ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে বিদ্রোহের সুর: বিসিবি নির্বাচনের তদন্তে তামিমের আলটিমেটাম

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৯:২৭:৪৩
ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে বিদ্রোহের সুর: বিসিবি নির্বাচনের তদন্তে তামিমের আলটিমেটাম
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) আনুষ্ঠানিক নালিশ জানিয়েছেন দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবালসহ ঢাকার শীর্ষস্থানীয় ৫০টি ক্লাবের কর্তারা। আবাহনী ও মোহামেডানের মতো দেশের প্রধান দুই ক্লাবসহ অর্ধেকেরও বেশি ক্লাব এই অভিযোগে একমত পোষণ করেছে। তবে বর্তমান বোর্ডকে সরাসরি ‘অবৈধ’ ঘোষণা না করে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এনএসসিতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তামিম ইকবাল বলেন, "ঢাকার ৭৬টি ক্লাবের মধ্যে ৫০টি ক্লাবই যখন বলছে নির্বাচন সঠিক হয়নি, তখন এটিই অনেক কিছু প্রমাণ করে দেয়।" তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট লিগগুলো অনিশ্চিত হয়ে আছে এবং বোর্ড কেন এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিচ্ছে না। ঘরোয়া ক্রিকেট বন্ধ থাকায় শত শত সাধারণ ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ ও জীবিকা সংকটে পড়েছে উল্লেখ করে তামিম জানান, বোর্ড কর্মকর্তারা এখন নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও ক্রিকেটারদের দুর্দশা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।

তামিম ইকবাল আরও স্পষ্ট করেন যে, তারা কোনো জোরজবরদস্তি নয় বরং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিসিবির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চান। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি স্বচ্ছ ও উন্নত মানদণ্ড (স্ট্যান্ডার্ড) স্থাপনের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ক্লাব প্রতিনিধিদের মতে, এই সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগসহ অন্যান্য স্তরের ক্রিকেট খেলা শুরু হওয়া অনিশ্চিত। এখন দেখার বিষয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এই বিশাল সংখ্যক ক্লাবের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিসিবি নির্বাচনে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করে কি না।

/আশিক


কমনওয়েলথ গেমস থেকে দ্য হানড্রেড, আজকের সূচি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৪ ১১:২১:১৫
কমনওয়েলথ গেমস থেকে দ্য হানড্রেড, আজকের সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য শুক্রবারের সূচি বেশ ব্যস্ত। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় চলছে ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমস, আর আজ প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দিনের বিভিন্ন ইভেন্ট মাঠে গড়াচ্ছে। পাশাপাশি ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজে গ্লোবাল সুপার লিগ এবং ইংল্যান্ডে জনপ্রিয় ১০০ বলের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট দ্য হানড্রেড। ফলে দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টেলিভিশনের পর্দায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা উপভোগের সুযোগ থাকছে।

গ্লাসগোয় ২৩ জুলাই শুরু হওয়া ২৩তম কমনওয়েলথ গেমস চলবে ২ আগস্ট পর্যন্ত। এবারের আসরে ৭৪টি কমনওয়েলথ দেশ ও অঞ্চলের তিন হাজারের বেশি অ্যাথলেট অংশ নিচ্ছেন। ১০টি মূল ক্রীড়া এবং একাধিক প্যারা ইভেন্ট মিলিয়ে মোট ২১৫টি পদকের লড়াই রয়েছে। দ্বিতীয় দিনে বক্সিং, সাঁতার, প্যারা সাঁতার, জিমন্যাস্টিকস, লন বোলস ও প্যারা পাওয়ারলিফটিংসহ বেশ কয়েকটি ডিসিপ্লিনে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময় বেলা ১টা ৩০ মিনিট থেকে সনি স্পোর্টস ২-এ কমনওয়েলথ গেমসের দ্বিতীয় দিনের বিভিন্ন ইভেন্ট সম্প্রচার হওয়ার কথা রয়েছে। দিনের বিভিন্ন সময়ে পদকের লড়াই থাকায় গ্লাসগোর আসর ঘিরে ক্রীড়াপ্রেমীদের আগ্রহও বাড়ছে।

ক্রিকেটে দিনের অন্যতম আকর্ষণ গ্লোবাল সুপার লিগে ডেজার্ট ভাইপার্স ও লাহোর কালান্দার্সের লড়াই। গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের পাঁচটি দল অংশ নিচ্ছে। ২০২৬ আসরে লাহোর কালান্দার্স, ডেজার্ট ভাইপার্স, গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স, সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নস এবং পার্থ স্কর্চার্স একাদশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

ভাইপার্স ও কালান্দার্সের ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হওয়ার কথা। বাংলাদেশের দর্শকরা টি স্পোর্টস-এ ম্যাচটি দেখতে পারবেন বলে প্রকাশিত সম্প্রচার সূচিতে উল্লেখ রয়েছে।

ইংল্যান্ডে এদিন দ্য হানড্রেডেও রয়েছে আকর্ষণীয় ডাবল হেডার। এজবাস্টনে মুখোমুখি হবে বার্মিংহাম ফিনিক্স ও ট্রেন্ট রকেটস। প্রথমে নারীদের ম্যাচ, এরপর একই মাঠে পুরুষদের লড়াই অনুষ্ঠিত হবে। দ্য হানড্রেডের আনুষ্ঠানিক সূচি অনুযায়ী নারীদের ম্যাচ স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা এবং পুরুষদের ম্যাচ সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে।

বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় বার্মিংহাম ফিনিক্স নারী দল ও ট্রেন্ট রকেটস নারী দলের ম্যাচটি দেখা যাবে স্টার স্পোর্টস ২-এ। এরপর রাত ১১টা ৩০ মিনিটে একই চ্যানেলে মাঠে নামবে দুই দলের পুরুষ দল। ১০০ বলের দ্রুতগতির ফরম্যাট হওয়ায় ম্যাচ দুটি ঘিরে ইংলিশ ক্রিকেটপ্রেমীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দর্শকদেরও আগ্রহ রয়েছে।

-রাফসান


বিশ্বকাপ ও গোল্ডেন বল জয়ের পরই রদ্রির জন্য বড় দুঃসংবাদ 

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৪ ১১:০৮:২৬
বিশ্বকাপ ও গোল্ডেন বল জয়ের পরই রদ্রির জন্য বড় দুঃসংবাদ 
ছবি : সংগৃহীত

স্পেনকে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেওয়ার আনন্দ এখনো পুরোপুরি ম্লান হয়নি। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বলও উঠেছে অধিনায়ক রদ্রি এর্নান্দেজের হাতে। কিন্তু ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় সাফল্যের কয়েক দিনের মধ্যেই বড় ধাক্কা খেলেন ম্যানচেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার। পিঠের সমস্যার কারণে তাঁকে অস্ত্রোপচার করাতে হবে এবং এর ফলে ২০২৬-২৭ মৌসুমের শুরুতেই মাঠের বাইরে থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্কাই স্পোর্টস জানিয়েছে, অস্ত্রোপচারটি তুলনামূলক ছোট হলেও রদ্রি নতুন প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমের শুরুতে খেলতে পারবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

৩০ বছর বয়সী রদ্রির জন্য খবরটি বিশেষভাবে হতাশাজনক। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে তিনি স্পেনের মাঝমাঠের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে পুরো টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে রদ্রি পান আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল।

এই সাফল্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ গত দুই মৌসুমের বড় একটা সময়ই তাঁকে বিভিন্ন চোটের সঙ্গে লড়তে হয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট বা এসিএল ছিঁড়ে যাওয়ার পর প্রায় পুরো ২০২৪-২৫ মৌসুম মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে ২০২৫ সালে আবার পূর্ণ অনুশীলনে ফেরেন এবং পরে স্পেন জাতীয় দলেও জায়গা ফিরে পান।

সেই গুরুতর হাঁটুর চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপে এমন শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন রদ্রির ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় গল্প হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এবার হাঁটু নয়, নতুন সমস্যা পিঠে। অস্ত্রোপচারের পর ঠিক কত দিন তাঁকে বিশ্রামে থাকতে হবে, সে বিষয়ে ম্যানচেস্টার সিটি এখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি। ফলে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি এবং প্রিমিয়ার লিগের শুরুর ম্যাচগুলোতে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

রদ্রির নতুন চোট এমন সময় এসেছে, যখন ম্যানচেস্টার সিটিতে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা চলছে। বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আর এক বছর বাকি এবং বিভিন্ন ইংলিশ সংবাদমাধ্যমে তাঁকে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে যুক্ত করে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। স্কাই স্পোর্টসের ট্রান্সফার রাউন্ডআপে দ্য অ্যাথলেটিক ও ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে অস্ত্রোপচার এবং সম্ভাব্য রিয়াল মাদ্রিদ-যোগের কথা বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত রদ্রি, ম্যানচেস্টার সিটি বা রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকে কোনো দলবদল নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত ট্রান্সফার জল্পনাই।

রদ্রির গুরুত্ব বিবেচনায় মাঝমাঠে আগেভাগেই বড় বিনিয়োগ করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। নটিংহাম ফরেস্ট থেকে ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ১১৬ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তিতে দলে নিয়েছে ক্লাবটি। প্রিমিয়ার লিগের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে জুলাইয়ের শুরুতেই দুই ক্লাবের সমঝোতার কথা নিশ্চিত করা হয় এবং ২৩ জুলাই দলবদল সম্পন্ন হওয়ার পর অ্যান্ডারসন পাঁচ বছরের চুক্তি করেন বলে স্কাই স্পোর্টস জানিয়েছে।

অ্যান্ডারসনকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ রদ্রির অনুপস্থিতিতে ম্যানচেস্টার সিটির মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে ভারসাম্য এবং পজিশনাল কাঠামো ধরে রাখার দায়িত্ব অন্যদের ভাগ করে নিতে হবে। গত কয়েক বছরে সিটির সাফল্যের কেন্দ্রে থাকা খেলোয়াড়দের একজন রদ্রি। ২০২২-২৩ মৌসুমের ঐতিহাসিক ট্রেবল জয়ে তাঁর অবদান ছিল নির্ণায়ক; ইন্টার মিলানের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের একমাত্র গোলটিও এসেছিল তাঁর পা থেকে।

ব্যক্তিগত অর্জনেও রদ্রির অবস্থান অনন্য। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং স্পেনের ইউরো সাফল্যের পর ২০২৪ সালের ব্যালন ডি'অর জিতেছিলেন তিনি। সেই পুরস্কার তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

এবার বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল যোগ হওয়ার পর তাঁর ক্যারিয়ার যেন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল। কিন্তু আধুনিক ফুটবলে টানা ম্যাচ, দীর্ঘ মৌসুম এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের চাপের মধ্যে রদ্রির সাম্প্রতিক চোটের ইতিহাস ম্যানচেস্টার সিটির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্লাবটি তাই অস্ত্রোপচারের পর তাঁর পুনর্বাসন নিয়ে তাড়াহুড়া করতে চাইবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটিই, কবে আবার মাঠে ফিরবেন রদ্রি? অস্ত্রোপচার এবং পরবর্তী মেডিক্যাল মূল্যায়নের পরই হয়তো সেই উত্তর স্পষ্ট হবে। তবে বিশ্বকাপের আট ম্যাচে স্পেনের মাঝমাঠের নেতৃত্ব দিয়ে গোল্ডেন বল জেতার পরপরই তাঁর সামনে যে নতুন একটি পুনর্বাসন-পর্ব অপেক্ষা করছে, তা এখন প্রায় নিশ্চিত।

-রাফসান


বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনাকে বাদ দিতে ২ কোটিরও বেশি মানুষের স্বাক্ষর

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৩ ২১:১৩:২৭
বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনাকে বাদ দিতে ২ কোটিরও বেশি মানুষের স্বাক্ষর
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ের শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছে আর্জেন্টিনা। তিনবারের বিশ্বজয়ী এই দলটিকে নিয়ে এবার তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক জটিলতা। বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট থেকে আর্জেন্টিনাকে একেবারে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে অনলাইনে শুরু হওয়া একটি পিটিশন বা গণস্বাক্ষর অভিযান দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

অনলাইন পিটিশনটি রেকর্ড গড়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। এক সপ্তাহের এই গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে ইতিমধ্যেই ২ কোটি ৩৩ লাখ ১৬ হাজার ১০৮ জন মানুষ তাদের সমর্থন জানিয়েছেন। অথচ পিটিশনটির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল মাত্র ৫০ লাখ স্বাক্ষরের।

বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশের নাগরিক এতে অংশ নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক পরিসরে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পিটিশনের রেকর্ডটি বর্তমানে রয়েছে ‘জুবিলি ২০০০ আন্দোলনের’ ঝুলিতে, যেখানে সংগ্রহ করা হয়েছিল ২ কোটি ৪৩ লাখ ১৯ হাজার ১৮১টি স্বাক্ষর। এবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শুরু হওয়া এই পিটিশনটি মূল অভিযোগ তুলে ধরেছে—আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা বরাবরই টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনাকে বাড়তি ও অন্যায্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে।

‘আর্জেন্টিনাকে বের করে দাও’ শীর্ষক এই পিটিশনে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখা হয়েছে, “প্রতিযোগিতার বিজয়ী কে হবে তা যদি পূর্বনির্ধারিতই থাকে, তবে অন্য দলগুলোর অংশগ্রহণ করার মানে কী? বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে আর্জেন্টিনাকে চূড়ান্তভাবে বাদ দিয়ে সবার জন্য একটি সমান ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখা হোক।”

এদিকে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে হেরে যাওয়ায় পিটিশন আয়োজকরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। পিটিশনটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে তারা এক বার্তায় লিখেছেন, “ফিফা আমাদের দাবির তোয়াক্কা না করলেও স্পেন মাঠের পারফরম্যান্সে জবাব দিয়েছে.... স্পেনকে অশেষ ধন্যবাদ।”

/আশিক


বিশ্বকাপ ফাইনালে কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের পরিবারকে ফ্রি টিকিট উপহার দিয়েছিলেন মেসি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২৩ ১৯:২৪:৪৭
বিশ্বকাপ ফাইনালে কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের পরিবারকে ফ্রি টিকিট উপহার দিয়েছিলেন মেসি
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে বেশ কিছু সাধারণ দর্শকের জন্য বিনামূল্যে টিকিটের ব্যবস্থা করেছিলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচের টিকিট অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেক সমর্থকের পক্ষেই মাঠে বসে খেলা দেখা সম্ভব হচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে আর্জেন্টাইন সুপারস্টার ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাদের জন্য কিছু টিকিট সরবরাহ করেন, যার সুবিধা পেয়েছিলেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার পরিবারও।

আর্জেন্টাইন সাংবাদিক ইয়ানিনা লাতোরে সম্প্রতি এই তথ্যের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি জানান, টিকিটের বিপুল দামের কারণে মাঠে গিয়ে ম্যাচ দেখতে না পারা ব্যক্তিদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন মেসি। তিনি নিজের প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়ে ভোজিনহার পরিবারের চারজন সদস্যের জন্য ফ্রি টিকিটের ব্যবস্থা করে দেন। এতদিন পর্যন্ত মেসির এই সহযোগিতার খবরটি জনসমক্ষে উন্মোচিত হয়নি।

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব থার্টি-টু বা শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে দুর্দান্ত গোলকিপিং করে নজর কাড়েন ভোজিনহা। একের পর এক অসাধারণ সেভ দিয়ে তিনি আর্জেন্টাইন আক্রমণভাগকে বেশ কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেন। সেই রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে মেসির কাছে একটি জার্সিও অনুরোধ করেছিলেন এই আফ্রিকান গোলরক্ষক।

মেসির এই বিশেষ সহায়তার সুবিধা পেলেও ফাইনাল ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল অবশ্য তার জন্য সুখকর হয়নি। রোববারের সেই খেলায় স্পেনের কাছে ১-০ গোলের ব্যবধানে হেরে ট্রফি হাতছাড়া করতে হয় আর্জেন্টিনাকে।

তবে মেসির এই উদ্যোগের বিষয়টি নিয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) কিংবা তার নিজস্ব টিমের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা দেওয়া হয়নি। প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না থাকলেও সাংবাদিক ইয়ানিনা লাতোরের উন্মোচিত এই তথ্যটি ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

/আশিক


অজুহাত নয়, ব্যর্থতা স্বীকার: পুজাতোয় ফিরে বিশ্বমঞ্চের ফাইনাল হার নিয়ে মুখ খুললেন স্কালোনি

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ২১:৫৯:৪০
অজুহাত নয়, ব্যর্থতা স্বীকার: পুজাতোয় ফিরে বিশ্বমঞ্চের ফাইনাল হার নিয়ে মুখ খুললেন স্কালোনি
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের চরম ফাইনাল হারের ক্ষত তাজা থাকা অবস্থাতেই নিজের জন্মশহর সান্তা ফে প্রদেশের ছোট্ট শহর পুজাতোয় ফিরে আবেগে ভাসলেন আর্জেন্টিনা দলের মাস্টারমাইন্ড কোচ লিওনেল স্কালোনি। তবে ঘরের মাঠে হাজারো ভক্তের ভালোবাসা পেলেও কোনো রকম অজুহাত বা রেফারিকে দোষারোপ করার বদলে আত্মপক্ষ সমর্থনের পরিপক্ক পথ বেছে নিয়েছেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্কালোনি অকপটে স্বীকার করেন যে, ফাইনালে প্রতিপক্ষ স্পেন তাঁদের চেয়ে ভালো ফুটবল খেলেছে। রেফারির সিদ্ধান্তের দিকে আঙুল না তুলে তিনি বলেন, “আমরা হেরেছি কারণ ওরা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। সম্ভবত আমরা শেষ শক্তিটুকু নিঃশেষ করেই ফাইনালে পৌঁছেছিলাম। প্রতিপক্ষ ভালো ছিল—এটা মেনে নিতে পারলে আমরা ভবিষ্যতেও আরও ভালো দল হয়ে উঠতে পারব।”

হার সত্ত্বেও নিজের শিষ্যদের প্রতি গর্ব প্রকাশ করে স্কালোনি যোগ করেন, “আমার খেলোয়াড়রা যা করেছে, তা নিয়ে আমি চিরকাল গর্বিত থাকব। জয়ের মতো হারকেও সম্মানের সঙ্গে মেনে নিতে জানতে হয়।”

ফাইনালে হারের পর ড্রেসিংরুমের বিষাদময় পরিবেশের স্মৃতি শেয়ার করে তিনি জানান, ড্রেসিংরুমে তিনি নিজে বড় কোনো ভাষণ দেননি, বরং অধিনায়ক লিওনেল মেসিই সতীর্থদের উদ্দেশে কথা বলেছিলেন। সে সময় পুরো ড্রেসিংরুমে কেবল সীমাহীন দুঃখ ও নীরবতা ছেয়ে ছিল।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে স্কালোনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত আর্জেন্টিনার ডাগআউটে থাকাটা নিশ্চিত হলেও এর পর তিনি দায়িত্বে থাকবেন কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি।

/আশিক


ফাইনাল শেষে ইয়ামালকে কী বলেছিলেন মেসি? গোপন বার্তা ফাঁস করলেন স্প্যানিশ তরুণ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ২০:২৭:৪০
ফাইনাল শেষে ইয়ামালকে কী বলেছিলেন মেসি? গোপন বার্তা ফাঁস করলেন স্প্যানিশ তরুণ
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের মহানাটকীয় ফাইনাল শেষে মাঠের মধ্যে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও স্প্যানিশ তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামালের কোলাকুলি ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল। ট্রফি জয়ের উল্লাসে না মেতে মেসির দিকে এগিয়ে গিয়ে সম্মান ও সমবেদনা জানানোয় বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ান ১৯ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।

অবশেষে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলারের কাছ থেকে কী বার্তা পেয়েছিলেন, তা প্রকাশ্যে এনেছেন ইয়ামাল।

মেসির সঙ্গে সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ সেই মুহূর্তটির কথা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ইয়ামাল জানান, বিশ্বের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়কে শ্রদ্ধা জানানোটা তাঁর কাছে এক পরম দায়িত্ব ছিল। ইয়ামালের ভাষায়, “তিনি ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলার এবং এমন একজন মানুষ, যাকে আমি শৈশব থেকেই সবসময় হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে শ্রদ্ধা করে এসেছি। মহাযুদ্ধের ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমি তাঁর কাছে গিয়ে নিজের গভীর সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি।”

মাঠে মেসির পরামর্শ ও মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে তরুণ এই স্প্যানিশ তারকা আরও বলেন, “তিনি আমাকে কোনো চাপ না নিয়ে নিজের নিজস্ব স্বাভাবিক ছন্দ ও ভাবমূর্তি নিয়ে ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় আমাকে বলেছেন, ফুটবলের ভবিষ্যৎ এখন আমাদের নতুন প্রজন্মের হাতের মুঠোয়। বিশ্বজয়ের ট্রফি বা গলায় ঝুলানো এই স্বর্ণপদকের মতোই মেসির এই মূল্যবান কথাগুলো আমার কাছে সারাজীবনের জন্য অনন্য এক প্রেরণা ও ধন হয়ে থাকবে।”

/আশিক


ফিফা প্রধান থেকে জাতিসংঘ প্রধান? ইনফান্তিনোকে নিয়ে ট্রাম্পের বড় ছক

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ১৮:৪৭:৩৩
ফিফা প্রধান থেকে জাতিসংঘ প্রধান? ইনফান্তিনোকে নিয়ে ট্রাম্পের বড় ছক
ছবি : সংগৃহীত

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে দেখার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্ক পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল সফলভাবে আয়োজনের পর ইনফান্তিনোর বৈশ্বিক নেতৃত্ব ও মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে ট্রাম্প এ ভাবনা সামনে এনেছেন।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ফিফা সভাপতির বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সংযোগ তৈরির ক্ষমতা জাতিসংঘের কার্যক্রমে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ২০২৬ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজনের প্রস্তুতি পর্ব থেকেই মূলত ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে ইনফান্তিনোর হাতে ট্রাম্পকে প্রদান করা ফিফার প্রথম ‘শান্তি পুরস্কার’-এর মাধ্যমে আরও সুদৃঢ় হয়।

তবে ইনফান্তিনো নিজে বিশ্বমঞ্চের এই শীর্ষ রাজনৈতিক পদে বসতে আগ্রহী কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। তা ছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনের পথটিও বেশ জটিল। এই পদের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের অন্তত ৯টি দেশের সমর্থন এবং ৫টি স্থায়ী সদস্যের (ভিটো ক্ষমতাসম্পন্ন) সম্মতি লাগবে। এরপর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সেটি অনুমোদন পেতে হবে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই পদে আসা ইনফান্তিনোর জন্য একটি বড় ছাড়ের বিষয়। বর্তমানে ফিফা সভাপতি হিসেবে তিনি বছরে প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৭৪ কোটি টাকা) আয় করেন। অন্যদিকে, জাতিসংঘের মহাসচিবের বার্ষিক বেতন প্রায় ৪ লাখ ১৮ হাজার ডলার (প্রায় ৫ কোটি টাকা)।

বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। ফলে নতুন মহাসচিব ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী ৫ বছরের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

/আশিক


২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা গোল কোনটা? শুরু হলো ফিফার ভোটিং যুদ্ধ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২১ ২১:৪৪:৫১
২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা গোল কোনটা? শুরু হলো ফিফার ভোটিং যুদ্ধ
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের সবচেয়ে সুন্দর গোল (Goal of the Tournament) নির্বাচনের জন্য ভক্তদের সরাসরি ভোটগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) থেকে ফিফার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এই ভোটিং প্রক্রিয়া উন্মুক্ত করা হয়।

ব্রাজিলীয় প্রভাবশালী ক্রীড়া মাধ্যম ‘গ্লোবো এসপোর্তে’ (Globo Esporte)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরো টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে মেগা ফাইনাল পর্যন্ত হওয়া চোখধাঁধানো ড্রিবল, অসাধারণ দূরপাল্লার শট (Long-range strike) এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ নির্ধারণী গোলগুলোর মধ্য থেকে বাছাই করে মোট ১২টি সেরা গোলকে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

চূড়ান্ত তালিকায় মনোনয়ন পাওয়া অন্যতম সেরা গোলটি হলো স্পেনের ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেসের ফাইনালে করা গোলটি, যেখানে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়ে নিকো উইলিয়ামসের পাস থেকে করা তাঁর একমাত্র জয়সূচক গোলেই স্পেন বিশ্বমুকুট ধরে রাখে। রানিং আপ আর্জেন্টিনা দল থেকেও দুটি গোল জায়গা করে নিয়েছে এই তালিকায়। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ৩-০ গোলের জয়ের দিনে হ্যাটট্রিক করা লিওনেল মেসির প্রথম গোলটি এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে হুলিয়ান আলভারেজের দূরপাল্লার রকেট শটের গোলটি চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়েছে।

এছাড়া কেপ ভার্দের সিডনি লোপেস কাবরালের দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরানো অবিশ্বাস্য গোলটি সেরা গোলের লড়াইয়ে স্থান পেয়েছে। ফ্রান্সের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ৬-৪ গোলের জয়ে জুড বেলিংহামের দেওয়া শেষ গোলটিও রয়েছে এই দৌড়ে। আর শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নরওয়ের চমকপ্রদ জয়ের ম্যাচে দূরপাল্লার শটে গোল করে তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন আর্লিং হলান্ড।

এই তারকাদের পাশাপাশি বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কেরিম আলাইবেগোভিচ, হাইতির উইলসন ইসিদর, নিউজিল্যান্ডের এলাইজা জাস্ট, জাপানের দাইজেন মায়েদা, ফ্রান্সের মহাতারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং উজবেকিস্তানের এলদর শোমুরোদভ ফুটবলের এই সর্বোচ্চ সম্মানের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সমর্থকেরা এখন ফিফার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে ভোটের মাধ্যমে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা গোলটি নির্বাচন করবেন।

/আশিক


আর্জেন্টাইন শিবিরের আচরণে ক্ষুব্ধ বিশ্বফুটবল: শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করল ফিফা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২১ ১৯:৫০:০০
আর্জেন্টাইন শিবিরের আচরণে ক্ষুব্ধ বিশ্বফুটবল: শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করল ফিফা
ছবি : সংগৃহীত

মেগা ফাইনালে ইউরোপীয় পরাশক্তি স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ১-০ গোলের ব্যবধানে হেরে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ফাইনালের নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসিকে অত্যন্ত বাজে ও বিপজ্জনক ট্যাকল করে বসেন চেলসির ২৫ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ফলে রেফারি তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখিয়ে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দিলে বাকি সময় ১০ জনের দলে পরিণত হয় আলবিসেলেস্তেরা।

ফার্নান্দেজের এই অনাকাঙ্ক্ষিত বহিষ্কার আর্জেন্টিনার রক্ষণে চরম চাপ তৈরি করে এবং দলের মানসিক দৃঢ়তাকে একঝাটকায় নড়বড়ে করে দেয়। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেসের করা একমাত্র জয়সূচক গোলটিই স্পেনের দীর্ঘ ১৬ বছর পর দ্বিতীয় বিশ্বশিরোপা নিশ্চিত করে। তবে মাঠের খেলায় আর্জেন্টিনার চরম রক্ষণাত্মক ও নিষ্প্রাণ কৌশলের চেয়েও বেশি আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয় ম্যাচ শেষের নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ ফুটবলাররা যখন মাঠজুড়ে সোনালী ট্রফি ও বিশ্বজয়ের উল্লাসে মেতে ওঠেন, ঠিক তখনই তীব্র মেজাজ হারিয়ে স্পেনের কয়েকজন খেলোয়াড়ের ওপর চড়াও হন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের দিকে তেড়ে যাওয়া এবং গায়ে হাত তোলার এই ঘটনা বিশ্বফুটবলে চরম সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এখানেই শেষ নয়, পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের খেলোয়াড়রা যখন চ্যাম্পিয়ন পদক ও ট্রফি গ্রহণ করছিলেন, তখন আর্জেন্টিনার পুরো দলটি বিজীয়দের সম্মান না জানিয়ে তাদের দিকে পিঠ ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে।

সামগ্রিক এই ম্যাচ-পরবর্তী অপ্রীতিকর ও শৃঙ্খলাবহির্ভূত ঘটনার মারাত্মক জেরে ইতোমধ্যেই কঠোর তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA)। তা ছাড়া, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করার পরও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ‘মালভিনাস বা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি ব্যানার উঁচিয়ে ধরে গ্যালারিতে প্রদর্শন করেছিলেন মেসি-ফার্নান্দেজরা, যা টুর্নামেন্টজুড়েই আর্জেন্টিনা দলকে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে ফেলেছিল।

শিরোপা হাতছাড়া ও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার চরম নৈরাশ্যজনক পরিস্থিতির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন দীর্ঘ বার্তার মাধ্যমে মুখ খুলেছেন এনজো ফার্নান্দেজ। পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স ও লড়াকু মানসিকতার তীব্র প্রশংসা করলেও রহস্যজনকভাবে নিজের সেই বহুল আলোচিত লাল কার্ড ও বহিষ্কারের প্রসঙ্গটি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান এই তরুণ তারকা।

বিশ্বব্যাপী ভাইরাল হওয়া সেই পোস্টে এনজো ফার্নান্দেজ লিখেছেন, ‘সময় যত গড়ায়, ততই স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা যায় যে—একটি ম্যাচের জয়-পরাজয়ের ফলাফলের চেয়েও অনেক বড় কিছু ফুটবল মাঠে বিদ্যমান। বহু বছর ধরে এই আলবিসেলেস্তে দলটি সম্ভাব্য সেরা উপায়েই নিজেদের প্রিয় মাতৃভূমির জাতীয় দলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করে এসেছে। এই দলটি আমাদের শিখিয়েছে যে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা মানে শুধুই ট্রফি জেতা নয়; বরং জাতীয় দলের জার্সির সম্মানের জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়া এবং কোনো অবস্থাতেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হাল না ছাড়া।’

উল্লেখ্য, এনজো ফার্নান্দেজ ২০২২ সালে কাতারের মাটিতে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ঐতিহাসিক বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলেরও অন্যতম মূল কাণ্ডারি ছিলেন। তবে ২০২৬ সালের ফাইনালে তার সেই লাল কার্ডই আলবিসেলেস্তেদের স্বপ্নের ট্রফি হাতছাড়ার প্রধান অনুঘটক হিসেবে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বারবার সামনে চলে আসছে।

নিজের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে ফার্নান্দেজ আরও যুক্ত করেন, ‘এমন একটি অপরাজেয় ও সাহসী দলের সদস্য হতে পারা আমার পুরো জীবনের জন্য পরম গর্বের। যে দল প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছে, বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বীরত্বের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে এবং অপার গর্ব, বিনয় ও অঙ্গীকারের সঙ্গে এই আকাশি-সাদা জার্সির মর্যাদা রক্ষা করেছে।’

আর্জেন্টাইন সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে চেলসি তারকা বলেন, ‘বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আর্জেন্টিনার সব সমর্থককে আমি আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। প্রতিটি ম্যাচে আমাদের ছায়ার মতো পাশে থাকার জন্য, উজাড় করা ভালোবাসার জন্য, নিঃশর্ত সমর্থনের জন্য এবং আমরা পৃথিবীর যেখানেই খেলি না কেন আমাদের ঘরের আবহ তৈরি করে দেওয়ার জন্য আপনাদের প্রতি অসংখ্য ধন্যবাদ। নিজ দেশের জার্সি পরা আমার পুরো ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ সম্মান, আর ভবিষ্যতে যখনই এই পবিত্র জার্সি গায়ে চাপানোর সুযোগ পাব, প্রতিবারই নিজের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে সর্বস্ব উজাড় করে দেব।’

সূত্র: বাসস

পাঠকের মতামত: