ইলিশ আহরণ বন্ধে ৯ জেলায় মোতায়েন নৌবাহিনীর ১৭ যুদ্ধজাহাজ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ০৪ ২১:০৬:৫৬
ইলিশ আহরণ বন্ধে ৯ জেলায় মোতায়েন নৌবাহিনীর ১৭ যুদ্ধজাহাজ
ছবি: সংগৃহীত

ইলিশ মাছের প্রজনন মৌসুম সুরক্ষিত রাখতে বিশেষ অভিযানে নেমেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। সরকারের দেওয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে দেশের ৯টি জেলার নদীতে ১৭টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে সংস্থাটি। এই সময়ে কেউ মা ইলিশ আহরণ, পরিবহন বা বিপণনে জড়িত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (৪ অক্টোবর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও নৌবাহিনীর অবস্থান

ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণে প্রতি বছরের মতো এ বছরও ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনব্যাপী সারা দেশে ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৫’ পালিত হচ্ছে। এই সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ এলাকায় সকল প্রকার মৎস্য আহরণও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আইএসপিআর জানিয়েছে, সরকারের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজসমূহ সমুদ্র, উপকূলীয় এলাকা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে অভিযান পরিচালনা করছে। গভীর সমুদ্রে দেশি-বিদেশি সব প্রকার মৎস্য শিকারিদের অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং অত্যাধুনিক মেরিটাইম পেট্রোল এয়ার ক্রাফটের (MPA) মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারী করা হচ্ছে।

নৌবাহিনীর ১৭টি যুদ্ধজাহাজ ৯টি জেলায় নিয়োজিত রয়েছে। এদের মধ্যে:

চাঁদপুর এলাকায়: বানৌজা ধানসিঁড়ি, শহীদ ফরিদ ও বিএনডিবি গাংচিল।

কক্সবাজার এলাকায়: বানৌজা অতন্দ্র, শহীদ মহিবুল্লাহ, দুর্জয়, সাগর ও শহীদ দৌলত।

খুলনা এলাকায়: বানৌজা মেঘনা, চিত্রা ও তিতাস।

বাগেরহাট এলাকায়: বানৌজা করতোয়া, আবু বকর ও দুর্গম।

পিরোজপুর ও বরগুনা এলাকায়: বানৌজা সালাম ও কুশিয়ারা।

বরিশাল এলাকায়: বানৌজা পদ্মা, চিত্রা ও তিতাস।

পটুয়াখালী এলাকায়: এলসিভিপি-০১৩ বিশেষভাবে টহল প্রদান করছে।

নৌবাহিনী স্থানীয় প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ, ও মৎস্য কর্তৃপক্ষের সাথে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে এই অভিযান সফল করবে। অভিযানকালে অবৈধ ইলিশ আহরণে নিয়োজিতদের ওপর কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণাও চালানো হবে।


জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তিতে আসিফ নজরুলের বড় সিদ্ধান্ত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ১৬:৫৮:২২
জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তিতে আসিফ নজরুলের বড় সিদ্ধান্ত
ছবি : সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা ও যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে আইন মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই অধ্যাদেশটি শিগগিরই অনুমোদনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটাতে যারা জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিলেন এবং খুনিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চালিয়েছিলেন, তাদের আইনি হয়রানি থেকে সুরক্ষা দেওয়াই এই আইনের মূল লক্ষ্য।

ড. আসিফ নজরুল তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “জুলাই যোদ্ধারা জীবন-বাজি রেখে দেশকে ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্ত করেছিল। অবশ্যই তাদের দায়মুক্তির অধিকার রয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ফ্যাসিস্ট সরকারের খুনিদের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল, তার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। উপদেষ্টা মনে করেন, এ ধরনের আইন প্রণয়ন সম্পূর্ণ বৈধ এবং আন্তর্জাতিকভাবেও এর নজির রয়েছে। বিশেষ করে ‘আরব বসন্ত’ বা সমসাময়িক কালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনধিকৃত সরকারের পতনের পর এ ধরনের দায়মুক্তি আইন করা হয়েছে।

আইনি ভিত্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ড. আসিফ নজরুল বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেছেন, যা সরকারকে দায়মুক্তি সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেয়। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, ১৯৭৩ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের সুরক্ষায় একই ধরণের দায়মুক্তি আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। আইন উপদেষ্টার মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে নিরাপদ রাখা বর্তমান সরকারের একটি পবিত্র দায়িত্ব। এই অধ্যাদেশ জারি হলে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী কারো বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকদের পক্ষ থেকে কোনো ধরণের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। এই উদ্যোগকে ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে স্থায়ী আইনি ভিত্তি দেওয়ার প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


ভোক্তা ব্যয় কমবে কি,এলপিজি গ্যাস ভ্যাট নিয়ে পর্যালোচনা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ১৫:৩১:১২
ভোক্তা ব্যয় কমবে কি,এলপিজি গ্যাস ভ্যাট নিয়ে পর্যালোচনা
ছবি: সংগৃহীত

চলমান বাজার সংকট নিরসনে এলপিজি গ্যাসের কর কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ও ট্যাক্স অব্যাহতি বজায় রেখে আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট ১০ শতাংশ নির্ধারণের সুপারিশ জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে চিঠি পাঠিয়েছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে এই চিঠি পাঠানো হয়।

‘এলপিজি গ্যাস আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ও ট্যাক্স পুনর্নির্ধারণ’ শীর্ষক চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে এলপিজি গ্যাসের মোট চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে আমদানিনির্ভর। শিল্পখাতের পাশাপাশি গৃহস্থালি ব্যবহারে এই জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে। শীত মৌসুমে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং দেশীয় পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় এলপিজি গ্যাসের চাহিদা আরও বেড়ে যায়। এর ফলে বর্তমানে বাজারে তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজি গ্যাস সংকট নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এলপিজি গ্যাসকে ‘গ্রিন ফুয়েল’ হিসেবে বিবেচনা করে আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ও ট্যাক্স পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

এ বিষয়ে ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের কার্যবিবরণীর একটি অংশ চিঠিতে উদ্ধৃত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, এলপিজি গ্যাসের আমদানি পর্যায়ে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহার করে ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ এবং স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে আরোপিত ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট, ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট ও আগাম কর অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব সময়োপযোগী। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজি গ্যাসের ক্রয়মূল্য কতটা কমবে, তা সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।

উপদেষ্টা পরিষদের আলোচনার পর গৃহীত অবস্থান এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থাপন করা হলে অপারেটররা আমদানি পর্যায়ে প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে শূন্য শতাংশ ভ্যাট আরোপের দাবি জানান। যদিও নীতিগতভাবে তারা উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে বাজারে এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং চলমান সংকট বিবেচনায় নিয়ে আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহার করে তা ১০ শতাংশের নিচে নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে আরোপিত ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট, ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট এবং আগাম কর অব্যাহতি প্রদানের বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এনবিআর চেয়ারম্যানের প্রতি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে।

-রফিক


এবার নির্বাচনী ময়দানে থাকবে না কোনো বৈষম্য: সিইসি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ১১:১৬:১৯
এবার নির্বাচনী ময়দানে থাকবে না কোনো বৈষম্য: সিইসি
ছবি : সংগৃহীত

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, আগের মতো এবার কোনো ‘পাতানো’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। নির্বাচন কমিশন ইনসাফে বিশ্বাসী এবং প্রতিটি প্রার্থী কমিশনের কাছ থেকে ন্যায়বিচার পাবেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় প্রাঙ্গণে মনোনয়ন বাতিল ও গ্রহণের বিরুদ্ধে চলমান আপিল আবেদনের বুথ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। সিইসি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন সবার জন্য একটি সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং আইনি ভিত্তির ওপরই প্রতিটি আপিলের সমাধান করা হবে।

মনোনয়নপত্রের বৈধতা বা বাতিলের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীদের আপিল আবেদনের আজ চতুর্থ দিন চলছে। সিইসি আপিল শুনানির পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ হবে বলে অঙ্গীকার করেছেন এবং প্রতিটি আবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সামনে আজ সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রার্থীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। অনেক প্রার্থী তাদের বাতিল হওয়া মনোনয়ন ফিরে পেতে আপিল করছেন, আবার কেউ কেউ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মনোনয়নের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদন জমা দিচ্ছেন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনে মোট ২৯৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। আগামীকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) পর্যন্ত আপিল আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে। এরপর আগামী ১০ জানুয়ারি (শনিবার) থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক আপিল শুনানি, যা চলবে ১৮ জানুয়ারি (রোববার) পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম পূর্ণ গতিতে চলছে এবং এই আপিল শুনানিই ঠিক করে দেবে চূড়ান্ত ভোটের ময়দানে কারা থাকছেন।


রেকর্ড ভেঙে ২০২৫ সালেও ইউরোপে অবৈধ প্রবেশে এক নম্বরে বাংলাদেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ১০:০৫:১৯
রেকর্ড ভেঙে ২০২৫ সালেও ইউরোপে অবৈধ প্রবেশে এক নম্বরে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

২০২৫ সালে অবৈধ পথে ইউরোপে পৌঁছানো অভিবাসীদের জাতীয়তার মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশিরা। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের সর্বশেষ অনুসন্ধানে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থা দুটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্তে সবচেয়ে বেশি যে জাতীয়তার মানুষদের অনিয়মিতভাবে শনাক্ত করা হয়েছে, তারা বাংলাদেশি। বাংলাদেশিদের পর এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় রয়েছেন মিসরীয় এবং আফগান নাগরিকরা। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি জোরদার করা সত্ত্বেও বাংলাদেশিদের এই অনিয়মিত অভিবাসনের প্রবণতা কমানো সম্ভব হয়নি, বরং তা অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে।

ইউরোপে পৌঁছাতে বাংলাদেশিরা মূলত সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুট ব্যবহার করছেন, যেখানে লিবিয়া একটি অন্যতম ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। লিবিয়াভিত্তিক শক্তিশালী মানবপাচার নেটওয়ার্কের সহায়তায় বাংলাদেশিরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে ছোট নৌকায় করে ইতালি এবং গ্রিসের বিভিন্ন দ্বীপে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। ফ্রন্টেক্সের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, মানবপাচারকারী চক্রগুলো ইউরোপে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং উচ্চ আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিপজ্জনক যাত্রায় প্রলুব্ধ করছে। নজরদারি ও মানবপাচারবিরোধী কার্যক্রম বৃদ্ধি পেলেও এই সমুদ্রপথে বাংলাদেশিদের যাত্রা অব্যাহত রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশিদের এই ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনের পেছনে মূলত অর্থনৈতিক সংকট ও উন্নত জীবনের আকাঙ্ক্ষাকেই প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছে ফ্রন্টেক্স। দেশের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা এবং বিদেশে ভালো আয়ের প্রত্যাশা অনেক যুবককে অনিয়মিত পথে ইউরোপ পাড়ি দিতে বাধ্য করছে। সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপমুখী এই প্রবণতা গত কয়েক বছর ধরেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তবে ২০২৫ সালে এসে এটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মিসরীয় ও আফগান নাগরিকরাও একইভাবে ল্যান্ড ও সি-রুট ব্যবহার করে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করলেও তালিকার এক নম্বরে থাকা বাংলাদেশিদের সংখ্যা এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রধান মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কবলে ৩ বিভাগ, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪-৬ ডিগ্রিতে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ১৮:৫৯:৫৫
তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কবলে ৩ বিভাগ, তাপমাত্রা নামতে পারে ৪-৬ ডিগ্রিতে
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ৪৪ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ আগামী কয়েক দিনে আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, আগামী শনিবার (১০ জানুয়ারি) ও রোববার (১১ জানুয়ারি) দেশে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এই দুই দিন চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা জনজীবনে বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি করতে পারে।

গবেষক পলাশ তাঁর পূর্বাভাসে উল্লেখ করেছেন, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল থেকেই শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করবে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। বুধবার সকালেই রাজশাহীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা ও গোপালগঞ্জে ৭ ডিগ্রি এবং রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ইতিমধ্যে দেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে ৫টির ওপর দিয়েই শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীতের এই প্রকোপ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালেও রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে তাপমাত্রা ৫ থেকে ৭ ডিগ্রির ঘরে থাকতে পারে। তীব্র শীতের পাশাপাশি ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষ এবং ছিন্নমূল জনগণের জন্য এই আবহাওয়া চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


চার জোনে বিভক্ত হচ্ছে সেন্ট মার্টিন 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ০৯:২১:৪৩
চার জোনে বিভক্ত হচ্ছে সেন্ট মার্টিন 
ছবি : সংগৃহীত

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের বিপন্ন জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার এবং দ্বীপটিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে চার স্তরের একটি মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, এখন থেকে সেন্ট মার্টিনে পর্যটন হবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক এবং তা অবশ্যই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। তিনি বলেন, “দ্বীপ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনাই এখন আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”

সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) এই মহাপরিকল্পনায় সেন্ট মার্টিনকে চারটি জোনে ভাগ করার প্রস্তাব দিয়েছে।

জোনগুলো হলো

১. জেনারেল ইউজ জোন (যেখানে পর্যটন ও হোটেল-রিসোর্ট থাকবে),

২. ম্যানেজড রিসোর্স জোন (কচ্ছপের প্রজনন কেন্দ্র, যেখানে রাতে থাকা নিষিদ্ধ),

৩. সাসটেইনেবল ইউজ জোন (স্থানীয়রা টেকসই সম্পদ ব্যবহার করবেন, পর্যটকরা রাতে থাকতে পারবেন না) এবং

৪. রেস্ট্রিক্টেড জোন (যেখানে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)।

উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান আরও জানান, মাত্র ৮ হাজার মানুষের এই ক্ষুদ্র দ্বীপে প্রতিদিন ১০ হাজার পর্যটকের সমাগম স্থানীয়দের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। তাই পর্যটনকে সীমিত করে দ্বীপবাসীর জন্য মৎস্য, হস্তশিল্প ও কৃষিভিত্তিক বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশ সচিব ফারহিনা আহমেদ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. কামরুজ্জামানও দ্বীপে প্রকৃতিবান্ধব স্থাপনা নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কারিগরি সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেন্ট মার্টিন তার হারিয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পুনরায় ফিরে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


যে ১০ জেলায় আজও শৈত্যপ্রবাহের রেড অ্যালার্ট 

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ০৯:১২:৫৮
যে ১০ জেলায় আজও শৈত্যপ্রবাহের রেড অ্যালার্ট 
ছবি : সংগৃহীত

দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তীব্র শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উত্তরের জেলাগুলোতে শীতের কামড় এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের বুধবারের (৭ জানুয়ারি ২০২৬) পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের ১০টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। জেলাগুলো হলো— রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রাঙামাটি, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া। মঙ্গলবার রাজশাহীতে তাপমাত্রা নেমেছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন। আর রাজধানীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন পূর্ব নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। তবে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের কারণে সারা দেশে মাঝরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, নৌ-পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, কেবল তাপমাত্রার পতন নয়, বরং বায়ু দূষণের কারণে বাতাসে ভাসমান বস্তুকণা বেড়ে যাওয়ায় কুয়াশা কাটছে না। ফলে সূর্যের আলো ঠিকমতো পৌঁছাতে পারছে না এবং সারা দিন শীতের তীব্র অনুভূতি বজায় থাকছে। তীব্র ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ। ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ায় হাসপাতালগুলোতেও বাড়ছে রোগীর ভিড়। আবহাওয়া অফিস বলছে, এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।


নবম পে স্কেলে আকাশছোঁয়া বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ: কার পকেটে ঢুকবে বাড়তি টাকা?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ০৯:০৫:১৫
নবম পে স্কেলে আকাশছোঁয়া বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ: কার পকেটে ঢুকবে বাড়তি টাকা?
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত 'নবম পে স্কেল' এর সুপারিশমালা চূড়ান্ত করেছে জাতীয় বেতন কমিশন। নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যানুযায়ী, বিদ্যমান ১৬টি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখেই বেতন কাঠামোতে বড় ধরণের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিশনের নতুন এই সুপারিশে সরকারি চাকুরেদের মূল বেতন গ্রেডভেদে প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহেই এই চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপি অর্থ উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নবম পে স্কেল প্রণয়নের শুরুতে গ্রেড সংখ্যা কমানোর জোর দাবি উঠলেও দীর্ঘ পর্যালোচনার পর বর্তমান ১৬টি গ্রেড কাঠামোই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই নতুন স্কেলে সবচেয়ে বেশি সুফল পাবেন নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি এই সুপারিশে শিক্ষকদের জন্য দীর্ঘদিনের দাবি— 'পৃথক বেতন কাঠামো'র বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসা ভাতা, শিক্ষা ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাগুলোও বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থ উপদেষ্টার কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখানে যাচাই-বাছাই শেষে উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই নতুন পে স্কেলের বাস্তবায়ন শুরু হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে কয়েক দশকের মধ্যে সরকারি খাতে এটিই হবে সবচেয়ে বড় এবং বৈপ্লবিক বেতন কাঠামো পরিবর্তন। এতে সরকারি চাকুরেদের জীবনযাত্রার মান যেমন বাড়বে, তেমনি সরকারি কাজে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নির্বাচন নিয়ে যারা সংশয় ছড়াচ্ছেন তারা কড়া নজরদারিতে: শফিকুল আলম

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ২০:৫১:৩৭
নির্বাচন নিয়ে যারা সংশয় ছড়াচ্ছেন তারা কড়া নজরদারিতে: শফিকুল আলম
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যারা এখনো সন্দেহ ও সংশয় ছড়াচ্ছেন, তাঁদের ওপর সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তীক্ষ্ণ নজরদারি রাখছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “যারা গুজব ছড়াচ্ছেন তাদের প্রোফাইল আমাদের কাছে একদম পরিষ্কার। অতীতে তাদের ভূমিকা কী ছিল এবং কেন তারা এখন সংশয় ছড়াচ্ছেন, সরকার তা খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।”

প্রেসসচিব জানান, নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ৩৭ দিন এবং সরকার প্রতিটি পদক্ষেপে শতভাগ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল এখন অনেক উঁচুতে, কারণ তারা ইতিমধ্যে পরপর তিনটি বড় জাতীয় ইভেন্ট অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এবারের নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য রেকর্ড ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৩ জন নিবন্ধন করেছেন, যা বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। তবে নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার কারণে অন্তত ৭ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না, তাদের ভোট দিতে হবে পোস্টাল বা বিশেষ ব্যবস্থায়।

রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, “নেতাদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে ‘টপ প্রায়োরিটি’। ইতিমধ্যে অনেক নেতাকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) এ নিয়ে সার্বক্ষণিক কাজ করছে।” তিনি আরও জানান, জনগণের মধ্যে নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে দিতে ‘ভোটের গাড়ি’ ক্যারাভানে গাড়ির সংখ্যা ১০টি থেকে বাড়িয়ে ৩০টি করা হচ্ছে। আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে অতিরিক্ত ২০টি গাড়ি সারা দেশে টিভিসি প্রদর্শন এবং কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নিয়ে প্রচার কাজ চালাবে, যা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত