ধর্ষণের হুমকি: ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন উমামা ফাতেমা

সোশাল মিডিয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ সেপ্টেম্বর ০২ ১৯:৪৯:৪৯
ধর্ষণের হুমকি: ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন উমামা ফাতেমা
উমামা ফাতেমা। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের ছদ্মবেশে রাজনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে, কিন্তু নিজেদের কর্মীদের দায় নিচ্ছে না। ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে রিট করা এক ছাত্রীকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের’ হুমকি দেওয়ার ঘটনায় নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) উমামা ফাতেমা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ধর্ষণের হুমকির একটি স্ক্রিনশটও শেয়ার করেন। সেখানে দেখা যায়, আলী হুসেন নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ডাকসুর এক নারী প্রার্থীকে গণধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে উমামা ফাতেমা লিখেছেন, “এই ক্যাম্পাসে একজন মেয়েকে রেপ থ্রেট দিয়ে কতই না সহজে পার পাওয়া যায়। শিবির কেন গুপ্ত রাজনীতি থেকে প্রকাশ্যে আসে না, সেটার কারণ এটাই। সাধারণ শিক্ষার্থী সেজে রাজনৈতিক সুবিধাটা ঠিকই নেবে, কিন্তু নিজেদের লোকের দায়টা নেবে না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, এখন পর্যন্ত হুমকিদাতার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ডাকসুতে অংশ নেওয়া অন্যান্য প্রার্থীরাও এর বিচার দাবি করেছেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই হুমকির ঘটনায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী এস এম ফরহাদ এবং অপরাজেয়৭১-অদম্য ২৪ প্যানেলের সহসভাপতি পদপ্রার্থী মো. নাইম হাসান প্রক্টরের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

/আশিক


এমপি গাজী নজরুলকে আরও ২টি বিয়ে করার পরামর্শ দিলেন রফিক উল্লাহ আফসারী

সোশাল মিডিয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২১ ২০:০১:৩০
এমপি গাজী নজরুলকে আরও ২টি বিয়ে করার পরামর্শ দিলেন রফিক উল্লাহ আফসারী
ছবি : সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী নেতা গাজী নজরুল ইসলামের ফাঁস হওয়া অন্তরঙ্গ ভিডিও এবং ব্যক্তিগত মুহূর্তের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ ও সমালোচনা করেছেন আলোচিত ইসলামী বক্তা মাওলানা রফিক উল্লাহ আফসারী। একই সঙ্গে তিনি এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে আনুষ্ঠানিকভাবে আরও দুটি বিয়ে করার প্রকাশ্য পরামর্শ দিয়েছেন।

গত সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিজস্ব এক ভিডিও বার্তায় এসব চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন এই ধর্মীয় বক্তা।

ভিডিও বার্তায় মাওলানা রফিক উল্লাহ আফসারী বলেন, "উচিত হচ্ছে আমার গাজী নজরুল ইসলাম ভাইয়ের আরও দুইটা বিয়ে করা। এটা হালাল জিনিস, এতে লজ্জার বা শরমের কিছু নেই। কিন্তু যারা স্বামী-স্ত্রীর এ ধরনের ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরাল করছেন, তাদের একদিন হাশরের ময়দানে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।"

বক্তব্যে ইসলামের সাহাবিদের বৈবাহিক জীবনের নানা ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক ভালোবাসা ও আন্তরিকতা ইসলামের অত্যন্ত স্বাভাবিক ও পবিত্র শিক্ষা। বিবাহিত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার একদমই ব্যক্তিগত মুহূর্তের গোপন ভিডিও অন্যায়ভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা বা বিব্রত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বা নীতিসম্মত কাজ হতে পারে না বলে তিনি জোর দাবি করেন।

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করে মাওলানা আফসারী আরও বলেন, "গাজী নজরুল ইসলাম ভাই, সাতক্ষীরা শহরের সম্মানিত এমপি, একামতে দ্বিনের অতন্দ্র প্রহরী এবং কোটি কোটি তৌহিদী মুসলমানের কলিজার টুকরা। তাদের স্বামী-স্ত্রীর ভেতরের ভিডিও ভাইরাল করে আপনারা ঠিক কী ধরনের শান্তি পেলেন?"

একই সাথে মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ঘটনাটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন এটি বিরাট কোনো অপরাধ। যারা এসব চরিত্রহননের অপকর্মের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের আল্লাহর দরবারে কঠোর শান্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করে দেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এক তরুণীর সঙ্গে একটি অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা মুহূর্তের মধ্যেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


শাপলার কসাইয়ের অধ্যায় শেষ: শফিকুল আলম

সোশাল মিডিয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ২১:৫৩:৪৪
শাপলার কসাইয়ের অধ্যায় শেষ: শফিকুল আলম
ছবি : সংগৃহীত

দুর্নীতি ও গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অত্যাধুনিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে ইন্টারপোল তাকে সফলভাবে শনাক্ত করার পর এই পদক্ষেপ নেয়। ইন্টারপোলের রেড নোটিশধারী সাবেক এই শীর্ষ কর্মকর্তার গ্রেপ্তারের খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ‘শাপলার কসাই’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ইংরেজিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘দ্য বুচার অব শাপলা ইজ ডান!! নেক্সট ইন লাইন...!!’ যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়, ‘শাপলার কসাইয়ের অধ্যায় শেষ!! এবার পরবর্তী জনের পালা...!’

বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে এই আন্তর্জাতিক ‘রেড নোটিশ’ জারি করা হয়েছিল। সেই আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ বাংলাদেশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোকে (এনসিবি) প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইলের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বিচারাধীন থাকা গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার সময় তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ও মূল কমান্ডিং দায়িত্বে ছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের দেওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় শাপলা চত্বরের ঘটনার জেরে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে সর্বমোট ৫৮টি মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে, যার অন্যতম প্রধান হুকুমদাতা ও অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন বেনজীর আহমেদ।

এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের এবং পরিবারের নামে গড়ে তোলা তাঁর বিশাল অবৈধ সম্পদ ও নজিরবিহীন দুর্নীতির তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা কর্তৃক ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। সাবেক এই প্রভাবশালী পুলিশ প্রধানকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের ন্যায়বিচারের পথ এখন আরও বেশি সুগম হলো বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী ও নিহতের পরিবারগুলো।

/আশিক


ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম রিলসে বড় পরিবর্তন, মেটা আনছে নতুন ‘সিরিজ’ ফিচার

সোশাল মিডিয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ১৯:৪৪:২৮
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম রিলসে বড় পরিবর্তন, মেটা আনছে নতুন ‘সিরিজ’ ফিচার
ছবি : সংগৃহীত

সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা তাদের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম রিলসের জগতে এক বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। মূলত ছোট দৈর্ঘ্যের ভিডিওভিত্তিক কনটেন্টগুলোকে আরও বেশি গোছানো, সুসংগঠিত এবং দীর্ঘমেয়াদি দর্শকসম্পৃক্ততার আওতায় আনার জন্য প্রতিষ্ঠানটি এবার চালু করতে যাচ্ছে ‘সিরিজ’ নামের সম্পূর্ণ নতুন একটি বিশেষ সুবিধা। এই আকর্ষণীয় ফিচারের মাধ্যমে ভিডিও নির্মাতারা বা ক্রিয়েটররা তাঁদের একই বিষয়ভিত্তিক অথবা ধারাবাহিক গল্পের রিলসগুলোকে একটি নির্দিষ্ট সিরিজের অধীনে পর্ব বা পার্ট অনুযায়ী সাজিয়ে রাখার সুযোগ পাবেন।

বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে বিশ্বজুড়ে নির্দিষ্ট কিছু সীমিতসংখ্যক কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ওপর এই ফিচারের কার্যকারিতা ও সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের প্রবল ধারণা, এই ফিচারটি যখন সাধারণ ব্যবহারকারী ও সব নির্মাতাদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, তখন যাঁরা বিশেষ করে ধারাবাহিক বা পর্বভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি করেন, তাঁদের ভিউ, রিচ ও ফলোয়ারের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে।

মেটার নতুন এই ফিচারটি মূলত বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও স্মার্ট উপায়ে কাজ করবে। যেমন—নির্মাতারা চাইলে তাঁদের একদম নতুন তৈরি করা রিলসের পাশাপাশি প্রোফাইলে থাকা পুরোনো ভিডিওগুলোকেও যেকোনো সময় একটি নির্দিষ্ট সিরিজের অন্তর্ভুক্ত করে সাজাতে পারবেন। এছাড়া ক্রিয়েটরদের প্রোফাইলে এই সিরিজগুলোর জন্য সম্পূর্ণ আলাদা বা একটি ডেডিকেটেড বিভাগ যুক্ত থাকবে, যা দর্শকদের পছন্দের কনটেন্ট খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। দর্শকদের জন্য এটি একটি স্মার্ট ওয়াচিং অভিজ্ঞতা দেবে; কারণ কোনো একজন দর্শক একটি পর্ব বা পার্ট যেখানে দেখা শেষ করবেন, পরবর্তীতে তিনি ঠিক সেখান থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার পরের পর্বটি দেখা শুরু করার সুযোগ পাবেন।

এতদিন পর্যন্ত রিলস ভিডিও দেখার মূল অভিজ্ঞতাই ছিল স্ক্রল করে দ্রুত এক ভিডিও থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন অন্য ভিডিওতে চলে যাওয়া। কিন্তু এই নতুন ‘সিরিজ’ ফিচারের মাধ্যমে মেটা মূলত ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখার একটি সুদূরপ্রসারী ও কৌশলগত বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নিয়েছে। একটি পর্ব দেখার পর ব্যবহারকারীর মনে পরবর্তী পর্ব দেখার যে স্বাভাবিক কৌতুহল তৈরি হবে, তা দর্শকদের বারবার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাপে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য করবে।

পাশাপাশি মেটা আরও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এই নতুন সিরিজ ফিচারের মাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য আয়ের নতুন ও বিকল্প পথ তৈরি হতে পারে। তবে রিলস সিরিজের মাধ্যমে মনিটাইজেশন বা আয়ের এই পুরো প্রক্রিয়াটি ঠিক কেমন হবে এবং কীভাবে কাজ করবে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার করে খোলসা করেনি মেটা কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, প্ল্যাটফর্মে ধারাবাহিক কনটেন্ট গুছিয়ে সাজানোর চেষ্টা মেটার জন্য এটাই প্রথম নয়; এর আগে ২০২০ সালেও ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে ইনস্টাগ্রামে ‘গাইডস’ নামের একটি ফিচার চালু করেছিল তারা। তবে বর্তমান সময়ে রিলসের ব্যাপক জনপ্রিয়তার যুগে এই ‘সিরিজ’ ফিচারটি ক্রিয়েটর ইকোনমি বা কনটেন্ট নির্মাতাদের উপার্জনের ক্ষেত্রে নতুন ও ইতিবাচক হাওয়া দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে বড় ভাই ওমর হাদির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে

সোশাল মিডিয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৩ ২১:৩৯:০৭
শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে বড় ভাই ওমর হাদির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে
ছবি : সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতি ও ভুক্তভোগী পরিবারটির অভ্যন্তরীণ বলয়ে তীব্র পাল্টাপাল্টি বিতর্ক ও ব্যক্তিগত অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে খোদ নিহত ওসমান হাদির আপন বড় ভাই শরীফ ওমর হাদির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে জোরালো সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এই খুনের ঘটনার পর থেকে আইনি তদন্তের সমান্তরালে রাজনৈতিক অঙ্গনেও এক নতুন নাটকীয় মোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে বলেন, শরীফ ওসমান হাদির এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর আর্থিক ও পেশাগতভাবে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন তাঁর বড় ভাই ওমর হাদি। তিনি তথ্যপ্রমাণ উল্লেখ করে দাবি করেন, ওসমান হাদির মৃত্যুর পর অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওমর হাদি লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে একটি বিশেষ সুবিধাজনক ও আকর্ষণীয় বা ‘লুকরেটিভ’ পদে চাকরি বাগিয়ে নিয়েছেন।

ফারুক হাসান রাজনৈতিক দূরদর্শিতার জায়গা থেকে প্রশ্ন তোলেন, ওমর হাদি যদি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য আসলেই মনে-প্রাণে দায়ী মনে করতেন, তবে তিনি কেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনেই লন্ডনে এই বিশেষ কূটনৈতিক পদে নিয়োগ গ্রহণ করলেন? এই চরম বৈপরীত্যের কারণে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনে ওমর হাদিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

এর ঠিক আগের দিন, মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে ওমর হাদি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দুটি পৃথক পোস্টের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল নকশাকারী হিসেবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কয়েকজন প্রভাবশালী উপদেষ্টা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের দিকে সরাসরি আঙুল তোলেন।

তিনি তাঁর পোস্টে অভিযোগ করেন যে, নিহত শহীদ ওসমান হাদিকে ঢাকা-৮ নির্বাচনী এলাকা থেকে রাজনৈতিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে ক্রমাগত ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল এবং এই ষড়যন্ত্রের সাথে খোদ আমিরে জামায়াতের একজন ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি বর্তমান প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে লেখেন যে, হাদি হত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার করতে ব্যর্থ হলে সরকার প্রধানকেও ব্যক্তিগতভাবে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক হুমকির মুখে পড়তে হতে পারে।

প্রাসঙ্গিক তথ্য ও সরকারি নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ওমর বিন হাদিকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে ‘দ্বিতীয় সচিব’ পদে সম্পূর্ণ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করেছিল। বর্তমানে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের চেয়ে দুই পক্ষের এই ধরনের তীব্র পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি ও চাঞ্চল্যকর পারিবারিক অভিযোগের বিষয়টি সাধারণ জনমনে গভীর কৌতূহল, রহস্য এবং চরম রাজনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


মহিষটির চুল দারুণ! ট্রাম্পের নামে ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশটের আসল সত্য ফাঁস

সোশাল মিডিয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৫ ১২:২৫:১৮
মহিষটির চুল দারুণ! ট্রাম্পের নামে ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশটের আসল সত্য ফাঁস
ছবি : সংগৃহীত

আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে নামকরণ করা নারায়ণগঞ্জের রাবেয়া এগ্রো ফার্মের অ্যালবিনো (সাদা) জাতের মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রকাণ্ড ও বিরল এই মহিষটিকে নিয়ে রয়টার্স এবং দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোও বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে এই আন্তর্জাতিক উন্মাদনার মাঝেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিভ্রান্তিকর ও ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের সম্পৃক্ততার দাবি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এর একটি স্ক্রিনশট ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। ওই স্ক্রিনশটে দাবি করা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই বাংলাদেশের এই ভাইরাল মহিষটিকে নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে ট্রাম্পের বরাতে লেখা ছিল— ‘বাংলাদেশে আমার নামে একটি মহিষ রয়েছে, মহিষটির চুল দারুণ, হয়তো আমার চেয়েও ভালো।’

এই স্ক্রিনশটটি ব্যবহার করে বিশেষ করে ভারতীয় ফেসবুক পেজ ‘প্রথম কলকাতা’ একটি পোস্ট শেয়ার করে, যেখানে দাবি করা হয় যে ট্রাম্প মহিষটির প্রশংসা করেছেন এবং বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। মুহূর্তের মধ্যে পোস্টটি হাজার হাজার লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারের বন্যায় ভেসে যায়।

তবে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ফ্যাক্টচেকিং বা তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘রিউমার স্ক্যানার’ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট থেকে এই ধরনের কোনো পোস্ট কখনোই করা হয়নি। ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশটটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও এডিটেড (ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি)।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের এই মহিষটিকে নিয়ে যে সাড়া পড়েছিল, সেই বাস্তব ঘটনাকে পুঁজি করে কোনো চক্র ট্রাম্পের নামে এই ভুয়া পোস্টের স্ক্রিনশট তৈরি করে নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছে। মূলত, মহিষটির আন্তর্জাতিক খ্যাতি সত্য হলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটি নিয়ে পোস্ট করার দাবিটি সম্পূর্ণ গুজব।

/আশিক


মেয়র হতে চান নীলা ইসরাফিল: ঢাকা দক্ষিণের নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মুখ

সোশাল মিডিয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ১০:৩৭:৫৩
মেয়র হতে চান নীলা ইসরাফিল: ঢাকা দক্ষিণের নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মুখ
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী নীলা ইসরাফিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি নির্বাচনী পোস্টার শেয়ার করে তিনি এই ঘোষণা দেন। তাঁর এই আকস্মিক ঘোষণা ঢাকা দক্ষিণ সিটির রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে নীলা ইসরাফিল উল্লেখ করেন যে, সবার ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়েই তিনি মেয়র পদে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি তাঁর পোস্টে বলেন, "আমি বিশ্বাস করি একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা আমাদের অধিকার।" একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার অঙ্গীকার করে তিনি নগরবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন। এনসিপির সাবেক এই নেত্রীর নির্বাচনী মাঠে নামার সিদ্ধান্ত ডিএসসিসি নির্বাচনে নতুন কোনো মেরুকরণ তৈরি করে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে গুঞ্জন।

নীলা ইসরাফিলের এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর অনুসারীরা সাধুবাদ জানাচ্ছেন। পরিচ্ছন্ন এবং নিরাপদ নগরী গড়ার যে স্বপ্ন তিনি দেখিয়েছেন, তা সাধারণ ভোটারদের কতটা আকৃষ্ট করতে পারে এখন সেটিই দেখার বিষয়। ডিএসসিসি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই তাঁর এই প্রচারণামূলক পোস্টার রাজনৈতিক অঙ্গনে আগাম নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে।

/আশিক


ফেসবুক পেজ নিয়ে ডাকসু ভিপি ও ছাত্রদল নেতার পাল্টাপাল্টি তোপ: উত্তাল ঢাবি

সোশাল মিডিয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৬ ১০:১০:৫০
ফেসবুক পেজ নিয়ে ডাকসু ভিপি ও ছাত্রদল নেতার পাল্টাপাল্টি তোপ: উত্তাল ঢাবি
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান। ছবি: কোলাজ ইত্তেফাক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খানের মধ্যে শুরু হওয়া ‘পেজ পলিটিক্স’ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এখন টক অব দ্য ক্যাম্পাসে পরিণত হয়েছে।

একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে আবিদুল ইসলাম খান সরাসরি সাদিক কায়েমের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারী ফেসবুক পেজ নিয়ন্ত্রণ ও অর্থায়নের অভিযোগ তোলার পর, শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর কড়া জবাব দিয়েছেন ডাকসু ভিপি।

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম তাঁর ফেসবুক পোস্টে আবিদুলের অভিযোগকে ‘সংঘবদ্ধ অ্যাকটিভিজম’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, দেশের চলমান সংকট, ছাত্রদলের অপকর্ম এবং ক্যাম্পাস দখলের অপতৎপরতা আড়াল করতেই তাঁর বিরুদ্ধে এই পরিকল্পিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি লিখেছেন, সরকার ও ছাত্রদল মিলে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ রোধ করতে চায় এবং ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

আবিদুল ইসলাম খান অভিযোগ করেছিলেন যে, সাদিক কায়েম ‘ডিইউ ইনসাইডার্স’ (DU Insiders) নামক পেজ দিয়ে অন্যদের হেনস্তা করছেন। প্রমাণ হিসেবে তিনি সাদিকের একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেন।

এর জবাবে সাদিক কায়েম জানান, ওই পেজের অ্যাডমিন তাঁর হলের ছোট ভাই এবং ওমরায় থাকাকালীন তিনি সৌজন্যবশত অনেককেই মেসেজ দিয়েছিলেন, যার মধ্যে স্বয়ং আবিদুলও ছিলেন। সাদিক আরও দাবি করেন, ‘ডিইউ ইনসাইডার্স’ নামে হুবহু আরেকটি নকল পেজ খুলে ডাকসু প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেই অশালীন পোস্ট করা হয়েছিল, যার বিরুদ্ধে তাঁরা আগেই অভিযোগ জানিয়েছিলেন।

সাদিক কায়েম তাঁর পোস্টে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ প্রোপাগান্ডা পেজ চালানোর অভিযোগ আনেন। তিনি ‘ডিপার্টমেন্ট অব বাকশাল’, ‘ডাকসু কণ্ঠস্বর’ (বর্তমান দ্য ডেইলি ডাকসু), ‘কাঁঠেরকেল্লা’, ‘লন্ডন বিডি টিভি’সহ বেশ কয়েকটি পেজের নাম উল্লেখ করে বলেন, এআই দিয়ে ভুয়া ছবি বানিয়ে এবং বিকৃত প্রচারণা চালিয়ে তাঁদের হয়রানি করা হচ্ছে।

তিনি ছাত্রদলের বিরুদ্ধে সারা দেশে ধর্ষণ, হত্যা, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং ডাকসু প্রতিনিধিদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা এসব অন্যায়ের উপযুক্ত জবাব দেবে।

/আশিক


আওয়ামী প্রশ্ন: নিষিদ্ধের রাজনীতি নাকি ফ্যাসিবাদী কাঠামোর ব্যবচ্ছেদ?

শামসুল আরেফীন
শামসুল আরেফীন
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও গবেষক
সোশাল মিডিয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১০ ১৮:০২:৫৬

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ করার আইন সংসদে পাস হয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল; এখন সেই অধ্যাদেশ বহাল রেখে সেটিকে আইনে রূপ দেওয়া হলো। এই সিদ্ধান্ত ভালো না খারাপ—তা নিয়ে ফেসবুকে দুই ধরনের আলোচনা চোখে পড়ছে। একপক্ষ বলছে, কোনো রাজনৈতিক দলকে এভাবে আইন করে নিষিদ্ধ করা যায় না; জনগণই ঠিক করবে কোন দল রাজনীতি করবে। অন্যপক্ষের যুক্তি, আওয়ামীলীগ একটি সন্ত্রাসী সংগঠনে পরিণত হয়েছে, জুলাইয়ের গণহত্যার সঙ্গে জড়িত, এবং রাষ্ট্রের জন্য নিরাপত্তা হুমকি—তাহলে এমন একটি দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম কি চলতে দেওয়া উচিত?

এই দুই বিতর্কের মধ্য দিয়ে আমি আসলে “আওয়ামীলীগ প্রশ্ন”টিকে খতিয়ে দেখতে চাই। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে এই দলটি নিষিদ্ধ হয়েছে—পাকিস্তান আমলে যেমন হয়েছে, তেমনি স্বাধীনতার পরেও, বিশেষ করে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের পর শেখ মুজিব বাকশাল প্রতিষ্ঠার সময় নিজেই দলটিকে বিলুপ্ত করেন। পরে জেনারেল জিয়ার আমলে বহুদলীয় রাজনীতি পুনরায় চালু হলে জামায়াতে ইসলাম, আওয়ামীলীগসহ বিভিন্ন দল আবার রাজনীতিতে ফিরে আসে। বাস্তবতা হলো—গণহত্যার সহযোগী অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও জামায়াতে ইসলাম আজও বাংলাদেশের রাজনীতিতে টিকে আছে এবং সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকাও পালন করছে।

অন্যদিকে, আওয়ামীলীগ শুরু থেকেই মুসলিম লীগের একটি বিকল্প রাজনৈতিক ধারা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে—প্রথমে “আওয়ামী মুসলিম লীগ” হিসেবে, যেখানে কিছুটা উদারপন্থা ও মুসলিম পরিচয়ের সমন্বয় ছিল। ১৯৬০-এর দশকে তাদের রাজনীতির কেন্দ্রে আসে “বাঙালি জাতীয়তাবাদ”, যা মুসলিম জাতীয়তাবাদের একটি পাল্টা প্রস্তাব হিসেবে হাজির হয়। পরবর্তীতে এই জাতীয়তাবাদ আরও সেকুলার চরিত্র ধারণ করে এবং ঠান্ডা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ—এসব ধারণা এতে যুক্ত হয়। ফলে শহুরে মধ্যবিত্ত ও বুদ্ধিজীবী শ্রেণির মধ্যে দলটি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পায়, যার ধারাবাহিকতা ৯০-এর পরেও দেখা যায়। এমনকি অনেক বুদ্ধিজীবী “ইসলামিস্টদের দমন” করার যুক্তিতে “মৃদু ফ্যাসিবাদ” মেনে নেওয়ার কথাও বলেছেন। দেশে শক্তিশালী বাম রাজনীতির অভাবে বামপন্থী অনেক রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবে আওয়ামীলীগের ওপরই নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।ফলে আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ করার প্রশ্নটি কেবল রাজনৈতিক নয়, অনেকাংশে সাংস্কৃতিকও। অনেক শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীকে বলতে শুনেছি—আওয়ামীলীগ না থাকলে বাম রাজনীতির নেতৃত্ব কে দেবে? বিএনপি, জামায়াত কিংবা এনসিপি—এরা সবাই ডান বা মধ্যপন্থী। বামের এই শূন্যতা কে পূরণ করবে? লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এত অন্যায়, দমন-পীড়ন, হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিচার শুরুর আগেই অনেকেই দলটিকে রাজনীতিতে দেখতে চান—দলের স্বার্থে নয়, বরং নিজেদের সেকুলার-লিবারাল আকাঙ্ক্ষার কারণে।

কিন্তু এই আলোচনায় খুব কমই উঠে আসে যে, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই “আওয়ামী প্রশ্ন”টি এক অর্থে অকার্যকর হয়ে গেছে। এই অভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ছিল না; বরং একটি ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিরুদ্ধে, যার ভিত্তি ছিল—(১) আওয়ামীলীগ একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে, (২) উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদ, এবং (৩) মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনৈতিক ব্যবহার। এই তিনটির সম্মিলিত প্রয়োগে একটি শক্তিশালী ন্যারেটিভ তৈরি হয়েছিল—“উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্র বিসর্জন দেওয়া গেলেও আওয়ামীলীগ দরকার।” বাস্তবে এই ন্যারেটিভের আড়ালে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে—শাপলা চত্বর, মোদীবিরোধী আন্দোলন, গুম-খুন, জেল-জুলুম, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড—সবই তার উদাহরণ। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শুধু একজন নেতাকে নয়, বরং পুরো একটি ক্ষমতাকাঠামোকেই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে দলটিকে আবার রাজনীতিতে আনার দাবি অনেকের কাছে মানবিক বিবেচনার পরিপন্থী বলে মনে হয়।

এখানে এসে প্রশ্নটি আরও বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে দেখা দরকার—গণঅভ্যুত্থানের পরে রাষ্ট্র ও রাজনীতির সাথে কী ঘটে? ইতিহাস বলছে, কোনো বিপ্লব বা গণআন্দোলনের পরই “পুরনো শক্তি”কে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সেটিই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও নৈতিক সংকট। French Revolution-এর পর জ্যাকোবিনরা পুরনো শাসকশ্রেণিকে সম্পূর্ণ নির্মূল করতে গিয়ে “Reign of Terror” শুরু করে—যেখানে ন্যায়বিচার ও প্রতিশোধের সীমারেখা ভেঙে যায়। আবার Russian Revolution-এর পর বলশেভিকরা “counter-revolutionary” শক্তিকে দমন করতে গিয়ে একদলীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে, যা শেষ পর্যন্ত নতুন ধরনের স্বৈরতন্ত্রে রূপ নেয়। অন্যদিকে South African transition from apartheid দেখায় ভিন্ন পথ—যেখানে “Truth and Reconciliation Commission”-এর মাধ্যমে বিচার ও পুনর্মিলনকে একসাথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।রাজনৈতিক তত্ত্বের দিক থেকেও এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। Hannah Arendt দেখিয়েছেন, টোটালিটারিয়ান বা ফ্যাসিস্ট কাঠামো কেবল একটি দল বা নেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি একটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা তৈরি করে। ফলে সেই কাঠামো ভাঙতে গেলে শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, তার আইডিওলজিকাল ভিত্তিকেও প্রশ্ন করতে হয়। আবার Carl Schmitt-এর “friend–enemy distinction” তত্ত্ব আমাদের দেখায়—রাজনীতি প্রায়ই নিজেকে টিকিয়ে রাখতে “শত্রু” নির্ধারণ করে। বিপ্লব-পরবর্তী পরিস্থিতিতে এই শত্রু নির্ধারণ আরও তীব্র হয়ে ওঠে, যা গণতান্ত্রিক সম্ভাবনাকে সংকুচিত করতে পারে। অপরদিকে John Rawls-এর লিবারাল তত্ত্ব বলবে—ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করে কোনো দলকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হলে তা দীর্ঘমেয়াদে ন্যায়সঙ্গত রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাধা হতে পারে।

তাহলে আওয়ামীলীগকে আমরা কীভাবে দেখবো? আমার কাছে এই দলটি আর কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়; বরং একটি উগ্রপন্থী সংগঠনে রূপান্তরিত হয়েছে। অভ্যুত্থানের পর তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা-কর্মী উগ্রপন্থী আচরণে জড়িয়ে পড়েছে। তারা কোথা থেকে পরিচালিত হচ্ছে, কারা তাদের সমর্থন দিচ্ছে, কীভাবে তারা জনতার আন্দোলনকে ফ্রেম করছে—এসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। হাজারো মৃত্যুর পরও তাদের ভেতর থেকে অনুশোচনা বা দায় স্বীকারের কোনো লক্ষণ কি আমরা দেখেছি?

ধরা যাক, একই ধরনের কার্যক্রম অন্য কোনো সংগঠন—যেমন “হিজবুত তাওহীদ”—করত, তাহলে কি আমরা তাদের নিষিদ্ধ করার দাবি তুলতাম না? কিংবা যদি জামায়াতে ইসলাম এই ধরনের সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকত, তখন সিভিল সোসাইটির প্রতিক্রিয়া কী হতো? বাস্তবে, অনেক ক্ষেত্রে প্রমাণ ছাড়াই বা আংশিক অভিযোগে দল নিষিদ্ধ হয়েছে, এবং সেসব সিদ্ধান্তও নীরবে মেনে নেওয়া হয়েছে। এখানেই লিবারালিজমের ভেতরের দ্বৈততা স্পষ্ট হয়—লিবারালিজম সবসময় অন্তর্ভুক্তির কথা বললেও, বাস্তবে অনেক সময় বর্জনের মধ্য দিয়েই তা কাজ করে।

এখন আরও একটি প্রশ্ন আসে—“ডি-ফ্যাসিস্টিফিকেশন” বা “ডি-অথরিটারিয়ানাইজেশন” কীভাবে সম্ভব? Denazification-এর অভিজ্ঞতা দেখায়, শুধু একটি দল নিষিদ্ধ করলেই হয় না; শিক্ষা, বিচার, মিডিয়া—সবকিছুতে একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তর প্রয়োজন। একইভাবে পূর্ব ইউরোপে কমিউনিস্ট শাসনের পতনের পর “lustration laws” এর মাধ্যমে পুরনো শাসনের সহযোগীদের ভূমিকা যাচাই করা হয়েছে। এসব উদাহরণ আমাদের শেখায়—বিচার, স্মৃতি, এবং পুনর্গঠন—এই তিনটি একসাথে না হলে কোনো রূপান্তরই টেকসই হয় না।

তাহলে আওয়ামীলীগের রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী? ৫ আগস্টের মধ্য দিয়েই নৈতিকভাবে দলটির বৈধতা অনেকাংশে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। এখন প্রশ্ন থাকে আইনি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার। আমার মতে, প্রথম কাজ হওয়া উচিত ছিল দল হিসেবে আওয়ামীলীগের বিচার নিশ্চিত করা—প্রমাণের মাধ্যমে দেখানো যে এটি একটি ফ্যাসিস্ট কাঠামোতে পরিণত হয়েছে। এরপর আসবে তাদের সমর্থক ও কর্মীদের প্রশ্ন। কোনো কার্যকর রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া ছাড়া তাদের সঙ্গে ন্যায়বিচার করা সম্ভব নয়।

তাহলে কি আমি এই অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি? আমার অবস্থান পরিষ্কার। সন্ত্রাসবিরোধী আইন মূলত “ওয়ার অন টেরর” প্রেক্ষাপটে তৈরি, এবং এর ভেতরে গুরুতর মানবাধিকার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই আইনকে ভিত্তি করে এমন সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। বরং এই আইনটি পুনর্বিবেচনা বা বাতিল করা উচিত, এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-এর মতো প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা দরকার।

সবশেষে কী দাঁড়ায়? সরকারের প্রধান কাজ হওয়া উচিত আওয়ামীলীগের বিচার নিশ্চিত করা। সেইসঙ্গে একটি কার্যকর রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া তৈরি করা জরুরি। বিচার, জবাবদিহি এবং প্রয়োজনে ক্ষমার কাঠামো প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামীলীগকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক দল হিসেবে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া উচিত কি না—সেই প্রশ্নে আমি অন্তত সমর্থন দিতে পারি না।ধন্যবাদ।

লেখকের Social media link:https://www.facebook.com/shamsul.arefin.33046


মুক্তির দাবি ঠিক, কিন্তু অনলাইন আক্রমণ কে থামাবে?

ড. বাতেন মোহাম্মদ
ড. বাতেন মোহাম্মদ
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও গবেষক
সোশাল মিডিয়া ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ১৩:০৯:৩৯

জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা জনাব ডা: শফিকুর রহমান একজন জামায়াত কর্মীর গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়েছেন। সওদা বেগম নামে এই কর্মী যে জামায়াতের ছিলো, সেটা আমিরে জামায়াতের পোষ্টের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো। একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে নিন্দা আমিও জানিয়েছি। শুধু আমি না, জামায়াতের রাজনীতি করে না এমন হাজার হাজার মানুষ নিন্দা জানিয়েছে। সওদা বেগমের মুক্তি দাবী করেছে। ফেয়ার এনাফ- আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রীয় যেকোন নিপীড়নের বিপক্ষে। কিন্ত সওদা বেগমের অনলাইন প্রোফাইল ঘুরে আসলে আমাদের সামনে যে চিত্র ভেসে আসে সেটা একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক কর্মীর না। বিকৃত রুচীর ফটোকার্ড শেয়ার, মিথ্যা তথ্য প্রচার সহ নানা এক্টিভিটি দেখা যায়।

অনলাইনে জামায়াতের বট আর্মির আক্রমন, গালাগালি, ব্যক্তি আক্রমন, চরিত্র হরণ, অনলাইন স্পেস কে টক্সিক বানানোর অভিযোগ নতুন না।।কিন্ত জামায়াত দলীয় ভাবে কখনো সেটা স্বীকার করে নি। এইসব বট আইডি যে ভিন্নমতকে দমনের ও সোশ্যালি ভিলিফাই করার একটা ঘৃণ্য অস্ত্র ছিলো সেটা আমাদের রাজনৈতিক পরিবেশকে কি পরিমান নষ্ট করেছে সেটা সচেতন মহল মাত্রই ওয়াকিবহাল।আমরা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দমন পীড়ন যেমন চাই না, তেমনি অনলাইনে চরিত্র হরণ, প্রোপাগান্ডাও চাই না। সেটাও কম দমন পীড়ন নয়। যে এই আক্রমনের শিকার হয় সেই জানে- এটার অসহনীয় যন্ত্রনা কি? জামায়াতের আমীরের উনার কর্মীর গ্রেফতার নিয়ে যে অবস্থান, সেই একই অবস্থান দেখতে চাই উনাদের কর্মীদের অনলাইনে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন এবং অর্গানাইজড হেইট ক্রাইম কন্ট্রোলে।

ফ্যাসিবাদ শুধু একটা রাষ্ট্রীয় প্রকল্প না। ফ্যাসিবাদ একটা সামাজিক ও রাজনৈতিক টুল ও। জামায়াতের বট আর্মিকে নিয়ন্ত্রন করতে না পারলে নিরাপদ সাইবার স্পেস গড়ার যে প্রচেষ্টা -সেটা বাধা গ্রস্ত হবে।এই অনলাইন আক্রমন হয়তো সব দলই করে তবে জামায়াতের এই স্ট্রাটেজি সবচেয়ে অর্গানাইজড ও ভয়াবহ সেটা অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। আর সওদা বেগমকে জামায়াত কর্মী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে আমীর সাহেব ও স্বীকার করে নিলেন অনলাইনে এইসব ফটোকার্ড যারা বানায় এবং শেয়ার করে তাদের বড় একটা অংশ ( সবচেয়ে সবচেয়ে অর্গানাইজড) জামায়াত কর্মী কিংবা সমর্থক।সওদা বেগমের শেয়ার করা অনেক পোষ্টই রুচিহীন ও মানহানিকর। এইগুলো জামায়াত প্রকাশ্যে -যে সৎ লোক ও মেধাবী বলে সামাজিক অবস্থান নেয়- সেটার সাথে সামঞ্জস্য পূর্ন না। এর অর্থ তাদের রাজনীতি ডাবল ফেসড। যে কর্মী প্রকাশ্যে সালাম দিয়ে হৃদ্যতা দেখায়, সেই অনলাইনে পরিচয় গোপন করে দলীয় স্বার্থে গালাগালি করে, ঘৃণা ছড়ায়। এই ডাবল স্টান্ডার্ড থেকে বেরিয়ে আসার এই সুযোগ জামায়াত দলীয় ভাবে নেয়া উচিত।

দেশটা আমাদের। সমাজটাও আমাদের। সরকারের যেমন দায়িত্ব আছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখার, তেমনি আমাদের ও দায়িত্ব মত প্রকাশের নামে মিথ্যা ও ঘৃণা না ছড়ানো। আমি সওদা বেগমের মুক্তি চাই। একই সাথে জামায়াতের ( অন্যান্য দলের ও কম বেশি আছে) এই বট বাহিনীর যে নোংরা স্ট্রাটেজি দিনের পর দিন সমাজকে ঘৃণার বোমায় পরিণত করতে কাজ করছে সেখান থেকে সরে আসার শুভ বুদ্ধির উদয় হোক- এমন প্রত্যাশা করি।

আমীরে জামায়াত নিজে উদ্যোগ নিয়ে উনার কর্মী সমর্থকদের এইসব মিস ইফরমেশন, ডিসইনফরমেশন ক্যাম্পেইনের ব্যাপারে সাবধান করবেন বলে আশা করি। যেহেতু অন্যদল গুলো থেকে জামায়াত অনেক বেশি অর্গানাইজড ও দলীয় সিদ্ধান্তেই সবকিছু হয় বলে সাধারণে একটা ধারণা প্রবল- তাই অনলাইনে বট আর্মির প্রাদুর্ভাব কমলে ভেবে নেব জামায়াত ভালো রাজনীতি করছে আর বাড়লে ভাববো দলটা মোনাফেকি আরো বেশি করছে।

পাঠকের মতামত: