‘মার্চ টু এনবিআর’-এ অচল রাজস্ব ব্যবস্থা: শাটডাউনে স্থবির আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ২৮ ১৬:০৩:২৫
‘মার্চ টু এনবিআর’-এ অচল রাজস্ব ব্যবস্থা: শাটডাউনে স্থবির আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম

দেশের প্রধান রাজস্ব সংস্থা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এ আজ শনিবার সকাল থেকেই চলছে এক নজিরবিহীন অচলাবস্থা। ঢাকা থেকে বুড়িমারী, বেনাপোল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের কাস্টমস হাউস—সর্বত্রই শাটডাউন কর্মসূচির প্রভাব স্পষ্ট। কর্মকর্তা–কর্মচারীরা আজ সকাল থেকে এনবিআর কার্যালয়ের প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। ভবনের কোনো অংশেই প্রবেশ বা প্রস্থান সম্ভব হচ্ছে না।

‘মার্চ টু এনবিআর’ শিরোনামে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি কেবল প্রতীকী নয়, বরং দেশের সম্পূর্ণ রাজস্ব প্রবাহ একদিনেই স্থবির করে দিয়েছে। বিশেষ করে জুন মাসে, যখন বার্ষিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সরকার সবচেয়ে বেশি তৎপর থাকে—ঠিক সেই সময়ে এমন পরিস্থিতি সরকারের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ।

কেন এই আন্দোলন? দাবি কী এনবিআর কর্মকর্তা–কর্মচারীদের?

আন্দোলনকারীদের মুখপাত্ররা জানিয়েছেন, এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে বহুদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত সংস্কারের অনুপস্থিতি। ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’ নামের ব্যানারে সংগঠিত এই কর্মসূচির মূল দাবি দুটি—

  • সব অংশীজনের অংশগ্রহণে রাজস্ব খাতের কাঠামোগত সংস্কার।
  • বর্তমান এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণ।

তাদের অভিযোগ, এনবিআরের নেতৃত্বে স্বচ্ছতা ও দক্ষতার অভাব রয়েছে। পেশাগত দক্ষতা বিবেচনায় নয়, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় নিয়োগ, পদোন্নতি ও দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। যার ফলে এনবিআরের অভ্যন্তরে চরম হতাশা, বৈষম্য ও অকার্যকর অবস্থা তৈরি হয়েছে।

কীভাবে স্তব্ধ হলো পুরো দেশের রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া?

সকাল ৯টা থেকেই এনবিআরের তিনটি প্রধান ফটক তালাবদ্ধ করে ফেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ভবনের ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, এমনকি কর্মরত কর্মকর্তারাও বাইরে আটকে পড়েন।একইসাথে সারা দেশের কাস্টমস হাউস, স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর, কাস্টমস স্টেশন, এয়ার কার্গো ইউনিটসহ প্রতিটি শুল্ক আদায় কেন্দ্রও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ফলে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রমে শুল্কায়ন কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। বন্দরে আটকে যায় শত শত কন্টেইনার পণ্য। রপ্তানিকারকরা বিলম্বে ডেলিভারির ঝুঁকিতে পড়েন, আর আমদানিকারকরা একাধিক ব্যাংক ও শুল্ক ফরমালিটিজ ঝুলে যাওয়ার ক্ষতির মুখে পড়েন।

অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে?

এই শাটডাউন কেবল এক দিনের কর্মসূচি হলেও এর অর্থনৈতিক অভিঘাত বহুমাত্রিক।

প্রথমত, জুন মাসেই সরকারের বার্ষিক রাজস্বের একটি বড় অংশ আহরণ হয়। এনবিআর বন্ধ থাকলে লক্ষ্যমাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

দ্বিতীয়ত, আমদানি–রপ্তানির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যাংক, লজিস্টিক, কন্টেইনার ট্রান্সপোর্টেশন ও পোর্ট সার্ভিস সেক্টরেও প্রভাব পড়বে।

তৃতীয়ত, ব্যবসায়ীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হলে সামগ্রিকভাবে বাজারে নেতিবাচক মনোভাব ছড়িয়ে পড়বে।

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, সরকার যদি দ্রুত এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্যোগ না নেয়, তবে রাজস্ব ঘাটতি এবং বাণিজ্য পরিবেশের অবনতি নিশ্চিতভাবে ঘটবে।

নিরাপত্তা ঘিরে সতর্ক প্রশাসন, ভবনের নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

এনবিআরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে ভবনের চারপাশ ঘিরে রেখেছে। তবে আন্দোলন এখনো শান্তিপূর্ণ রয়েছে। আন্দোলনকারীরা জানান, তাঁদের দাবি মানা না হলে এই কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়তে পারে। তারা সরকারের সঙ্গে একটি ট্রান্সপারেন্ট ও ফলপ্রসূ সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন।

নেতৃত্বে আস্থার সংকট, অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ছে রাজস্ব ব্যবস্থায়

এনবিআর হলো দেশের সর্ববৃহৎ রাজস্ব আহরণকারী প্রতিষ্ঠান। এই সংস্থায় অসন্তোষ ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থার সংকট সৃষ্টি হলে তা পুরো অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

সরকারের এখনই প্রয়োজন একটি অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ, গঠনমূলক ও দ্রুত সমাধানমুখী পদক্ষেপ নেওয়া। অন্যথায়, এই সংকট শুধু এনবিআরে সীমাবদ্ধ থাকবে না—এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে জাতীয় বাজেট বাস্তবায়ন, সরকারি ব্যয়ের সক্ষমতা এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের মনোভাবেও।


গণবিরোধী বিল পাসকে কেন্দ্র করে বিরোধীদলের ওয়াকআউট

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৯ ১৮:৫৪:০০
গণবিরোধী বিল পাসকে কেন্দ্র করে বিরোধীদলের ওয়াকআউট
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে পাস হওয়া একাধিক বিলকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে বিরোধী দল হঠাৎ করে ওয়াকআউট করেছে, যা সংসদ অধিবেশনে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। দিনের শেষ ভাগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকাল প্রায় ৬টার দিকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন এবং তার নেতৃত্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা কক্ষ ত্যাগ করেন।

ওয়াকআউটের আগে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দলের আপত্তি ও যুক্তিসঙ্গত প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেই কয়েকটি বিল পাস করা হয়েছে। এসব বিলকে জনগণের স্বার্থবিরোধী উল্লেখ করে তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের দায় তারা নিতে চান না, তাই সংসদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ওই সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিরোধী দল কক্ষ ত্যাগের সময় তিনি জানতে চান, তারা সাময়িকভাবে বের হচ্ছেন নাকি পুরো অধিবেশন বর্জন করছেন। তবে লাইভ সম্প্রচারে দেখা যায়, বিরোধী সদস্যরা আর ফিরে আসেননি এবং ওয়াকআউট কার্যকর রাখেন।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে ভিন্ন সুরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিরোধী দল শুরু থেকেই সংসদের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে এবং বিভিন্ন ধাপে সহযোগিতা করেছে। এমন অবস্থায় শেষ মুহূর্তে অধিবেশন বর্জনের সিদ্ধান্তকে তিনি যৌক্তিক মনে করেন না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও আশা প্রকাশ করেন যে, বিরোধী দল মাগরিবের পর পুনরায় অধিবেশনে যোগ দিতে পারে। তবে বাস্তবে তারা আর ফিরে না আসায় রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

-রফিক


বিসিবি এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহর তোপ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৮ ১৭:১৪:১২
বিসিবি এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহর তোপ
ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। বিসিবির বর্তমান অবস্থাকে তিনি “বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড” হিসেবে অভিহিত করে ক্রিকেট প্রশাসনে চরম বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। ওই সময় অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ বিল-২০২৬’ উত্থাপনের আবেদন করলে হাসনাত আবদুল্লাহ ফ্লোর নিয়ে এর বিরোধিতা করেন এবং বিসিবির প্রসঙ্গটি টেনে আনেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর এমন মন্তব্য দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, “বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড” বলার মাধ্যমে তিনি মূলত বোর্ডের অভ্যন্তরে থাকা স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাতিত্ব এবং স্বচ্ছতার অভাবকে তুলে ধরেছেন।

দেশের ক্রিকেট বোর্ড দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং দলীয় ব্যবস্থাপনার কারণে সমালোচনার মুখে থাকলেও, সংসদের ভেতরে একজন প্রভাবশালী নেতার এমন সরাসরি আক্রমণ বিষয়টিকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে। হাসনাত আবদুল্লাহর এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র ক্রিকেট বোর্ডের সংস্কার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

/আশিক


সংস্কার থেকে সরে এলে আবারও চব্বিশ হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১৯:২৫:০৭
সংস্কার থেকে সরে এলে আবারও চব্বিশ হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ
ছবি : সংগৃহীত

রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের মূল দাবি থেকে বর্তমান সরকার সরে এলে দেশে আবারও গণ-অভ্যুত্থান হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, সময়ের পরিবর্তন ও ক্ষমতার চেয়ারে বসার সাথে সাথেই সরকারের মানসিকতা বদলে গেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ স্পষ্ট করে বলেন, সরকারকে কাঠামোগত পরিবর্তনের জায়গায় একনিষ্ঠ হতে হবে; অন্যথায় ২০২৪ সালের মতো আরেকটি অভ্যুত্থান ঘটা অনিবার্য।

হাসনাত আব্দুল্লাহর মতে, যারা ২০২৪ সালে রাজপথে নেমেছিল, তারা কাউকে সংসদ সদস্য বা উপদেষ্টা বানানোর জন্য আন্দোলন করেনি। বরং তারা রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যেই জীবন বাজি রেখেছিল। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি পুরোনো শাসন ব্যবস্থা এবং সিস্টেম অক্ষুণ্ণ রাখা হয়, তবে যেকোনো ব্যক্তিই ভবিষ্যতে ‘হাসিনা’ হয়ে উঠতে পারেন। তাঁর ভাষায়, হাসিনা কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং এটি অনেকগুলো ফ্যাসিবাদী চিন্তাধারার একটি সমষ্টি। তাই ব্যক্তি পরিবর্তন নয়, বরং কাঠামোগত সংস্কারই ছিল গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত উদ্দেশ্য।

আলোচনা সভায় সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বিরোধিতার তীব্র সমালোচনা করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের অনেক উচ্চপদস্থ ব্যক্তি যারা অতীতে নিজেরাই ভুক্তভোগী ছিলেন, এখন তারাই সংস্কারের বিরোধিতা করছেন, যা অত্যন্ত অসম্মানজনক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ক্ষমতার আসনে বসে কেন তারা আগের অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছেন? মেজরিটি বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে আটকে রাখার কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, নির্বাচনের পর সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি বা তারা কোনো লাভবান হয়নি। উল্টো রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকেই কেবল সুবিধাভোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, রাষ্ট্র যেন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে এবং সাধারণ মানুষ যেন আর আশাহত না হয়। অন্যথায় জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে আরেকটি বড় ধরনের গণজাগরণের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

/আশিক


নর্দমা থেকে ফ্যাসিবাদ তুলে আনার চেষ্টা রুখে দেবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১৭:৫৪:৩৭
নর্দমা থেকে ফ্যাসিবাদ তুলে আনার চেষ্টা রুখে দেবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারের বর্তমান জ্বালানি নীতি ও রাজনৈতিক অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, সরকারি দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বক্তব্য শুনলে মনে হয় বাংলাদেশ যেন তেলের ওপর ভাসছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি অভিযোগ করেন যে, পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহন ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন থাকলেও সরকার রিজার্ভের মিথ্যা দাবি করে প্রকৃত সত্য আড়াল করার চেষ্টা করছে। এমনকি সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি দাবি করেন।

বর্তমান সংসদের গঠন প্রকৃতি তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই সংসদে যারা স্থান পেয়েছেন তাদের প্রায় সকলেই কোনো না কোনোভাবে মজলুম। তাঁদের মধ্যে কেউ জেল খেটেছেন, কেউ আয়নাঘরে বন্দি ছিলেন, আবার কেউ ফাঁসির মঞ্চ বা নির্বাসন থেকে ফিরে এসেছেন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত সংসদ যদি জনগণের দুঃখ না বোঝে, তবে আর কে বুঝবে? তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ৫৪ বছর ধরে যে ফ্যাসিবাদ বাঙালি জাতিকে দাবিয়ে রেখেছিল, ২০২৪ সালের বিপ্লবীরা তাকে বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলেছে। এখন যারা সেই নর্দমা থেকে পুনরায় ফ্যাসিবাদকে তুলে আনতে চাইছে, তরুণ প্রজন্ম ও জামায়াতে ইসলামী তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে জামায়াত আমির ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, বর্তমান প্রজন্ম কেবল ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেনি, তারা চেয়েছিল ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। তিনি দাবি করেন, বিগত নির্বাচনে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হা’ ভোটের মাধ্যমে জামায়াতকে সমর্থন দিলেও সেই জনরায়কে ‘হাইজ্যাক’ ও ‘ডাকাতি’ করা হয়েছে। তাঁর মতে, যেদিন থেকে গণভোটের রায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকেই বাংলাদেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। সংসদ এই রায় মানুক আর না মানুক, জামায়াতে ইসলামী ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে রাজপথে ফিরে যাবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যারা নিজেদের দলের ভেতরে গণতন্ত্র ও ইনসাফের চর্চা করতে পারে না, তারা দেশের ১৮ কোটি মানুষকে নিরাপত্তা বা গণতন্ত্র উপহার দিতে পারবে না। সংসদে উপস্থিত জামায়াতের ৭৭ জন সদস্য জনগণের অধিকার রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করবে এবং জাতির ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেবে না বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। জাগপা-র মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশে পুনরায় ফ্যাসিবাদের ফিরে আসা যেকোনো মূল্যে রুখে দেওয়া হবে।

/আশিক


ড. ইউনূসসহ সব উপদেষ্টাকে রাজপথে নামার ডাক দিলেন নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ১৮:৫৬:১৪
ড. ইউনূসসহ সব উপদেষ্টাকে রাজপথে নামার ডাক দিলেন নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগগুলো রক্ষায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ তৎকালীন সকল উপদেষ্টাকে রাজপথে নামার ডাক দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বিস্ফোরক আহ্বান জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর যে রক্তের বিনিময়ে সংস্কারের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, বর্তমান বিএনপি সরকার গণভোটের রায় উপেক্ষা করে এবং গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত না করে সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ করছে। বিশেষ করে গুম প্রতিকার, মানবাধিকার কমিশন এবং বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিল করে সরকার পুনরায় একটি স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে হাঁটছে বলে তিনি তীব্র সমালোচনা করেন।

নাহিদ ইসলাম সরাসরি ড. ইউনূস ও আসিফ নজরুলসহ সাবেক উপদেষ্টাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, তারা যে সংস্কারের অধ্যাদেশগুলো করেছিলেন, সেগুলো এখন বাতিল হচ্ছে অথচ তারা মুখ খুলছেন না। তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং'-এর মাধ্যমে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে তারা নিজেদের ক্যারিয়ারে ফিরে যেতে পারেন না।

সংসদের ভেতরে উপযুক্ত সমাধান না পাওয়ায় রাজপথেই এখন এর ফয়সালা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, ড. ইউনূসসহ সাবেক উপদেষ্টাদেরও এই দায় নিতে হবে এবং প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের সাথে রাজপথে আন্দোলনে অংশ নিতে হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের বদলে বিএনপি সরকার জনগণের আস্থা হারাচ্ছে বলেও তিনি হুশিয়ারি দেন।

/আশিক


তারেক রহমানের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে? হাসনাত আব্দুল্লাহর রহস্যময় পোস্ট

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ১৮:৪৭:৪০
তারেক রহমানের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে? হাসনাত আব্দুল্লাহর রহস্যময় পোস্ট
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা নিয়ে এক বিস্ফোরক প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ তার পোস্টে গত ২৯ নভেম্বরের একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি টেনে উল্লেখ করেন যে, সেই সময় তারেক রহমান দেশে ফেরার আকুতি জানালেও বলেছিলেন যে এটি তার একক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে না। এমপির প্রশ্ন, গত ২৫ ডিসেম্বর দলের অনেকের দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও তিনি যখন দেশে ফিরলেন, তখন সেই সিদ্ধান্তটি আসলে কাদের ছিল এবং গুম ও মানবাধিকার অধ্যাদেশ বাতিলের মতো স্পর্শকাতর বিষয়েও কি সেই অদৃশ্য শক্তির প্রভাব রয়েছে?

ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ সরাসরি জানতে চান, তারেক রহমান কি প্রকৃতপক্ষেই নিজের স্বাধীন সিদ্ধান্তে দেশ পরিচালনা করতে পারছেন, নাকি নেপথ্যে এমন কেউ রয়েছেন যাদের সাধারণ জনগণ চেনে না। তিনি আরও গভীর প্রশ্ন তোলেন যে, দেশে ফেরার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে যদি অন্যদের প্রভাব থাকে, তবে দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রেও কি তিনি সেই একই শক্তির দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছেন?

সবশেষে এনসিপির এই নেতা সেই নেপথ্যের কারিগরদের পরিচয় স্পষ্ট করার দাবি জানান, যাদের সিদ্ধান্তের ওপর তারেক রহমানের দেশে ফেরা থেকে শুরু করে বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের মতো বিষয়গুলো নির্ভর করছে বলে তিনি মনে করেন। তার এই স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।

/আশিক


উত্তাল রাজধানী! গণভোটের রায়ে সরকারের বাধার মুখে ১১ দলের বিক্ষোভ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ১৮:২৪:৪৮
উত্তাল রাজধানী! গণভোটের রায়ে সরকারের বাধার মুখে ১১ দলের বিক্ষোভ
ছবি : সংগৃহীত

গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের অবস্থানের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা। আজ শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) বিকেল সোয়া ৫টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়েছে।

পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সমাবেশে যোগ দিতে দুপুরের পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকেন। আন্দোলনকারীদের হাতে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’ ও ‘গণভোট মানতে হবে’ লেখা সম্বলিত শত শত প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে, যেখান থেকে সরকারবিরোধী ও গণভোটের স্বপক্ষে তীব্র স্লোগান দেওয়া হচ্ছে।

সমাবেশে ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে অভিযোগ করেন যে, সরকারি দল সংসদ পরিচালনায় চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা দেশের গণতন্ত্রের ওপর একতরফা ফ্যাসিবাদী প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি আরও হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, জনস্বার্থ রক্ষা এবং জনগণের রায় প্রতিষ্ঠিত করতে রাজপথের আপসহীন আন্দোলন ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

এর আগে গত বুধবার বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারি দলের কর্মকাণ্ডে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত গণভোটের রায়কে বর্তমান সরকার সুকৌশলে উপেক্ষা করছে। এই প্রতিবাদে সংহতি জানিয়ে সংসদের ষষ্ঠ দিনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলো সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।

/আশিক


আন্দোলন ছাড়া আর পথ নেই: সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ২২:১১:৪০
আন্দোলন ছাড়া আর পথ নেই: সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেছেন যে, সংবিধান সংস্কারের চূড়ান্ত রায়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটায় এখন আন্দোলনের পথই তাদের একমাত্র বিকল্প। বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ সংক্রান্ত নোটিশের ওপর দুই ঘণ্টার আলোচনা শেষে স্পিকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই হুশিয়ারি দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সংসদের ভেতরেই সমাধান চেয়েছিলাম এবং জনগণের রায়কে সম্মান জানাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু স্পিকার ও সরকারি দল তা গ্রহণ না করে জনগণের অভিপ্রায়কে অবমূল্যায়ন করেছে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতের তিনটি গণভোটে জনগণের রায় যথাযথভাবে গ্রহণ করা হলেও এবার সরকারি ও বিরোধী দল একমত থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষিত হয়েছে।

এই অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, তারা সংসদ ‘গিভ আপ’ করেননি, বরং জনগণের দাবি আদায়ে সংসদের অংশ হিসেবেই লড়াই চালিয়ে যাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতা আরও জানান, জামায়াতসহ ১১টি দল দ্রুত বৈঠকে বসে পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচি নির্ধারণ করবে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ইনশাআল্লাহ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এই আন্দোলন কোনো দল বা ব্যক্তির স্বার্থে নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক চরিত্র রক্ষা ও প্রকৃত সংবিধান সংস্কারের স্বার্থে।”

এর আগে সংসদে আলোচনার পর স্পিকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী দল ওয়াকআউট করলে স্পিকার জানান, একটি মুলতবি প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে এবং সেখানে তারা তাদের উত্তর পাবেন। তবে বিরোধী দল সেই আশ্বাসে সন্তুষ্ট না হয়ে আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

/আশিক


সংখ্যাগরিষ্ঠরা ভণ্ডামি করছে: সংসদ ছেড়ে ফেসবুকে বিস্ফোরক হাসনাত আব্দুল্লাহ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ২১:১৮:৫৮
সংখ্যাগরিষ্ঠরা ভণ্ডামি করছে: সংসদ ছেড়ে ফেসবুকে বিস্ফোরক হাসনাত আব্দুল্লাহ
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা ডাকার বিষয়ে কোনো সুরাহা না হওয়ায় এবং প্রস্তাব নিয়ে সৃষ্ট টানাপোড়েনের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর একটি পোস্ট রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংসদ অধিবেশন চলাকালীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবটি 'চাপা দেওয়ার' অভিযোগ তুলে বিরোধী দলগুলো তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করে। এর পরপরই কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি সরাসরি অভিযোগ করে লেখেন, ‘Hypocrisy by Majority- where truth and pretension are infused.’ অর্থাৎ, সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভণ্ডামিতে সত্য এবং ছদ্মবেশ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাসনাত আবদুল্লাহ এখানে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ’ বলতে সংসদে থাকা সরকারি দল বা ট্রেজারি বেঞ্চকেই ইঙ্গিত করেছেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা ডাকার বিষয়ে কোনো প্রতিকার না পেয়ে বিরোধী শিবিরের এই ক্ষোভ সংসদীয় কার্যক্রমে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির এই ওয়াকআউট এবং পরবর্তী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করে তুলল।

/আশিক

পাঠকের মতামত: