ইরানের পক্ষে লড়বে চেচেন যোদ্ধারা! কাদিরভ বাহিনীর ‘জিহাদ’ ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ১০:১২:০৯
ইরানের পক্ষে লড়বে চেচেন যোদ্ধারা! কাদিরভ বাহিনীর ‘জিহাদ’ ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ এখন এক ভয়ংকর বৈশ্বিক রূপ নিতে যাচ্ছে। সোমবার (৩০ মার্চ) চেচেন নেতা রমজান কাদিরভের অনুগত দুর্ধর্ষ ‘কাদিরভতসি’ যোদ্ধা বাহিনী ঘোষণা করেছে যে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট ইরানে কোনো স্থল অভিযান শুরু করলে তারা তেহরানের পক্ষে লড়তে রণক্ষেত্রে নামতে প্রস্তুত।

প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে চেচেন যোদ্ধারা এই সংঘাতকে ‘শুভ ও অশুভের’ লড়াই এবং মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করাকে ‘জিহাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে লড়ার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই বাহিনী এখন ইরানের সীমান্তে মোতায়েন হওয়ার অপেক্ষায় আছে।

অন্যদিকে, এই যুদ্ধে ইউক্রেনের সরাসরি সম্পৃক্ততা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি দাবি করেছেন যে, কিয়েভ এই অঞ্চলে ‘শত শত বিশেষজ্ঞ’ পাঠিয়েছে যারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছে।

ইরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে, ইউক্রেনের এই হস্তক্ষেপ যুদ্ধের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করবে এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনিকে হত্যার পর শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন চেচেন যোদ্ধা এবং ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে একটি বৈশ্বিক প্রক্সি যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে।

বর্তমানে ইরানও বসে নেই; তারা ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান ও মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে মিনাবে ১৭০ জন স্কুলছাত্রসহ অসংখ্য বেসামরিক নাগরিক নিহতের ঘটনায় ইরানিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

চেচেন যোদ্ধাদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এবং ইউক্রেনের হস্তক্ষেপের খবর এই সংঘাতের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্ব সম্প্রদায় এখন রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছে যে, শেষ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী স্থল অভিযানে নামে কি না এবং চেচেন যোদ্ধারা সরাসরি এই লড়াইয়ে যোগ দেয় কি না।

সূত্র: প্যালেস্টাইন করনিকলস


কুয়েত বিমানবন্দরে ভয়াবহ ড্রোন হামলা! জ্বালানি ডিপোতে আগুনের লেলিহান শিখা

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ০৯:৩৪:২৭
কুয়েত বিমানবন্দরে ভয়াবহ ড্রোন হামলা! জ্বালানি ডিপোতে আগুনের লেলিহান শিখা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনা এবার কুয়েত ও বাহরাইনে আছড়ে পড়ল। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ডিপো এবং বাহরাইনের একটি বাণিজ্যিক স্থাপনায় ইরানের ভয়াবহ ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। এই জোড়া হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলে নতুন করে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনা (KUNA) জানিয়েছে, ড্রোন হামলায় বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলার পরপরই বিশাল এলাকাজুড়ে আগুনের কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস লড়াই করছে। কুয়েত বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, ডিপোটি লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

কুয়েতের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রতিবেশী দেশ বাহরাইনেও ইরানি ড্রোনের আঘাত হেনেছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্থাপনায় ড্রোনের আঘাতে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে জরুরি সেবা বিভাগ আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। প্রায় একই সময়ে দুই দেশে এই সুসংগঠিত ড্রোন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ৩২ দিনের এই ছায়া যুদ্ধ এখন আর কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি পারস্য উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোকেও গ্রাস করতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মাঝেই কুয়েত ও বাহরাইনকে লক্ষ্যবস্তু করে ইরান তার সামরিক শক্তির জানান দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং এই হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন


হরমুজ প্রণালি: ট্রাম্পের গলার কাঁটা? কেন এই জলপথ ইরানকে দিচ্ছে বাড়তি শক্তি

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ০৯:১৮:৩০
হরমুজ প্রণালি: ট্রাম্পের গলার কাঁটা? কেন এই জলপথ ইরানকে দিচ্ছে বাড়তি শক্তি
ছবি : সংগৃহীত

সামরিক শক্তিতে বিশ্বের এক নম্বর দেশ হয়েও ইরানের বিরুদ্ধে কেন দ্রুত জয় পাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র? এই প্রশ্নটি এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার তুঙ্গে। আলজাজিরা ও সিএনএন-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের কিছু সুনির্দিষ্ট কৌশলগত শক্তির কাছে হোয়াইট হাউসের শক্তিশালী সামরিক পরিকল্পনা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ভৌগোলিক অবস্থান। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। ইরান এই জলপথটি আংশিক বা পুরোপুরি অচল করে দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে গেলেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিচ্ছে, যা খোদ আমেরিকার ভেতরেও তেলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ইরান সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে কৌশলগত লড়াইয়ে বেশি সফল। মাত্র কয়েকটি নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা জাহাজ চলাচলে বাধা দিয়েই তারা বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে দ্রুত বিজয়ের আশা করলেও এখন তারা কৌশল বদলাতে বাধ্য হয়েছে। পূর্ণমাত্রার হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো (যেমন সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাত) ইরানের পাল্টা আঘাতের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজনৈতিক চাপ। যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবে দীর্ঘমেয়াদী স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে থাকে, তবে দেশের ভেতরে জনমত ট্রাম্পের বিপক্ষে চলে যাবে। বিশেষ করে ট্রাম্পের সমর্থকদের একটি বড় অংশ চায় না আমেরিকা আবারও কোনো ব্যয়বহুল বিদেশি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ুক।

ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখল বা ধ্বংস করা আমেরিকার জন্য খুব কঠিন কাজ নয়। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি করলেই যুদ্ধ শেষ হবে না। বরং এতে ইরান আরও কঠোরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং গেরিলা কায়দায় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করবে। ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে না পারলেও, যুদ্ধকে প্রলম্বিত করে তারা ওয়াশিংটনকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্লান্ত করে দিচ্ছে।

/আশিক


চীনের ৫ দফা প্রস্তাব! ইরান যুদ্ধ থামাতে বেইজিং-ইসলামাবাদ ঐতিহাসিক চুক্তি

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ২১:২৮:১৭
চীনের ৫ দফা প্রস্তাব! ইরান যুদ্ধ থামাতে বেইজিং-ইসলামাবাদ ঐতিহাসিক চুক্তি
ছবি : সংগৃহীত

রান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ৩২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশরের শান্তি আলোচনার উদ্যোগের পর এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছে এশীয় পরাশক্তি চীন। বেইজিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর পারস্য উপসাগরে শান্তি পুনরুদ্ধারে একটি ‘পাঁচ দফা’ প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়েছে।

শান্তি পুনরুদ্ধারে চীন ও পাকিস্তানের ৫ দফা প্রস্তাব

১. যেকোনো মূল্যে বর্তমান যুদ্ধাবস্থা থামাতে হবে এবং এই সংঘাত যাতে অঞ্চলের অন্য দেশগুলোতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

২. ইরানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা বজায় রেখে যত দ্রুত সম্ভব আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা শুরু করতে হবে। এই প্রক্রিয়া সফল করতে চীন ও পাকিস্তান সব পক্ষকে মধ্যস্থতায় সহায়তা করবে।

৩. সাধারণ মানুষ এবং অ-সামরিক স্থাপনা বা লক্ষ্যবস্তুর ওপর যেকোনো ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

৪.বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নৌ-চলাচল পথ নিরাপদ ও বাধাহীন রাখতে হবে।

৫. জাতিসংঘ সনদের মূলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যাপকভিত্তিক শান্তি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এই শান্তি প্রস্তাব এমন এক সময়ে এল যখন ওদিকে ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি না খুলেই যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। চীন ইরানের অন্যতম বড় অংশীদার হওয়ায় এবং পাকিস্তান ঐতিহাসিকভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করায়, এই ‘পাঁচ দফা’ প্রস্তাবকে যুদ্ধের মোড় ঘোরানোর একটি বড় কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বেইজিংয়ের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ ওয়াশিংটনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা।


মেজর জেনারেল এসঘাঘি নিহত! সপরিবারে প্রাণ হারালেন ইরানের শীর্ষ সেনাকর্তা

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৯:৫৭:৩৮
মেজর জেনারেল এসঘাঘি নিহত! সপরিবারে প্রাণ হারালেন ইরানের শীর্ষ সেনাকর্তা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সামরিক বাহিনীর ওপর আবারও এক বড় ধরনের আঘাত এল। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মঙ্গলবার এক শোকাবহ বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জামশিদ এসঘাঘি এক ভয়াবহ হামলায় নিহত হয়েছেন। তিনি ইরানের চিফ অব জেনারেল স্টাফের উপদেষ্টা হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আইআরজিসির বিবৃতির বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই হামলায় কেবল জেনারেল এসঘাঘিই নন, তাঁর সঙ্গে থাকা পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন। তবে অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে দেওয়া এই বিবৃতিতে হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান, সময় কিংবা ঠিক কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা জনিত কারণেই বিষয়গুলো গোপন রাখা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর একের পর এক লক্ষ্যভেদী হামলার ঘটনা ঘটছে, যা তেহরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতার মাঝে এমন একজন হাই-প্রোফাইল জেনারেলের সপরিবারে নিহত হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আল-জাজিরা


এবার ইরাকে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা!

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৭:৫৪:০৫
এবার ইরাকে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা!
ছবি : সংগৃহীত

ইরাকের ভূখণ্ডে এবার সরাসরি বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনী। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোরে ইরাকের সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সমর্থিত সংগঠন পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ইরাকের কৌশলগত বিভিন্ন অবস্থানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে।

পিএমএফ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জুর্ফ আল-নাসর এলাকায় তাদের ‘ব্রিগেড ৪৫’-এর ওপর তিনটি পৃথক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরই পশ্চিম আনবার প্রদেশের কারমা এলাকায় ‘ব্রিগেড ৩১’-কে লক্ষ্য করে চতুর্থ হামলাটি পরিচালিত হয়। তবে অত্যন্ত শক্তিশালী এই আক্রমণ সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পিএমএফ মূলত ২০১৪ সালে আইএসআইএস জঙ্গিদের দমনে গঠিত হয়েছিল এবং ২০১৬ সাল থেকে এটি ইরাকের নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীর একটি অংশ হিসেবে কাজ করছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই ইরাকের সরকারি বাহিনীর ওপর এই হামলা নতুন করে যুদ্ধের ডালপালা মেলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসকে লক্ষ্যবস্তু করার অর্থ হলো ওই অঞ্চলে ইরান-পন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর শক্ত ঘাঁটিগুলো গুড়িয়ে দেওয়া। এই ঘটনার পর ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কড়া প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে মার্কিন-ইসরায়েলি এই আগ্রাসন পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

/আশিক


তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই টার্গেট! কেন খারগ দ্বীপ দখলের ঝুঁকি নিচ্ছেন ট্রাম্প?

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৩:০২:১৩
তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই টার্গেট! কেন খারগ দ্বীপ দখলের ঝুঁকি নিচ্ছেন ট্রাম্প?
ইরান খারগ দ্বীপে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরো জোরদার করেছে। ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সাম্প্রতিক সামরিক ইঙ্গিত বিশ্বরাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। পারস্য উপসাগরের উত্তরে অবস্থিত ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নিতে সেখানে মার্কিন সেনাবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে তিনি যে আভাস দিয়েছেন, তা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

দীর্ঘ সময় ধরে এই দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হিসেবে পরিচিত, কারণ দেশটির মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের ওপর নির্ভরশীল। গভীর জলসীমার সুবিধাজনক অবস্থানের কারণে এখানে বিশ্বের বৃহত্তম তেলের ট্যাঙ্কারগুলো অনায়াসে ভিড়তে পারে, যা প্রতিটি ২০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত তেল পরিবহন করতে সক্ষম। এই বিশেষ গুরুত্বের কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন এখন খারগ দ্বীপকে তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে।

এই সামরিক পরিকল্পনার বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজাত ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ২ হাজার প্যারাট্রুপার এবং ৫ হাজার শক্তিশালী নৌ-সেনা (মেরিন) ব্যবহারের জল্পনা চলছে। তাত্ত্বিকভাবে বলা হচ্ছে, মার্কিন কমান্ডোরা রাতের অন্ধকারে আকাশপথে অতর্কিতে হানা দিয়ে মাত্র ২০ বর্গকিলোমিটারের এই ছোট দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। তবে এই অভিযান সহজসাধ্য হবে না, কারণ মার্কিন জাহাজগুলোকে প্রথমেই ইরান নিয়ন্ত্রিত সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালির কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

এর পাশাপাশি ইরানের অসংখ্য লুক্কায়িত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের নজরদারি এড়িয়ে পারস্য উপসাগরের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া হবে এক অগ্নিপরীক্ষার মতো। ইতিম্যেধ ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কোনো মার্কিন বাহিনী সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের ওপর ‘আগুনের বৃষ্টি’ চালানো হবে।

বিশেষজ্ঞরা এই সম্ভাব্য অভিযানকে ইউক্রেনের স্নেক আইল্যান্ডের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করছেন। ২০২২ সালে রাশিয়া সেই দ্বীপটি দখল করলেও ইউক্রেনীয় মূল ভূখণ্ড থেকে অবিরাম গোলাবর্ষণের মুখে তা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। একইভাবে, খারগ দ্বীপ দখল করা গেলেও মূল ভূখণ্ড থেকে ধেয়ে আসা তীব্র ইরানি গোলাবর্ষণ অনির্দিষ্টকাল ধরে মোকাবিলা করা পেন্টাগনের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও প্রাণঘাতী হতে পারে।

এছাড়া পারস্য উপসাগরে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ রয়েছে, যেমন লারাক ও কেশম দ্বীপ। এর মধ্যে লারাক দ্বীপটি হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথে অবস্থিত এবং কেশম দ্বীপটি খারগ দ্বীপের চেয়ে প্রায় ৭৫ গুণ বড়, যেখানে ইরান মাটির নিচে বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি তৈরি করে রেখেছে বলে ধারণা করা হয়। এই দ্বীপগুলো ইরানের জন্য একটি শক্তিশালী সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে যা মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম।

পরিশেষে এটি লক্ষ্য করা গুরুত্বপূর্ণ যে, খারগ দ্বীপে সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযান নিয়ে বর্তমানে এত বেশি আলোচনা হচ্ছে যে, এটি কোনো সুদূরপ্রসারী ধোঁকাবাজি বা ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনার একটি মনস্তাত্ত্বিক কৌশলও হতে পারে। যুদ্ধের এই পঞ্চম সপ্তাহে ট্রাম্প সোমবার আবারও জানিয়েছেন যে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে।

অনেকের ধারণা, খোদ ট্রাম্প নিজেই একটি দ্রুত চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন এবং এই সামরিক হুমকিগুলো মূলত সেই চুক্তিতে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার জন্য ব্যবহার করছেন। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী স্থল অভিযানের পথ বেছে নেয় নাকি আলোচনার মাধ্যমে কোনো একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

তথ্যসূত্র- বিবিসি


তেলের খনি দখলে নিতে মরিয়া ট্রাম্প! ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে উড়াল দিল হাজারো মার্কিন সেনা

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১০:৩০:৪১
তেলের খনি দখলে নিতে মরিয়া ট্রাম্প! ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে উড়াল দিল হাজারো মার্কিন সেনা
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অন্যতম দুর্ধর্ষ এবং অভিজাত ইউনিট ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার প্যারাট্রুপার মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ হিসেবে সরাসরি স্থল অভিযানের পথ প্রশস্ত করতেই এই বিশাল সেনা সমাবেশের গতি বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে আসা এই প্যারাট্রুপাররা মূলত ওই অঞ্চলে আগে থেকে অবস্থানরত হাজার হাজার মেরিন, নাবিক এবং স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। গত সপ্তাহান্তেই প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেরিন সেনা সেখানে পৌঁছেছেন।

যদিও এই সেনারা ঠিক কোথায় অবস্থান নেবেন তা গোপন রাখা হয়েছে, তবে এই বহরে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, লজিস্টিক সাপোর্ট টিম এবং একটি শক্তিশালী ব্রিগেড কমব্যাট টিম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েনের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের তেল রপ্তানির প্রাণকেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ দখলের মতো কৌশলগত মিশনে প্যারাট্রুপারদের ব্যবহার করা।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ হওয়ার মাথায় মার্কিন এই সামরিক উপস্থিতি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও আগ্রাসী। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খার্গ দ্বীপের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো দখল করা গেলে তেহরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।

যদিও ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন যে তিনি দ্রুত চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধের ইতি টানতে চান, কিন্তু বাস্তবে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের মতো একটি আক্রমণাত্মক ইউনিটের অন্তর্ভুক্তি মূলত ইরানি ভূখণ্ডে সরাসরি হস্তক্ষেপ বা বড় ধরনের স্থল অভিযানেরই অশুভ ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই সেনা সমাবেশের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এখন চরম সংকটের মুখে। প্রতিবেশী দেশগুলো এবং বিশ্ব সম্প্রদায় এখন গভীর উদ্বেগের সাথে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে। যদি এই হাজার হাজার প্যারাট্রুপার শেষ পর্যন্ত ইরানের ভেতরে কোনো অভিযানে অংশ নেয়, তবে এই যুদ্ধ এক ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন রূপ নিতে পারে, যা পুরো বিশ্ব অর্থনীতি ও শান্তিতে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল


জ্বলছে তেহরান! কেন্দ্রবিন্দুতে ইসরায়েলি বাহিনীর অতর্কিত ও ব্যাপক আক্রমণ

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১০:১৯:০৩
জ্বলছে তেহরান! কেন্দ্রবিন্দুতে ইসরায়েলি বাহিনীর অতর্কিত ও ব্যাপক আক্রমণ
তেহরানজুড়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ছবি সংগৃহীত

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ইরানের রাজধানী তেহরানে ফের ভয়াবহ ও অতর্কিত সিরিজ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। সিএনএনের লাইভ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ তেহরানের কেন্দ্রবিন্দুসহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ইরানি শাসনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে এই ‘বৃহত্তর আকারের’ হামলার কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানি শাসনব্যবস্থার সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলো।

আইডিএফের দাবি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের অন্তত ১৭০টি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তবে তেহরানের এই সাম্প্রতিক সিরিজ হামলায় ইরানের ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কতজন হতাহত হয়েছেন, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে।

যুদ্ধের এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান যদি নির্দিষ্ট শর্ত মেনে চুক্তিতে আসে, তবে তিনি দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ করতে আগ্রহী। কিন্তু ট্রাম্পের এই সুরের ঠিক বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এখনই এই যুদ্ধ বন্ধ করার কোনো সময়সূচি বা ‘ডেডলাইন’ তিনি নির্ধারণ করতে রাজি নন। নেতানিয়াহুর এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত ও রক্তক্ষয়ী করার সংকেত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

/আশিক


নিজের ঘরের বিক্ষোভে নজর দিন: ট্রাম্পকে ইরানের প্রেসিডেন্টের পরামর্শ

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১৭:২৬:৩২
নিজের ঘরের বিক্ষোভে নজর দিন: ট্রাম্পকে ইরানের প্রেসিডেন্টের পরামর্শ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। ২৮ মার্চি ২০২৬, ওয়াশিংটন ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি নিয়ে খোদ আমেরিকাতেই তীব্র বিক্ষোভ দানা বাঁধছে। এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার দিকে নজর দিতে ওয়াশিংটনকে পরামর্শ দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাঁর মতে, ট্রাম্পের ‘ইসরায়েলপন্থী’ নীতির কারণে মার্কিন জনমনে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে দেশটির প্রশাসনের আরও সজাগ হওয়া প্রয়োজন।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হওয়া ‘নো কিংস’ (No Kings) বিক্ষোভের প্রসঙ্গটি সামনে আনেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন সমাজের একটি বড় অংশ এখন তাদের দেশের নীতিনির্ধারণে বাইরের শক্তির প্রভাব নিয়ে চরম হতাশ।

পেজেশকিয়ান এই পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সঠিকভাবে বোঝানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এআই বিশেষজ্ঞদের উচিত ট্রাম্পকে জানানো যে, মার্কিন নাগরিকরা ‘ইসরায়েলকে অগ্রাধিকার’ দেওয়ার নীতির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ এবং তারা মার্কিন গণতন্ত্রের ওপর ‘ইসরায়েলি রাজাদের’ খবরদারিতে ক্লান্ত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি শোচনীয় রূপ নেয়। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিহতের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে তেহরান। গত এক মাস ধরে চলা এই পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো অঞ্চল এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর ও সৌদি আরব এই যুদ্ধ বন্ধে দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে আলোচনার প্রস্তাব এলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চরম আস্থাহীনতার কথা জানিয়ে এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে ইরান। যুদ্ধের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে খোদ আমেরিকায় ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন এক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

/আশিক

পাঠকের মতামত: