ইসরায়েলের কেন্দ্রে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, হতাহতের শঙ্কা

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের দিক থেকে নিক্ষিপ্ত আঘাতগুলো মধ্য ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানে, যা পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, তেল আবিবের পূর্বে অবস্থিত কফর কাসিম শহরে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এই হামলার প্রকৃতি ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এখনও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া না গেলেও ঘটনাটি ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এই হামলায় সম্ভাব্যভাবে ক্লাস্টার ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। যদি এই আশঙ্কা সত্য হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গুরুতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।
ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসা সেবা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পরপরই আক্রান্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত চিকিৎসা দল পাঠানো হয়েছে। আহতদের উদ্ধারে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ইউনিট একযোগে কাজ করছে।
এদিকে নিরাপত্তা বাহিনী বিস্ফোরণের উৎস ও প্রকৃতি বিশ্লেষণে কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য আরও হামলার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এই হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চলমান সংঘাত এখন আরও বিস্তৃত এবং জটিল পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। পাল্টাপাল্টি আক্রমণের ধারাবাহিকতায় বেসামরিক এলাকাগুলো ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের দিকে: বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে পুতিনের বড় ঘোষণা
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, ইউক্রেনের সাথে চলমান সংঘাত এখন শেষের দিকে এগোচ্ছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় দিবস উপলক্ষে মস্কোর রেড স্কয়ারে আয়োজিত এক সামরিক কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পুতিন তার ভাষণে ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’কে একটি ‘ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং কিয়েভ সরকারকে সমর্থন দেওয়ার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ন্যাটো জোট ইউক্রেনকে অস্ত্র ও সমর্থন দিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সংঘাত উসকে দিয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তিনি মন্তব্য করেন, "আমার মনে হয় বিষয়টি শেষের দিকে যাচ্ছে।"
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এবারের বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ ছিল তুলনামূলক সীমিত পরিসরের। ড্রোন হামলার আশঙ্কায় বড় ধরনের ট্যাংক বা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রদর্শনী করা হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় শেষ মুহূর্তে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ায় বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। পুতিন মনে করেন, সংঘাতটি অত্যন্ত গুরুতর হলেও এটি এখন সমাপ্তির পথে।
/আশিক
বৈশ্বিক পরমাণু রাজনীতিতে মোড়: ইরানের ইউরেনিয়াম নিজেদের ভূখণ্ডে নিতে চায় রাশিয়া
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিজেদের ভূখণ্ডে স্থানান্তর ও সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। রাজধানী মস্কোতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই প্রস্তুতির কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে চলমান ইউরেনিয়াম সংকট নিরসনে রাশিয়া মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
পুতিন উল্লেখ করেন যে, এর আগে ২০১৫ সালেও রাশিয়া ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করেছিল। সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, মস্কো আবারও একই ধরনের সহযোগিতা করতে সক্ষম।
পুতিনের মতে, অতীতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ইরানের বাইরে ইউরেনিয়াম স্থানান্তরের বিষয়ে একমত হলেও পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান এবং ইউরেনিয়াম কেবল মার্কিন ভূখণ্ডে স্থানান্তরের শর্তের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ওয়াশিংটনের এই অনমনীয় অবস্থানের জবাবে তেহরানও তাদের নীতি আরও কঠোর করে।
রুশ প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে এই সংকটের দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে। পুতিনের এই প্রস্তাবকে বৈশ্বিক পারমাণবিক কূটনীতিতে রাশিয়ার প্রভাব পুনর্স্থাপনের একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
গাজায় অলৌকিক ঘটনা: মৃত্যুসনদ হাতে পাওয়ার পর মিলল ছেলের জীবিত থাকার খবর
দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে যে পরিবারটি শোকের চাদরে আবৃত ছিল এবং যে ছেলেটিকে মৃত ধরে নিয়ে যার মৃত্যুসনদ পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেই পরিবারের জীবনে হঠাৎ নেমে এলো এক অবিশ্বাস্য অলৌকিক সংবাদ। গাজার হাসপাতাল, মর্গ এবং ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি কোণে খুঁজেও যার হদিস মেলেনি, সেই ২৫ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি তরুণ ঈদ নায়েল আবু শার দীর্ঘ দেড় বছর পর জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গেছে ইসরায়েলি কারাগারে। সোমবার (৪ মে) এক আইনজীবীর ফোনকল গাজার এই পরিবারটির জীবন চিরতরে বদলে দিয়েছে।
২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন ঈদ আবু শার। গাজার মধ্যাঞ্চলের নেতজারিম করিডর, যা যুদ্ধের সময় 'অ্যাক্সিস অব ডেথ' বা মৃত্যুফাঁদ হিসেবে কুখ্যাতি পেয়েছিল, সেখানে কাজের সন্ধানে গিয়ে তিনি উধাও হয়ে যান। ছেলের সন্ধানে তার বাবা নায়েল আবু শার দিনের পর দিন গাজার প্রতিটি মর্গ এবং হাসপাতালের হিমঘরে অজ্ঞাত মরদেহের মুখ দেখে বেড়িয়েছেন।
ছেলের কোনো চিহ্ন না পেয়ে শেষ পর্যন্ত রেডক্রসসহ বিভিন্ন সংস্থাও যখন হাল ছেড়ে দেয়, তখন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করে। পরিবারের পক্ষ থেকে শোকের তাঁবু খাটানো হয় এবং পাড়া-প্রতিবেশীরাও শোক প্রকাশে সামিল হন।
সবাই যখন গায়েবানা জানাজা পড়ার পরামর্শ দিচ্ছিলেন, তখন একমাত্র মা মাহা আবু শারই ছিলেন অটল। তিনি বিশ্বাস করতেন তার ছেলে এখনো বেঁচে আছে। প্রায় এক মাস আগে ওফার কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া এক ব্যক্তি প্রথম দাবি করেন যে, তিনি সেখানে ঈদ আবু শারকে দেখেছেন।
এরপর গত সোমবার একজন আইনজীবীর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ঈদ বর্তমানে ইসরায়েলের ওফার কারাগারে বন্দি হিসেবে আটক রয়েছেন। এই খবর পাওয়ামাত্রই সেই বাড়িতে শোকের মাতম ছাপিয়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যায় এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
ঈদের ঘটনাটি একটি আনন্দের খবর হলেও এটি গাজার বর্তমান পরিস্থিতির এক ভয়াবহ রূপ উন্মোচন করেছে। ফিলিস্তিনি নিখোঁজ ও গুমবিষয়ক কেন্দ্রের পরিচালক নাদা নাবিল জানান, বর্তমানে গাজায় প্রায় সাত থেকে আট হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত দেড় হাজার ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলের কারাগারে গোপনে আটকে রাখা হয়েছে, যাদের কোনো তথ্য পরিবারকে জানানো হচ্ছে না। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, প্রিয়জন বেঁচে আছে না কি মারা গেছে তা না জানার এই অবস্থাকে 'সাসপেন্ডেড গ্রিফ' বলা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদী মানসিক নির্যাতনের শামিল।
নাদা নাবিলের অভিযোগ, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে বন্দিদের তালিকা গোপন রাখছে এবং রেডক্রসকে কারাগার পরিদর্শনের অনুমতি দিচ্ছে না। এর ফলে শুধু মানসিক নয়, সামাজিক ও আইনগত জটিলতাও তৈরি হচ্ছে। অনেক নারী জানেন না তারা বিধবা কি না, ফলে উত্তরাধিকার বা পুনর্বিবাহের মতো বিষয়গুলো ঝুলে আছে। ঈদ আবু শারের পরিবার এখন ছেলের বেঁচে থাকার খবর পেলেও নতুন উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে।
কারাগারে তাদের সন্তান কী অবস্থায় আছে এবং তাকে কবে মুক্তি দেওয়া হবে—এই অনিশ্চয়তা এখন তাদের প্রধান দুশ্চিন্তা। মা মাহা আবু শারের একটাই চাওয়া, প্রিয় সন্তানকে যেন খুব দ্রুত সুস্থ অবস্থায় বুকে জড়িয়ে ধরতে পারেন।
সূত্র: আল–জাজিরা
আহত হওয়ার পর রহস্যময় অবস্থানে খামেনি: কোথায় আছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা?
ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু এবং যুদ্ধ কৌশল নির্ধারণে দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ভূমিকা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সিএনএনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মোজতবা খামেনি নেপথ্যে থেকে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। তবে যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে ইরানি প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার বণ্টন নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধের শুরুর দিকে এক ভয়াবহ হামলায় মোজতবা খামেনির বাবা (সাবেক সর্বোচ্চ নেতা) এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। ওই একই হামলায় মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হয়েছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর তাকে দ্রুত উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করা হলেও, তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে রহস্য রয়েই গেছে। মার্কিন গোয়েন্দারা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি তিনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন। এর প্রধান কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, খামেনি কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন না; বরং গোপন বার্তাবাহক বা সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন এখনো এই সংঘাতের একটি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের কিছুটা সামরিক ক্ষতি হলেও তাদের মূল সক্ষমতা এখনো অক্ষত রয়েছে। কড়া নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান আরও কয়েক মাস এই যুদ্ধ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। গোয়েন্দা সূত্রগুলো ধারণা করছে, খামেনিই নেপথ্য থেকে নির্ধারণ করছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার টেবিল কতটা প্রসারিত হবে।
অন্যদিকে, শুক্রবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের প্রোটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনি এক জনসমাবেশে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে ওঠা সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, খামেনি বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং ধীরে ধীরে তার ক্ষত সেরে উঠছে। হোসেইনি অভিযোগ করেন যে, শত্রুরা তাকে খুঁজে বের করার জন্য বিভিন্ন গুজব ছড়াচ্ছে। তিনি জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "সঠিক সময়ে তিনি নিজেই সবার সামনে উপস্থিত হবেন।"
সূত্র: সিএনএন
মার্কিন বাধা উপেক্ষা করে চীনের সঙ্গে তেলের বাজার গড়ছে ইরান
আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভাসমান জ্বালানি তেল চীনের কাছে বিক্রি করতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে ইরান। তেহরানভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘ডিপ্লোহাউস’-এর পরিচালক হামিদ রেজা গোলামজাদেহ সম্প্রতি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন। মার্কিন অবরোধ এবং সমুদ্রপথে নানামুখী বাধার মুখে ইরান তাদের তেল রপ্তানি সচল রাখতে বেইজিংয়ের সঙ্গে এই বিশেষ সমন্বয় করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের ঠিক এক সপ্তাহ আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চীন সফর করেন।
এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল বেইজিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানরত তেলের ব্যারেলগুলো বিক্রির পথ সুগম করা। বর্তমানে ইরানের বিশাল পরিমাণ জ্বালানি তেল সাগরে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে, যা বিক্রির জন্য বেইজিংয়ের সরাসরি সহযোগিতা চাইছে তেহরান।
তেল কূটনীতির পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়েও চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন আরাগচি।
বিশেষ করে নৌ-চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইরানের প্রস্তাবিত পদ্ধতিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে দুই দেশ নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার বিষয়ে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করতে আরাগচি বিভিন্ন দেশের সমকক্ষদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা।
ইরান যুদ্ধের নেপথ্যে কর্পোরেট খেলা: যুদ্ধের আড়ালে বিলিয়ন ডলারের মুনাফা
ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালির উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে এক বৈপরীত্য তৈরি করেছে। একদিকে যখন সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি আর জ্বালানির উচ্চমূল্যে পিষ্ট হচ্ছেন, অন্যদিকে কিছু বড় করপোরেট জায়ান্ট এই সংকটকে পুঁজি করে ইতিহাসের রেকর্ড মুনাফা লুটে নিচ্ছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পার হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। যুদ্ধের ফলে এই রুটে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যার সরাসরি সুফল পেয়েছে বিপি (BP), শেল এবং টোটালএনার্জিসের মতো বড় কোম্পানিগুলো। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বিপির মুনাফা দ্বিগুণ বেড়ে ৩২০ কোটি ডলারে ঠেকেছে। একইভাবে শেল ৬৯২ কোটি এবং টোটালএনার্জিস ৫৪০ কোটি ডলার মুনাফা অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্লেষকদের চমকে দিয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাবে আর্থিক বাজারের অস্থিরতা কাজে লাগিয়ে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে ওয়াল স্ট্রিটের ব্যাংকগুলো। জেপি মরগান এককভাবে প্রথম প্রান্তিকে ১ হাজার ১৬০ কোটি ডলার আয় করে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মুনাফার রেকর্ড গড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ছয় ব্যাংকের সম্মিলিত মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৭০ কোটি ডলারে। এর পাশাপাশি অস্ত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান যেমন লকহিড মার্টিন ও বোয়িংয়ের অর্ডারের তালিকা এখন রেকর্ড উচ্চতায়, যা প্রতিরক্ষা খাতকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
তেলের অস্থিরতা একদিকে সংকট বাড়ালেও অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের পথ প্রশস্ত করেছে। নেক্সটএরা এনার্জি বা ওরসটেড-এর মতো কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে কয়েকগুণ। তেলের বিকল্প হিসেবে সৌর প্যানেল ও বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই খাতটি দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ সাধারণের পকেট খালি করলেও বিশ্বের শক্তিশালী কর্পোরেট গোষ্ঠীগুলোর জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
ইরান যুদ্ধেই মুনাফার পাহাড় গড়ছে যেসব কোম্পানি
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের চলমান সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকেই অস্থিতিশীল করে তোলেনি, একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও তৈরি করেছে গভীর চাপ। জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ ব্যবস্থার অচলাবস্থা এবং আর্থিক বাজারের অস্থিরতায় বিশ্বের বহু দেশ যখন চাপে, তখন কিছু বহুজাতিক করপোরেশনের জন্য এই যুদ্ধ পরিণত হয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক সুযোগে।
বিশেষ করে তেল-গ্যাস, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা ও বাজারের ভয়কেই ব্যবসায়িক সুবিধায় রূপান্তর করছে এসব করপোরেশন।
তেলের বাজারে অস্থিরতা, মুনাফায় জ্বালানি জায়ান্ট
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে সেখানে সামরিক উত্তেজনা এবং জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যায়। এর সরাসরি সুবিধা পেয়েছে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলো।
ব্রিটিশ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান বিপি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে তাদের মুনাফা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ৩২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। কোম্পানিটি বলছে, অস্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতিতে তাদের ট্রেডিং বিভাগ ইতিহাসের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স করেছে।
একই সময়ে শেল বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে প্রায় ৬৯২ কোটি ডলার মুনাফা করেছে। ফরাসি জ্বালানি কোম্পানি টোটালএনার্জিসও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি আয় করে ৫৪০ কোটি ডলারের মুনাফা দেখিয়েছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সনমোবিল ও শেভরনের আয় কিছুটা কমেছে, তবুও প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল এসেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এবং তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকলে এসব প্রতিষ্ঠানের আয় আরও বাড়বে।
যুদ্ধের ভয়েই বাড়ছে ব্যাংকগুলোর আয়
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধু জ্বালানি নয়, বৈশ্বিক আর্থিক বাজারেও ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করেছে। শেয়ারবাজার, পণ্যবাজার এবং মুদ্রাবাজারে প্রতিদিন বড় ধরনের ওঠানামা হচ্ছে। আর এই অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে বিপুল মুনাফা করছে ওয়াল স্ট্রিটের বড় ব্যাংকগুলো।
জেপি মরগানের ট্রেডিং বিভাগ প্রথম প্রান্তিকে রেকর্ড ১ হাজার ১৬০ কোটি ডলার আয় করেছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকটি ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক মুনাফা অর্জন করেছে।
ব্যাংক অব আমেরিকা, মরগান স্ট্যানলি, সিটিগ্রুপ, গোল্ডম্যান স্যাকস ও ওয়েলস ফার্গোসহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ছয় ব্যাংকের সম্মিলিত আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৭৭০ কোটি ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ, তেল, সোনা ও ডলারে ঝুঁকছেন। ফলে ট্রেডিং কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর কমিশন ও লেনদেন আয়ও দ্রুত বাড়ছে।
অস্ত্র ব্যবসায় স্বর্ণসময়
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে দ্রুত লাভবান খাতগুলোর একটি হচ্ছে প্রতিরক্ষা শিল্প। ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্ত্র কেনার প্রবণতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বড় বড় অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রেকর্ড অর্ডার পাচ্ছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান বিএই সিস্টেমস জানিয়েছে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে তাদের বিক্রি ও মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। অন্যদিকে লকহিড মার্টিন, বোয়িং ও নর্থরপ গ্রুম্যানও নতুন সামরিক অর্ডারের তথ্য দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বিশ্বজুড়ে সামরিক বাজেট আরও বাড়বে, যা অস্ত্র শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে নতুন বিনিয়োগ
ইরান যুদ্ধের আরেকটি বড় প্রভাব পড়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে। তেলের দামের লাগামহীন বৃদ্ধির কারণে অনেক দেশ আবারও সৌর, বায়ু ও বৈদ্যুতিক জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেক্সটএরা এনার্জির শেয়ারের দাম চলতি বছরে প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। ডেনমার্কের ভেসটাস ও ওরস্টেডও মুনাফা বৃদ্ধির তথ্য দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের অক্টোপাস এনার্জি জানিয়েছে, সৌর প্যানেল ও হিট পাম্পের বিক্রি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারেও নতুন গতি এসেছে। বিশেষ করে চীনা নির্মাতারা এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে।
সূত্র:বিবিসি
যুদ্ধবিরতি বহাল, তবু ইরানকে ট্রাম্পের হুমকি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। যদিও এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, তবুও ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার কথা স্বীকার করছে না।
ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তেহরান দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা চুক্তিতে সম্মত না হলে ইরানকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। তার বক্তব্যে নতুন সামরিক চাপ এবং কূটনৈতিক আল্টিমেটামের ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ছিল সীমিত পরিসরের এবং সেটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ পুনরায় শুরুর পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা যুদ্ধবিরতির বাস্তব কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট। প্রতিদিন বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে সামান্য সামরিক উত্তেজনাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিতে শুরু করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা নিয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। সাম্প্রতিক এই বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কূটনৈতিক সমঝোতা না হলে সামরিক বিকল্প পুরোপুরি বাদ দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে ইরানও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা দেয়নি। তবে তেহরান বারবার অভিযোগ করছে, যুক্তরাষ্ট্রই যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে হরমুজ অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে। ইরানি সামরিক সূত্রগুলো দাবি করেছে, নিজেদের সার্বভৌম নিরাপত্তা রক্ষায় তারা ‘প্রয়োজনীয় জবাব’ দিচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক হান্টাভাইরাস, কীভাবে ছড়ায়?
দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে চলাচলরত একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরীতে ছড়িয়ে পড়া বিরল হান্টাভাইরাসকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। ‘এমভি হোন্ডিয়াস’ নামের ওই জাহাজে ইতোমধ্যে তিনজন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকজন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য সামনে আসায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, হান্টাভাইরাসের লক্ষণ প্রকাশ পেতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে ভাইরাসটির নির্দিষ্ট একটি ধরন মানুষের শরীর থেকে মানুষের শরীরে ছড়াতে সক্ষম হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরের মল, প্রস্রাব বা লালার মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রথমদিকে জ্বর, দুর্বলতা, শরীর ব্যথা এবং মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিলেও পরে তা মারাত্মক শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসে পানি জমা, হৃদযন্ত্রের জটিলতা এবং রক্তক্ষরণজনিত জ্বরে রূপ নিতে পারে। বর্তমানে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক নেই।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করার আগেই এক যাত্রী ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, তার মাধ্যমেই জাহাজের অন্য যাত্রীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ‘আন্দিজ স্ট্রেইন’ নামে পরিচিত এই ধরনটি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে সংক্রমণ ঘটাতে পারে, যা সাধারণ হান্টাভাইরাসের তুলনায় বেশি বিপজ্জনক।
এখন পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে একজন নেদারল্যান্ডসের নাগরিক রয়েছেন। অসুস্থ অবস্থায় তার মরদেহ সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নামানো হয়। পরে দক্ষিণ আফ্রিকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার স্ত্রীও মারা যান। এছাড়া ২ মে জাহাজে থাকা এক জার্মান নারী পর্যটকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
এছাড়া পাঁচজনের শরীরে নিশ্চিতভাবে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং আরও তিনজনকে সম্ভাব্য আক্রান্ত হিসেবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বর্তমানে ব্রিটেন, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় আক্রান্ত ও সন্দেহভাজনদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
জাহাজটি বর্তমানে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। জাহাজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী নতুন করে আর কারও শরীরে উপসর্গ দেখা যায়নি। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেছেন, হান্টাভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড বা সুপ্ত সময় ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে আরও সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং দ্রুত স্বাস্থ্যসতর্কতা জোরদার করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, সমুদ্রভিত্তিক ভ্রমণ ও আন্তর্জাতিক পর্যটনের কারণে সংক্রামক রোগ দ্রুত বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে অবস্থান, সীমিত চিকিৎসা সুবিধা এবং বন্ধ পরিবেশ ভাইরাস বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের ব্রিফিং নিয়েছেন বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
-রফিক
পাঠকের মতামত:
- ১০ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১০ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১০ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- সোনার বাজারে নতুন উল্লম্ফন
- নীরব ঘাতক কিডনি রোগ: যেসব লক্ষণ অবহেলা করলে পস্তাতে হতে পারে
- অর্থনীতিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী
- প্রথম সেশনে দাপুটে বোলিংয়ে পাকিস্তানের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের
- পুলিশকে আর ফ্যাসিবাদীদের হাতিয়ার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের দিকে: বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে পুতিনের বড় ঘোষণা
- কালিয়াকৈরে গরু চুরির অভিযোগে গণপিটুনি: তিনজনের মৃত্যু, পুড়ল পিকআপ
- তামিলনাড়ুতে ‘থালাপতি’ যুগের সূচনা: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিজয়
- জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের মূল দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- ৮ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস: নদীবন্দরে সতর্কতা জারি
- স্বর্ণের দামে লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি: আবারও ভরিতে বাড়ল বড় অঙ্কের টাকা
- জেনে নিন রাজধানীর আজকের উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির সূচি
- রোববার ঢাকার কোন কোন এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ? জেনে নিন তালিকা
- বৈশ্বিক পরমাণু রাজনীতিতে মোড়: ইরানের ইউরেনিয়াম নিজেদের ভূখণ্ডে নিতে চায় রাশিয়া
- ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- আজ ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- ইতিহাসের বৃহত্তম বিশ্বকাপে বাংলাদেশি ছোঁয়া: দুই দেশের উদ্বোধনী মঞ্চে ডিজে সঞ্জয়
- আবারও ভেঙে গেল আবু ত্বহা আদনানের সংসার: ৪ মাসেই বিচ্ছেদ
- সীমান্তে ফের বিএসএফের গুলি: কসবায় দুই বাংলাদেশির মরদেহ ফেরত দিল ভারত
- তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ঐতিহাসিক দিন: থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা
- দাউদকান্দিতে পুলিশের সফল অভিযান: ১৮ কেজি গাঁজাসহ ২ কারবারি গ্রেপ্তার
- গোল্ডেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দিনব্যাপী ফ্রি হেলথ ক্যাম্প
- কালিগঞ্জে ‘মব’ সৃষ্টি করে অধ্যাপিকার বাড়ি দখল ও উচ্ছেদের চেষ্টা
- গাজায় অলৌকিক ঘটনা: মৃত্যুসনদ হাতে পাওয়ার পর মিলল ছেলের জীবিত থাকার খবর
- স্বৈরাচারের অন্ধকারে আর ফিরবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
- দেশের ৬ অঞ্চলে রাতের মধ্যে ঝড়ের পূর্বাভাস: ১ নম্বর সতর্কসংকেত
- ধর্মীয় বৈষম্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ভারত সরকারকে জামায়াত আমিরের কড়া বার্তা
- যুদ্ধ আর উত্তেজনার মাঝেও বিশ্বকাপে ইরান
- আহত হওয়ার পর রহস্যময় অবস্থানে খামেনি: কোথায় আছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা?
- মার্কিন বাধা উপেক্ষা করে চীনের সঙ্গে তেলের বাজার গড়ছে ইরান
- নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
- চট্টগ্রামে সফল দুই রত্নগর্ভা মাকে সম্মাননা জানাল সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশন
- কুমেক হাসপাতালে হাম রোগীর উপচে পড়া ভিড়
- মুশফিকের লড়াই ও তাসকিনের ক্যামিও: প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ টাইগারদের
- ইরান যুদ্ধের নেপথ্যে কর্পোরেট খেলা: যুদ্ধের আড়ালে বিলিয়ন ডলারের মুনাফা
- বিশ্বকাপের দল চূড়ান্ত করতে ফিফার ডেডলাইন প্রকাশ
- নিজের বানানো গাড়িতে প্রধানমন্ত্রীকে ঘুরিয়ে দেখালেন ১৭ বছরের তরুণ
- ধর্মীয় আবেগ ও লাশের রাজনীতি দিয়ে ফায়দা লুটছে এনসিপি: রাশেদ খান
- ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে রদবদল: নতুন সেনাপ্রধান নিয়োগ
- বাংলায় পালাবদল: তৃণমূলের বিদায়, মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী
- আজ টানা ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না যেসব এলাকায়
- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যের পথে রাষ্ট্রপতি
- কবে থেকে কার্যকর হবে নবম পে-স্কেল? বাস্তবায়ন পরিকল্পনা জানাল অর্থ বিভাগ
- দুপুরের মধ্যে ধেয়ে আসছে ঝড়: দেশের ৪ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা
- আব্বাসের জোড়া শিকারে ভাঙল প্রতিরোধ: লড়ছেন একা মুশফিক
- কেন বাড়ছে সোনার দাম? রেকর্ড উচ্চতায় দাঁড়িয়ে দেশের জুয়েলারি বাজার
- আজ শনিবারের নামাজের সময়সূচি: জোহর থেকে এশার পূর্ণাঙ্গ তালিকা
- ঢাবিতে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘কাঁকশিয়ালী’-র নতুন কমিটি গঠন
- কেন বাড়ছে সোনার দাম? রেকর্ড উচ্চতায় দাঁড়িয়ে দেশের জুয়েলারি বাজার
- স্বর্ণের দামে লাফ, তবে অপরিবর্তিত রুপা: বাজারদরের সবশেষ আপডেট
- কালিগঞ্জে বসতবাড়ির যাতায়াত পথ বন্ধ: এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চরম ভোগান্তিতে পরিবার
- বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ইতিহাস: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম চূড়ান্ত
- ৬ জেলায় ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত: ৮০ কিমি বেগে আঘাত হানতে পারে ঝড়
- ৪ মে: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ৪ মে: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
- আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- ফজর থেকে এশা, আজকের পূর্ণ নামাজ সূচি
- ৪ মে: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পূর্ণ সময়সূচি
- দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড
- বিশ্ব অর্থনীতি বাঁচাতে ট্রাম্পের তুরুপের তাস: প্রজেক্ট ফ্রিডম নিয়ে উত্তাল পারস্য উপসাগর








