ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট
ভোটের মাঠে কক্সবাজার ১: সালাহউদ্দিনের আত্মবিশ্বাস বনাম জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজার ১ বা চকরিয়া পেকুয়া আসনটি এখন রাজনৈতিক উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এবং এখানকার প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর জামায়াতে ইসলামীও এখানে নিজেদের শক্তি পরীক্ষায় নেমেছে। ফলে ভোটের মাঠে একসময়ের জোটসঙ্গী দুই দলের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমদের অপরাজেয় ভাবমূর্তি
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের প্রথম মেয়াদের সহকারী একান্ত সচিব বা এপিএস থেকে রাজনীতির মাঠে আসা সালাহউদ্দিন আহমদ এই আসনে একবারের জন্যও হারেননি। আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামল বাদ দিলে তার আগের একটি নির্বাচনেও তাঁকে কেউ পরাজিত করতে পারেনি। এমনকি রাজনৈতিক মামলা ও নির্বাসনের কারণে তিনি নিজে যখন প্রার্থী হতে পারেননি তখন তাঁর সহধর্মিণী হাসিনা আহমেদ এই আসন থেকে দাঁড়িয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। এসব কারণে চকরিয়া ও পেকুয়ায় সালাহউদ্দিন আহমদকে অপরাজেয় মনে করা হয়। দীর্ঘ দেড় যুগ পর এলাকায় ফিরে তিনি গণসংযোগ করছেন এবং বলছেন চকরিয়া পেকুয়াবাসী আমাকে ভালোবাসেন। আমারও ওনাদের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা আছে যার প্রতিফলন ভোটের মাঠে দেখা যাবে।
জামায়াতের চ্যালেঞ্জ ও আব্দুল্লাহ আল ফারুক
সালাহউদ্দিন আহমদের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীর বিরুদ্ধে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়েছেন দলটির কক্সবাজার শহর শাখার আমির ও সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল্লাহ আল ফারুক। তিনি এবং তাঁর দলীয় কর্মীরা ইতিমধ্যে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। জামায়াত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন চকরিয়া পেকুয়ায় তাদের নিজস্ব একটি বড় ভোটব্যাংক রয়েছে। ৫ আগস্টের পর তাদের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে বলে তাঁরা দাবি করছেন। সেই হিসেবে অন্য দলের প্রার্থী যত হেভিওয়েটই হোক না কেন ভোটের মাঠে জেতার লক্ষ্যেই তাঁরা কাজ করে চলেছেন। জামায়াতের সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক ভিত্তি সালাহউদ্দিন আহমদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
অন্যান্য দল ও প্রার্থীদের অবস্থান
বিএনপি ও জামায়াতের এই দ্বৈরথের বাইরেও এই আসনে আরও বেশ কয়েকটি দলের প্রার্থীরা প্রচারণায় রয়েছেন। এর মধ্যে এবি পার্টির অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান জাতীয় পার্টির শামসুল আলম এবং ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মনির উল্লাহ ও মাওলানা সরওয়ার আলম রয়েছেন। এছাড়া জুলাই বিপ্লব থেকে উঠে আসা এনসিপির প্রার্থী মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন এবং গণঅধিকার পরিষদের আব্দুল কাদের প্রাইমও তরুণ ভোটারদের টানার চেষ্টা করছেন। তবে মূল লড়াইটা বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভোটের সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন কক্সবাজার ১ আসনে লড়াই হবে মূলত সালাহউদ্দিন আহমদের ব্যক্তিগত ক্যারিশমা বনাম জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তির। সালাহউদ্দিন আহমদ যেখানে তাঁর দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ও সম্পর্কের ওপর ভরসা করছেন সেখানে জামায়াত ভরসা করছে তাদের আদর্শিক ভোটার ও নতুন প্রজন্মের ওপর। আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় তাদের সমর্থকরা কোন দিকে ঝুঁকবেন বা নীরব থাকবেন তা এই নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে চকরিয়া পেকুয়ায় সালাহউদ্দিন বনাম ফারুকের এই লড়াই ততই জমে উঠছে।
অন্তর্বর্তী আমলের চেয়েও খারাপ দিকে যাচ্ছে দেশ, রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি: চরমোনাই পীর
গত নির্বাচন নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন থাকলেও তা মেনে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান প্রশাসন দেশকে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের চেয়েও চরম অবনতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরতে পরতে ব্যাপক দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়াই এর মূল কারণ। বর্তমান বাস্তবতাকে তিনি উপমা দিয়ে পাতি শিয়ালের জিম্মায় মুরগি বর্গা দেওয়ার মতো পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের ফজলুল উলুম মাদরাসায় আয়োজিত দলীয় কর্মী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শিক অবস্থান নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন চরমোনাই পীর। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত নিজেদের দলীয় প্রতীক বা লোগো থেকে ‘আকিমুদ্দিন’ শব্দবন্ধটি বাদ দেওয়ায় তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ে ইসলামের মূল ভিত্তি আর অবশিষ্ট নেই, ফলে দলটিকে প্রকৃত অর্থে ইসলামী দল হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। গত জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহারেও জামায়াত ইসলামি অনুশাসন মেনে দেশ পরিচালনার কোনো অঙ্গীকার করেনি এবং দলটির আমির নিজেই প্রচলিত আইনি কাঠামোয় রাষ্ট্র পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এসব নীতিগত পরিবর্তনের কারণে জামায়াত তার ইসলামী দলের চরিত্র হারিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কার্যক্রমে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ এনে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন জনদাবিতে দলটি রাজপথে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করেছিল। অথচ সেই কর্মসূচি শেষ করে সংসদে গিয়ে দলের আমির মন্তব্য করেছেন যে বিদ্যুৎ সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়। যদি সরকারের কোনো দায় না-ই থাকে, তবে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি খরচ করে এমন আন্দোলনের পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
একই সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক ভূমিকারও কড়া সমালোচনা করেন ইসলামী আন্দোলনের আমির। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তারা ক্ষমতায় এলে ইসলামি শরিয়াহর পরিপন্থী কোনো আইন প্রণয়ন করবে না। অথচ ক্ষমতাসীন হয়ে তারা সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং জাতীয় সংসদে ইতোমধ্যে শরিয়াবিরোধী আইন পাস করেছে। সরকার অনতিবিলম্বে এসব শরিয়াহবিরোধী অবস্থান ও আইন থেকে সরে না আসলে এর বিরুদ্ধে রাজপথে কঠোর প্রতিবাদ গড়ে তুলতে বাধ্য হবেন বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
/আশিক
শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দর থেকে ফাঁসির মঞ্চে নিতে শহীদ পরিবারই যথেষ্ট: সারজিস আলম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করলে তাঁকে বিমানবন্দর থেকেই ফাঁসির মঞ্চ পর্যন্ত নিয়ে যেতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্বজনরাই যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঝালকাঠি শহরের একটি রেস্তোরাঁয় জেলা এনসিপি আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা শুরুর প্রাক্কালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।
সারজিস আলম উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানে যারা নিজেদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন এবং যারা এখনো পঙ্গুত্ব ও ক্ষতের যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন, সেই পরিবারগুলোর রক্তক্ষরণ আজও থামেনি। ফলে শেখ হাসিনা দেশে পা রাখা মাত্রই সেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষোভ ও প্রতিবাদই তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করার জন্য যথেষ্ট হবে। একই সঙ্গে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত পরিণতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার স্বাভাবিক প্রয়াণ কিংবা শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা—কোনোটিই বাংলাদেশের মাটিতে ঘটবে না।
রাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই শীর্ষ সংগঠক। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে শুরুতে ফ্যামিলি কার্ডসহ নানামুখী নাগরিক কার্ড বিতরণের বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কেবল এসব কার্ড তৈরির প্রকল্পের জন্যই সরকারি কোষাগার থেকে ২৪২ কোটি টাকার বিশাল বরাদ্দ রাখা হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, সাধারণ মানুষের উপকারের দোহাই দিয়ে বিপুল ব্যয়ের এমন অনেক উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে সেগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে বরাবরের মতোই বড় ধরনের সংশয় থেকে যায়। ফ্যামিলি কার্ডের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছে যে এটি কার্যকরভাবে রূপায়ণ করা সম্ভব নয়, যে কারণে বর্তমানে এই উদ্যোগ নিয়ে নীতি-নির্ধারকদের মাঝে এক ধরনের নীরবতা তৈরি হয়েছে। জনগণের ঘাম ঝরানো রাজস্ব ব্যয় করে এমন কোনো অনিশ্চিত ও অবাস্তব পরিকল্পনা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার তাগিদ দিয়ে তিনি রাষ্ট্রীয় অর্থের শতভাগ স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীল প্রয়োগের দাবি জানান।
/আশিক
ঢাকার দুই সিটির লড়াইয়ে নতুন সমীকরণ: মাঠে নামছে তরুণ নেতৃত্ব
রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন কৌশল ও মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই শীর্ষ নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। নিজেদের ভোটার এলাকা রদবদলের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই দুই তরুণ রাজনীতিক।
এর আগে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এবং মাঠপর্যায়ে জনসংযোগও চালিয়েছিলেন। দলগতভাবেও তাকে দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করার কথা জানানো হয়েছিল। তবে সর্বশেষ দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে মেয়র পদে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অপরদিকে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই কৌশলগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে সোমবার তারা দুজনেই নিজেদের ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন।
এনসিপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, বিদ্যমান নির্বাচনী আইন এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই শীর্ষ দুই নেতার ভোটার এলাকা অদলবদল করা হয়েছে। রাজধানীর তুরাগ থেকে বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত বিস্তৃত পুরো ঢাকা জুড়েই তরুণ নেতৃত্বের রাজনৈতিক অবস্থান সুসংহত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসেবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই তাদের প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা করা হবে। দলীয় নেতৃত্বের প্রত্যাশা, আসিফ মাহমুদ উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দক্ষিণে লড়াইয়ে নামলে ঢাকার নির্বাচনী মাঠে ভিন্নমাত্রার প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন জানান, শীর্ষ এই দুই নেতা আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন। এটি তাদের নির্বাচনী কৌশলেরই অংশ এবং নির্ধারিত দুই সিটি থেকেই তারা প্রার্থী হচ্ছেন, যা খুব শিগগিরই দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে।
ভোটার এলাকা বদলের বিষয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেছেন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় দায়িত্ব পালনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন। সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই এই লড়াই উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি দ্রুতই দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হবে। পূর্বে তিনি দক্ষিণ সিটির ভোটার থাকলেও নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-১৩ পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ আবেদন করেন। কমিশন যাচাই-বাছাই শেষে তা অনুমোদন দেওয়ায় তিনি এখন উত্তর সিটির আফতাবনগর এলাকার ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
অন্যদিকে সোমবার একই প্রক্রিয়ায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটার এলাকা ঢাকা উত্তর থেকে ঢাকা দক্ষিণে স্থানান্তর করা হয়। এর আগে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ঢাকা-৮ আসন থেকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ডিএসসিসির ৮ থেকে ১৩ এবং ১৯ থেকে ২১ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ওই আসনে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন ভোটারের মধ্যে তিনি ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন।
আসনটিতে ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন বিএনপির মির্জা আব্বাস। নির্বাচনের পর অবশ্য অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট পুনর্গণনা ও বিজয়ীর শপথ স্থগিতের আবেদন জানিয়েছিলেন পাটওয়ারী। উল্লেখ্য, সে সময় তার ভোটার এলাকা ঢাকা-৮ আসনের বাইরে থাকায় তিনি নিজের আসনে ভোট দিতে পারেননি; ভোটের দিন তিনি জানিয়েছিলেন, নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই তখন তার কাছে প্রধান অগ্রাধিকার ছিল।
/আশিক
সংসদে ডা. শফিকুর রহমানের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দোয়া
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলাকালে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের জন্য দাঁড়িয়ে দোয়া চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার শুরুতে তিনি বিরোধীদলীয় নেতার দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করে এই দোয়া করেন।
সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইতিপূর্বে বিরোধীদলীয় নেতাও এই সংসদে দাঁড়িয়ে তাঁর জন্য দোয়া ও মোনাজাত করেছিলেন। সেই সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের প্রতিদান হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. শফিকুর রহমানকে একজন শুভ্র ও সম্মানিত দ্বীনি ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর সুস্থতা, নেক হায়াত এবং ধৈর্যের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানান।
/আশিক
লংমার্চে পথচারীদের ভোগান্তি: দেশবাসীর কাছে জামায়াত জোটের দুঃখ প্রকাশ
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী সাম্প্রতিক লংমার্চ কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের সাময়িক ভোগান্তির জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। একই সঙ্গে গত ৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় দেশবাসী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে জোটটি। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ তথ্য জানান।
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার, গ্যাস-বিদ্যুৎ-সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি-দুর্নীতি দমন এবং প্রশাসনে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ দাবিতে এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কর্মসূচি চলাকালে মহাসড়ক ব্যবহারকারী সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের যে সাময়িক অসুবিধা হয়েছে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দান পর্যন্ত লাখ লাখ সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে এই দাবিগুলো কেবল জোটের নয়, বরং পুরো জাতির প্রাণের দাবি।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতার জন্য পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। একই সঙ্গে তিনি পরবর্তী আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করে জানান, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর একইভাবে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের পরবর্তী লংমার্চ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এই কর্মসূচিকেও সুশৃঙ্খল ও সর্বাত্মকভাবে সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
/আশিক
আওয়ামী লীগ নেতার গাড়িতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর লংড্রাইভ: রাশেদ খাঁনের দাবি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতার প্রাডো গাড়িতে চড়ে লংড্রাইভ করার অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের সাম্প্রতিক লংমার্চ কর্মসূচির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল ক্ষমতাচ্যুত দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করা। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে আলোচনার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রায়ই আওয়ামী লীগের বাড়িঘর ও সম্পদ দখলের কথা বলতেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আওয়ামী লীগ নেতার ওই বিলাসবহুল গাড়িটি নিরাপত্তার বিনিময়ে উপহার হিসেবে নেওয়া হয়েছে, নাকি দখলের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে—তা খতিয়ে দেখা দরকার। এছাড়া লংমার্চ থেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে জোরালো বক্তব্য না আসার অভিযোগ করে তিনি দাবি করেন, উসকানিমূলক স্লোগান ও লাঠিসোঁটা বহনের মাধ্যমে জামায়াত যে ফাঁদ পেতেছিল, বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাতে পা দেয়নি। এ ঘটনায় এনসিপি কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় কি না, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, জনদুর্ভোগ নিরসন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিরোধসহ বিভিন্ন দাবিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দান পর্যন্ত ১১ দলীয় জোটের এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে গ্যাস-বিদ্যুতের বিকল্প পরিকল্পনা দিন: রিজভী
রাজপথে আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকারকে বাস্তবসম্মত বিকল্প পরিকল্পনা দেওয়ার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শিল্পকলা অ্যাকাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
রিজভী বলেন, সংকট নিয়ে বিরোধী দল লংমার্চ বা রাজনৈতিক কর্মসূচি দিতেই পারে, তবে শুধু কর্মসূচি না দিয়ে কীভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, তার একটি বিকল্প রূপরেখা তাদের উপস্থাপন করা উচিত। তিনি দাবি করেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট সরকারের নিজস্ব কোনো ব্যর্থতার কারণে সৃষ্টি হয়নি; বরং আন্তর্জাতিক যুদ্ধাবস্থা ও বিগত সরকারের দীর্ঘদিনের ভুল পরিকল্পনার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনে বাধার কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় যে বিঘ্ন ঘটেছে, তা বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে বড় চাপ তৈরি করেছে।
সংসদে বিরোধী দলের পর্যাপ্ত কথা বলার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সরকারের সমালোচনা করা কিংবা রাজপথে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা হলেও জাতীয় সংকটে গঠনমূলক পরামর্শ দেওয়া প্রয়োজন। একটি পরিকল্পিত অচলাবস্থা তৈরি না করে সংকট উত্তরণের পথ খোঁজার তাগিদ দিয়ে তিনি সতর্ক করেন, অতীতের অন্ধ পুনরাবৃত্তি দেশকে আরও সংকটের দিকে ঠেলে দেবে। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রতিবাদী গান ও নৃত্যের অনুপ্রেরণাদায়ী ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন তিনি। নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি ফারহানা বেবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
দীর্ঘ বিরতির পর সংসদে ফিরে আবেগাপ্লুত শীর্ষ নেতা
দীর্ঘ প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার পর জাতীয় সংসদে ফিরে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, মানুষের কাছে ফিরে এসে দেশ ও জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করাই এখন তাঁর জীবনের প্রধান ব্রত। দীর্ঘদিন গুরুতর অসুস্থতার কারণে সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে না পারার প্রেক্ষাপটও বক্তব্যে তুলে ধরেন তিনি।
অধিবেশনে মির্জা আব্বাস স্মৃতিচারণ করে জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই একটি দলীয় সভায় তিনি গুরুতর ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এরপর থেকে তাঁকে দীর্ঘ সময় বিদেশে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় দীর্ঘ চিকিৎসাপর্ব শেষে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি দেশে ফেরেন। তবে তাঁর শারীরিক চিকিৎসা পুরোপুরি শেষ না হলেও মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আবেগের টানেই তিনি দ্রুত ফিরে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন। কঠিন সংকটের দিনগুলোতে পাশে থাকা, নিয়মিত খোঁজখবর রাখা এবং সুস্থতার জন্য দোয়া করায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, সহকর্মী সংসদ সদস্যসহ সমগ্র দেশবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
২০০৬ সালের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে পুনরায় জাতীয় সংসদে কথা বলার সুযোগ পাওয়াকে রাজনৈতিক জীবনের এক অত্যন্ত আবেগঘন এবং গর্বের মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেন ঢাকা-৮ আসনের এই সংসদ সদস্য। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনীতি কেবল পারস্পরিক মতপার্থক্য কিংবা বিতর্কের জায়গা নয়; রাজনীতি হলো মানুষের জন্য এবং সংসদ হলো সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন।
বক্তব্যের শেষভাগে নিজের নির্বাচনী এলাকার জনগণ এবং দেশের মানুষের স্বার্থে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় জানান মির্জা আব্বাস। মহান আল্লাহর দরবারে পূর্ণ সুস্থতা ও শক্তি কামনা করে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চান, যাতে জীবনের বাকি সময়টুকু তিনি দেশ ও জাতির সেবায় নিবেদিত রাখতে পারেন।
/আশিক
সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাঁদের মেয়াদকালের বিভিন্ন নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কেনাকাটা ও দরপত্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তলব করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুদকের বিশেষ তদন্ত বিভাগের অনুমোদন পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে চিঠি পাঠিয়ে এসব রেকর্ডপত্র চেয়েছে কমিশন। বিষয়টি তদন্তসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের পাশাপাশি তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম-সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং যুব-১ শাখার উপ-সচিব মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে এই অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধানে দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে, যেখানে সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন, উপ-সহকারী পরিচালক ইমরান আকন এবং রোমান উদ্দিন।
আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মেয়াদকালের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির পূর্ণাঙ্গ ফাইল এবং ২০২৫ ও ২০২৬ সালের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্মারকের সত্যায়িত ছায়ালিপি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা, বগুড়া, বরিশাল, পাবনা, ধামরাই ও নরসিংদীতে কর্মরত অন্তত ১২ জন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথিও তলব করা হয়েছে।
দুদকে আসা অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, বদলি ও পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন সংঘটিত হয়েছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ৩৮ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও নতুন পদায়নের মাধ্যমে প্রায় ৭৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি বাবদ দেড় কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে সুবিধাজনক স্থানে পদায়নের বিনিময়ে আরও দুই কোটি টাকাসহ মোট চার কোটি ২৬ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেনের সুনির্দিষ্ট দাবি করা হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যের এসব তথ্যের ভিত্তিতেই পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক এই বাণিজ্যের বাইরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন কেনাকাটা ও টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগও খতিয়ে দেখছে কমিশন। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ লেনদেন, অর্থ পাচার, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা বিটকয়েনে লেনদেন, চাঁদাবাজি এবং স্বজনপ্রীতির মতো গুরুতর বিষয়গুলোও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হচ্ছে। এমনকি ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্রিকেট বোর্ডের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার এবং সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা গ্রহণের বিভিন্ন অভিযোগও পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করছে অনুসন্ধান দল।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- আন্তর্জাতিক চাপে পশ্চিম তীর নিয়ে ইসরায়েলি নেতৃত্বের বড় সিদ্ধান্ত
- রোনালদোকে ছাড়া ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের তালিকা ঘোষণা
- প্রত্যর্পণে দেশে ফেরা মাত্রই শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হবে: শামা ওবায়েদ
- রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠকের বিষয়ে যা জানাল নয়াদিল্লি
- র্যাব অতীত, নতুন স্বচ্ছতায় আসছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি
- ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজে বড় ছাড়: প্যাকেজ-১ ও ২-এ যত টাকা সাশ্রয় হচ্ছে
- বল হাতে আলো ছড়িয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশি তারকার নতুন মাইলফলক
- নিজের জীবনের অজানা অধ্যায় প্রকাশ্যে আনলেন ব্ল্যাকপিংকের তারকা
- ব্যালন দ’রের সেরা গোলরক্ষকের সংক্ষিপ্ত তালিকায় বিশ্বকাপের নায়ক ভজিনিয়া ও সিমন
- ব্যালন দ’রের সেরা গোলরক্ষকের সংক্ষিপ্ত তালিকায় বিশ্বকাপের নায়ক ভজিনিয়া ও সিমন
- হয়রানি করে কোনো কর আদায় নয়, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের নিশ্চয়তা অর্থমন্ত্রীর
- বিশ্ববাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম
- শরতের শুরুতেই কুয়াশার চাদরে উত্তরাঞ্চল: নামছে আগাম শীত, বাড়ছে নিউমোনিয়া
- সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে মধ্যরাতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
- ৭ অক্টোবরের হামলা নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য: ইসরায়েলে রাজনৈতিক তোলপাড়
- ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় তৎপর দূতাবাস, সংসদে জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- অন্তর্বর্তী আমলের চেয়েও খারাপ দিকে যাচ্ছে দেশ, রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি: চরমোনাই পীর
- শেখ হাসিনার আসতে হবে না, আমরা ধরে আনতে চাই: তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান
- শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দর থেকে ফাঁসির মঞ্চে নিতে শহীদ পরিবারই যথেষ্ট: সারজিস আলম
- অটোরিকশার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বার্তা
- সাইকেলে ছয় দেশ পাড়ি দিয়ে হজ পালনের উদ্দেশ্যে নরসিংদীর সজিবের যাত্রা
- ক্যালেন্ডারের সংখ্যা নাকি মনের অনুভূতি: বার্ধক্যের আসল পরিচয় আসলে কী?
- ঢাকার দুই সিটির লড়াইয়ে নতুন সমীকরণ: মাঠে নামছে তরুণ নেতৃত্ব
- ১২ মাসের গড় হিসাবে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিম্নমুখী
- জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা ও ভবিষ্যৎ এআই: মানব মূল্যবোধ রক্ষা কতটা কঠিন?
- অল্প পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট ও ক্লান্তির পেছনে যেসব অজানা কারণ
- এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের সূচি প্রকাশ, পদক জয়ের অভিযানে বাংলাদেশ
- যুদ্ধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, আর বিল দিচ্ছে পুরো বিশ্ব: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
- যানজট কমাতে রাজধানীতে ফের কার্যকর হচ্ছে বিকল্প নৌপরিবহন
- সংসদে ডা. শফিকুর রহমানের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দোয়া
- ইসরায়েলি দূতাবাসের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রিতে খামেনির নাম যেভাবে সামনে এল
- মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্যের প্রভাবে চাপে মূল্যবান ধাতুর বাজার
- দেশে শেখ হাসিনার নামে কত টাকার সম্পদ, জানা গেল হিসাব
- যানজট কমাতে নৌপথে আসছে নতুন গণপরিবহন ব্যবস্থা
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী: ভারতীয় হাইকমিশনার
- বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর বিরোধীদলীয় নেতাকে স্পিকারের ধন্যবাদ
- আইপিএলের ধাক্কা এড়াতে পিএসএলের সূচিতে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব
- ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকে রেখে আইসিসির বহুজাতিক সিরিজের পরিকল্পনা
- সন্তান ফ্ল্যাটে যাবে আর বাবা-মা বৃদ্ধাশ্রমে এটা মেনে নেওয়া যায় না: রুমিন ফারহানা
- ৩ ইরানি ট্যাংকারে আঘাতের পর মার্কিন ড্রোন জাহাজে হামলার দাবি তেহরানের
- লংমার্চে পথচারীদের ভোগান্তি: দেশবাসীর কাছে জামায়াত জোটের দুঃখ প্রকাশ
- আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমাও ফেলেছি: আই২৪ নিউজে নেতানিয়াহুর দম্ভোক্তি
- আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতি টানলেও ক্লাবে নতুন কীর্তি মহাতারকার
- ছেঁড়া-ফাটা টাকা বদল স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের অংশ: সংসদে অর্থমন্ত্রী
- ‘সংঘাত-প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসার সমাজ চাই’: মির্জা ফখরুল
- আওয়ামী লীগ নেতার গাড়িতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর লংড্রাইভ: রাশেদ খাঁনের দাবি
- ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন: বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে আবেদন
- চীন-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ বিপর্যয়: গিরং বন্দরে চলছে জটিল উদ্ধার তৎপরতা
- বিপিএল না হওয়ার বিষয়ে কিছুই জানেন না যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
- অস্ত্রের ঘাটতির তথ্য ফাঁস: পেন্টাগনের ৫০ শীর্ষ কর্মকর্তার পলিগ্রাফ পরীক্ষা
- টানা পতনের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন
- ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ে দেশ গড়ে উঠবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- হতাশাজনক হারে এশিয়ান কাপ বাছাই থেকে বিদায় নিশ্চিত বাংলাদেশের
- অস্ত্রের মজুদ ফাঁকা হওয়ার খবর ‘শতভাগ ভুল’: ট্রাম্পের হুঙ্কার
- লন্ডনের ইলফোর্ডে গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র মিলনমেলা অনুষ্ঠিত
- গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে: ডা. শফিকুর রহমান
- ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: পার্থ
- ইরানের পাশে পুতিন: ‘ক্ষুধার্ত হাঙরদের’ দাঁতভাঙা জবাবের হুঁশিয়ারি
- ক্রিকেটের নতুন বিশ্বমঞ্চের দায়িত্ব পেল ভারত
- তিন দফা পতনের পর স্বর্ণের দামে বড় লাফ
- দক্ষিণ ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলায় ব্যাপক হতাহত
- ‘জি এম তো নাই’: স্পিকারের রসিকতায় সংসদে হাসির রোল
- দীর্ঘ বিরতির পর সংসদে ফিরে আবেগাপ্লুত শীর্ষ নেতা
- লিপজিগে ড্রোন হামলা: রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ অভিযোগ জার্মানির
- লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী








