গরমের দিনে ব্যায়াম: কিছু কার্যকর টিপস

বাংলাদেশের তপ্ত গ্রীষ্মকাল, বিশেষত এপ্রিল মাস, দেশের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং সময় হয়ে থাকে। যদিও এবার এপ্রিলের গরম গত বছরের মতো তীব্র ছিল না, মে মাসের শুরু থেকেই গরমের অনুভূতি বৃদ্ধি পেয়েছে। গরমে স্বাভাবিক জীবনযাপনও হয়ে ওঠে কঠিন, আর এর মধ্যে নিয়মিত ব্যায়াম করা আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখার জন্য গরমেও ব্যায়াম করা অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, স্থূলতা বা রক্তে বাড়তি চর্বির সমস্যা রয়েছে।
গরমে ব্যায়ামের গুরুত্ব
গরমের সময় ব্যায়াম করলে শরীরের মধ্যে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, কিংবা অস্বস্তি। তবে এই ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও, নিয়মিত ব্যায়াম না করলে শারীরিক সমস্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে, গ্রীষ্মকালীন সময়ে যদি একজন ব্যক্তি শারীরিকভাবে অক্ষত থাকেন এবং সুস্থ থাকতে চান, তাহলে উপযুক্ত ব্যায়াম ও সতর্কতা অবলম্বন করা একান্তই প্রয়োজন।
গরমে ব্যায়াম করার সময় শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক সময়ে ব্যায়াম এবং উপযুক্ত পদ্ধতিতে শরীরচর্চা করলে গরমেও স্বাস্থ্য বজায় রাখা সম্ভব।
কখন ও কীভাবে ব্যায়াম করবেন?
গ্রীষ্মকালে, ‘গ্রীষ্মকালীন ব্যায়াম’ নামে আলাদা কোনো পদ্ধতি নেই। সাধারণত, যেসব ব্যায়াম আপনি নিয়মিত করেন, সেগুলোকেই গরমে করতে হবে। তবে, গরমের সময় দুপুরের তাপ ও রোদে ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এর পরিবর্তে ভোরবেলা অথবা সন্ধ্যার পরের সময়গুলো বেছে নেয়া সবচেয়ে উপযুক্ত। এই সময়গুলোতে তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে, এবং শরীরের জন্য আরও আরামদায়ক।
অন্যদিকে, গরমে ব্যায়াম করার সময় কখনোই বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করবেন না। বিশেষত বাইরে তাপমাত্রা বেশি হলে, বাড়িতে সহজ ও কম সময়ের জন্য হালকা ব্যায়াম করতে পারেন। যেমন, প্রতি দিন অন্তত ১০ মিনিট দড়ি লাফ দেওয়া বা বাড়ির আশপাশে হাঁটাহাঁটি করা যেতে পারে। দিনে দিনে সময় বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
হালকা ও কার্যকর ব্যায়াম পদ্ধতি
গরমে খুব বেশি ঘাম না ঝরিয়ে কিছু হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে, যেগুলো শরীরের সুস্থতা বজায় রাখে। যেমন:
-
জুম্বা (নাচের ব্যায়াম): এই ধরনের শারীরিক ব্যায়াম ঘরের মধ্যে করা সম্ভব এবং এতে সারা শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়।
-
ইয়োগা ও ধ্যান: এই ধরনের ব্যায়ামে খুব বেশি ঘাম হয় না, কিন্তু শরীর ও মন শান্ত থাকে এবং সুস্থতা বজায় থাকে।
-
স্ট্রেচিং ব্যায়াম: আর্ম স্ট্রেচিং, লেগ লিফটিং ইত্যাদি ব্যায়ামও গরমে কার্যকর হতে পারে। এগুলো শরীরের স্থিতিশীলতা বাড়ায় এবং কোমর বা পিঠের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
একটি বিশেষ ব্যায়াম পদ্ধতি হতে পারে সাঁতার। গরমে পানির মধ্যে সাঁতার কাটলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং শরীরের সম্পূর্ণ উন্নয়ন হয়। সাঁতারের মাধ্যমে আপনি যন্ত্রণা থেকেও রেহাই পেতে পারেন, কারণ পানি আপনাকে শীতল রাখে।
বাড়িতে ব্যায়াম ও বিকল্প পদ্ধতি
যারা বাইরে গিয়ে ব্যায়াম করতে পারবেন না, তারা ঘরের মধ্যে ব্যায়াম চালিয়ে যেতে পারেন। এ জন্য সহজ এবং কার্যকর পদ্ধতি হলো:
-
দড়ি লাফ: এটি একটি দুর্দান্ত কার্ডিও ব্যায়াম, যা ঘরে করতে পারবেন।
-
হাঁটাহাঁটি: আপনি যদি বাইরে না যেতে চান, তাহলে শপিং মল বা মার্কেটেও কিছু সময় হাঁটাহাঁটি করতে পারেন, যেখানে পরিবেশ শীতল থাকে।
বাড়ি বা অন্য কোনো শীতল জায়গায় স্ট্রেচিং ও সোজা ব্যায়ামও সম্ভব যা শরীরের চাপ কমিয়ে দেয় এবং স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
পানি পান ও সঠিক পুষ্টি
গরমের সময় শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়, তাই ব্যায়ামের পর প্রচুর পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য প্রতিদিনের পানির চাহিদা পূরণ করুন। পাশাপাশি, গরমে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয় এবং প্রচুর চিনি সম্বলিত খাবার এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলি শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
গরমে ব্যায়াম করার সময় একটু বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন, তবে এটি একেবারে অসম্ভব নয়। সঠিক সময়ে এবং সঠিক উপায়ে ব্যায়াম করলে গরমেও শরীর সুস্থ রাখা সম্ভব। সাঁতার, স্ট্রেচিং, ইয়োগা এবং দড়ি লাফের মতো সহজ ব্যায়ামগুলো স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে, এমনকি তীব্র গরমেও। তাই, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করতে গরমের এই সময়টাতে ব্যায়াম চালিয়ে যান, তবে সাবধানতা অবলম্বন করে।
মাশরুম এখন সুপারফুড! জেনে নিন জাদুকরী ৫ উপকারিতা
একসময় 'ব্যাঙের ছাতা' বলে অবহেলিত মাশরুম এখন অনেকের কাছেই পরিচিত এবং প্রিয় খাবার হয়ে উঠেছে। বর্তমানে রাস্তার ধারের স্ট্রিট ফুড থেকে শুরু করে আধুনিক রান্নাঘর—সবখানেই মাশরুমের জয়জয়কার। ফাস্টফুড, স্যুপ কিংবা দৈনন্দিন সবজি রান্নায় এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। মাশরুম শুধু স্বাদের জন্যই নয়, বরং এর অসাধারণ কিছু স্বাস্থ্যগুণ ও পুষ্টিমানের জন্য এখন সবার খাদ্যতালিকায় গুরুত্ব পাচ্ছে। যারা এখনো মাশরুম খেতে দ্বিধা করেন, তাদের জন্য এর পাঁচটি জাদুকরী উপকারিতা তুলে ধরা হলো।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র ১৮ গ্রাম মাশরুম (যা প্রায় দুটি মাঝারি আকারের মাশরুমের সমান) খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। মাশরুমে ‘এরগোথিওনাইন’ নামক এক বিশেষ অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা কোষের ক্ষয় রোধ করে। শিটাকে, অয়স্টার ও কিং অয়স্টারের মতো প্রজাতিগুলোতে এই উপাদান বেশি থাকলেও যেকোনো মাশরুম নিয়মিত খাওয়া শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ হলো অতিরিক্ত সোডিয়াম বা লবণের ব্যবহার। মাশরুমে সোডিয়াম বা লবণের পরিমাণ প্রাকৃতিকভাবেই অনেক কম। যেমন, এক কাপ হোয়াইট বাটন মাশরুমে মাত্র ৫ মিলিগ্রাম সোডিয়াম থাকে। এটি খাবারে প্রাকৃতিক স্বাদ যুক্ত করে, ফলে রান্নায় বাড়তি লবণের প্রয়োজন কম হয় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
লাল মাংসের বদলে মাশরুম হতে পারে স্বাস্থ্যের জন্য একটি চমৎকার বিকল্প। এতে চর্বি ও কোলেস্টেরল নেই বললেই চলে। বিশেষ করে শিটাকে মাশরুম শরীরে কোলেস্টেরল তৈরি হতে বাধা দেয় এবং রক্তে এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। যারা ওজন বা হৃদরোগ নিয়ে চিন্তিত, তাদের জন্য মাশরুম একটি আদর্শ খাবার।
মাশরুমে থাকা প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন-বি মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারগুলোকে সচল রাখতে সাহায্য করে। এতে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন গবেষণা বলছে, সপ্তাহে অন্তত দুই কাপ মাশরুম খেলে মস্তিষ্কের কগনিটিভ ইমপেয়ারমেন্ট বা স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি প্রায় অর্ধেক কমে যায়।
শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মাশরুমের সেলেনিয়াম অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। এটি কোষকে ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। এছাড়া এতে থাকা ভিটামিন বি৬ শরীরে লাল রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে, যা শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পৌঁছে দিয়ে শরীরকে সতেজ ও কর্মক্ষম রাখে।
সূত্র: ইউসিএলএ হেলথ, সিডার্স-সিনাই হেলথ লাইব্রেরি
৪০% ক্ষমতা হারানোর আগে লক্ষণ মেলে না! কিডনি বাঁচাতে যা করবেন
শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরিশ্রমী অঙ্গ কিডনিকে বলা হয় ‘সাইলেন্ট কিলার’। কারণ, এর কার্যক্ষমতা প্রায় ৪০ শতাংশ না হারানো পর্যন্ত অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণই প্রকাশ পায় না। সম্প্রতি ‘অনলি মাই হেলথ’-এর এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা কিডনি সুস্থ রাখা এবং এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো চেনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞ রিতেশ বাওরির মতে, কিডনি প্রথম দিকে নিজেই নিজের ক্ষতিপূরণ করে কাজ চালিয়ে যায় বলে রোগ ধরা পড়তে দেরি হয়। তবে শরীরের কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তনের দিকে নজর দিলে আগেভাগে সতর্ক হওয়া সম্ভব। যেমন—প্রস্রাবে অস্বাভাবিক ফেনা বা বুদবুদ হওয়া, রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি অনুভব করা এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ বা পা ফুলে যাওয়া। এছাড়া হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়াও কিডনি সমস্যার একটি বড় সংকেত।
কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকরা মূলত eGFR এবং Urine Albumin-to-Creatinine Ratio—এই দুটি পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে বলেছেন। এছাড়া ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন, যেমন—লবণ ও প্রসেসড খাবার কম খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত হাঁটাচলা কিডনিকে দীর্ঘকাল সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
/আশিক
তরুণদের শরীরে কেন বাড়ছে কোলন ক্যান্সার? গবেষণায় উঠে এল নতুন তথ্য
ক্যান্সার এখন আর কেবল বয়স্কদের রোগ হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সি তরুণদের মধ্যে কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এতদিন অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসকে এই মরণব্যাধির প্রধান কারণ মনে করা হলেও, বিজ্ঞানীরা এখন বৃহদন্ত্রের গঠনগত পরিবর্তন এবং জিনের নেতিবাচক ভূমিকাকে এর জন্য বেশি দায়ী করছেন।
‘অ্যাডভান্সড সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় টেক্সাস ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন। তাদের মতে, বয়স্কদের তুলনায় বর্তমানে তরুণদের বৃহদন্ত্রের কোষগুলো অনেক বেশি শক্ত ও পুরু হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় এই কোষগুলোতে এক ধরনের ক্ষত বা ‘ফাইব্রোসিস’ তৈরি হয়, যা ক্যানসার কোষ জন্মানোর জন্য একটি আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। কোষের দেয়াল এভাবে শক্ত হয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো শরীরে অতিরিক্ত ‘কোলাজেন’ জমা হওয়া। তবে ঠিক কী কারণে তরুণদের শরীরে এমন অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আরও গভীর গবেষণা চলছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই সমস্যার পেছনে শুধু খাদ্যাভ্যাস নয়, বরং জিনের কারসাজিও বড় ভূমিকা রাখছে। বংশগতভাবে আসা নির্দিষ্ট কিছু জিন যেমন— এপিসি, এমএলএইচ১ এবং এমএসএইচ২ যদি তাদের স্বাভাবিক বিন্যাস বদলে ফেলে (মিউটেশন), তবে ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। গবেষকরা ‘মাইক্রোইনডেন্টেশন টেস্ট’-এর মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন যে, তরুণদের কোলন কোষের এই অস্বাভাবিক পরিবর্তনই ক্যানসার ডেকে আনছে। তবে আশার কথা হলো, প্রাথমিক অবস্থায় কোলন ক্যানসার ধরা পড়লে তা পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব। বিজ্ঞানীরা এখন সেই বিশেষ জিনগুলোকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন, যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ক্যানসার হওয়ার আগেই তা কার্যকরভাবে ঠেকানো যাবে।
সূত্র : আনন্দবাজার
হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে কোলেস্টেরল বশে রাখুন: বিশেষজ্ঞ টিপস
রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা বর্তমান সময়ে সুস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চ কোলেস্টেরল কেবল হৃদরোগ নয়, স্ট্রোকের ঝুঁকিও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল ওষুধের ওপর নির্ভর না করে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমেই এই ‘নীরব ঘাতক’কে বশে রাখা সম্ভব। এতে হৃৎপিণ্ডের পাশাপাশি উন্নত হয় হজমশক্তি ও সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার মূল চাবিকাঠি হলো খাদ্যতালিকায় আমূল পরিবর্তন আনা। চর্বিযুক্ত রেড মিট (গরু বা খাসির মাংস), ঘি, মাখন এবং অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে ডুবো তেলে ভাজা খাবার, ফাস্টফুড ও প্রসেসড খাবারে থাকা 'ট্রান্স ফ্যাট' শরীরের জন্য বিষের মতো কাজ করে।
এর পরিবর্তে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ সামুদ্রিক মাছ, বাদাম, তিসি ও অলিভ অয়েল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি। এছাড়া আদা ও রসুনের মতো প্রাকৃতিক উপাদান কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত বা ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন শাকসবজি, ফলমূল, ওটস ও বার্লি শুধু কোলেস্টেরল কমায় না, বরং অন্ত্রের স্বাস্থ্যও ভালো রাখে। খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের দিকে নজর রাখলে রক্তে চিনির মাত্রার পাশাপাশি কোলেস্টেরলও নিয়ন্ত্রণে আসে। ভাজাপোড়া স্ন্যাকসের বদলে স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে দই, ফল বা বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ গ্রিন টি পান করাও বেশ উপকারী।
শারীরিক পরিশ্রম ও জীবনযাত্রার শৃঙ্খলা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা ব্যায়াম শরীরের 'ভালো কোলেস্টেরল' (HDL) বাড়াতে এবং 'খারাপ কোলেস্টেরল' (LDL) কমাতে সরাসরি কাজ করে। অতিরিক্ত ওজন কমানো এবং ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগের কোনো বিকল্প নেই; কারণ ধূমপান সরাসরি ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়।
সেই সঙ্গে মানসিক চাপ কমাতে ইয়োগা বা ধ্যান এবং দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নিয়মিত লিপিড প্রোফাইল টেস্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থা যাচাই করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করাই হলো সুস্থ থাকার সঠিক পথ।
/আশিক
শিশুর টাং টাই কী? কখন চিকিৎসা জরুরি
শিশুদের মধ্যে মাঝে মাঝে এমন একটি শারীরিক অবস্থা দেখা যায় যেখানে জিহ্বার নিচে থাকা পাতলা চামড়ার পর্দা বা ফ্রেনুলাম (Frenulum) স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট, শক্ত বা অতিরিক্ত টানটান থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় টাং টাই বা অ্যানকাইলো গ্লসিয়া (Ankyloglossia)। এ ধরনের অবস্থায় জিহ্বার স্বাভাবিক নড়াচড়া সীমিত হয়ে যায়, যার ফলে শিশুর খাওয়া, কথা বলা কিংবা জিহ্বা নড়াচড়ায় নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
টাং টাই হলে কী ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে
টাং টাইয়ের প্রভাব শিশুর বয়স অনুযায়ী ভিন্নভাবে দেখা দিতে পারে। নবজাতক বা ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি করে মায়ের বুকের দুধ পান করার সময়। অনেক সময় দেখা যায়, শিশুটি ঠিকভাবে স্তন ধরতে পারে না, মাঝেমধ্যে দুধ ছেড়ে দেয় কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে খাওয়ার চেষ্টা করেও পর্যাপ্ত দুধ গ্রহণ করতে পারে না। এর ফলে শিশুর পুষ্টিগত সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং অনেক মায়ের ক্ষেত্রে নিপলে ব্যথা বা অস্বস্তি তৈরি হয়।
অন্যদিকে শিশু যখন বড় হতে শুরু করে, তখন টাং টাইয়ের কারণে কথা বলার ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বাংলা ভাষার কিছু ধ্বনি যেমন ল, র, ট বা ড উচ্চারণে সমস্যা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা জিহ্বা পুরোপুরি বাইরে বের করতে পারে না বা উপরের দিকে তুলতে অসুবিধা অনুভব করে।
কীভাবে বোঝা যায় শিশুর টাং টাই রয়েছে
টাং টাই শনাক্ত করার কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যদি শিশুর জিহ্বা পুরোপুরি বাইরে বের না হয় বা জিহ্বার আগা হৃদয় আকৃতির (heart-shape) মতো দেখা যায়, তাহলে এটি টাং টাইয়ের একটি লক্ষণ হতে পারে। এছাড়া জিহ্বার নিচে একটি শক্ত ও টানটান চামড়ার পর্দা চোখে পড়লে সেটিও এই সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।
টাং টাইয়ের চিকিৎসা কী
টাং টাইয়ের চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার তীব্রতা এবং শিশুর বয়সের ওপর। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত একটি সহজ চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যার নাম ফ্রেনোটমি (Frenotomy)। এতে জিহ্বার নিচে থাকা ছোট চামড়ার পর্দাটি সামান্য কাটার মাধ্যমে মুক্ত করা হয়।
এই প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুত সম্পন্ন করা যায়, সাধারণত কয়েক মিনিটের বেশি সময় লাগে না এবং এতে খুব সামান্য রক্তপাত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশুরা খুব দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং দুধ খাওয়াও সহজ হয়ে যায়।
তবে যদি শিশুর বয়স বেশি হয় বা সমস্যাটি জটিল হয়, তখন ফ্রেনুলোপ্লাস্টি (Frenuloplasty) নামে একটি তুলনামূলক বড় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
সব টাং টাই কি অপারেশন প্রয়োজন
চিকিৎসকদের মতে, সব টাং টাইয়ের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয় না। যদি শিশুর খাওয়া বা কথা বলার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা না দেখা যায়, অনেক সময় চিকিৎসা ছাড়াই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
তবে যদি টাং টাইয়ের কারণে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ মশিউর রহমান বলেন, কোনো শিশুর যদি দুধ খেতে সমস্যা হয়, কথা বলতে দেরি হয় বা জিহ্বা নড়াচড়ায় সীমাবদ্ধতা দেখা যায়, তাহলে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত। সময়মতো চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সমস্যা সহজে সমাধান করা সম্ভব।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার সহজ উপায়: সুস্থ থাকবে আপনার হৃদয়
কোলেস্টেরলের সমস্যা বর্তমানে অনেকের জন্যই একটি বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সরাসরি হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রা পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়মিত কিছু ব্যায়াম এবং সঠিক খাবারের নিয়ম মেনে চললে খুব সহজেই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, যা একই সাথে শরীরের হজমশক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আমাদের অন্ত্রের স্বাস্থ্য। সুস্থ অন্ত্র নিশ্চিত করতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার বেশি করে রাখা প্রয়োজন, যা হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করার পাশাপাশি ক্ষতিকর কোলেস্টেরল শুষে নিতে বাধা দেয়।
খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের ওপর নজর দেওয়া কোলেস্টেরল কমানোর আরেকটি কার্যকর উপায়। যেসব খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম, সেগুলো গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে এবং পরোক্ষভাবে তা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। এছাড়া প্রতিদিনের ডায়েটে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে শরীরে জমে থাকা টক্সিন বের হয়ে যায় এবং কোলেস্টেরল কমাতে দারুণ ভূমিকা রাখে। মূল খাবার খাওয়ার আগে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস করলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে আসে। এক্ষেত্রে ভাজাপোড়া বাদ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের বাদাম, তাজা ফল বা দই স্ন্যাকস হিসেবে বেছে নেওয়া যেতে পারে।
সবুজ শাকসবজি এবং ভেষজ উপাদানের ব্যবহার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে জাদুর মতো কাজ করে। প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি রাখা শরীরের জন্য অপরিহার্য, কারণ এটি প্রাকৃতিক উপায়ে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে আনে। এর পাশাপাশি রান্নায় আদা ও রসুনের ব্যবহার বাড়ানো উচিত। আদা ও রসুনে এমন কিছু প্রাকৃতিক ওষুধি গুণ এবং যৌগ রয়েছে যা সরাসরি রক্তে কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে বিশেষ অবদান রাখে। নিয়মিত এই নিয়মগুলো মেনে চললে হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে একটি সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করা সম্ভব।
/আশিক
লোপেরামাইড নাকি ঘরোয়া উপায়? ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী কিছু সমাধান
ডায়রিয়া অনেক সময় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ালেও, সাধারণত ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের হালকা ডায়রিয়া নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে দ্রুত স্বস্তি পেতে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে বিশেষজ্ঞরা কিছু ঘরোয়া ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের কথা বলেন। লোপেরামাইড (Imodium) বা বিসমাথ সাবস্যালিসিলেট (Pepto-Bismol) জাতীয় ওষুধ অন্ত্রের চলাচল ধীর করে সাময়িক উপশম দিতে পারে। তবে যেকোনো ওষুধ সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য।
প্রাথমিকভাবে ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করা। এ সময় প্রচুর পানি, চা, আপেলের রস বা ইলেক্ট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় পান করতে হবে। চাল সেদ্ধ করা ভাতের মাড় শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে অত্যন্ত কার্যকর। এর পাশাপাশি প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার যেমন দই অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। এছাড়াও পেয়ারা পাতার ট্যানিন বা শুকনো আদা হজমশক্তি বাড়াতে এবং ডায়রিয়ার উপসর্গ কমাতে দারুণ কাজ করে।
ডায়রিয়ার সময় খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। এ সময় দুধ, পনির, কফি বা অতিরিক্ত ফাইবারযুক্ত ওটমিল এড়িয়ে চলা উচিত। তার বদলে সাদা ভাত বা আলুর মতো সহজপাচ্য খাবার খাওয়া শরীরের জন্য নিরাপদ। পর্যাপ্ত বিশ্রামের পাশাপাশি পেটে হালকা গরম সেঁক দিলে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, ঘরোয়া উপায়গুলো কাজ না করলে এবং লক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
/আশিক
ওষুধ ছাড়াই কমবে টনসিলের যন্ত্রণা: হাতের কাছেই আছে জাদুকরী সমাধান!
প্রকৃতি থেকে শীতের বিদায় আর বসন্তের আগমনের এই সন্ধিক্ষণে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সাথে ঘরে ঘরে বাড়ছে জ্বর, সর্দি ও কাশির প্রকোপ। এই সময়ে অনেকেরই গলার ভেতরে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়, বিশেষ করে ঢোক গিলতে গেলে কষ্ট বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, এটি সাধারণত টনসিলের ইনফেকশনের কারণে হয়ে থাকে। যে কোনো বয়সেই এই সমস্যা হানা দিতে পারে। যদিও গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করা জরুরি, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু ঘরোয়া উপায়ে এই অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
গলা ব্যথা বা টনসিলের সমস্যায় সবচেয়ে কার্যকর এবং প্রাচীন পদ্ধতি হলো হালকা গরম পানিতে লবণ দিয়ে কুলিকুচি করা। লবণ পানি কেবল সংক্রমণই রোধ করে না, এটি গলার ভেতরের ব্যাকটেরিয়া নির্মূল করতেও সাহায্য করে। এছাড়া এক কাপ পানিতে আদা কুচি দিয়ে তৈরি আদা চা দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার পান করলে টনসিলের সংক্রমণ বাধাগ্রস্ত হয়। আদায় থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান গলার জ্বালাপোড়া ও ব্যথা কমাতে জাদুর মতো কাজ করে।
চায়ের ক্ষেত্রে গ্রিন টি-র সাথে মধুর মিশ্রণও বেশ উপকারী। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ গ্রিন টি ক্ষতিকর জীবাণু নির্মূল করে গলার কোষগুলোকে সজীব রাখে। দিনে কয়েকবার এই মধু-মিশ্রিত চা পান করলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং টনসিলের সমস্যা থেকে দূরে থাকতে এই প্রাকৃতিক সমাধানগুলো হতে পারে আপনার সেরা সুরক্ষা। তাই অসুস্থতা বাড়ার আগেই সতর্ক হওয়া এবং ঘরোয়া এই টিপসগুলো মেনে চলা জরুরি।
মাথাব্যথা মানেই কি ব্রেন টিউমার? জেনে নিন লক্ষণ চেনার বৈজ্ঞানিক উপায়
মাথাব্যথা একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা হলেও, অনেক সময় এটি মারাত্মক কোনো রোগের আগাম সতর্কবার্তা হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী মাথাব্যথা বা ব্যথার অস্বাভাবিক ধরন মস্তিষ্কের টিউমারের লক্ষণ কি না—তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, সব মাথাব্যথা ভয়ের কারণ না হলেও কিছু সুনির্দিষ্ট উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়।
আমেরিকান ব্রেন টিউমার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, মস্তিষ্কে টিউমার থাকলে মাথাব্যথা হওয়া একটি সাধারণ লক্ষণ। তবে মনে রাখতে হবে, বেশিরভাগ মাথাব্যথাই কাজের চাপ, ঘুম কম হওয়া বা মাইগ্রেনের মতো সাধারণ কারণে হয়ে থাকে। টিউমারের আকার ও অবস্থান যখন মস্তিষ্কের স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তখনই মূলত এই বিশেষ ধরনের মাথাব্যথা শুরু হয়।
ব্রেন টিউমারের মাথাব্যথা চেনার উপায়
চিকিৎসকদের মতে, টিউমারের কারণে হওয়া মাথাব্যথা সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধে সচরাচর কমে না। এর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো
১. রাতে তীব্র মাথাব্যথার কারণে হুট করে ঘুম ভেঙে যাওয়া।
২. শোয়া থেকে ওঠা বা শরীরের অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যথার তীব্রতা বদলে যাওয়া।
৩. ঘন ঘন মাথাব্যথা নিয়ে ঘুম থেকে ওঠা।
৪. কয়েক দিন বা সপ্তাহ ধরে ব্যথার স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পাওয়া।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন? বিশেষজ্ঞরা কিছু ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা বিপদ সংকেতের কথা জানিয়েছেন, যা দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি
মাথাব্যথার সঙ্গে ক্রমাগত বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
শরীরের ভারসাম্য হারানো বা মাথা ঘোরা।
দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসা বা হঠাৎ দ্বিগুণ দেখা।
কথা বলতে অসুবিধা হওয়া বা খিঁচুনি শুরু হওয়া।
শরীরের কোনো এক পাশ দুর্বল হয়ে পড়া বা অবশ অনুভূত হওয়া।
ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন বা অকারণে বিভ্রান্ত হওয়া।
চিকিৎসকদের মতে, যদি কারও শরীরে আগে থেকেই ক্যান্সারের ইতিহাস থাকে এবং নতুন করে মাথাব্যথা শুরু হয়, তবে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত। মনে রাখতে হবে, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব। তাই অস্বাভাবিক মাথাব্যথাকে ‘সাধারণ’ মনে করে চেপে না রেখে সঠিক পরীক্ষা করানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
সূত্র : যশোদা হাসপাতাল
পাঠকের মতামত:
- ইরানের দুঃসময়ে পুতিনের ঘোষণা; মস্কো থাকবে ‘নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হয়ে
- নাতাঞ্জে ফের মহাপ্রলয়: মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় কাঁপছে ইরানের পরমাণু কেন্দ্র
- সংসদে সমাধান না হলে রাজপথই শেষ ভরসা: গণভোট নিয়ে অনড় অবস্থানে জামায়াত
- রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর খবর: ভারতসহ এশিয়ার টার্গেট এখন ইরান
- প্রত্যাশিত দেশ গড়তে দেশবাসীর দোয়া চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
- নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রথম ঈদ: উৎসব, ঐক্য ও প্রত্যাশার বাংলাদেশ
- হরমুজ উত্তেজনার প্রভাব, ইরান তেলে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত
- বিরোধী দলীয় নেতার ঈদের শুভেচ্ছা: সরকারি বাসভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন
- রমজানের শিক্ষা থেকে ঐক্যের ডাক: ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- হরমুজের সংকট মোকাবেলায় ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনায় ট্রাম্প
- চেক প্রজাতন্ত্রে ইসরায়েলের অস্ত্র কারখানায় আগুন
- তেলের দামের ধাক্কায় সংকটে ভারতীয় বিমান খাত, রুট বন্ধের সতর্কতা
- ঈদের আনন্দ ম্লান: যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির ছায়ায় মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম বিশ্ব
- ইসরায়েলে প্রথমবার 'নাসরুল্লাহ' মিসাইল ব্যবহার করল ইরান
- জুমাতুল বিদা: ফজিলত, দোয়া ও করণীয় জানুন
- ইসরায়েলকে বড় জরিমানা ফিফার, কারণ কী
- শ্রমিকদের বেতন-বোনাস শতভাগ পরিশোধ করছে সরকার
- ট্রাম্প ও মিত্রদের জন্য ‘অপ্রত্যাশিত চমক’ প্রস্তুত রয়েছে- ইরান
- ইরান যুদ্ধে আটকে পড়ে পালানোর পথ খুঁজছেন ট্রাম্প
- সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন দেশের যেসব জায়গায়
- ‘বিশ্বকে রক্ষা করছি’ নেতানিয়াহুর দাবি
- আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তা
- ২০ মার্চ ঢাকার নামাজের পূর্ণ সময়সূচি
- দুই দফায় কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি মিলবে মাত্র ২ লাখ ২ হাজার টাকায়
- ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
- জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে আর ছাড় নয়: ইরান
- চাঁদ দেখার পর যে দোয়া পড়তেন নবী (সা.)
- কাতারের জ্বালানি কমপ্লেক্সে হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতার সীমিত অংশ
- ইরানের হামলায় ইসরাইলের তেল শোধনাগারে আগুন
- ‘আমি বেঁচে আছি’- গুজব ভেঙে সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু
- ইরান মিশনের পর জরুরি অবতরণ মার্কিন F-35, F-35 ক্ষতিগ্রস্ত?
- গ্যাস শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে ইরানের আঘাত: বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তার নতুন ঢেউ
- ‘কোরআনের ভুল খুঁজতে গিয়ে নিজেই বদলে গেলাম’
- যুদ্ধের মাঝেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের মাস্টারপ্ল্যান
- যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত নেই: পেন্টাগনের ব্রিফিংয়ে ইরান ধ্বংসের নতুন নীল নকশা
- মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে ড্রোন হানা: ওয়াশিংটনের সামরিক ঘাঁটিতে আতঙ্ক
- বৃষ্টির বাধায় কি ম্লান হবে ঈদের আনন্দ? আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ আপডেট
- ২০২৬ সালে ভিসা ছাড়াই যেসব দেশে যেতে পারবেন
- এনসিপিতে যুক্ত হচ্ছে দুই নতুন সংগঠন
- কুমিল্লা শেষ সময়ে জমজমাট আতর-টুপির বাজার
- ক্যাম্পাসের ব্যস্ততা পেরিয়ে ঈদের ছুটিতে কুবি শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার আনন্দ
- ‘আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে’: ইরানকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী
- ইরান হামলার নিন্দা, আমিরাতের পাশে মিশর
- কালিগঞ্জের পল্লীতে ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে জখম, টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
- এক বছরে দুই রমজান ও তিন ঈদের অপেক্ষায় মুসলিম উম্মাহ
- জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত; শনিবারই উদযাপিত হবে ঈদ
- মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয় রুখতে ইউরোপের আল্টিমেটাম
- ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও ধস: সোনার দামে বাজুসের ঐতিহাসিক রেকর্ড পতন
- কাতারের গ্যাসে ইরানের আগুন: অন্ধকারে ডুবতে পারে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ এলাকা
- বাড়তি ভাড়া নিলেই কড়া অ্যাকশন: সেতুমন্ত্রীর
- সৌদিতে আজ কি দেখা যাবে ঈদের চাঁদ? সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে
- বিলাসবহুল ধাতু স্বর্ণ এখন আরও সস্তা: বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ
- ঈদ কি তবে শুক্রবার? সৌদি আরবের চাঁদ দেখা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটল!
- ‘৫০তম অভিযান’ ঘোষণা ইরানের, রণক্ষেত্র চার দেশে
- কালিগঞ্জের পল্লীতে ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে জখম, টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
- ঈদুল ফিতর ২০২৬: প্রধান জামাতের সময় ও জাতীয় ঈদগাহের সুযোগ-সুবিধা জেনে নিন
- আজ ডিএসইর সেরা ১০ গেইনার কোনগুলো
- ১৪৪৭ হিজরির রমজান কি ২৯ দিনে শেষ হবে? সৌদি সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
- ১৬ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- পবিত্র রমজানের ২৫তম দিন; ১৫ মার্চের নামাজের সঠিক সময়সূচি জানুন
- হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত: জেনে নিন শবে কদরের করণীয় ও বর্জনীয়
- শেয়ারবাজারে দরপতনে এগিয়ে যেসব শেয়ার
- সংসদে নয়া ইতিহাস: প্রধান বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি পেল জামায়াতে ইসলামী
- ঈদের ছুটিতে ব্যাংকিং সেবা কীভাবে পাবেন, জানুন বিস্তারিত
- ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস; ৪ জেলায় কালবৈশাখীর বড় সতর্কবার্তা








