নির্বাচনে 'না ভোট' বিধান যুক্ত করে আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশ জারি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ০৪ ১৪:৪০:৪২
নির্বাচনে 'না ভোট' বিধান যুক্ত করে আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশ জারি
ছবিঃ সংগৃহীত

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এনে একটি নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার, যার মাধ্যমে নির্বাচনে 'না ভোট' দেওয়ার বিধান যুক্ত হলো। এই বিধান আনার মূল লক্ষ্য হলো, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের মতো ঘটনা, যেখানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ জন 'এমপি' নির্বাচিত হয়েছিলেন, তার পুনরাবৃত্তি যেন এই দেশে না হয়।

সোমবার (৩ নভেম্বর) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে গণপ্রতিনিধিত্ব (আরপিও) অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়। দেশের সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশটি জারি করেছেন। এর আগে অধ্যাদেশের খসড়াটি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

আরপিও-এর ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে এই নতুন 'না ভোট'-এর বিধান যুক্ত করা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, কোনো আসনে যদি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা মাত্র একজন অবশিষ্ট থাকে, তবে ব্যালট পেপারে 'না ভোট' দেওয়ার বিধান অবশ্যই থাকবে। অর্থাৎ, যে নির্বাচনে একক প্রার্থী থাকবে, সেখানে ভোটাররা প্রার্থীর পাশাপাশি 'না ভোট' প্রদানের সুযোগ পাবেন।

সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর যদি কোনো নির্বাচনি এলাকায় কেবল একজন প্রার্থী অবশিষ্ট থাকেন, তাহলেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই প্রার্থীও 'না ভোট'-এর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

যদি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট 'না ভোট'-এর চেয়ে বেশি হয়, তাহলে রিটার্নিং অফিসার তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করবেন।

তবে, যদি কোনো আসনে প্রার্থীর চেয়ে 'না ভোট' বেশি পড়ে, তাহলে ওই এলাকায় নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

দ্বিতীয়বার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও যদি শেষ পর্যন্ত কেবল একজন প্রার্থী অবশিষ্ট থাকেন, তবে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।

এছাড়া, সংশোধিত অধ্যাদেশে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে কোনো প্রার্থী যদি মনোনয়ন পত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করতে চান, তাহলে আপিলের নির্ধারিত সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিংবা আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কাউকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা যাবে না। এই বিধানটি প্রার্থিতা বাতিল সংক্রান্ত বিতর্কগুলো নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।


নতুন পে-স্কেলের চূড়ান্ত হিসাব: কার বেতন কত বাড়ছে দেখে নিন (১ম-২০তম গ্রেড)

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২০ ২০:০১:৪৬
নতুন পে-স্কেলের চূড়ান্ত হিসাব: কার বেতন কত বাড়ছে দেখে নিন (১ম-২০তম গ্রেড)
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নবম পে-স্কেল নিয়ে গঠিত পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন কাঠামোয় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মূল বেতন (বেসিক) সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও, পে-স্কেল বাস্তবায়নের পর বর্তমানে চালু থাকা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেডভেদে বিশেষ সুবিধা প্রত্যাহারের ফলে চূড়ান্ত বেতন বৃদ্ধির হারে কিছুটা পার্থক্য আসবে। বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। এই সুবিধা প্রত্যাহার করায় ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল চালু হলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের প্রকৃত বেতন বাড়বে ৩৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের প্রকৃত বেতন বাড়বে মূল বেতনের ৪০ শতাংশ।

নিচে পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ১ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বর্তমান বেতন, বিশেষ সুবিধা এবং প্রস্তাবিত নতুন মূল বেতনের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:

১ম থেকে ৯গম গ্রেড (১০% বিশেষ সুবিধাভোগী)

১ম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা। ১০% বিশেষ সুবিধাসহ মোট প্রাপ্তি ৮৫,৮০০ টাকা (সুবিধা ৭,৮০০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে ৫০% বৃদ্ধিতে মূল বেতন হবে ১,১৭,০০০ টাকা।

২য় গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৬৬,০০০ টাকা। ১০% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ৭২,৬০০ টাকা (সুবিধা ৬,৬০০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ৯৯,০০০ টাকা।

৩য় গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৫৬,৫০০ টাকা। ১০% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ৬২,১৫০ টাকা (সুবিধা ৫,৬৫০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ৮৪,৭৫০ টাকা।

৪র্থ গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৫০,০০০ টাকা। ১০% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ৫৫,০০০ টাকা (সুবিধা ৫,০০০... টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ৭৫,০০০ টাকা।

৫ম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৪৩,০০০ টাকা। ১০% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ৪৭,৩০০ টাকা (সুবিধা ৪,৩০০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ৬৪,৫০০ টাকা।

৬ষ্ঠ গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৩৫,৫০০ টাকা। ১০% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ৩৯,০৫০ টাকা (সুবিধা ৩,৫৫০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ৫৩,২৫০ টাকা।

৭ম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ২৯,০০০ টাকা। ১০% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ৩১,৯০০ tobacco টাকা (সুবিধা ২,৯০০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ৪৩,৫০০ টাকা।

৮ম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ২৩,০০০ টাকা। ১০% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ২৫,৩০০ টাকা (সুবিধা ২,৩০০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ৩৪,৫০০ টাকা।

৯ম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ২২,০০০ টাকা। ১০% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ২৪,২০০ টাকা (সুবিধা ২,২০০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ৩৩,০০০ টাকা।

১০ম থেকে ২০তম গ্রেড (১৫% বিশেষ সুবিধাভোগী)

১০ম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ১৬,০০০ টাকা। ১৫% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ১৮,৪০০ টাকা (সুবিধা ২,৪০০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে ৫০% বৃদ্ধিতে মূল বেতন হবে ২৪,০০০ টাকা।

১১তম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ১২,৫০০ টাকা। ১৫% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ১৪,৩৭৫ টাকা (সুবিধা ১,৮৭৫ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ১৮,৭৫০ টাকা।

১২তম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ১১,৩০০ টাকা। ১৫% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ১২,৯৯৫ টাকা (সুবিধা ১,৬৯৫ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ১৬,৯৫০ টাকা।

১৩তম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ১১,০০০ টাকা। ১৫% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ১২,৬৫০ টাকা (সুবিধা ১,৬৫০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ১৬,৫০০ টাকা।

১৪তম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ১০,২০০ টাকা। ১৫% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ১১,৭৩০ টাকা (সুবিধা ১,৫৩০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ১৫,৩০০ টাকা।

১৫তম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৯,৭০০ টাকা। ১৫% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ১১,১৫৫ টাকা (সুবিধা ১,৪৫৫ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ১৪,৫৫০ টাকা।

১৬তম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৯,৩০০ টাকা। ১৫% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ১০,৬৯৫ টাকা (সুবিধা ১,৩৯৫ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ১৩,৯৫০ টাকা।

১৭তম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৯,০০০ টাকা। ১৫% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ১০,৩৫০ টাকা (সুবিধা ১,৩৫০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ১৩,৫০০ টাকা।

১৮তম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৮,৮০০ টাকা। ১৫% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ১০,১২০ টাকা (সুবিধা ১,৩২০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ১৩,২০০ টাকা。

১৯তম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৮,৫০০ টাকা। ১৫% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ৯,৭৭৫ টাকা (সুবিধা ১,২৭৫ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ১২,৭৫০ টাকা।

২০তম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা। ১৫% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ৯,৪৮৭ টাকা ৫০ পয়সা (সুবিধা ১,২৩৭ টাকা ৫০ পয়সা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ১২,৩৭৫ টাকা।

পে-কমিশনের এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে দেশের লাখ লাখ সরকারি চাকরিজীবী উপকৃত হবেন, যা তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

/আশিক


গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, খুদেদের সাথে ওড়ালেন জাতীয় পতাকা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২০ ১৮:৩৯:১৭
গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, খুদেদের সাথে ওড়ালেন জাতীয় পতাকা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা)’-এর চূড়ান্ত পর্বের জমকালো ফাইনাল ম্যাচ এবং খুদে ফুটবলারদের দুর্দান্ত নৈপুণ্য গ্যালারিতে বসে সরাসরি উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার (২০ জুন) বিকেল চারটার দিকে প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে মাঠের খুদে খেলোয়াড় ও দর্শকদের মাঝে এক অভূতপূর্ব উদ্দীপনার সৃষ্টি করেন। স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পর তিনি খুদে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং টুর্নামেন্টের সমাপনী আসরের সূচনা করেন।

সারা দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ধাপে ধাপে কঠোর ও দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়া শেষে মোট চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করে। মাঠের এই মহালড়াইকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়াম জুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

টুর্নামেন্টের বালিকা ও বালক বিভাগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের সূচি অনুযায়ী, বালিকা বিভাগের ফাইনালে ট্রফির লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দুই অঞ্চলের খুদে বালিকাদের এই ম্যাচটিকে ঘিরে গ্যালারিতে ছিল টানটান উত্তেজনা।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়ামে আসার আগেই বালক বিভাগের হাইভোল্টেজ শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি সম্পন্ন হয়। বালক বিভাগের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মাঠের ৯০ মিনিটের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই খেলায় দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে ইতিমধ্যে টুর্নামেন্টের নতুন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বরিশালের দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

তৃণমূলের ফুটবলকে চাঙ্গা করতে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টটি এবার রূপ নিয়েছিল ২২ লাখ শিক্ষার্থীর এক বিশাল মহাযজ্ঞে। গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এই টুর্নামেন্টের নানাদিক ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।

তিনি জানান, গত ৬ এপ্রিল শুরু হওয়া এই বিশাল ও ঐতিহাসিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় দেশের মোট ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র এবং ১১ লাখের বেশি ছাত্রী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছে।

উপদেষ্টা মাহদী আমিন আরও উল্লেখ করেন, একেবারে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় ধাপ পেরিয়ে দীর্ঘ মেধা ও যোগ্যতার লড়াই শেষে সেরা দলগুলো ঢাকায় চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে উদীয়মান ফুটবল প্রতিভা খুঁজে বের করার এই অনন্য উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আগামী আসরে দেশের অন্তত ৫০ লাখ খুদে শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি দূরদর্শী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

/আশিক


কসাইবাড়ী-আজমপুর-আবদুল্লাহপুরে বড় প্রকল্পের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ২০ ১০:১২:৫৬
কসাইবাড়ী-আজমপুর-আবদুল্লাহপুরে বড় প্রকল্পের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরা, দক্ষিণখান ও উত্তরখান এলাকার দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট সমস্যা নিরসনে বড় ধরনের অবকাঠামোগত উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কসাইবাড়ী, আজমপুর এবং আবদুল্লাহপুর রেলক্রসিংয়ে আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ এবং ‘সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল’-এর সদস্য সচিব মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি বিভিন্ন পর্যায়ে তুলে ধরা হচ্ছিল এবং জাতীয় সংসদেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণখান ও উত্তরখানের প্রবেশ ও বহির্গমনের প্রধান সংযোগপথ হিসেবে কসাইবাড়ী, আজমপুর এবং আবদুল্লাহপুর রেলগেট প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ব্যবহার করেন। কিন্তু ট্রেন চলাচলের সময় দীর্ঘ সময় রেলগেট বন্ধ থাকায় কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিকল্প সড়কের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ফলে অফিসগামী মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ যাত্রীদের প্রতিদিন দীর্ঘ সময় রাস্তায় আটকে থাকতে হয়।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে না পারায় তাদের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের কর্মঘণ্টাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উদ্বেগজনক বিষয় হলো, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও প্রায়ই এই যানজটের মধ্যে আটকা পড়ে। এতে জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে উত্তরা কসাইবাড়ী, আজমপুর কাঁচাবাজার এবং আবদুল্লাহপুর বেড়িবাঁধ রেলক্রসিং এলাকায় স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি তিনি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এসব স্থানে আধুনিক আন্ডারপাস বা ওভারপাস নির্মাণ করা গেলে রাজধানীর উত্তরাঞ্চলের একটি বড় অংশ স্থায়ীভাবে যানজটমুক্ত হবে। এতে মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি জরুরি সেবার কার্যকারিতাও বৃদ্ধি পাবে।

-রফিক


পাঠ্যক্রমে ফুটবল-ক্রিকেট যুক্ত হচ্ছে, বড় বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৯ ২০:০২:৫০
পাঠ্যক্রমে ফুটবল-ক্রিকেট যুক্ত হচ্ছে, বড় বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী এবং বাস্তবমুখী করে গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু বইভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে শিক্ষাব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার কাজ করছে।

আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি এই আয়োজনকে শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষা খাতের আধুনিকায়ন, পরিমার্জন এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার কাজ এগিয়ে চলছে। নতুন প্রজন্মকে শুধু পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনের দক্ষতা অর্জনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, জাতীয় শিক্ষাক্রমে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে এবং সাঁতারকে পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে যুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

সরকারপ্রধানের মতে, শিশু ও কিশোরদের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগই একটি শক্তিশালী জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তিনি বলেন, একটি আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ, সৃজনশীল ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, নতুন এই পরিকল্পনার আওতায় শুধু তাত্ত্বিক পাঠ নয়, বরং ব্যবহারিক ক্লাস ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের সামাজিক নানা সমস্যাও কমাতে ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে মাদকাসক্তি, অতিরিক্ত মোবাইল ফোন নির্ভরতা এবং প্রযুক্তি আসক্তির মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলায় খেলাধুলা কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, মাঠভিত্তিক কার্যক্রম শিশুদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি, দলগত কাজের মানসিকতা এবং দায়িত্ববোধ তৈরি করতে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও সুস্থ ও উৎপাদনশীল হয়ে উঠবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এবারের ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে’ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমান সুযোগ নিয়ে বালক ও বালিকা দল অংশগ্রহণ করেছে। চলতি বছরে সারা দেশে বালক ও বালিকা মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ও ব্যাপ্তির দিক থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বিশ্বের বৃহত্তম ফুটবল আয়োজনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

সরকার শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি মননশীলতা বৃদ্ধিতেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশগ্রহণ দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে ফুটবলে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে, যা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।

বাণীর শেষ অংশে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আজকের এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের উজ্জ্বল মুখ হয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করবে। তিনি ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

-রাফসান


সরকারি কর্মচারীদের জন্য যেসব সুবিধা বাড়ানো হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৯ ১৯:৩৭:৫৪
সরকারি কর্মচারীদের জন্য যেসব সুবিধা বাড়ানো হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে সরকার পেনশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার কার্যকর করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল, পেনশনের হার, আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি), পারিবারিক পেনশন এবং অব্যবহৃত ছুটি নগদায়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নতুন নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আরও আধুনিক, মানবিক ও টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, পেনশন পাওয়ার জন্য ন্যূনতম চাকরিকালের শর্ত ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ পেনশনের হার শেষ অর্জিত মূল বেতনের ৮০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় চাকরি করা সরকারি কর্মচারীরা অবসরের পর আগের তুলনায় আরও বেশি আর্থিক সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি বিশেষ পরিস্থিতিতে স্বল্প মেয়াদে চাকরি করা কর্মচারীরাও পেনশন সুবিধার আওতায় আসার সুযোগ পাবেন।

প্রজ্ঞাপনে ৫ বছর থেকে শুরু করে ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালের জন্য ধাপে ধাপে নতুন পেনশন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কাঠামো অনুযায়ী, ৫ বছর চাকরি করলে ২১ শতাংশ হারে পেনশন সুবিধা শুরু হবে, যা ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালের ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত হবে। তবে ৫ থেকে ২৪ বছরের চাকরিকালের সুবিধা মূলত কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু, মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক স্থায়ী অক্ষমতা কিংবা পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি হারানোর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সরকার অবসরপ্রাপ্তদের মাসিক পেনশনও বাড়িয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে ৬৫ বছরের কম বয়সী অবসরভোগীদের ক্ষেত্রে পেনশন ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। অন্যদিকে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী অবসরপ্রাপ্তদের জন্য এই হার ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাসিক ন্যূনতম পেনশন ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা নিম্ন আয়ের অবসরপ্রাপ্তদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চাকরিকালের শর্ত পরিবর্তনের ফলে আনুতোষিক বা গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৫ থেকে ৯ বছর চাকরিকালের ক্ষেত্রে প্রতি ১ টাকা পেনশনের বিপরীতে ২৬৫ টাকা আনুতোষিক নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে স্বল্প মেয়াদে চাকরি করেও অনেক সরকারি কর্মচারী এককালীন উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এ ছাড়া মানবিক দিক বিবেচনায় বিশেষ আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কোনো কর্মচারী চাকরির পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করলে অথবা স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তার পরিবার বিশেষ সহায়তা পাবে। এ ক্ষেত্রে চাকরির প্রতিটি পূর্ণ বছরের জন্য শেষ তিন মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এককালীন সহায়তা হিসেবে প্রদান করা হবে।

পারিবারিক পেনশন ব্যবস্থাতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিধবা স্ত্রীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সের পর পুনর্বিবাহ না করার অঙ্গীকারনামা সংক্রান্ত শর্ত শিথিল করা হয়েছে। পাশাপাশি মৃত নারী সরকারি কর্মচারীর স্বামীও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পারিবারিক পেনশনের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পরিবর্তনের ফলে পারিবারিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাস্তবসম্মত হয়েছে।

অবসরের সময় আর্থিক সুবিধা বাড়াতে ছুটি নগদায়ন ব্যবস্থায়ও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে যেখানে সর্বোচ্চ ১২ মাসের অব্যবহৃত ছুটি নগদায়ন করা যেত, সেখানে এখন সেই সীমা বাড়িয়ে ১৮ মাস করা হয়েছে। এর ফলে চাকরি শেষে কর্মচারীরা অতিরিক্ত অর্থ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যা অবসর-পরবর্তী জীবন পরিকল্পনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন এই সুবিধাগুলো ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে ওই সময়ে অবসর-পূর্ব প্রস্তুতিমূলক ছুটি (পিআরএল) অবস্থায় থাকা কর্মচারীরাও এই সুবিধার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

-রফিক


হাইকোর্টে জামিন পেলেও কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সুমনকে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ২১:৪৩:০৭
হাইকোর্টে জামিন পেলেও কারাগারেই থাকতে হচ্ছে সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সুমনকে
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর আদাবর ও যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা পৃথক দুটি হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত এই স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।

আদালতে সাবেক এই সংসদ সদস্যের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী লিটন আহমেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অনীক আর হক। এর আগে, ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-৬ এলাকা থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেপ্তার করেছিল আইনশৃঙ্খল বাহিনী।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সাবেক এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন থানা এবং তার নিজ জেলা হবিগঞ্জে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এর আগে হাইকোর্টে মিরপুর থানার একটি মামলায় তার জামিন আবেদন করা হলে আদালত জামিন মঞ্জুর করে রুল জারি করেছিলেন।

পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করলেও আপিল বিভাগ মিরপুর থানার সেই মামলায় তার জামিন বহাল রাখেন। তবে এরপর হাইকোর্ট বিভাগ থেকে আরও দুটি হত্যা মামলায় (আদাবর ও যাত্রাবাড়ী থানা) জামিন পেয়েছিলেন ব্যারিস্টার সুমন, যা আজ চেম্বার আদালতের আদেশে স্থগিত করা হলো।

/আশিক


ঋণখেলাপিদের সংসদ মন্তব্য নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের তুমুল বিতর্ক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ২১:৩৪:২৩
ঋণখেলাপিদের সংসদ মন্তব্য নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের তুমুল বিতর্ক
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ব্যাংক খাতের ঋণখেলাপি ইস্যুকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার একটি বক্তব্য নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তুমুল বাদানুবাদ ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। রুমিন ফারহানার দেওয়া একটি নির্দিষ্ট বক্তব্য সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাদ দেওয়া) করার দাবি তুলেছেন সরকারি দলের একজন সংসদ সদস্য। অন্যদিকে, এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ না করার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে বিরোধী দল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানিয়েছেন, পুরো বক্তব্যটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে বাজেট আলোচনার একপর্যায়ে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে মোট মন্দ ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে যদি অবলোকন পুনঃতফসিল করা এবং বিভিন্ন মামলার কারণে আদালতের নির্দেশে আটকে থাকা ঋণের পরিমাণ যোগ করা হয়, তবে এই অঙ্ক দাঁড়াবে প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা। এটি দেশের মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এই বিপুল পরিমাণ টাকা আটকে থাকায় ব্যাংকগুলো চাইলেও এখন সরকারকে বেশি মাত্রায় আর্থিক সহায়তা দিতে পারবে না। এই বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি ‘ঋণখেলাপিদের এই সংসদ’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেন।

রুমিন ফারহানার বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তার ব্যবহৃত ‘ঋণখেলাপিদের এই সংসদ’ শব্দগুচ্ছটি এক্সপাঞ্জ করার জোর দাবি জানান গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন। তিনি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সংসদটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং দেশে-বিদেশে সর্বজন গ্রহণযোগ্য। কিন্তু কোনো কোনো সদস্য অবচেতন বা সচেতন মনে এমন কিছু কথা সংসদে উচ্চারণ করছেন, যা সংসদের মর্যাদাকে খাটো করে। তিনি যুক্তি দেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো প্রকৃত ঋণখেলাপি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতেই পারেন না। সেখানে সংসদকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ বলা সম্পূর্ণ আত্মঘাতী এবং মানহানিকর। তাই তিনি ভবিষ্যতে সংসদ সদস্যদের আরও সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে স্পিকারকে এই বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান।

এর পরপরই ফ্লোর নিয়ে সরকারি দলের দাবির তীব্র বিরোধিতা করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি সংসদে বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের বিপুল অঙ্কের ঋণ থাকার বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি ঋণখেলাপিদের দলীয় মনোনয়ন দিয়ে সংসদে নিয়ে আসে, তবে সেই দায় সম্পূর্ণ তাদেরই। সংসদে এত বিপুলসংখ্যক ঋণগ্রস্ত বা ঋণখেলাপি সদস্য উপস্থিত থাকলে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই একে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ হিসেবে আখ্যা দেবে। তিনি স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, সার্বভৌম সংসদে দাঁড়িয়ে যদি ঋণখেলাপিদের ‘ঋণখেলাপি’ বলা না যায়, তবে এই সত্য কথা কোথায় বলা হবে? ফলে এই বক্তব্য কোনোভাবেই এক্সপাঞ্জ করার যোগ্য নয়।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের বক্তব্যের জবাব দিতে দাঁড়িয়ে সরকারি দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের সব সদস্য আইনি প্রক্রিয়া মেনেই নির্বাচিত হয়ে এসেছেন এবং নির্বাচনী আইন (আরপিও) অনুযায়ী কেউ চূড়ান্তভাবে ঋণখেলাপি সাব্যস্ত হলে তিনি নির্বাচন করার যোগ্যতা হারাতেন। ব্যবসা-বাণিজ্য করতে গিয়ে অনেকে সাময়িকভাবে ‘ঋণগ্রস্ত’ হতে পারেন, কিন্তু তাদের ঢালাওভাবে ‘ঋণখেলাপি’ বলে মানহানি করা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে ব্যাংকের বা আইনি জটিলতা ছিল, তারা সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্ট থেকে সেগুলোর সমাধান করে বৈধ প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচিত হয়েছেন। তাই এই মানহানিকর বক্তব্য অবশ্যই এক্সপাঞ্জ হওয়া উচিত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর পুনরায় ফ্লোর নিয়ে নিজের দাবির সপক্ষে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি সাম্প্রতিক তথ্য উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি উল্লেখ করেন, টিআইবির গবেষণা অনুযায়ী বর্তমান সংসদের সদস্যদের কাছে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা রয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা।

একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা কীভাবে সামান্য কিছু টাকা জমা দিয়ে ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিল (রিশিডিউলিং) করেন, তা সবার জানা। ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তালিকায় নাম আসার ঠিক আগ মুহূর্তে কীভাবে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করে আইনি স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া হয় এবং নির্বাচন শেষ হওয়ার পর পুনরায় ঋণের সুদ দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়, সেই কৌশলগত প্রক্রিয়াটিও কারও অজানা নয়।

/আশিক


সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত রেকর্ড বৃদ্ধি, তথ্য দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ২১:২৯:৫৯
সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত রেকর্ড বৃদ্ধি, তথ্য দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ছবি : সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ এক বছরের ব্যবধানে বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের মোট জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেবল ২০২৫ সালেই নতুন করে জমা পড়েছে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকারও বেশি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এসএনবি আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রকাশিত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সাল শেষে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই জমার পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ। ফলে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশিদের আমানতে বড় ধরনের লাফ লক্ষ্য করা গেছে। যদিও বাংলাদেশে সুইস ফ্রাঁর সরাসরি ব্যবহার অত্যন্ত সীমিত, তবে বর্তমান আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজার অনুযায়ী প্রতি সুইস ফ্রাঁর বিনিময় মূল্য প্রায় ১৫২ থেকে ১৫৩ টাকা। সেই হিসাবে প্রতি সুইস ফ্রাঁ ১৫২ টাকা ধরে হিসাব করলে ২০২৫ সাল শেষে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের মোট জমা অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই আমানত বৃদ্ধির মূল উৎস হিসেবে কাজ করেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক। সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বৃদ্ধির প্রায় পুরো অংশটাই এসেছে দেশের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে জমা রাখা বৈদেশিক মুদ্রা থেকে। ২০২৫ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর আমানতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২২ দশমিক ৭ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ, যা ২০২৪ সালের ৫৭৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁর তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ বেশি।

এর ফলে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে থাকা মোট বাংলাদেশি আমানতের ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশই এখন বিভিন্ন ব্যাংকের নামে জমা রয়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ। অথচ মাত্র কয়েক বছর আগেও এই হিসাবের চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে মোট আমানতের মাত্র ২০ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৩৫ শতাংশ অর্থ ছিল ব্যাংকগুলোর নামে।

অর্থনৈতিক এই পরিবর্তনের বিপরীতে ব্যক্তি পর্যায়ের আমানত জমার ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে রাখা অর্থের পরিমাণ আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যক্তিগত বা একক অ্যাকাউন্টে থাকা আমানতের পরিমাণ ১২ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে হ্রাস পেয়ে ১১ দশমিক ৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে নেমে এসেছে।

/আশিক


এসএসএফ-এর ফায়ারিং রেঞ্জে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিশানা পরীক্ষা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ১৮:১৩:২৭
এসএসএফ-এর ফায়ারিং রেঞ্জে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিশানা পরীক্ষা
ছবি : সংগৃহীত

স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন শেষে এই অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জে তিনি নিজেই অস্ত্র হাতে নিয়ে নিজের নিশানা পরীক্ষা করেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এই নিশানা পরীক্ষা ও উদ্বোধনী মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে নবনির্মিত এই ফায়ারিং রেঞ্জ নিঃসন্দেহে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আশা করি, নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন এবং নিজেদের পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে আপনারা এই ফায়ারিং রেঞ্জের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।"

নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা। তাই আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ, নিরাপত্তার কড়াকড়ি বা সুরক্ষার ঘেরাটোপ যেন সরকারপ্রধানকে সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে না ফেলে।" ভিআইপিদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হেনস্থা বা দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে এসএসএফ-কে কড়া নির্দেশনা দেন তিনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় এসএসএফ-এর ভূমিকার প্রশংসা:প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকালীন এবং পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যুর পর বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম জানাজা সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে এসএসএফ-এর সমন্বয়কারী ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি স্মৃতিচারণ করে উল্লেখ করেন, তরুণ বয়স থেকেই মায়ের (সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া) সরকারপ্রধান থাকাকালীন তিনি এই এলিট বাহিনীর পেশাদারত্ব ও কার্যক্রম খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়েছেন।

এছাড়াও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে গভীর দেশপ্রেম এবং পেশাদারত্বের সঙ্গে এসএসএফ সদস্যদের চেইন অব কমান্ড বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

/আশিক

পাঠকের মতামত: