ডিভোর্সের পর সন্তানের কাস্টডি: কার অধিকার বেশি, কী বলে আইন

বাংলাদেশে বিবাহবিচ্ছেদের পর সন্তানের কাস্টডি বা হেফাজত নিয়ে বাবা–মায়ের মধ্যে প্রায়ই জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখানে বাবা–মায়ের ব্যক্তিগত আবেগ বা আর্থিক অবস্থার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সন্তানের সর্বোচ্চ কল্যাণ বা বেস্ট ইন্টারেস্ট অব দ্য চাইল্ড। আদালত সবসময়ই দেখেন, কোন অভিভাবকের কাছে সন্তান সবচেয়ে নিরাপদ, স্থিতিশীল ও পরিচর্যায় উপযুক্ত পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারবে।
কাস্টডি নির্ধারণে মূলত অনুসরণ করা হয় Guardians and Wards Act, 1890 এবং মুসলিম পার্সোনাল ল। বিশেষ করে মুসলিম পরিবারের ক্ষেত্রে ছোট সন্তানের, বিশেষ করে মেয়েশিশুর কাস্টডির প্রথম অধিকার সাধারণত মায়ের। আদালত মনে করেন, ছোট সন্তানের জন্য মায়ের সান্নিধ্য ও পরিচর্যা সর্বাধিক প্রয়োজনীয়। তাই মায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে শিশু সাধারণত মায়ের কাছেই থাকে।
শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাস্টডির রায় পরিবর্তনের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়। যখন শিশুর বয়স ১০–১২ বা এর বেশি হয়, তখন আদালত তার নিজস্ব মতামতকেও বিবেচনায় নেন। শিশুটি কার কাছে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, কে তার পড়াশোনা, মানসিক স্থিতি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য বেশি উপযোগী এসব বিষয় বিচার করে আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
বাবারা প্রায়ই প্রশ্ন করেন, তারা কি কাস্টডি পাওয়ার সুযোগ রাখেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবশ্যই রাখতে পারেন যদি প্রমাণ করা যায় মা সন্তানের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ দিতে পারছেন না। আদালত তখন বাবার কাছে কাস্টডি দিতে পারেন। তবে শুধুমাত্র আর্থিকভাবে ভালো এ কারণেই বাবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাস্টডি পেয়ে যাবেন এমনটি নয়। আদালত এখানে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং জীবনযাপনের পরিবেশকেও গুরুত্ব দেন।
আইন অনুযায়ী, বাবা সাধারণত সন্তানদের আইনগত অভিভাবক বা গার্ডিয়ান হলেও, বাস্তবে সন্তান কার কাছে থাকবে বা কাস্টডি কার কাছে যাবে তা আদালত শিশুর কল্যাণ বিবেচনা করে নির্ধারণ করেন। ফলে বাবা আইনগত অভিভাবক হলেও সন্তান মায়ের কাছেই থাকতে পারে, যদি তার কল্যাণে সেটিই বেশি উপযোগী হয়।
সন্তানকে নিয়ে বিবাহবিচ্ছেদের পর বাবা–মায়ের টানাটানি আদালতে প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু আইনবিদরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সন্তান কখনোই কোনো সম্পত্তি নয় যে কে নেবে সে নিয়ে বিতর্ক বা টানাপোড়েন চলবে। সন্তানের জীবন, ভবিষ্যৎ, মানসিক নিরাপত্তা এবং সঠিক দিশা এসবের দায়িত্ব বাবা–মায়ের সম্পর্ক ভেঙে গেলেও সমানভাবে যৌথ থাকে।
বাংলাদেশের আদালতও এই বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তারা সবসময়ই নিশ্চিত করতে চেষ্টা করেন যাতে সন্তান এমন একজন অভিভাবকের কাছে থাকে, যিনি তাকে ভালোবাসা, যত্ন, শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং মানসিক স্থিতিশীলতা দিতে সক্ষম। আদালতের লক্ষ্য থাকে সন্তান যেন একটি সুস্থ, শান্ত ও ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশে বড় হতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিভোর্স যতই তীব্র বা জটিল হোক না কেন, সন্তানের কল্যাণ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিই সবার প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। কারণ সন্তান কোনো ঝগড়ার বিষয় নয় সে একটি দায়িত্ব, একটি ভবিষ্যৎ, এবং পরিবারের দুইজন মানুষের ভালোবাসা ও সুরক্ষার অধিকারী।
ড. ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। হামের টিকা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বাইরে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
রোববার (১৬ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতি এই লিগ্যাল নোটিশটি প্রেরণ করেন।
নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম জানান, হামের টিকাদান কার্যক্রমকে রাষ্ট্রীয় আওতা থেকে বেসরকারি খাতে স্থানান্তরের মতো জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকায় ড. ইউনূসের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে এই আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তবে নোটিশে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা তাঁর প্রতিনিধির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
/আশিক
সন্তানকে সম্পত্তি দিলেও কাড়তে পারবে না অধিকার: সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের নতুন খসড়া
বাবা-মা বা দাতা কোনো সম্পত্তি দান করার পরও যেন তাদের নিজ জীবদ্দশায় সেটি নির্বিঘ্নে ভোগ ও ব্যবহার করতে পারেন, সে বিধান রেখে ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংশোধনীটি অনুমোদন পায়। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
আইন ও বিচার বিভাগের উদ্যোগে প্রণীত এই আইনটির মাধ্যমে ১৮৮২ সালের মূল ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট’-এ দাতার জীবদ্দশায় ভোগাধিকার (লাইফটাইম ইউসুফ্রাক্ট) সুরক্ষার নতুন ধারা সংযোজন করা হলো। ইতিপূর্বে বলবৎ আইনে এ নিয়ে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা না থাকায় বাবা-মা বা বয়োবৃদ্ধরা সন্তান বা নিকটাত্মীয়দের জমি বা ঘরবাড়ির মালিকানা হস্তান্তর করার পর অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের সম্পত্তিতে অধিকার হারিয়ে চরম আর্থিক ও সামাজিক অসহায়ত্বের মুখোমুখি হতেন। প্রস্তাবিত আইনি কাঠামোর ফলে এই জটিলতার একটি স্থায়ী আইনি ভিত্তি ও সুরক্ষা বলয় তৈরি হয়েছে।
বিদ্যমান হেবা বা অন্যান্য উপায়ে সম্পত্তি দানের ফলে দাতা তাৎক্ষণিকভাবে তার স্বত্ব হারাতেন। সরকারের নতুন প্রস্তাবিত ‘ইউসুফ্রাক্ট রাইট’ বা জীবনস্বত্বের নিয়ম অনুযায়ী, সন্তান বা গ্রহীতাকে সম্পত্তি উপহার হিসেবে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার পরও দাতা বেঁচে থাকা পর্যন্ত সেটির ভোগদখল ও ব্যবহারের পূর্ণ এখতিয়ার নিজ হাতে রেখে দিতে পারবেন। একই সঙ্গে বিধান রাখা হয়েছে যে, দাতার জীবদ্দশায় কোনো পক্ষই—সন্তান বা দাতা এককভাবে—উক্ত সম্পত্তি অন্য কারও কাছে বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবে না।
/আশিক
১৩ বছর পর আলোর মুখে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, ট্রাইব্যুনালে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্তে ৬১ জনের মৃত্যুর অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। নিহতদের মধ্যে ৫৮ জনের সুনির্দিষ্ট পরিচয় ইতিমধ্যেই শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম তার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে তদন্তের এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, প্রসিকিউশনের খসড়া তালিকায় এখন পর্যন্ত মোট ৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিবদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের বিস্তারিত পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও বাকি ৩ জনের পরিচয় এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি, যা নিয়ে কাজ চলছে।
তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে হেফাজত নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন, তারা রিপোর্টের খসড়া বিবরণী নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছেন। প্রসিকিউশনের মূল লক্ষ্য হলো অপরাধের সাথে জড়িত প্রকৃত কোনো আসামি যেন বাদ না পড়ে এবং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন রাজনৈতিক বা প্রশাসনিকভাবে বলির পাঁঠা না হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত আইনি সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই হত্যাযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র বা ফরমাল চার্জ দাখিল করা সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক তদন্ত প্রতিবেদনের সীমাবদ্ধতা ও তৎকালীন বাস্তবতার কথা তুলে ধরে বলেন, ঘটনার শুরু থেকেই তারা দাবি করে আসছেন যে নিহতের প্রকৃত সংখ্যার একটি বড় অংশ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থা শাপলা চত্বরের শহীদদের লাশ গুম ও তথ্য গোপনের অপচেষ্টা চালিয়েছিল, যার ফলে অনেক ভুক্তভোগীর বিবরণ এই প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসেনি। তবে তথ্যগতভাবে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে যে ৬১ জনের তালিকা তাদের কাছে সংরক্ষিত ছিল, এই প্রতিবেদনে মূলত তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল। তাদের মধ্যে দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক এবং মুফতি হারুন ইজহারসহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, একই দিন অর্থাৎ রোববার সকালে শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে চালানো ওই নৃশংস সামরিক ও পুলিশি অভিযানের ওপর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তৈরি করা মূল তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রসিকিউশন টিমের হাতে এসে পৌঁছায়। স্পর্শকাতর এই মামলায় দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত সংস্থা বর্তমানে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তৎকালীন বিতর্কিত সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ মোট ৪১ জনকে প্রধান আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
এ ছাড়া এই মামলার আসামির তালিকায় তৎকালীন সরকারের নীতিনির্ধারক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের পাশাপাশি বিতর্কিত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদেরও যুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বেসরকারি একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, একই টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা এবং ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অন্যতম নেতা ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির। সেই সঙ্গে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের অভিযানে মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়া তৎকালীন পুলিশ প্রধান (আইজিপি), র্যাবের মহাপরিচালক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারকেও এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।
/আশিক
বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন সুপ্রিম কোর্টের ১৭ সরকারি আইনজীবী
জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা এবং বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে তীব্র মতপার্থক্যের জের ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ১৭ জন পদস্থ আইন কর্মকর্তা একযোগে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে ১০ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ৭ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন। আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তারা সবাই মূলত জামায়াতপন্থি আইনজীবী হিসেবে পরিচিত।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো পৃথক পদত্যাগপত্রের মাধ্যমে তারা নিজেদের দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে সরে দাঁড়ানোর এই ঘোষণা দেন। পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভূঁইয়া, আসাদ উদ্দিন এবং মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এ ছাড়া সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভূঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারুফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির এবং রেজাউল ইসলাম।
রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করা পদত্যাগপত্রে এই আইন কর্মকর্তারা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাদের সুনির্দিষ্ট আপত্তির কথা তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন, সাধারণ জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই চার্টার পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না করা, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতার জন্য একটি পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে সরকারের অনীহা এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, সরকারের এসব সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কারণে দেশের সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পদত্যাগপত্রে তারা আরও স্পষ্টভাবে জানান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার এই বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের পেশাগত বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে সরকারের পক্ষে আইনি দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা তাদের জন্য আর সম্ভব নয়। এই নৈতিক অবস্থান থেকেই তারা অবিলম্বে কার্যকর করার শর্ত সাপেক্ষে নিজ নিজ পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সরকারের আইনি কর্মকর্তাদের এই একযোগে পদত্যাগের ঘটনা দেশের উচ্চ আদালত ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
/আশিক
লাল-সবুজ খাতায় নাম রাখছি, কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারক ও আইনজীবীদের হুমকি ইনুর
আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েই রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও বিচারকদের হুমকি দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। সোমবার (২২ জুন) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে শুনানির একপর্যায়ে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এ হুমকি দেন।
আজ জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর বংশাল এলাকায় মো. মোখলেছিনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের শুনানির জন্য আদালতে হাজির করা হয়। বংশাল থানার উপ-পরিদর্শক মো. আশরাফ হোসেনের করা এই আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হারুন অর রশিদ।
শুনানি শেষে আদালতের অনুমতি নিয়ে হাসানুল হক ইনু দীর্ঘ চার ঘণ্টা হাজতখানায় আটকে রাখার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জেলে আছি। কোন আদালতের কোন বিচারক, কোন আইন কর্মকর্তা কী করতেছে, তা কারাগারের একটা লাল খাতা ও একটা সবুজ খাতায় সংরক্ষণ করে রাখছি।’ বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘বর্তমানে বিচার ব্যবস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটা শাখা হিসেবে কাজ করছে।’
ইনুর এমন বক্তব্যের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ তাকে থামাতে বললে তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে ‘আপনি চুপ করেন’ বলে ধমক দেন এবং বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালে আদালত এ বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান। এরপর শুনানির প্রক্রিয়া শেষে ইনু ও মেননকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক এমপি আসামি হাসানুল হক ইনু রীতিমতো আজ আদালতসহ আমাদের সবাইকে হুমকি দিয়েছেন। বিচার ব্যবস্থা নাকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি শাখা। তার এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে আমরা আদালত অবমাননার অভিযোগ এনেছি।’
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল মোড়ের নাজিমউদ্দীন রোড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিল চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন মো. মোখলেছিন। পরে এ ঘটনায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি তিনি বাদী হয়ে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ইনু ও মেনন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
/আশিক
শিশু মৃত্যুর দায়ে ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
হামের টিকা যথাসময়ে আমদানি না করায় দেশে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি মামলার আবেদন করা হয়েছে।
আজ সোমবার (৮ জুন ২০২৬) ঢাকা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জসিতা ইসলামের আদালতে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ইকবাল এই আবেদনটি করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ মামলার আবেদন জমা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আবেদনটি জমা হলেও এখনো তা নিয়ে আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।
মামলায় ড. ইউনূস ও নূর জাহান বেগম ছাড়াও অন্য যে তিনজনকে আসামি করার আবেদন করা হয়েছে তারা হলেন— স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্তারা তৎকালীন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে চরম অবহেলা এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে যথাসময়ে হামের ভ্যাকসিন আমদানি না করে শাস্তিযোগ্য ও অমানবিক অপরাধ করেছেন, যা কার্যত হত্যাকাণ্ডের শামিল। এতে রাষ্ট্রের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ ও প্রতারণা করা হয়েছে বলেও আরজিতে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ইউনিসেফের (UNICEF) মাধ্যমে নিয়মিত হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের টিকা আমদানি করে আসছিল। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউনিসেফের মাধ্যমে এই টিকা আমদানি বন্ধ করে দিয়ে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেয়, যা দেশে তীব্র টিকা সংকট তৈরি করে। ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সের গত ২০ মে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে মামলায় দাবি করা হয়, টিকার সম্ভাব্য সংকট ও আমদানির বিদ্যমান ব্যবস্থা চালু রাখার বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও সংশ্লিষ্টরা তা সম্পূর্ণ আমলে নেননি।
এরই খেসারত হিসেবে দেশে নির্ধারিত সময়ে বিপুল-সংখ্যক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয় এবং দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। মামলার তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫ হাজার ৭০৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে এবং সরকারি হিসাবেই অন্তত ৬১০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালের বাইরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। আবেদনে বলা হয়, বর্তমান সরকার পরবর্তীতে জরুরি ভিত্তিতে টিকার ব্যবস্থা করলেও আগের সময়মতো টিকা না পাওয়ার কারণে যে অপূরণীয় ক্ষতি ও লাখো শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে, তার দায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার এড়াতে পারে না। এই ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের আর্জি জানিয়েছেন আবেদনকারী।
/আশিক
অবৈধ ঘোড়ার মাংস বাণিজ্যে হাইকোর্টের রুল
দেশে ঘোড়ার মাংস ভক্ষণ, বিপণন ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের বৈধতা এবং এ সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
রবিবার এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন। আলোচিত এ রিটটি দায়ের করেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও প্রাণী অধিকারকর্মী জয়া আহসান। আবেদনে অসুস্থ ও উদ্ধারকৃত ঘোড়ার মাংস প্রতারণামূলকভাবে মানুষের খাদ্য হিসেবে বাজারজাত করার অভিযোগ তুলে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
আদালত একই সঙ্গে ঘোড়ার মাংসের উৎপাদন, বিপণন, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা বা গাইডলাইন ৯০ দিনের মধ্যে প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ মে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্রাণী কল্যাণের প্রশ্নে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হয়েছেন আবেদনকারীরা।
আবেদনে আরও বলা হয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে গাজীপুরে অসুস্থ, দুর্বল ও উদ্ধারকৃত ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়েছে।
রিটকারীরা আদালতের কাছে গাজীপুরে উন্মোচিত ঘোড়ার মাংস বাণিজ্য নিয়ে নিরপেক্ষ, পূর্ণাঙ্গ এবং সময়সীমাবদ্ধ তদন্তের নির্দেশনা চেয়েছেন। পাশাপাশি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের আবেদনও করা হয়েছে।
শুধু তদন্ত নয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ও নির্দেশিকা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে। রিটে বলা হয়েছে, উদ্ধারকৃত বা বাজেয়াপ্ত প্রাণী পুনর্বাসনের জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র, অভয়ারণ্য এবং প্রাণী কল্যাণভিত্তিক অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
আবেদনে আরও অনুরোধ করা হয়েছে, অসুস্থ বা উদ্ধারকৃত ঘোড়া নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করার প্রচলিত পদ্ধতি বন্ধ করতে হবে। কারণ এসব প্রাণী পরবর্তীতে অবৈধ মাংস ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
আইনজীবীরা বলছেন, এ মামলাটি কেবল ঘোড়ার মাংস ভক্ষণসংক্রান্ত বিতর্ক নয়; বরং এটি জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, ভোক্তা অধিকার এবং প্রাণী কল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে নিয়ে এসেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে এ খাতের জন্য একটি স্পষ্ট নীতিগত কাঠামো তৈরি করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশে খাদ্য হিসেবে কী বিক্রি হচ্ছে, তার উৎস কতটা নিরাপদ এবং প্রাণী কল্যাণের ন্যূনতম মানদণ্ড মানা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে জনসচেতনতা ও সরকারি নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাব এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার দিকেই সবার নজর।
-রফিক
মিরপুরের পর এবার নজর হবিগঞ্জের মামলায়: কারামুক্তির আশায় সুপ্রিম কোর্টে ব্যারিস্টার সুমন
২০২৪ সালের চব্বিশের জুলাই গণ-আন্দোলনে সহিংসতার ঘটনায় নিজ জেলা হবিগঞ্জে দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই জামিন আবেদনগুলোর ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে, গত ১১ মে রাজধানীর মিরপুর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ব্যারিস্টার সুমনের হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন। একই সাথে এই সংক্রান্ত রুল দ্রুত নিষ্পত্তি করারও নির্দেশ দেন আদালত। আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে এ আদেশ দিয়েছিলেন। আদালতে তখন সুমনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম লিটন আহমেদ।
উল্লেখ্য, বিগত ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকার একটি বাসা থেকে যুবলীগ নেতা ও সাবেক এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়ার ঠিক ১০ মিনিট আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে সুমন লিখেছিলেন, ‘আমি পুলিশের সঙ্গে যাচ্ছি। দেখা হবে আদালতে। দোয়া করবেন সবাই।’
পটপরিবর্তনের পর ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে রাজধানীর মিরপুর, আদাবরসহ বিভিন্ন থানা এবং তাঁর জন্মস্থান হবিগঞ্জের চুনারুঘাট ও মাধবপুরে একাধিক হত্যা ও সহিংসতার মামলা দায়ের করা হয়। মিরপুরের মামলায় ইতিপূর্বে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও হবিগঞ্জের মামলাগুলোর কারণে তাঁর কারামুক্তি মেলেনি। ফলে আজ হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে হবিগঞ্জের দুই মামলায় জামিন লাভের মরিয়া চেষ্টা চালাবেন তাঁর আইনজীবীরা।
/আশিক
শিশু রামিসা হত্যা মামলা বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি
রাজধানী মিরপুরের পল্লবীতে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী, সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও ধড় থেকে মাথা কেটে পৃথক করে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলাটি আনুষ্ঠানিক বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয়েছে। আজ রবিবার (২৪ মে ২০২৬) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক এই বদলির আদেশ প্রদান করেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান মূল ঘাতক সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে যৌথভাবে অভিযুক্ত করে আদালতে যে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছিলেন, সেটি আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান মামলার এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নৃশংস এই ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশু রামিসা ঘর থেকে বের হলে ঘাতকের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তাদের ফ্ল্যাটের ভেতরে ডেকে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার স্কুলে যাওয়ার সময় হলে তাকে কোথাও না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন মা-বাবা। একপর্যায়ে ওই ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করা হলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি।
পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতেই শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং ঘরের ভেতরের একটি বড় বালতিতে তার কাটা মাথাটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা স্বপ্না আক্তারকে জেরা করা হলে তিনি স্বীকার করেন, তার স্বামী সোহেল রানা নিজের হীন কামনা চরিতার্থ করতে শিশুটিকে বাথরুমে আটকে ধর্ষণ ও গলা কেটে খুন করেছেন।
এরপর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়, যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক কেটে লাশটি খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘাতক সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার আইনি প্রক্রিয়ায় গত বুধবার (২০ মে) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে হাজির করা হলে মূল আসামি সোহেল রানা ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে রোমহর্ষক জবানবন্দি দেন। একই দিনে অপরাধের সহযোগী ও ঘটনা আড়াল করার অভিযোগে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে তোলা হলে শুনানি শেষে তাকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, অভিযোগপত্র গঠনের এই প্রাথমিক আইনি ধাপটি সম্পন্ন হওয়ায় এবং ট্রাইব্যুনালে মামলা স্থানান্তরের ফলে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির পরপরই বিশেষ আদালতে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হতে যাচ্ছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- নেপালে বিপর্যয়: শত শত মৃত্যু, নিখোঁজ ১৪০০
- দুদকের দুই মামলায় খালাস পেলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
- বিশ্ববাজারে বিনিয়োগকারীদের চাহিদায় পরিবর্তন: ধাতুর বাজারে দরপতন
- সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব: ১০ দিনের নতুন আবহাওয়া বার্তা
- অর্থসংকটে অনিশ্চিত মেডিকেল ভবিষ্যৎ: শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
- সংসদের অধিবেশন ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা
- কম বয়সেই বাড়ছে নীরব ঘাতক রোগ: জেনে নিন সুরক্ষার উপায়
- বাঁধ ভাঙার অভিযোগ নাকচ চীনের: নেপালকে হিমবাহ ধসের তথ্য দিল ইউএসজিএস
- ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা ঘিরে নতুন জটিলতা: বড় তারকার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
- নেপালে আরও একটি কৃত্রিম লেক ফেটে বন্যার শঙ্কা: চীনের সতর্কতা
- এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ: চূড়ান্ত হলো গ্রুপ ও প্রতিপক্ষ
- বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানালেন বিশ্বনেতা
- স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত: দ্রুত আসছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
- বিদ্যুৎ-গ্যাস এখন ‘টুকু আসে, টুকু যায়: রুমিন ফারহানা
- ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণের প্রমাণ মেলেনি: আইএইএ প্রধান
- মক্কা চুক্তি মুসলিমদের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা, উদ্বেগের কারণ নেই: খলিলুর রহমান
- এটা প্রশ্ন না পল্টনের বক্তৃতা: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ২০১০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ধ্বংসস্তূপে চলছে সন্ধান: প্রাণহানি ছাড়াল তিন শতাধিক
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশে আবহাওয়ার নতুন পূর্বাভাস
- বাংলাদেশ একদিন জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে: হামিদুর রহমান আযাদ
- ১০০ মিটারের স্প্রিন্টে অভাবনীয় কীর্তি: রোবটের দৌড়ে বিশ্ব তোলপাড়
- চার বছরের বিরতি ভেঙে বড় পর্দায় ফিরে বক্স অফিসে ঝড়
- স্বামীকে প্রবাসে রেখে দেশে ফিরেই নতুন বিয়ে, চার সন্তানের জননীর
- মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষায় জোটবদ্ধ হওয়ার ডাক দিলেন শীর্ষ কূটনীতিকরা
- নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে প্রবল বন্যা: ৫৫ জনের প্রাণহানি ও শতাধিক নিখোঁজ
- সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় খবর: চূড়ান্ত হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত প্রজ্ঞাপন
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সীমা: যেসব বিষয়ে নির্ভরতা বিপজ্জনক
- স্বর্ণের দামে নতুন মোড়, সামনে গুরুত্বপূর্ণ সময়
- চার বছর পর আবারও ঢাকায় আসছেন জনপ্রিয় বিদেশি সংগীতশিল্পী
- রাতের আকাশে দেখা যাবে রক্তিম রূপ: প্রস্তুত হচ্ছে বিশ্ব
- খরচ ছাড়াই ১০ হাজার কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়: মন্ত্রী
- বিদ্যুৎ খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া বড় চাপ: প্রতিমন্ত্রী
- গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষমাণদের জন্য এলো বড় সুখবর
- ট্রাম্পের ছেলে ব্যারনকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানে ভিডিও প্রকাশ
- দেশজুড়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে বড় সুখবর দিল সরকার
- যুক্তরাষ্ট্রের হামলা রুখতে আক্রমণাত্মক কৌশলে যাচ্ছে ইরান
- লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম, নতুন রেকর্ডের পথে ভরি
- দুবার প্রস্তুতি, তারেক রহমানের দিল্লি সফর বারবার বাতিল, নেপথ্যে কী
- ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, ৪ ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
- হরমুজ প্রণালির সব মাইন সরিয়ে ফেলেছে মার্কিন নৌবাহিনী: ট্রাম্প
- ব্রাজিলকে আনতে সরকারের টাকা খরচের মানসিকতা নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
- ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নজরুল আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক: রিজভী
- জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে বোর্ডের নতুন নীতিমালা প্রকাশ
- সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার
- ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণা
- নরসিংদীতে ইটবোঝাই লরির ধাক্কায় শ্রমিক নিহত
- বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চোখ: বড় স্বপ্নের পথে বাংলাদেশ
- আবহাওয়ার বড় বার্তা: বিভিন্ন অঞ্চলে ৫ দিনের বিশেষ পূর্বাভাস
- কাশির সঙ্গে রক্ত: কারণ ও জরুরি সতর্কতার লক্ষণসমূহ
- ক্ষমতার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়, বদলাতে হবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি: AMRA গোলটেবিলে বক্তারা
- চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে নতুন চাপ, নজর সিঙ্গাপুরেও
- ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, ৪ ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
- লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম, নতুন রেকর্ডের পথে ভরি
- বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢলের ৯ বছর: প্রত্যাবাসন কেন এখনো অনিশ্চিত
- দুবার প্রস্তুতি, তারেক রহমানের দিল্লি সফর বারবার বাতিল, নেপথ্যে কী
- এডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌপ্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম
- বঙ্গোপসাগরে ২৪ নাবিক নিয়ে ডুবল জাহাজ, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ ২২
- দুই দিনেই ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত
- আজ ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না বহু এলাকায়
- আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন একনজরে
- আজ বঙ্গভবনে উঠছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
- নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে টিসিবির বড় পরিকল্পনা
- গার্ড অব অনারে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
- আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম








