংগঠন বিশ্বের বিভিন্ন শহরে জনমত গঠনের জন্য নিয়মিতভাবে র‍্যালি আয়োজন করে থাকে।

হামলায় এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি, তবে প্রসিকিউশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খুব শিগগিরই সম্পূর্ণ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হবে।


অনুপ্রবেশ রুখতে 'অ্যাকশন মোডে' বিজেপি: ৪৫ দিনেই সীমান্তে জমি বরাদ্দের ঘোষণা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ১২:২৮:০২
অনুপ্রবেশ রুখতে 'অ্যাকশন মোডে' বিজেপি: ৪৫ দিনেই সীমান্তে জমি বরাদ্দের ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্য ও কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ দেবে নবগঠিত বিজেপি সরকার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করতে চায়। মূলত সীমান্ত পার হয়ে অনুপ্রবেশ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনাই গেরুয়া শিবিরের প্রধান লক্ষ্য। বিজেপি নেতাদের মতে, রাজ্য সরকারের পূর্ণ সহযোগিতায় বিএসএফ এবং পুলিশ যৌথ অভিযান চালাতে সক্ষম হবে, যা সীমান্ত জেলাগুলোর জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন রোধে সহায়ক হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দলটি ‘শনাক্ত করো, নির্মূল করো এবং বিতাড়িত করো’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করার ঘোষণা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত এক দশকে পশ্চিমবঙ্গের শাসনভার নিয়ে তৃণমূল ও কেন্দ্রের মধ্যে তুমুল বিরোধ চলে আসছিল। ২০২১ সালে বিএসএফ-এর কার্যপরিধি বৃদ্ধি থেকে শুরু করে সিএএ (CAA) এবং এনআরসি (NRC) বাস্তবায়নে মমতা ব্যানার্জির সরকারের তীব্র বাধার মুখে পড়েছিল মোদি সরকার। এছাড়া খাগড়াগড় ও ভূপতিনগর বিস্ফোরণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনাগুলোর তদন্তেও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের ফলে এখন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ রোধে দিল্লি-কলকাতা একযোগে কাজ করতে পারবে।

/আশিক


এরদোগানের বড় চমক: ইস্তাম্বুলে প্রকাশ্যে এলো দানবীয় ক্ষেপণাস্ত্র ‘ইলদিরিমহান’

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ১১:৫৮:১৯
এরদোগানের বড় চমক: ইস্তাম্বুলে প্রকাশ্যে এলো দানবীয় ক্ষেপণাস্ত্র ‘ইলদিরিমহান’
ছবি : সংগৃহীত

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে প্রথমবারের মতো নিজেদের তৈরি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) ‘ইলদিরিমহান’ উন্মোচন করেছে তুরস্ক। মঙ্গলবার (৫ মে) ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ‘সাহা ২০২৬’ প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রকাশ্যে আনা হয়। তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রটি দেশটির দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতায় এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ইলদিরিমহান’ ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার, যার ফলে এটি ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকার বিশাল অংশ জুড়ে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর গতিবেগ সর্বোচ্চ ম্যাক ২৫ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে যা একে বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্রে পরিণত করেছে।

চারটি রকেট ইঞ্জিন সম্বলিত এই প্ল্যাটফর্মে জ্বালানি হিসেবে তরল নাইট্রোজেন টেট্রঅক্সাইড ব্যবহৃত হয়েছে। প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলারসহ দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে তুরস্কের এই প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রশংসা করেন।

তুরস্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ড্রোন, বিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করে প্রতিরক্ষা খাতে অভাবনীয় স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে। ‘সাহা ২০২৬’ প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেশটি বিশ্বের সামনে তাদের কারিগরি শ্রেষ্ঠত্ব এবং প্রতিরক্ষা রপ্তানি বৃদ্ধির উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যকেই তুলে ধরেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই আয়োজনটি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে পরিণত হয়েছে।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যে নাটকীয় মোড়: পাকিস্তানের অনুরোধে কি নমনীয় হলেন ট্রাম্প?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ১০:১১:৫৯
মধ্যপ্রাচ্যে নাটকীয় মোড়: পাকিস্তানের অনুরোধে কি নমনীয় হলেন ট্রাম্প?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং একটি টেকসই সমঝোতার লক্ষ্যে হরমুজ প্রণালিতে চলমান সামরিক অভিযান 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আজ বুধবার (৬ মে) সকালে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আকস্মিক ঘোষণা দেন। ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তানসহ কয়েকটি মিত্র দেশের বিশেষ অনুরোধ এবং ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির পথে ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত করা হলেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ বা ব্লকড আগের মতোই পুরোপুরি কার্যকর থাকবে। মূলত প্রস্তাবিত চুক্তিটি চূড়ান্ত করা এবং এতে স্বাক্ষর করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করার জন্য মার্কিন সেনাবাহিনী এই সামরিক বিরতি নিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার থেকে হরমুজে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে উদ্ধারে 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যাকে ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে কঠোর প্রতিরোধের হুমকি দিয়েছিল।

/আশিক


যুদ্ধের উসকানি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: আমিরাত সংকটে ইরানের বিস্ফোরক মন্তব্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১৭:২০:৩৯
যুদ্ধের উসকানি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: আমিরাত সংকটে ইরানের বিস্ফোরক মন্তব্য
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ চড়ে আকাশচুম্বী হয়েছে, যার ফলে পুরো অঞ্চলটি এখন এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমায় ইরান থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি ব্যালেস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। একই সময়ে আমিরাতের ফুজিরাহ বন্দরের একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে, যার ফলে সেখানে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এই পাল্টাপাল্টি হামলা ও প্রতিরোধের ঘটনায় ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

তেল শোধনাগারে হামলার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে একজন সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, কোনো জ্বালানি স্থাপনায় পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়নি। বরং বর্তমান এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য তিনি ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা ও তাদের ‘দুঃসাহসিক’ কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেছেন। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, এ ধরনের কোনো নাশকতামূলক ঘটনার সাথে তাদের সম্পৃক্ততা নেই।

এদিকে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর আক্রমণ চালানো হলে ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হবে। মার্কিন সামরিক বাহিনী বর্তমানে ওই পথে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বিশেষ পাহারায় পার করে দিচ্ছে। এ সময় তাদের কাজে বাধা সৃষ্টি করায় বেশ কয়েকটি ইরানি ছোট নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী।

পুরো মধ্যপ্রাচ্য যখন এক মহাযুদ্ধের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে, তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির কণ্ঠে কিছুটা নমনীয়তার সুর শোনা গেছে। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করে রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান হতে পারে না। যুদ্ধ এড়িয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আরও জানান যে, এই সংকট নিরসনে বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছে এবং সেই আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


ইরানকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে: ট্রাম্পের নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১১:৪৫:৩৩
ইরানকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে: ট্রাম্পের নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন স্বার্থে কোনো প্রকার আঘাত এলে ইরানকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ফক্স নিউজের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই কড়া বার্তা প্রদান করেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ওই অঞ্চলে চলমান মার্কিন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর আওতাধীন কোনো জাহাজে হামলা চালানো হলে ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হবে। প্রেসিডেন্টের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

সাক্ষাৎকার চলাকালীন ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক শক্তি ও সক্ষমতার বিষয়ে ব্যাপক আত্মবিশ্বাস প্রদর্শন করেন। তিনি দাবি করেন, বিগত কয়েক বছরে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আমূল আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত এবং বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা বিশ্বের সেরা সক্ষমতার অধিকারী।

ইরান থেকে আসতে পারে এমন যেকোনো হুমকি রুখতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, সাগরে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একমাত্র পথ হলো শক্তিশালী সামরিক অবস্থান নিশ্চিত করা। প্রেসিডেন্ট জানান, মার্কিন রণতরি এবং কৌশলগত সামরিক সরঞ্জামগুলো ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট অবস্থানে মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রয়োজন পড়লে এর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এবং ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন যেকোনো চরম পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।

কঠোর হুমকির পাশাপাশি ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নিজ ধারণা ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের মতে, ক্রমাগত অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে তেহরান এখন আগের তুলনায় কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখাচ্ছে। তিনি মনে করেন, এই চাপের কারণেই হয়তো ইরান এখন শান্তি আলোচনার বিষয়ে কিছুটা নমনীয় হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আলোচনার পথ খোলা রাখার অর্থ এই নয় যে কোনো প্রকার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হোয়াইট হাউসের এই কঠোর অবস্থান তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধকে সরাসরি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য হুমকির জবাবে ইরান পাল্টা কোনো সামরিক মহড়া বা কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখায় কি না।

সূত্র: আলজাজিরা


মার্কিন হামলায় ইরানের ছয় যুদ্ধযান ধ্বংসের দাবি, উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১১:৩৯:০৭
মার্কিন হামলায় ইরানের ছয় যুদ্ধযান ধ্বংসের দাবি, উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতি
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তারা ইরানের ছয়টি ছোট যুদ্ধযান ধ্বংস করেছে এবং বেশ কিছু ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে, ইরান এর আগেই দাবি করেছিল যে তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স এই উত্তেজনার খবরটি নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় সচল করতে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশেষ নৌ অভিযান শুরু করার পর ইরান তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে এই অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান এই প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিল, যা পুনরায় মুক্ত করতেই ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপ।

বর্তমানে উভয় দেশের মধ্যে কোনো যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে কি না, সে বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি মার্কিন অভিযানে বিঘ্ন ঘটাতে অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে। কুপারের ভাষ্যমতে, আইআরজিসি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন পাহারায় থাকা জাহাজগুলোতে আক্রমণের চেষ্টা চালিয়েছিল, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নস্যাৎ হয়ে যায়।

এই বিশাল সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৫ হাজার সেনা, নৌবাহিনীর শক্তিশালী ডেস্ট্রয়ার, শতাধিক যুদ্ধবিমান এবং উন্নত ডুবো সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে। বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কমান্ডারদের যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার হরমুজ প্রণালিতে একটি দক্ষিণ কোরীয় জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও ট্রাম্প জানিয়েছেন যে সেই জাহাজটি মার্কিন অভিযানের অংশ ছিল না। একই সাথে তিনি সাতটি ইরানি নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার দাবিও করেন।

বিপরীত দিকে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিগুলো ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, গত কয়েক ঘণ্টায় কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেনি এবং ইরানি নৌযান ধ্বংস হওয়ার খবরটিও তারা অস্বীকার করেছে। এদিকে মার্কিন বাহিনী প্রণালিটি সচল করতে ধাপে ধাপে এগোচ্ছে। প্রথমে সমুদ্রের মাইন অপসারণ করে পথ নিরাপদ করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ সেই পথ দিয়ে সফলভাবে পার করা হয়েছে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই রুটে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে তেল ও এলপিজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই সম্পন্ন হয়ে থাকে। অ্যাডমিরাল কুপার জানিয়েছেন, ইরানের হুমকির মুখে বর্তমানে অন্তত ৮৭টি দেশের জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে আছে। তবে মার্কিন প্রশাসন জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে বিভিন্ন দেশের শিপিং কোম্পানিগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। উত্তপ্ত এই পরিস্থিতিতে মার্কিন অবরোধ বহাল থাকায় সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক যাতায়াত আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা।

/আশিক


মমতার পতন না কি বিজেপির উত্থান? পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার পালাবদলে ৫টি বড় কারণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১১:১৮:১৩
মমতার পতন না কি বিজেপির উত্থান? পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার পালাবদলে ৫টি বড় কারণ
ছবি : সংগৃহীত

প্রায় দেড় দশক ধরে চলা তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের ইতি টেনে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। প্রাথমিক ফলাফলের ইঙ্গিত বলছে, এক সময় বামপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই রাজ্যে বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের এই পরাজয়ের পেছনে অন্যতম কারণ ছিল নির্বাচনী কৌশলে অতিরিক্তভাবে আই-প্যাকের ওপর নির্ভরতা।

অতীতে এই সংস্থার পরিকল্পনা দলকে সুবিধা দিলেও, এবার কার্যকর দিকনির্দেশনার অভাব পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। এছাড়া মুসলিম ভোটব্যাংকে ভাঙনও বড় একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগে এই ভোটের বড় অংশ তৃণমূলের দখলে থাকলেও, এবার ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট ও অন্যান্য ছোট দলের উত্থানে তা বিভক্ত হয়ে যায়, যার প্রভাব সরাসরি নির্বাচনের ফলে পড়ে। অন্যদিকে হিন্দু ভোটের একটি বড় অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাশাপাশি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি গ্রামীণ ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। বিজেপির এই সাফল্যের পেছনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গত কয়েক বছরে দলটি নীরবে নিজেদের সংগঠন শক্তিশালী করেছে এবং এবারের নির্বাচনে বহিরাগত নেতাদের বদলে স্থানীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা গেছে।

এছাড়া ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ‘ভুয়া’ ও ‘বহিরাগত’ ভোটার বাদ পড়াও নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নতুন সরকার গঠনের পর সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সমন্বয় এবং সীমান্তসংক্রান্ত নানা ইস্যুতে কী ধরনের অবস্থান নেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? ধারণা করা হচ্ছে, যদি শুভেন্দু অধিকারী গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পান, তাহলে তিনি এই দৌড়ে এগিয়ে থাকতে পারেন। এছাড়া রাজ্য বিজেপির আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রায়ই চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নেয়। তাই চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

/আশিক


আমিরাতের তেল স্থাপনায়  ইরানের হামলা: প্রতিশোধ নিতে মরিয়া আমিরাত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১০:৩৪:০৫
আমিরাতের তেল স্থাপনায়  ইরানের হামলা: প্রতিশোধ নিতে মরিয়া আমিরাত
ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা পেট্রোলিয়াম ইন্ডাস্ট্রিজ জোনে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) এই হামলায় তেল স্থাপনায় ভয়াবহ আগুন ধরে যায় এবং তিনজন ভারতীয় নাগরিক আহত হন। আমিরাত এই ঘটনাকে 'বিশ্বাসঘাতকতা' হিসেবে আখ্যায়িত করে এর কড়া জবাব দেওয়ার অধিকার রাখে বলে হুঙ্কার দিয়েছে। এই হামলার মধ্য দিয়ে ৮ এপ্রিল ঘোষিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চরম হুমকির মুখে পড়ল।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে আসা একঝাঁক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ফুজাইরার স্পর্শকাতর অর্থনৈতিক অঞ্চলে আঘাত হানে। যদিও তারা দাবি করেছে যে, ১২টি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ৩টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪টি ড্রোন তারা আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে, কিন্তু কিছু ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আহত তিন ভারতীয়কে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইরান এই হামলার বিষয়ে সরাসরি দায় স্বীকার না করলেও তাদের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘সামরিক দুঃসাহসিকতার’ ফল হতে পারে। তাদের দাবি, তেল স্থাপনায় হামলার কোনো পূর্ব পরিকল্পনা তাদের ছিল না। এদিকে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযানে থাকা মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের পথরোধ করার চেষ্টাকালে তারা ইরানের ৬টি ছোট সামরিক নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে থাকার পর এই যুদ্ধবিরতি কিছুটা স্বস্তি দিলেও নতুন এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদী সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

/আশিক


গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর সর্বত্র পদ্ম! দিল্লির সদর দপ্তরে মোদির বিজয়োল্লাস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ২১:১৮:১৪
গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর সর্বত্র পদ্ম! দিল্লির সদর দপ্তরে মোদির বিজয়োল্লাস
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে উচ্ছ্বসিত ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার (৪ মে) আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশাল এই জয়ের পর দলীয় কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে মোদি বলেন, “গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর—সর্বত্র পদ্ম ফুটেছে। বিহার নির্বাচনের দিনই বলেছিলাম, গঙ্গা বিহার হয়ে গঙ্গাসাগরে যায়, আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হলো।”

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের ৯৩ শতাংশ ভোটদানের হারকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এটি গণতন্ত্র এবং সংবিধানের জয়। এই জয়ের মধ্য দিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা শান্তি পেয়েছে। আজ থেকে বাংলা ভয়মুক্ত হলো এবং সেখানে পরিবর্তনের সূচনা হলো।” নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিজেপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে।

এদিকে ২৯৪ আসনের বিধানসভায় বিজেপি ১৯৮টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করায় এখন সবার নজর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর দিকে। তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮৯টি আসনে থমকে যাওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন একজন ভূমিপুত্র। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে সবচাইতে এগিয়ে আছেন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তালিকায় আরও রয়েছেন সুকান্ত মজুমদার, দিলীপ ঘোষ এবং স্বপন দাশগুপ্তর মতো নেতারা।

বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মানবিক রাজনীতি’ এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প সত্ত্বেও তৃণমূলের এই ভরাডুবির মূলে রয়েছে মাঠপর্যায়ের পুঞ্জীভূত জনঅসন্তোষ। ২০১১ সাল থেকে ‘বাংলার ঘরের মেয়ে’ হিসেবে মমতার যে আবেগ কাজ করত, এবার তার বিপরীতে বিজেপির সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক গণিত কাজ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনো অ-আঞ্চলিক দল হিসেবে বিজেপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, যা ভারতীয় রাজনীতিতে ‘পদ্মফুলের উত্থান’ হিসেবে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

/আশিক

পাঠকের মতামত:

৫ মে: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

৫ মে: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

দেশের পুঁজিবাজারে মঙ্গলবারের লেনদেনে শীর্ষ গেইনার তালিকায় বহুমুখী খাতের কোম্পানির উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা বাজারে বিস্তৃত ভিত্তিতে আস্থার ইঙ্গিত... বিস্তারিত