বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের ৪ প্রেস কর্মকর্তাকে অব্যাহতি

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে দায়িত্বরত চারজন প্রেস কর্মকর্তাকে অবিলম্বে তাঁদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি নিয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তা হলেন মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বাংলাদেশ কন্স্যুলেট জেনারেল অফিসের প্রথম সচিব (প্রেস) মো. আরিফুর রহমান, সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (প্রেস) আসাদুজ্জামান খান এবং জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (প্রেস) মো. ইমরানুল হাসান।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে, এই কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াটি গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে এই ৪ কর্মকর্তাকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ১৩ এপ্রিল সেই আদেশটি সাময়িকভাবে বাতিল করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট মিশনগুলোতে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে উল্লিখিত প্রতিটি মিশনে নতুন প্রেস কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের অনুকূলে প্রয়োজনীয় আর্থিক সরকারি আদেশও জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এই কর্মকর্তাদের আবশ্যিকভাবে এবং অবিলম্বে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি নিতে হবে। পরবর্তী পদায়নের লক্ষ্যে তাঁদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর প্রেস উইংয়ের কাজে নতুন গতিশীলতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে এবং প্রবাসীদের সাথে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে নতুন কর্মকর্তারা দ্রুতই তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বড় কাটছাঁট : আরএডিপির নতুন চিত্র
আজ শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চলতি অর্থবছরের জন্য ২ লাখ কোটি টাকার সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মূল এডিপির তুলনায় এটি প্রায় ১৩ শতাংশ বা ৩০ হাজার কোটি টাকা কম। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যানুযায়ী, সরকারি অর্থায়ন অংশে ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান অংশে ১৪ হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট করা হয়েছে। ফলে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে বরাদ্দ হয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি এবং মন্ত্রণালয়গুলোর চাহিদাপ্রাপ্তি কম হওয়ায় এই বরাদ্দ কমানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশোধিত এডিপিতে খাতভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে স্বাস্থ্য খাত। বাস্তবায়ন সক্ষমতার অভাব এবং প্রশাসনিক ধীরগতির কারণে এই খাতে বরাদ্দ মূল বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ৭৪ শতাংশ কমানো হয়েছে। ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ এখন মাত্র ৪ হাজার ৭১৮ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। একইভাবে শিক্ষা খাতে ৩৫ শতাংশ এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে বড় ধরণের কাটছাঁট করা হয়েছে। অন্যদিকে ব্যতিক্রম হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবেশ ও পানি সম্পদ খাতে ২০ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, যা সরকারের পরিবেশবান্ধব নীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বরাদ্দের দিক থেকে বরাবরের মতোই শীর্ষে রয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। মোট ৩৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে এই খাতটি মোট এডিপির এক-পঞ্চমাংশ দখল করে আছে। তবে এই খাতেও মূল বরাদ্দের তুলনায় ৩৫ শতাংশ অর্থ কমানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দে স্থানীয় সরকার বিভাগ ৩৭ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা পেয়ে সবার উপরে রয়েছে। বর্তমান সংশোধিত কর্মসূচিতে মোট ১ হাজার ৩৩০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে চলতি অর্থবছরেই ২৮৬টি প্রকল্প সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন যুক্ত করলে আরএডিপির মোট আকার দাঁড়ায় ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা।
জেঁকে বসছে শীত, ১৩ জেলার জন্য বড় দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর
দেশের উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীতের তীব্রতা এখন চরমে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ রংপুর বিভাগের আটটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই ১৩টি জেলায় রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ নিচে নেমে আসায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। আজ সন্ধ্যায় দেওয়া পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই শৈত্যপ্রবাহ আপাতত অব্যাহত থাকতে পারে এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা আরও সামান্য কমতে পারে। তবে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াচিত্রের বিশ্লেষণে দেখা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের শ্রীলঙ্কা উপকূলে অবস্থানরত নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। তবে এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। অন্যদিকে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছে, যা শীতের তীব্রতা বাড়াতে প্রধান ভূমিকা রাখছে। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
শীতের পাশাপাশি ঘন কুয়াশা এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নদী অববাহিকাগুলোতে শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। এর ফলে নৌযান ও সড়কপথে যান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যান্য অঞ্চলেও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা বিরাজ করবে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, অতিরিক্ত কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় যানবাহন চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এই কনকনে শীতে শিশু ও বৃদ্ধদের ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে রক্ষায় বিশেষ যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার জাপান সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বড় তথ্য জানালেন সচিব
আজ রোববার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্ত্রী আকি আবে। বর্তমানে তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ফাউন্ডেশন ফর এনকারেজমেন্ট অফ সোশ্যাল কন্ট্রিবিউশন’-এর একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (AUW)-এর ১২তম সমাবর্তনে অংশ নিতে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন। বৈঠকে ড. ইউনূস প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সাথে তাঁর সুদীর্ঘ ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করেন এবং দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, আকি আবে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাঁর নির্বাচন-পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ড. ইউনূস তাঁর তিনটি প্রধান অগ্রাধিকারের কথা জানান
নারীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা এবং প্রবাসীরা যাতে বিদেশ থেকে ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে দেশে থাকা পরিবারের স্বাস্থ্যের খোঁজ রাখতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা।
দেশের বিশাল যুব সমাজকে নতুন নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ বা স্টার্টআপে উদ্বুদ্ধ করা।
শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ নিশ্চিত করার বৈশ্বিক লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা।
মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় জাপান সফরটি মূলত সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদানের অংশ। ফাউন্ডেশনটি বিশ্বজুড়ে গবেষণামূলক কাজের জন্য পরিচিত, বিশেষ করে সমুদ্র বিষয়ক গবেষণায় তাদের বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। ড. ইউনূস এই সফরে গিয়ে সমুদ্রসম্পদ ও ব্লু-ইকোনমি বা নীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করবেন। প্রধান উপদেষ্টা মনে করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর এটি হবে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের নতুন সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরার এক চমৎকার সুযোগ।
আচরণবিধি রক্ষায় কঠোর প্রশাসন: সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা জারি
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচনি মাঠের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে প্রশাসন। সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, অনেক প্রার্থী বা তাঁদের সমর্থকরা বিভিন্ন সেমিনার, সংবর্ধনা কিংবা যুব সমাবেশের আড়ালে ভোটারদের জমায়েত করে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। এক্ষেত্রে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভেন্যু হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবহার। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি ছাড়াই স্থানীয় প্রভাব বা অনুরোধে মাঠ বা হলরুম ব্যবহারের মৌখিক অনুমতি দিচ্ছেন। এই প্রবণতাকে নির্বাচনি আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো এই নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, নির্বাচনপূর্ব সময়ে আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালন করা বাধ্যতামূলক। কোনো অবস্থাতেই রিটার্নিং অফিসারের সুনির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরণের সমাবেশের আয়োজন করা যাবে না। প্রার্থীরা যাতে সংবর্ধনা বা সামাজিক অনুষ্ঠানের নামে নির্বাচনি প্রচারণার সুবিধা নিতে না পারেন, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব এখন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নির্বাচনি উত্তাপ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই দ্বৈত নির্বাচনকে (সংসদ নির্বাচন ও গণভোট) একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তাই কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি আইন লঙ্ঘন করে ভেন্যু ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। নির্বাচনের এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি রিটার্নিং অফিসাররা প্রতিটি এলাকায় নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালাবেন। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্দেহজনক কোনো জমায়েত দেখা দিলে তা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ মূলত সকল প্রার্থীর জন্য একটি সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করতে সহায়ক হবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালাবে অন্তর্বর্তী সরকার: প্রেসসচিব
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই সাথে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একটি ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই গণভোটে ভোটাররা মূলত চারটি প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করে তাঁদের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ মতামত প্রদানের সুযোগ পাবেন। সরকারের পক্ষ থেকে এই গণভোট বা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, এ ধরণের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক বিষয়ে সরকারের প্রচারণা চালানোর ক্ষেত্রে কোনো আইনগত বাধা নেই। সরকারের এই উদ্যোগটি মূলত নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের অংশ।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের এই নির্বাচন ব্যাপক গুরুত্ব পাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে প্রেস সচিব জানান, আসন্ন নির্বাচনে ইইউ একটি বড় ধরণের পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে সম্মত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হওয়ার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোনো পর্যবেক্ষক দল পাঠায়নি। এবারের নির্বাচনে তাদের এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখছে। সরকার সকল রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং কাউকে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।
নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেছেন শফিকুল আলম। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য বা ‘মিসইনফরমেশন’ ছড়ানোকে তিনি নির্বাচনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বিদায়ী বা পতিত সরকারের অনুসারীরা নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে ইন্টারনেটে মিথ্যা তথ্য ছড়াতে পারে। তবে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন যে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে অনেক ভালো এবং যেকোনো ধরণের নাশকতা বা গুজব মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নরসিংদীর সাম্প্রতিক একটি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ভুল তথ্যের অপব্যবহার নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহমেদ জানান, মুদি ব্যবসায়ী মণি চক্রবর্তীর মৃত্যু কোনো সাম্প্রদায়িক হামলার কারণে হয়নি, বরং এটি ছিল পারিবারিক কলহের জেরে ঘটা একটি হত্যাকাণ্ড। প্রেস উইং থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তাঁরা যেকোনো স্পর্শকাতর বিষয়ে বিবৃতি দেওয়ার আগে ঘটনার সত্যতা গুরুত্বের সাথে যাচাই করে নেন। সামগ্রিকভাবে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই দ্বৈত ভোটাভুটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছে সরকার।
পাবনা-১ ও ২ আসনে নির্বাচন স্থগিত করল ইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজলেও পাবনার দুটি সংসদীয় আসনে ভোটের আকাশে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। গত ৬ জানুয়ারি ইসি সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা জনসমক্ষে আসে আরও কয়েক দিন পর। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচনি এলাকা ৬৮ পাবনা-১ ও ৬৯ পাবনা-২ এর সীমানা সংক্রান্ত সিএমপি আপিল বিভাগের ৫ জানুয়ারির আদেশের প্রেক্ষিতেই ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের এই দুটি আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ইতিমধ্যে এই আদেশের অনুলিপি পাবনার জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আইনি প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক বিতর্ক চলমান ছিল। গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে সাঁথিয়া উপজেলার পুরোটা নিয়ে পাবনা-১ এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলা মিলিয়ে পাবনা-২ আসন চূড়ান্ত করা হয়েছিল। তবে এই পুনর্বিন্যাসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। আপিল বিভাগের সর্বশেষ আদেশের পর কমিশন অত্যন্ত দ্রুততার সাথে স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিলেও বিষয়টি নিয়ে গত শুক্রবার বড় ধরণের ধোঁয়াশা তৈরি হয়। শুক্রবার গণমাধ্যমে এই স্থগিতের খবর প্রকাশিত হলে ইসির জনসংযোগ শাখার পক্ষ থেকে তা ‘সঠিক নয়’ বলে দাবি করা হয়েছিল। সে সময় জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক সংবাদটিকে গুজব হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রচার বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
তবে শনিবার বিকেলে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুক্রবারের সেই বড় ধরণের বিভ্রান্তি দূর করেন। তিনি স্বীকার করেন যে হাইকোর্টের নির্দেশনা পাওয়ার পর কিছু ‘তথ্যগত অসম্পূর্ণতা’ ছিল যা দূর করার পর এই স্থগিতাদেশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে গতকাল যা মৌখিকভাবে বলা হয়েছিল, আজ সেটিই দাপ্তরিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। সচিবের মতে, অসম্পূর্ণতাগুলো দূর করতেই এই সামান্য সময়ের প্রয়োজন ছিল এবং গতকালের কথা আজ তোলার কোনো প্রয়োজন নেই। এই স্থগিতাদেশের ফলে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে নির্বাচনের নতুন সময়সূচি কবে ঘোষণা করা হবে তা নিয়ে স্থানীয় ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
এই অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তে পাবনার রাজনৈতিক মহলে বিশেষ করে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে প্রচার-প্রচারণা নিয়ে এক ধরণের আকস্মিক স্থবিরতা নেমে এসেছে। পাবনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে ইসির পক্ষ থেকে স্থগিতের দাপ্তরিক নির্দেশ পাওয়ার পর যাবতীয় নির্বাচনি কার্যক্রম পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাবনার অন্য তিনটি আসনে প্রস্তুতি স্বাভাবিক থাকলেও পাবনা-১ ও ২ নিয়ে ইসির এই চূড়ান্ত ঘোষণা সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়েছে।
১৫ বছর ছিলাম পাকিস্তানের দালাল, এখন ভারতের: আসিফ নজরুল
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক সংলাপে আসিফ নজরুল তাঁর ব্যক্তিগত সততা এবং পরিবারের বিরুদ্ধে চলা মিথ্যে প্রচারণার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি জানান যে ছয় মাস আগে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করা সত্ত্বেও কেউ আমেরিকায় তাঁর কথিত বাড়ির সন্ধান দিতে পারেনি, অথচ এখনও এক ধরণের ‘বদমাইশ’ চক্র এই গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে। ড. নজরুলের মতে, তাঁর নামে কুৎসা রটালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ভিউ’ বেশি পাওয়া যায় এবং আর্থিক মুনাফা বা মনিটাইজেশন সহজ হয় দেখেই একটি শ্রেণি এই হীন কাজে লিপ্ত রয়েছে। তিনি একে নিছক সমালোচনা নয় বরং একটি বিশেষ রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অভিহিত করেন।
জুলাই বিপ্লবের ঘটনাগুলোতে আসামিদের জামিন পাওয়া প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল তাঁর সীমাবদ্ধতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন যে এই মামলাগুলোতে ৯০ শতাংশ জামিন হয়েছে হাইকোর্ট থেকে, যেখানে আইন উপদেষ্টার সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। বিচারক নিয়োগ বা অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ও প্রধান বিচারপতির অধীনে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন কেন এই দায় তাঁর ওপর চাপানো হচ্ছে। ড. নজরুল আক্ষেপ করে বলেন যে কোনো ভুল হলে বিচারকের সমালোচনা না করে দায়ভার কেবল তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়াটা এক ধরণের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাংবাদিকতা বা পেশাদারী বিদ্বেষের শামিল।
অধ্যাপক আসিফ নজরুল সরকারের সমালোচকদের প্রতি বস্তুনিষ্ঠ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে সরকার যদি দশটির মধ্যে চারটি কাজও করে তবে সেটির স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। ঢালাওভাবে ‘কিছুই হয়নি’ বলার প্রবণতা সমালোচনাকে একটি পেশা বা স্রেফ আত্মতৃপ্তির বিষয়ে পরিণত করে যা দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। তিনি ইসলাম ধর্মের শিক্ষা অনুযায়ী সকলকে আত্মসমালোচনার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেন। বক্তব্যের শেষভাগে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে রাজনৈতিক দল, এনজিও এবং সংবাদমাধ্যম—সবাইকে আগে নিজেদের ভেতর সংস্কার আনতে হবে। নিয়ত পরিষ্কার রেখে সবাই যদি সৎভাবে কাজ করে, তবে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছাবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।
ফ্যাসিবাদের কবর খুঁড়তে গণভোট! জানুন কেন ‘হ্যাঁ’ জয়ী করতে মরিয়া সব দল
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন ও একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং এর সপক্ষে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, ক্ষমতার ভারসাম্য ও সংবিধান সংস্কারের এই প্রশ্নে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এখন একই মোহনায় এসে দাঁড়িয়েছে। গত ১৩ নভেম্বর জারি করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ অনুযায়ী এই গণভোট পরিচালিত হবে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল শুক্রবার ঠাকুরগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই গণভোটে ‘না’ দেওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, সংস্কারের যেসব প্রস্তাব নিয়ে এই গণভোট হতে যাচ্ছে, তার অধিকাংশই বিএনপি অনেক আগে ২০১৬ এবং ২০২৩ সালে তাদের ‘৩১ দফা’ রূপরেখার মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরেছিল। সংস্কারকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়া তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল।
সম্প্রতি বিএনপির কোনো কোনো স্তরের নেতাকর্মী সামাজিক মাধ্যমে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালালে রাজনৈতিক মহলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এমনকি শেরপুরের এক বিএনপি নেতার বক্তব্য ভাইরাল হয়, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ১৬ ডিসেম্বর বা ২৬ মার্চের অস্তিত্ব থাকবে না। তবে বিএনপি নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা দলগতভাবে ‘না’ ভোটের পক্ষে নয় এবং এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণার সাথে দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের কোনো সম্পর্ক নেই। বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফাইড পেজ থেকেও মহাসচিবের বক্তব্য প্রচার করার মাধ্যমে দলটির ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন সুনিশ্চিত করা হয়েছে।
সরকারের প্রচার কৌশল ও নীতিগত পরিবর্তন
শুরুতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, তারা কেবল গণভোটের আয়োজন করবে এবং এর পক্ষে-বিপক্ষে কোনো প্রচারণা চালাবে না। তবে গত সোমবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই অবস্থানে আমূল পরিবর্তন এসেছে। সরকার এখন সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মাঠ পর্যায়ে প্রচার শুরু করেছে। এই প্রচারণায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি দপ্তর এবং এনজিওগুলোকেও যুক্ত করা হয়েছে। প্রচারপত্র ও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জনগণকে বোঝানো হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রুখতে এবং জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া অপরিহার্য।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে যে সংস্কারের রূপরেখা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নেই ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, আরেক বিশেষ সহকারী মনির হায়দার জানিয়েছেন, প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে মসজিদের ইমাম-খতিবরা মুসল্লিদের গণভোটে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করবেন। একই সাথে মন্দির, প্যাগোডা ও চার্চ থেকেও এই প্রচারণা চালানো হবে। সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধাভোগীদের মাধ্যমেও এই বার্তা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১টি দলের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচনী সমঝোতা জোট শুরু থেকেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কাজ করছে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান নিয়মিতভাবে এই সংস্কারের পক্ষে জনমত গঠন করছেন। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার মতো আর কোনো স্বৈরাচার যাতে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই তাঁরা জনগণের কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইছেন। এ ছাড়া বিএনপির জোট শরিক গণসংহতি আন্দোলনের জুনায়েদ সাকি এবং গণঅধিকার পরিষদও সরাসরি সংস্কারের সপক্ষে প্রচারণায় নেমেছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জনগণ রঙিন ব্যালটের মাধ্যমে তাদের সিদ্ধান্ত দেবেন। মূলত গত ১৭ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ এবং এর অধীনে প্রস্তাবিত ৪৮টি সাংবিধানিক সংস্কারের ওপর ভিত্তি করেই এই ভোট হবে। যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়, তবে পরবর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ এসব প্রস্তাবনা চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন করবে। এর ফলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সংবিধানে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তিতাসের গ্যাস সরবরাহে গ্রাহকদের জন্য দুঃসংবাদ
রাজধানীতে চলমান শীতকালীন গ্যাস সংকটের মধ্যেই নতুন করে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। তুরাগ নদীর তলদেশে স্থাপিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতরণ গ্যাস পাইপলাইন নৌযানের নোঙরের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মেরামতকাজ চলাকালে পাইপলাইনে পানি প্রবেশ করায় গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঢাকার আমিনবাজার সংলগ্ন তুরাগ নদীর নিচে অবস্থিত বিতরণ লাইনে একটি মালবাহী ট্রলারের নোঙর আটকে যাওয়ায় পাইপলাইনে ফাটল সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বুধবার থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় গ্যাসের চাপ কমিয়ে মেরামত কার্যক্রম শুরু করা হয়।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) তিতাস গ্যাসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সমস্যার দ্রুত সমাধানে প্রকৌশলীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাইপলাইনে পানি ঢুকে পড়ায় মেরামত প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করে সাময়িক এই ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
কোন কোন এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত
পাইপলাইন ক্ষতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে গাবতলী থেকে আসাদগেট পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর, বসিলা, লালমাটিয়া, ধানমন্ডি ও আশপাশের এলাকায় বুধবার থেকেই গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ছুটির দিনে রান্না ও গৃহস্থালি চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শাহজাহান বলেন, রাতে অল্প সময়ের জন্য কিছুটা গ্যাস পাওয়া গেলেও দিনের বেশিরভাগ সময় চুলা জ্বালানো সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে আনতে হয়েছে।
ধানমন্ডির বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন জানান, গ্যাস কার্যত নেই বললেই চলে। রান্নার কোনো উপায় না থাকায় বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করতে হয়েছে, যা বিদ্যুৎ খরচও বাড়াচ্ছে।
তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা গেছে, পাইপলাইনের ভেতরে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুরোপুরি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে। নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে গ্যাস চাপ ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে।
-রাফসান
পাঠকের মতামত:
- বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের ৪ প্রেস কর্মকর্তাকে অব্যাহতি
- পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় প্রকল্পের নামে গণহারে বৃক্ষনিধন
- শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বড় কাটছাঁট : আরএডিপির নতুন চিত্র
- বিশ্বকাপের ভেন্যু নিয়ে বাংলাদেশ–আইসিসি টানাপোড়েন
- ১২ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১২ জানুয়ারি ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি
- ১২ জানুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধির তালিকা
- বহুবিবাহ আইনে রিট খারিজ, আইনি বিধান কার্যকর
- ক্রিকেটারকে অপমান মানেই দেশকে অপমান: মির্জা ফখরুল
- শেয়ারহোল্ডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্পট নিউজ
- মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের Q2 প্রকাশ এবং সংশোধন
- ডিএসইতে আজ প্রকাশিত সব মিউচুয়াল ফান্ড এনএভির বিশ্লেষণ
- ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁস : আতঙ্কে বিশ্ব
- নির্বাচন ও ক্রিকেট নিয়ে বড় বার্তা দিলেন বিএনপি মহাসচিব
- নিজেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করলেন ট্রাম্প
- তেলহীন সয়া কাবাব ও টিক্কা তৈরির জাদুকরী রেসিপি জানুন
- পরিমিত খেয়েও খেয়েও কমছে না ওজন যে সমাধান দিলেন চিকিৎসক
- ব্রণের দাগ দূর করতে ঘরোয়া ফেসপ্যাকের কার্যকারিতা জানুন
- স্বাস্থ্যকর মনে হলেও লিভার ধ্বংস করছে এই ৩টি খাবার
- জনগণের প্রত্যক্ষ পরামর্শে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে বিএনপি:তারেক রহমান
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১২ জানুয়ারি ২০২৬
- হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে উত্তরের জনপদ: তীব্র শীতে কর্মহীন হাজারো মানুষ
- লুটপাট ও দুর্নীতির ভয় কাটিয়ে ব্যাংকমুখী গ্রাহক: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাঞ্চল্যকর তথ্য
- রমজানের আগমনী বার্তা: রজব মাস ও মেরাজের তাৎপর্য
- খেলা প্রেমীদের জন্য টিভির পর্দায় আজকের সব খেলার সময়সূচি
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ ১২ জানুয়ারি ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- লাশ আর গ্রেপ্তার নিয়ে বিশ্ববিবেকের দরজায় ইরান
- জেঁকে বসছে শীত, ১৩ জেলার জন্য বড় দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর
- এক সময়ের খামেনি অনুগতরাই কেন এখন বিক্ষোভে? নেপথ্যের কারণ জানুন
- প্রধান উপদেষ্টার জাপান সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বড় তথ্য জানালেন সচিব
- মানবাকৃতি রোবটে চীনের দাপট: বক্সিং থেকে নাচ—সবই করছে রোবট!
- দ্বিতীয় বিয়েতে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়: হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়
- শীতে গোলাপী ও নরম ঠোঁট পেতে নারকেল তেলের ৩টি জাদুকরী ব্যবহার
- বোয়ালখালী'র শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন
- বোয়ালখালী'র শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন
- জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাঁচাতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করুন: চরমোনাই পীর
- একই খরচে মিলবে সুপারফাস্ট ইন্টারনেট: জেনে নিন কোন প্যাকেজে কত গতি
- আচরণবিধি রক্ষায় কঠোর প্রশাসন: সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা জারি
- আবারও মুখোমুখি অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
- ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর? বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ নিয়ে বড় খবর
- গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালাবে অন্তর্বর্তী সরকার: প্রেসসচিব
- বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, পাল্টা হামলার ভয়ে ইসরায়েলে হাই অ্যালার্ট জারি
- আইসিসিকে নতুন শর্ত দিয়েছে বিসিবি: বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
- প্রধান বোর্ডে আজ লেনদেন ও ট্রেডের পূর্ণ চিত্র প্রকাশ
- জুলাই বিপ্লব ইস্যুতে ইবিতে আবারও তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু
- বিগ ব্যাশে রিশাদের দাপট, প্লে-অফে হোবার্ট
- এবার মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি ইরানের
- এসএসসি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ
- বুধবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- ৮ জানুয়ারি ডিএসই মেইন বোর্ডের লেনদেন চিত্র
- শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতি, শীর্ষ ২০ শেয়ারের তালিকা বিশ্লেষণ
- বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ
- এক চড়, দশ হাজার টাকা, আর চিরকালের নত মেরুদণ্ড
- ওষুধের দরে বড় চমক! এবার ২৯৫টি ওষুধের দাম বেঁধে দিল অন্তর্বর্তী সরকার
- ডলারের আধিপত্য ও তেলের নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্পের শুল্কের রাজনীতিতে কাঁপছে বিশ্ববাজার
- যেসব এলাকায় তাপমাত্রা নামতে পারে ৭ ডিগ্রিতে
- সদরপুরে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালানোয় ৫ জনকে জরিমানা
- শীতে এলপিজির হাহাকার রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল সরকার
- মধ্যদুপুরে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা: টপ টেন লুজারে কারা
- ডিভিডেন্ড পরিশোধে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তিন প্রতিষ্ঠানের
- ০৬ জানুয়ারি বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- আজ ঢাকায় বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান








