দৌলতদিয়া বাস ট্র্যাজেডি: নিহতদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের লিগ্যাল নোটিশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১৭:৪৬:২২
দৌলতদিয়া বাস ট্র্যাজেডি: নিহতদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের লিগ্যাল নোটিশ
ছবি : সংগৃহীত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মায় তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে জনপ্রতি ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবিতে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) জনস্বার্থে এই নোটিশটি পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী—অ্যাডভোকেট নেওয়াজুল আসিফ সাদ, ব্যারিস্টার রাফি জি রহমান ও অ্যাডভোকেট জায়েদ বিন নাসের। নোটিশে নিহতদের ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি আহতদের উন্নত চিকিৎসা ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের যথাযথ পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, নৌপরিবহনমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের এই নোটিশে বিবাদী করা হয়েছে। আইনজীবীরা উল্লেখ করেছেন, এটি কেবল একটি সাধারণ দুর্ঘটনা নয়; বরং ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনা এবং পরিবহন কর্তৃপক্ষের অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা জরুরি। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে উচ্চ আদালতে রিট দায়েরসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

অ্যাডভোকেট নেওয়াজুল আসিফ সাদ জানান, সময় স্বল্পতার কারণে নোটিশটি আপাতত ই-মেইলে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী কর্মদিবসেই এটি ডাকযোগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের বাসটি বুধবার বিকেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে গেলে এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবিও জানানো হয়েছে নোটিশে।

/আশিক


আমরা এখন সম্পূর্ণ মুক্ত: সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১২:০৯:২৪
আমরা এখন সম্পূর্ণ মুক্ত: সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) সকালে শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এবারের স্বাধীনতা দিবস দেশবাসী এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ও মুক্ত পরিবেশে উদযাপন করছে। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় পর একটি ‘ফ্যাসিস্টমুক্ত’ পরিবেশে জাতি এই দিনটি পালন করার সুযোগ পেয়েছে।

মির্জা ফখরুল তাঁর বক্তব্যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “জাতি আজ নতুন একটি বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিয়েছে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করব, যাতে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে একটি সুখী, সাম্য ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হয়।” তবে এই আনন্দের দিনেও দলীয় প্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি নিয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমাদের অন্যতম সংগ্রামী নেত্রী আমাদের মাঝে নেই, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের এবং বেদনার।”

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, শহিদ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিলেন এবং তাঁর নেতৃত্বেই দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জন করেছে। তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার জুলাই গণআকাঙ্ক্ষা ও স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।

/আশিক


সাভার থেকে প্যারেড স্কয়ার: মহান স্বাধীনতা দিবসে উৎসবমুখর পুরো বাংলাদেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১১:৫৭:১৭
সাভার থেকে প্যারেড স্কয়ার: মহান স্বাধীনতা দিবসে উৎসবমুখর পুরো বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০শে মার্চ ২০২৬ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আয়োজিত হয়েছে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অভিবাদন গ্রহণ করছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম ২৬শে মার্চে এত বড় পরিসরে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধানগণ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত রয়েছেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের অনুষ্ঠানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য সুনির্দিষ্ট কয়েকটি গেট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে দর্শকদের কোনো ধরনের ব্যাগ বহন না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের তত্ত্বাবধানে নবম পদাতিক ডিভিশন এই বিশাল আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন করছে।

এর আগে ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভোর ৬টায় তাঁরা স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং একাত্তরের বীর সন্তানদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন প্রদান করে। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে আলাদাভাবে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। দীর্ঘ বিরতির পর প্যারেড স্কয়ারে আয়োজিত এই কুচকাওয়াজ ও বীর শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন মহান স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

/আশিক


দেশে এক মাসের জ্বালানি মজুত, বাড়ানোর পরিকল্পনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ১০:০৫:৪৫
দেশে এক মাসের জ্বালানি মজুত, বাড়ানোর পরিকল্পনা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, বর্তমানে দেশের জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, বিদ্যমান মজুত দিয়ে অন্তত এক মাসের জ্বালানি চাহিদা নির্বিঘ্নে পূরণ করা সম্ভব। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলায় এই রিজার্ভ আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। সন্ধ্যায় তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ওই ব্রিফিংয়ে জ্বালানি খাতের বর্তমান অবস্থা এবং সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দেশের জ্বালানি তেলের রিজার্ভ বর্তমানে ‘সাফিসিয়েন্ট’ বা পর্যাপ্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা স্বল্পমেয়াদে কোনো ধরনের জ্বালানি সংকটের সম্ভাবনা কমিয়ে দিয়েছে। তবে সরকার কেবল বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েই সন্তুষ্ট নয়; বরং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এই তিনটি প্রধান কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারের রিজার্ভ বাড়ানোর উদ্যোগকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেবল স্বল্পমেয়াদি মজুত নয়, বরং মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রিজার্ভ সক্ষমতা বাড়ানো হবে। এর মধ্যে থাকতে পারে অতিরিক্ত সংরক্ষণাগার নির্মাণ, আমদানি ব্যবস্থার বহুমুখীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বিত কৌশল গ্রহণ।

-রফিক


দেশের ৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস: নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ০৯:৫০:০৯
দেশের ৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস: নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ৭টি জেলায় দুপুরের মধ্যে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) আবহাওয়া অফিসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা এবং নোয়াখালী অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সিনপটিক অবস্থায় দেখা যায়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপটি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা রেকর্ড করা হয়েছে ৯৮ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যান্য এলাকায় আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য জানানো হয়েছে যে, আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ১২ মিনিটে।

/আশিক


দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরিঘাটের ৫ জরুরি নির্দেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ০৯:৩৪:৩৪
দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরিঘাটের ৫ জরুরি নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের গুরুত্বপূর্ণ ফেরিঘাটগুলোতে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ দ্রুত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ফেরিতে ওঠানামার ক্ষেত্রে একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। বিশেষ করে বাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে বসে না থেকে যাত্রীদের নামিয়ে আলাদাভাবে পায়ে হেঁটে ফেরিতে ওঠার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, ফেরিতে ওঠার সময় গাড়ির ভেতরে অবস্থান করা যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি করে। ফেরিতে যানবাহন ওঠানোর সময় ভারসাম্য, ঢাল বা আকস্মিক নড়াচড়ার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অতীতে একাধিক দুর্ঘটনায় দেখা গেছে, গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই বাস্তবতার আলোকে নিরাপত্তা জোরদারে নতুন নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফেরিতে গাড়ি ওঠানোর আগে সব যাত্রীকে অবশ্যই গাড়ি থেকে নেমে যেতে হবে। যাত্রীরা আগে নিরাপদভাবে ফেরিতে উঠবেন এবং নির্ধারিত স্থানে অবস্থান নেবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে যানবাহনগুলো ফেরিতে তোলা হবে। এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে বিশৃঙ্খলা কমবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

ফেরিঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আগে আসা যাত্রীদের আগে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ধাক্কাধাক্কি, হুড়োহুড়ি বা অনিয়ন্ত্রিত ভিড় পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক করে তোলে, যা মুহূর্তেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেরিঘাটে অধিকাংশ দুর্ঘটনার মূল কারণ হলো অব্যবস্থাপনা ও যাত্রীদের অসচেতন আচরণ। তাই যাত্রীদের আচরণগত পরিবর্তনই নিরাপদ যাত্রার প্রধান শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ধৈর্য, শৃঙ্খলা এবং নির্দেশনা অনুসরণই এখানে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

এছাড়া ফেরিতে ওঠা বা নামার সময় বাস বা গাড়ির ভেতরে অবস্থান করা যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা নিয়ে বারবার সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফেরি চলাচলের সময় যানবাহনের অবস্থান পরিবর্তন, ঢেউয়ের প্রভাব কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হঠাৎ ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এই অবস্থায় গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীরা গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে পড়েন।

ফেরিঘাটে দায়িত্বরত পুলিশ, নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সংস্থার নির্দেশনা মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করলে তা আইনগত জটিলতাও তৈরি করতে পারে বলে জানা গেছে।

ঈদ মৌসুমে যাত্রীচাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় ফেরিঘাটগুলোতে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। এই সময়ে সামান্য অসতর্কতা বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হতে পারে। তাই প্রশাসন যেমন তৎপর, তেমনি যাত্রীদেরও সচেতন ভূমিকা পালন করা জরুরি।

পরিবহন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপদ ফেরি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, বরং যাত্রীদের আচরণগত পরিবর্তন, নিয়ম মেনে চলা এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সার্বিকভাবে বলা যায়, ফেরিতে ওঠার সময় নির্ধারিত নিয়মাবলী কঠোরভাবে অনুসরণ করা গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে ঈদের মতো ব্যস্ত সময়ে এই নির্দেশনাগুলোই হতে পারে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রার প্রধান ভিত্তি।

-রাফসান


বীর শহিদদের স্মরণে সাভারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৬ ০৯:২২:০৬
বীর শহিদদের স্মরণে সাভারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) ভোরে স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাঁরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি এই সম্মান জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর।

রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁরা দুজনেই পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং সেখানে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বের কথা স্মরণ করে পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকায় এক ভাবগম্ভীর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতিরাও জাতির সূর্য সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এরপর তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরাও এদিন স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হয়ে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও বিদেশি কূটনীতিকদের ফুলেল শ্রদ্ধায় ভরে ওঠে স্মৃতিসৌধের বেদি।

/আশিক


পাচার হওয়া অর্থ ফেরত ও পুলিশ সংস্কারে সহযোগিতা দেবে সুইজারল্যান্ড

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১৭:৩৪:৪২
পাচার হওয়া অর্থ ফেরত ও পুলিশ সংস্কারে সহযোগিতা দেবে সুইজারল্যান্ড
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে আজ বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি সাক্ষাৎ করেছেন। ছবি: পিআইডি

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে ব্যাপক সংস্কারের লক্ষ্যে কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে সুইজারল্যান্ড। বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়ে এই প্রতিশ্রুতি দেন।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সন্ত্রাসবাদ দমন, আর্থিক সংস্কার এবং ডিজিটাল প্রতারণা বা স্ক্যাম প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বর্তমান সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রকৃত সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চার অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের সমালোচনা করে বলেন, সে সময় পুলিশকে রাজনৈতিক দমনে ব্যবহার করা হয়েছিল, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। জবাবে রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি পুলিশ সংস্কারে সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং কার্যকর সংসদের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় রাজনৈতিক মাঠে শান্তিপূর্ণ বিতর্ক ও আলোচনা অত্যন্ত জরুরি।

বৈঠকে ডিজিটাল প্রতারণা ও স্ক্যামকে একটি বৈশ্বিক সংকট হিসেবে অভিহিত করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সম্প্রতি অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল ফ্রড সামিট ২০২৬’-এর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, বর্তমানে বিশ্বের মোট প্রতারণার প্রায় ৪০ শতাংশই ডিজিটাল। এছাড়া, বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ দমনে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট ও সিটিটিসি-র দক্ষতার প্রশংসা করেন মন্ত্রী।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে সুইজারল্যান্ডের সরাসরি সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। একই দিনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে ‘ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম’ (ইউএনওডিসি)-র আঞ্চলিক পরিচালক ক্রিস্টিয়ান হোলজ এক পৃথক বৈঠকে অংশ নেন।

/আশিক


স্বাধীনতা দিবসে যেসব সড়ক এড়িয়ে চলবেন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১৭:৩০:৩৫
স্বাধীনতা দিবসে যেসব সড়ক এড়িয়ে চলবেন
ছবি: সংগৃহীত

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। এ উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ এবং বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বুধবার জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার নাগরিকদের যাতায়াত পরিকল্পনায় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।

ডিএমপির নির্দেশনা অনুযায়ী, জাতীয় প্যারেড স্কয়ারকে ঘিরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে আগারগাঁও লাইট ক্রসিং থেকে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত বেগম রোকেয়া সরণি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংলগ্ন বীর উত্তম মেজর জেনারেল আজিজুর রহমান সড়ক, শিশুমেলা ক্রসিং থেকে আগারগাঁও ক্রসিং পর্যন্ত সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ সড়ক এবং পুরাতন গণভবন এলাকা থেকে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত সংযোগ সড়ক।

একইভাবে বঙ্গভবনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলের বেশ কয়েকটি সড়কেও যান চলাচল সীমিত বা বন্ধ রাখা হবে। এর মধ্যে জিরোপয়েন্ট থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত আবরার ফাহাদ এভিনিউ, গুলিস্তান থেকে রাজউক পর্যন্ত ডিআইটি রোড, দৈনিক বাংলা মোড় থেকে রাজউক ক্রসিং, ফজলে রাব্বি সড়কের নির্দিষ্ট অংশ এবং দিলকুশা এলাকার বিভিন্ন সংযোগপথ অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়া স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে আয়োজিত কনসার্টকে ঘিরেও অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে এই এলাকায়ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প পথ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে ডিএমপি বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। জাহাঙ্গীরগেট থেকে আগারগাঁও বা বিআইসিসি অভিমুখে চলাচলকারী যানবাহনকে বিজয় সরণি হয়ে উড়োজাহাজ ক্রসিং ও লেক রোড ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। একইভাবে মিরপুর-১০ থেকে মহাখালী বা ফার্মগেটমুখী যানবাহনকে শিশুমেলা হয়ে মিরপুর রোড ব্যবহার করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ফার্মগেট ও বিজয় সরণি এলাকা থেকে আগত যানবাহনের জন্য খেজুরবাগান হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে চলাচলের বিকল্প পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। ধানমণ্ডি থেকে মিরপুরমুখী যানবাহনকে রোকেয়া সরণি এড়িয়ে মিরপুর রোড ও টেকনিক্যাল মোড় হয়ে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

একইভাবে মিরপুর, শ্যামলী ও শিশুমেলা এলাকা থেকে মহাখালীগামী যানবাহনকে বীর উত্তম আজিজুর রহমান সড়ক ব্যবহার না করে মানিক মিয়া এভিনিউ ও ফার্মগেট হয়ে বিকল্প পথে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

-রাফসান


১৯৭১-এর দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ: বিশ্ব গণমাধ্যমে বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী অভ্যুদয়ের দলিল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২৫ ১১:৫৯:০৯
১৯৭১-এর দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ: বিশ্ব গণমাধ্যমে বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী অভ্যুদয়ের দলিল
ছবি : সংগৃহীত

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীর যে বর্বরতা ও বাঙালির বীরত্বগাথা ফুটে উঠেছিল, দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকা তার অন্যতম প্রধান দলিল। ২৯ জুন ১৮৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিলেতের এই প্রভাবশালী পত্রিকাটি বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছিল, তা তৎকালীন সম্পাদক মরিস গ্রিনের নেওয়া সম্পাদকীয় অবস্থান থেকেই স্পষ্ট।

পূর্ব পাকিস্তান বর্তমানে বাইরের পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। যেটুকু খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে সেখানে এক ভয়াবহ ‘গণযুদ্ধ’ চলছে এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। গত শুক্রবার লড়াই শুরু হওয়ার পর যেসব বিদেশি কূটনীতিক ও পর্যালোচক ঢাকা ছেড়েছেন, তাদের মতে ৭০ হাজার পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্য বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলন দমন করতে চরম নৃশংসতা চালাচ্ছে।

নিহত বাঙালির সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য যে কোনো পর্যায়ের নির্মমতা অবলম্বন করছে। গত দুই বছর ধরে ঢাকায় কর্মরত ঊর্ধ্বতন পশ্চিম পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বাঙালিদের প্রতি যে ঘৃণা পোষণ করতেন, আজ তা চরম আকার ধারণ করেছে।

শেখ মুজিবের ভাগ্য ও ‘রেডিও বাংলাদেশ’

প্রদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি গোপন বেতারকেন্দ্র ‘রেডিও বাংলাদেশ’ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়েছে। বেতারের শব্দাবলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে শেখ মুজিবুর রহমান হয়তো সামরিক বাহিনীর হাতে বন্দী হয়েছেন। গত মাসেই যাকে ইয়াহিয়া খান ‘পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী’ বলেছিলেন, গত শুক্রবার তাকেই তিনি ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে আখ্যা দেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাকে হয়তো ইতিমধ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

বিদেশি সাংবাদিকদের ওপর বর্বরতা

বৃহস্পতিবার রাতে ব্রিটেন, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের প্রায় ৩০ জন সাংবাদিককে বন্দুকের মুখে ঢাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কোম্পানির ডোনাল্ড হক জানিয়েছেন, তাকে তিনবার উলঙ্গ করে তল্লাশি করা হয়েছে এবং তার সব নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রতিবাদ করায় একজন স্কোয়াড্রন লিডার পিস্তল উঁচিয়ে হুমকি দিয়ে বলেন, "আমি আমার দেশবাসীকে হত্যা করেছি, এখন তোমাদেরও হত্যা করব।"

বিজয় ও প্রতিরোধের দাবি

গোপন বেতারকেন্দ্র থেকে দাবি করা হয়েছে যে, বাঙালি যুবকরা তীব্র লড়াইয়ের পর রংপুর সেনাসদর দখল করে নিয়েছে। এছাড়া কুমিল্লা, যশোর ও খুলনা ক্যান্টনমেন্টও বাংলাদেশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র জনতার ওপর কামানের গোলা বর্ষণ করছে, এমনকি ঢাকার দুটি হাসপাতালেও হামলা চালিয়েছে।

সায়মন ড্রিংয়ের চাক্ষুষ প্রতিবেদন: ‘ঠান্ডা মাথায় নির্বিচার হত্যা’

২৯ মার্চ ১৯৭১ তারিখে প্রকাশিত সায়মন ড্রিংয়ের প্রতিবেদনে ঢাকার পরিস্থিতির এক বীভৎস চিত্র ফুটে ওঠে। তিনি জানান, ঢাকা শহরে কোনো সশস্ত্র প্রতিরোধ না থাকলেও সেনাবাহিনী ঠান্ডা মাথায় নির্বিচারে গোলাবর্ষণ করেছে। ভারি কামানের গোলায় শহরের বহু ভবনে আগুন জ্বলতে দেখেছেন তিনি।

তিনি বর্ণনা করেন, "রাত ১১টার দিকে একজন পাঞ্জাবি ক্যাপ্টেন আমাদের হোটেলে এসে নির্দেশ দেয় কেউ বাইরে বের হতে পারবে না। সে বলে, 'আমি হুকুম নিয়ে এসেছি। তোমরা কেউ বাইরে এলে আমি তোমাদের গুলি করব।' ভোরের দিকে গোলাগুলির মাত্রা বাড়লে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা রাস্তায় ব্যারিকেড তৈরির চেষ্টা করে। সেনাবাহিনী যখন শহরে ঢুকছিল, তখন বিনা উস্কানিতে তিন ঘণ্টা অবিরাম গোলাবর্ষণ করে।"

ত্রাণকর্মীদের আর্তনাদ: জন হ্যাস্টিংস ও জন ক্ল্যাপহ্যামের চিঠি

কলকাতায় ২০ বছর ধরে কর্মরত দুই ব্রিটিশ ত্রাণকর্মী শত শত শরণার্থীর সঙ্গে কথা বলে বিলেতি পত্রিকায় এক মর্মস্পর্শী চিঠি লিখেছেন

"আমরা হাতকাটা মা এবং পা-কাটা শিশু দেখেছি। নারীদের ধর্ষণ করা হয়েছে, বালিকাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ব্যারাকে। এমনকি শিশুকে উপরে ছুড়ে বেয়নেট দিয়ে ধরে ফেলা কিংবা নারীকে নগ্ন করে লম্বালম্বি চিরে ফেলার মতো অবিশ্বাস্য ঘটনাগুলোও সত্য। এক স্থায়ী প্রলাপের ঘোরে একটি মেয়ে চিৎকার করে কাঁদছে— 'ওরা আমাদের সবাইকে হত্যা করবে।' ৪০০০ মানুষকে চুয়াডাঙ্গায় ঘেরাও করে হত্যা করা হয়েছে পাছে তারা এই নির্যাতনের কাহিনী ভারতে নিয়ে যেতে না পারে।"

বিবিসি লন্ডন: ২৬ ও ২৭ মার্চের সংবাদ বুলেটিন

২৬ মার্চ ১৯৭১: বিবিসি জানায়, শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। মার্কিন কনসাল জেনারেল জানিয়েছেন, ঢাকায় বিরোধীদের দমনে কামান ব্যবহার করা হচ্ছে। ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত করে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছেন।

২৭ মার্চ ১৯৭১: সেনাবাহিনী ট্যাংক ব্যবহার করে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করছে। কঠোর সেন্সরশিপের কারণে নিরপেক্ষ সংবাদ পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিবিসির প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঢাকাবাসীকে সন্ত্রস্ত করার জন্য সেনাবাহিনী একটি পূর্বপরিকল্পিত ও নিষ্ঠুর অপারেশন চালিয়েছে। আমাদের প্রতিনিধি ও তার ফিল্ম ক্রুকে তিনবার তল্লাশি করে তাদের সব ফুটেজ ও কাগজপত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

২৯ মার্চ ১৯৭১-এর এই প্রতিবেদনগুলো প্রমাণ করে যে, পাকিস্তানি জান্তা কেবল ক্ষমতা কুক্ষিগত করতেই নয়, বরং একটি জাতিকে জাতিগতভাবে নির্মূল করতেই এই অপারেশন চালিয়েছিল। দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ এবং বিবিসির এই সংবাদগুলোই তৎকালীন বিশ্ববিবেকের কাছে বাংলাদেশের গণহত্যার প্রথম বিশ্বাসযোগ্য দলিল হিসেবে পৌঁছেছিল।

সূত্র: বিজনেস স্ট্যান্ডর্ড

পাঠকের মতামত: