এনসিপিতে যুক্ত হচ্ছে দুই নতুন সংগঠন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ২১:৩০:২৯
এনসিপিতে যুক্ত হচ্ছে দুই নতুন সংগঠন
ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নতুন করে সাংগঠনিক বিস্তারের উদ্যোগ নিয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের পরপরই ‘জাতীয় কৃষক শক্তি’ এবং ‘জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তি’ নামে দুটি নতুন সহযোগী সংগঠনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে পারে।

দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মতে, ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ ফোরামে এ দুটি সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। কৃষিখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বৃহৎ জনগোষ্ঠী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে যুক্ত স্বেচ্ছাসেবীদের সংগঠিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে দলটি পেশাভিত্তিক অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে চায়, যা রাজনৈতিক কাঠামোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে।

নেতারা মনে করছেন, দেশের অর্থনীতিতে কৃষি খাতের গুরুত্ব অপরিসীম হলেও এই খাতের মানুষদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা তুলনামূলকভাবে সীমিত। ‘জাতীয় কৃষক শক্তি’ গঠনের মাধ্যমে কৃষকদের দাবি, অধিকার এবং অর্থনৈতিক স্বার্থকে সরাসরি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে ‘জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তি’ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সামাজিক সহায়তা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

এনসিপির বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো ইতোমধ্যেই বিভিন্ন স্তরে বিস্তৃত হয়েছে। এর আগে দলটি জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাতীয় যুবশক্তি, জাতীয় শ্রমিক শক্তি এবং জাতীয় নারীশক্তি নামে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠন গঠন করেছে। নতুন দুটি সংগঠন যুক্ত হলে দলটির সংগঠনভিত্তিক বিস্তার আরও গভীর ও সুসংগঠিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দলীয় সূত্রে আরও জানা যায়, নতুন সংগঠন দুটি নিয়ে প্রাথমিক কাঠামোগত পরিকল্পনা সম্পন্ন হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঈদের পর কেন্দ্রীয়ভাবে উদ্বোধনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, দলীয় আলোচনার ভিত্তিতেই এই দুটি সংগঠনের ধারণা এসেছে। তিনি জানান, একটি অনানুষ্ঠানিক কৃষক উইং আগে থেকেই থাকলেও সেটিকে এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হবে। একইসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রমকে আরও সংগঠিত ও সক্রিয় করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দলের অন্যতম লক্ষ্য হলো কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের অর্থনৈতিক মুক্তির পথ সুগম করা। এই লক্ষ্যে রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতরে কৃষকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এনসিপির সাংগঠনিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জুলাই আন্দোলনের পর উদ্ভূত ছাত্রনেতৃত্বের ধারাবাহিকতা থেকেই দলটির ছাত্রভিত্তিক সংগঠনগুলোর বিকাশ ঘটেছে। পরবর্তীতে যুব, শ্রমিক ও নারী সংগঠন যুক্ত হয়ে একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যা এখন পেশাভিত্তিক সংগঠন ও সেক্টরভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে।

এছাড়াও পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করতে এনসিপি ইতোমধ্যে ন্যাশনাল প্রফেশনাল অ্যালায়েন্স, ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্স, ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরাম, ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিলসহ একাধিক সংগঠন গঠন করেছে। প্রকৌশলী, আইনজীবী, চিকিৎসক এবং প্রবাসীদের নিয়েও পৃথক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, যা দলটির বহুমাত্রিক সাংগঠনিক কৌশলকে নির্দেশ করে।

-রাফসান


তীব্র গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে কারওয়ান বাজারে প্রতিবাদী কর্মসূচি: কঠোর আলটিমেটাম এনসিপির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০১ ২২:০৯:৫৯
তীব্র গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে কারওয়ান বাজারে প্রতিবাদী কর্মসূচি: কঠোর আলটিমেটাম এনসিপির
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীসহ সারা দেশে বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা ও সিএনজি খাতে বিদ্যমান গ্যাসের তীব্র সংকট নিরসন এবং সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগের প্রতিবাদে কারওয়ান বাজারে বিক্ষোভ সমাবেশ ও পেট্রোবাংলা ভবন অভিমুখে প্রতীকী মার্চ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে কারওয়ান বাজার মোড়ে সার্ক ফোয়ারার সামনে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার উদ্যোগে এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে খালি থালা ও পাতিল হাতে নিয়ে পেট্রোবাংলা ভবনের দিকে শোভাযাত্রা নিয়ে এগিয়ে যান।

সম্প্রতি পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জ্বালানি বিভাগে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৬৭ শতাংশ এবং সিএনজিতে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবসংক্রান্ত চিঠির ওপর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এনসিপির নেতারা।

সমাবেশে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল মনসুর বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, বাসাবাড়িতে গ্যাস না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গৃহিণীরা, ব্যাহত হচ্ছে শিল্প উৎপাদন।

জ্বালানি খাতে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে তারা বলেন, বিদ্যমান এই সংকটের সুরাহা না করে উল্টো যদি গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো পাঁয়তারা করা হয়, তবে ঢাকাবাসীকে সাথে নিয়ে পেট্রোবাংলা ভবন ঘেরাও ও অবরুদ্ধ করা হবে। একই সাথে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে দেশের সার্বিক গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সারা দেশে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

/আশিক


অন্যায়ের অবসান ও নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০১ ২০:৩৯:৪৭
অন্যায়ের অবসান ও নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: জামায়াত আমির
বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: কালবেলা

দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সবকিছুকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দেওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করাও ভুল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে সিলেট নগরীর বন্দরবাজারস্থ কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে দৈনিক জালালাবাদ আয়োজিত এক সুধী সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আমরা চাই না দেশ আবারও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত চোরাবালিতে হারিয়ে যাক। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের নজিরবিহীন আত্মত্যাগ এবং ত্যাগ স্বীকার কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। গোটা জাতিকে এই রক্তের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।"

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে যে নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়। দেশজুড়ে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সামাজিক অনিয়ম বন্ধে কার্যকর এবং কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি জোর তাগিদ দেন।

গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, "সংবাদমাধ্যম হলো সমাজের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ। একটি স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই রাষ্ট্র ও সমাজকে সচেতন রাখতে পারে এবং প্রশাসনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনে।" গণমাধ্যমকর্মীদের সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে বস্তুনিষ্ঠ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

উক্ত সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব সম্প্রদায়ের অবদান ছিল: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০১ ২০:১৩:১২
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব সম্প্রদায়ের অবদান ছিল: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছিল, তা এখনো দলীয় আদর্শ হিসেবে ধারণ করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।

শনিবার (১ আগস্ট) গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর ডিআরইউ মিলনায়তনে 'সম্প্রীতির জুলাই: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অবদান' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানে দল-মত ও ধর্ম নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষ রাজপথে নেমেছিল। আন্দোলনের সূচনা থেকেই এর একটি অসাম্প্রদায়িক চরিত্র ছিল, যেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তত ৯ জন সদস্য শহীদ হন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারগুলো নিজেদের অসাম্প্রদায়িক দাবি করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক কার্ড হিসেবে ব্যবহার করেছে। ভোটে ফায়দা লুটতে তাদের একটি নির্দিষ্ট দলের পকেটে রাখার অপচেষ্টা চালানো হতো। এর ফলে সেই রাজনৈতিক দলের নানা অপকর্মের দায়ভারও অন্যায়ভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর গিয়ে পড়ত। তাই সংখ্যালঘুদের কোনো নির্দিষ্ট দলের পকেটে না গিয়ে সব দলের সাথে রাজনৈতিক সম্পর্ক রাখা উচিত, যাতে কোনো দলই তাদের ব্যবহার করতে না পারে।

জুলাই-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতি জোর দিয়ে তিনি বলেন, সংকটের সময় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, সেটিই জুলাইয়ের আসল শিক্ষা। শুধু গুম-খুন নয়, বিগত সময়গুলোতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখল ও হামলার সাথে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

জাতীয় অগ্রগতি ও সম্প্রীতি রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য উল্লেখ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হলে তার সুফল রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক পাবে। তাই দেশকে বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে এবং নতুন করে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি না করে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব প্রীতম দাশের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় প্রধান ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

/আশিক


সিলেটে গাড়িবহরে হামলা: খালেদা জিয়ার ওপর অতীত হামলার সাথে তুলনা নাহিদ ইসলামের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ৩০ ১৯:৫০:২৫
সিলেটে গাড়িবহরে হামলা: খালেদা জিয়ার ওপর অতীত হামলার সাথে তুলনা নাহিদ ইসলামের
ছবি : সংগৃহীত

সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যেভাবে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আক্রমণ চালিয়েছিল, ঠিক একই কায়দায় এখন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এনসিপির ওপর হামলা পরিচালনা করছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ‘জুলাই স্মরণে: অগ্নিঝরা জুলাই, রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, দেশে নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ব্যাহত করতেই বারবার এই ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে।

এর আগে সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দলটি। গোলাপগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়া কেন্দ্রীয় নেতাদের বহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় হামলাকারীরা বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দেয়।

সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, এনসিপি কোনো ধরনের সংঘাত বা সহিংসতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তাই ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি থেকে বিরত থেকে তিনি আর কোনো দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলবেন না বলে মন্তব্য করেন।

হামলার ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

/আশিক


দেশ আবার পুরোনো অন্ধকার পথে ফিরে যাচ্ছে: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ৩০ ১৯:৪৭:০৭
দেশ আবার পুরোনো অন্ধকার পথে ফিরে যাচ্ছে: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

দেশ আবার পুরোনো অন্ধকার পথে ফিরে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীতে ঢাকা মহানগর জামায়াত আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদমুক্ত, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক একটি বাংলাদেশ গঠন করা। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্ত বায়নের বদলে বর্তমানে সর্বক্ষেত্রে নির্লজ্জ দলীয়করণ দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে যোগ্য ও দেশপ্রেমিক মানুষদের সরিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ ও ব্যাংক-বীমাসহ সর্বত্র এখন একই চিত্র, যা নতুন এক ধরণের বৈষম্য ও কোটা ব্যবস্থার জন্ম দিচ্ছে।

গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছিল কোনো একটি নির্দিষ্ট দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সিস্টেমের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য। আন্দোলন সফল হওয়ার পর জামায়াত কখনোই এর একক কৃতিত্ব দাবি করেনি, এমনকি ক্ষমতা বা নির্বাচনের জন্য তাড়াহুড়ো না করে আহত ও শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে প্রাণ দেওয়া অধিকাংশ মানুষই ছিলেন সাধারণ খেটে খাওয়া প্রান্তিক নাগরিক। তাঁরা কেবল বৈষম্যহীন বাংলাদেশের প্রত্যাশায় রাজপথে নেমেছিলেন।

সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান আহ্বান জানান, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে সঠিক পথে ফিরে আসার। একই সাথে জুলাইয়ের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে না দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং যেকোনো মূল্যে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

/আশিক


আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ৩০ ১৮:৩৯:০৬
আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন যে, তাঁদের কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলমের গাড়িবহরে পুনরায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘অগ্নিঝরা জুলাই: রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সারজিসের গাড়িতে হামলা হয়েছে এবং গাড়িগুলো ভাঙচুর করা হয়েছে। এর আগে আমাকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। তারা একটা অজুহাত দিচ্ছে যে আমি নানা বিষয় নিয়ে কথা বলি। বেশ, আমি আজ থেকে আর কোনো কথা বলব না, একদম চুপ থাকব। পুরো বাংলাদেশে দেখি তারা কতটুকু বাড়ে এবং কত দূর যেতে পারে—আমরা সেই মাত্রাটা দেখব।"

পূর্ববর্তী দিনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, "হবিগঞ্জের হামলার ঘটনায় আমরা আইনি পদক্ষেপ হিসেবে লিখিত মামলা করেছি। ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কারা এই বর্বরতা চালিয়েছে, কাদের হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে আর কাদের চোখ নষ্ট করা হয়েছে। আমরা এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি দেখতে চাই না।"

আহত এনসিপি কর্মীদের শারীরিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি অত্যন্ত আবেগঘন ভাষায় রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, "মারাত্মক আহত এক শিক্ষার্থীর বাবা অসুস্থ, মা প্রতিবন্ধী—সে এখন অপারেশন থিয়েটারে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। আপনারা কি পারবেন তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফেরত দিতে? আমরা বাংলাদেশে আর কোনো সহিংসতার রাজনীতি চাই না। আমরা শান্তি চাই, আমাদের কর্মীদের চোখ ফেরত দিন। রাজনীতি কীভাবে করতে হয় করুন, আমরা আর কিছু বলব না।"

/আশিক


বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করে বাহুবল পুলিশ ফাঁড়িতে এনসিপির লিখিত অভিযোগ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৯ ২১:৪৭:৫৯
বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করে বাহুবল পুলিশ ফাঁড়িতে এনসিপির লিখিত অভিযোগ
ছবি : সংগৃহীত

হবিগঞ্জে পদযাত্রা কর্মসূচিতে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অবশেষে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে এই লিখিত অভিযোগ হস্তান্ত করে। বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অভিযোগটি গ্রহণের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগ দায়েরের সময় প্রতিনিধি দলে নাহিদ ইসলাম ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ডা. মাহমুদা মিতু ও সারোয়ার আলম।

এর আগে বুধবার দুপুর ৩টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে পুলিশি বিধিনিষেধের মধ্যেই হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে সংঘাতপ্রবণ এলাকার দিকে রওনা হন এনসিপির নেতাকর্মীরা। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গলের ‘চা-কন্যা’ ভাস্কর্য সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে প্রথম দফায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের গতিপথ রুদ্ধ করে। এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দীর্ঘ সময় বাকবিতণ্ডা ঘটে। একপর্যায়ে ব্যারিকেড ঠেলে সামনে এগিয়ে যায় তাঁদের গাড়িবহর।

তবে বহরটি বাহুবল উপজেলার রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড সংলগ্ন সীমানায় পৌঁছালে পুলিশি বাধার মুখে দ্বিতীয় দফায় স্থায়ীভাবে আটকে পড়ে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নাহিদ ইসলামসহ শীর্ষ নেতারা গাড়ি থেকে নেমে সড়কের ওপরই বসে পড়েন। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময়ের দেনদরবার শেষে পুলিশ তাঁদের অনড় অবস্থানের মুখে নিকটস্থ কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার অনুমতি দেয়। অভিযোগ জমা দিয়ে প্রতিনিধি দলটি ওই এলাকা ত্যাগ করে।

/আশিক


শ্রীমঙ্গলের পর বাহুবলে আবার বাধা: সড়কের ওপরই বসে পড়লেন এনসিপি নেতারা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৯ ১৮:২৮:৪৩
শ্রীমঙ্গলের পর বাহুবলে আবার বাধা: সড়কের ওপরই বসে পড়লেন এনসিপি নেতারা
ছবি : সংগৃহীত

শ্রীমঙ্গলে বাধা পেরিয়ে সামনে এগোলেও এবার হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার প্রবেশমুখে পুনরায় পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বাহুবলের প্রবেশপথে তাঁদের গাড়িবহর আটকে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাধা পেয়ে এনসিপি নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে সড়কের ওপরই বসে পড়েন। পরে পুলিশ তাঁদের ঘিরে রাখে।

এর আগে বিকেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা ভাস্কর্য এলাকায় প্রথম দফায় তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু সেই ব্যারিকেড উপেক্ষা করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল হবিগঞ্জের দিকে রওনা দেন। কিন্তু বাহুবলে এসে তাঁরা আবার অবরুদ্ধ হন।

গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে কর্মসূচি শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বহরে হামলা চালায় স্থানীয় একদল যুব রাজনৈতিক কর্মী। এতে সারজিস আলমসহ প্রায় ২০ জন আহত হন এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই হামলার জের ধরে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হলে বুধবারে জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করে।

প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও পুলিশি বাধার মুখে এনসিপির প্রতিনিধি নাহিদ উদ্দিন তারেক জানান, তাঁরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি বাতিল করেছেন। তবে ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি দেশবাসীকে জানাতে তাঁরা বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরবেন।

অন্যদিকে ঘটনা প্রসঙ্গে হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু বলেন, রাজনীতিতে শিষ্টাচার বজায় রাখা জরুরি। এনসিপি নেতাদের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে দেওয়া কড়া মন্তব্যের কারণেই স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তবে তিনি সহিংসতা পরিহার করে গঠনমূলক রাজনীতির আহ্বান জানান। বর্তমানে বাহুবল সীমান্ত ও হবিগঞ্জ জুড়ে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি টহল অব্যাহত রয়েছে।

/আশিক


পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের পথে এনসিপি নেতারা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৯ ১৭:৫৯:১৬
পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের পথে এনসিপি নেতারা
ছবি : সংগৃহীত

পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভেঙে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা ভাস্কর্য এলাকায় তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ।

এর আগে বুধবার বিকেল চারটার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন নেতা হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সাড়ে চারটার দিকে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের গাড়িবহরে বাধা দেয়।

মঙ্গলবার হবিগঞ্জ সফরকালে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই দিন সভা শেষে সার্কিট হাউসে যাওয়ার পথে সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বহরে হামলা চালায় একদল রাজনৈতিক কর্মী। সোনালী ব্যাংক শাখার সামনে ইটপাটকেল নিক্ষেপের এ ঘটনায় সারজিস আলমসহ প্রায় ২০ জন আহত হন। পরে রাত ৮টার দিকে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে। এই ঘটনার জের ধরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সহিংসতা এড়াতে প্রশাসন বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে এবং ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করে।

আইনশৃঙ্খলার কড়াকড়ি ও ১৪৪ ধারা সত্ত্বেও নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, ড. আতিক মুজাহিদ ও সারোয়ার তুষারসহ শীর্ষ নেতৃত্ব হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক জানান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তাঁরা জনসভা বা বিক্ষোভের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেও, মূল ঘটনাটি জাতির সামনে তুলে ধরতে শ্রীমঙ্গল থেকে প্রেস ব্রিফিং করবেন।

অন্যদিকে, ঘটনার সার্বিক প্রেক্ষাপটে হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু বলেন, রাজনীতি ও সমালোচনার একটি ন্যূনতম শিষ্টাচার থাকা দরকার। তিনি অভিযোগ করেন, নবগঠিত রাজনৈতিক দলের নেতারা জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ ও নেতাদের নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন, যা স্থানীয়দের ক্ষুব্ধ করেছে। তিনি সহিংসতা পরিহার করে শালীনতার সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক জানান, মঙ্গলবারের সহিংসতায় এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের হয়নি। তবে ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকায় বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও শান্ত রয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: