ইরানে হামলার তীব্র নিন্দা জানাল উত্তর কোরিয়া: ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি

ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা ও কঠোর সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। বুধবার (১১ মার্চ) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে তেহরানের ওপর এই হামলাকে সম্পূর্ণ ‘অবৈধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। উত্তর কোরিয়ার মতে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে এবং এই ধরনের অবৈধ হামলা বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। পিয়ংইয়ং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, অন্য কোনো দেশের সরকারকে হেনস্তা করার জন্য হুমকি প্রদান কিংবা সরাসরি হামলা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
একই বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়া ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়েও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ কর্তৃক মোজতবা খামেনিকে নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে নির্বাচিত করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে দেশটি। উত্তর কোরিয়া এই নির্বাচনকে ‘ইরানিদের নিজস্ব পছন্দ’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং বলেছে যে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইরানি জনগণের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন ঘটেছে। তেহরানের নতুন নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পিয়ংইয়ং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সংহতি বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
ইরানের জব্দ অর্থ এবার জাহাজের ক্ষতিপূরণে!
লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুতিদের নতুন হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো ঘিরে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ইরানের জব্দ অর্থ নিয়ে নতুন ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সংঘাতের কারণে জাহাজ, কার্গো কিংবা সংশ্লিষ্ট সম্পদের যেকোনো ক্ষতি হলে তার ক্ষতিপূরণ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানি অর্থ থেকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জাহাজ ও কার্গোর ক্ষয়ক্ষতি মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রের দখল ও নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানি অর্থ ব্যবহারের নীতি অনুসরণ করা হবে। ক্ষতির অঙ্ক অনেক বড় হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজমালিক বা শিপিং কোম্পানিকে মার্কিন সরকার সরাসরি অর্থ দেবে, নাকি কোনো বিশেষ ক্ষতিপূরণ কাঠামো তৈরি করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ট্রাম্পের ঘোষণাটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের পাশাপাশি ইয়েমেনের হুতিদের তৎপরতায় লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও গুরুতর হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার আক্রান্ত হওয়ার পর ইরান ও হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। এই হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়েছে এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।
লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পথ দিয়ে জ্বালানি তেলসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে পরিবহন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিটাইম প্রশাসনও চলতি বছর বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য হুতিদের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রাখা হয়েছে।
একই সময়ে পারস্য উপসাগরের আরেক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে এসেছে। শুক্রবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মাত্র একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা ৭ মে-র পর সর্বনিম্ন দৈনিক চলাচল। ফলে লোহিত সাগর ও হরমুজ, দুটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথেই অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইরানের জব্দ সম্পদ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। বিভিন্ন দেশে ইরানের মোট কত অর্থ আটকে আছে, তার সুনির্দিষ্ট অঙ্ক নিয়ে ভিন্ন হিসাব রয়েছে। আল জাজিরার এপ্রিলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রায় ২০০ কোটি ডলারের ইরানি সম্পদ সরাসরি জব্দ রয়েছে। পাশাপাশি চীন, ইরাক, কাতার, ভারত, জাপান ও ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় ইরানের আরও কয়েক হাজার কোটি ডলার আটকে থাকার তথ্য রয়েছে। সামগ্রিকভাবে বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি বা তারও বেশি বলে বিভিন্ন হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় এই জব্দ অর্থের একটি অংশ তেহরানের নাগালে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। জুনে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতায় ইরানের জব্দ বা সীমাবদ্ধ অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার একটি বিধান ছিল। সে সময় তেহরান প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের আটকে থাকা অর্থ ছাড়ের বিষয়টি আলোচনায় তুলেছিল। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তখন স্পষ্ট করেছিলেন, চুক্তির ফলে ইরান সরাসরি বিপুল অঙ্কের অর্থ পেয়ে যাবে, এমন ব্যাখ্যা সঠিক নয়।
একই সমঝোতায় ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্ভাব্য বিনিয়োগ তহবিল নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। তবে ওই বিনিয়োগ তহবিল এবং ইরানের নিজস্ব জব্দ সম্পদ ছাড় করার বিষয় দুটি আলাদা আর্থিক ব্যবস্থা ছিল। অর্থের উৎস, বাস্তবায়ন কাঠামো এবং কারা অর্থায়ন করবে, তা নিয়েও তখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন অমীমাংসিত ছিল।
এখন নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় সেই আর্থিক সমঝোতার ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্প যদি সত্যিই ইরানের জব্দ অর্থ তৃতীয় পক্ষের জাহাজ ও কার্গোর ক্ষতিপূরণে ব্যবহারের উদ্যোগ নেন, তাহলে সম্পদের মালিকানা, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আইন এবং ক্ষতিপূরণ দাবির বৈধতা নিয়ে নতুন আইনি বিতর্ক দেখা দিতে পারে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন বর্তমানে হুতিদের কর্মকাণ্ডের জন্যও তেহরানকে দায়ী করছে এবং গোষ্ঠীটিকে ইরানের প্রক্সি হিসেবে বিবেচনা করছে। অন্যদিকে হুতিদের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সামরিক সহায়তা পাওয়ার কিছু অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ফলে হামলার দায় এবং সেই ক্ষতির জন্য ইরানের জব্দ অর্থ ব্যবহারের যৌক্তিকতা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
-রফিক
তেল রপ্তানি বন্ধ হলে কাউকেই ছাড় দেবে না ইরান
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আবারও তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থানের জবাবে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, ইরান যদি আন্তর্জাতিক বাজারে নিজের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির সুযোগ না পায়, তাহলে পারস্য উপসাগরীয় অন্য কোনো দেশকেও নির্বিঘ্নে তেল রপ্তানি করতে দেবে না। এই বক্তব্যের পর অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও দেশটির প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে চলমান সংকটকে "সব নয়তো কিছুই না" ধরনের পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি ও চাপ অব্যাহত রাখে, তাহলে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা আর আগের অবস্থায় থাকবে না এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
গালিবাফের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দেন। তাঁর ভাষ্য ছিল, হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজের ওপর ইরান ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে তেহরানসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে। অঞ্চলজুড়ে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি, সমুদ্রপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে। অন্যদিকে ইরানও প্রতিবেশী অঞ্চলের জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে প্রতিক্রিয়ামূলক হামলা জোরদার করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব সামরিক ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবি ও পাল্টা দাবির কারণে স্বাধীনভাবে সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই নৌপথে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন বা সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ, মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে। অন্যথায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
-রফিক
গ্রেফতারের পর মোদিকে কড়া বার্তা রাহুল গান্ধীর
ভারতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে আটক হওয়ার একদিন পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রকাশ্যে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার-এর তথ্য অনুযায়ী, এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও দমন-পীড়নের একটি ভিডিও প্রদর্শন করেন। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত তিনটি দাবিই যৌক্তিক এবং বিরোধী জোটের রাজনৈতিক দলগুলো এসব দাবির প্রতি সম্পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে।
রাহুল গান্ধীর মতে, প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় মন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সক্ষমতার প্রমাণ দিতে পারেননি। তিনি বলেন, এ কারণেই শিক্ষার্থীদের পদত্যাগের দাবি অযৌক্তিক নয়।
দ্বিতীয় দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর যেসব পুলিশ সদস্য বলপ্রয়োগ করেছেন, সেই নির্দেশদাতা এবং বাস্তবায়নকারীদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার রাজনৈতিক দায় স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী ভারতের নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, গত এক দশকে ভারতে ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, যার প্রভাব পড়েছে প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ শিক্ষার্থীর ওপর। তবে এত বড় অনিয়মের পরও এখন পর্যন্ত কাউকে কার্যকরভাবে শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, একসময় ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা দেশের অন্যতম শক্তি হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমানে তা দুর্নীতি, অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে গভীর আস্থাহীনতার মধ্যে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, প্রতি মাসেই লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে নতুন করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে বাধ্য হতে হচ্ছে, অথচ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
রাহুল গান্ধী দাবি করেন, ভারতে পরিবারগুলো প্রতি বছর বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি রুপি ব্যয় করে, যা দেশের শিক্ষা বাজেটের প্রায় সমপরিমাণ। এত বড় বিনিয়োগের পরও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা অব্যাহত থাকাকে তিনি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।
শিক্ষার্থী আন্দোলনের পেছনে আরও গভীর অর্থনৈতিক বাস্তবতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন কংগ্রেস নেতা। তাঁর মতে, উচ্চশিক্ষা শেষ করে চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী কিংবা অন্যান্য পেশায় যোগ্যতা অর্জনের পরও তরুণদের সামনে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। ফলে সরকারি চাকরিই বহু তরুণের একমাত্র ভরসায় পরিণত হয়েছে।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, বিশেষ করে চীনা পণ্যের আধিপত্যে উৎপাদন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তার করপোরেট চাকরির বাজারেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে বেসরকারিকরণের প্রবণতা বাড়ায় সরকারি চাকরির সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে, যা তরুণদের হতাশা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, তরুণ কিংবা কৃষক— যে কোনো শ্রেণির মানুষের ন্যায্য দাবি সংসদে তুলে ধরা বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব। মানুষের দুর্ভোগের বিষয়গুলো সামনে আনতে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে হামলা বা হয়রানির শিকার হলেও তিনি পিছু হটবেন না বলেও জানান।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিভিন্ন নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে। এসব আন্দোলনকে ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকার, বিরোধী দল এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
-রফিক
মার্কিন-ইরান যুদ্ধ থামাতে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মধ্যস্থতাকারীদের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসন এবং মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের ভয়াবহতা এড়াতে জোর তৎপরতা শুরু করেছেন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা। সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, সার্বিক উত্তেজনা প্রশমনে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের পক্ষ থেকে তেহরানের কাছে বেশ কয়েকটি লিখিত প্রস্তাব এসেছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে কাতার, মিশর ও পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো ওয়াশিংটন ও তেহরানের কাছে ১০ দিনের একটি জরুরি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির রূপরেখা পাঠিয়েছে। প্রস্তাবিত এই যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক লক্ষ্য হলো—সামরিক হামলা সাময়িকভাবে থামিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হরমুজ প্রণালি পুনরায় নিরাপদ ও উন্মুক্ত করা এবং গত মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি (MOU) নতুন করে সক্রিয় করা।
তবে পর্দার পেছনের এই নিবিড় কূটনৈতিক উদ্যোগের বিপরীত চিত্রে দেখা যাচ্ছে দুই দেশের সামরিক আগ্রাসনের রূপ। প্রতিপক্ষকে দমাতে দুই পরাশক্তিই সামরিক ঘাটির পাশাপাশি বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোকেও নতুন করে লক্ষ্যবস্তু বানাতে শুরু করেছে। মার্কিন বাহিনীর প্রাণহানির পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানোর হুমকির পর মার্কিন আগ্রাসন তীব্র রূপ নিয়েছে।
জবাবে ইরান ও তাদের মিত্র অক্ষ কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা বাব আল-মানদেব প্রণালি ও সৌদি সমুদ্রবন্দরে নতুন অবরোধের হুমকি দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও লজিস্টিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধমনি 'হরমুজ প্রণালি'-র ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাকেই আন্তর্জাতিক টেবিলে ইরান তাদের মূল দর-কষাকষির শক্তি মনে করছে। অন্যদিকে, দেশের রাজনৈতিক চাপ ও বৈশ্বিক অবস্থানের কারণে মার্কিন প্রশাসনও একচুল সামরিক পিছু হটতে নারাজ। এর ফলে প্রতিটি পাল্টা হামলার পর রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের এই দৌড়ঝাঁপ সত্ত্বেও উভয় পক্ষ নমনীয় না হলে চরম বিপর্যয় এড়ানো কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: আল-জাজিরা।
ইরানি ৪টি বিধ্বংসী ড্রোন আকাশে উড়িয়ে দিল জর্ডানের যুদ্ধবিমান
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির ক্রমাবনতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান থেকে জর্ডানের আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসা চারটি বিধ্বংসী একমুখী (কামিকাজে) হামলাকারী ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে জর্ডানের রয়্যাল এয়ার ফোর্স। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশটির সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জর্ডান সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ সূত্রটি জানিয়েছে, নিজস্ব এয়ারস্পেস ও আকাশসীমা সুরক্ষা দিতে যুদ্ধবিমান টহল জোরদার রাখা হয়েছিল। ইরানের দিক থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে আসা ড্রোন চারটিকে চিহ্নিত করার পরপরই ক্ষিপ্র গতির যুদ্ধবিমান দিয়ে আকাশেই সেগুলো ইন্টারসেপ্ট ও ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার হতাহত কিংবা বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ড্রোনগুলোর ধ্বংসাবশেষ জর্ডানের যেসকল নির্জন এলাকায় পড়েছে, সেগুলোতে সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের বিশেষ দল পাঠিয় এলাকাগুলো সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখার কথা জানিয়ে সামরিক সূত্রটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, “জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সমগ্র আকাশসীমার ওপর নিবিড় ও ২৪ ঘণ্টা নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা বা দেশের নাগরিকদের সামান্যতম ঝুঁকিতে ফেলার মতো যেকোনো বাহ্যিক হুমকি মোকাবিলায় আমাদের সামরিক শক্তি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।”
/আশিক
সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি, কী থাকছে এতে
সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই চুক্তি আগামী তিন দশক ধরে দুই দেশের পারমাণবিক সহযোগিতার কাঠামো নির্ধারণ করবে এবং সৌদির জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে সৌদি আরব নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ (Uranium Enrichment)-এর সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ পেতে পারে। যদিও এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অন্যান্য শান্তিপূর্ণ বেসামরিক প্রয়োজনে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার, তবুও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রযুক্তিকে আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ একই প্রযুক্তি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রেও ব্যবহারযোগ্য হতে পারে।
চুক্তিটি কয়েক হাজার কোটি ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এর অন্যতম লক্ষ্য হলো সৌদি আরবের পারমাণবিক অবকাঠামো নির্মাণে মার্কিন প্রযুক্তি ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া, যাতে অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীরা এই বাজারে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত অংশগ্রহণ এবং তদারকি থাকলে সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করবে এবং এর অপব্যবহারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। তাঁদের মতে, সরাসরি মার্কিন সম্পৃক্ততা থাকলে কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণ বেসামরিক ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা সহজ হবে।
চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সৌদি আরবের পারমাণবিক কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যবেক্ষণ ও কারিগরি নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে যেন কর্মসূচিটি কখনো পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের দিকে না যায় এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরাপত্তা নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় থাকে।
তবে এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন সদস্য এবং পারমাণবিক বিস্তাররোধ (Non-Proliferation) বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা দেওয়া ভবিষ্যতে আঞ্চলিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই নিজস্ব বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। দেশটির যুক্তি, ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোই এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য। তবে সমালোচকদের মতে, অঞ্চলটিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদির এই সক্ষমতা ভবিষ্যতে নতুন ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরি করতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হতে পারে। সেখানে এটি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা এবং রাজনৈতিক বিতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কংগ্রেসের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় চুক্তির বিভিন্ন শর্ত, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পারমাণবিক বিস্তাররোধসংক্রান্ত বিষয়গুলো বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি শুধু সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককেই নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে না; বরং মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ভারসাম্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক পারমাণবিক নীতিতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করে গাজায় আবার ইসরায়েলি হামলা, মা ও ৩ মেয়ে নিহত
গাজাজুড়ে আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিরতি চলমান থাকা সত্ত্বেও তা চরমভাবে লঙ্ঘন করে গাজা সিটির একটি আবাসিক বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক নিরীহ ফিলিস্তিনি নারী ও তাঁর তিন কন্যা সন্তান নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ওয়াফা’ (WAFA)-র বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) তুর্কি ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আনাদোলু এজেন্সি’ এই শোকাবহ ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার ভোরে গাজা সিটির দক্ষিণাঞ্চলীয় আল থালাথিনি স্ট্রিটের এক ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক ভবনে কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই এই আকস্মিক হামলা চালায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তীব্র অভিযোগ, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে একের পর এক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে এ ধরনের সামরিক হামলা চালানো হচ্ছে।
ইসরায়েলি সরকারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে যখন যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তখন গাজার পুরো ভূখণ্ডের প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (IDF) দখলে বা নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চুক্তি অমান্য করে এলাকা সম্প্রসারণ ও অভিযানের ফলে বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকার ৭০ শতাংশেরও বেশি অংশ নিজেদের পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে অনবরত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ফলে চালানো এসব বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ১৫৮ জন বেসামরিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৭৫৬ জন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া সার্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে আরও জানানো হয়, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের বর্বরোচিত ও সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে আজ পর্যন্ত অবরুদ্ধ এই উপত্যকাটিতে মোট ৭৩ হাজার ২৫০ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৫১ জনে। এ ছাড়া দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই অবিরাম ধ্বংসযজ্ঞের ফলে গাজার মোট বেসামরিক অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশই সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
/আশিক
কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্রে ইরানের আবার ভয়াবহ হামলা
ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতের জ্বালানি ও পানি ব্যবস্থাপনা খাতে। দেশটির প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং পানি শোধন প্ল্যান্টে (Desalination Plant) আবারও হামলা চালিয়েছে ইরান। টানা আক্রমণের মুখে রাষ্ট্রের এসব অতি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর অবকাঠামোর ব্যাপক ও অভূতপূর্ব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে কুয়েত সরকার।
কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) প্রকাশিত এক জরুরি সরকারি বিবৃতিতে জানায়, দেশের মূল বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ অবকাঠামোগুলোকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে পরপর চার দিন ধরে এ ধরনের বিধ্বংসী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানি সামরিক বাহিনী। মঙ্গলবারের শেষ হামলায় কেন্দ্রগুলোর বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর ইউনিটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করে, হামলার পরপরই কুয়েতি জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা ও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপে কেন্দ্রগুলোর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ দলগুলোর মাধ্যমে হামলায় হওয়া সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ নিরূপণ করার কাজ চলছে। এর পাশাপাশি দেশের নাগরিকদের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে দিনরাত মেরামত কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন পর্যায়ে, বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরালো করেছে যুক্তরাষ্ট্র। টানা দশম রাতের মতো চালানো সর্বশেষ অভিযানে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটির পাশাপাশি একাধিক সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান এই সংঘাতের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযানকে ‘প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করে সতর্ক করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক জবাব দেবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে হামলা বা নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হলে যুক্তরাষ্ট্র তা সহ্য করবে না। তাঁর ভাষ্য, প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি ট্রাম্পের আগের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি যুদ্ধে জড়ানো থেকে বিরত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে এখন তাঁর প্রশাসন যুক্তি দিচ্ছে, ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই সামরিক অভিযান অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভিন্ন কোনো নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের লক্ষ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউস স্বীকার করেছে, চলমান সংঘাতের মধ্যেও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, হরমুজ প্রণালিতে কথিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে হুমকি এবং চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগের জবাব দিতেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও পড়তে পারে।
এই সামরিক অভিযানের পেছনে সাম্প্রতিক একটি ঘটনাও বড় ভূমিকা রেখেছে। গত সপ্তাহান্তে ইরানের হামলায় একাধিক মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, প্রতিটি মার্কিন সেনার প্রাণহানির জন্য তেহরানকে ‘বহুগুণ বেশি মূল্য’ দিতে হবে। এরপর থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান আরও জোরদার হয়েছে।
-রফিক
পাঠকের মতামত:
- নজরুলকে নিয়ে বেরিয়ে আসছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য
- ইরানের জব্দ অর্থ এবার জাহাজের ক্ষতিপূরণে!
- শুক্রবার রাজধানীতে বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট
- কমনওয়েলথ গেমস থেকে দ্য হানড্রেড, আজকের সূচি
- নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অটল সরকার: মির্জা ফখরুল
- বিশ্বকাপ ও গোল্ডেন বল জয়ের পরই রদ্রির জন্য বড় দুঃসংবাদ
- স্বর্ণ কিনবেন আজ? দেখে নিন ভরিপ্রতি সর্বশেষ দাম
- রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে যা জানিয়েছে রয়টার্স
- ৪৫ থেকে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আশঙ্কায় ৮ জেলায় সতর্কতা জারি
- বঙ্গভবনে তোড়জোড়: স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন
- দেবীদ্বার ইউসুফপুরে ভিডব্লিউবি সুবিধাভোগীদের প্রশিক্ষণ ও চাল বিতরণ
- বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনাকে বাদ দিতে ২ কোটিরও বেশি মানুষের স্বাক্ষর
- রাজপথে ও সংসদে সংগ্রাম চলবে, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের ঘোষণা
- প্রধানমন্ত্রী ও বিদায়ী নৌপ্রধানের হাত থেকে র্যাংক ব্যাজ পরলেন নতুন নৌপ্রধান
- ১৪৪ ধারার অজুহাতে যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের বাধা
- রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদ ইসলামের
- মোদী সরকারের আলোচনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল সিজেপি, অনড় যন্তর মন্তরে
- রাষ্ট্রপতির অপসারণকে সুসংবাদ হিসেবে দেখছেন আসিফ মাহমুদ
- কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র বানাতে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে
- বিশ্বকাপ ফাইনালে কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের পরিবারকে ফ্রি টিকিট উপহার দিয়েছিলেন মেসি
- ককরোচ মুভমেন্টে উত্তাল দিল্লি: প্রশ্নফাঁস কাণ্ডেও কেন অনড় মোদি ও তাঁর শিক্ষামন্ত্রী?
- ৮ জেলায় ঝড়ের পূর্বাভাস: নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- রেকর্ড ছোঁয়ার ২৪ ঘণ্টার মাথায় ধাক্কা: স্বর্ণের পাশাপাশি দর হারাল রুপা ও প্ল্যাটিনাম
- শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপন ফোনালাপের খেসারত? পদত্যাগের চাপে রাষ্ট্রপতি
- দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণে চিঠি পাঠালেন নরেন্দ্র মোদি
- আবারও বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম
- তেল রপ্তানি বন্ধ হলে কাউকেই ছাড় দেবে না ইরান
- গ্রেফতারের পর মোদিকে কড়া বার্তা রাহুল গান্ধীর
- আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম
- আইনের ফাঁকফোকর নাকি সংবিধানের দোহাই? বহিষ্কৃত এমপির ভাগ্য নির্ধারণে জটিলতা
- অজুহাত নয়, ব্যর্থতা স্বীকার: পুজাতোয় ফিরে বিশ্বমঞ্চের ফাইনাল হার নিয়ে মুখ খুললেন স্কালোনি
- দেবিদ্বারে ৫ আগস্টের শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষার দাবি
- চীন, রাশিয়া ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ম্যানিলায় বাংলাদেশের বৈঠকের ঝড়
- বাংলাদেশে ধর্ম নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি চলবে না: মন্ত্রী মির্জা ফখরুল
- ফাইনাল শেষে ইয়ামালকে কী বলেছিলেন মেসি? গোপন বার্তা ফাঁস করলেন স্প্যানিশ তরুণ
- মার্কিন-ইরান যুদ্ধ থামাতে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মধ্যস্থতাকারীদের
- এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় হত্যাচেষ্টা ও মারধরের মামলা
- মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও ফেড সভার প্রভাবে ২ সপ্তাহের উঁচুতে স্বর্ণের বাজার
- এই মোদি সরকারের পতন ঘটাও: আটকের সময় রাহুলকে কানে কানে পুলিশ সদস্যের বার্তা!
- ইরানি ৪টি বিধ্বংসী ড্রোন আকাশে উড়িয়ে দিল জর্ডানের যুদ্ধবিমান
- ফিফা প্রধান থেকে জাতিসংঘ প্রধান? ইনফান্তিনোকে নিয়ে ট্রাম্পের বড় ছক
- ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের উপহার: কাগজ ছাড়াই দেশে আনা যাবে রেমিট্যান্স
- ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার বন্যা সতর্কতা: বিপদসীমা ছুঁইছুঁই উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদী
- নৈতিক স্খলন প্রমাণিত: জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার এমপি গাজী নজরুল
- গাজী নজরুল বিতর্কে ফেসবুকে তাসনিম জারার বক্তব্য
- বেসরকারি হজে কত খরচ? প্রকাশ হলো ৩ প্যাকেজ
- প্রতিদিনের ৫ সুন্নাহ আমল, জান্নাতের আশার পথ
- তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শুরু একনেক সভা
- গাজী নজরুলের বিয়ে বিতর্কে নতুন মোড়, ভাইরাল কাজীর অডিও
- স্বর্ণের বাজারে নতুন ধাক্কা, ভরিতে বাড়ল যত
- আবারও বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম
- সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি, কী থাকছে এতে
- তেল রপ্তানি বন্ধ হলে কাউকেই ছাড় দেবে না ইরান
- আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম
- ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন নেতানিয়াহুর
- গ্রেফতারের পর মোদিকে কড়া বার্তা রাহুল গান্ধীর
- মেসি কী করলে জিতবেন গোল্ডেন বুট
- ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মূল্য নেই, দাবি খামেনির
- স্বর্ণের দামে পরিবর্তন নেই, প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকা
- স্বর্ণের বাজারে নতুন ধাক্কা, ভরিতে বাড়ল যত
- তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শুরু একনেক সভা
- স্বর্ণ কিনবেন? আগে জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- ২০২৭ হজ প্যাকেজ ঘোষণা, কোথায় কী সুবিধা মিলবে
- ‘বিধ্বংসী জবাব’ দেবে ইরান, সতর্ক বার্তা যুক্তরাষ্ট্রকে
- মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর, স্মৃতিতে আজও রক্তাক্ত ২১ জুলাই








