সিরাত সিরিজ, পর্ব-১

কন্যা হত্যা ও গোত্রীয় সংঘাতের যুগে এক বিশ্বস্ত শিশুর বেড়ে ওঠা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ০৮ ১৯:৪০:৪১
কন্যা হত্যা ও গোত্রীয় সংঘাতের যুগে এক বিশ্বস্ত শিশুর বেড়ে ওঠা
ছবি: pinterest

প্রায় দেড় হাজার বছর আগে আরব উপদ্বীপে নেমে এসেছিল এক ভয়াল অন্ধকার। এই সময়কাল ইতিহাসে আইয়্যামে জাহেলিয়াত বা অজ্ঞতার যুগ নামে পরিচিত । এই নামকরণ কোনো সাধারণ অজ্ঞতার জন্য নয়, বরং ছিল মানবিকতার চরমতম বিপর্যয় ।

সামাজিক ও নৈতিক সংকট: মক্কার জমিন ছিল গোত্রে গোত্রে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ক্ষেত্র । সমাজের মূল ভিত্তি ছিল দাসপ্রথা ও ধনীদের সীমাহীন শোষণ । সবচেয়ে ভয়াবহ ও অমানবিক প্রথাটি ছিল কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া ।

ধর্মীয় বিকৃতি: ইব্রাহিম (আঃ) প্রতিষ্ঠিত পবিত্র কাবা ঘর তখন মূর্তিপূজার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল । কাবা ভরে ছিল ৩৬০টি মূর্তিতে।

ব্যতিক্রমী আগমন: ঠিক এমন এক ঘোর নৈতিক শূন্যতায়, জন্ম হলো এক ব্যতিক্রমী শিশুর, যিনি কেবল একটি সমাজ নয়, গোটা মানবজাতির ইতিহাসের গতিপথ চিরতরে পাল্টে দিলেন।

জন্মের অলৌকিক পটভূমি: হস্তীবাহিনীর ঘটনা ও পিতৃহীন জন্ম

ঐতিহাসিক সময়কাল: মহানবী (সাঃ) ৯ই রবিউল আউয়াল তারিখে মক্কার বিখ্যাত বনু হাশিম বংশে সুবহে সাদেকের সময় জন্মগ্রহণ করেন । ইংরেজি পঞ্জিকা অনুসারে তারিখটি ছিল ৫৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২০ বা ২২শে এপ্রিল ।

হস্তীবাহিনীর ঘটনা: তাঁর জন্মের মাত্র ৫০ থেকে ৫৫ দিন পূর্বে, ইয়েমেনের শাসক আবরাহা বিশাল হস্তীবাহিনী (আসহাবে ফীল) নিয়ে কাবা ধ্বংস করতে আসেন । আবরাহার উদ্দেশ্য ছিল মক্কার পরিবর্তে সানা'য় (ইয়েমেন) নির্মিত গির্জার দিকে আরবদের হজ্বকে ফিরিয়ে আনা ।

আল্লাহর সাহায্য: আবরাহার হাতি যখন কাবার দিকে এগোতে চাইল, তখন তা মাটিতে বসে পড়ল । এমন সময় আল্লাহ তা'আলা ঝাঁকে ঝাঁকে আবাবিল পাখি প্রেরণ করলেন, যারা ছোট ছোট পাথর (কঙ্কর) নিক্ষেপ করে সেই বিশাল বাহিনীকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয় ।

তাৎপর্য: এই অলৌকিক ঘটনাটি ছিল নবুয়তের আগমনের পূর্বাভাস এবং কাবার উচ্চ সম্মান ও সুমহান মর্যাদার প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক সুস্পষ্ট নিদর্শন ।

পিতা-মাতার বিয়োগ: জন্মের আগেই তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ ইন্তেকাল করেন । এরপর ছয় বছর বয়সে তিনি মাতা আমিনা (রাঃ)-কেও হারান ।

শৈশবে লালন-পালন ও আত্মিক শুদ্ধিকরণ

দুধমাতা হালিমা ও বরকত: তৎকালীন মক্কার রীতি অনুযায়ী, শিশু মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে বনু সা'দ গোত্রের ধাত্রী হালিমা সাদিয়া (রাঃ)-এর কাছে মরুভূমিতে পাঠানো হয় । উদ্দেশ্য ছিল শহর থেকে দূরে গ্রামীণ পরিবেশে শিশুদের বলিষ্ঠ দেহ ও বিশুদ্ধ আরবী ভাষা শিক্ষা দেওয়া । শিশুটিকে গ্রহণ করার পর হালিমা (রাঃ)-এর পরিবার অলৌকিকভাবে বরকত লাভ করতে থাকে ।

বক্ষ বিদারণ (শাক্ক আল-সাদর): শিশু মুহাম্মাদ (সাঃ) যখন হালিমা (রাঃ)-এর কাছে ছিলেন, তখন তাঁর বক্ষ বিদারণের অলৌকিক ঘটনাটি ঘটে । খেলার সময় ফেরেশতা জিবরাঈল (আঃ) তাঁর বক্ষ উন্মোচন করে তাঁর হৃদপিণ্ড থেকে শয়তানের অংশটি বা কলুষতাকে অপসারণ করেন ।

শুদ্ধিকরণ: এরপর হৃৎপিণ্ডটি জমজমের পানি দ্বারা ধুয়ে তা যথাস্থানে প্রতিস্থাপন করা হয় । এটি ছিল নবুয়তের জন্য তাঁর দৈহিক ও আত্মিক শুদ্ধিকরণ এবং তাঁকে সব ধরনের পাপ ও কলুষতা থেকে পবিত্র করার প্রস্তুতি ।

দাদা আব্দুল মুত্তালিবের আশ্রয়: মায়ের মৃত্যুর পর বৃদ্ধ দাদা আব্দুল মুত্তালিব তাঁকে মক্কায় নিয়ে আসেন । দাদা তাঁকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন এবং কা'বার ছায়ায় নিজের বিশেষ আসনেও বসতে দিতে।

চাচার তত্ত্বাবধান: আট বছর দু'মাস দশ দিন বয়সে দাদা আব্দুল মুত্তালিব মৃত্যুবরণ করলে , চাচা আবু তালিব তাঁকে নিজ সন্তানের চেয়েও বেশি স্নেহ ও সম্মানের সাথে প্রতিপালন করেন ।

যৌবন, কর্মজীবন ও 'আল-আমিন' উপাধি

কর্মজীবন: কৈশোরে তিনি চাচা আবু তালিবের মেষ চরাতেন । বিশ বছর বয়সে তিনি চাচার সঙ্গে ব্যবসায়িক সফরে সিরিয়া গমন করেন ।

ব্যবসা ও বিবাহ: ২৫ বছর বয়সে তিনি মক্কার সম্ভ্রান্ত ও ধনী মহিলা খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রাঃ)-এর ব্যবসার ভার নিয়ে সিরিয়া গমন করেন । তাঁর সততা ও ব্যবসায়িক সাফল্য দেখে খাদিজা (রাঃ) মুগ্ধ হন এবং পরে তাঁকে বিবাহের প্রস্তাব দেন । বিবাহের সময় খাদিজা (রাঃ)-এর বয়স ছিল ৪০বছর।

কাবা সংস্কারে বিচক্ষণতা: যখন তাঁর বয়স ৩৫ বছর, তখন কাবা গৃহ পুনর্নির্মাণের সময় হাজরে আসওয়াদ স্থাপনের সম্মান নিয়ে গোত্রীয় সংঘাত সৃষ্টি হলে, তিনি চাদরের মাধ্যমে বুদ্ধিদীপ্ত সমাধান দেন এবং রক্তপাত এড়ান ।

বিশ্বস্ততার প্রতীক: তাঁর চারিত্রিক গুণাবলী ছিল সর্বজনস্বীকৃত। তাঁর সততা, বিশ্বস্ততা, নম্র-ভদ্রতা এবং আমানত হেফাজতের কারণে আরববাসীগণ তাঁকে 'আল-আমিন' (অতি বিশ্বস্ত) উপাধিতে ভূষিত করেছিল । তিনি ছিলেন আরববাসীগণের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আমানতদার ।

সিরাত অধ্যয়নের আহ্বান ও পরবর্তী পর্বের ঘোষণা

এই পর্বে আমরা মহানবী (সাঃ)-এর জীবনের নবুয়ত-পূর্ব চল্লিশ বছরের বিস্তারিত চিত্র দেখলাম, যা ছিল জাহেলিয়াতের সব ধরনের অশ্লীলতা, পাপাচার ও কলুষতা থেকে মুক্ত । তাঁর জীবন ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ সুরক্ষা ও পরিচালনার অধীন । তাঁর চরিত্র ছিল সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং বিশ্বস্ততার এক পূর্ণাঙ্গ নমুনা, যা তাঁকে মানবজাতির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করেছিল।

বিশেষ বার্তা:

সম্মানিত পাঠক, মহানবী (সাঃ)-এর পবিত্র জীবন অত্যন্ত বিস্তৃত। আমাদের এই ধারাবাহিক পর্বগুলো শায়খ সফিউর রহমান মোবারকপুরী রচিত বিশ্বখ্যাত সিরাত গ্রন্থ 'আর-রাহীকুল মাখতূম'-এর তথ্য অনুযায়ী, তথ্য সংক্ষেপ না করে, সহজ ভাষায় তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা মাত্র। তাঁর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জনের জন্য মূল সিরাত গ্রন্থগুলো অধ্যয়নের আহ্বান রইল।

আগামী পর্ব: নবুয়তের সূচনা: হেরা গুহার অভ্যন্তরে প্রথম ওহী ও জিবরাঈল (আঃ)-এর আগমন (সূত্র: আর-রাহীকুল মাখতূম)।


আজ ০৮ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ০৯:৪৫:২৭
আজ ০৮ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম এবং ইমান বা বিশ্বাসের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো নামাজ। পরকালে প্রথম হিসাব নেওয়া হবে এই নামাজেরই। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য অপরিহার্য। আজ বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ (১৮ রজব ১৪৪৭ হিজরি) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য নামাজের নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,

আজ ঢাকার জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২:০৭ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকাল ৩:৪৮ মিনিটে। মাগরিবের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যা ৫:২৯ মিনিটে এবং এশার ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৬:৪৬ মিনিটে। এছাড়া আগামীকাল শুক্রবারের ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৫:২৩ মিনিটে।

তবে ভৌগোলিক অবস্থানভেদে দেশের বিভিন্ন বিভাগে এই সময়ের কিছুটা তারতম্য রয়েছে। চট্টগ্রামের মুসল্লিদের ঢাকার সময়ের চেয়ে ৫ মিনিট এবং সিলেটের মুসল্লিদের ৬ মিনিট বিয়োগ করে নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে। অন্যদিকে, ঢাকার সময়ের সঙ্গে খুলনায় ৩ মিনিট, বরিশালে ১ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট এবং রংপুরে ৮ মিনিট যোগ করে ওয়াক্ত নির্ধারণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ওয়াক্তমতো নামাজ আদায় করে পরকালের পাথেয় সংগ্রহের আহ্বান জানানো হয়েছে।


আজ ০৭ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ০৯:৪৩:৫৮
আজ ০৭ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পাঁচটি রুকনের মধ্যে নামাজ দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ইমান বা বিশ্বাসের পর নামাজের মাধ্যমেই একজন মুমিন তার আনুগত্যের পরিচয় দেয়। কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তায়ালা বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেবেন। তাই শত ব্যস্ততা থাকলেও সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬), ১৭ রজব ১৪৪৭ হিজরি।

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ

জোহর: ১২.০৭ টা

আসর: ৩.৪৮ টা

মাগরিব: ৫.২৯ টা

এশা: ৬.৪৬ টা

ফজর (আগামীকাল বৃহস্পতিবার): ৫.২৩ টা

ঢাকার সময়ের সঙ্গে দেশের অন্যান্য এলাকার সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের ৫ মিনিট এবং সিলেটের বাসিন্দাদের ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে, খুলনার ক্ষেত্রে ৩ মিনিট, রাজশাহীর জন্য ৭ মিনিট, রংপুরের জন্য ৮ মিনিট এবং বরিশালের জন্য ১ মিনিট সময় যোগ করতে হবে। তীব্র শীতের এই সময়ে ওজু ও নামাজের মাধ্যমে আত্মিক প্রশান্তি খুঁজে পাওয়াই হোক মুমিনের লক্ষ্য।


সকাল-সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসী পাঠের বিস্ময়কর ফজিলত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১৯:১৪:২৪
সকাল-সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসী পাঠের বিস্ময়কর ফজিলত
ছবি: সংগৃহীত

কোরআনুল কারিমে এমন কিছু আয়াত রয়েছে, যা ঈমানি বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত। আয়াতুল কুরসী তেমনই একটি আয়াত, যা আল্লাহ তায়ালার একত্ব, চিরঞ্জীবতা, জ্ঞান ও সার্বভৌম ক্ষমতাকে এক আয়াতেই সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে। এই আয়াতটি সূরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত এবং ইসলামের আলোকে এটি কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে স্বীকৃত।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই আয়াতুল কুরসীকে কোরআনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়াত হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সাহাবায়ে কেরামের মাধ্যমে বর্ণিত সহীহ হাদীসগুলোতে এই আয়াতের ফজিলত, নিরাপত্তা ও আত্মিক শক্তির দিকগুলো বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে।

ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসী: জান্নাতের প্রতিশ্রুতি

হযরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে একমাত্র বাধা হবে মৃত্যু। অর্থাৎ, মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই তার জন্য জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত হয়ে যাবে।

এই হাদীস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর নিয়মিত আয়াতুল কুরসী পাঠ করা মুমিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৈনিক আমল। এটি কেবল ইবাদতের অংশ নয়, বরং জান্নাত লাভের একটি সুসংবাদও বটে।

ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসী: শয়তান থেকে অলৌকিক সুরক্ষা

সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর ঘটনাটি আয়াতুল কুরসীর ফজিলতের এক অনন্য প্রমাণ। রমজান মাসে সাদাকাতুল ফিতরের খাদ্য পাহারা দেওয়ার সময় তিনি তিন রাত ধরে এক রহস্যময় আগন্তুকের মুখোমুখি হন। শেষ রাতে সেই আগন্তুক তাকে জানায়, ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসী পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা সকাল পর্যন্ত একজন রক্ষাকর্তা নিযুক্ত করেন এবং শয়তান আর কাছে আসতে পারে না।

পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিশ্চিত করেন যে, ওই আগন্তুক ছিল এক শয়তান, যে মিথ্যাবাদী হলেও এই বিষয়ে সত্য কথা বলেছে। এটি প্রমাণ করে, আয়াতুল কুরসীর শক্তি এমন যে শয়তানও তা অস্বীকার করতে পারেনি।

সকাল-সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসী: জিনের স্বীকারোক্তি

আরেকটি সহীহ বর্ণনায় দেখা যায়, হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রা.)-এর খাদ্য ভাণ্ডার থেকে নিয়মিত খেজুর কমে যাচ্ছিল। পাহারা দিতে গিয়ে তিনি এক জিনের মুখোমুখি হন, যে স্বীকার করে নেয়—সকাল ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসী পাঠ করলে জিন ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে।

এই ঘটনার সত্যতা রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই নিশ্চিত করেছেন। ফলে আয়াতুল কুরসীর মাধ্যমে সকাল-সন্ধ্যায় আত্মরক্ষার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।

আয়াতুল কুরসীর মূল শিক্ষা: তাওহীদের পরিপূর্ণ ঘোষণা

আয়াতুল কুরসীর প্রতিটি বাক্য আল্লাহর পরিচয়কে সুসংহতভাবে তুলে ধরে। এতে বলা হয়েছে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী, তাঁর ওপর কোনো তন্দ্রা বা ঘুম আসে না। আসমান ও জমিনের সবকিছু তাঁর অধীন, তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ সুপারিশ করতে পারে না।

এই আয়াতে আল্লাহর জ্ঞান ও ক্ষমতার এমন বিস্তৃত বর্ণনা রয়েছে, যা মানুষের ঈমানকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে এবং আল্লাহর ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে দেয়।

মুফাসসিরদের দৃষ্টিতে আয়াতুল কুরসী

ইমাম কুরতুবি (রহ.) আয়াতুল কুরসীকে আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে শক্তিশালী দলিল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর মতে, এই আয়াত আল্লাহর জীবন, জ্ঞান ও কুদরতের পূর্ণতার ঘোষণা।

ইবনে কাসীর (রহ.) বলেন, এই আয়াতে উল্লেখিত ‘কুরসি’ আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টন করে আছে, যা আল্লাহর অসীম ক্ষমতার প্রতীক। ইবনুল কাইয়িম (রহ.) উল্লেখ করেন, আয়াতুল কুরসী তাওহীদের সর্বাধিক সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং এটি পাঠ করলে ঈমান দৃঢ় হয় ও অন্তর আল্লাহমুখী হয়।

কেন আয়াতুল কুরসী মুমিন জীবনে অপরিহার্য

আয়াতুল কুরসী কেবল একটি তিলাওয়াতযোগ্য আয়াত নয়, বরং এটি মুমিনের জন্য হেফাজতের ঢাল, আত্মিক প্রশান্তির উৎস এবং ঈমানের শক্ত ভিত্তি। নিয়মিত পাঠের মাধ্যমে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায় এবং হৃদয়ে আল্লাহর স্মরণ জাগ্রত থাকে।

কখন ও কীভাবে আয়াতুল কুরসী পড়া উচিত

ইসলামি নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি ফরজ নামাজের পর, ঘুমানোর আগে এবং সকাল ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসী পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। সন্তানদেরও ছোটবেলা থেকেই এই আয়াত শেখানো উচিত, যাতে তারা আল্লাহর হেফাজতে বড় হতে পারে।

আয়াতুল কুরসী কোরআনের এমন একটি আয়াত, যেখানে আল্লাহর পরিচয়, ক্ষমতা ও করুণার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে। কোরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে প্রমাণিত, এই আয়াত নিয়মিত পাঠ করলে ঈমান দৃঢ় হয়, শয়তান দূরে থাকে এবং জান্নাতের সুসংবাদ নিশ্চিত হয়।

অতএব, প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য হলো আয়াতুল কুরসীকে দৈনন্দিন জীবনের স্থায়ী অযীফা হিসেবে গ্রহণ করা এবং উপলব্ধিসহ পাঠ করার মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করা।

সূত্রঃ মাসিক আল কাউসার


আখেরি যামানার ভয়াবহ বার্তা: দাব্বাতুল আরদের আগমন

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১৮:৫৯:৫৮
আখেরি যামানার ভয়াবহ বার্তা: দাব্বাতুল আরদের আগমন
ছবি: সংগৃহীত

কিয়ামতের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, ততই একের পর এক ভয়াবহ আলামত মানবজাতির সামনে প্রকাশ পেতে থাকবে। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এসব আলামতের মধ্যে কিছু হবে ছোট পরিসরের এবং কিছু হবে বৃহৎ ও চূড়ান্ত পর্যায়ের। শেষ যুগের বড় আলামতগুলোর অন্যতম হলো দাব্বাতুল আরদ নামক এক অদ্ভুত প্রাণীর আবির্ভাব, যা মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবে এবং মুমিন ও কাফেরকে আলাদা করে চিহ্নিত করবে।

ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, দাব্বাতুল আরদের আবির্ভাব ঘটবে এমন এক সময়ে, যখন তাওবার দরজা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। পশ্চিম আকাশে সূর্যোদয়ের ঘটনার পর মানুষ আর ঈমান গ্রহণ বা তাওবা করার সুযোগ পাবে না। এই বাস্তবতাকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করার জন্যই আল্লাহ তায়ালা পৃথিবী থেকে এই প্রাণীকে বের করবেন বলে সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

পবিত্র কুরআনে দাব্বাতুল আরদের বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে। সূরা নামলের ৮২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন, যখন কিয়ামতের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময় আসবে, তখন ভূমি থেকে এমন এক প্রাণী বের করা হবে, যে মানুষের সঙ্গে কথা বলবে এবং তাদের জানিয়ে দেবে যে তারা আল্লাহর নিদর্শনে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেনি। আলেমদের মতে, এই আয়াত ভবিষ্যতে সংঘটিত একটি বাস্তব ঘটনাকেই নির্দেশ করে।

বিশিষ্ট মুফাসসির ইবনে কাছীর (রহ.) তাঁর তাফসিরে উল্লেখ করেন, শেষ যুগে মানুষ যখন প্রকাশ্যে পাপাচারে লিপ্ত হবে, আল্লাহর আদেশ অমান্য করবে এবং দ্বীনের মৌলিক কাঠামো বিকৃত করার চেষ্টা করবে, তখন আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে এই প্রাণীকে প্রকাশ করবেন। এটি হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অলৌকিক নিদর্শন।

সহীহ মুসলিমে বর্ণিত এক দীর্ঘ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিয়ামতের দশটি বড় আলামতের কথা উল্লেখ করেন। সেখানে ধোঁয়া, দাজ্জাল, ঈসা ইবনে মারইয়ামের অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাবের সঙ্গে দাব্বাতুল আরদের কথাও সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায়, এই প্রাণীর আবির্ভাব কিয়ামতের একেবারে শেষ পর্যায়ের ঘটনাগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

হাদীস অনুযায়ী, দাব্বাতুল আরদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে মানুষকে চিহ্নিত করা। মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, এই প্রাণীর সঙ্গে থাকবে মূসা (আ.)-এর লাঠি এবং সুলাইমান (আ.)-এর আংটি। সে মুমিনদের চেহারা উজ্জ্বল করে দেবে এবং কাফেরদের নাকে বা কপালে বিশেষ চিহ্ন এঁকে দেবে, যাতে মানুষ পরস্পরকে দেখেই চিনে ফেলতে পারে কে মুমিন আর কে কাফের।

আরেকটি হাদীসে এসেছে, দাব্বাতুল আরদের চিহ্ন এতটাই স্পষ্ট হবে যে দৈনন্দিন লেনদেনের মধ্যেও মানুষ তা উল্লেখ করবে। এমনকি কেউ যদি জিজ্ঞেস করে, কোনো পশু বা সম্পদ কার কাছ থেকে কেনা হয়েছে, উত্তরে বলা হবে—নাকে চিহ্নধারী একজন ব্যক্তির কাছ থেকে। এতে বোঝা যায়, ওই সময় মানুষের সামাজিক জীবনেও এই আলামতের প্রভাব সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে।

দাব্বাতুল আরদের প্রকৃতি কেমন হবে, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে নানা মত থাকলেও সহীহ দলিলভিত্তিক কোনো নির্দিষ্ট বর্ণনা নেই। কেউ কেউ সালেহ (আ.)-এর উটনীর বাছুরের কথা উল্লেখ করেছেন, কেউ দাজ্জালের হাদীসে বর্ণিত জাস্সাসার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে অধিকাংশ মুহাদ্দিস ও মুফাসসির এসব মতকে দুর্বল বলেছেন, কারণ এগুলোর পক্ষে সহীহ সনদে প্রমাণ পাওয়া যায় না।

প্রখ্যাত মুহাদ্দিস শায়খ আহমাদ শাকের বলেন, কুরআন যেহেতু স্পষ্টভাবে একে দাব্বাতুল আরদ বলে উল্লেখ করেছে, তাই এর প্রকৃতি নিয়ে অতিরিক্ত কল্পনা বা ব্যাখ্যায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কুরআন ও সহীহ হাদীসে যা বলা হয়েছে, তা বিশ্বাস করাই ঈমানের দাবি।

এই প্রাণী কোথা থেকে বের হবে এ বিষয়েও বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। ইবনে উমার (রা.) থেকে বর্ণিত এক বর্ণনায় বলা হয়েছে, সাফা পাহাড় ফেটে দাব্বাতুল আরদ বের হবে। অন্য কিছু বর্ণনায় বলা হয়েছে, প্রথমে এটি দূরবর্তী স্থান থেকে বের হবে, পরে কিছু সময় লুকিয়ে থাকবে এবং শেষপর্যায়ে কাবা শরিফের আশপাশ থেকে প্রকাশ পাবে। আলেমদের সমন্বিত মত হলো, এর আবির্ভাব হবে মক্কা শরিফ থেকেই।

দাব্বাতুল আরদের মূল উদ্দেশ্য হবে মানুষের সামনে চূড়ান্ত সত্য উন্মোচন করা। এটি মানুষকে জানিয়ে দেবে যে আল্লাহর নিদর্শন অস্বীকার করার সময় শেষ হয়ে গেছে। ঈমান ও কুফরের পার্থক্য তখন আর গোপন থাকবে না, বরং প্রকাশ্যভাবে দৃশ্যমান হয়ে উঠবে।

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, দাব্বাতুল আরদ নিয়ে আলোচনার আসল শিক্ষা হলো ভয় সৃষ্টি নয়, বরং সতর্কতা। যতদিন তাওবার দরজা খোলা রয়েছে, ততদিনই মানুষের উচিত আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, ঈমান দৃঢ় করা এবং আমলের মাধ্যমে নিজের জীবন সংশোধন করা।

কিয়ামতের বড় আলামতগুলোর আলোচনা মুসলমানদের জন্য একটি আত্মসমালোচনার সুযোগ তৈরি করে। কারণ এসব আলামত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, এই পৃথিবী চিরস্থায়ী নয় এবং মানুষের প্রতিটি কাজের হিসাব একদিন আল্লাহর দরবারে উপস্থাপন করা হবে।

সূত্রঃ হাদিসবিডি


আজ ০৬ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ০৯:২২:২১
আজ ০৬ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পাঁচটি রুকনের মধ্যে নামাজ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ইমানের পর এর স্থান সবার উপরে। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, ২২ পৌষ ১৪৩২ বাংলা, ১৬ রজব ১৪৪৭ হিজরি)—এই পবিত্র দিনে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা)

জোহর- ১২.০৭ টা

আসর: ৩টা ৪৮ মিনিট

মাগরিব: ৫টা ২৯ মিনিট

এশা: ৬টা ৪৬ মিনিট

ফজর (আগামীকাল বুধবার, ৭ জানুয়ারি): ৫টা ২৩ মিনিট

ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকার সময়ের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিভাগের সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ের পার্থক্যে নামাজের সময়ও ভিন্ন হয়। নিচে বিভাগীয় সময় পরিবর্তনের তালিকা দেওয়া হলো।

বিভাগীয় সময় সমন্বয় ঢাকার সময়ের সঙ্গে যে সময়গুলো বিয়োগ করতে হবে:

চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট

সিলেট: ০৬ মিনিট

ঢাকার সময়ের সঙ্গে যে সময়গুলো যোগ করতে হবে:

খুলনা: ০৩ মিনিট

রাজশাহী: ০৭ মিনিট

রংপুর: ০৮ মিনিট

বরিশাল: ০১ মিনিট

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, নামাজের প্রথম হিসাব নেওয়ার মাধ্যমেই বান্দার পরবর্তী আমলগুলোর বিচার শুরু হবে। তাই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে নামাজের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হওয়া এবং জামাতের সাথে নামাজ আদায়ের চেষ্টা করা জরুরি। বিশেষ করে ১৬ রজবের এই বরকতময় দিনে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই হোক প্রতিটি মুমিনের লক্ষ্য।


আজ ০৫ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ০৯:২৮:৪৭
আজ ০৫ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পাঁচটি রুকন বা স্তম্ভের মধ্যে নামাজ অন্যতম প্রধান ইবাদত। মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনে এবং পরকালীন হিসাবের ময়দানে সফল হতে ওয়াক্তমতো নামাজ আদায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। আজ সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬ (২১ পৌষ ১৪৩২ বাংলা এবং ১৫ রজব ১৪৪৭ হিজরি)। আজকের দিনে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ৫ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইসলামিক বিধিবিধান অনুযায়ী, ইমানের পর নামাজই হচ্ছে ইসলামের সবচেয়ে শক্তিশালী স্তম্ভ। কিয়ামতের দিন বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। তাই কর্মব্যস্ততার মাঝেও সময়মতো ফরজ নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যিক। ঢাকার সময়সূচি অনুযায়ী আজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২.০৭ মিনিটে, আসর বিকেল ৩.৪৮ মিনিটে, মাগরিব সন্ধ্যা ৫.২৯ মিনিটে এবং এশার নামাজ শুরু হবে সন্ধ্যা ৬.৪৬ মিনিটে। এছাড়া আগামীকাল মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৫.২৩ মিনিটে।

ঢাকার সময়ের সঙ্গে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের ঢাকার সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেটের বাসিন্দাদের ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে, ঢাকার সময়ের সঙ্গে খুলনার বাসিন্দাদের ৩ মিনিট, রাজশাহীর ৭ মিনিট, রংপুরের ৮ মিনিট এবং বরিশালের বাসিন্দাদের ১ মিনিট যোগ করে নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

উল্লেখ্য যে, পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি ইসলামের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নফল ও সুন্নত নামাজ রয়েছে। তবে যে কোনো পরিস্থিতিতেই নির্ধারিত ওয়াক্তের মধ্যে ফরজ নামাজ সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন আলেম সমাজ। বর্তমান শীতকালীন আবহাওয়ায় কুয়াশার কারণে ভোরের ফজরের জামাতের সময় স্থানীয় মসজিদের সূচি অনুযায়ী কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে, যা মুসল্লিদের নিজ নিজ এলাকায় যাচাই করে নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


আজ ০৪ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ০৯:২১:৪৩
আজ ০৪ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

আজ রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ ২০ পৌষ ১৪৩২ এবং হিজরি ১৪ রজব ১৪৪৭। পবিত্র রজব মাসের এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার (বসুন্ধরা, ঢাকা) আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে। শীতকালীন এই সময়ে সময়ের পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে নামাজের ওয়াক্তগুলো জেনে নেওয়া প্রতিটি মুমিনের জন্য জরুরি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৭ মিনিটে। আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৩টা ৪৮ মিনিটে। দিনের শেষে সূর্যাস্তের সাথে সাথে মাগরিবের আজান হবে সন্ধ্যা ৫টা ২৮ মিনিটে এবং এশার জামাত বা ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে। আগামীকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৫টা ২৬ মিনিটে।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের তথ্য অনুযায়ী আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২৪ মিনিটে। আগামীকাল ৫ জানুয়ারি সোমবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪২ মিনিটে। উল্লেখ্য যে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় নামাজের সময় ঢাকা থেকে ১ থেকে ৭ মিনিট পর্যন্ত কম বা বেশি হতে পারে। তাই ঢাকার বাইরের মুসল্লিদের স্থানীয় সময় অনুযায়ী সমন্বয় করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সঠিক সময়ে সালাত আদায় করা ইমানি দায়িত্ব, তাই এই সময়সূচিটি আপনার দৈনন্দিন পরিকল্পনায় সহায়ক হবে।


আল্লাহ পশু-পাখিকে কী দিয়ে সৃষ্টি করেছেন

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ০৭:১২:৫২
আল্লাহ পশু-পাখিকে কী দিয়ে সৃষ্টি করেছেন
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষ যেমন আল্লাহ তায়ালার বিশেষ সৃষ্টি, তেমনি পশু ও পাখিও তাঁরই সৃষ্টিকর্মের অংশ। কিন্ত কখনও ভেবেছেন পশু পাখিকে আল্লাহ কি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন? পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা সেটা উল্লেখ করেছেন।

পবিত্র কোরআনুল কারিম-এ আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন যে, তিনি সকল জীবকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন। সূরা আন-নূরের ৪৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, প্রতিটি প্রাণীর সৃষ্টির মূল উপাদান হলো পানি। এই আয়াত মানবজাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জীবন ও পানির মধ্যে গভীর ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে।

কোরআনের এই বক্তব্য আধুনিক বিজ্ঞানেও প্রতিফলিত হয়েছে। জীববিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা যায়, প্রাণীদের শরীরের বড় একটি অংশই পানি দিয়ে গঠিত। রক্ত সঞ্চালন, হজম, কোষের কার্যক্রম সবকিছুর জন্যই পানি অপরিহার্য। ফলে কোরআনের এই ঘোষণা শুধু আধ্যাত্মিক নয়, বৈজ্ঞানিক সত্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আল্লাহ তায়ালা পশু-পাখিকে বিভিন্ন আকৃতি, স্বভাব ও ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। কেউ চলে স্থলে, কেউ উড়ে আকাশে, আবার কেউ বাস করে পানিতে। এই বৈচিত্র্য মানুষের জন্য চিন্তা ও গবেষণার এক উন্মুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করে, যাতে মানুষ সৃষ্টিকর্তার মহিমা উপলব্ধি করতে পারে।

ইসলামি শিক্ষায় পশু-পাখির প্রতি দয়া ও দায়িত্ববোধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেহেতু তারা আল্লাহর সৃষ্টি, তাই তাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বা অবহেলা ইসলামে সমর্থিত নয়। কোরআন ও হাদিসে বারবার মানুষের ওপর অর্পিত হয়েছে সৃষ্টিজগতের প্রতি ভারসাম্য ও ন্যায়বিচার রক্ষার দায়িত্ব।

এই আয়াত মানুষকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয় জীবনের উৎস যখন পানি, তখন পরিবেশ ও পানিসম্পদ রক্ষা করা ধর্মীয় দায়িত্বের অংশ। পানির অপচয়, দূষণ কিংবা প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করা শুধু মানবজাতির জন্যই নয়, সমগ্র প্রাণিজগতের জন্য ক্ষতিকর।

সব মিলিয়ে, সূরা আন-নূরের এই আয়াত মানুষের সামনে আল্লাহর সৃষ্টির বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরে। মানুষ, পশু, পাখি সবাই একই সৃষ্টিকর্তার অধীন এবং একই প্রাকৃতিক নিয়মের অংশ। এই উপলব্ধি মানুষকে বিনয়ী করে, দায়িত্বশীল করে এবং সৃষ্টিজগতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়।


জান্নাতে সব থাকলেও যেসব জিনিস নাই

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১২:০৫:৪৯
জান্নাতে সব থাকলেও যেসব জিনিস নাই
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী জান্নাত হলো আল্লাহ তাআলার প্রতিশ্রুত চিরস্থায়ী শান্তি ও সুখের আবাস। দুনিয়ার জীবনে যারা ঈমানের সঙ্গে নেক আমল করেন, ধৈর্য ধারণ করেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের মূল লক্ষ্য বানান তাদের জন্য জান্নাত নির্ধারিত পুরস্কার। কোরআন ও সহিহ হাদিসে জান্নাতের সৌন্দর্য, প্রশান্তি ও নিয়ামতের বিস্তারিত বর্ণনার পাশাপাশি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে দুনিয়ার কষ্টকর ও নেতিবাচক বিষয়গুলোর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।

জান্নাতে দুঃখ, শোক ও মানসিক অশান্তি নেই

কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, জান্নাতবাসীদের জন্য কোনো ভয় বা দুঃখ থাকবে না। সেখানে কান্না, হতাশা কিংবা মানসিক অস্থিরতার অবসান ঘটবে। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, জান্নাতিরা সেখানে কোনো ক্লান্তি বা কষ্ট অনুভব করবেন না (সূরা আল-বাকারা: ৬২; সূরা আল-হিজর: ৪৮)। ইসলামি ব্যাখ্যাকারদের মতে, এটি জান্নাতের পরিপূর্ণ মানসিক শান্তিরই প্রতিফলন।

মৃত্যু নেই, জীবন চিরস্থায়ী

জান্নাতে মৃত্যুর কোনো ধারণা নেই। জান্নাতিরা চিরকাল সেখানে অবস্থান করবেন। কোরআনে বলা হয়েছে, তারা সেখানে স্থায়ীভাবে থাকবে (সূরা আল-বাইয়্যিনা: ৮)। সহিহ হাদিসে বর্ণিত আছে, জান্নাতে এক ঘোষক ঘোষণা করবেন “হে জান্নাতবাসীরা, তোমরা চিরকাল জীবিত থাকবে, আর কখনো মরবে না” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৮৩৭)।

রোগ-ব্যাধি ও বার্ধক্যের অবসান

ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী জান্নাতে কোনো রোগ, ব্যথা বা শারীরিক দুর্বলতা থাকবে না। জান্নাতিরা কখনো অসুস্থ হবে না, বৃদ্ধও হবে না। তারা সর্বদা তরুণ ও সুস্থ থাকবে এমন তথ্য এসেছে হাদিসে (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৫৪৫)।

অপবিত্রতা ও দুর্গন্ধের অনুপস্থিতি

জান্নাত হবে সম্পূর্ণ পবিত্র এক জগৎ। সেখানে মল-মূত্র, ঘাম বা কোনো অপবিত্র বর্জ্য থাকবে না। হাদিসে বলা হয়েছে, জান্নাতিরা যা খাবে, তা শরীর থেকে সুগন্ধি হিসেবে নির্গত হবে (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৮৩৫)। ফলে জান্নাতের পরিবেশ হবে পরিচ্ছন্ন ও মনোরম।

হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতার অবসান

কোরআনে আল্লাহ তাআলা জানাচ্ছেন, জান্নাতিদের অন্তর থেকে সব বিদ্বেষ দূর করে দেওয়া হবে এবং তারা ভাইয়ের মতো পরস্পরের মুখোমুখি বসবাস করবে (সূরা আল-হিজর: ৪৭)। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, জান্নাতবাসীদের অন্তর হবে এক ব্যক্তির অন্তরের মতো তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ বা হিংসা থাকবে না (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৪৬)।

ক্লান্তি ও পরিশ্রমহীন জীবন

দুনিয়ার জীবনের পরিশ্রম, কাজের চাপ ও ক্লান্তির কোনো কিছুই জান্নাতে থাকবে না। কোরআনে বলা হয়েছে, জান্নাতবাসীরা সেখানে কোনো ক্লান্তি অনুভব করবেন না (সূরা ফাতির: ৩৫)। ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, এটি জান্নাতের আরামদায়ক ও পরিপূর্ণ জীবনের প্রতীক।

অভাব ও অপূর্ণতার অস্তিত্ব নেই

জান্নাতে কোনো চাহিদা অপূর্ণ থাকবে না। আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, জান্নাতিরা যা চাইবে, তাই পাবে; বরং তাঁর কাছে রয়েছে আরও বেশি (সূরা কাফ: ৩৫)। হাদিসে এসেছে, জান্নাতবাসীরা যা চাইবে, তা সঙ্গে সঙ্গেই দেওয়া হবে (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৫০১)।

অশ্লীলতা ও অসৌজন্যহীন পরিবেশ

কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, জান্নাতে কোনো অশ্লীল বা মন্দ কথা শোনা যাবে না; সেখানে থাকবে কেবল শান্তির বাক্য (সূরা মারিয়াম: ৬২)। ইসলামি ব্যাখ্যায় এটিকে জান্নাতের নৈতিক ও ভাষাগত পবিত্রতার নিদর্শন হিসেবে ধরা হয়।

শয়তান ও পাপের প্রলোভন নেই

জান্নাতে শয়তানের প্রবেশাধিকার নেই। কোরআনে বলা হয়েছে, শয়তান জান্নাতবাসীদের কাছে পৌঁছাতে পারবে না (সূরা আল-হিজর: ৪২)। ফলে সেখানে পাপের আহ্বান বা বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ থাকবে না।

চরম আবহাওয়ার কষ্ট নেই

জান্নাতে গরম বা ঠান্ডার কোনো অস্বস্তি থাকবে না। কোরআনে জানানো হয়েছে, জান্নাতবাসীরা ছায়ার নিচে থাকবে এবং তাদের জন্য ফলমূল ও পানীয় প্রস্তুত থাকবে (সূরা আল-মুরসালাত: ৪১–৪৩)।

কোরআন ও সহিহ হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, জান্নাত এমন এক পরিপূর্ণ জগৎ যেখানে দুঃখ, মৃত্যু, রোগ, বিদ্বেষ ও অভাবের কোনো স্থান নেই। হাদিসে এসেছে, জান্নাতে এমন সব নিয়ামত রয়েছে, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয় কল্পনাও করতে পারেনি (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৪৪)। ইসলামের দৃষ্টিতে জান্নাত আল্লাহ তাআলার রহমত ও ন্যায়বিচারের সর্বোচ্চ প্রতিফলন।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত