ইরান যুদ্ধে কোণঠাসা যুক্তরাষ্ট্র; সাহায্যের আবেদন ফিরিয়ে দিল ন্যাটো মিত্ররা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১৭:৩৩:০৩
ইরান যুদ্ধে কোণঠাসা যুক্তরাষ্ট্র; সাহায্যের আবেদন ফিরিয়ে দিল ন্যাটো মিত্ররা
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ এখন এক জটিল ও ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আগ্রাসন শুরু করে এক প্রকার ‘ডুবোচরে’ আটকা পড়েছেন। তিনি এখন যুদ্ধ শেষ করার পথ খুঁজলেও তেহরান কোনোভাবেই নমনীয় হচ্ছে না; বরং নতুন নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মিত্রদের কাছে সাহায্য চেয়েও প্রত্যাখ্যাত হচ্ছেন ট্রাম্প। এমনকি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোও (NATO) সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে বা হরমুজ প্রণালির দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের মূল করিডোরখ্যাত ‘হরমুজ প্রণালি’ বর্তমানে ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি পুনরায় উন্মুক্ত করতে ট্রাম্প ন্যাটোর সাতটি মিত্র দেশের কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন এবং হুশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, সাহায্য না করলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ‘খুবই খারাপ’ হবে। কিন্তু সোমবার (১৬ মার্চ) ব্রাসেলসে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুল স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালির দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে ন্যাটোর কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা নেই। এটি ট্রাম্পের জন্য এক বড় কূটনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে পুরো বিশ্বের ওপর। আকাশপথ বন্ধ থাকায় বিমান চলাচলে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে এবং জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) তাদের জরুরি মজুদ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একদিকে কূটনৈতিক একাকীত্ব, অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা—সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এখন তীব্র চাপের মুখে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।


ইরান হামলার পেছনে সৌদির চাপ, নতুন তথ্য প্রকাশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১৪:০০:০৬
ইরান হামলার পেছনে সৌদির চাপ, নতুন তথ্য প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় আকস্মিক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১৬ মার্চ) পর্যন্ত টানা ১৭ দিনে পৌঁছেছে এই যৌথ সামরিক কার্যক্রম, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তেজনার মুখে ঠেলে দিয়েছে। আঞ্চলিক এই সংঘাতকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষণও বাড়ছে।

চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণে ইসরায়েলের পাশাপাশি সৌদি আরবের চাপও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিলেও পর্দার আড়ালে পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন ধরনের বার্তা দিয়েছেন। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন যে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য সৌদি ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না এবং উত্তেজনা কমাতে রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় যুবরাজ ভিন্ন ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সেই আলোচনায় তিনি নাকি ট্রাম্পকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে রোববার (১৫ মার্চ) প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। সেখানে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখতে মার্কিন প্রশাসনকে পরামর্শ দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিয়মিতভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে তার একাধিক ফোনালাপ হয়েছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এসব আলোচনায় যুবরাজ ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার এবং সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নে ইরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি বলে সৌদি নেতৃত্ব মনে করে।

এছাড়া ওয়াশিংটনে আলোচনার সময় সৌদি আরবের প্রয়াত রাজা আব্দুল্লাহর একটি পুরোনো পরামর্শও আলোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সেই পরামর্শে বলা হয়েছিল, আঞ্চলিক সংঘাতে শত্রুর মূল নেতৃত্ব বা শক্তির উৎসকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত সুবিধা পাওয়া যায়।

-রফিক


শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ গতি! ইসরায়েলে ‘সেজিল’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে বিশ্ব কাঁপাল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১২:৩৫:১৭
শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ গতি! ইসরায়েলে ‘সেজিল’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে বিশ্ব কাঁপাল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে এক নতুন ও বিধ্বংসী মাত্রা যোগ করেছে শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ দ্রুতগতির ‘সেজিল’ ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে প্রথমবারের মতো এই কৌশলগত সলিড-ফুয়েল ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেজিল ক্ষেপণাস্ত্রটি তার পাল্লা এবং গতির কারণে সামরিক বিশেষজ্ঞদের নজরে এসেছে। এটি প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো এর গতি; এটি শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ বেশি দ্রুত (হাইপারসনিক গতির কাছাকাছি) লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম, যা বর্তমান বিশ্বের অনেক আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে শনাক্ত বা প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন।

এদিকে, বিখ্যাত সামরিক ম্যাগাজিন ‘দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট’ দাবি করেছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান তাদের শক্তির জানান দিয়েছে। এটি এখন কেবল ইসরায়েল নয়, বরং ভারত মহাসাগর থেকে শুরু করে ভূমধ্যসাগরের বিস্তৃত অঞ্চলে যেকোনো শত্রু ঘাঁটিতে নির্ভুলভাবে হামলা চালানোর ক্ষমতা রাখে। প্রথমবারের মতো অপারেশনাল এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহারের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন এক অনিশ্চিত ও ভয়াবহ মোড় নিল।

/আশিক


ট্রাম্পকে খোলা চ্যালেঞ্জ ইরানের! ‘সাহস থাকলে’ পারস্য উপসাগরে জাহাজ পাঠান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১২:১৫:৪০
ট্রাম্পকে খোলা চ্যালেঞ্জ ইরানের! ‘সাহস থাকলে’ পারস্য উপসাগরে জাহাজ পাঠান
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা ‘ইরানি নৌবাহিনী ধ্বংস’ করার দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। সোমবার (১৬ মার্চ) ইরানি সংবাদমাধ্যম 'ইরান ইন্টারন্যাশনাল'-এর এক প্রতিবেদনে এই পাল্টা চ্যালেঞ্জের কথা জানানো হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাইনি ট্রাম্পের এই দাবিকে নাকচ করে দিয়ে তাঁকে এক প্রকার খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

জেনারেল নাইনি এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প যদি মনে করেন তিনি ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস করেছেন, তবে তাঁর ‘সাহস থাকলে’ পারস্য উপসাগরে মার্কিন জাহাজ পাঠিয়ে দেখা উচিত। তিনি দাবি করেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখনো পুরোপুরি আইআরজিসি নৌবাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ট্রাম্পের দাবিকে মিথ্যা প্রমাণের জন্য নাইনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ পাঠালেই বোঝা যাবে কার শক্তি কতটা অবশিষ্ট আছে এবং সেখানে মার্কিন জাহাজের জন্য কী ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে।

মূলত গত কয়েকদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার প্রেক্ষিতে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও নৌবহর প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই দাবিকে কেবল ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। আইআরজিসি স্পষ্ট করেছে যে, তারা তাদের সমুদ্রসীমা রক্ষায় আগের চেয়েও বেশি প্রস্তুত এবং যেকোনো উস্কানির সমুচিত জবাব দিতে সক্ষম।

/আশিক


কয়েকদিনের জল্পনা শেষে সামনে এলেন নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১১:০৪:৪৬
কয়েকদিনের জল্পনা শেষে সামনে এলেন নেতানিয়াহু
ছবি: সংগৃহীত

গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ঘিরে একটি গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন পোস্ট ও অনলাইন আলোচনায় দাবি করা হচ্ছিল যে তিনি মারা গেছেন। এই দাবিকে ঘিরে অনলাইনে ব্যাপক জল্পনা, বিতর্ক এবং বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

প্রথমদিকে কিছু স্বল্প পরিচিত এবং যাচাইবিহীন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ইরানের কয়েকটি স্থানীয় গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে নেতানিয়াহুর মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে। পরবর্তীতে সেই তথ্য ফেসবুক, এক্সসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপকভাবে আলোচিত হতে থাকে।

এই গুজবকে আরও উসকে দেয় একটি ভিডিও, যা ১৩ মার্চ একটি সংবাদ সম্মেলনের সময় ধারণ করা হয়েছিল। অনেকেই এটিকে নেতানিয়াহুর সর্বশেষ টেলিভিশন উপস্থিতি বলে উল্লেখ করে নানা ধরনের সন্দেহ প্রকাশ করেন।

ভিডিওটির একটি ফ্রেমকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়, যেখানে কিছু ব্যবহারকারী দাবি করেন নেতানিয়াহুর ডান হাতে স্বাভাবিক পাঁচটির পরিবর্তে ছয়টি আঙুল দেখা যাচ্ছে। এ কারণে কেউ কেউ ধারণা করেন যে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হতে পারে। প্রযুক্তিগতভাবে এআই-নির্ভর ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রে কখনো কখনো এ ধরনের ভিজ্যুয়াল ত্রুটি দেখা যায় বলেও অনেকে মন্তব্য করেন।

এর পাশাপাশি নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট কয়েকদিন নীরব থাকায় অনেক ব্যবহারকারী এটিকেও সন্দেহজনক বলে মনে করেন। ফলে গুজব আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নানা ধরনের অনুমান তৈরি হতে থাকে।

তবে রবিবার নিজের এক্স (পূর্বের টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করে এই জল্পনার অবসান ঘটান নেতানিয়াহু। ভিডিওতে তাকে জেরুসালেমের একটি কফিশপে দেখা যায়, যেখানে তিনি এক কাপ গরম কফি হাতে নিয়ে উপস্থিত হন।

ভিডিওতে তিনি হিব্রু ভাষার একটি প্রচলিত প্রবচনের উল্লেখ করেন এবং রসিকতার সুরে বলেন যে কফির জন্য তার মৃত্যু হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান যে তিনি কফি খুবই পছন্দ করেন। ইসরায়েলি সংস্কৃতিতে কোনো কিছুকে খুব ভালোবাসলে এমন ধরনের বাক্য ব্যবহার করা হয় বলে জানা যায়।

ভিডিওতে ছয় আঙুল নিয়ে বিতর্কের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। ক্যামেরার সামনে নিজের হাত তুলে ধরে তিনি দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, চাইলে এখন তার আঙুল গুনে দেখতে পারেন।

এরপর তিনি ইসরায়েলের নাগরিকদের উদ্দেশে একটি বার্তাও দেন। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকির মধ্যে সবাইকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

নেতানিয়াহু বলেন, দেশের জনগণের সহনশীলতা ও ধৈর্যই তার সরকার, সেনাবাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের জন্য শক্তির উৎস। তিনি আরও জানান, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যার সবকিছু এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি লেবাননের বিরুদ্ধেও সামরিক অভিযান চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে একই দিনে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী আইআরজিসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে নেতানিয়াহুকে হত্যার হুমকি দেয়। সেখানে বলা হয়, তিনি যদি জীবিত থাকেন, তবে তাকে খুঁজে বের করে হত্যা করা হবে। এই মন্তব্য নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া


ছয় আঙুল না কি এআই ভিডিও? সব জল্পনার অবসান ঘটালেন স্বয়ং নেতানিয়াহু

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১০:৫০:২৯
ছয় আঙুল না কি এআই ভিডিও? সব জল্পনার অবসান ঘটালেন স্বয়ং নেতানিয়াহু
ছবি : সংগৃহীত

গত কয়েকদিন ধরে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সব জল্পনা ও গুজবের অবসান ঘটিয়েছেন তিনি নিজেই। মূলত ইরানের কিছু অনির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই খবর ছড়ালে তা দ্রুত অনলাইন দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। বিশেষ করে ১৩ মার্চের একটি সংবাদ সম্মেলনের ভিডিওতে নেতানিয়াহুর হাতে 'ছয়টি আঙুল' দেখা গেছে—এমন দাবি তুলে অনেকে এটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও বলে প্রচার করতে থাকেন। এমনকি তাঁর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহুর নীরবতাও এই গুজবকে আরও উসকে দিয়েছিল।

তবে রোববার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করে এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন নেতানিয়াহু। ভিডিওতে দেখা যায়, জেরুসালেমের একটি কফির দোকানে এক কাপ গরম কফি হাতে নিয়ে হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে বসে আছেন তিনি। ইসরায়েলি প্রবচন ব্যবহার করে কৌতুক করে তিনি বলেন, 'কফির জন্য আমার মৃত্যু হয়েছে', যা মূলত কফির প্রতি তাঁর ভালোবাসাকেই প্রকাশ করে। এছাড়া আঙুল নিয়ে চলা বিতর্ক থামিয়ে দিতে ক্যামেরার দিকে নিজের হাত দেখিয়ে তিনি বলেন, 'আপনারা কি এখন আমার হাতের আঙুল গুনে দেখতে চান?'

ভিডিও বার্তায় ব্যক্তিগত গুজবের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন নেতানিয়াহু। ইরানের চলমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে তিনি নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার নির্দেশ দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, ইসরায়েল বর্তমানে ইরান ও লেবাননের বিরুদ্ধে অত্যন্ত তীব্র হামলা চালাচ্ছে এবং এমন কিছু সামরিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যা কৌশলগত কারণে এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। নেতানিয়াহুর এই ভিডিও বার্তার পরপরই ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) এক্সে পোস্ট করে তাঁকে সরাসরি হত্যার হুমকি দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া


ইরানের হাতে এখন সামরিক শক্তি খুব কমই অবশিষ্ট আছে: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১০:৪৩:১৩
ইরানের হাতে এখন সামরিক শক্তি খুব কমই অবশিষ্ট আছে: ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে সরাসরি হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র—এমনটাই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ইরানের যেসব স্থাপনায় ড্রোন তৈরি করা হয়, সেগুলোকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হচ্ছে। ট্রাম্পের মতে, এই ড্রোনগুলো ব্যবহার করেই ইরান মার্কিন স্থাপনা এবং ইসরায়েলের ওপর হামলা চালিয়ে আসছিল। খবর আল জাজিরার।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সামরিক অভিযানের ফলে ইরানের সামরিক শক্তি এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে। তিনি বলেন, 'আমরা তাদের ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা অনেকটাই ধ্বংস করে দিয়েছি এবং বর্তমানে তাদের সক্ষমতা আগের তুলনায় মাত্র ২০ শতাংশে নেমে এসেছে।' গতকাল থেকেই ড্রোন তৈরির কারখানাগুলো লক্ষ্য করে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আগ্রাসনের পর থেকেই পুরো মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইরান এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েলসহ এই অঞ্চলে থাকা প্রায় প্রতিটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহতের পাশাপাশি এক হাজারেরও বেশি ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।

/আশিক


শত্রুদের তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ইরানে ৫০০ গ্রেফতার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১০:১৭:৪৭
শত্রুদের তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ইরানে ৫০০ গ্রেফতার
ছবি: সংগৃহীত

শত্রুদের কাছে সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ এবং হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তার অভিযোগে ইরানে প্রায় ৫০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পুলিশপ্রধান আহমেদরেজা রাদান। রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।

রাদানের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ গুরুতর অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত। তার দাবি, গ্রেফতার হওয়া অনেকেই এমন তথ্য সরবরাহ করেছেন যা শত্রুপক্ষকে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করেছে।

তিনি আরও বলেন, কিছু ব্যক্তি হামলার ঘটনাস্থল বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা শত্রুদের কাছে পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে তেহরান।

তবে অভিযুক্তদের কখন গ্রেফতার করা হয়েছে বা কোন কোন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি ইরানের পুলিশপ্রধান।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে।

তাদের ধারণা, সম্ভাব্য গুপ্তচরবৃত্তি বা তথ্য পাচারের ঘটনা প্রতিরোধে ইরানি কর্তৃপক্ষ কঠোর নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

-রাফসান


মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন মোকাবিলায় সহায়তা, বিনিময়ে অর্থ ও প্রযুক্তি চাই ইউক্রেন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১০:০৪:২৮
মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন মোকাবিলায় সহায়তা, বিনিময়ে অর্থ ও প্রযুক্তি চাই ইউক্রেন
ছবি: আল জাজিরা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে ইউক্রেন তার বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে এই সহায়তার বিনিময়ে কিয়েভ প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা করছে।

রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূল্যায়ন এবং প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়ার জন্য ইউক্রেন তিনটি বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে। এসব দল স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে দেখাচ্ছে কীভাবে ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই উদ্যোগের অর্থ এই নয় যে ইউক্রেন সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, “আমরা কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছি না। আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে নেই।”

এর আগে জেলেনস্কি ঘোষণা করেছিলেন যে ইউক্রেনের সামরিক বিশেষজ্ঞরা কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তারা ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও জানান, ভবিষ্যতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ড্রোন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি হতে পারে। তবে ইউক্রেন এই সহায়তার বিনিময়ে কী পাবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের জন্য এই মুহূর্তে প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং আর্থিক সমর্থন উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, ড্রোন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ইউক্রেনের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছরে রাশিয়া ব্যাপকভাবে ইরানি নির্মিত শাহেদ-১৩৬ আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করেছে। ফলে এসব ড্রোন ধ্বংস করার ক্ষেত্রে ইউক্রেন গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। কম খরচের ড্রোন ইন্টারসেপ্টর, ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রযুক্তি এবং বিমান প্রতিরক্ষা অস্ত্র ব্যবহার করে এসব ড্রোন প্রতিহত করার কৌশল তৈরি করেছে কিয়েভ।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করতে তাদের ইউক্রেনের সহায়তা প্রয়োজন নেই।

জেলেনস্কি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইউক্রেনের সঙ্গে বড় ধরনের ড্রোন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেনি। তার ভাষায়, তিনি প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্ভাব্য চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ইউক্রেনের জন্য নতুন উদ্বেগও তৈরি করেছে। জেলেনস্কি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার মনোযোগ ইউক্রেন থেকে সরে যেতে পারে, যা কিয়েভের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তিনি বলেন, ইউক্রেন চায় না যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়টি উপেক্ষা করুক।

এদিকে ড্রোন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক চাহিদা বাড়তে থাকায় ইউক্রেন সরকার নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর কথাও ভাবছে। জেলেনস্কি বলেন, বিদেশি সরকার বা কোম্পানিগুলো যাতে সরাসরি ইউক্রেনীয় অস্ত্র প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরঞ্জাম কিনতে না পারে, সে জন্য নিয়ম আরও কঠোর করা প্রয়োজন।

তার মতে, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে সব ধরনের চুক্তি প্রথমে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অনুমোদিত হওয়া উচিত, এরপরই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনার সুযোগ দেওয়া উচিত।

সূত্র: আল জাজিরা


মাত্র ২ ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয় দফা আঘাত: ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টির মুখে ইসরায়েল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ০৯:৫৬:৪৪
মাত্র ২ ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয় দফা আঘাত: ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টির মুখে ইসরায়েল
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাত এখন চরম আকার ধারণ করেছে। যুদ্ধের ১৭তম দিনে এসে ইসরায়েলের বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে ৫৪টি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বিবিসির এক প্রতিবেদনে আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হামলায় তারা অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির খোররামশাহর সুপার-হেভি মিসাইল (দ্বৈত ওয়ারহেড বিশিষ্ট), খায়বার-শাখান, কদর এবং এমাদ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই অভিযানে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয়েছে জ্বালানি চালিত ‘সেজিল’ ক্ষেপণাস্ত্র। আইআরজিসির প্রচার বিভাগ জানিয়েছে, এই সেজিল ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল, যা ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে মাত্র সাত মিনিটে তেল আবিবে আঘাত হানতে সক্ষম।

এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আসা দ্বিতীয় দফার এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি শনাক্ত করেছে। প্রথম দফার হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই দুই ঘণ্টার ব্যবধানে এই নতুন হামলাটি চালানো হয়। উল্লেখ্য, গত ১৭ দিন ধরে ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং আহত হয়েছেন এক হাজারের বেশি মানুষ। পাল্টা জবাবে ইরানের এই বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: