ঘুম আসছে না? ৯টি সহজ অভ্যাসেই মিলবে গভীর ঘুম

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ২৯ ০৯:৫৬:৫০
ঘুম আসছে না? ৯টি সহজ অভ্যাসেই মিলবে গভীর ঘুম

ঘুম আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। এটি যেমন আরামের জন্য প্রয়োজন, তেমনি এটি শরীর ও মনের পুনর্গঠনের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াও বটে। প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম না হলে শরীরের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী, হরমোন নিঃসরণ, স্মৃতিশক্তি, আবেগীয় ভারসাম্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।

যেকোনো বয়সেই ভালো ঘুম আমাদের মানসিক স্থিতি, একাগ্রতা, সৃজনশীলতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। পক্ষান্তরে ঘুমের ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ভালো ঘুম শুধু একটি দৈনন্দিন অভ্যাস নয়, বরং সুস্থ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

১. ঘুমের নির্দিষ্ট রুটিন গড়ে তোলা

শরীরের সার্কেডিয়ান রিদম বা জৈব ঘড়ি একটি নির্দিষ্ট ছন্দে কাজ করে, যা আলো ও অন্ধকারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আমাদের ঘুম ও জাগরণের সময় নির্ধারণ করে। প্রতিদিন একই সময় ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের ঘড়িকে স্থিতিশীল করে তোলে।

অনিয়মিত রুটিন, বিশেষ করে ছুটির দিনে বেশি রাত করে ঘুমানো ও দেরি করে ওঠার ফলে ঘুমের ছন্দ বিঘ্নিত হয়, যা রাতের ঘুমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই প্রতিদিন একই রুটিন বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে।

২. ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে দূরে থাকুন

স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট বা টিভির মতো ডিভাইসগুলো থেকে নির্গত ব্লু লাইট (নীল আলো) মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণে ব্যাঘাত ঘটায়। এই হরমোন আমাদের ঘুম–জাগরণ চক্র নিয়ন্ত্রণে রাখে।

রাতের বেলা এসব ডিভাইস ব্যবহার করলে শরীর বুঝতে পারে না যে এখন বিশ্রামের সময়। ফলে ঘুম দেরিতে আসে এবং গভীর ঘুমের পরিমাণ কমে যায়। তাই শোবার অন্তত ৩০-৬০ মিনিট আগে সব স্ক্রিন বন্ধ করে দেওয়া, ফোন বিছানার বাইরে রাখা বা ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোডে রাখা অত্যন্ত কার্যকর।

৩. নিয়মিত ব্যায়াম অভ্যাস করুন

নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের স্ট্রেস হরমোন কমিয়ে দেয় এবং ঘুমের মান উন্নত করে। দিনে মাত্র ৩০ মিনিট হাঁটা, হালকা দৌড়ানো বা সাইক্লিং করলে রাতে সহজে ঘুম আসে। সূর্যালোকের সংস্পর্শে থাকলে মেলাটোনিন নিঃসরণ সহজ হয়, তাই সকাল বা বিকেলে বাইরে ব্যায়াম করাই সবচেয়ে ভালো।

তবে রাতের দিকে ভারী ব্যায়াম না করাই ভালো। কারণ এতে দেহের উত্তেজনা ও তাপমাত্রা বেড়ে ঘুমে বিঘ্ন ঘটে। রাতে হালকা যোগব্যায়াম বা স্ট্রেচিং ভালো বিকল্প হতে পারে।

৪. ক্যাফেইন ও অন্যান্য উদ্দীপক উপাদান এড়িয়ে চলুন

ক্যাফেইন একটি শক্তিশালী স্নায়ু উদ্দীপক। এটি কফি, চা, চকোলেট, কিছু সফট ড্রিংক এবং ওষুধে পাওয়া যায়। ক্যাফেইন গ্রহণের পর ৩ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত এটি শরীরে সক্রিয় থাকে, এমনকি কারো ক্ষেত্রে ১০ ঘণ্টাও।

যাদের ঘুমের সমস্যা আছে, তাদের বিকেল ৩টার পর থেকে ক্যাফেইন পরিহার করাই শ্রেয়। বিকল্প হিসেবে হারবাল চা, উষ্ণ দুধ বা ক্যাফেইনমুক্ত পানীয় গ্রহণ করা যেতে পারে।

৫. ঘুমের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করুন

ঘুমের ঘর যেন শান্ত, শীতল, অন্ধকার এবং পরিষ্কার হয়, সেদিকে নজর দেওয়া উচিত। ঘরের তাপমাত্রা আদর্শভাবে ২০ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে ঘুমে সহায়ক হয়। নরম এবং আরামদায়ক বিছানা, বালিশ ও বিছানার চাদর ঘুমকে আরামদায়ক করে তোলে।

ঘুমের ঘরে মোবাইল ফোন, টিভি, উজ্জ্বল আলো, বড় শব্দ এসবের উপস্থিতি কমিয়ে আনতে হবে। প্রয়োজন হলে ইয়ারপ্লাগ, আই মাস্ক কিংবা ব্ল্যাকআউট পর্দা ব্যবহার করুন। কেউ কেউ হালকা গন্ধযুক্ত অ্যারোমাথেরাপি (যেমন ল্যাভেন্ডার) ব্যবহার করেও ভালো ঘুম পেতে পারেন।

৬. বিছানার ব্যবহার সীমিত রাখুন

মস্তিষ্কের জন্য বিছানা মানেই ঘুম এ সম্পর্কটি তৈরি করে দিতে হবে। কিন্তু যখন আপনি বিছানায় বসে মোবাইল ঘাঁটেন, টিভি দেখেন বা অফিসের কাজ করেন, তখন এই সম্পর্কটি দুর্বল হয়ে যায়। ফলে ঘুম আসতে বিলম্ব হয়।

শুধু ঘুম ও শারীরিক সম্পর্কের জন্যই বিছানা ব্যবহার করা উচিত। বই পড়ার অভ্যাস থাকলে সেটি বিছানায় না করে সোফায় বা পড়ার টেবিলে করার চেষ্টা করুন।

৭. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ দূর করার কৌশল শিখুন

চিন্তা ও উদ্বেগ ঘুমকে প্রতিনিয়ত ব্যাহত করে। ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত চিন্তা থেকে মন সরিয়ে আনতে কয়েকটি কার্যকর অভ্যাস গড়ে তুলুন। যেমন– দিনের শেষে সব দায়িত্ব ও দুশ্চিন্তা লিখে ফেলা। এভাবে মস্তিষ্ক ‘চিন্তার দায়’ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারে।

রিল্যাক্সেশন কৌশল যেমন ধ্যান (মেডিটেশন), গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, ধীর গতির মিউজিক কিংবা হালকা স্ট্রেচিং এসব ঘুমের আগে চাপমুক্ত থাকতে সাহায্য করে। রাতে স্ক্রিন দেখা এড়িয়ে চলা এবং ঘুমের আগে আত্মজিজ্ঞাসামূলক লেখালেখি (journaling)ও মনকে প্রশমিত করে।

৮. আলো ও অন্ধকারের সঠিক ব্যবহার

সকাল ও দিনের শুরুতে প্রাকৃতিক রোদ শরীরের জৈবঘড়িকে সজাগ করে তোলে। দিনে যত বেশি সময় আপনি আলোতে থাকবেন, শরীরের ঘুম ও জাগরণ চক্র তত ভালো কাজ করবে। তবে রাতের দিকে আলো কমিয়ে আনা জরুরি।

সন্ধ্যার পর ঘরের লাইট ডিম লাইটে বা হলুদ আলোয় পরিবর্তন করুন। মোবাইল, ল্যাপটপে ‘নাইট মোড’ চালু রাখুন। অপ্রয়োজনীয় লাইট, যেমন রান্নাঘর, বারান্দা বা করিডোরের লাইট বন্ধ রাখুন। যারা দিনের বেলায় ঘুমান, তাদের জন্য ব্ল্যাকআউট পর্দা বা চোখ ঢাকার মাস্ক ব্যবহার করা সহায়ক।

৯. শুধু ঘুম পেলে বিছানায় যান

ক্লান্তি বা ঘুম না এলে বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করাটা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। এটি মস্তিষ্ককে বিছানার সঙ্গে হতাশা ও চাপের সম্পর্ক শেখায়, যা ঘুম আরও কঠিন করে তোলে।

যদি ২০ মিনিটের মধ্যে ঘুম না আসে, তবে বিছানা ছেড়ে হালকা কোনো রিল্যাক্সিং কাজ করুন, যেমন নরম আলোতে বই পড়া, ধ্যান বা হালকা স্ট্রেচিং। ঘুম অনুভব হলে আবার বিছানায় ফিরে যান।

ভালো ঘুম জীবনের গুণগত মান উন্নয়নে অনস্বীকার্য ভূমিকা রাখে। এটি শুধু শারীরিক শক্তি ফিরিয়ে আনে না, বরং মানসিক সুস্থতা ও আবেগীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। যারা ঘুম নিয়ে অবহেলা করেন, তারা নিজের অজান্তেই শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যান।

তাই ঘুমকে প্রাধান্য দিন, ঘুমের পরিবেশ ঠিক করুন এবং ধাপে ধাপে সঠিক ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলুন। এটি আপনার কর্মক্ষমতা, মন-মেজাজ, সম্পর্ক এবং স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।


ঈদের আগে উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বক পেতে রূপবিশেষজ্ঞদের বিশেষ রূপচর্চা গাইড

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৩ ১২:৫০:২৬
ঈদের আগে উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বক পেতে রূপবিশেষজ্ঞদের বিশেষ রূপচর্চা গাইড
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। উৎসবের এই দিনগুলোতে প্রত্যেকেই চান নিজেকে নিখুঁত, মসৃণ এবং উজ্জ্বল ত্বকে ফুটিয়ে তুলতে। তবে বর্তমানে জ্যৈষ্ঠের তীব্র ভ্যাপসা গরম আর হুটহাট বৃষ্টির এই খামখেয়ালি আবহাওয়ায় ত্বকের সজীবতা ধরে রাখতে প্রয়োজন এখন থেকেই ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত রূপচর্চা। পার্লার বা ঘরে বসেই ঈদের দিনে শতভাগ স্বাস্থ্যকর ও গ্লোয়িং স্কিন পেতে রূপবিশেষজ্ঞরা একটি বিশেষ নিবিড় পরিচর্যা ও প্রি-ঈদ স্কিন কেয়ার রুটিন প্রকাশ করেছেন, যা উৎসবের দিনগুলোতে আপনার মেকআপকে করবে দীর্ঘস্থায়ী ও ত্রুটিহীন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎসবের আমেজে উজ্জ্বলতা পেতে শেষ মুহূর্তের ভরসা হতে পারে একটি ধারাবাহিক ডেইলি রুটিন। প্রতিদিন ত্বক পরিষ্কারের জন্য একটি মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করে বৃত্তাকার গতিতে ম্যাসাজ করে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে, যা ত্বকের প্রাকৃতিক তেল বজায় রাখে।

এরপর ত্বকের সূক্ষ্ম রেখা দূর করতে ও দৃঢ়তা বজায় রাখতে নিয়মিত ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা অপরিহার্য। মরা চামড়া বা মৃত কোষ দূর করতে সপ্তাহে এক বা দুইবার সঠিক এক্সফোলিয়েশন বা স্ক্রাবিং করতে হবে, যা ঈদের মেকআপকে মসৃণভাবে ত্বকে বসতে সাহায্য করবে।

এছাড়া চোখের নিচের ক্লান্তি ও ডার্ক সার্কেল দূর করতে নিয়মিত আঙুলের ডগায় আই ক্রিম লাগানো এবং দিনে দুবার টোনার হিসেবে স্প্রে বোতলে গোলাপ জল ব্যবহার করলে সারাদিন সতেজ থাকা যায়। ঈদের অন্তত তিন দিন আগে ত্বকের ধরন অনুযায়ী একটি ভালো ফেসিয়াল ম্যাসাজ করিয়ে নেওয়া উচিত। বাহ্যিক যত্নের পাশাপাশি ভেতর থেকে ত্বককে আর্দ্র রাখতে প্রতিদিন প্রচুর পানি, পানি সমৃদ্ধ ফল ও পর্যাপ্ত শাকসবজি খাওয়া প্রয়োজন।

যারা ঈদের ব্যস্ততায় পার্লারে যাওয়ার সময় পাবেন না, তারা ঘরে বসেই রান্নাঘরের কিছু সহজ উপাদান দিয়ে তৈরি করতে পারেন ৪টি মেগা ফেসপ্যাক। ত্বকের গঠন নরম ও উজ্জ্বল করতে এক টেবিল চামচ দইয়ের সাথে সামান্য মধু মিশিয়ে ২০ মিনিট মুখে রেখে ধুয়ে ফেলুন। তৈলাক্ত ত্বকের লোমকূপ গভীরভাবে পরিষ্কার করতে ১০-১৫ মিনিটের জন্য ক্লে মাস্ক ব্যবহার করুন, তবে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হওয়া এড়াতে এটি পুরোপুরি শুকানোর আগেই ধুয়ে ফেলতে হবে।

ত্বককে পরবর্তী দিনগুলোতে অন্যান্য রূপচর্চার পণ্য ভালোভাবে শোষণের উপযোগী করতে এবং গভীর আর্দ্রতা দিতে ২০ মিনিটের জন্য একটি অ্যালোভেরা বা গ্লিসারিন-সমৃদ্ধ মাস্ক লাগাতে পারেন। সবশেষে, ঈদের ঠিক আগের শেষ দিনে (চাঁদ রাতে) তাৎক্ষণিক গ্লো বা ইনস্ট্যান্ট ব্রাইটনেস পেতে ১৫ মিনিটের জন্য একটি ভিটামিন সি মাস্ক বা রেডিমেড শিট মাস্ক ব্যবহার করলেই উৎসবের সকালে আপনার ত্বক দেখাবে সবচেয়ে আকর্ষণীয়।

/আশিক


নারীদের সুন্দর ও আকর্ষণীয় শারীরিক গঠন ধরে রাখার ৫টি বৈজ্ঞানিক ও টেকসই উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২০ ১২:৫২:৩৮
নারীদের সুন্দর ও আকর্ষণীয় শারীরিক গঠন ধরে রাখার ৫টি বৈজ্ঞানিক ও টেকসই উপায়
ছবি : সংগৃহীত

নারীরা সাধারণত সুন্দর ও আকর্ষণীয় শারীরিক গঠন ধরে রাখার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার মহৎ উদ্দেশ্যেই ওজন কমানোর (Weight Loss) আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকেন। তবে সঠিক গাইডলাইনের অভাব এবং দ্রুত ফল পাওয়ার তীব্র আকুলতায় অনেক সময় কিছু মারাত্মক ভুল অভ্যাস তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় যুক্ত হয়ে পড়ে। এই ভুলগুলো শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম (Metabolism) সম্পূর্ণ ধীর করে দেয়, হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে এবং উল্টো দীর্ঘমেয়াদে ওজন কমানোর পুরো প্রক্রিয়াকে আরও বেশি জটিল ও কঠিন করে তোলে। তাই সুস্থভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে নারীদের কয়েকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা জরুরি।

প্রথমত, দ্রুত মেদ ঝরানোর আশায় অনেকেই খাবার খাওয়া একেবারে কমিয়ে দেন বা না খেয়ে থাকেন। শুরুতে ক্র্যাশ ডায়েটের কারণে ওজন কিছুটা কমলেও পরে মেটাবলিজম ধীর হয়ে শরীর প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পেশী ক্ষয় (Muscle Loss)সহ হরমোনের মারাত্মক জটিলতা দেখা দেয়। তাই না খেয়ে থাকার ক্ষতিকর আত্মঘাতী পথ পরিহার করে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার গ্রহণ করাই সবচেয়ে বৈজ্ঞানিক ও কার্যকর পদ্ধতি।

দ্বিতীয়ত, নারীরা ওজন কমানোর সময় কার্বোহাইড্রেট বা চর্বি কমানোর দিকে যতটা অন্ধের মতো মনোযোগ দেন, প্রোটিন খাওয়ার ক্ষেত্রে ততটাই অবহেলা করেন। অথচ পর্যাপ্ত প্রোটিন শরীরের পেশী গঠন মজবুত রাখে, দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয় এবং রক্তে শর্করার (Blood Sugar) মাত্রা নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এজন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম, মাছ, মাংসের পাশাপাশি ডাল, দই, পনির, টোফু বা বাদামের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা বাধ্যতামূলক।

তৃতীয়ত, সুপারশপে নানাবিধ প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত খাবারের গায়ে ‘লো-ফ্যাট’ (Low-fat) কিংবা ‘ডায়েট ফুড’ লেখা দেখেই বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। কারণ এসব খাবারে স্বাদ ধরে রাখতে গোপনে অতিরিক্ত চিনি, ক্ষতিকর লবণ, কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি মেশানো থাকে, যা ওজনকে উল্টো বাড়িয়ে দেয়। তাই প্যাকেটজাত খাবারের বদলে সবসময় প্রাকৃতিক ও ঘরে তৈরি তাজা খাবার বেছে নেওয়া উচিত।

চতুর্থত, ওজন কমানোর সম্পূর্ণ সমীকরণটি শুধু ডায়েট বা জিমের কঠোর ব্যায়ামের ওপর নির্ভর করে না; বরং পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক স্বস্তি এর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেসের মধ্য দিয়ে গেলে শরীরে ‘কর্টিসল’ (Cortisol) নামক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয় এবং পেটের বিপজ্জনক জেদি মেদ (Belly Fat) জমাতে সরাসরি সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন রাতে পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

পরিশেষে, কোনো ম্যাজিক বা ডিটক্স ওয়াটারের ফাঁদে পড়ে রাতারাতি চিকন হওয়ার তাড়াহুড়ো করা যাবে না। অল্প সময়ে কঠোর ডায়েট শরীরের অপূরণীয় ক্ষতি করে। তাই ধৈর্য ধরে ধীরে ধীরে একটি স্থায়ী স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলাই মেদহীন শরীর পাওয়ার একমাত্র টেকসই চাবিকাঠি।

/আশিক


অল্প বয়সেই মাথায় টাক পড়ার ভয়? ডায়েটে রাখুন এই ৫ সুপারফুড

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১২ ১৩:০২:৫৩
অল্প বয়সেই মাথায় টাক পড়ার ভয়? ডায়েটে রাখুন এই ৫ সুপারফুড
ছবি : সংগৃহীত

প্রতিদিন ১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক হলেও এর বেশি হওয়া মানেই দুশ্চিন্তার কারণ। চুলের বাহ্যিক যত্নের চেয়েও অভ্যন্তরীণ পুষ্টি বা সঠিক খাদ্যাভ্যাস চুল পড়া রোধে বেশি কার্যকর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রোটিন ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত তালিকায় রাখলে অল্প বয়সে চুল কমে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

চুল পড়া রোধে ৫টি সুপারফুড

ক্যাপসিকাম

চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ক্যাপসিকাম অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা পুষ্টি উপাদান চুলের গোড়া মজবুত করে। সালাদ বা চাইনিজ খাবারে ক্যাপসিকাম রাখা অথবা পনিরের সাথে সেদ্ধ করে খাওয়া চুলের জন্য ভালো।

ডিম

ডিম হলো বায়োটিন ও প্রোটিনের বড় উৎস। অনেকে চুলে ডিম মেখে থাকেন, তবে নিয়মিত ডিম খেলে ভেতর থেকে চুল শক্ত ও স্বাস্থ্যবান হয়।

মাছ

ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের জন্য মাছের কোনো বিকল্প নেই। এটি চুলের গুণগত মান বাড়াতে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।

মসুর ডাল

প্রোটিন ও জিংকের চাহিদা মেটাতে মসুর ডাল অনবদ্য। চুলের গোড়া মজবুত করতে সপ্তাহে অন্তত ২-৩ দিন ডাল খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।

মিষ্টি আলু

এতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীর ভিটামিন এ-তে রূপান্তর করে, যা মাথার ত্বকে সিবাম তৈরিতে সাহায্য করে এবং চুল পড়া কমায়।

/আশিক


শিকড় ভুলে যাওয়ার দিন নয় আজ: অস্তিত্বের টানে ফিরে আসুক ভালোবাসা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১০ ১৯:৪৭:১৯
শিকড় ভুলে যাওয়ার দিন নয় আজ: অস্তিত্বের টানে ফিরে আসুক ভালোবাসা
ছবি : সংগৃহীত

আজ বিশ্ব মা দিবস। মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্বজুড়ে মমতাময়ী মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর জন্য এই দিনটি উৎসর্গ করা হয়েছে। মা—এমন এক শব্দ, যার গভীরতা পরিমাপ করা অসম্ভব এবং যার ঋণ কোনো পার্থিব মূল্যে শোধ করা যায় না।

দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ থেকে শুরু করে সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানো এবং তিলে তিলে মানুষ করার পেছনে মায়ের যে আত্মত্যাগ, তা অতুলনীয়। প্রতিটি ধর্মেই মাকে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হয়েছে। তবে আধুনিকতার ইঁদুর দৌড়ে আজ অনেক সন্তানই শিকড়ের বন্ধন ভুলে যাচ্ছেন। সামাজিক আভিজাত্য রক্ষা করতে গিয়ে বৃদ্ধা মাকে 'ওল্ড হোমে' পাঠিয়ে দেওয়া কিংবা গ্রামের বাড়িতে অযত্নে ফেলে রাখার মতো অমানবিক দৃষ্টান্ত আজ আমাদের সমাজে প্রকট হচ্ছে। অথচ মায়ের দোয়াই সন্তানের সফলতার মূল চাবিকাঠি।

মা দিবসের শেকড় প্রোথিত মধ্যযুগের ব্রিটেন এবং আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে। মধ্যযুগে খ্রিস্টান ধর্মের উৎসব 'লেন্ট'-এর চতুর্থ রোববারে দূর-দূরান্তে থাকা সন্তানেরা মায়ের কাছে এবং ছোটবেলার চার্চে ফিরে আসতেন, যা 'মাদারিং সানডে' হিসেবে পরিচিত ছিল।

আধুনিক মা দিবসের যাত্রা শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ১৯০৭ সালের ১২ মে ফিলাডেলফিয়ার আনা জারভিস তার প্রয়াত মায়ের স্মরণে একটি সভা আয়োজন করেন। তার মা আনা রিভস জারভিস মায়েদের স্বাস্থ্য ও শিশু মৃত্যুহার কমাতে 'ডে ওয়ার্ক ক্লাব' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নিজের ১১ সন্তানের মধ্যে ৯ জনকেই হারানো সেই মায়ের সংগ্রামের স্বীকৃতি দিতেই আনার এই উদ্যোগ। পরবর্তীতে ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন।

/আশিক


জমি কেনার আগে জানুন জরুরি পরিভাষা: প্রতারণা এড়াতে বিশেষ টিপস

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ১৯:৪৪:৪৯
জমি কেনার আগে জানুন জরুরি পরিভাষা: প্রতারণা এড়াতে বিশেষ টিপস
ছবি : সংগৃহীত

দৈনন্দিন জীবনে জমিজমা কেনাবেচা ও মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে সঠিক ধারণা না থাকায় অনেককেই নানা ধরনের ভোগান্তি ও আইনি জটিলতার শিকার হতে হয়। জমি ক্রয় বা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতা বড় ধরনের প্রতারণা বা জালিয়াতির পথ তৈরি করতে পারে। তাই নিরাপদ লেনদেনের জন্য ভূমি সংক্রান্ত মৌলিক কিছু পরিভাষা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা প্রয়োজন।

ভূমি জরিপের সময় জমির মালিকানার যে বিবরণ প্রস্তুত করা হয় তাকে খতিয়ান বলা হয়, যা মূলত মৌজাভিত্তিক তৈরি করা হয়। জরিপ ম্যাপে জমির সীমানা শনাক্ত করার জন্য প্রতিটি জমিখণ্ডকে যে আলাদা নম্বর দেওয়া হয় তাকে দাগ নম্বর বলে। আবার জরিপ বা নকশা সংশোধনের সময় কোনো নম্বর বাদ পড়লে তাকে ছোটা দাগ বলা হয়। ভূমি জরিপকালে চূড়ান্ত খতিয়ান প্রস্তুত করার আগে মালিকদের যে খসড়া অনুলিপি দেওয়া হয় তাকে মাঠ পর্চা এবং চূড়ান্ত অনুলিপিকে কেবল পর্চা বলা হয়।

ক্রয় বা উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা পরিবর্তনের পর সরকারি রেকর্ডে নতুন মালিকের নাম লেখানোর প্রক্রিয়াকে নামজারি বলা হয়। অন্যদিকে, যৌথ জমি বিভক্ত করে নতুন খতিয়ান তৈরি করাকে জমা খারিজ বলে। জরিপের সময় গ্রাম বা এলাকাকে যে আলাদা একক বা ক্রমিক নম্বরে ভাগ করা হয় তাকে মৌজা এবং জমির বিস্তারিত পরিচয়কে তফশিল বলা হয়। ভূমি জরিপের কাজে নিয়োজিত কর্মচারীকে আমিন এবং সরকারকে দেওয়া বার্ষিক করকে খাজনা বলা হয়।

খাজনা আদায়ের রশিদকে দাখিলা এবং ভূমি কর ছাড়া অন্যান্য পাওনা আদায়ের রশিদকে ডিসিআর বলা হয়। এছাড়া সরকার থেকে জমি বন্দোবস্ত গ্রহণের অঙ্গীকারপত্রকে কবুলিয়ত এবং দুই বা তিন ফসলি সমতল জমিকে নাল জমি বলা হয়। সরকারি মালিকানাধীন জমিকে খাস জমি এবং হাট-বাজারের অকৃষি বরাদ্দকৃত অংশকে চান্দিনা ভিটি বলা হয়।

ধর্মীয় বা জনকল্যাণে দানকৃত সম্পত্তি হলো ওয়াকফ এবং এর তত্ত্বাবধায়ককে বলা হয় মোতওয়াল্লি। হিন্দুধর্ম অনুযায়ী উৎসর্গকৃত জমিকে দেবোত্তর সম্পত্তি বলা হয়। মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টনের নিয়মকে ফারায়েজ এবং বৈধ উত্তরাধিকারীদের ওয়ারিশ বলা হয়।

এছাড়া নদী ভাঙনে বিলীন হওয়া জমিকে সিকস্তি এবং জেগে ওঠা নতুন চরকে পয়স্তি বলা হয়। আইনগত সাক্ষ্য হিসেবে নিবন্ধিত কাগজপত্রই হলো দলিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, জমিজমা সংক্রান্ত এসব শব্দের সঠিক অর্থ জানা থাকলে দলিলপত্র যাচাই করা সহজ হয় এবং যেকোনো আইনি জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়।

/আশিক


ঘরোয়া টোটকা বনাম বাস্তবতা: চুল পড়া কমাতে পেঁয়াজের রস ব্যবহারের সুবিধা ও ঝুঁকি

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৭ ১২:২৭:৫২
ঘরোয়া টোটকা বনাম বাস্তবতা: চুল পড়া কমাতে পেঁয়াজের রস ব্যবহারের সুবিধা ও ঝুঁকি
ছবি : সংগৃহীত

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, হরমোনের পরিবর্তন এবং দূষণের মতো নানাবিধ কারণে বর্তমান সময়ে চুল পড়ার সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই পেঁয়াজের রস ব্যবহার করেন। গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, পেঁয়াজের রস চুলের জন্য বিশেষ উপকারী হতে পারে, তবে এটিই চুল পড়ার একমাত্র সমাধান নয়। এর কার্যকারিতা নির্ভর করে ব্যক্তির মাথার ত্বকের অবস্থা, চুল পড়ার কারণ এবং এটি ব্যবহারের নিয়মিততার ওপর।

কেন পেঁয়াজের রস কার্যকর?

পেঁয়াজের রসে প্রচুর পরিমাণে সালফার থাকে, যা চুল পড়া রোধে প্রধান ভূমিকা পালন করে। চুলের প্রধান উপাদান ‘কেরাটিন’ নামক প্রোটিন, যাতে সালফার বিদ্যমান। মাথায় পেঁয়াজের রস লাগালে তা চুলের গোড়ায় অতিরিক্ত পুষ্টি জোগায় এবং চুলকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে তোলে। ফলে চুল ভাঙা কমে এবং নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে। এছাড়া পেঁয়াজের উপাদানগুলো কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে, যা মাথার ত্বকের কোষকে সুস্থ রাখে এবং চুলের বৃদ্ধিতে গতি আনে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পেঁয়াজের রস মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। চুলের গোড়ায় রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে ফলিকলগুলো পর্যাপ্ত পুষ্টি পায়, যা চুলের দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়ক। গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ পানির তুলনায় পেঁয়াজের রস ব্যবহারকারীদের চুলের বৃদ্ধি তুলনামূলক বেশি হয়েছে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—পেঁয়াজের রস টাক সমস্যা বা ‘অ্যালোপেশিয়া’র কোনো নিশ্চিত প্রতিকার নয়, এটি মূলত বিদ্যমান চুলকে মজবুত করতে এবং চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে।

পেঁয়াজের রস ব্যবহারের সঠিক নিয়ম

১. একটি বড় পেঁয়াজ কুচিয়ে তার রস বের করে নিন।

২. একটি তুলোর বলের (Cotton Ball) সাহায্যে রসটি মাথার ত্বকে বা স্ক্যাল্পে আলতো করে লাগান।

৩. ২০ থেকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন।

৪. এরপর একটি মৃদু বা মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

৫. ভালো ফলের জন্য সপ্তাহে অন্তত দুবার এটি ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে এর সাথে নারিকেল তেল বা অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিতে পারেন।

পেঁয়াজের রস সবার জন্য সমান উপকারী নাও হতে পারে। যাদের মাথার ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল বা অ্যালার্জির সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি জ্বালাপোড়া বা লালচে ভাব সৃষ্টি করতে পারে। তাই ব্যবহারের আগে মাথার ত্বকের অল্প জায়গায় পরীক্ষা (Patch Test) করে নেওয়া ভালো। যদি গুরুতর অস্বস্তি হয়, তবে দ্রুত ধুয়ে ফেলতে হবে।

সবশেষে মনে রাখা প্রয়োজন, শুধু বাহ্যিক যত্নই যথেষ্ট নয়। চুলের সুস্বাস্থ্যের জন্য শরীরে প্রোটিন, আয়রন, বায়োটিন ও ভিটামিন ডি-এর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপমুক্ত জীবনযাপন চুল পড়া কমাতে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখে।

/আশিক


অনিদ্রায় ভুগছেন? এই ৫টি অভ্যাস বদলে দেবে আপনার জীবন

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ১২:৪৪:২০
অনিদ্রায় ভুগছেন? এই ৫টি অভ্যাস বদলে দেবে আপনার জীবন
ছবি : সংগৃহীত

ঘুম ঠিকমতো না হলে তার পেছনে সবসময় বড় কোনো শারীরিক কারণ থাকে না; বরং দায়ী হতে পারে আমাদের প্রতিদিনের কিছু ছোট ছোট বদঅভ্যাস। অজান্তেই গড়ে ওঠা এসব অভ্যাস আমাদের ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে দেয়। ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS) তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভালো ঘুম পেতে হলে আগে চিহ্নিত করতে হবে কোন অভ্যাসগুলো এই ক্ষতি করছে।

ঘুমের গুরুত্ব

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকার জন্য ভালো ঘুম অপরিহার্য। এটি শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার পাশাপাশি মস্তিষ্ককে পুনরুজ্জীবিত করে, মানসিক চাপ কমায় এবং কর্মক্ষমতা বাড়ায়। কিন্তু আধুনিক জীবনযাপন ও প্রযুক্তিনির্ভরতা এই স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করছে।

ভালো ঘুমের ৫টি মূল মন্ত্র

১. রুটিন মেনে ঘুমানো

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা 'বডি ক্লক' ঠিক রাখে। সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতেও এই নিয়ম বজায় রাখলে শরীরের ঘুমের সংকেত ব্যবস্থা উন্নত হয়।

২. ডিভাইস থেকে দূরে থাকা

ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, টিভি বা কম্পিউটারের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এসব ডিভাইসের নীল আলো মস্তিষ্কে ঘুমের হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয়। এর বদলে বই পড়া বা হালকা ধ্যান করা যেতে পারে।

৩. মন শান্ত করা

বিছানায় শরীর ক্লান্ত থাকলেও মাথায় দুশ্চিন্তা ঘুরপাক খেলে ঘুম আসে না। এক্ষেত্রে সারাদিনের চিন্তা লিখে রাখা বা পরের দিনের কাজের তালিকা তৈরি করলে মস্তিষ্ক ভারমুক্ত হয় এবং দ্রুত ঘুমানো সম্ভব হয়।

৪. উপযুক্ত পরিবেশ

একটি নীরব, অন্ধকার এবং আরামদায়ক তাপমাত্রার ঘর দ্রুত ঘুমাতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত আলো বা শব্দ এড়াতে পর্দা ব্যবহার করা এবং ফোন সাইলেন্ট রাখা জরুরি। প্রয়োজনে হালকা বৃষ্টির শব্দের মতো 'হোয়াইট নয়েজ' শোনা যেতে পারে।

৫. জোর না করা

ঘুম না এলে জোর করে বিছানায় শুয়ে থাকা ঠিক নয়। এতে অস্থিরতা বাড়ে। বরং উঠে গিয়ে কিছুক্ষণ বই পড়া বা মৃদু গান শুনে পুনরায় ঘুমের ভাব এলে বিছানায় ফেরা উচিত।

খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়াম

রাতে ভারী খাবার, অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা নিকোটিন এড়িয়ে চলা উচিত। নিয়মিত ব্যায়াম শরীরকে ক্লান্ত করে গভীর ঘুমে সাহায্য করলেও, ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী ব্যায়াম না করাই ভালো।

পরিশেষে, ভালো ঘুম কোনো একটি জাদুকরী কৌশলের ফল নয়, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রার সমন্বয়।

/আশিক


২৪ ডিগ্রি না কি ২৬ ডিগ্রি? কোন তাপমাত্রায় এসি চালালে বিদ্যুৎ বিল কমবে

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ১১:৩২:৪৫
২৪ ডিগ্রি না কি ২৬ ডিগ্রি? কোন তাপমাত্রায় এসি চালালে বিদ্যুৎ বিল কমবে
ছবি : সংগৃহীত

গ্রীষ্মের তীব্র গরমে এসি এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং অনেকের কাছেই নিত্যপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। তবে ঘর দ্রুত ঠান্ডা করার আশায় তাপমাত্রা একবারে কমিয়ে রাখা অনেকের অভ্যাস, যা আসলে একটি বড় ভুল ধারণা। তাপমাত্রা যত কম রাখা হয়, এসির কম্প্রেসরকে তত দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে আপনার বিদ্যুৎ বিলের ওপর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসির তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি বাড়ানোর ফলে প্রায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব। সেই হিসাবে আপনি যদি ২৪ ডিগ্রির পরিবর্তে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসি চালান, তবে মাস শেষে প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হতে পারে। বাংলাদেশের বর্তমান বিদ্যুৎ মূল্যের হিসেবে এই সামান্য পরিবর্তনের ফলে মাসে প্রায় ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হওয়া সম্ভব।

একটি ১.৫ টন এসি সাধারণত প্রতি ঘণ্টায় ১.৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে। ২৪ ডিগ্রিতে এটি দৈনিক ৮ ঘণ্টা চালালে প্রায় ১২ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়, যার আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় ১০০-১২০ টাকার মতো। কিন্তু তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রিতে সেট করলে কম্প্রেসর মাঝে মাঝে বিশ্রাম পায়, ফলে দৈনিক খরচ কমে ৭৫-৯০ টাকায় নেমে আসতে পারে।

সাশ্রয়ের পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেশ উপযোগী। এই তাপমাত্রায় শরীর হঠাৎ করে ঠান্ডা বা গরমের তীব্র ধাক্কা অনুভব করে না, যা সর্দি-কাশি বা শারীরিক অস্বস্তির ঝুঁকি কমায়। তাই পকেট এবং শরীর—উভয়কেই ভালো রাখতে ঘর ঠান্ডা করার সময় ২৬ ডিগ্রি তাপমাত্রাই এখন বিশেষজ্ঞদের প্রথম পছন্দ।

/আশিক


আজ রাতে আকাশের খেলা: হ্যালির ধূমকেতুর ছোঁয়ায় দেখা মিলবে উল্কাবৃষ্টির!

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ২১:৫৪:৩০
আজ রাতে আকাশের খেলা: হ্যালির ধূমকেতুর ছোঁয়ায় দেখা মিলবে উল্কাবৃষ্টির!
ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশপ্রেমীদের জন্য চলতি সপ্তাহ নিয়ে আসছে এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। আজ মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত আকাশে ডানা মেলবে ‘এটা অ্যাকুয়ারিড’ (Eta Aquariid) উল্কাবৃষ্টি। আমেরিকান মেটিওর সোসাইটির তথ্যমতে, ভোরের ঠিক আগের কয়েক ঘণ্টা এই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করার জন্য সেরা সময়। তবে বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এটি বুধবার বেলা ১১টার পর শুরু হওয়ায় আমাদের দেশ থেকে এর দৃশ্যমানতা থাকবে না বললেই চলে।

সোসাইটির ফায়ারবল রিপোর্ট সমন্বয়কারী রবার্ট লুনসফোর্ড জানান, আকাশের ‘অ্যাকুয়ারিয়াস’ বা কুম্ভ রাশি থেকে এই উল্কাগুলো নির্গত হয় বলে মনে হয়। কুম্ভ রাশিটি রাত ৩টার আগে দিগন্তের উপরে ওঠে না, তাই ভোরের আগের সময়টুকুই এটি দেখার একমাত্র সুযোগ। দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলো থেকে এই দৃশ্য সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে, যেখানে ঘণ্টায় প্রায় ৪০টি উল্কা নজরে আসতে পারে। উত্তর গোলার্ধে উজ্জ্বল চাঁদের আলোর কারণে এই সংখ্যা ১০-এর নিচে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

নাসার তথ্য অনুযায়ী, ‘এটা অ্যাকুয়ারিড’ উল্কাগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন; এগুলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৪৪ মাইল বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। এই অতি গতির কারণে উল্কাগুলো মিলিয়ে যাওয়ার পরও আকাশে আগুনের মতো উজ্জ্বল রেখা কিছুক্ষণ স্থায়ী হতে দেখা যায়।

এই চমৎকার উল্কাবৃষ্টির নেপথ্যে রয়েছে বিখ্যাত হ্যালির ধূমকেতু। পৃথিবী যখন বছরে দুবার এই ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা ও পাথুরে অবশিষ্টাংশের কক্ষপথ অতিক্রম করে, তখনই উল্কাবৃষ্টির সৃষ্টি হয়। মে মাসে ‘এটা অ্যাকুয়ারিড’ এবং অক্টোবর মাসে ‘অরিওনিড’ উল্কাবৃষ্টি এই হ্যালির ধূমকেতুরই দান। বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি ১৭০৫ সালে এটি আবিষ্কার করেন। সবশেষ ১৯৮৬ সালে দেখা যাওয়া এই ধূমকেতুটি আবার ২০৬১ সালে পৃথিবীর আকাশে ফিরে আসবে।

শহরের কৃত্রিম আলো থেকে দূরে কোনো অন্ধকার ও খোলা জায়গায় অবস্থান নিন। চাঁদের তীব্র আলো এড়াতে কোনো বড় গাছের ছায়া বেছে নিতে পারেন। আকাশ দেখার আগে অন্তত ৪৫ মিনিট সময় দিন যাতে আপনার চোখ অন্ধকারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। এরপরই আবছা উল্কাগুলো স্পষ্ট হতে শুরু করবে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: