ঘুম আসছে না? ৯টি সহজ অভ্যাসেই মিলবে গভীর ঘুম

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ২৯ ০৯:৫৬:৫০
ঘুম আসছে না? ৯টি সহজ অভ্যাসেই মিলবে গভীর ঘুম

ঘুম আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। এটি যেমন আরামের জন্য প্রয়োজন, তেমনি এটি শরীর ও মনের পুনর্গঠনের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াও বটে। প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম না হলে শরীরের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী, হরমোন নিঃসরণ, স্মৃতিশক্তি, আবেগীয় ভারসাম্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।

যেকোনো বয়সেই ভালো ঘুম আমাদের মানসিক স্থিতি, একাগ্রতা, সৃজনশীলতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। পক্ষান্তরে ঘুমের ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ভালো ঘুম শুধু একটি দৈনন্দিন অভ্যাস নয়, বরং সুস্থ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

১. ঘুমের নির্দিষ্ট রুটিন গড়ে তোলা

শরীরের সার্কেডিয়ান রিদম বা জৈব ঘড়ি একটি নির্দিষ্ট ছন্দে কাজ করে, যা আলো ও অন্ধকারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আমাদের ঘুম ও জাগরণের সময় নির্ধারণ করে। প্রতিদিন একই সময় ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের ঘড়িকে স্থিতিশীল করে তোলে।

অনিয়মিত রুটিন, বিশেষ করে ছুটির দিনে বেশি রাত করে ঘুমানো ও দেরি করে ওঠার ফলে ঘুমের ছন্দ বিঘ্নিত হয়, যা রাতের ঘুমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই প্রতিদিন একই রুটিন বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে।

২. ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে দূরে থাকুন

স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট বা টিভির মতো ডিভাইসগুলো থেকে নির্গত ব্লু লাইট (নীল আলো) মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণে ব্যাঘাত ঘটায়। এই হরমোন আমাদের ঘুম–জাগরণ চক্র নিয়ন্ত্রণে রাখে।

রাতের বেলা এসব ডিভাইস ব্যবহার করলে শরীর বুঝতে পারে না যে এখন বিশ্রামের সময়। ফলে ঘুম দেরিতে আসে এবং গভীর ঘুমের পরিমাণ কমে যায়। তাই শোবার অন্তত ৩০-৬০ মিনিট আগে সব স্ক্রিন বন্ধ করে দেওয়া, ফোন বিছানার বাইরে রাখা বা ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোডে রাখা অত্যন্ত কার্যকর।

৩. নিয়মিত ব্যায়াম অভ্যাস করুন

নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের স্ট্রেস হরমোন কমিয়ে দেয় এবং ঘুমের মান উন্নত করে। দিনে মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটা, হালকা দৌড়ানো বা সাইক্লিং করলে রাতে সহজে ঘুম আসে। সূর্যালোকের সংস্পর্শে থাকলে মেলাটোনিন নিঃসরণ সহজ হয়, তাই সকাল বা বিকেলে বাইরে ব্যায়াম করাই সবচেয়ে ভালো।

তবে রাতের দিকে ভারী ব্যায়াম না করাই ভালো। কারণ এতে দেহের উত্তেজনা ও তাপমাত্রা বেড়ে ঘুমে বিঘ্ন ঘটে। রাতে হালকা যোগব্যায়াম বা স্ট্রেচিং ভালো বিকল্প হতে পারে।

৪. ক্যাফেইন ও অন্যান্য উদ্দীপক উপাদান এড়িয়ে চলুন

ক্যাফেইন একটি শক্তিশালী স্নায়ু উদ্দীপক। এটি কফি, চা, চকোলেট, কিছু সফট ড্রিংক এবং ওষুধে পাওয়া যায়। ক্যাফেইন গ্রহণের পর ৩ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত এটি শরীরে সক্রিয় থাকে, এমনকি কারো ক্ষেত্রে ১০ ঘণ্টাও।

যাদের ঘুমের সমস্যা আছে, তাদের বিকেল ৩টার পর থেকে ক্যাফেইন পরিহার করাই শ্রেয়। বিকল্প হিসেবে হারবাল চা, উষ্ণ দুধ বা ক্যাফেইনমুক্ত পানীয় গ্রহণ করা যেতে পারে।

৫. ঘুমের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করুন

ঘুমের ঘর যেন শান্ত, শীতল, অন্ধকার এবং পরিষ্কার হয়, সেদিকে নজর দেওয়া উচিত। ঘরের তাপমাত্রা আদর্শভাবে ২০ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে ঘুমে সহায়ক হয়। নরম এবং আরামদায়ক বিছানা, বালিশ ও বিছানার চাদর ঘুমকে আরামদায়ক করে তোলে।

ঘুমের ঘরে মোবাইল ফোন, টিভি, উজ্জ্বল আলো, বড় শব্দ এসবের উপস্থিতি কমিয়ে আনতে হবে। প্রয়োজন হলে ইয়ারপ্লাগ, আই মাস্ক কিংবা ব্ল্যাকআউট পর্দা ব্যবহার করুন। কেউ কেউ হালকা গন্ধযুক্ত অ্যারোমাথেরাপি (যেমন ল্যাভেন্ডার) ব্যবহার করেও ভালো ঘুম পেতে পারেন।

৬. বিছানার ব্যবহার সীমিত রাখুন

মস্তিষ্কের জন্য বিছানা মানেই ঘুম এ সম্পর্কটি তৈরি করে দিতে হবে। কিন্তু যখন আপনি বিছানায় বসে মোবাইল ঘাঁটেন, টিভি দেখেন বা অফিসের কাজ করেন, তখন এই সম্পর্কটি দুর্বল হয়ে যায়। ফলে ঘুম আসতে বিলম্ব হয়।

শুধু ঘুম ও শারীরিক সম্পর্কের জন্যই বিছানা ব্যবহার করা উচিত। বই পড়ার অভ্যাস থাকলে সেটি বিছানায় না করে সোফায় বা পড়ার টেবিলে করার চেষ্টা করুন।

৭. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ দূর করার কৌশল শিখুন

চিন্তা ও উদ্বেগ ঘুমকে প্রতিনিয়ত ব্যাহত করে। ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত চিন্তা থেকে মন সরিয়ে আনতে কয়েকটি কার্যকর অভ্যাস গড়ে তুলুন। যেমন– দিনের শেষে সব দায়িত্ব ও দুশ্চিন্তা লিখে ফেলা। এভাবে মস্তিষ্ক ‘চিন্তার দায়’ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারে।

রিল্যাক্সেশন কৌশল যেমন ধ্যান (মেডিটেশন), গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, ধীর গতির মিউজিক কিংবা হালকা স্ট্রেচিং এসব ঘুমের আগে চাপমুক্ত থাকতে সাহায্য করে। রাতে স্ক্রিন দেখা এড়িয়ে চলা এবং ঘুমের আগে আত্মজিজ্ঞাসামূলক লেখালেখি (journaling)ও মনকে প্রশমিত করে।

৮. আলো ও অন্ধকারের সঠিক ব্যবহার

সকাল ও দিনের শুরুতে প্রাকৃতিক রোদ শরীরের জৈবঘড়িকে সজাগ করে তোলে। দিনে যত বেশি সময় আপনি আলোতে থাকবেন, শরীরের ঘুম ও জাগরণ চক্র তত ভালো কাজ করবে। তবে রাতের দিকে আলো কমিয়ে আনা জরুরি।

সন্ধ্যার পর ঘরের লাইট ডিম লাইটে বা হলুদ আলোয় পরিবর্তন করুন। মোবাইল, ল্যাপটপে ‘নাইট মোড’ চালু রাখুন। অপ্রয়োজনীয় লাইট, যেমন রান্নাঘর, বারান্দা বা করিডোরের লাইট বন্ধ রাখুন। যারা দিনের বেলায় ঘুমান, তাদের জন্য ব্ল্যাকআউট পর্দা বা চোখ ঢাকার মাস্ক ব্যবহার করা সহায়ক।

৯. শুধু ঘুম পেলে বিছানায় যান

ক্লান্তি বা ঘুম না এলে বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করাটা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। এটি মস্তিষ্ককে বিছানার সঙ্গে হতাশা ও চাপের সম্পর্ক শেখায়, যা ঘুম আরও কঠিন করে তোলে।

যদি ২০ মিনিটের মধ্যে ঘুম না আসে, তবে বিছানা ছেড়ে হালকা কোনো রিল্যাক্সিং কাজ করুন, যেমন নরম আলোতে বই পড়া, ধ্যান বা হালকা স্ট্রেচিং। ঘুম অনুভব হলে আবার বিছানায় ফিরে যান।

ভালো ঘুম জীবনের গুণগত মান উন্নয়নে অনস্বীকার্য ভূমিকা রাখে। এটি শুধু শারীরিক শক্তি ফিরিয়ে আনে না, বরং মানসিক সুস্থতা ও আবেগীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। যারা ঘুম নিয়ে অবহেলা করেন, তারা নিজের অজান্তেই শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যান।

তাই ঘুমকে প্রাধান্য দিন, ঘুমের পরিবেশ ঠিক করুন এবং ধাপে ধাপে সঠিক ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলুন। এটি আপনার কর্মক্ষমতা, মন-মেজাজ, সম্পর্ক এবং স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।


শীতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কেন বাড়ে? জানুন বাঁচার সহজ উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ২০:৪৩:০০
শীতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কেন বাড়ে? জানুন বাঁচার সহজ উপায়
ছবি : সংগৃহীত

শীতের ঝকঝকে সকাল, মোলায়েম রোদের ওম আর ধোঁয়া ওঠা গরম পানীয় আমাদের মনকে প্রফুল্ল করলেও, এই ঋতুটি শরীরের জন্য বিশেষ করে হৃদযন্ত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, আরামদায়ক এই আবহাওয়া অনেকের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়, বিশেষ করে যারা আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত। শীতকালে সাধারণ সর্দি-কাশি বা জ্বরের প্রাদুর্ভাব বাড়ার পাশাপাশি হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকিও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে সচেতন খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনে সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে এই প্রতিকূল সময়েও হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখা সম্ভব।

শীতকালে হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপের বৈজ্ঞানিক কারণ তাপমাত্রা কমে গেলে শরীরের অভ্যন্তরীণ উষ্ণতা বজায় রাখার জন্য রক্তনালিগুলো স্বাভাবিকের তুলনায় সংকুচিত হয়ে যায়। এর ফলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয় এবং হৃদযন্ত্রে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টির প্রবাহ ব্যাহত হয়। সংকুচিত নালির মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখতে হৃদপিণ্ডকে তখন অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। একই সাথে শীতল আবহাওয়া রক্তকে কিছুটা ঘন করে তোলে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে ধমনিতে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত হৃদরোগের সম্ভাবনাকে ত্বরান্বিত করে।

হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে ৫টি কার্যকর খাদ্য কৌশল

১. শীতের এই সময়ে খাদ্যের পুষ্টিমানের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিদিনের তালিকায় প্রচুর পরিমাণে রঙিন শাকসবজি, ফলমূল, গোটা শস্য এবং পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা জরুরি। সুষম খাবারের এই সমন্বয় কেবল হৃদযন্ত্রকে শক্তিশালীই করে না, বরং শরীরের সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এক নতুন স্তরে নিয়ে যায়।

২. সব ধরণের চর্বি শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। রান্নায় সরিষার তেলের পাশাপাশি চিনাবাদাম বা সূর্যমুখী তেলের মিশ্রণ ব্যবহার করলে মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট পাওয়া যায়, যা রক্তে এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া স্যামন বা সার্ডিনের মতো সামুদ্রিক মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রদাহ কমায়। নিরামিষভোজীদের জন্য আখরোট, চিয়া বীজ বা তিসি বীজ হতে পারে ফ্যাটি অ্যাসিডের চমৎকার উৎস।

৩. সাদা ভাত বা ময়দার তৈরি খাবারের বদলে বাদামি চাল, ওটস, বার্লি কিংবা কুইনোয়া বেছে নেওয়া হৃদযন্ত্রের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ। এসব গোটা শস্যে থাকা ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এতে থাকা বি ভিটামিন, ম্যাগনেসিয়াম ও আয়রন হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

৪. হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় বাদাম, আখরোট ও চিনাবাদামকে সুপারফুড বলা যেতে পারে। এতে থাকা আর্জিনিন উপাদান রক্তনালিতে নাইট্রিক অক্সাইড উৎপাদনে সহায়তা করে, যা রক্তনালিকে শিথিল করে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন এক মুঠো বাদাম নিয়মিত সেবন করলে হৃদযন্ত্র দীর্ঘকাল সুরক্ষিত থাকে।

৫. টমেটো ও লাল মরিচের লাইকোপিন কিংবা বেরি ও আঙুরের অ্যান্থোসায়ানিন রক্তনালিকে সুরক্ষিত রাখতে জাদুর মতো কাজ করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই রঙিন ফল ও সবজিগুলো শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমাতে সহায়ক। তাই সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের প্লেটের অন্তত অর্ধেক অংশ শাকসবজি দিয়ে পূর্ণ রাখা এবং নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত।

সচেতনভাবে খাবার বাছাই এবং নিজের শরীরের প্রতি সামান্য যত্নই পারে শীতের এই ঝুঁকি থেকে হৃদযন্ত্রকে নিরাপদ রাখতে। তাই এই শীতে উষ্ণতার পাশাপাশি আপনার হৃদপিণ্ডের সুস্থতার দিকেও সমান নজর দিন।


শীতের দাপটে সর্দি-কাশি? ৩টি জাদুকরী যোগাসনে মিলবে চিরস্থায়ী মুক্তি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ২০:২৯:২৪
শীতের দাপটে সর্দি-কাশি? ৩টি জাদুকরী যোগাসনে মিলবে চিরস্থায়ী মুক্তি
ছবি : সংগৃহীত

শীতকাল যেমন আমাদের জন্য উৎসব আর আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে, তেমনি এটি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য এক বড় ধরণের চ্যালেঞ্জিং সময়। এই ঋতুতে সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টের সমস্যা, বিভিন্ন ধরণের অ্যালার্জি কিংবা পুরোনো বাতের ব্যথায় ভোগা অনেকের জন্যই এক সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল ওষুধের ওপর নির্ভর করে কিংবা সাময়িক উপশমের জন্য বাজারের এনার্জি ড্রিংক পান করে দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা পাওয়া সম্ভব নয়। বরং প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় সুশৃঙ্খল সুস্থ থাকার অভ্যাস গড়ে তোলাই সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচার প্রধান ঢাল।

নিয়মিত যোগাসন ও সঠিক ব্যায়াম করলে আমাদের রক্তে শ্বেতকণিকার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যা বাইরে থেকে আসা ক্ষতিকর জীবাণুর বিরুদ্ধে শরীরের লড়াই করার ক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রম শরীরের বিপাক ক্রিয়া বা মেটাবলিজমকে উন্নত করে, যার ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যায়। নিচে শীতকালে শরীরকে ভেতর থেকে উষ্ণ ও সুস্থ রাখার জন্য তিনটি অত্যন্ত কার্যকর ও সহজ যোগাসনের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো—

১. উত্থান মণ্ডুকাসন (ফ্রেগ পোজ) এই আসনটি করার জন্য শুরুতে হাঁটু ভাঁজ করে পায়ের ওপর সোজা হয়ে বসুন। এরপর ধীরে ধীরে হামাগুড়ি দেওয়ার ভঙ্গিতে শরীরকে মাটির সমান্তরাল করুন এবং দুই পা দুই পাশে ছড়িয়ে দিন। খেয়াল রাখবেন যেন আপনার পিঠ, থুঁতনি, বুক এবং পেট মাটির সাথে লেগে থাকে। পুরো ভঙ্গিটি দেখতে অনেকটা ব্যাঙের মতো হবে। শুরুতে অন্তত ১০ সেকেন্ড এই ভঙ্গিতে স্থির থাকুন এবং ধীরে ধীরে সময় বাড়িয়ে ৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত নেওয়ার চেষ্টা করুন। দ্রষ্টব্য: এই আসনটি অত্যন্ত কার্যকর হলেও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য এটি নিষিদ্ধ।

২. উষ্ট্রাসন (ক্যামেল পোজ) প্রথমে ম্যাটের ওপর হাঁটু গেড়ে বসুন। এবার শরীরের উপরিভাগ ধীরে ধীরে পেছনের দিকে হেলিয়ে দিন এবং দুই হাত দিয়ে দুই পায়ের গোড়ালি মজবুতভাবে ধরুন। মাথাটি পেছনের দিকে আলতোভাবে ঝুলিয়ে দিন এবং পেট সামনের দিকে ঠেলে রাখুন। হাতের অবস্থান ঠিক রাখতে ডান হাতের বুড়ো আঙুলটি ডান গোড়ালির ভেতরে এবং বাকি আঙুলগুলো বাইরে রাখুন, বাঁ দিকেও একইভাবে করুন। এই ভঙ্গিতে থাকার সময় স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিন এবং পায়ের পাতা মাটির সাথে সমতল রাখুন।

৩. বৃক্ষাসন (ট্রি পোজ) মাটিতে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দুই হাতের তালু নমস্কারের ভঙ্গিতে বুকের কাছে আনুন। এরপর শরীরের ভারসাম্য বজায় রেখে ডান পায়ের হাঁটু ভাঁজ করুন এবং পায়ের পাতাটি বাঁ পায়ের উরুর ওপরের অংশে স্থাপন করুন। লক্ষ্য রাখুন যেন আপনার পিঠ একদম সোজা থাকে। এবার ধীরে ধীরে বুকের কাছে রাখা হাত জোড়াটি মাথার ওপর সোজা করে তুলুন। এই ভঙ্গিতে অন্তত ৩০ সেকেন্ড স্থির থাকার পর ২০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিন। এরপর পা পরিবর্তন করে পুনরায় একই পদ্ধতিতে আসনটি অনুশীলন করুন।

শীতের হাড়কাঁপানো বাতাসে শরীরকে সচল ও উষ্ণ রাখতে নিয়মিত এই ব্যায়ামগুলোর কোনো বিকল্প নেই। উত্থান মণ্ডুকাসন, উষ্ট্রাসন এবং বৃক্ষাসনের মতো সাধারণ কিন্তু শক্তিশালী আসনগুলো নিয়মিত চর্চা করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং শরীর যেকোনো সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত থাকে। মনে রাখবেন, সক্রিয় শরীরই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি। তাই এই শীতে ঘরোয়া যোগাসনের মাধ্যমে নিজেকে রাখুন ফিট ও সতেজ।


কোষ্ঠকাঠিন্যের মহৌষধ ইসুবগুল, পেট পরিষ্কার রাখার জাদুকরী উপায় জানুন

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ১১:৪০:৫৪
কোষ্ঠকাঠিন্যের মহৌষধ ইসুবগুল, পেট পরিষ্কার রাখার জাদুকরী উপায় জানুন
ছবি : সংগৃহীত

আধুনিক নাগরিক জীবনে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও কম পানি পানের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যার সমাধানে ‘প্ল্যান্টাগো ওভাটা’ নামক উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত ইসুবগুলের ভুসি বা সাইলিয়াম হাস্ক অত্যন্ত কার্যকর এবং নিরাপদ এক প্রাকৃতিক উপায়। মূলত এই উদ্ভিদের বীজ থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় এর বাইরের আবরণ বা ভুসি আলাদা করা হয়, যা উচ্চমাত্রার ফাইবার সমৃদ্ধ। প্রায় স্বাদহীন ও হালকা রঙের এই ভুসি পানিতে মেশালে দ্রুত ফুলে ওঠে এবং জেলের মতো পিচ্ছিল এক ধরণের গঠন তৈরি করে। তরল শোষণের এই অসামান্য ক্ষমতাই ইসুবগুলকে শরীরের জন্য বিশেষ উপযোগী করে তোলে।

ইসুবগুল মূলত অন্ত্রের ভেতরে গিয়ে পানি শোষণ করে মলের পরিমাণ বাড়ায় এবং একে নরম করে তোলে। ফলে কোনো ধরণের চাপ বা কষ্ট ছাড়াই মলত্যাগ সম্ভব হয়। এটি কেবল একটি রেচক বা ল্যাক্সেটিভ হিসেবেই কাজ করে না, বরং অন্ত্রের কোনো ক্ষতি না করে দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। সাধারণত রাতে ঘুমানোর আগে বা সকালে খালি পেটে এক থেকে দুই চা-চামচ ইসুবগুল এক গ্লাস কুসুম গরম পানি, দুধ অথবা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তবে মনে রাখা জরুরি, ইসুবগুল খাওয়ার পর সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে, অন্যথায় এটি আশানুরূপ ফল দেবে না।

ইসুবগুলের উপকারিতা কেবল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি নিয়মিত সেবনে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস ও অম্বলের সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে। এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, ইসুবগুল রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ খাদ্য কারণ এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ থাকতে এবং হজম প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে ইসুবগুল একটি নিরাপদ ও কার্যকর বন্ধু হিসেবে কাজ করে।


রোজ সকালে যে পানি খেলে ওজন কমবে ঝড়ের গতিতে

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ১১:৩৫:০৩
রোজ সকালে যে পানি খেলে ওজন কমবে ঝড়ের গতিতে
ছবি : সংগৃহীত

ওজন কমানোর দৌড়ে যারা শামিল হয়েছেন, তাদের কাছে দারচিনি একটি অত্যন্ত পরিচিত নাম। এটি কেবল রান্নার স্বাদ বাড়ায় না, বরং শরীরের বিপাক হার বৃদ্ধি করে দ্রুত মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। দারচিনিতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ত্বক সজীব রাখে এবং শরীরকে টক্সিনমুক্ত করে পরোক্ষভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, বাজারে পাওয়া সব দারচিনি সমান গুণসম্পন্ন নয়। সাধারণত ‘সিলন’ এবং ‘ক্যাসিয়া’—এই দুই প্রজাতির দারচিনি পাওয়া যায়। এর মধ্যে সিলন দারচিনি হালকা বাদামি ও মিষ্টি স্বাদের হয় এবং এটি শরীরের জন্য বেশি নিরাপদ। অন্যদিকে, গাঢ় রঙের ও ঝাল স্বাদের ক্যাসিয়া দারচিনিতে ‘কমারিন’ নামক যৌগের মাত্রা বেশি থাকে, যা অতিরিক্ত সেবনে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

দারচিনির পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ কৌশল অবলম্বন করা জরুরি। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ রান্না করার ফলে এই মসলার গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়, তাই রান্নার একেবারে শেষ দিকে এটি ব্যবহার করা উত্তম। যারা ওজন কমানোর জন্য দারচিনির পানীয় বা চা পান করেন, তাদের ক্ষেত্রে পানি খুব বেশি না ফুটিয়ে হালকা গরম পানিতে মসলাটি ভিজিয়ে রাখলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া বাজার থেকে কেনা গুঁড়ো দারচিনির চেয়ে গোটা দারচিনি কিনে বাড়িতে প্রয়োজনমতো পিষে নেওয়া বেশি কার্যকর। কারণ গুঁড়ো করে অনেকদিন রেখে দিলে এর ভেতরের এসেনশিয়াল অয়েল ও পুষ্টিগুণ হারিয়ে যায়।

সতর্কতা হিসেবে পুষ্টিবিদরা দিনে ১ থেকে ২ চা-চামচের বেশি দারচিনি না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। খাওয়ার অন্তত আধ ঘণ্টা আগে দারচিনির পানি পান করলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমে। তবে টানা এক মাস সেবনের পর কিছুদিন বিরতি দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে গরমকালে দারচিনি মেপে খাওয়া উচিত কারণ এটি শরীর গরম করে। এছাড়া যারা থাইরয়েড, উচ্চ রক্তচাপ বা হার্টের ওষুধের ওপর নির্ভরশীল, তাদের এই ঘরোয়া প্রতিকার শুরুর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক নিয়মে ও পরিমিত পরিমাণে দারচিনি সেবনই পারে আপনার ওজন কমানোর যাত্রাকে সহজ ও ফলপ্রসূ করতে।

সূত্র : আনন্দবাজার ডট কম


স্বপ্ন যখন আকাশছোঁয়া, সফল হতে এই ৫টি অভ্যাস আজই শুরু করুন

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৮ ১১:২২:০০
স্বপ্ন যখন আকাশছোঁয়া, সফল হতে এই ৫টি অভ্যাস আজই শুরু করুন
ছবি : সংগৃহীত

তরুণ পেশাজীবী ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য জীবনের বর্তমান সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময়েই ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ও স্বপ্নের ভিত্তি রচিত হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, একঘেয়ে রুটিন, আত্মবিশ্বাসের অভাব বা সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে অনেকের স্বপ্ন মাঝপথে থমকে যায়। বাস্তবতা হলো, সাফল্য প্রত্যেকের কাছে ভিন্ন এবং অন্যের অর্জনের সাথে নিজেকে তুলনা করা কেবল হতাশা বাড়ায়। এই অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে নিজের কাঙ্ক্ষিত জীবন যাপন করতে এবং দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পাঁচটি শক্তিশালী অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

প্রথমত, ডিজিটাল যুগের অফুরন্ত শেখার সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিয়মিত পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। এটি কেবল পাঠ্যবই বা সাহিত্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ইউটিউব ভিডিও, অনলাইন আর্টিকেল, গবেষণা বা ডকুমেন্টারি—সবই জ্ঞানের উৎস হতে পারে। প্রতিদিন নতুন কিছু শিখলে তা আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।

দ্বিতীয়ত, নিজের ছোট ছোট সাফল্যকে সম্মান করতে শিখতে হবে। অন্যের যাত্রার সাথে তুলনা না করে নিজের প্রতিটি ছোট অর্জন উদযাপন করলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি পাওয়া যায়।

তৃতীয়ত, স্বপ্ন বড় দেখতে হবে কিন্তু তা বাস্তবায়নে ছোট ছোট ও বাস্তবসম্মত ধাপে ভাগ করে পরিকল্পনা করতে হবে। প্রতিটি ছোট ধাপ পার হওয়াই আপনাকে আপনার মূল লক্ষ্যের কাছে নিয়ে যাবে।

চতুর্থ অভ্যাস হিসেবে কৃতজ্ঞ থাকার গুণটি অর্জন করা প্রয়োজন। কঠিন সময়েও জীবনের ভালো দিকগুলো খুঁজে বের করা এবং দিনশেষে অন্তত একটি বিষয়ের জন্য কৃতজ্ঞ হওয়া মানসিক প্রশান্তি ও শক্তি জোগায়।

সবশেষে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ভুল সিদ্ধান্তও অভিজ্ঞতার জন্ম দেয়, যা ভবিষ্যতে পরিপক্বতা আনে। জীবন এক রাতে বদলে যায় না, তবে নিয়মিত এই ভালো অভ্যাসগুলো দীর্ঘমেয়াদে একজন মানুষকে তাঁর কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে। আজই এই পরিবর্তন শুরু করলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব হবে আকাশচুম্বী।

সূত্র : Linked In


শীতে বারবার প্রস্রাবের বেগ: সাধারণ ঘটনা নাকি কিডনি রোগের সংকেত?

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ২০:২০:৫৭
শীতে বারবার প্রস্রাবের বেগ: সাধারণ ঘটনা নাকি কিডনি রোগের সংকেত?
ছবি : সংগৃহীত

শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের মধ্যেই বারবার প্রস্রাবের বেগ আসার প্রবণতা দেখা দেয়। সাধারণত এটি শরীরের একটি স্বাভাবিক অভিযোজন প্রক্রিয়া। ঠান্ডায় শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে রক্তনালী সংকুচিত হয় এবং কিডনিতে রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায়, ফলে প্রস্রাব তৈরির পরিমাণও বাড়ে। এছাড়া শীতে ঘাম কম হওয়ায় শরীরের অতিরিক্ত তরল প্রস্রাবের মাধ্যমেই বের হয়ে আসে। তবে এই পরিবর্তনগুলো সাময়িক হলেও সবসময় একে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের ক্ষেত্রে রাতের ঘনঘন প্রস্রাব কিডনির ওপর বাড়তি চাপের ইঙ্গিত হতে পারে। ঠান্ডায় রক্তনালী সঙ্কুচিত হয়ে রক্তচাপ বেড়ে গেলে কিডনি দুর্বল হতে শুরু করতে পারে। কিডনি যখন তার কার্যকারিতা হারায়, তখন প্রস্রাব ঘন করার ক্ষমতা কমে যায়, ফলে রাতে বারবার বাথরুমে যেতে হয়। এছাড়া যদি প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, থেমে-থেমে প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা দেখা দেওয়া কিংবা মুখ ও পা ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

যাদের পরিবারে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনি রোগের ইতিহাস আছে, তাদের জন্য এই সতর্কতা আরও বেশি জরুরি। শীত চলে যাওয়ার পরও যদি এই সমস্যা চলতে থাকে, তবে ইউরিন টেস্ট বা রক্তের ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনির অবস্থা যাচাই করে নেওয়া উচিত। মনে রাখবেন, কিডনির রোগ সাধারণত নীরবেই শরীরে বাসা বাঁধে, তাই প্রাথমিক লক্ষণগুলো চিনে রাখা সুস্থ থাকার প্রধান চাবিকাঠি।


সুস্থ থাকতে চায়ের সঙ্গে এই ৫ খাবারের বিচ্ছেদ জরুরি: আজই সতর্ক হোন

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ১৮:৫১:৩৬
সুস্থ থাকতে চায়ের সঙ্গে এই ৫ খাবারের বিচ্ছেদ জরুরি: আজই সতর্ক হোন
ছবি : সংগৃহীত

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো এক কাপ গরম চা। তবে চায়ের তৃপ্তি তখনই বিষাদে রূপ নিতে পারে, যখন এর সাথে ভুল কোনো খাবার যুক্ত হয়। চায়ের মধ্যে থাকা প্রাকৃতিকভাবে উপস্থিত ট্যানিন এবং অক্সালেট কিছু খাবারের পুষ্টিগুণ শুষে নিতে বাধা দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরে পুষ্টির অভাব ও হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

চায়ের সঙ্গে যা এড়িয়ে চলবেন

১. ডাল, গাঢ় রঙের শাক-সবজি কিংবা প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের আয়রন শোষণে চা বাধা দেয়। তাই এ জাতীয় খাবার খাওয়ার অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা পর চা পান করা নিরাপদ।

২. আমরা অনেকেই চায়ের সাথে সিঙ্গাড়া বা বেসনের চপ পছন্দ করি। কিন্তু এই ভারী ও চর্বিযুক্ত খাবার চায়ের উপাদানের সাথে মিশলে পেট ফোলা এবং বদহজমের কারণ হতে পারে।

৩.চায়ের সাথে টক জাতীয় ফল বা ফলের সালাদ খেলে পেটে তীব্র অ্যাসিডিটি এবং অস্বস্তি হতে পারে।

৪. ঠান্ডা দই বা পনির জাতীয় খাবারের সাথে গরম চা পেটের ভেতর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কাজ কমিয়ে দেয় এবং হজমে ব্যাঘাত ঘটায়।

৫.খুব ঝাল বা অ্যাসিডিক খাবার চায়ের সাথে মিশলে পাকস্থলীকে অতিরিক্ত উত্তেজিত করে তোলে, যা বুক জ্বালাপোড়া ও বদহজমের ঝুঁকি বাড়ায়।

চায়ের সঠিক উপকারিতা পেতে হলে এই খাবারগুলো থেকে চা পানকে আলাদা রাখা জরুরি। সামান্য সচেতনতাই আপনার প্রিয় পানীয়টিকে আরও স্বাস্থ্যকর করে তুলতে পারে।


শীতকালে বাংলাদেশের ভ্রমণের ৫ সেরা জায়গা:  ২০২৬ সালের ট্রাভেল গাইড

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ১১:৪৯:২৫
শীতকালে বাংলাদেশের ভ্রমণের ৫ সেরা জায়গা:  ২০২৬ সালের ট্রাভেল গাইড
ছবি : সংগৃহীত

শীতকালে বাংলাদেশ যেন তার রূপের ডালি সাজিয়ে বসে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের এই সময়ে পর্যটকদের জন্য বেশ কিছু নতুন নিয়ম এবং সুযোগ তৈরি হয়েছে। আপনার তালিকার ৫টি জায়গার বর্তমান অবস্থা ও বিশেষ আপডেটগুলো নিচে তুলে ধরা হলো

১. সেন্ট মার্টিন (বিশেষ আপডেট ২০২৬): এ বছর সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে কিছু কড়াকড়ি রয়েছে। সরকার ঘোষিত নিয়ম অনুযায়ী, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত পর্যটকরা দ্বীপে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। এরপর ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন ২ হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন না এবং জাহাজগুলো এখন সরাসরি কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া জেটি থেকে ছাড়ছে (টেকনাফ রুট আপাতত বন্ধ)। রাত্রিযাপনের জন্য আগেভাগে হোটেল বুকিং নিশ্চিত করা জরুরি।

২. কক্সবাজার: বিশ্বের দীর্ঘতম এই সৈকতে এখন ভিড় বেশি থাকলেও মেরিন ড্রাইভ দিয়ে হিমছড়ি বা ইনানী যাওয়া অনেক সহজ হয়েছে। ২০২৬ সালে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন সার্ভিস পর্যটকদের জন্য যাতায়াত আরও আরামদায়ক করে তুলেছে।

৩. সাজেক ভ্যালি ও রাঙামাটি: মেঘের রাজ্য সাজেকে এখন তীব্র শীত। সকালে কুয়াশার চাদরে ঢাকা সাজেক দেখতে হলে ভোরে ‘হেলিপ্যাড’ এলাকায় যাওয়া মিস করবেন না। রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে হাউস বোটের অভিজ্ঞতা এখন পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ।

৪. সিলেট ও শ্রীমঙ্গল: শীতের সকালে শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখির দেখা মিলছে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ভ্রমণে এখন গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বন্যপ্রাণী সুরক্ষায়।

৫. সুন্দরবন: ২০২৬ সালে সুন্দরবনে বোট সাফারি আরও আধুনিক হয়েছে। শীতকালে বাঘ বা হরিণের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। কটকা বা কচিখালী পয়েন্টে এখন পর্যটকদের জন্য বিশেষ ওয়াচ টাওয়ার সংস্কার করা হয়েছে।

ভ্রমণের জন্য কিছু প্রো-টিপস

ট্রাভেল পাস: সেন্ট মার্টিন যাওয়ার জন্য এখন সরকারি অনলাইন পোর্টাল থেকে ‘ট্রাভেল পাস’ বা কিউআর কোড সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক।

পাহাড়ি এলাকায় (সাজেক/বান্দরবান) তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে যেতে পারে, তাই ভালো মানের শীতের কাপড় সাথে রাখুন।


শীতেও ত্বক থাকবে মাখনের মতো নরম: জানুন জাদুকরী কিছু সহজ টিপস

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ১০:৫৮:২৭
শীতেও ত্বক থাকবে মাখনের মতো নরম: জানুন জাদুকরী কিছু সহজ টিপস
ছবি : সংগৃহীত

শীতের ঠান্ডা বাতাস আর কম আর্দ্রতা আপনার ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কেড়ে নিয়ে একে করে তোলে রুক্ষ ও নিস্প্রাণ। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় হিটার ব্যবহার করেন বা গরম পানিতে গোসল করেন, তাদের ত্বকের সুরক্ষা স্তর বা ব্যারিয়ার দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সঠিক নিয়ম মেনে চললে এই তীব্র শীতেও ত্বক রাখা সম্ভব প্রাণবন্ত ও সুস্থ।

শীতে ত্বকের সুরক্ষায় প্রধান করণীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতে সাধারণ সাবানের বদলে গ্লিসারিন বা অ্যালোভেরা সমৃদ্ধ মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করা উচিত। মুখ ধোয়া বা গোসলের পর ত্বক পুরোপুরি শুকানোর আগেই ঘন ময়েশ্চারাইজার (ক্রিম বা বাটার) লাগানো জরুরি, যা ত্বকের গভীরে আর্দ্রতা আটকে রাখে। অনেকে শীতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন না, যা ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। মেঘলা দিনেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের বার্ধক্য ত্বরান্বিত করে, তাই SPF ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার বাধ্যতামূলক।

খাদ্যাভ্যাস ও পোশাকের সতর্কতা কেবল বাইরে থেকে মাখলেই হবে না, ত্বক ভালো রাখতে ভেতর থেকেও পুষ্টি প্রয়োজন। শীতে তৃষ্ণা কম লাগলেও পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে এবং ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল যেমন কমলা বা মাল্টা ডায়েটে রাখতে হবে। এছাড়া খসখসে উলের কাপড় সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে এলে চুলকানি হতে পারে, তাই ভেতরে সুতির কাপড় পরা বুদ্ধিমানের কাজ। যদি ত্বক অতিরিক্ত ফেটে যায় বা জ্বালাপোড়া করে, তবে দেরি না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শীতের এই চ্যালেঞ্জ জয় করতে নিয়মিত যত্ন আর সচেতনতাই প্রধান চাবিকাঠি।

সূত্র : Valley Dermalotogy Specialists

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত