আল জাজিরার প্রতিবেদন
“এই দুঃস্বপ্ন কবে শেষ হবে?”

উত্তর গাজায় নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে ইসরায়েলের সামরিক অগ্রগতি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে পূর্ব গাজা সিটিতে প্রায় ৩০০ মিটার ভেতরে অগ্রসর হয়ে বহু ফিলিস্তিনি পরিবারকে কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলেছে।
গাজার গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিস বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায় যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও ট্যাংকগুলো পূর্ব গাজা সিটির “হলুদ রেখা” বা ইয়েলো লাইন অতিক্রম করে আরও ভেতরের অঞ্চল দখল করেছে। এই অগ্রগতি যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি “স্পষ্ট অবজ্ঞা” এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেছে কর্তৃপক্ষ।
ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত মাসে হওয়া চুক্তিতে নির্ধারিত এই ইয়েলো লাইন ছিল একটি অনানুষ্ঠানিক সীমারেখা। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েল সেনারা এই রেখা পর্যন্ত পিছু হটে অবস্থান নিয়েছিল। তবে রেখাটি কোনো দৃশ্যমান চিহ্নে নির্ধারিত না থাকায় বহু ফিলিস্তিনি জানতেই পারছেন না তাদের বাড়ি কোন সীমার ভেতরে পড়ছে।
আল জাজিরার গাজা সিটি প্রতিনিধি হিন্দ খৌদারি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার শুজায়েয়া এলাকায় নতুনভাবে হলুদ ব্লক ও চিহ্ন বসিয়ে সীমারেখা আরও পশ্চিমে ঠেলে দিচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। ফলে বহু বাসিন্দা তাদের ঘরে ফিরতে পারছেন না। তাদের ভাষায়, গাজা এখন একটি খাঁচায় পরিণত হয়েছে যেখানে মানুষকে সংকুচিত করে পশ্চিমাঞ্চলে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলা আবারও তীব্র হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি আক্রমণে অন্তত ৩২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং আরও ৮৮ জন আহত হয়েছে।
চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছেন, খান ইউনুসের পূর্বাঞ্চলীয় বানী সোহাইলায় একটি বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুকন্যাও রয়েছে। আহত হয়েছে আরও ১৫ জন।
আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল প্রায় ৪০০ বার এই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
এদিকে বাস্তুচ্যুত ৩৬ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি মোহাম্মদ হামদৌনা এএফপিকে জানান, প্রতিদিনই মানুষ নিহত হচ্ছে এবং লোকজন এখনও তাঁবুতেই থাকতে বাধ্য হচ্ছে। তার ভাষায়, শহরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, সীমান্ত ক্রসিংগুলো বন্ধ, আর মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো চরম পরিমাণে অপ্রাপ্ত।
গাজার তুফাহ এলাকা থেকে ৩৩ বছর বয়সী লিনা কুরাজ বলেন, যুদ্ধবিরতির পরও নিয়মিত গোলাগুলি শুরু হয়ে যাওয়ায় নতুন করে বড় যুদ্ধ শুরুর ভয় তীব্র হচ্ছে। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, মানুষ যখন একটু আশার আলো দেখে স্বাভাবিক হতে চায়, তখনই নতুন করে গোলাবর্ষণ শুরু হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই দুঃস্বপ্ন কবে শেষ হবে?”
-আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রকে গালিবাফের হুঁশিয়ারি, ‘হামলার জবাব হবেই’
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। এবার ওয়াশিংটনকে সরাসরি কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে এবং এই বাস্তবতা যুক্তরাষ্ট্রকে মেনে নিতে হবে।
বুধবার (৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো উপলব্ধি করতে পারেনি যে আগ্রাসন, আধিপত্যবাদ এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গেরও মূল্য দিতে হয়। তার ভাষায়, ইরানের ওপর হামলা চালানো হলে পাল্টা আঘাত অনিবার্য এবং তেহরান নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গেও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন ইরানের স্পিকার। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ ইরানের নির্ধারিত নীতিমালার আওতাতেই পরিচালিত হবে। কোনো বিদেশি চাপ, হুমকি কিংবা সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গালিবাফ আরও বলেন, অযথা শক্তি প্রদর্শন পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলবে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যদি সংঘাত বাড়ানোর পথে এগোয়, তাহলে এর পরিণতিও তাদেরই বহন করতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলবে ইরানের শর্তে, কোনো বিদেশি শক্তির নির্দেশে নয়।
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় অন্তত আটজন ইরানি সেনা নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোরে বন্দর আব্বাস ও বুশেহর এলাকায় পরিচালিত হামলায় নিহতরা দেশটির বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্য ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ‘শাস্তিমূলক প্রতিক্রিয়ার’ প্রথম ধাপে তাদের নৌ ও মহাকাশ ইউনিট যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও আলি আল সালেম সামরিক ঘাঁটি এবং বাহরাইনের জুফায়ের ও শেখ ইসা ঘাঁটি হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।
তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আইআরজিসির দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা ও কঠোর রাজনৈতিক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাত তীব্র হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই, ইরনা, আইআরআইবি
ইরানে আরও ৯০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই নতুন মাত্রা পাচ্ছে। ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতেই সর্বশেষ এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, অভিযানে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা, ড্রোন সংরক্ষণাগার, নৌ-সামরিক স্থাপনা এবং উপকূলজুড়ে সামরিক রসদ সরবরাহ অবকাঠামোসহ বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব স্থাপনা আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করছিল।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযান আগের রাতে পরিচালিত হামলার ধারাবাহিক অংশ। সেন্টকম বলছে, প্রথম দফার অভিযানের পর নতুন গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা হয় এবং পরবর্তী পর্যায়ে সেগুলোতে নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে।
এর মাত্র একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, তারা ইরানের ৮০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। সর্বশেষ অভিযানের পর দুই দিনের ব্যবধানে মার্কিন বাহিনীর দাবি অনুযায়ী হামলার সংখ্যা প্রায় ১৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছেছে। যদিও এসব দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, ইরান এই হামলাকে দেশটির সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করেছে। তেহরান ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। ফলে সেখানে যেকোনো সামরিক সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। কূটনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ জোরদার না হলে পরিস্থিতি দ্রুত আরও জটিল রূপ নিতে পারে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার দাবি এবং লক্ষ্যবস্তুর সংখ্যা সেন্টকমের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে এসব দাবির পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
-রফিক
‘হত্যার তালিকায় আমি এক নম্বরে’- ট্রাম্প
ইরানকে ঘিরে আবারও উত্তপ্ত বক্তব্য দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের কথিত ‘হত্যার তালিকায়’ তার নাম শীর্ষে রয়েছে। একই সঙ্গে তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে প্রয়োজনে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত বিবেচনায় কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া বোয়িং উড়োজাহাজে তিনি দেশে ফিরবেন না। পরিবর্তে পূর্বে এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত একটি উড়োজাহাজে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবেন।
আলোচনার একপর্যায়ে ট্রাম্প রসিকতার সুরে বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি তথাকথিত তালিকায় হত্যার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তার নাম এক নম্বরে রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে এক নম্বরে থাকতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলেও মন্তব্য করেন।
ট্রাম্পের বক্তব্যে উঠে আসে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সাম্প্রতিক উত্তেজনার বিষয়টিও। তার অভিযোগ, জুন মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সমঝোতার পরও ইরান একাধিকবার চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে।
তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার স্থাপনা এবং নৌ-সম্পদে হামলা চালায়। পরবর্তীতে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এসব হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি বলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানান ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকবে বলে তিনি মনে করেন না। তার দাবি, তেহরান ধারাবাহিকভাবে এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা ওই সমঝোতার পরিপন্থী।
ট্রাম্প আরও বলেন, প্রয়োজন দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক অভিযান পরিচালনা করবে। তার দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অভিযানে এক রাতেই ইরানের ২৮টি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
তার ভাষায়, ইরানের হাতে যদি পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তবে তারা তা ব্যবহার করত বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। তাই কূটনৈতিক আলোচনা সফল না হলেও যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে আপসহীন থাকবে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সক্ষমতা রাখে। পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া তিনি বলেন, পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে ইরানের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। যদিও ইরান এখন পর্যন্ত এসব দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সেগুলো তার বক্তব্য হিসেবেই উপস্থাপিত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: সামা টিভি
আজ রাতেও ইরানে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গত রাতে ইরানের ওপর অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুনির্দিষ্ট উপায়ে সামরিক বিমান হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই ধারা অব্যাহত রাখতে সম্ভবত আজ রাতেও ইরানের নির্দিষ্ট সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে আরও একটি ভয়াবহ ও বিধ্বংসী আক্রমণ চালানো হবে।
বুধবার (৮ জুলাই) তুরস্কে চলমান উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের এক ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে পাশে নিয়ে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, পূর্ববর্তী সংঘাতের পর তেহরানকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে একটি মৃদু বা সামান্য সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইরানি কর্তৃপক্ষ তাদের নীতি বা অবস্থানে কোনো ধরনের ইতিবাচক সংশোধন না আোনায় মার্কিন সামরিক বাহিনী আজ রাতেই তাদের ওপর পুনরায় বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করতে যাচ্ছে।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন জোটের দুই প্রধান মিত্র বাহরাইন ও কুয়েতের অন্তত ৮৫টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের পক্ষ থেকে আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই নজিরবিহীন হামলার ঘটনার পরপরই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে পূর্বঘোষিত সব ধরনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি সমাপ্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আঙ্কারায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ‘অশুভ ও নিকৃষ্ট মানুষদের শাসন’ বলে বর্ণনা করেন এবং দেশটির পুরো প্রশাসনকে ‘উন্মাদ’ বলে অভিহিত করেন।
তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সব সুযোগ এখন চিরতরে শেষ হয়ে গেছে। তিনি আর দেশটির প্রশাসনের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক বা যোগাযোগ রাখতে চান না। একই সঙ্গে কড়া ভাষায় ইরানিদের অত্যন্ত ক্ষতিকর ও দুষ্ট হিসেবে আখ্যায়িত করে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, এই ধরনের শাসনব্যবস্থা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি মরণব্যাধি ক্যানসারের মতো; আর সবাই ভালো করেই জানে যে শরীরকে বাঁচাতে হলে শুরুতেই সেই ক্যানসারকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরোপুরি ছেঁটে ফেলতে হয়।
সূত্র : এনবিসি নিউজ
স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
চলমান ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় মিত্রদেশ স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় আয়োজিত নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (ন্যাটো) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে অংশীদারদের উপস্থিতিতে তিনি এই কঠোর সিদ্ধান্ত জানান। বুধবার কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের উপস্থিতিতে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প স্পেনের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে যাবতীয় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি আদেশ জারি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হিসেবে স্পেনের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেশটিকে একটি 'ভয়ানক অংশীদার' হিসেবে আখ্যায়িত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
প্রতিরক্ষা খাতের এই চরম উত্তেজনার সূত্রপাত মূলত গত মার্চ মাসে, যখন ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য স্পেনের অভ্যন্তরে অবস্থিত যৌথ সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায় মাদ্রিদ। শুধু তাই নয়, মার্কিন যুদ্ধবিমান চলাচলের জন্য নিজেদের আকাশসীমাও পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল স্পেনের সমাজতান্ত্রিক সরকার। মূলত ওয়াশিংটনের সামরিক পরিকল্পনায় সহযোগিতা না করার এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই ট্রাম্প প্রশাসন স্পেনের বিরুদ্ধে এমন নজিরবিহীন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথে হাঁটল।
আঙ্কারার এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর তেহরানের সঙ্গে পূর্ববর্তী সমঝোতা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত আগের সেই সমঝোতা স্মারকটি এখন পুরোপুরি ভেস্তে গেছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের তদারককারী সংস্থা সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ভেতরে তাদের সর্বশেষ বিমান হামলায় অন্তত ৮০টি সুনির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনা সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। এই বিশেষ অভিযানে মূলত ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক কমান্ড ও কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্টেশন এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
সেন্টকমের দেওয়া সামরিক বিবরণী থেকে আরও জানা গেছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের আক্রমণ করার সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে তারা বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) অন্তত ৬০টিরও বেশি ছোট ও দ্রুতগামী যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়ে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী স্পষ্ট করেছে যে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় তিনটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানি বাহিনীর আচমকা হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই জোরালো বিমান অভিযান চালানো হয়েছে। তবে মার্কিন এই ভয়াবহ সামরিক পদক্ষেপের বিপরীতে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
অবশ্য ইরানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে নতুন করে বিকট বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির সন্নিকটে অবস্থিত পারস্য উপসাগরের অপর গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপেও একই ধরনের শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
/আশিক
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: ৮ জুলাই মার্কিন-ইরান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের ঘোষণা ট্রাম্পের
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি সমঝোতা স্মারকটি ‘পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে’ বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ বুধবার (৮ জুলাই) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় আয়োজিত ন্যাটোর (NATO) হাই-ভোল্টেজ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করেন যে, তেহরানের বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে তিনি আর কোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনায় যেতে চান না।
আঙ্কারার ন্যাটো সম্মেলনে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ‘আমার মতে, এই চুক্তি এখন সম্পূর্ণ শেষ। এটা খুব আকর্ষণীয় একটা প্রশ্ন হলেও বাস্তবতা হলো—বিষয়টি এখানেই শেষ। আমি তাদের (ইরান) সাথে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না, ওরা অসুস্থ লোক। ওদের যারা নেতৃত্ব দেয়, তারাও অসুস্থ। তাদের সাথে আলোচনা বা কাজ করাটা এখন শুধুই সময়ের অপচয়।’
এর আগে গত রাতে (মঙ্গলবার) আন্তর্জাতিক জলসীমায় তিনটি তেল ট্যাংকারে রহস্যময় হামলার কঠোর জবাবে সরাসরি ইরানের ওপর নতুন করে বিধ্বংসী সামরিক হামলা চালায় ওয়াশিংটন এবং তেহরানের আন্তর্জাতিক তেল বিক্রির লাইসেন্স বাতিল করা হয়। ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বশেষ দফার এই বিমান হামলা সফলভাবে সম্পন্ন করার পরই মূলত দুই দেশের সম্পর্ক চরম যুদ্ধের দিকে ধাবিত হয়।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক বিশেষ বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের অত্যাধুনিক ও নিখুঁত যুদ্ধাস্ত্রের সাহায্যে ইরানের অভ্যন্তরে আশিটিরও বেশি কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই ভয়াবহ বিমান হামলার সরাসরি ও পাল্টা জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (IRGC) জানিয়েছে, আমেরিকার এই আগ্রাসনের প্রতিশোধ হিসেবে তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর আশিটিরও বেশি লক্ষ্যবস্তু তাক করে একযোগে শক্তিশালী ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
তেহরানের পক্ষ থেকে আজ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, মার্কিন বিমান হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তাদের নৌ এবং বিমান বাহিনী যৌথভাবে এই বিশাল পাল্টা সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে; যার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন এক নজিরবিহীন ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দামামা বাজছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরাকে পৌঁছেছে খামেনির মরদেহ, আজ কারবালায় শোকযাত্রা
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ ইরাকে পৌঁছেছে। তেহরানে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে বিশেষ বিমানে তার মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফে নেওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনি এবং তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের কফিন বহনকারী বিমানটি নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে সরকারি প্রতিনিধি, ধর্মীয় আলেম এবং স্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। বিমানবন্দরজুড়ে শোকাবহ পরিবেশের মধ্যেই মরদেহ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
আজ বুধবার খামেনির মরদেহ নাজাফ থেকে পবিত্র নগরী কারবালায় নেওয়া হবে। সেখানে একাধিক ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ও জানাজার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের ধারণা, ইরাকের বিভিন্ন প্রদেশ ছাড়াও প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা লাখো মানুষ এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকের শিয়া মুসলিম সমাজে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ব্যাপক প্রভাব ছিল। বিশেষ করে নাজাফ ও কারবালার ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্ক এবং শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্বে তার অবস্থানের কারণে দেশটির বিপুলসংখ্যক মানুষ তাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এই প্রেক্ষাপটে জানাজা উপলক্ষে ইরাকে বুধবার সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে রোববার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে খামেনির প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। ওই নামাজে ইমামতি করেন ইরানের বিশিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানী। একই জানাজায় খামেনির পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের জন্যও দোয়া করা হয়, যাদের মধ্যে ছিলেন তার জামাতা ড. মেসবাহ-উল-হোদা বাঘেরি-কানি, কন্যা জাহরা হাদ্দাদ-আদেল, ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদী-গোলপায়েগানি এবং সাইয়েদেহ বুশরা হোসেইনি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নাজাফে ইমাম আলী (আ.)-এর পবিত্র মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মরদেহ কারবালায় নেওয়া হবে। সেখানে ইমাম হুসাইন (আ.) এবং হজরত আব্বাস (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণেও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। এই সফরকে শিয়া মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরবর্তীতে খামেনির নিজস্ব ইচ্ছানুযায়ী মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। আগামী ৯ জুলাই পবিত্র শহর মাশহাদে ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করার কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেও খামেনির শেষ যাত্রাকে কেন্দ্র করে ইরান ও ইরাকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ধর্মীয় শোভাযাত্রা ও জানাজায় বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনা থাকায় দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
-রফিক
মার্কিন হামলার পর ইরানের হুঁশিয়ারি, ‘আরও কঠোর জবাব দিব’
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, এই অভিযানের পাল্টা জবাব হবে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও কঠোর ও শক্তিশালী। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।
বুধবার (৮ জুলাই) প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে। সামরিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এই হামলার যথাযথ ও কঠোর জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, এমন একটি সংবেদনশীল সময়ে এই হামলা চালানো হয়েছে, যখন ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ ইরাকে শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে হামলাকে রাজনৈতিক ও সামরিক উসকানি হিসেবেও বর্ণনা করেছে তেহরান।
ইরানের সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণভাবে আঞ্চলিক বিষয় এবং এতে বাইরের কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের জন্য ইরান নির্ধারিত রুটই একমাত্র স্বীকৃত ও নিরাপদ পথ। এই অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো প্রশ্ন নেই বলেও স্পষ্ট করেছে দেশটি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান অভিযান চালানো হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সেন্টকমের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অনুযায়ী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ কারণেই সীমিত পরিসরে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হামলার পর দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৪টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিক এলাকায় ১০টি এবং কেশম দ্বীপের মেইসিন গ্রামে আরও চারটি বিস্ফোরণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এসব বিস্ফোরণে হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
-রাফসান
বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন শেষ
২০২৪ সালের আগস্ট বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ঢাকার পররাষ্ট্রনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে এক নাটকীয় মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন, চীনের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোর এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য কৌশলগত অংশীদারিত্ব—সব মিলিয়ে এক অত্যন্ত চতুর ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি পার করছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক মার্কিন ডেপুটি চিফ অব মিশন জন এফ ড্যানিলোভিচ বাংলাদেশের বর্তমান ভূ-রাজনীতি, ভারতের সাথে আইনি জটিলতা এবং বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর সাথে ঢাকার ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করেছেন।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ও ‘আধিপত্যের’ অবসান
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে ফেরত চেয়ে ঢাকার আনুষ্ঠানিক আবেদনের বিষয়টি প্রধান্য পায়। ড্যানিলোভিচ মনে করেন, শেখ হাসিনাকে দিল্লির আশ্রয় দেওয়া দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি করেছে। বর্তমান বিএনপি সরকার ভারতের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি 'ধীরে কিন্তু সুনির্দিষ্ট' নীতি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র ও একপাক্ষিক আধিপত্যের দিন এখন স্পষ্টতই শেষ। শেখ হাসিনা এবং তাঁর সহযোগীদের ভারতে অবস্থান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায়।” একই সাথে তিনি সতর্ক করে বলেন, ভারতের আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ নিয়ে সেখানে ছড়ানো বিভিন্ন অপপ্রচার ও ‘মিসইনফরমেশন’ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ।
চীন-মিয়ানমার করিডোর ও ওয়াশিংটনের ভারসাম্য
বাংলাদেশকে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোরে যুক্ত করার গুঞ্জন নিয়ে সাবেক এই মার্কিন কূটনীতিক ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। তাঁর মতে, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশের বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং চীন একটি বড় উৎস। মিয়ানমারে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে দেশটির সাথেও অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানো ঢাকার জন্য স্বাভাবিক পদক্ষেপ। তবে এটি ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্কে কোনো ফাটল ধরাবে না বলে তিনি আশাবাদী। ড্যানিলোভিচ বলেন, বাংলাদেশ যদি চতুর ও দক্ষ কূটনীতির পরিচয় দিতে পারে, তবে চীনের সাথে এই অর্থনৈতিক যোগাযোগ ওয়াশিংটনের সাথে কোনো বিরোধের কারণ হবে না।
রোহিঙ্গা সংকট ও রাখাইন করিডোর
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে একটি মানবিক করিডোর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশে চলমান বিতর্ককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন ড্যানিলোভিচ। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক সাহায্য কমে আসায় দীর্ঘ মেয়াদে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশের পক্ষে এককভাবে সামলানো অসম্ভব। তাই রাখাইনে পরিস্থিতি উন্নত করা এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির জন্য মিয়ানমার সরকার ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সাথে যোগাযোগ বাড়ানো ঢাকার একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও দূরদর্শী পদক্ষেপ।
‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি ও সার্কের স্থবিরতা
ভারত ও পাকিস্তানের বৈরিতার কারণে সার্ক (SAARC) অকার্যকর হয়ে পড়ায় বাংলাদেশ এখন আসিয়ান (ASEAN) এবং ডি-৮ জোটের দিকে নজর দিচ্ছে, যাকে ড্যানিলোভিচ স্বাগত জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে আসিয়ানের অংশীদার হওয়ার জন্য জোরালো লবিং শুরু করেছে, যা দেশটির অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সভাপতি নির্বাচিত হওয়াকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ঢাকার একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন তিনি।
ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের নতুন দিগন্ত
বিপ্লব-পরবর্তী ঢাকাকে ওয়াশিংটন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে উল্লেখ করে ড্যানিলোভিচ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) বা কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত গতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশি কমিউনিটি দুই দেশের মধ্যকার জনগণের সম্পর্ক উন্নয়নে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্র: দ্যা ডেল্টাগ্রাম
পাঠকের মতামত:
- বিশ্বকাপ ফাইনালে তারকাদের মহাউৎসব, জানুন বিস্তারিত
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, আবার কমল দেশের স্বর্ণের দাম
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে টানা ৯ দিনের ছুটি ঘোষণা
- যুক্তরাষ্ট্রকে গালিবাফের হুঁশিয়ারি, ‘হামলার জবাব হবেই’
- ইরানে আরও ৯০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের
- ফন্টেইনের ৬৮ বছরের রেকর্ড ভাঙবেন মেসি?
- ‘হত্যার তালিকায় আমি এক নম্বরে’- ট্রাম্প
- মেসির পেনাল্টি মিস নিয়ে তর্ক, সংঘর্ষে নিহত ১
- কুমিল্লা আন্তঃজেলার ৭ ডাকাত সর্দার গ্রেফতার খুন, ধর্ষণ, ডাকাতিসহ ১৫-২০টি করে মামলা
- ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের শীর্ষ পদ থেকে জাবের ও জুমার পদত্যাগ
- আজ রাতেও ইরানে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- এফবিআইয়ের কঠোর তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনার ফুটবল প্রশাসন
- আর্জেন্টিনার বিতর্কিত জয় নিয়ে এবার মুখ খুললেন বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তিরা
- মাঠের উত্তেজনা ছাড়িয়ে আর্জেন্টিনার জয়ে কাঠগড়ায় রেফারিং, জবাব দিলেন মেসি
- জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার থেকে নির্দিষ্ট এলাকায় ২৪ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধের ঘোষণা
- স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- মার্কিন প্রেসিডেন্টের এক ঘোষণায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস
- ঢাকার ট্রাফিক জট নিরসনে চার মাসের মেগা পরিকল্পনা কাঁচপুরে
- নির্বাচনে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১১ দলকে হারানো হয়েছে: শফিকুর রহমান
- সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক ঘোষণা: এবার অনার্স পর্যন্ত মেয়েদের পড়াশোনা সম্পূর্ণ ফ্রি
- দেশের ৬৫ হাজার সরকারি স্কুলের ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে বড় সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: ৮ জুলাই মার্কিন-ইরান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের ঘোষণা ট্রাম্পের
- ৮ জুলাই ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ৮ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ৮ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- রোহিঙ্গা থেকে সেফ সিটি, ঢাকার পাশে ইসলামাবাদ?
- আর্জেন্টিনার জয়ের পর ক্ষুব্ধ মিশর, ‘ম্যাচ পাতানো’ অভিযোগ
- বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল: কার প্রতিপক্ষ কে? দেখুন সূচি
- জুলাইযোদ্ধার ২০০ আবেদন ভুয়া, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
- ৮ জুলাইয়ের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- ইরাকে পৌঁছেছে খামেনির মরদেহ, আজ কারবালায় শোকযাত্রা
- এক ধাক্কায় কমল স্বর্ণের দাম, নতুন ভরি কত
- বুধবার কোথায় বন্ধ দোকান-মার্কেট? দেখে নিন তালিকা
- মার্কিন হামলার পর ইরানের হুঁশিয়ারি, ‘আরও কঠোর জবাব দিব’
- খেলা জিতে চোখের জলে মেসির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
- ফিলিস্তিনের কষ্ট যে বোঝে না সে মানুষই না: মিসরীয় কোচ
- সাইবার প্রযুক্তির পরীক্ষা জালিয়াতি রুখতে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের মেগা বিল পাস
- সংসদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কুশল বিনিময়
- পাহাড়ধসের তীব্র ঝুঁকি: অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো সাজেক ভ্যালি
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ ভেন্যুতে বিশ্বকাপের খেলা সম্প্রচার সাময়িক বন্ধ
- ৭ বারের আফ্রিকা সেরা মিসরের মুখোমুখি আর্জেন্টিনা: সতর্ক স্কালোনি
- এক দলের বদলে অন্য দলের লুটপাটের জন্য ছাত্র-জনতা জীবন দেয়নি: নাহিদ ইসলাম
- বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নিশ্চিত ৬ পরাশক্তি, কার সামনে কোন প্রতিপক্ষ?
- শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও বর্ষায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিস্তারিত ছক জানালেন এ্যানি
- বাবা হিসেবে সবকিছু আবারও করতে প্রস্তুত: ভেঙে পড়া নেইমারকে বাবার আবেগঘন চিঠি
- ঢামেকের ৮০ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: আট দশকের অবদান জাতির গর্ব
- বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন শেষ
- গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারিতে মার্কিন নির্ভরতা: ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বড় দুর্বলতা ফাঁস
- যুদ্ধবিধ্বস্ত কিয়েভের চেয়েও পিছিয়ে: বিশ্বের অন্যতম কম বাসযোগ্য শহর হিসেবে ঢাকার রেকর্ড
- মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত, সিলেট সার্কিট হাউসে সুখবর দিলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী
- নরওয়ের বিপক্ষে নেইমার খেলবেন? জানালেন আনচেলত্তি
- ‘ইরান এখন সমঝোতায় মরিয়া’, খামেনির দাফনে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দিলাম: ট্রাম্প
- আরাগচি-গালিবাফ হত্যাচেষ্টার খবর নাকচ ইসরায়েলের
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত ভরি
- রোনালদোর ম্যাচসেরা পুরস্কার ঘিরে তুমুল বিতর্ক
- ‘নেতানিয়াহু জানেন, আসল বস কে’- ট্রাম্প
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’: সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার শিক্ষা
- খামেনির কফিন ঘিরে আবেগে ভাসছে তেহরান
- ‘অন্য ভাষায় জবাব পাবেন’ ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান
- আরাগচি-গালিবাফকে ঘিরে হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের, ইরানকে আগাম সতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের
- সপ্তাহজুড়ে শেয়ারবাজারে গতি, সূচকে শক্তিশালী উত্থান
- তাপপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু, এবার ঝড়-বন্যার নতুন শঙ্কা
- ২০০৬ সালের ভিসানীতিতে বড় সংস্কার
- জুলাই-আগস্টে বড় বন্যার শঙ্কা, সতর্ক এফএফডব্লিউসি








