হরমুজের সংকট মোকাবেলায় ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনায় ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন এক কৌশল বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের খার্গ দ্বীপ দখল বা অবরোধের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে, যা দেশটির তেল রপ্তানির মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপটি ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ধারণা করা হচ্ছে যে, সামরিক চাপ আরও বৃদ্ধি করে খার্গ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া গেলে ইরানকে আলোচনায় বাধ্য করা সম্ভব হতে পারে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা, এরপর দ্বীপটি দখল করে সেটিকে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানা গেছে।
ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দ্বীপটিতে একাধিক হামলা চালিয়ে সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে স্থল অভিযান পরিচালনার বিষয়টি আরও জটিল, কারণ এতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা সরাসরি ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে। খার্গ দ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে, সেখানে সেনা মোতায়েন করলে তারা সহজেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আওতায় চলে আসবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে, যা এই সম্ভাব্য পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে পরিস্থিতি অনুযায়ী উপকূলীয় অভিযানও বাস্তবায়িত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপকে কেন্দ্র করে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে তা কেবল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করবে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তার ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলবে। কারণ হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ, যেখানে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
সার্বিকভাবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও গভীর পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, যেখানে কৌশলগত অবকাঠামো দখল এবং জ্বালানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ হয়ে উঠবে প্রধান শক্তির লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু।
চেক প্রজাতন্ত্রে ইসরায়েলের অস্ত্র কারখানায় আগুন
চেক প্রজাতন্ত্রে ইসরায়েল-সংযুক্ত একটি অস্ত্র কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি ইউরোপভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত এবং ইসরায়েলের বৃহৎ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই স্থাপনাটি ভোরের দিকে আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাটিতে কারখানার একাধিক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
চেক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে সম্ভাব্য ‘সন্ত্রাসী সংযোগ’ রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের উৎস ও উদ্দেশ্য নির্ধারণে ফরেনসিক তদন্ত চলছে।
এদিকে ‘আর্থকোয়েক ফ্যাকশন’ নামের একটি আন্ডারগ্রাউন্ড সংগঠন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ইউরোপে ইসরায়েলের অন্যতম বড় অস্ত্র প্রস্তুতকারকের কার্যক্রম পরিচালনায় এই স্থাপনাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানটি স্থল ও আকাশভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের জন্য পরিচিত, যা সাম্প্রতিক বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে এই কারখানায় হামলার ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অগ্নিকাণ্ড নয়, বরং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের ভেতরে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে তা শুধু নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াবে না, বরং চলমান আন্তর্জাতিক সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তৃতিও নতুন মাত্রা পেতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি ঘিরে তদন্তের অগ্রগতি এবং এর সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এখন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সুত্রঃ আল জাজিরা।
তেলের দামের ধাক্কায় সংকটে ভারতীয় বিমান খাত, রুট বন্ধের সতর্কতা

আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে ভারতের বেসামরিক বিমান খাতে। দেশটির শীর্ষ বিমান সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন সরকারের কাছে সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অনেক রুট বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং নতুন উড়োজাহাজ সংযোজনেও বিলম্ব দেখা দিতে পারে। এই সংগঠনের আওতায় থাকা বড় বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এবং স্পাইসজেট।
সংগঠনটি সরকারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিমান পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে, যা তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে তারা ডিসেম্বর মাসে আরোপিত ভাড়া নিয়ন্ত্রণ নীতিও প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে, কারণ এই সীমাবদ্ধতার কারণে বাড়তি ব্যয় যাত্রী ভাড়ার মাধ্যমে সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে বড় ধরনের রাজস্ব ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং পরিচালন ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে একাধিক সংস্থা গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়তে পারে, যা তাদের টিকে থাকার সক্ষমতাকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দামের সামান্য পরিবর্তনও এই খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ব্যারেল তেলের দামে এক ডলার বৃদ্ধি একটি বড় বিমান সংস্থার বার্ষিক জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়ে দিতে পারে, যা সামগ্রিক আর্থিক ভারসাম্যকে নড়বড়ে করে দেয়।
সার্বিকভাবে পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি কেবল একটি অর্থনৈতিক ইস্যু নয়, বরং এটি বৈশ্বিক পরিবহন ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ভারতের মতো দ্রুতবর্ধনশীল বিমান বাজারেও এই চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যেখানে রুট সংকোচন, বহর সম্প্রসারণে বিলম্ব এবং ভাড়া নীতির পুনর্বিবেচনা এখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
ঈদের আনন্দ ম্লান: যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির ছায়ায় মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম বিশ্ব

আহমেদ ইশতিয়াক
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান যুদ্ধ, ধ্বংস এবং বাস্তুচ্যুতির গভীর সংকটে এবারের ঈদুল ফিতর এক ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। যে উৎসব সাধারণত আনন্দ, পারিবারিক বন্ধন এবং আধ্যাত্মিক প্রশান্তির প্রতীক, তা এবার বহু মানুষের কাছে পরিণত হয়েছে অনিশ্চয়তা, ক্ষতি এবং বেঁচে থাকার সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে। বৈরুত থেকে গাজা পর্যন্ত বিস্তৃত এই সংকট দেখাচ্ছে, কীভাবে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত একটি অঞ্চলের সামাজিক ও মানবিক কাঠামোকে ভেঙে দিতে পারে।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় আশ্রয়ের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আলা নামের এক শরণার্থী। সিরিয়ার অধিকৃত গোলান মালভূমি থেকে আগত এই মানুষটি একসময় বসবাস করতেন দাহিয়েহ এলাকায়, যা সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলায় লেবাননে ইতোমধ্যে হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। নিজের বাসস্থান হারিয়ে তিনি এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত জীবনে নিপতিত, যেখানে প্রতিদিনের প্রধান লক্ষ্য একটি নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাওয়া। এই বাস্তবতায় ঈদের মতো উৎসব তার কাছে অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি আরও গভীর ও বেদনাদায়ক। দীর্ঘ সময় ধরে চলমান সংঘাতে এই অঞ্চল কার্যত মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। অব্যাহত হামলা, অবরোধ এবং অবকাঠামোগত ধ্বংসের ফলে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং চিকিৎসাসেবার মতো মৌলিক প্রয়োজনীয়তাও অনেক ক্ষেত্রে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমন বাস্তবতায় ঈদ উদযাপন করা মানুষের কাছে একপ্রকার অসম্ভব অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে।
এই অঞ্চলের অসংখ্য পরিবার আজ এমন এক অবস্থায় রয়েছে, যেখানে উৎসবের আনন্দ নয়, বরং নিরাপত্তা এবং টিকে থাকার প্রশ্নই মুখ্য হয়ে উঠেছে। শিশুদের স্বাভাবিক শৈশব, নতুন পোশাক কিংবা পরিবারকেন্দ্রিক আনন্দময় মুহূর্তগুলো যুদ্ধের বাস্তবতায় হারিয়ে যাচ্ছে। ঈদের প্রার্থনাও অনেক ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে শান্তি, নিরাপত্তা এবং একটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষায়।
সার্বিকভাবে এবারের ঈদ মধ্যপ্রাচ্যে কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং একটি গভীর মানবিক সংকটের প্রতিচ্ছবি। এটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, যুদ্ধের প্রভাব কেবল ভূরাজনৈতিক বা সামরিক সীমারেখায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সংস্কৃতি এবং আবেগের গভীরে গিয়ে আঘাত হানে। এই বাস্তবতায় ঈদ হয়ে উঠেছে আশ্রয়, নিরাপত্তা এবং শান্তির জন্য মানুষের এক নীরব আবেদন।
ইসরায়েলে প্রথমবার 'নাসরুল্লাহ' মিসাইল ব্যবহার করল ইরান
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংস্থাটি দাবি করেছে, তাদের ঘোষিত ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ধারাবাহিকতায় ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ৬৫তম দফায় ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, এই অভিযানে প্রথমবারের মতো উন্নত প্রযুক্তির মাল্টি-ওয়ারহেড সমৃদ্ধ ‘নাসরুল্লাহ’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, এই নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্রটি কদর সিরিজের আধুনিকায়িত ও গাইডেড সংস্করণ, যা লক্ষ্যবস্তুতে আরও নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম।
ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র আশদোদ ও হাইফা অঞ্চলের তেল শোধনাগার। এই অবকাঠামোগুলো দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত, ফলে এগুলোতে আঘাতের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।
তবে এই সামরিক অভিযানের পরিধি শুধু ইসরায়েলেই সীমাবদ্ধ ছিল না বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত কিছু মার্কিন সামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের আল-খারজ বিমানঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা ও আল-জাফরা ঘাঁটিতে বিভিন্ন ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই ঘাঁটিগুলো মূলত মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ফলে এসব স্থাপনায় হামলার দাবি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপের জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, তাদের লক্ষ্য পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকতে পারে।
তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি দাবি ও পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
-রাফসান
ট্রাম্প ও মিত্রদের জন্য ‘অপ্রত্যাশিত চমক’ প্রস্তুত রয়েছে- ইরান
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব থেকে নতুন করে শক্ত বার্তা এসেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার মিত্রদের জন্য এখনো ‘অপ্রত্যাশিত চমক’ প্রস্তুত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বক্তব্যে মেজর জেনারেল আলি আব্দুল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হুমকি সত্ত্বেও ইরানের সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। তার ভাষায়, তেহরান কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে নেই, বরং প্রয়োজন হলে আরও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম।
তিনি দাবি করেন, ইরানের কাছে এমন কৌশল ও সক্ষমতা রয়েছে, যা শত্রুপক্ষকে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলতে পারে। এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা একটি কৌশলগত ‘ডিটারেন্স সিগন্যাল’ হিসেবে দেখছেন, যার মাধ্যমে ইরান প্রতিপক্ষকে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে সতর্ক করতে চায়।
এ সময় তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ইরানের আকাশসীমায় একটি উন্নত প্রযুক্তির পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। যদিও এই দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি, তবুও এটি সংঘাতের প্রযুক্তিগত মাত্রা সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
-রাফসান
ইরান যুদ্ধে আটকে পড়ে পালানোর পথ খুঁজছেন ট্রাম্প
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানে নতুন ধরনের পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফট’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পার্সির সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযান থেকে সরে আসার সম্ভাব্য পথ খুঁজছেন।
পার্সির মতে, যুদ্ধের বর্তমান অগ্রগতি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বরং পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সংঘাতকে আরও তীব্র করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপের পাল্টা প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ব্যয়বহুল হতে পারে।
বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, ইরান ইতোমধ্যেই তাদের প্রতিরোধ ও পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা কার্যকরভাবে প্রদর্শন করেছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের সামরিক পদক্ষেপ এমন এক বাস্তবতা তৈরি করেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রতিক্রিয়া সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ।
এছাড়া অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও ট্রাম্পের জন্য সহজ নয়। পার্সি মনে করেন, যদিও মার্কিন জনসাধারণের একটি বড় অংশ শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছে, তবুও ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক সমর্থক গোষ্ঠী এতদিন পর্যন্ত এই অভিযানে দৃঢ় সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং প্রত্যাশিত সাফল্য না আসায় এখন সেই সমর্থকদের মধ্যেও উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে কীভাবে এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসা যায়, তাও আবার রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়ে। পার্সির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একটি কার্যকর ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ বা সম্মানজনকভাবে যুদ্ধ থেকে সরে আসার পরিকল্পনা এখন ট্রাম্পের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক চাপ, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা এই তিনটি উপাদান একসঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনকে নতুন করে কৌশল নির্ধারণে বাধ্য করছে। যদি দ্রুত কোনো সমাধান খুঁজে পাওয়া না যায়, তাহলে এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, এই বিশ্লেষণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক অবস্থান একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে, যেখানে কেবল সামরিক শক্তি নয়, বরং কৌশলগত বাস্তবতা ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশই ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রাখবে।
‘বিশ্বকে রক্ষা করছি’ নেতানিয়াহুর দাবি
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযান শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্যও অপরিহার্য। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে এমন একটি হুমকি মোকাবিলা করছে, যা পুরো বিশ্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারত।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানা যায়, নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় ইরানের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মতে, তেহরান বর্তমানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কিংবা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি।
নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করা। তিনি যুক্তি দেন, এই হুমকি যদি সময়মতো মোকাবিলা না করা হয়, তাহলে ইরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো ভূগর্ভে স্থানান্তর করে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, যেখানে আকাশপথে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়বে।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, এই সামরিক পদক্ষেপের একটি রাজনৈতিক দিকও রয়েছে। তার মতে, ইরানের জনগণের জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করতে সক্ষম হবে। এই বক্তব্য বিশ্লেষকদের কাছে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের একটি ইঙ্গিত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের কৌশলগত চিন্তাভাবনা ও লক্ষ্য প্রায় অভিন্ন। এই প্রেক্ষাপটে তিনি সেইসব অভিযোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন, যেখানে বলা হচ্ছে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজস্ব বিবেচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেউ কি সত্যিই মনে করে যে বাইরের কোনো শক্তি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নির্দেশ দিতে পারে এমন ধারণা তার কাছে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
সূত্র: সিএনএন
ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান নতুন করে দাবি করেছে যে তারা ইসরাইলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিম জেরুজালেমে অবস্থিত ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানি সামরিক সূত্র জানায়, এই হামলা ছিল একটি পরিকল্পিত প্রতিক্রিয়া, যা সাম্প্রতিক ঘটনাবলির ধারাবাহিকতায় পরিচালিত হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিবের হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ এবং ‘বীরদের রক্তের প্রতিদান’ হিসেবেই এই ড্রোন হামলা সংঘটিত হয়েছে। এ হামলার সঙ্গে ইরানের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’র নামও উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই অভিযানের প্রতীকী বার্তা বহন করে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
তবে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। একইসঙ্গে, হামলার ফলে কোনো ধরনের প্রাণহানি বা উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে সম্পর্কেও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের দাবি কেবল সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিতই নয়; বরং এটি মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত বার্তা দেওয়ার একটি অংশ। বিশেষ করে যখন সংঘাত ক্রমেই সরাসরি সামরিক লক্ষ্যবস্তু থেকে বেরিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থাপনাগুলোর দিকে বিস্তৃত হচ্ছে, তখন এই ধরনের হামলা বা হামলার দাবি পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা শুধু সীমান্ত বা সামরিক ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা শহুরে কেন্দ্র, কৌশলগত প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরেও বিস্তার লাভ করছে। এতে করে সংঘাতের ভৌগোলিক পরিসর যেমন বাড়ছে, তেমনি এর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাবও বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে আর ছাড় নয়: ইরান
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ক্রমেই জ্বালানি অবকাঠামোকেন্দ্রিক এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে ইরান সরাসরি ঘোষণা দিয়েছে যে ভবিষ্যতে তাদের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা হলে আর কোনো ধরনের সংযম দেখানো হবে না। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, সাম্প্রতিক পাল্টা হামলায় ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার কেবল একটি ক্ষুদ্র অংশ ব্যবহার করেছে এবং এই সংযম ছিল কেবল উত্তেজনা কমানোর আন্তর্জাতিক আহ্বানের প্রতি সম্মান জানানো।
তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো আবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলে তেহরান ‘শূন্য সংযম’ নীতি অনুসরণ করবে। এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সংকেত হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।
ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দু সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র, যা দেশটির প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ করে। এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটিতে ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলা সংঘাতের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে।
এরই ধারাবাহিকতায় কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানি হামলার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এই কমপ্লেক্সটি বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত করে থাকে। হামলার ফলে কাতারের এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বৈশ্বিক বাজারে উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা তৈরি করেছে।
কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ আল-কাবি জানিয়েছেন, এই হামলার ফলে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে। তিনি আরও জানান, দুটি এলএনজি উৎপাদন ইউনিট এবং একটি গ্যাস-টু-লিকুইডস স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে প্রতিবছর প্রায় ১২.৮ মিলিয়ন টন উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।
আল-কাবি এই ঘটনাকে অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, বিশেষ করে রমজান মাসে একটি মুসলিম দেশের পক্ষ থেকে এমন হামলা গোটা অঞ্চলের জন্য গভীর হতাশার কারণ। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, যেকোনো পরিস্থিতিতেই তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোকে সংঘাতের বাইরে রাখা উচিত।
এদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তাদের সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা। তিনি দাবি করেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের সামরিক শিল্পভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং দেশটির কমান্ড কাঠামোকে বিশৃঙ্খল করে তুলছে।
তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন যে, সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলাটি ইসরাইল এককভাবে পরিচালনা করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে আপাতত জ্বালানি অবকাঠামোয় নতুন হামলা থেকে বিরত রয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলকে ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে পুনরায় হামলা না চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তার এই অবস্থান আসে যখন উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয় এবং তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলো ইতোমধ্যেই ইরানের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের মহাসচিবও মন্তব্য করেছেন, এই হামলাগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি।
সামগ্রিকভাবে, বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করছে যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন একটি পূর্ণাঙ্গ “জ্বালানি যুদ্ধ” পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
পাঠকের মতামত:
- হরমুজের সংকট মোকাবেলায় ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনায় ট্রাম্প
- চেক প্রজাতন্ত্রে ইসরায়েলের অস্ত্র কারখানায় আগুন
- তেলের দামের ধাক্কায় সংকটে ভারতীয় বিমান খাত, রুট বন্ধের সতর্কতা
- ঈদের আনন্দ ম্লান: যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির ছায়ায় মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম বিশ্ব
- ইসরায়েলে প্রথমবার 'নাসরুল্লাহ' মিসাইল ব্যবহার করল ইরান
- জুমাতুল বিদা: ফজিলত, দোয়া ও করণীয় জানুন
- ইসরায়েলকে বড় জরিমানা ফিফার, কারণ কী
- শ্রমিকদের বেতন-বোনাস শতভাগ পরিশোধ করছে সরকার
- ট্রাম্প ও মিত্রদের জন্য ‘অপ্রত্যাশিত চমক’ প্রস্তুত রয়েছে- ইরান
- ইরান যুদ্ধে আটকে পড়ে পালানোর পথ খুঁজছেন ট্রাম্প
- সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন দেশের যেসব জায়গায়
- ‘বিশ্বকে রক্ষা করছি’ নেতানিয়াহুর দাবি
- আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তা
- ২০ মার্চ ঢাকার নামাজের পূর্ণ সময়সূচি
- দুই দফায় কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি মিলবে মাত্র ২ লাখ ২ হাজার টাকায়
- ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
- জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে আর ছাড় নয়: ইরান
- চাঁদ দেখার পর যে দোয়া পড়তেন নবী (সা.)
- কাতারের জ্বালানি কমপ্লেক্সে হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতার সীমিত অংশ
- ইরানের হামলায় ইসরাইলের তেল শোধনাগারে আগুন
- ‘আমি বেঁচে আছি’- গুজব ভেঙে সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু
- ইরান মিশনের পর জরুরি অবতরণ মার্কিন F-35, F-35 ক্ষতিগ্রস্ত?
- গ্যাস শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে ইরানের আঘাত: বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তার নতুন ঢেউ
- ‘কোরআনের ভুল খুঁজতে গিয়ে নিজেই বদলে গেলাম’
- যুদ্ধের মাঝেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের মাস্টারপ্ল্যান
- যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত নেই: পেন্টাগনের ব্রিফিংয়ে ইরান ধ্বংসের নতুন নীল নকশা
- মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে ড্রোন হানা: ওয়াশিংটনের সামরিক ঘাঁটিতে আতঙ্ক
- বৃষ্টির বাধায় কি ম্লান হবে ঈদের আনন্দ? আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ আপডেট
- ২০২৬ সালে ভিসা ছাড়াই যেসব দেশে যেতে পারবেন
- এনসিপিতে যুক্ত হচ্ছে দুই নতুন সংগঠন
- কুমিল্লা শেষ সময়ে জমজমাট আতর-টুপির বাজার
- ক্যাম্পাসের ব্যস্ততা পেরিয়ে ঈদের ছুটিতে কুবি শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার আনন্দ
- ‘আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে’: ইরানকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী
- ইরান হামলার নিন্দা, আমিরাতের পাশে মিশর
- কালিগঞ্জের পল্লীতে ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে জখম, টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
- এক বছরে দুই রমজান ও তিন ঈদের অপেক্ষায় মুসলিম উম্মাহ
- জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত; শনিবারই উদযাপিত হবে ঈদ
- মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয় রুখতে ইউরোপের আল্টিমেটাম
- ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও ধস: সোনার দামে বাজুসের ঐতিহাসিক রেকর্ড পতন
- কাতারের গ্যাসে ইরানের আগুন: অন্ধকারে ডুবতে পারে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ এলাকা
- বাড়তি ভাড়া নিলেই কড়া অ্যাকশন: সেতুমন্ত্রীর
- আমেরিকায় হামলার সক্ষমতা গড়ে তুলছে ইরান: যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা সংস্থা
- মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয়; কাতার-সৌদির পর এবার কুয়েতের তেল হাবে ভয়াবহ আগুন
- যমুনায় উঠছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ‘বড় ভুল’, কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের
- ৬ ঘণ্টায় সোনার দামে বড় পতন, নতুন রেকর্ড
- ইরানকে ঘিরে নতুন করে সমর্থনের বার্তা চীনের
- আর হামলা চান না ট্রাম্প
- ইরানে নেতৃত্বে ধস, হামলায় যেসব শীর্ষ নেতারা নিহত
- ১৯ মার্চ: কোন মুদ্রায় কত টাকা? বিস্তারিত তালিকা
- সৌদিতে আজ কি দেখা যাবে ঈদের চাঁদ? সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে
- বিলাসবহুল ধাতু স্বর্ণ এখন আরও সস্তা: বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ
- ঈদ কি তবে শুক্রবার? সৌদি আরবের চাঁদ দেখা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটল!
- ‘৫০তম অভিযান’ ঘোষণা ইরানের, রণক্ষেত্র চার দেশে
- কালিগঞ্জের পল্লীতে ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে জখম, টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
- আজ ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- টানা দুই দফায় কমল দাম; স্বর্ণের বাজারে বড় ধসের ইঙ্গিত!
- ঈদুল ফিতর ২০২৬: প্রধান জামাতের সময় ও জাতীয় ঈদগাহের সুযোগ-সুবিধা জেনে নিন
- আজ ডিএসইর সেরা ১০ গেইনার কোনগুলো
- ১৪৪৭ হিজরির রমজান কি ২৯ দিনে শেষ হবে? সৌদি সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
- কালিগঞ্জে ডেঙ্গু বিরোধী যুদ্ধ! মশা তাড়াতে রাস্তায় নামলেন চিকিৎসকরা
- পবিত্র রমজানের ২৫তম দিন; ১৫ মার্চের নামাজের সঠিক সময়সূচি জানুন
- ১৬ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত: জেনে নিন শবে কদরের করণীয় ও বর্জনীয়
- শেয়ারবাজারে দরপতনে এগিয়ে যেসব শেয়ার








