নেপালে ওলি যুগের অবসান:শপথের পরদিনই গ্রেপ্তার হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৮ ১১:৩৬:০৫
নেপালে ওলি যুগের অবসান:শপথের পরদিনই গ্রেপ্তার হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বছরের প্রাণঘাতী 'জেনজি' (Gen-Z) বিক্ষোভে জড়িত থাকা এবং সহিংসতা দমনে চরম অবহেলার অভিযোগে শনিবার (২৮ মার্চ ২০২৬) সকালে ভক্তপুরের নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে আটক করা হয়। র‍্যাপার থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ শপথ নেওয়ার ঠিক পরদিনই এই চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপ নিলেন।

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওলির সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, আইনি বিধান অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। ওলিকে গ্রেপ্তারের পরপরই নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) লিখেছেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নয় বরং ন্যায়বিচারের শুরু; আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। তবে কেপি শর্মা ওলি এই গ্রেপ্তারকে 'প্রতিহিংসামূলক' দাবি করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর সোশ্যাল মিডিয়ায় সাময়িক নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দুর্নীতিবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেপালে ৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। এই নজিরবিহীন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জেরে ওলি সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের পর বালেন্দ্র শাহ ক্ষমতায় এসে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশন গঠন করেন।

শুক্রবার নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে ওই কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে দায়িত্বহীন আচরণের কারণে অপ্রাপ্তবয়স্করাও প্রাণ হারিয়েছে, যার দায়ে ওলি ও লেখকসহ অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক চন্দ্র কুবের খাপুংসহ আরও অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিশন।

/আশিক


আরবের কাব্য থেকে বাস্তবে ফিরল মরুভূমির বিরল অনাগার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১০ ২০:৫৯:৩০
আরবের কাব্য থেকে বাস্তবে ফিরল মরুভূমির বিরল অনাগার
ছবি : আরব নিউজ

একসময় আরবের মরুভূমিতে অবাধে বিচরণ করত বন্য গাধার বিশেষ প্রজাতি ‘অনাগার’। প্রাচ্যের প্রাচীন কবিদের কবিতাতেও নানাভাবে উঠে এসেছিল এই প্রাণীর নাম। তবে অনিয়ন্ত্রিত শিকার ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসের কারণে সৌদি আরবের বুক থেকে একসময় বিলুপ্ত হয়ে যায় প্রজাতিটি। প্রায় এক শতক পর সেই বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীটি কেবল সৌদিতে ফিরে এসেছে তা-ই নয়, সেখানে সফলভাবে একটি অনাগার শাবকেরও জন্ম হয়েছে।

সৌদি আরবের ঐতিহাসিক ‘প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান রয়্যাল রিজার্ভে’ জন্ম নেওয়া এই পুরুষ শাবকটিকে দেশের বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণের ইতিহাসে এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা গেছে, শাবকটির জন্ম হয়েছিল ২০২৫ সালের জুন মাসে। তবে অনাগার শাবকের জীবনের প্রথম বছরটি মারাত্মক ঝুঁকি ও সংবেদনশীলতায় ভরা থাকায় বিষয়টি এতদিন গোপন রাখা হয়েছিল। সফলভাবে জীবনের প্রথম ১২ মাস পার করার পরই সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে তার জন্মের খবর জনসমক্ষে আনা হয়।

রিজার্ভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু জালুমিস জানান, হাজার বছর আগের আরবী কাব্যে যে বুনো প্রাণীর বন্দনা করা হতো, প্রায় ১০০ বছর পর সেই প্রাণী সৌদির বুকে ফিরে এল। তাঁর মতে, এটি কেবল একটি প্রাণীর জন্ম নয়, বরং আরবের বিলুপ্ত প্রকৃতি ও ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধারের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।

মরুভূমিতে অনাগার ফিরিয়ে আনার এই রূপরেখা তৈরি হয় ২০২৪ সালে। সেই সময়ে জর্ডানের শওমারি ওয়াইল্ডলাইফ রিজার্ভ থেকে ৫টি স্ত্রী ও ২টি পুরুষসহ মোট ৭টি অনাগার সৌদি আরবে স্থানান্তরিত করা হয়। প্রায় ৯৩৫ কিলোমিটার পথ সফলভাবে অতিক্রম করে এগুলোকে সৌদির সংরক্ষিত বনে আনা হয়েছিল।

সৌদিতে পৌঁছানোর পর একটি স্ত্রী অনাগার এই পুরুষ শাবকটির জন্ম দেয়। অবশ্য পরবর্তীতে আরও দুটি গর্ভধারণের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং একটি স্ত্রী অনাগারের মৃত্যু ঘটে। বর্তমানে এই রিজার্ভে পূর্ণবয়স্ক ও নবজাতক মিলিয়ে ৫টি স্ত্রী এবং ৩টি পুরুষ অনাগার জীবিত রয়েছে। এছাড়া আরও দুটি স্ত্রী অনাগার বর্তমানে সম্ভবা রয়েছে, যাদের থেকে আগামী শীতে নতুন শাবকের জন্ম আশা করা হচ্ছে।

প্রকৃতিবিদদের মতে, নতুন জন্ম নেওয়া অনাগার শাবকের টিকে থাকা বেশ চ্যালেঞ্জিং। সাধারণত ১১ মাস গর্ভে থাকার পর জন্ম নেওয়ার মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে শাবককে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হয় এবং মায়ের দুধ পান শুরু করতে হয়। মায়ের প্রথম শালদুধই তার শরীরে প্রাথমিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে।

উল্লেখ্য, পারস্য অনাগার বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিলুপ্তির চরম ঝুঁকিতে থাকা প্রাণীদের একটি। পুরো বিশ্বে প্রাকৃতির পরিবেশে এদের সংখ্যা ৬০০টিরও কম বলে ধারণা করা হয়। ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন) এই উপপ্রজাতিটিকে ‘চরম বিপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

তবে সৌদি আরবের এই উদ্যোগ কেবল অনাগারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশটির ‘রিওয়াইল্ড অ্যারাবিয়া’ প্রকল্পের আওতায় ওই অঞ্চলের ঐতিহাসিক ২৩টি বিলুপ্তপ্রায় স্থানীয় প্রজাতিকে তাদের পুরনো প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ১৪টি প্রজাতি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, অনাগার রক্ষায় কেবল প্রাণীটি টিকিয়ে রাখাই যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন বিস্তৃত মুক্ত মরুভূমি, সুনির্দিষ্ট স্থানীয় উদ্ভিদ এবং নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র। তাই অনাগারের এই বংশবৃদ্ধি সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্র পুনরায় সুস্থ হয়ে ওঠার একটি ইতিবাচক সংকেত বহন করে।

প্রাচীন আরবে অনাগার ছিল বুনো স্বাধীনতা ও মুক্ত জীবনের প্রতীক। সেই ঐতিহ্যের রূপ ধরে প্রাণীটি আবার নতুন করে সৌদির মরুভূমি চষে বেড়াচ্ছে। আগামী কয়েক দশকের মধ্যে পরিবেশকে এমন অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়াই দেশটির মূল লক্ষ্য, যেখানে অনাগারের পাশাপাশি আরবীয় চিতাবাঘ, চিতা ও সিংহের মতো ঐতিহাসিক শিকারি প্রাণীরাও নিশ্চিন্তে বাস করতে পারবে।

/আশিক


শর্ত মানলেই কেবল খুলবে হরমুজ প্রণালি, যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১০ ১৯:৪৫:৫৩
শর্ত মানলেই কেবল খুলবে হরমুজ প্রণালি, যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা ইরানের
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা হবে কিনা, তা সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সামরিক ও কৌশলগত জলপথটি খোলার বিষয়ে তাদের নিজস্ব কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। একই সঙ্গে ওমানের মধ্যস্থতায় তেহরানের সঙ্গে যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, তার সঙ্গে হরমুজ প্রণালি চালুর বিষয়ে কোনো সম্পর্ক নেই বলেও ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিমের বরাত দিয়ে আইআরজিসির মুখপাত্র সারদার মোহেবি জানান, হরমুজ কেবল কোনো সাধারণ অর্থনৈতিক নৌপথ নয়, বরং এটি ইরানের ভৌগোলিক ও কৌশলগত শক্তির একটি বড় অংশ। মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে তেহরান।

মোহেবি আরও উল্লেখ করেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক যোগাযোগপথটি খুলে দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের উত্থাপিত সব শর্ত পুরোপুরি মেনে নিতে হবে। পাশাপাশি অঞ্চলটিতে যেকোনো ধরনের সামরিক বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। আইআরজিসির মতে, ওয়াশিংটন যদি এসব দাবি মেনে নেয়, তবেই কেবল প্রণালিটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তেহরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, সংকট সমাধানের মূল চাবিকাঠি এখন ওয়াশিংটনের হাতে। ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে যে গুঞ্জন ছিল, আইআরজিসির এই অবস্থান তা সরাসরি খারিজ করে দিল।

/আশিক


ইরান সরকারের নীতি নির্ধারণী পরিষদের শীর্ষ পদে নতুন মুখ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১০ ১৯:১৯:০৭
ইরান সরকারের নীতি নির্ধারণী পরিষদের শীর্ষ পদে নতুন মুখ
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাই। রোববার (৯ আগস্ট) ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানায় এএফপি।

প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কার্যালয়ের মুখপাত্র মেহদি তাবাতাবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, পূর্বসূরি মোহাম্মদ বাঘের জুলঘাদর সচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করার পর রেজাইকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হয়েছে। দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া জুলঘাদর এখন থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন বলে সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় জানিয়েছে।

৭১ বছর বয়সী মোহসেন রেজাই ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৬ বছর আইআরজিসির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ঐতিহাসিক ইরান-ইরাক যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সময় প্রত্যক্ষ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ইরান সরকারের বেশ কিছু নীতি নির্ধারণী পদে কাজ করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চলমান উত্তেজনার আবহেই রেজাইয়ের এই পদে আগমন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ; কারণ হরমুজ প্রণালির ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তাকে তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখেন। গত জুলাইয়ে এক বক্তব্যে রেজাই উল্লেখ করেছিলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা 'ডজনখানেক পারমাণবিক বোমার চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ'।

/আশিক


কঠোর অবস্থান থেকে সরছেন ট্রাম্প, ইরান যুদ্ধ সমাপ্তিতে নতুন মেরুকরণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৯ ২০:০০:৩৭
কঠোর অবস্থান থেকে সরছেন ট্রাম্প, ইরান যুদ্ধ সমাপ্তিতে নতুন মেরুকরণ
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে নিজের বিজয় ঘোষণা করার পথ খুঁজছেন বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান যদি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেয়, তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে নতুন কোনো কঠোর চুক্তি চাপিয়ে দেওয়া থেকে সরে আসতে পারেন ট্রাম্প। বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করাকেই ট্রাম্প প্রশাসন সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। প্রণালিটি উন্মুক্ত হলে মার্কিন সামরিক অভিযানের সাফল্য দাবি করে ট্রাম্প যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার প্রাথমিক সামরিক লক্ষ্যগুলো ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে এবং এখন মূল মনোযোগ জলপথটি সচল করার ওপর। জানা গেছে, ব্যক্তিগত আলোচনায় ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের জানিয়েছেন যে, কোনো আনুষ্ঠানিক পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই তিনি হয়তো এই সংঘাতময় অধ্যায়ের ইতি টানতে পারেন। কারণ, গত জুনে ইরানের প্রধান তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্র ধ্বংস হওয়ার পর তাদের পক্ষে পুনরায় এই কার্যক্রম শুরু করা বেশ কঠিন। তদুপরি, তেহরান নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পদক্ষেপ নিলে তা মার্কিন গোয়েন্দা জালে ধরা পড়বে এবং মার্কিন সামরিক অভিযানের ভয় ইরানকে নিবৃত্ত রাখবে বলেই ট্রাম্প মনে করছেন।

এমন পরিস্থিতিতে ইরান যদি পারমাণবিক কার্যক্রমে নতুন কোনো অগ্রগতি না ঘটায় এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়, তবে ট্রাম্প বর্তমান যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করতে পারেন এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধও তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে এসেছিলেন যে, যুদ্ধ শেষের চুক্তিতে এমন শক্ত শর্ত থাকতে হবে যাতে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন নমনীয় মনোভাব বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত এক বড় পরিবর্তন দেখা যাবে।

সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল


ট্রাম্পের ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৯ ১৮:২১:০০
ট্রাম্পের ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর
ছবি : সংগৃহীত

গাজা যুদ্ধ অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রস্তাবিত ১৫ দফার শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে সম্পূর্ণরূপে নিরস্ত্রীকরণ না করা পর্যন্ত গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী কোনোভাবেই প্রত্যাহার করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, ইসরায়েল এই ১৫ দফার নথিটি পুরোপুরি অস্বীকার করছে। নেতানিয়াহু জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, হামাসকে সত্যিকার অর্থে নিরস্ত্রীকরণ না করা পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কোনো ধরনের সেনা প্রত্যাহার কার্যক্রম পরিচালনা করবে না। ইসরায়েল হামাসের কেবল কাল্পনিক বা লোকদেখানো বিলুপ্তি নয়, বরং প্রকৃত অবসান চায়।

তিনি আরও জানান, এই বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ওয়াশিংটনের সাথে তাঁদের আলোচনা চলছে। গাজা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হলেও তার মধ্যে কয়েকটি ইসরায়েলের জন্য গ্রহণযোগ্য, তবে সিংহভাগ বিষয়ই তাদের কাছে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

সূত্র: আল-জাজিরা।


হরমুজ খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন শর্ত দিল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৯ ০৯:৫৭:১০
হরমুজ খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন শর্ত দিল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়ার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একগুচ্ছ কঠোর শর্ত রেখেছে ইরান। তেহরান বলছে, ওয়াশিংটন তার বর্তমান সামরিক ও অর্থনৈতিক নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন না আনা পর্যন্ত কৌশলগত এই জলপথ স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়ার সুযোগ নেই। একই সময়ে ওমানের মধ্যস্থতায় প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা এগোলেও নতুন এসব শর্ত দ্রুত সমঝোতার সম্ভাবনাকে জটিল করে তুলেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাগের জোলঘাদর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তেহরানের দাবিগুলো তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু করার আগে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের চারপাশে মোতায়েন মার্কিন সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে তেহরান।

ইরানের শর্ত এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। চলমান সংঘাতে দেশটির যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলেও দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার কারণে বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়টিও শর্তের তালিকায় রয়েছে। তেহরান আরও চাইছে, ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হোক এবং দেশটির বিরুদ্ধে হুমকিমূলক অবস্থান থেকে সরে আসুক ওয়াশিংটন।

জোলঘাদরের ভাষ্য, এসব কেবল সরকারের দর-কষাকষির অবস্থান নয়; বরং ইরানের জনগণের দাবি। তিনি দাবি করেন, গত ১৬০ দিন ধরে ইরানিরা এসব বিষয় জোরালোভাবে তুলে ধরছেন। যুক্তরাষ্ট্র তার আচরণ পরিবর্তন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

ইরানের এমন কঠোর অবস্থান সামনে এলো এমন সময়ে, যখন ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ সংকট নিরসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অগ্রগতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার জানান, প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি রয়েছে তেহরান। তবে সম্ভাব্য সমঝোতা হলেই যে সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হবে, বিষয়টি এমন নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

আরাগচির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রণালি পুনরায় খোলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত জড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ করে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্ত ওয়াশিংটন লঙ্ঘন করেছে বলে তেহরানের অভিযোগ রয়েছে। সেই পরিস্থিতি সংশোধনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চায় ইরান।

অন্যদিকে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরানের সঙ্গে তাদের আলোচনা ইতিবাচক ও গঠনমূলক হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে জাহাজ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট রুটের সমন্বয় নিয়েও অগ্রগতি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফলে প্রযুক্তিগত বা পরিচালনাগত কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও রাজনৈতিক সমঝোতা এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও ওমানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি কাঠামোগত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি ব্যবস্থার বিষয়ে সমর্থন তৈরি হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরও অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও ঠিক কবে প্রণালিটি স্বাভাবিক বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া সম্ভব হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান অচলাবস্থা শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের বিষয় নয়; এর সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তাও সরাসরি যুক্ত। পারস্য উপসাগরের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান পথ এই সরু জলপথ। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে পরিবহন ব্যয় ও সামুদ্রিক বীমার খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

এ কারণে ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার দিকে এখন শুধু ওয়াশিংটন ও তেহরান নয়, জ্বালানি আমদানিনির্ভর এশীয় অর্থনীতি এবং উপসাগরীয় দেশগুলোরও নজর রয়েছে। হরমুজে স্থায়ী সমাধান হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও শিপিং বাজারে অনিশ্চয়তা কমতে পারে। বিপরীতে আলোচনা ব্যর্থ হয়ে সামরিক উত্তেজনা আবার বাড়লে এর প্রভাব অপরিশোধিত তেলের দাম থেকে শুরু করে বৈশ্বিক পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হরমুজ সংকট সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি করলেও যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ইরানের বিস্তৃত শর্ত নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। এখন মূল প্রশ্ন হলো, ওয়াশিংটন এসব দাবির কতটুকু বিবেচনায় নিতে প্রস্তুত এবং মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের অবস্থানের ব্যবধান কতটা কমাতে পারেন। সেই সমীকরণের ওপরই হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ফেরার ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।

-রফিক


ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ মার্কিন সামরিক প্রধানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৮ ১৯:৫৬:৩৪
ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ মার্কিন সামরিক প্রধানের
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাম্প্রতিক একাধিক ব্যক্তিগত বৈঠকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খোঁজার তাগিদ দিয়েছেন।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় ছয় মাস পার হলেও মার্কিন সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ এই কর্মকর্তা আড়ালে আলোচনা করছেন যে, চলমান এই সংঘাত সমাপ্ত করার মতো কোনো সহজ সামরিক সমাধান যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেই। তিনি মার্কিন সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে যুদ্ধ আরও তীব্র করার নেতিবাচক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। অথচ অন্যদিকে, ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নীতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের যুদ্ধ নীতি, অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কারণে ইতোমধ্যে দেশে এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। দেশের বর্তমান অর্থনীতিকে ট্রাম্প 'ইতিহাসের সেরা' বলে দাবি করায় তা নিয়ে ব্যঙ্গ করে শুমার প্রশ্ন তোলেন, প্রেসিডেন্ট আসলে কোন গ্রহ থেকে এসে এমন মন্তব্য করছেন।

সূত্র: সিএনএন


পুতিনকে কোণঠাসা করতে মার্কিন সিনেটে বিশাল ভোটে বিল পাস, চাপে ভারত-চীন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৮ ১৯:৩৮:৩৭
পুতিনকে কোণঠাসা করতে মার্কিন সিনেটে বিশাল ভোটে বিল পাস, চাপে ভারত-চীন
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানির ওপর কঠোর শাস্তিমূলক একটি প্রস্তাব বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অনুমোদিত হয়েছে। সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাস হওয়া এই প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে আইনে পরিণত হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন। রাশিয়ার এই শীর্ষ পাঁচ ক্রেতার তালিকায় রয়েছে ভারত ও চীন। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থনীতিকে কোণঠাসা করার লক্ষ্যে পাস হওয়া এই বিলটির নামকরণ করা হয়েছে ইউক্রেনের সমর্থক প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের স্মরণে।

প্রস্তাবটি পাসের পেছনে ভূমিকা রাখা ডেমোক্রেটিক সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল উল্লেখ করেছেন, এই পদক্ষেপে ইউক্রেনের জনগণকে এই বার্তাই দেওয়া হয়েছে যে তারা একা নয় এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কখনো ইউক্রেন দখলে সফল হবেন না। পাশাপাশি সিনেটে প্রয়াত গ্রাহামের স্থানে আসা তাঁর বোন ডারলিন গ্রাহাম মন্তব্য করেন, এই আইন সরাসরি পুতিনের মূল অর্থনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেবে। বর্তমানে ভারত ও চীন ছাড়াও রাশিয়ার জ্বালানি পণ্যের প্রধান পাঁচ ক্রেতার মধ্যে রয়েছে আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া।

তবে নতুন প্রস্তাবিত এই বিলে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। যেসব দেশ তাদের মোট চাহিদার ১৫ শতাংশের কম প্রাকৃতিক গ্যাস রাশিয়া থেকে আনে এবং ধারাবাহিকভাবে এই নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে, তারা এই অতিরিক্ত শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া মার্কিন বা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কো যেসব পুরোনো বা নাম পরিবর্তিত তেল ট্যাংকার ব্যবহার করে, সেগুলোর চলাচল বন্ধে বিশেষ বিধান যুক্ত করা হয়েছে। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে প্রেসিডেন্ট চাইলে যেকোনো দেশের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত স্থগিত বা মওকুফ করতে পারবেন।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি এই বিলে ১৯৯৬ সালের ইরান নিষেধাজ্ঞা আইনের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০৩১ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে। এর ফলে ইরানের শক্তি ও জ্বালানি খাতে অর্থায়ন বা বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও মার্কিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। উচ্চকক্ষ সিনেটে পাসের পর বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে পাঠানো হয়েছে, যা আগামী ৩১ আগস্ট অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে সেখানে ভোটাভুটির জন্য পেশ করা হবে।

সূত্র: এনডিটিভি।


তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তান চুক্তি কি নতুন সামরিক জোট? যা বললেন এরদোগান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৮ ০৯:২৫:৪৭
তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তান চুক্তি কি নতুন সামরিক জোট? যা বললেন এরদোগান
ছবি : সংগৃহীত

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিতে বিশ্বাসী ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর জন্য ভবিষ্যতে এই প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নতুন চুক্তির লক্ষ্য ও প্রকৃতি ব্যাখ্যা করেন।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই সৌদি আরবের মক্কায় তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারা বহুল আলোচিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্বাক্ষর করেন। চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারা অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলাকে অন্য দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবেও বিবেচনা করা হবে।

এরদোগান বলেন, চুক্তিটি মূলত পারস্পরিক প্রতিরোধক্ষমতা বা ‘কলেকটিভ ডিটারেন্স’-এর নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তিন দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও গভীর করার পাশাপাশি যৌথ সামরিক প্রকল্প, প্রতিরক্ষা শিল্পে অংশীদারত্ব এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়ানো হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই কাঠামোর উদ্দেশ্য নতুন সংঘাত সৃষ্টি করা নয়; বরং সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকাতে তিন দেশের সক্ষমতা একত্রিত করা।

নতুন চুক্তিতে জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত আত্মরক্ষার অধিকারের কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। জাতিসংঘ সনদের ওই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সদস্য রাষ্ট্র সশস্ত্র হামলার শিকার হলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আগ পর্যন্ত দেশটি এককভাবে বা মিত্রদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির আইনি ভিত্তি ব্যাখ্যায় এই ধারাটিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে তিন দেশ।

এরদোগান স্পষ্ট করেছেন, মক্কা চুক্তিকে ইরান, ইসরায়েল, ভারত কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠিত সামরিক জোট হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর মতে, এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অঞ্চলটির শান্তি ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখতে আগ্রহী অন্যান্য বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের জন্য চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও খোলা রয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক অস্থিরতার মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় এর ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে। ইরানকে ঘিরে সংঘাত, উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান নিজেদের মধ্যে আরও দৃঢ় নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলছে।

তবে চুক্তিতে ঠিক কী ধরনের সামরিক সহায়তা বাধ্যতামূলক হবে, সে বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে অন্য দুটি দেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেনা পাঠাবে কি না, অথবা গোয়েন্দা সহায়তা, আকাশ প্রতিরক্ষা, অস্ত্র সরবরাহ ও লজিস্টিক সহযোগিতার মধ্যেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ থাকবে কি না—এসব বিষয় এখনো পরিষ্কার নয়। রয়টার্সও জানিয়েছে, পারস্পরিক প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার থাকলেও বাস্তব সামরিক দায়বদ্ধতার বিস্তারিত এখনো অস্পষ্ট।

পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে বহু দশক ধরে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। সৌদি সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া এবং নিরাপত্তা সহযোগিতায় পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ভূমিকা আছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যেও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুদ্ধজাহাজ, ড্রোন, প্রশিক্ষণ ও সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে দুই দেশের একাধিক যৌথ প্রকল্প রয়েছে। নতুন ত্রিপক্ষীয় চুক্তি এসব দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে পারে।

তুরস্কের ক্ষেত্রে চুক্তিটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দেশটি ইতোমধ্যেই ন্যাটোর সদস্য। ফলে আঙ্কারার নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার ভবিষ্যতে ন্যাটোর বিদ্যমান দায়বদ্ধতার সঙ্গে কীভাবে সমন্বিত হবে, তা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে নতুন চুক্তিকে ন্যাটোর বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করেনি তুরস্ক এবং এটি নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক ব্লক তৈরির পদক্ষেপ নয় বলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো জোর দিয়েছে।

পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতার কারণে চুক্তিটি নিয়ে আরেকটি প্রশ্নও সামনে এসেছে—এই প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না। তবে পাকিস্তান এর আগে স্পষ্ট করেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অর্থ পারমাণবিক অস্ত্র ভাগাভাগি বা পারমাণবিক সুরক্ষা ছাতা দেওয়া নয়। রয়টার্সও জানিয়েছে, নতুন চুক্তিকে পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দেখছে না।

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক সম্ভবত আঞ্চলিক নিরাপত্তায় স্থানীয় শক্তিগুলোর ক্রমবর্ধমান ভূমিকা। কয়েক দশক ধরে উপসাগরীয় নিরাপত্তার প্রধান বহিঃশক্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই নতুন ব্যবস্থা একটি অধিকতর অঞ্চলনির্ভর নিরাপত্তা কাঠামোর ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন।

তবে এটি কতটা কার্যকর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় পরিণত হবে, সেটি নির্ভর করবে বাস্তবায়ন কাঠামোর ওপর। যৌথ কমান্ড, সামরিক পরিকল্পনা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, অস্ত্রের আন্তঃকার্যক্ষমতা এবং সংকটের সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ হলে চুক্তিটির প্রকৃত কৌশলগত গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হবে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: