ডিএসই মিউচুয়াল ফান্ড বাজারচিত্র, কোথায় কত এনএভি

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১১:৪৭:৫১
ডিএসই মিউচুয়াল ফান্ড বাজারচিত্র, কোথায় কত এনএভি
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত একাধিক মিউচুয়াল ফান্ড ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের লেনদেন সমাপ্তির (ক্লোজিং) ভিত্তিতে ইউনিটপ্রতি দৈনিক নিট সম্পদমূল্য (NAV) ঘোষণা করেছে। প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, অধিকাংশ ফান্ডের মার্কেট প্রাইস ভিত্তিক এনএভি ফেস ভ্যালু ১০ টাকার নিচে, অর্থাৎ ডিসকাউন্ট জোনে রয়েছে। তবে GRAMEENS2 এবং RELIANCE1 ফান্ডের মার্কেট এনএভি ফেস ভ্যালুর ওপরে অবস্থান করছে, যা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী মূল্যায়নের ইঙ্গিত দেয়।

আজকের হাইলাইটস, কোথায় কার অবস্থান

২০ জানুয়ারির ক্লোজিং অনুযায়ী সর্বোচ্চ মার্কেট এনএভি এসেছে GRAMEENS2 ফান্ডে, ইউনিটপ্রতি ১৬.২০ টাকা, যা ফেস ভ্যালুর তুলনায় প্রায় ৬২ শতাংশ প্রিমিয়াম নির্দেশ করে। অন্যদিকে সর্বনিম্ন মার্কেট এনএভি দেখা গেছে 1JANATAMF ফান্ডে, ইউনিটপ্রতি ৬.১৭ টাকা, যা ফেস ভ্যালুর তুলনায় প্রায় ৩৮.৩০ শতাংশ ডিসকাউন্ট।

মার্কেট এনএভি হিসেবে শীর্ষ তালিকায় রয়েছে GRAMEENS2 (১৬.২০ টাকা), RELIANCE1 (১০.৯৩ টাকা), ICBAGRANI1 (৯.৫৬ টাকা), GLDNJMF (৯.৫৪ টাকা) এবং ICBAMCL2ND (৮.৫২ টাকা)। নিচের দিকে রয়েছে 1JANATAMF (৬.১৭ টাকা), EBL1STMF (৬.৪৯ টাকা), EBLNRBMF (৬.৫৮ টাকা), PHPMF1 (৬.৯৯ টাকা) এবং IFILISLMF1 (৭.০২ টাকা)।

মার্কেট এনএভি বনাম কস্ট এনএভি, বিনিয়োগকারীর জন্য বার্তা

প্রায় সব ফান্ডে দেখা যাচ্ছে কস্ট প্রাইস ভিত্তিক এনএভি ১১ থেকে ১২ টাকার আশপাশে, অর্থাৎ ফান্ডের ঐতিহাসিক ক্রয়মূল্য বা বইমূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি। কিন্তু মার্কেট প্রাইস ভিত্তিক এনএভি অনেক ক্ষেত্রে ৬ থেকে ৮ টাকার মধ্যে অবস্থান করছে। সাধারণভাবে এটি বোঝায় যে, বাজারদরে ফান্ডের পোর্টফোলিওর বর্তমান মূল্য কস্ট বেসিসের চেয়ে কম বা বাজারে ফান্ড ইউনিটের মূল্যায়ন চাপের মধ্যে থাকতে পারে।

তবে একটি ব্যতিক্রম চোখে পড়ছে। GRAMEENS2 ফান্ডে মার্কেট এনএভি ১৬.২০ টাকা, যেখানে কস্ট এনএভি ১০.৭১ টাকা। এটি ইঙ্গিত করে যে, ফান্ডের বাজারমূল্যায়ন কস্ট বেসিসকে উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে গেছে, অর্থাৎ বাজারে ফান্ডটির অন্তর্নিহিত সম্পদের মূল্যবৃদ্ধি বা মূল্যায়ন তুলনামূলক উঁচুতে অবস্থান করছে।

মোট নিট সম্পদ, কোন ফান্ড কত বড়

মোট নিট সম্পদের হিসাবে বাজারমূল্যে সবচেয়ে বড় ফান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে FBFIF, যার মোট নিট সম্পদ বাজারদরে প্রায় ৫৫৯.৯৮ কোটি টাকা। এরপর উল্লেখযোগ্যভাবে রয়েছে GRAMEENS2 (২৯৫.৪৫ কোটি টাকা) এবং POPULAR1MF (২১৬.৩৫ কোটি টাকা)। বড় নিট সম্পদের অর্থ সাধারণত বৃহৎ পোর্টফোলিও স্কেল, তবে বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে নিট সম্পদের পাশাপাশি ইউনিটের বাজারদর, ডিসকাউন্ট-প্রিমিয়াম, তারল্য এবং ডিভিডেন্ড পারফরম্যান্সও বিবেচ্য।

ফান্ডভিত্তিক এনএভি, সংক্ষেপে পূর্ণ তথ্য (২০ জানুয়ারির ক্লোজিং)

GRAMEENS2

মার্কেট এনএভি ১৬.২০ টাকা, কস্ট এনএভি ১০.৭১ টাকা। মোট নিট সম্পদ বাজারদরে ২৯৫.৪৫ কোটি টাকা, কস্ট বেসিসে ১৯৫.৩৮ কোটি টাকা।

RELIANCE1

মার্কেট এনএভি ১০.৯৩ টাকা, কস্ট এনএভি ১১.৩০ টাকা। মোট নিট সম্পদ বাজারদরে ৬৬.১২ কোটি টাকা, কস্ট বেসিসে ৬৮.৩৫ কোটি টাকা।

ICBAGRANI1

মার্কেট এনএভি ৯.৫৬ টাকা, কস্ট এনএভি ১২.২৩ টাকা। মোট নিট সম্পদ বাজারদরে ৯৩.৮৬ কোটি টাকা, কস্ট বেসিসে ১২০.০৮ কোটি টাকা।

GLDNJMF

মার্কেট এনএভি ৯.৫৪ টাকা, কস্ট এনএভি ১১.০৭ টাকা। মোট নিট সম্পদ বাজারদরে ৯৫.৪০ কোটি টাকা, কস্ট বেসিসে ১১০.৬৬ কোটি টাকা।

ICBAMCL2ND

মার্কেট এনএভি ৮.৫২ টাকা, কস্ট এনএভি ১২.৮৮ টাকা। মোট নিট সম্পদ বাজারদরে ৪২.৫৮ কোটি টাকা, কস্ট বেসিসে ৬৪.৪২ কোটি টাকা।

1STPRIMFMF

মার্কেট এনএভি ৮.৩৫ টাকা, কস্ট এনএভি ১৫.৯০ টাকা। মোট নিট সম্পদ বাজারদরে ১৬.৬৯ কোটি টাকা, কস্ট বেসিসে ৩১.৭৯ কোটি টাকা।

ICBSONALI1

মার্কেট এনএভি ৮.৩৯ টাকা, কস্ট এনএভি ১২.১২ টাকা। মোট নিট সম্পদ বাজারদরে ৮৩.৮৮ কোটি টাকা, কস্ট বেসিসে ১২১.১৯ কোটি টাকা।

PF1STMF

মার্কেট এনএভি ৭.৮৭ টাকা, কস্ট এনএভি ১২.০২ টাকা। মোট নিট সম্পদ বাজারদরে ৪৭.২৪ কোটি টাকা, কস্ট বেসিসে ৭২.১৪ কোটি টাকা।

PRIME1ICBA

মার্কেট এনএভি ৭.৭৭ টাকা, কস্ট এনএভি ১২.৫৩ টাকা। মোট নিট সম্পদ বাজারদরে ৭৭.৭০ কোটি টাকা, কস্ট বেসিসে ১২৫.২৭ কোটি টাকা।

ICB3RDNRBমার্কেট এনএভি ৭.৭০ টাকা, কস্ট এনএভি ১২.০৫ টাকা। মোট নিট সম্পদ বাজারদরে ৭৭.০৫ কোটি টাকা, কস্ট বেসিসে ১২০.৫২ কোটি টাকা।

IFIC1STMF

মার্কেট এনএভি ৭.৬২ টাকা, কস্ট এনএভি ১১.৬৮ টাকা। মোট নিট সম্পদ বাজারদরে ১৩৮.৮৮ কোটি টাকা, কস্ট বেসিসে ২১২.৮০ কোটি টাকা।

ICBEPMF1S1

মার্কেট এনএভি ৭.৫৮ টাকা, কস্ট এনএভি ১১.৯০ টাকা। মোট নিট সম্পদ বাজারদরে ৫৬.৮৫ কোটি টাকা, কস্ট বেসিসে ৮৯.২২ কোটি টাকা।

EXIM1STMF

মার্কেট এনএভি ৭.৪৮ টাকা, কস্ট এনএভি ১১.৫৮ টাকা। মোট নিট সম্পদ বাজারদরে ১০৭.১৯ কোটি টাকা, কস্ট বেসিসে ১৬৫.৮৩ কোটি টাকা।

ABB1STMF

মার্কেট এনএভি ৭.৩২ টাকা, কস্ট এনএভি ১১.৬৬ টাকা। মোট নিট সম্পদ বাজারদরে ১৭৪.৯৯ কোটি টাকা, কস্ট বেসিসে ২৭৮.৮৯ কোটি টাকা।

POPULAR1MF

মার্কেট এনএভি ৭.২৩ টাকা, কস্ট এনএভি ১১.৪৪ টাকা। মোট নিট সম্পদ বাজারদরে ২১৬.৩৫ কোটি টাকা, কস্ট বেসিসে ৩৪২.২৫ কোটি টাকা।

FBFIF

মার্কেট এনএভি ৭.২১ টাকা, কস্ট এনএভি ১১.৪০ টাকা। মোট নিট সম্পদ বাজারদরে ৫৫৯.৯৮ কোটি টাকা, কস্ট বেসিসে ৮৮৫.০৬ কোটি টাকা।

IFILISLMF1

মার্কেট এনএভি ৭.০২ টাকা, কস্ট এনএভি ১১.২৪ টাকা। মোট নিট সম্পদ বাজারদরে ৭০.২৩ কোটি টাকা, কস্ট বেসিসে ১১২.৪০ কোটি টাকা।

PHPMF1

মার্কেট এনএভি ৬.৯৯ টাকা, কস্ট এনএভি ১১.৩৫ টাকা। মোট নিট সম্পদ বাজারদরে ১৯৭.১১ কোটি টাকা, কস্ট বেসিসে ৩২০.০২ কোটি টাকা।

EBLNRBMF

মার্কেট এনএভি ৬.৫৮ টাকা, কস্ট এনএভি ১১.৩৪ টাকা। মোট নিট সম্পদ বাজারদরে ১৪৭.৬৭ কোটি টাকা, কস্ট বেসিসে ২৫৪.৩১ কোটি টাকা।

EBL1STMF

মার্কেট এনএভি ৬.৪৯ টাকা, কস্ট এনএভি ১১.৫০ টাকা। মোট নিট সম্পদ বাজারদরে ৯৩.৯০ কোটি টাকা, কস্ট বেসিসে ১৬৬.৫০ কোটি টাকা।

1JANATAMF

মার্কেট এনএভি ৬.১৭ টাকা, কস্ট এনএভি ১১.৪৬ টাকা। মোট নিট সম্পদ বাজারদরে ১৭৮.৭৫ কোটি টাকা, কস্ট বেসিসে ৩৩২.১৬ কোটি টাকা।

বিনিয়োগকারীর করণীয়, কী দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন

ডেইলি এনএভি একা সিদ্ধান্তের ভিত্তি নয়। বিনিয়োগকারীদের জন্য বাস্তব করণীয় হলো ফান্ডটির ট্রেডিং প্রাইস এনএভির তুলনায় কতটা ডিসকাউন্ট বা প্রিমিয়ামে আছে তা দেখা, ইউনিটের তারল্য কেমন তা যাচাই করা, এবং দীর্ঘমেয়াদে ডিভিডেন্ড ট্র্যাক রেকর্ড ও পোর্টফোলিও মান বিবেচনা করা। একই সঙ্গে ঝুঁকি গ্রহণক্ষমতা অনুযায়ী পোর্টফোলিও বৈচিত্র্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

সুত্র: ডিএসই


৪ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ১৪:৫১:১০
৪ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দেখা গেছে ব্যাপক ইতিবাচক প্রবণতা। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) লেনদেনের শুরু থেকেই অধিকাংশ খাতে ক্রয়চাপ বাড়তে থাকে, যা দিনশেষে বাজারকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। দরবৃদ্ধি হওয়া কোম্পানির সংখ্যা, লেনদেনের পরিমাণ এবং বাজার মূলধনের বৃদ্ধি সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

ডিএসইর বাজার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এদিন মোট ৩৯১টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৪২টির শেয়ার ও ইউনিটদর বৃদ্ধি পেয়েছে, ১০৪টির দর কমেছে এবং ৪৫টি অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ দরবৃদ্ধি হওয়া কোম্পানির সংখ্যা দরপতন হওয়া কোম্পানির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি ছিল, যা বাজারে শক্তিশালী বুলিশ প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

লেনদেনের পরিমাণও ছিল অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। দিনজুড়ে ৩ লাখ ২৭ হাজার ৬২৯টি ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সক্রিয় লেনদেন। মোট ৪৩ কোটি ১৪ লাখ ৫১ হাজারের বেশি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৫১ কোটি ৫৯ লাখ টাকারও বেশি, যা বাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রমাণ বহন করে।

বাজার মূলধনেও বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। দিনশেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৯২ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকায়। এর মধ্যে ইকুইটি সিকিউরিটিজের বাজার মূলধন ছিল প্রায় ৩ লাখ ৪৮ হাজার ২৮১ কোটি টাকা। একদিনে বাজার মূলধনের এই বৃদ্ধি বাজারে নতুন আশাবাদের জন্ম দিয়েছে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলো বাজারের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে। এই ক্যাটাগরির ১৯৬টি কোম্পানির মধ্যে ১৩৫টির দর বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে জেড ক্যাটাগরির ৬৬টি কোম্পানির শেয়ারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে, যেখানে ১৮টি ফান্ডের ইউনিটদর বেড়েছে।

বিশেষ করে বীমা খাত ছিল দিনের সবচেয়ে আলোচিত খাতগুলোর একটি। নর্দার্ন ইন্স্যুরেন্স, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স এবং অন্যান্য বীমা কোম্পানির শেয়ারে ব্যাপক লেনদেন ও দরবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ফলে খাতটি বাজারের উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ব্লক মার্কেটেও ছিল উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম। এদিন ৪৮টি কোম্পানির মোট ১০৯টি ব্লক ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে। ব্লক মার্কেটে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে নর্দার্ন ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারে। কোম্পানিটির প্রায় ৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এছাড়া যমুনা ব্যাংক, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, ইবিএল, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ এবং বিডি থাই ফুডের শেয়ারেও বড় অঙ্কের ব্লক লেনদেন হয়েছে।

যমুনা ব্যাংকের ব্লক মার্কেটে প্রায় ৩ কোটি ৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন এবং সোনারগাঁও টেক্সটাইলের প্রায় ২ কোটি ৯২ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের বিষয় হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স ও ডমিনেজ স্টিলের শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ঈদের ছুটির আগে অনেক বিনিয়োগকারী নির্বাচিত মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিতে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে ব্যাংক, বীমা, খাদ্য, টেক্সটাইল এবং প্রযুক্তি খাতের কিছু কোম্পানিকে ঘিরে প্রত্যাশা বাড়ায় বাজারে ক্রয়চাপ আরও শক্তিশালী হয়েছে।

তবে তারা সতর্ক করে বলছেন, সাময়িক দরবৃদ্ধি দেখে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, আয় প্রবৃদ্ধি, সম্পদ মূল্য এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা বিবেচনা করা জরুরি। কারণ বাজারে দ্রুত উত্থানের পাশাপাশি মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতাও যেকোনো সময় বাড়তে পারে।

-রাফসান


৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ১৪:৪৮:৩৪
৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লুজার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে কয়েকটি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প খাতের কোম্পানি। বিশেষ করে যমুনা ব্যাংকের শেয়ারদরে বড় ধরনের পতন বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

দিনের লেনদেন শেষে লুজার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে যমুনা ব্যাংক। কোম্পানিটির শেয়ারদর একদিনে ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে ২৬ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ২৪ টাকা ৩০ পয়সায় নেমে আসে। দিনজুড়ে বিক্রির চাপের কারণে শেয়ারটির মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (ILFSL)-এর শেয়ারদর কমেছে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। কোম্পানিটির শেয়ার ১ টাকা ৬০ পয়সা থেকে নেমে ১ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন শেষ করে।

আর্থিক খাতের দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়েছে ফার্স্ট ফাইন্যান্স (FASFIN) এবং পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (PLFSL)-এর শেয়ারদরে। দুটি কোম্পানিরই শেয়ারদর ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ করে কমেছে। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।

লুজার তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে সিমেন্ট খাতের বহুজাতিক কোম্পানি হাইডেলবার্গ সিমেন্ট। আগের দিনের শক্তিশালী উত্থানের পর কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমে ২৪৭ টাকা ৪০ পয়সায় নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির পর স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এই দরপতনের অন্যতম কারণ হতে পারে।

খাদ্য ও দুগ্ধজাত পণ্য খাতের মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের শেয়ারও বিক্রিচাপের মুখে পড়ে। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমে ৪৬ টাকা ৮০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতেও দুর্বলতা দেখা গেছে। এনসিসিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড-১ এর ইউনিটদর ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে যায়। একইভাবে কিছু বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নেওয়ায় ইউনিটদরে চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা।

লিজিং খাতের আরেক প্রতিষ্ঠান বে-লিজিংয়ের শেয়ারদর কমেছে ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারগুলোতে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যা বেশি থাকায় এ খাতটি দিনভর চাপে ছিল।

শিল্প খাতের আলোচিত দুটি কোম্পানি এপেক্স স্পিনিং ও এপেক্স ট্যানারির শেয়ারও লুজার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। এপেক্স স্পিনিংয়ের শেয়ারদর ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং এপেক্স ট্যানারির শেয়ারদর ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমেছে। সাম্প্রতিক উত্থানের পর এই দুটি শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।

-রাফসান


৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৪ ১৪:৪৫:৪৪
৪ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) নির্বাচিত কয়েকটি শেয়ারে শক্তিশালী ক্রয়চাপ দেখা যায়, যার ফলে একাধিক কোম্পানির শেয়ারদর প্রায় সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনশেষে গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে প্রযুক্তি খাতের জেনেক্স ইনফোসিস (GENEXIL)।

বাজারের তথ্য অনুযায়ী, জেনেক্সইলের শেয়ারদর একদিনে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বেড়ে ৩৪ টাকা ১০ পয়সায় পৌঁছেছে। ৩১ টাকা থেকে শুরু করে দিনজুড়ে ধারাবাহিক ক্রয়চাপের ফলে কোম্পানিটির শেয়ার বিনিয়োগকারীদের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। কোম্পানিটির শেয়ার ৯৪ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে ১০৪ টাকায় পৌঁছেছে। বীমা খাতে নতুন করে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার ইঙ্গিত হিসেবেই এ উত্থানকে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

গেইনার তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে সোনারগাঁও টেক্সটাইল। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহ ধরেই আলোচনায় থাকা কোম্পানিটির শেয়ারদর আরও ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৫ টাকা ৩০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতির কারণে এটি বর্তমানে বাজারের অন্যতম আলোচিত শেয়ারে পরিণত হয়েছে।

চতুর্থ স্থানে থাকা আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। কোম্পানিটির শেয়ার ১০৯ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন শেষ করেছে। শিল্প খাতের এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারেও দিনভর শক্তিশালী ক্রয়চাপ লক্ষ্য করা গেছে।

অন্যদিকে নির্মাণসামগ্রী খাতের প্রিমিয়ার সিমেন্টের শেয়ারদর ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়ে ৪৭ টাকায় পৌঁছেছে। অবকাঠামো ও নির্মাণ খাতকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির প্রতিফলন দেখা গেছে এই শেয়ারটির দর বৃদ্ধিতে।

বীমা খাতের আধিপত্যও ছিল চোখে পড়ার মতো। নর্দার্ন ইন্স্যুরেন্স ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ, বিএনআইসিএল ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ দর বৃদ্ধি নিয়ে গেইনার তালিকার শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে দিনটির বাজারে বীমা খাত অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

এছাড়া সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারদর প্রায় ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়ে ১৯ টাকা ২০ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। ওষুধ খাতের নির্বাচিত কিছু কোম্পানির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

-রাফসান


ঢাকার শেয়ার বাজারে বড় লাফ, ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেনের রেকর্ড

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ২১:৫২:৩৭
ঢাকার শেয়ার বাজারে বড় লাফ, ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেনের রেকর্ড
ছবি : সংগৃহীত

বিগত ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেনের এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে ঢাকার পুঁজিবাজারে। বুধবার (৩ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সব মিলিয়ে ১ হাজার ২৭৯ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড হাতবদল হয়েছে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এর চেয়ে বেশি অংকের লেনদেন হয়েছিল সর্বশেষ গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর, যেদিন বাজারটিতে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল। লেনদেনের এই বড় উথানের পাশাপাশি আজ বাজারে দর বৃদ্ধি পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যার ফলে দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৫ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৪৪১ পয়েন্টে গিয়ে ঠেকেছে।

বাজারের অতীত গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে জানা যায়, গত জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের খবরে ১৫, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি টানা তিন কার্যদিবস ডিএসইতে ১২০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছিল। তবে সেই জোয়ারের পর গত ২২ এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকার বাজারে লেনদেনের পরিমাণ আর হাজার কোটির ঘর স্পর্শ করতে পারেনি; কেবল মাঝে ৮ এপ্রিল প্রায় ৯৯২ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে ঈদের ছুটি কাটিয়ে বাজার খোলার পর গত সোমবার ডিএসইতে ৯০০ কোটি টাকার বেশি এবং মঙ্গলবার ১ হাজার ৮০ কোটি টাকার লেনদেন হয়। এর আগে সবশেষ গত ১২ মে বাজারটিতে হাজার কোটি টাকার গণ্ডি পেরিয়ে ১ হাজার ১০১ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হতে দেখা গিয়েছিল।

আজ বুধবার ডিএসইতে মোট ৩৯০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগকারীদের চাহিদার কারণে দর বেড়েছে ২৪৩টি কোম্পানির, বিপরীতে দর হারিয়েছে ৯৮টি এবং অপরিবর্তিত অবস্থায় আগের মূল্যেই লেনদেন শেষ করেছে ৪৯টি প্রতিষ্ঠান। এদিনের বাজার চাঙ্গা করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ও অবদান রেখেছে প্রকৌশল, বস্ত্র এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতের শেয়ারগুলো।

দিনের চূড়ান্ত ক্লোজিং প্রাইস বা সমাপনী মূল্য বিবেচনায় ডিএসইতে আজ দেশ গার্মেন্টসের শেয়ার দর সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্কিট ব্রেকার বা সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধির সীমা থাকার কারণে কোম্পানিটির শেয়ার দর আগের দিনের ১২৮ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বা ১২ টাকা বেড়ে সর্বশেষ ১৪০ টাকায় হাতবদল হয়েছে।

দেশ গার্মেন্টসের পাশাপাশি দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় আরও আধিপত্য দেখিয়েছে ইসলামী কমার্শিয়াল ব্যাংক, জেনেক্স ইনফোসিস এবং ইনফরমেশন সার্ভিসেস লিমিটেড। অন্যদিকে বাজারে বিক্রেতার চাপ থাকায় আজ সবচেয়ে বেশি দর হারিয়ে লোকসানের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে ইয়াকিন পলিমার, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক এবং ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স।

/আশিক


৩ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ১৫:০৭:২৪
৩ জুন: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বুধবার (৩ জুন) দেখা গেছে ব্যাপক ইতিবাচক প্রবণতা। অধিকাংশ শেয়ারের দর বৃদ্ধির পাশাপাশি লেনদেন, বাজার মূলধন এবং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাজারজুড়ে ক্রয়চাপ বৃদ্ধির ফলে দিনশেষে সবুজ আবহে শেষ হয়েছে লেনদেন।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, এদিন মোট ৩৯০টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৪৩টির দাম বেড়েছে, ৯৮টির দর কমেছে এবং ৪৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ দরবৃদ্ধি হওয়া কোম্পানির সংখ্যা দরপতন হওয়া কোম্পানির তুলনায় আড়াই গুণেরও বেশি, যা বাজারের ইতিবাচক মনোভাবের স্পষ্ট প্রতিফলন।

লেনদেনের পরিমাণও ছিল বেশ শক্তিশালী। দিনজুড়ে মোট ৩১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯২টি ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে। লেনদেন হওয়া শেয়ারের পরিমাণ ৪২ কোটি ৩৪ লাখ ৪৯ হাজারের বেশি। আর টাকার অঙ্কে মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৭৯ কোটি ১৩ লাখ টাকারও বেশি, যা সাম্প্রতিক সময়ের উল্লেখযোগ্য লেনদেনগুলোর মধ্যে অন্যতম।

বাজার মূলধনেও বড় ধরনের উন্নতি দেখা গেছে। দিনশেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৮৯ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকায়। এর মধ্যে ইকুইটি সিকিউরিটিজের বাজার মূলধন প্রায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা। ফলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলো সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বাজার উত্থানে। এই ক্যাটাগরির ১৯৭টি শেয়ারের মধ্যে ১২৯টির দর বেড়েছে। একইভাবে জেড ক্যাটাগরিতেও ৭১টি কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে। মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে ১৪টি ফান্ডের ইউনিটদর বৃদ্ধি পেয়েছে।

দিনের লেনদেনে ব্যাংক, বীমা, টেক্সটাইল, খাদ্য ও ওষুধ খাতের বেশ কয়েকটি শেয়ার বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল। বিশেষ করে ব্যাংক ও বীমা খাতের শেয়ারগুলোতে সক্রিয় অংশগ্রহণ বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী রাখতে সহায়তা করেছে।

ব্লক মার্কেটেও ছিল উল্লেখযোগ্য তৎপরতা। এদিন ৫৭টি কোম্পানির মোট ১৪৩টি ব্লক ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে। ব্লক মার্কেটে সবচেয়ে বেশি মূল্যমানের লেনদেন হয়েছে ওষুধ খাতের রেনাটার শেয়ারে। কোম্পানিটির প্রায় ৫ কোটি ১৬ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এছাড়া বিএনআইসিএল, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সিটিজেন জেনারেল ইন্স্যুরেন্স এবং মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শেয়ারেও বড় অঙ্কের ব্লক লেনদেন হয়েছে।

সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বিশেষভাবে লক্ষণীয় ছিল। ব্লক মার্কেটে প্রায় ৪ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে কোম্পানিটির। একইসঙ্গে বাজারের গেইনার তালিকাতেও প্রতিষ্ঠানটি শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ঈদ-পূর্ব সময় হওয়া সত্ত্বেও বাজারে তারল্যের উপস্থিতি এবং বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা, কিছু কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন এবং বাজারে আস্থা ফেরার ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের ক্রয়মুখী করেছে।

তবে তারা সতর্ক করে বলছেন, সাময়িক উত্থান দেখে আবেগপ্রবণ বিনিয়োগ না করে কোম্পানির মৌলিক ভিত্তি, আয় সক্ষমতা, লভ্যাংশ ইতিহাস এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা বিবেচনা করেই বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে বুধবারের লেনদেনে ডিএসইতে স্পষ্টভাবে ক্রেতাদের আধিপত্য দেখা গেছে। লেনদেনের পরিমাণ, বাজার মূলধনের বৃদ্ধি এবং অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ঈদ-পূর্ব শেষ কর্মদিবসগুলোতে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক ধারা আরও জোরালো হতে পারে।

-রাফসান


৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ১৫:০২:৩৪
৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বুধবার (৩ জুন) সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও বেশ কয়েকটি শেয়ার দিনের লেনদেন শেষে উল্লেখযোগ্য দরপতনের মুখে পড়েছে। বাজারে ক্রেতাদের সক্রিয় উপস্থিতি থাকলেও কিছু কোম্পানির শেয়ারে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং বিক্রির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল্যহ্রাস দেখা গেছে।

দিনের লেনদেন শেষে দরপতনের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসে ইয়াকিন পলিমার (ওয়াইপিএল)। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমে ২৫ টাকা ৫০ পয়সায় নেমে আসে। সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলে নেওয়ায় শেয়ারটিতে বিক্রির চাপ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের শেয়ারে। ব্যাংকটির শেয়ারদর ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ কমে ২ টাকা ৬০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক খাতে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান এই পতনের অন্যতম কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ড্যাফোডিল কমিউটার্সও বিক্রিচাপের মুখে পড়ে। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে ১৩৭ টাকায় নেমে এসেছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের শক্তিশালী মূল্যবৃদ্ধির পর এ শেয়ারেও স্বাভাবিক সংশোধন দেখা গেছে বলে বাজারসংশ্লিষ্টদের অভিমত।

বীমা খাতের কয়েকটি কোম্পানিও লুজার তালিকায় স্থান পেয়েছে। সিকদার ইন্স্যুরেন্স (এসআইসিএল) ৩ দশমিক ২২ শতাংশ এবং সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ দর হারিয়েছে। একইভাবে জনতা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদরও প্রায় ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ কমেছে।

খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য খাতের আলোচিত কোম্পানি আরডি ফুডের শেয়ারদর ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমে যায়। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারটি বাজারে অন্যতম আলোচিত গেইনার ছিল, বুধবার লেনদেনে সেখানে কিছুটা মূল্যসংশোধন লক্ষ্য করা গেছে।

এ ছাড়া শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, আজিজ পাইপস এবং ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডও দিনের লেনদেনে দর হারিয়েছে। এসব কোম্পানির শেয়ারে সীমিত ক্রয়চাপ এবং তুলনামূলক বেশি বিক্রির প্রবণতা মূল্যহ্রাসের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

-রাফসান


৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ১৪:৫৭:৫৫
৩ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

বুধবার (৩ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) একাধিক শেয়ারের দামে উল্লেখযোগ্য উত্থান হয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, প্রযুক্তি, খাদ্য, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের কয়েকটি কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

দিনের লেনদেন শেষে মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষ অবস্থান দখল করে নেয় ডিএসএইচ গার্মেন্টস। কোম্পানিটির শেয়ারদর ১০ শতাংশ বেড়ে ১৪০ টাকা ৮০ পয়সায় পৌঁছায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পোশাক খাতে রপ্তানি প্রত্যাশা এবং কোম্পানিটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার কারণে শেয়ারটির প্রতি ক্রয়চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রযুক্তি খাতের জেনেক্স ইনফোসিসের শেয়ারদর প্রায় ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেড়ে ৩১ টাকায় উঠে আসে। ডিজিটাল সেবা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদের প্রতিফলন হিসেবে অনেক বিনিয়োগকারী এই শেয়ারটির দিকে ঝুঁকেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা আইএসএন লিমিটেডের শেয়ারদর ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৬ টাকা ৪০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। শিল্পখাতভিত্তিক এই কোম্পানির শেয়ারে ক্রেতাদের সক্রিয় উপস্থিতি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের আলোচিত কোম্পানি সোনারগাঁও হোটেলও দিনভর শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। শেয়ারটির দাম ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে ৫৯ টাকা ৪০ পয়সায় পৌঁছেছে। পর্যটন খাতের সম্ভাব্য পুনরুদ্ধার এবং কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ আয়ের প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

এদিকে অটোমোবাইল খাতের বাংলাদেশ অটোকারসও উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখিয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে ২৩২ টাকা ৮০ পয়সায় উঠে এসেছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ারদর ৭ দশমিক ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৯ টাকা ৩০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নির্মাণ ও প্রকৌশল খাতের মীর আখতার হোসেনের শেয়ার ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেড়ে বিনিয়োগকারীদের নজর কাড়ে।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এলআর গ্লোবাল মিউচ্যুয়াল ফান্ড-১ এর ইউনিট মূল্য ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে খাদ্য খাতের বিডি থাই ফুডস এবং ওষুধ খাতের এসিএমই পেস্টিসাইডসও যথাক্রমে ৬ দশমিক ২০ এবং ৬ দশমিক ১০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ঈদ-পূর্ব সময় হওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী সম্ভাবনাময় শেয়ার সংগ্রহে সক্রিয় রয়েছেন। বিশেষ করে মৌলভিত্তি শক্তিশালী এবং সাম্প্রতিক সময়ে ভালো আর্থিক পারফরম্যান্স দেখানো কোম্পানিগুলোর প্রতি ক্রয়চাপ বাড়ছে।

-রাফসান


২ জুন: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০২ ১৫:১০:১৬
২ জুন: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

জুন মাসের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, লেনদেনও হাজার কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বিনিয়োগকারীদের ক্রয়চাপ এবং নির্বাচিত খাতে বাড়তি আগ্রহের ফলে দিনশেষে বাজারজুড়ে সবুজ প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে।

ডিএসইর দিনশেষের তথ্য অনুযায়ী, লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯৩টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ২৩০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ১১৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪৭টির শেয়ারদর। অর্থাৎ বাজারে দরবৃদ্ধিকারী কোম্পানির সংখ্যা দরপতনকারী কোম্পানির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল।

বাজারের প্রধান ক্যাটাগরিগুলোর মধ্যেও ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৯৮টি কোম্পানির মধ্যে ১১৫টির দর বেড়েছে, যেখানে কমেছে ৫৯টির। একইভাবে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৭৪টি কোম্পানির মধ্যে ৫০টির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি দীর্ঘদিন চাপের মুখে থাকা ‘জেড’ ক্যাটাগরিতেও ৬৫টি কোম্পানির শেয়ারদর ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

দিনের লেনদেনে মোট ২ লাখ ৬৬ হাজার ২২৭টি ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে। এসব লেনদেনে হাতবদল হয়েছে প্রায় ৩৭ কোটি ২০ লাখ শেয়ার ও ইউনিট। আর্থিক মূল্যে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮০ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যা সাম্প্রতিক সময়ের উল্লেখযোগ্য লেনদেনগুলোর একটি।

পুঁজিবাজারে ইতিবাচক মনোভাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো বাজারমূলধন। মঙ্গলবার ডিএসইতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট বাজারমূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৯১ কোটি টাকায়। এর মধ্যে শুধুমাত্র ইকুইটি সিকিউরিটিজের বাজারমূলধন ছিল প্রায় ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক, বীমা, ওষুধ, টেক্সটাইল ও খাদ্য খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল বেশি। বিশেষ করে বীমা ও আর্থিক খাতের একাধিক কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য ক্রয়চাপ লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে ব্লক মার্কেটেও ছিল উল্লেখযোগ্য সক্রিয়তা। দিনভর ৪৯টি কোম্পানির শেয়ার ব্লক মার্কেটে লেনদেন হয়েছে। এ খাতে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪০৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

ব্লক মার্কেটে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে BRAC Bank–এর শেয়ারে। ব্যাংকটির প্রায় ১০৯ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এছাড়া Asiatic Laboratories, Meghna PET Industries, GQ Ball Pen Industries এবং Dominage Steel Building Systems–এর শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য ব্লক লেনদেন হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধি এবং কিছু মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির ইতিবাচক আর্থিক তথ্য বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করছে। ফলে বাজারে ক্রেতাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে এবং লেনদেনের গতি শক্তিশালী হচ্ছে।

তারা আরও মনে করছেন, লেনদেনের পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকার ওপরে থাকা এবং অধিকাংশ শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। তবে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে করপোরেট আয়ের ধারাবাহিক উন্নতি, নীতিগত স্থিরতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

-রাফসান


২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০২ ১৫:০৮:০৬
২ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

সপ্তাহের লেনদেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশ কয়েকটি শেয়ার উল্লেখযোগ্য মূল্যহ্রাসের মুখে পড়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) দিনের লেনদেন শেষে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতের একাধিক সিকিউরিটিজ বিনিয়োগকারীদের বিক্রিচাপের কারণে বড় ধরনের দরপতনের শিকার হয়েছে।

দিনের সর্বোচ্চ দরহারা কোম্পানি ছিল বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে ৪ টাকা ১০ পয়সায় নেমে আসে। আগের কার্যদিবসে শেয়ারটির সমাপনী মূল্য ছিল ৪ টাকা ৫০ পয়সা।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফেয়ারইস্ট ফাইন্যান্স। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমে ১ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে এসেছে। একই হারে দর হারিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আইএলএফএসএল। দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল মৌলভিত্তি ও সীমিত লেনদেনের কারণে এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

লুজার তালিকার চতুর্থ স্থানে থাকা ক্যাপএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটদর ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ কমেছে। এদিন মিউচুয়াল ফান্ড খাতের বেশ কয়েকটি ইউনিটে বিক্রির চাপ লক্ষ্য করা গেছে, যা খাতটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে উচ্চমূল্যের শেয়ারগুলোর মধ্যেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। লিব্রা ইনফিউশনের শেয়ারদর ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে ৬৩৭ টাকা ২০ পয়সায় নেমে আসে। একইভাবে পিএফ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং এইচএফএল ৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ দর হারিয়েছে।

এদিন প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতের কয়েকটি কোম্পানিও চাপের মুখে ছিল। জেননেক্সট ইনোভেশনসের শেয়ারদর ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ কমেছে। একই হারে কমেছে প্রাইম ফাইন্যান্সের শেয়ারমূল্য। এছাড়া অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালসের শেয়ারদর প্রায় ২ দশমিক ৯০ শতাংশ কমে শীর্ষ দশ লুজারের তালিকায় জায়গা করে নেয়।

বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, মঙ্গলবারের লুজার তালিকায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতের আধিপত্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এটি ইঙ্গিত করছে যে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ এখনও এসব খাতের ভবিষ্যৎ আয় ও প্রবৃদ্ধি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: