আইএলওতে তারেক রহমান সরকারের প্রতি ৪৭ দেশের সমর্থন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ০৮:১০:০২
আইএলওতে তারেক রহমান সরকারের প্রতি ৪৭ দেশের সমর্থন
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক শ্রমনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা–এর ৩৫৬তম গভর্নিং বডি অধিবেশনে বাংলাদেশকে ঘিরে অনুষ্ঠিত আলোচনায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। এই অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী ৪৭টি দেশ বর্তমান বাংলাদেশের সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন, সহযোগিতা এবং আস্থার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।

প্রতিনিধিরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকারের নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে তারেক রহমান–এর নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। এই স্বীকৃতি কেবল রাজনৈতিক বৈধতার প্রতিফলন নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী কাঠামোর গ্রহণযোগ্যতারও ইঙ্গিত বহন করে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা–এর কনভেনশন ৮১, ৮৭ ও ৯৮ বাস্তবায়নে ঘাটতির অভিযোগে একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ২০২১ সালে শ্রম খাত সংস্কারের জন্য একটি পাঁচ বছর মেয়াদি রোডম্যাপ প্রণয়ন করে, যা মূলত শ্রম অধিকার সুরক্ষা, ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা এবং শ্রম পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে তৈরি করা হয়।

এই রোডম্যাপ বাস্তবায়নের অগ্রগতি ইতোমধ্যে একাধিক গভর্নিং বডি অধিবেশনে পর্যালোচিত হয়েছে। সর্বশেষ অধিবেশনে নবম অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হলে তা অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিশেষ করে শ্রম আইন সংস্কার, শ্রম পরিদর্শন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পদক্ষেপগুলো প্রশংসিত হয়েছে।

আলোচনায় ১৯টি দেশ, দুটি আঞ্চলিক জোট এবং মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের উদ্যোগকে কার্যকর ও বাস্তবমুখী হিসেবে অভিহিত করেন। তারা চলমান প্রক্রিয়াটি দ্রুত সমাপ্ত করার জন্য জোর আহ্বান জানান, যা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক শ্রমমান পূরণে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে।

একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা বাংলাদেশের অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে রোডম্যাপের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য আরও কাঠামোগত ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করে। তারা বিশেষভাবে শ্রম আইন সংশোধন, শ্রম পরিদর্শক নিয়োগ বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা শ্রম অধিকার, সুশাসন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানান, শ্রম খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

এই আলোচনায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ২২ সদস্যবিশিষ্ট আরব গ্রুপ, ৬ সদস্যের উপসাগরীয় অঞ্চলভিত্তিক জোট এবং নাইজার, চীন, রাশিয়া, জাপান, তানজানিয়া, ইরান, লিবিয়া, ওমান, ফিলিপাইন, নেপাল, তিউনিসিয়া, ইথিওপিয়া, লাওস, কিউবা, মোজাম্বিক, গ্যাবন ও উজবেকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করে। তাদের একটি বড় অংশ চলমান প্রক্রিয়াটি দ্রুত প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতি আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

-রফিক


ইসরায়েলে তেল শোধনাগারে হামলা, আতঙ্কে বাসিন্দারা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ০৮:০৩:৫৫
ইসরায়েলে তেল শোধনাগারে হামলা, আতঙ্কে বাসিন্দারা
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী হাইফায় একটি তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিশাল আকারের সিলিন্ডার ট্যাংক থেকে ঘন কালো ধোঁয়া আকাশের দিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা ঘটনাটির তীব্রতা ও ঝুঁকির মাত্রা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাটি হাইফার শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত হাইফা শহরটি ইসরায়েলের তৃতীয় বৃহত্তম নগরী এবং দেশের একটি প্রধান সমুদ্রবন্দর হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। এই অঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত সরাসরি জাতীয় অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ঘটনার পরপরই ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে সেনাবাহিনীর নিয়মিত ও রিজার্ভ উভয় ইউনিটকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আহতের খবর পাওয়া যায়নি, যা সম্ভাব্য বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় এড়াতে সহায়ক হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার সময়কাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত এক মাস ধরে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ত্রিমুখী উত্তেজনা ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ইসরায়েল একই সময়ে ইরান এবং দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করে আসছে, যেখানে দক্ষিণ লেবানন কার্যত নিয়ন্ত্রণ করছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

এই প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং হিজবুল্লাহ যৌথভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হাইফার এই তেল শোধনাগারে ঠিক কোন পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ফলে ঘটনাটি কেবল সামরিক সংঘাতের অংশ নয়, বরং গোয়েন্দা ও কৌশলগত অনিশ্চয়তারও প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র : এএফপি


ইসরায়েলে ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ হামলার দাবি হিজবুল্লাহর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ০৬:৫১:৩০
ইসরায়েলে ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ হামলার দাবি হিজবুল্লাহর
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে লেবাননভিত্তিক ইরানপন্থী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ সাম্প্রতিক সামরিক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য তৎপরতার দাবি করেছে। গোষ্ঠীটির ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারা ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে একযোগে মোট ৪৩টি পৃথক হামলা পরিচালনা করেছে, যা অঞ্চলজুড়ে সংঘাতের মাত্রা নতুন করে উসকে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার উদ্ধৃতি অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, এসব হামলার একটি বড় অংশ সরাসরি লেবাননের ভূখণ্ডে অবস্থানরত ইসরায়েলি সামরিক ইউনিটগুলোর ওপর পরিচালিত হয়েছে। মোট হামলার মধ্যে ২৬টি সংঘটিত হয়েছে সীমান্তবর্তী লেবানন অঞ্চলে, যেখানে দুই পক্ষের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘর্ষ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে।

অন্যদিকে, অবশিষ্ট ১৭টি হামলা পরিচালিত হয়েছে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল লক্ষ্য করে, যা সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তৃতি বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ক্রস-বর্ডার আক্রমণ কেবল সামরিক উত্তেজনা নয়, বরং একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের সম্ভাবনাকেও সামনে নিয়ে আসে।

হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তাদের হামলাগুলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছে। গোষ্ঠীটির ভাষ্যমতে, এসব অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনীর চারটি সামরিক ঘাঁটি, আটটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা, একটি ব্যারাক এবং সীমান্ত এলাকায় সম্প্রতি স্থাপিত চারটি নতুন চৌকি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

যদিও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এসব দাবির তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি, তবুও এই ধরনের ধারাবাহিক হামলার দাবি অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র:আল জাজিরা


খারগ দ্বীপে মার্কিন বুট? ট্রাম্পের হুমকিতে বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ২১:৪৭:১১
খারগ দ্বীপে মার্কিন বুট? ট্রাম্পের হুমকিতে বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধস
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিস্ফোরক মন্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এখন চরমে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ দখল করে দেশটির তেল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। ট্রাম্পের মতে, এই মুহূর্তে তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করা, যদিও এ নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই নানা মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, এটি করা হতে পারে, আবার নাও হতে পারে—কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আরও অনেক বিকল্প খোলা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রয়োজনে সেখানে মার্কিন বাহিনীকে কিছু সময়ের জন্য অবস্থান করতে হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। যেহেতু ইরানের মোট তেল রপ্তানির সিংহভাগই এই দ্বীপের ওপর নির্ভরশীল, তাই এটি দখল করা হলে দেশটির অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে এক অপূরণীয় ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান এই ত্রিমুখী সংঘাতের মাঝেই ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ইতোমধ্যেই ওই অঞ্চলে কয়েক হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং পেন্টাগন আরও সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। ট্রাম্পের এই ‘তেল দখলের’ কৌশল একদিকে যেমন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে অস্থিরতা তৈরি করছে, অন্যদিকে ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের সাথে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পথ প্রশস্ত করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

/আশিক


ট্রাম্পের মুখে শান্তি, ইসরায়েলের হাতে অস্ত্র! মিত্রদের দ্বিমুখী চালে বিভ্রান্ত বিশ্ব

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ২০:৫৪:৪৬
ট্রাম্পের মুখে শান্তি, ইসরায়েলের হাতে অস্ত্র! মিত্রদের দ্বিমুখী চালে বিভ্রান্ত বিশ্ব
ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ (বাঁ থেকে), মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কোলাজ

যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের দৌড়ঝাঁপকে ছদ্মবেশ হিসেবে দেখছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, শত্রুরা প্রকাশ্যে আলোচনার কথা বললেও গোপনে আসলে বড় ধরনের স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে। তাঁর এই আশঙ্কার পেছনে মূল কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন। গালিবাফ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানি বাহিনী মার্কিন সৈন্যদের স্থলপথে প্রবেশের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এবং তারা সীমানা অতিক্রম করলেই তাদের ওপর ‘আগুনের বৃষ্টি’ বর্ষণ করা হবে।

যুদ্ধের এক মাস পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না দেখে সিএনএনের প্রধান কূটনৈতিক প্রতিবেদক ম্যাথিউ চ্যান্স একটি গভীর উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, মার্কিন বাহিনীর কাছে অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র থাকলেও যেকোনো ধরনের স্থল অভিযান দ্রুত একটি ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এতে কেবল ইরান নয়, বরং পার্শ্ববর্তী জ্বালানিসমৃদ্ধ উপসাগরীয় আরব দেশগুলোও বড় ধরনের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। ইতোমধ্যেই যুদ্ধের কারণে এই দেশগুলো কয়েক বিলিয়ন ডলারের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছে এবং তারা এখন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে।

গালিবাফ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লে তারা কেবল আত্মরক্ষণ নয়, বরং হামলা আরও জোরদার করবে এবং আঞ্চলিক সহযোগীদেরও এর জন্য কঠিন শাস্তি পেতে হবে। ইরানের এই হুমকির লক্ষ্যবস্তু হতে পারে প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনাগুলো। ম্যাথিউ চ্যান্সের মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, আর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় বাব এল-মান্দেব জলপথটিও এখন অনিরাপদ। ওয়াশিংটন শুরুতে দ্রুত জয় নিশ্চিত করার যে ছক কষেছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার সম্ভাবনা এখন অত্যন্ত ক্ষীণ।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন আলোচনার কথা বলছেন, তখন তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার এক বিশাল নীল নকশা তৈরি করছে। দোহা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এলমাসরি জানিয়েছেন, ইসরায়েল তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৭১ বিলিয়ন ডলারের একটি যুদ্ধ বাজেট পাস করেছে। এই বিশাল বাজেট মূলত সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন এবং ইরান পর্যন্ত একটি দীর্ঘমেয়াদী বা ধারাবাহিক যুদ্ধের প্রস্তুতির প্রতিফলন। এলমাসরির মতে, ইসরায়েল মূলত তাদের ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ বা বৃহত্তর ইসরায়েলের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য যুদ্ধের এই পথটি বেছে নিয়েছে এবং তারা বর্তমানে যুদ্ধের কেবল শুরু বা মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে।

/আশিক


ইসরায়েল ফার্স্ট নীতিতে ক্ষুব্ধ মার্কিনিরা: নিজ দেশেই তোপের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১৯:৫৭:৫০
ইসরায়েল ফার্স্ট নীতিতে ক্ষুব্ধ মার্কিনিরা: নিজ দেশেই তোপের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলমান “নো কিংস” বিক্ষোভ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি বিদ্ধ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, এই বিক্ষোভে লাখো মানুষের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে, মার্কিন নাগরিকরা বর্তমান প্রশাসনের “ইসরায়েল ফার্স্ট” (ইসরায়েল আগে) নীতিতে চরম ক্ষুব্ধ।

পেজেশকিয়ান মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের উচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এই বিক্ষোভের প্রকৃত বাস্তবতা সম্পর্কে সজাগ করা। তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন জনগণ তাদের গণতন্ত্রের ওপর “ইসরায়েলি রাজাদের” ক্রমাগত প্রভাব বিস্তারে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। একই সুরে কথা বলেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফও। তিনি বিক্ষোভকারীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, ইরান ৪৭ বছর আগে যে ‘রাজতন্ত্র বিরোধী’ আন্দোলন শুরু করেছিল, আজ মার্কিন জনতা সেই পথেই হাঁটছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তা এখন পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে। এই যুদ্ধের প্রতিবাদে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহরে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী নীতির তীব্র নিন্দা জানান এবং ইরানের বিরুদ্ধে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেন।

মার্কিন নাগরিকদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের দেশের স্বার্থের চেয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বেশি মনোযোগী। এদিকে ইরানও দমে নেই; তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না ব্রিটেন, সাফ জানালেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১৯:৪২:৫৫
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না ব্রিটেন, সাফ জানালেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই সংঘাত থেকে যুক্তরাজ্য নিজেকে দূরে রাখবে। স্টারমারের ভাষায়, “এটি আমাদের যুদ্ধ নয়, এবং আমরা এতে জড়িয়ে পড়ব না।”

সোমবার এক বিবৃতিতে স্টারমার জানান, যুক্তরাজ্য বর্তমানে কেবল ‘প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ গ্রহণ করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবন রক্ষা, ব্রিটিশ স্বার্থ রক্ষা এবং ওই অঞ্চলে থাকা মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে ব্রিটেন সব ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সহায়তা চালিয়ে যাবে। তবে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাজ্যের নেই।

অবশ্য সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও কৌশলগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিচ্ছে ব্রিটেন। হরমুজ প্রণালীতে হুমকির মুখে থাকা ইরানি স্থাপনায় হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। এছাড়া ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাঝ আকাশে প্রতিহত করতে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানও মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্টারমার একদিকে সরাসরি যুদ্ধ এড়াতে চাইছেন, অন্যদিকে মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতাও বজায় রাখছেন।

সূত্র: আল জাজিরা


খার্গ দ্বীপে হামলার চূড়ান্ত হুমকি ট্রাম্পের: রণক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে হরমুজ প্রণালি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১৮:৫৮:৩৪
খার্গ দ্বীপে হামলার চূড়ান্ত হুমকি ট্রাম্পের: রণক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে হরমুজ প্রণালি
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুমকি এবং এর বিপরীতে ইরানের কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে এক চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে দ্রুত কোনো সমঝোতা না হলে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের জ্বালানি স্থাপনা ও অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি খার্গ দ্বীপে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্র এবং খার্গ দ্বীপ লক্ষ্য করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। যদিও তিনি দাবি করেছেন আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাধান না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই যুক্তরাষ্ট্রের এই ১৫ দফা পরিকল্পনাকে ‘অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আমেরিকার সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি আলোচনা হয়নি; যা কিছু হচ্ছে তা পাকিস্তানসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান। বাঘেই যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, অন্য পক্ষ বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছে, যা আলোচনার পরিবেশকে জটিল করে তুলছে।

ইরানি মুখপাত্র আরও জানান, তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোকে শত্রু মনে করে না এবং সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, ইরানের সামরিক পদক্ষেপ কেবল সেইসব ঘাঁটি ও স্থাপনার ওপর চালানো হবে যেখান থেকে ইরানের ওপর হামলা করা হয়েছে। এছাড়া চলমান এই সংকটের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ বা প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির প্রসঙ্গ টেনে আঞ্চলিক দেশগুলোকে সংঘাতে জড়ানোর প্রচেষ্টারও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

/আশিক


হরমুজ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ২০ ট্যাংকারে তেল পাঠাচ্ছে ইরান: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১৪:১৭:২০
হরমুজ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ২০ ট্যাংকারে তেল পাঠাচ্ছে ইরান: ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে জ্বালানি কূটনীতি ও ভূরাজনৈতিক সমীকরণ। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ২০টি তেলবাহী ট্যাংকার পাঠাচ্ছে, যা চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এক নতুন ইঙ্গিত বহন করছে।

রোববার ওয়াশিংটনের পথে প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল থেকেই এসব জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ট্রাম্প মন্তব্য করেন, এই তেলবাহী জাহাজ পাঠানোকে তিনি ‘শ্রদ্ধার নিদর্শন’ হিসেবে দেখবেন কি না তা নিশ্চিত নন, তবে এটি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একইসঙ্গে তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনায় ওয়াশিংটন বর্তমানে একটি ‘অনুকূল অবস্থানে’ রয়েছে। তার মতে, কূটনৈতিক আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং একটি সম্ভাব্য সমঝোতার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

তবে সম্ভাবনার কথা বললেও ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, এই আলোচনা সফল নাও হতে পারে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ‘চুক্তি হতে পারে, আবার নাও হতে পারে’ যা আলোচনার অনিশ্চয়তাকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সরাসরি এবং মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পরোক্ষ উভয় ধরনের আলোচনাই চালিয়ে যাচ্ছে। এই বহুমাত্রিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার একটি কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্থল অভিযানের সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ‘বহু বিকল্প’ খোলা রয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে সামরিক অপশন এখনো পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, আলোচনার অগ্রগতি নির্ধারিত সময়সূচির তুলনায় দ্রুত হয়েছে এবং একটি নতুন আলোচনাকারী দল এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে, যারা তুলনামূলকভাবে ‘যুক্তিসঙ্গত’ আচরণ করছে।

তবে এই ইতিবাচক ইঙ্গিতের বিপরীতে ইরানের অবস্থান বেশ কঠোর। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, যে কোনো যুদ্ধবিরতি তাদের নিজস্ব শর্ত ও সময়সূচি অনুযায়ীই হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের সম্ভাবনা এবং আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত একদিকে যেমন উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা তৈরি করছে, অন্যদিকে তা কৌশলগত দরকষাকষির অংশও হতে পারে।

কারণ হরমুজ প্রণালী বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট, যার ওপর নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বিস্তার আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যে বড় ভূমিকা রাখে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


খার্গ দ্বীপ আসলে কী? কেন এই ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ দখল করতে মরিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩০ ১০:৫১:০৪
খার্গ দ্বীপ আসলে কী? কেন এই ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ দখল করতে মরিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটন ইরানের ‘লাইফলাইন’খ্যাত এই দ্বীপটির দখল নিতে চায়। এই রণকৌশলকে তিনি ভেনেজুয়েলার ‘তেল রাজনীতির’ সঙ্গে তুলনা করেছেন, যার মূল লক্ষ্য হলো দ্বীপটি দখল বা অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে বাধ্য করা এবং দেশটির আয়ের প্রধান উৎস চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া।

ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণে খার্গ দ্বীপ ইরানের জন্য এক অপরিহার্য ভূখণ্ড। মূল ভূখণ্ডের উপকূলীয় এলাকা সুপারট্যাঙ্কার চলাচলের জন্য অত্যন্ত অগভীর হওয়ায় ইরানের উৎপাদিত প্রায় সমস্ত অপরিশোধিত তেল সমুদ্রতলের পাইপলাইনের মাধ্যমে এই দ্বীপে পাঠানো হয়। ১৯৫০-এর দশকে তেল স্থাপনা হিসেবে গড়ে ওঠা এই দ্বীপে বর্তমানে বিশালাকার স্টোরেজ ট্যাঙ্ক এবং জেটি রয়েছে, যেখান থেকে মূলত চীনে তেল রপ্তানি করা হয়। অন্তত ৮ হাজার বাসিন্দার এই ‘নিষিদ্ধ দ্বীপে’ সাধারণের প্রবেশাধিকার সীমিত থাকলেও স্যাটেলাইট চিত্রে সেখানে পাইপলাইনের এক বিশাল জাল ও শক্তিশালী অবকাঠামো দেখা যায়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই দ্বীপটিকে ‘অরক্ষিত’ বলে বর্ণনা করলেও সামরিক বিশেষজ্ঞরা একে দখলের অভিযানকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন। ১৯৮৮ সাল থেকেই ট্রাম্পের নজর এই দ্বীপটির ওপর থাকলেও বর্তমানে ওই অঞ্চলে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্যারাট্রুপার এবং উভচর আক্রমণকারী জাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ মোতায়েন করায় সংঘাতের শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মাইকি কে-র মতে, এই দ্বীপটি দখল করা হলে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাবে, যা তাদের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

তবে এই সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের বিশেষজ্ঞ ক্রিশ্চিয়ান এমেরি সতর্ক করেছেন যে, দ্বীপটি মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ২০ মাইলের কম দূরত্বে অবস্থিত হওয়ায় এটি সহজেই ইরানি রকেট, গোলন্দাজ বাহিনী ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

পারস্য উপসাগরের গভীরে অবস্থিত হওয়ায় মার্কিন রসদ সরবরাহের পথটিও সবসময় ঝুঁকির মুখে থাকবে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, খার্গ দ্বীপ দখল করা কোনো চূড়ান্ত বিজয় আনার বদলে যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী করার ঝুঁকি তৈরি করবে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরান ও তার মিত্ররা কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট করেছেন যে, তারা মার্কিন বাহিনীর প্রতিটি গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো আপস করবেন না। রাশিয়ার পক্ষ থেকেও এই দখলের পরিকল্পনা নিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খার্গ দ্বীপে কোনো অভিযান চালানো হলে ইরান তীব্র পাল্টা আঘাত হানতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে এক চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: