নয়াপল্টনে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর: তারেক রহমানকে ঘিরে উৎসবের আমেজ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৮ ২১:০০:৪৫
নয়াপল্টনে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর: তারেক রহমানকে ঘিরে উৎসবের আমেজ
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছালে সেখানে এক আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নয়াপল্টন এলাকায় হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা।

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ৭টার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে গাড়ির ভেতর থেকেই হাত নেড়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। তাঁর আগমনে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে এলাকা মুখরিত করে তোলেন। নেতাকর্মীদের হাতে ছিল রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন এবং প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফরকে কেন্দ্র করে পুরানা পল্টনের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সড়কের ডিভাইডারের ওপর দাঁড়িয়েও অনেককে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

নেতাকর্মীদের এই বিশাল জমায়েতের কারণে নয়াপল্টন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং যানবাহন চলাচল কার্যত এক লাইনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। নতুন সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমের ব্যস্ততার মাঝেও নিজ দলীয় কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনে কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

/আশিক


বিল পাসের পর 'বুঝলাম না' বলা গ্রহণযোগ্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ২১:৩০:৫৯
বিল পাসের পর 'বুঝলাম না' বলা গ্রহণযোগ্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে বিল পাস হওয়ার পদ্ধতি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের আপত্তির কড়া জবাব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, "বিল পাস হয়ে যাওয়ার পর যদি বলা হয় ‘আমি কিছু বুঝিলাম না’, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান যে, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী কোনো বিলের ওপর আপত্তি দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় থাকে। তিনি বলেন, বিল উত্থাপনের সময় এবং সেকেন্ড রিডিং বা বিবেচনার সময়ই মূলত ভিন্নমতের সুযোগ থাকে। আইন প্রণয়নের পুরো প্রক্রিয়ায় বিরোধীদলের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং মতামতের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিলগুলো একটি বিশেষ কমিটিতে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের উপস্থিতিতেই সর্বসম্মতিক্রমে পর্যালোচিত হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কিছু বিলে বিরোধীদল ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) দিয়েছিল এবং স্পিকার সেই আলোচনার জন্য নির্ধারিত সময়ের চেয়েও বেশি সময় দিয়েছেন। তাই কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত ও সংসদীয় প্রক্রিয়া মেনেই বিলগুলো পাস করা হয়েছে। হঠাৎ করে সব প্রক্রিয়ার শেষে এসে ‘বুঝতে পারিনি’ বলাটা সংসদীয় শিষ্টাচারের পরিপন্থী বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

/আশিক


১৬ বছরের লুটপাটে ধ্বংসের মুখে অর্থনীতি: অর্থমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ১৮:৫১:৪২
১৬ বছরের লুটপাটে ধ্বংসের মুখে অর্থনীতি: অর্থমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

গত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসনের কবলে পড়ে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে জাতীয় সংসদে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বিগত সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট এবং নীতিগত ব্যর্থতার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী বর্তমান অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা ও পরিসংখ্যানগত বৈপরীত্যগুলো বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন।

অর্থমন্ত্রী তাঁর বিবৃতিতে দেখান যে, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি যেখানে ৬.৭৮ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭.১৭ শতাংশের মধ্যে ছিল, সেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধি কমে ৪.২২ শতাংশে নেমেছে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৭৩ শতাংশে।

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথাকথিত উন্নয়নের নামে মেগা প্রকল্পগুলোতে অতিমূল্যায়ন ও লুটপাট চালানো হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ বিনিয়োগের সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিশেষ করে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ১০.৬৬ শতাংশ থেকে মাত্র ৩.৫১ শতাংশে নেমে আসায় কর্মসংস্থান মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী মুদ্রাবাজার ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের নাজুক অবস্থা তুলে ধরে জানান, ২০০৫-০৬ সালে প্রতি ডলারের মান ছিল ৬৭.২ টাকা, যা বর্তমানে ১২১ টাকায় পৌঁছেছে। টাকার এই রেকর্ড অবমূল্যায়নের ফলে আমদানি ব্যয় বেড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ ছাড়া বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৮.৩ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ৬.৫ শতাংশে নেমে আসা এবং রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বছরের পর বছর ৮.২ শতাংশে স্থির থাকাকে তিনি অর্থনীতির স্থবিরতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, লুটপাটের মাধ্যমে লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে অকার্যকর করে দিয়েছে।

/আশিক


বিপাকে বাংলাদেশি জাহাজ: হরমুজ প্রণালিতে বাধা দিল ইরান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ১৮:২৭:২৪
বিপাকে বাংলাদেশি জাহাজ: হরমুজ প্রণালিতে বাধা দিল ইরান
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ । ছবি : সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি পায়নি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে অনুমতি প্রত্যাখ্যান করার পর জাহাজটিকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে পাঠানো হচ্ছে। বিএসসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, গত বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির প্রবেশদ্বারে পৌঁছায়। নিয়ম অনুযায়ী ইরান সরকারের কাছে অনুমতি চাওয়া হলে তারা তা নাকচ করে দেয়। বর্তমানে জাহাজটি প্রণালির কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং বিএসসি কর্তৃপক্ষ কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পুনরায় অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। নাবিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত জাহাজটিকে শারজা বন্দরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

জাহাজে বর্তমানে ৩১ জন নাবিক রয়েছেন এবং তারা সবাই নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে বিএসসি কর্তৃপক্ষ। নাবিকদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের দৈনিক খাবারের বরাদ্দ জনপ্রতি ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে জাহাজটি পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল। বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

/আশিক


অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৬টি অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১৯:২১:২৮
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৬টি অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে
ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারানোর মুখে পড়ায় দেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন না করায় মোট ১৬টি অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে যাচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সময় জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি সরাসরি বিল হিসেবে সংসদে আনা হচ্ছে এবং আরও ১৫টি সংশোধন করে বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে। তবে বাকি ২০টির মধ্যে চারটি সরাসরি বাতিল এবং ১৬টি এখনই সংসদে উপস্থাপন না করায় নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করলে সেগুলো সম্পূর্ণভাবে কার্যকারিতা হারাবে।

বাতিল হওয়া অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে গুম প্রতিরোধ আইন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত বিধান এবং বিচার বিভাগ-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাঠামোগত আইন অন্তর্ভুক্ত থাকায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব আইন বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট খাতে নীতিগত শূন্যতা তৈরি হতে পারে।

এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়াও সুশীল সমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজধানীর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় ড. বদিউল আলম মজুমদার মন্তব্য করেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি।

একই আলোচনায় সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের কঠোর সমালোচনা করেন আইনজীবী শিশির মনির। তার মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের মর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রশ্নে নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে এবং এটি বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল এ বিষয়ে সরকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ আইন বাতিলের পেছনের যুক্তি জনসম্মুখে তুলে ধরা উচিত, যাতে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি না থাকে। একই সঙ্গে নির্বাহী আদেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার প্রবণতারও সমালোচনা করেন তিনি।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এনসিপির নেত্রী সামান্তা শারমিন বলেন, এসব সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। একই দলের আরেক নেতা সরোয়ার তুষার গণভোটের বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে কড়া মন্তব্য করে রাজনৈতিক চাপের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

খেলাফত মজলিশের আমির মামুনুল হক অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে প্রভাবিত করার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। অন্যদিকে এবি পার্টির নেতা ফুয়াদ মনে করেন, সংবিধানকে কেন্দ্র করে নতুন সংকট তৈরির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, অধ্যাদেশ বাতিলের এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। চায়ের দোকানের আড্ডা থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত এই ইস্যুতে আলোচনা-সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত, এনসিপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির দূরত্বও বাড়ছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

-রফিক


ওসমান হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিমের ১০ বছরের সাজা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১৩:২১:৩৭
ওসমান হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিমের ১০ বছরের সাজা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বহুল আলোচিত অস্ত্র মামলায় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে, কারণ রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক ছিলেন। এই রায়কে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সংগঠিত অপরাধ দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার ১৮তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মোহসীন এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর আদাবর থানায় দায়ের করা অস্ত্র আইনের মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা দেওয়া হয়েছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর দুপুরে র‌্যাব একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। সেখানে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়, যিনি পরে নিজের পরিচয় দেন ফয়সাল করিম মাসুদ হিসেবে।

পরবর্তীতে তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি বিদেশি পিস্তল এবং চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। অস্ত্রের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলাটি দায়ের করেন র‌্যাব-২ এর হাবিলদার মো. মশিউর রহমান।

অভিযোগে বলা হয়, ফয়সাল করিম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জমি দখল এবং সহিংস কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিতেন বলে তদন্তে উঠে আসে। এসব অপরাধ সংঘটনে তিনি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলাটি তদন্ত করে আদাবর থানার উপপরিদর্শক জাহিদ হাসান গত বছরের ২৮ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে আদালত ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, এই আসামি গত বছরের ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত জামিনে ছিলেন। পরবর্তীতে তার জামিন বাতিল করা হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান, যার ফলে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

এদিকে, ফয়সাল করিম মাসুদের নাম আরেকটি আলোচিত মামলাতেও উঠে আসে। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা থেকে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্তদের একজন হিসেবে ফয়সালের নাম তদন্তে উঠে আসে।

পরবর্তীতে গোয়েন্দা পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডে ফয়সালসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে ওই অভিযোগপত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের আদালতে নারাজি আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়।

-রফিক


আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ডসহ ৩০ আসামির সাজা ঘোষণা 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১৩:০৪:৩৩
আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ডসহ ৩০ আসামির সাজা ঘোষণা 
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত দুইজন পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে, যা রাষ্ট্রীয় সহিংসতার অভিযোগে একটি তাৎপর্যপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে মামলার বাকি ২৮ জন আসামিকে অপরাধের মাত্রা ও সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীতে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ এই রায় ঘোষণা করা হয়। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী-এর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় প্রদান করে। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রায় ঘোষণার আগে বেলা প্রায় সোয়া ১২টার দিকে আদালত কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে রায় পাঠ শুরু হয়। বিচারিক প্যানেল পর্যায়ক্রমে মামলার ঘটনা, সাক্ষ্যপ্রমাণ, তদন্ত প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিশ্লেষণ তুলে ধরে রায়ের ভিত্তি ব্যাখ্যা করেন। আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করে যে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগসমূহ প্রমাণিত হয়েছে এবং তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও দেশের প্রচলিত আইনের আলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

এই মামলাটি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এটি জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার বিচারিক পরিণতির একটি প্রতীকী দৃষ্টান্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা, আইনের শাসন এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

আইন বিশ্লেষকদের অভিমত অনুযায়ী, আদালতের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডে আরও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে এটি ভুক্তভোগী পরিবার ও আন্দোলনকারীদের জন্য ন্যায়বিচারের একটি প্রতীকী স্বীকৃতি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

-রফিক


তারেক রহমান ও কোকোকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির দাবি: সংসদে আলোচনার ঝড়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৮ ২০:৩৩:০৩
তারেক রহমান ও কোকোকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির দাবি: সংসদে আলোচনার ঝড়
ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুর-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান জাতীয় সংসদে এক আবেগঘন ও চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর প্রয়াত ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

একইসঙ্গে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অবর্ণনীয় ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবিগুলো পেশ করেন।

সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে দীর্ঘ ৯ মাস কারাবন্দি থেকেও বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর দুই সন্তান যে অসীম ধৈর্য ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। তিনি বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক চাটুকারিতা নয়, বরং ইতিহাসের এক অমোঘ সত্য।

আমাদের নেত্রী তাঁর দুই সন্তানসহ বন্দিশালায় অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করেছেন।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ৯ মাস পাকিস্তানি কারাগারে বন্দি জীবন কাটানোর কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর ভাইকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

মুজিবুর রহমান আরও দাবি করেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর এই ঐতিহাসিক ত্যাগের জন্য অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তাঁর মতে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই পরিবারের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হলে তা নতুন প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সংসদের এই আলোচনায় বিএনপি ও সহযোগী দলের অন্যান্য সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাঁর এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানান। এই প্রস্তাবটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

/আশিক


১৮০ দিনে ১০ হাজার প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল ধামাকা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৮ ১৭:৪৯:২১
১৮০ দিনে ১০ হাজার প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল ধামাকা
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের সাড়ে ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির সংসদ সদস্য সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মেগা পরিকল্পনার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে ডিজিটাল বৈষম্য দূর করা হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি এবং ৮ হাজার ২৩২টি মাদরাসাসহ মোট ১০ হাজার ৫৬৮টি প্রতিষ্ঠানে উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া দেশের দেড় হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী সংসদকে আরও জানান, প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য অনন্য ডিজিটাল পরিচয় বা ‘এডু-আইডি’ প্রদানের পাশাপাশি সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। কারিগরি শিক্ষার প্রসারে প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং প্রতিটি জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।

মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিক করতে স্মার্ট ক্লাসরুম ও বিশেষ কারিগরি কোর্স চালু করা হচ্ছে। আইসিটি খাতের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিসিসি-র মাধ্যমে আগামী ছয় মাসের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI), সাইবার সিকিউরিটি ও পাইথন প্রোগ্রামিংয়ের মতো আধুনিক বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া নারী শিক্ষার প্রসারে প্রতিটি উপজেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারীকরণের বিষয়টিও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বর্তমান সরকার।

/আশিক


হাসনাত আবদুল্লাহর কটাক্ষের জবাব দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৮ ১৭:২৮:০৮
হাসনাত আবদুল্লাহর কটাক্ষের জবাব দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন অ্যাডহক কমিটি নিয়ে চলমান বিতর্ক এখন রাজপথ ছাড়িয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে গড়িয়েছে। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কমিটি ভেঙে মঙ্গলবার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের যে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে, তা নিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর করা ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ।

বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে হাসনাত আবদুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘তামিম ইকবালের নেতৃত্বে যে কমিটি করা হয়েছে, সেখানে কোনো স্বজনপ্রীতি হয়নি। তিনি একজন দেশবরেণ্য খেলোয়াড়। এখানে আমরা কোনো বাপের দোয়া বা মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা দেশের বিভিন্ন ক্লাব ও ক্রিকেট বোর্ডে যে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সে বিষয়ে যথাযথ তদন্ত পরিচালনা করেছে। সেই তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই আগের বোর্ড ভেঙে দিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তামিম ইকবালের হাতে বিসিবির আহ্বায়ক কমিটির দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে।

মূলত কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বিসিবির বর্তমান অবস্থাকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন যে, বোর্ড এখন আর বিসিবি নেই, এটি “বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে” পরিণত হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের অনড় অবস্থান এবং মেধার ভিত্তিতে কমিটি গঠনের বিষয়টি সংসদের সামনে তুলে ধরেন। বিসিবির এই রদবদল এবং সংসদীয় বিতর্ক ক্রীড়াঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: