ক্রোয়াট দেয়াল ভাঙার চ্যালেঞ্জ, সমালোচনার জবাব দিতে পারবেন কি রোনালদো?

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০২ ১৮:৩২:১০
ক্রোয়াট দেয়াল ভাঙার চ্যালেঞ্জ, সমালোচনার জবাব দিতে পারবেন কি রোনালদো?
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরু হতেই আবারও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ফুটবল ইতিহাসের দীর্ঘ পাতায় ছয়টি পৃথক বিশ্বকাপ খেলা মাত্র দুজন ফুটবলারের একজন হওয়ার অনন্য কীর্তি তাঁর থাকলেও, এক অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য জায়গায় আটকে আছেন সিআরসেভেন। বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে নকআউটের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে এখনও পর্যন্ত একটি গোলেরও খাতা খুলতে পারেননি ৪১ ছুঁইছুঁই এই ফরোয়ার্ড।

গ্রুপ পর্বের কিছু ম্যাচে বিভিন্ন সময়ে দলের ত্রাতা হয়ে উঠলেও, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এলেই রোনালদোর পরিসংখ্যান রীতিমতো অন্ধকার। নকআউট স্টেজে এখন পর্যন্ত তাঁর নামের পাশে কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট নেই। ফলে রাউন্ড অব সিক্সটিনে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ের আগে এই পর্তুগিজ অধিনায়কের ওপর পাহাড়সম মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে।

চলতি আসরের শুরুতে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত জোড়া গোল করে রোনালদো ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু এর পরের দুই ম্যাচে ডিআর কঙ্গো ও কলম্বিয়ার শক্তিশালী রক্ষণের সামনে পুরোপুরি বোতলবন্দী ছিলেন তিনি। এই তিনটি ম্যাচেই পুরো ৯০ মিনিট মাঠে কাটলেও প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে নিজের চেনা ও প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন এই কিংবদন্তি।

এবারের নকআউটে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া, যারা ইউরোপের অন্যতম সেরা ও সংগঠিত রক্ষণভাগের (ডিফেন্স) জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ক্রোয়াটদের সেই ডিফেন্সিভ দেয়াল ভেঙে গোল করা রোনালদোর জন্য মোটেও সহজ হবে না বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। তবে রোনালদো যদি এই ম্যাচেই তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম নকআউট গোলটি পেয়ে যান, তবে দীর্ঘদিনের সব সমালোচনার মোক্ষম জবাব এক ম্যাচেই দিয়ে দিতে পারেন তিনি।

রোনালদোর এই অফ-ফর্মের কারণে মাঠের বাইরে চরম চাপে রয়েছেন পর্তুগালের হেড কোচ রবার্তো মার্টিনেজও। ফুটবল পণ্ডিতদের মতে, মার্টিনেজ দলের তরুণ ও তুখোড় মিডফিল্ডকে স্বাধীনভাবে ব্যবহার না করে এখনও রোনালদোর ওপর অতিরিক্ত ও অন্ধ নির্ভরশীলতা দেখাচ্ছেন, যা দলের সামগ্রিক গতি কমিয়ে দিচ্ছে।

বয়সের কাঁটা ৪১-এর কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য এটাই নিশ্চিতভাবে শেষ বিশ্বকাপ। ক্লাব ফুটবলে ও জাতীয় দলের হয়ে ইউরোসহ সম্ভাব্য সব বড় শিরোপা জিতলেও, বিশ্বকাপ ট্রফি ও নকআউটের পারফরম্যান্স এখনও তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা হয়ে রয়ে গেছে।

/আশিক


নরওয়ের বিপক্ষে এখনো জয়হীন ব্রাজিল! ৫ জুলাই কি ভাঙবে সেই রেকর্ড?

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০২ ১৮:২২:৩৭
নরওয়ের বিপক্ষে এখনো জয়হীন ব্রাজিল! ৫ জুলাই কি ভাঙবে সেই রেকর্ড?
ছবি : সংগৃহীত

একটি কঠিন গ্রুপ পর্ব ও প্রথম নকআউটের বৈতরণী পার হয়ে অবশেষে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো বা রাউন্ড অব সিক্সটিনে জায়গা করে নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে আফ্রিকার পরাশক্তি মরক্কোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে মিশন শুরু করলেও, এরপর টানা তিন ম্যাচে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়ে দারুণ ছন্দে রয়েছে সেলেসাওরা। সদ্য সমাপ্ত রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে জাপানকে নাটকীয়ভাবে বিদায় করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করা ব্রাজিলের সামনে এবার নতুন ও ভিন্নধর্মী চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির ইউরোপের দেশ নরওয়ে।

আগামী রোববার (৫ জুলাই) শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাজিল। এই ম্যাচে জয় পেলে কোয়ার্টার ফাইনালে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ হবে ফুটবল পরাশক্তি ইংল্যান্ড অথবা টুর্নামেন্টের অন্যতম স্বাগতিক দেশ মেক্সিকো। রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে ডিআর কঙ্গোকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছে ইংলিশরা, আর ল্যাটিন আমেরিকার দল ইকুয়েডরকে বিদায় করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মেক্সিকানরা।

এবারের আসরে ইংল্যান্ড রীতিমতো উড়ন্ত ফর্মে আছে। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের কোনো ম্যাচেই হারের মুখ দেখেনি তারা। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও শেষ দিকের জাদুকরী দুই গোলে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটায় থ্রি-লায়নসরা। বিশেষ করে ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন আক্রমণভাগে অবিশ্বাস্য ফর্মে আছেন—চার ম্যাচে পাঁচ গোল করে তিনি ইতিমধ্যেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য এক বড় আতঙ্কে পরিণত হয়েছেন।

অন্যদিকে আরেক সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ও স্বাগতিক মেক্সিকোও ঘরের মাঠে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত কোনো গোল হজম না করার এক অনন্য রেকর্ড নিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছে। অত্যন্ত সংগঠিত রক্ষণভাগ ও শৃঙ্খলিত খেলার কারণে মেক্সিকোকে তাদের ঘরের মাঠে হারানো যেকোনো দলের জন্যই কঠিন হবে। তাই কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড বা মেক্সিকো যে দলই আসুক না কেন, ব্রাজিলকে তাদের সেরা ফুটবল খেলেই সামনে এগোতে হবে।

ব্রাজিল যদি কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পার হতে পারে, তবে সেমিফাইনালে তাদের সামনে আরও কঠিন ও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করতে পারে। সেই সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া এবং ইউরোপের ডার্ক হর্স সুইজারল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দল। তবে সেমিফাইনালের সেই মহাকাব্যিক সমীকরণের আগে ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওImmediate পরীক্ষা হলো নরওয়ে।

নরওয়ে এবার তাদের বিশ্বসেরা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডকে সামনে রেখে বিশ্বজয়ের বড় স্বপ্ন দেখছে। মাঠের লড়াইয়ের আগে ফুটবলের ইতিহাসও নরওয়েকে ব্যাপক আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে। কারণ ফুটবলের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে দুটি জয় ও দুটি ড্র রয়েছে নরওয়ের; অর্থাৎ ব্রাজিলের বিপক্ষে তারা এখনও অপরাজিত!

দুই দলের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় ম্যাচটি হয়েছিল ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে। গ্রুপ পর্বের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে রোনাল্ডো নাজারিও, রিভালদো, রবার্তো কার্লোস ও কাফুদের নিয়ে গড়া সে সময়ের বিশ্বসেরা শক্তিশালী ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল নরওয়ে। এর আগে ১৯৮৮ ও ১৯৯৭ সালের প্রীতি ম্যাচেও ব্রাজিলের বিপক্ষে একটি করে জয় ও ড্র ছিল নরওয়ের। আর দুই দলের মধ্যকার সর্বশেষ ২০০৬ সালের প্রীতি ম্যাচটিও ১-১ গোলে ড্রয়ে শেষ হয়।

ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান স্পষ্ট বলছে যে, নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের অতীত ইতিহাস মোটেও সুখকর নয়। তবে ভিনিসিউস-রদ্রিগোদের বর্তমান ফর্ম, স্কোয়াড গভীরতা ও সাম্প্রতিক আত্মবিশ্বাসে ভর করে সেলেসাওরা এবার অতীত পরিসংখ্যানের জুজু উড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে। এখন দেখার বিষয়, হালান্ডের নরওয়েজিয়ান দুর্গ ভেঙে শেষ আটে জায়গা করে নিতে পারে কি না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

/আশিক


লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে চূড়ায় এমবাপ্পে

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০১ ২০:৩৯:৪০
লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে চূড়ায় এমবাপ্পে
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরু হতেই চরম উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের মহালড়াই। বিশ্বফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের এই মঞ্চে শীর্ষস্থান দখল করতে অলআউট যুদ্ধে মেতেছেন ফুটবলের মহাজাদুকর লিওনেল মেসি এবং ফ্রান্সের গতিদানব কিলিয়ান এমবাপ্পে।

বুধবার (১ জুলাই) সুইডেনের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে দুর্দান্ত জোড়া গোল করে এমবাপ্পে এখন লিওনেল মেসির সমান ৬টি গোল নিয়ে যৌথভাবে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছেন। তবে গোল সংখ্যা সমান হলেও, ফিফার অফিশিয়াল টাইব্রেকার সমীকরণ অনুযায়ী ২টি অ্যাসিস্ট বেশি থাকায় গোল্ডেন বুটের রেসে আপাতত মেসিকে টপকে এককভাবে শীর্ষস্থান নিজের দখলে রেখেছেন বর্তমান ডিফেন্ডিং হোল্ডার এমবাপ্পে। তাদের ঠিক পেছনেই ৫টি গোল নিয়ে ওত পেতে আছেন নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড এবং ৪টি করে গোল নিয়ে তাড়া করছেন ব্রাজিলের ভিনিসিউস জুনিয়র ও ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে।

ফিফার অফিশিয়াল নিয়ম অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট শেষে যদি দুই বা ততোধিক খেলোয়াড়ের গোল সংখ্যা হুবহু সমান থাকে, তবে গোল্ডেন বুটের চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারণে প্রথম টাইব্রেকার হিসেবে দেখা হয় কার অ্যাসিস্ট (গোল করানোতে অবদান) সংখ্যা বেশি। সেখানেও যদি একাধিক খেলোয়াড় সমান অবস্থানে থাকেন, তবে দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টাইব্রেকার হিসেবে হিসাব করা হয় কে মাঠে সবচেয়ে কম মিনিট খেলে (মিনিট পার গোল রেশিও) এই গোল এবং অ্যাসিস্টের কীর্তি গড়েছেন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে একাই ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতা এমবাপ্পে এবারও বৈশ্বিক মঞ্চে জাদুকরী ফর্মে ছুটে চলেছেন।

এবারের গোল্ডেন বুটের এই ত্রিমুখী ও চতুর্মুখী লড়াইটি মূলত ফুটবল ইতিহাসের পাতা নতুন করে লেখার এক অনন্য সুযোগ এনে দিয়েছে। বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো ফুটবলার ক্যারিয়ারে দুইবার এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি এককভাবে জিততে পারেননি। এবার সেই মহাকাব্যিক ইতিহাস ভাঙার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে (২০২২ বিজয়ী), ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন (২০১৮ বিজয়ী) এবং কলম্বিয়ার হামেস রদ্রিগেজের (২০১৪ বিজয়ী) সামনে।

বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের ইতিহাস ঘাঁটলে এখনও সবার ওপরে রাজকীয়ভাবে জ্বলজ্বল করছে ফ্রান্সের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড জাস্ট ফন্টেইনের নাম; যিনি ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে একাই করেছিলেন অবিশ্বাস্য ১৩টি গোল। এছাড়া ১৯৫৪ বিশ্বকাপে হাঙ্গেরির স্যান্ডর কোকসিস ১১টি এবং ১৯৭০ বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির গার্ড মুলার ১০টি গোল করেছিলেন। আধুনিক ফুটবলের চড়া ট্যাকটিক্স ও রক্ষণাত্মক যুগের বাস্তবতায় ফন্টেইনের সেই রূপকথার রেকর্ড ছোঁয়া আপাত অসম্ভব মনে হলেও, মেসি-এমবাপ্পে-হালান্ডদের মধ্যকার এই সমানে-সমান টক্কর ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিচ্ছে এক অনন্য ও মহাকাব্যিক রোমাঞ্চ।

/আশিক


চলতি বিশ্বকাপে এই প্রথম একই ঐতিহাসিক কিট দ্বিতীয়বার ব্যবহার করছে আর্জেন্টিনা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০১ ১৯:৪৭:১১
চলতি বিশ্বকাপে এই প্রথম একই ঐতিহাসিক কিট দ্বিতীয়বার ব্যবহার করছে আর্জেন্টিনা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের নকআউটে কেপ ভার্দের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের উন্মাদনা ও আগ্রহ এখন তুঙ্গে। শেষ ৩২-এর এই মহরণ পার হতে পারলে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচকে সামনে রেখে দুই দলের খেলোয়াড় ও রেফারিদের অফিশিয়াল জার্সি বা কিট চূড়ান্ত করে নিশ্চিত করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা।

রাউন্ড অব ৩২-এর বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আগামী ৪ জুলাই, বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দে। এই ম্যাচে লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্তিনেসরা মাঠে নামবেন তাদের চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা ডোরাকাটা হোম জার্সি পরে। এই জার্সির সঙ্গে মায়ামির মাঠে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের পরনে থাকবে সাদা শর্টস এবং সাদা মোজা। উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচেও এই একই কিট কম্বিনেশন ব্যবহার করেছিলেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

এর আগের ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে সম্পূর্ণ বিকল্প অর্থাৎ নেভি ব্লু কালারের জার্সি পরে মাঠে নেমেছিল মেসি বাহিনী। তবে কেপ ভার্দের বিপক্ষে সেই অ্যাওয়ে জার্সিতে পরিবর্তন এনে আবারও নিজেদের চেনা আকাশি-সাদা রূপেই ফিরছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। চলতি বিশ্বকাপে এই প্রথম একই কিট দ্বিতীয়বারের মতো ব্যবহার করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। কারণ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে হোম জার্সি পরলেও সেটির সঙ্গে তারা ব্যবহার করেছিল গাঢ় নীল শর্টস ও মোজা। আর জর্ডানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে খেলেছিল বিকল্প নেভি ব্লু কিটে। ফলে আলজেরিয়া ম্যাচের পর কেপ ভার্দে ম্যাচেই হুবহু একই কিট পুনর্ব্যবহার করছে তারা।

অন্যদিকে ফুরফুরে মেজাজে থাকা প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে মাঠে নামবে তাদের সম্পূর্ণ নীল রঙের চেনা হোম কিট পরে। গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ড্র এবং সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে নকআউট পর্বের টিকিট কাটার দুই ম্যাচেও এই একই নীল জার্সি পরে মাঠে নেমেছিল প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা চমক জাগানো এই আফ্রিকান দলটি।

খেলোয়াড়দের পাশাপাশি যথারীতি দুই দলের গোলরক্ষকদের জার্সিতেও থাকছে রঙের ভিন্নতা। আর্জেন্টিনার বিশ্বস্ত দেয়াল এমিলিয়ানো মার্তিনেস এই ম্যাচে পরবেন সম্পূর্ণ সবুজ রঙের কিট, যা তিনি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেও পরেছিলেন। আর কেপ ভার্দের তারকা গোলরক্ষক ভোজিনিয়া মাঠে নামবেন উজ্জ্বল হলুদ রঙের জার্সিতে। স্পেনের আক্রমণভাগকে রুখে দিয়ে বিশ্বজুড়ে দারুণ আলোচিত হওয়া সেই ঐতিহাসিক ম্যাচেও তার গায়ে জড়িয়ে ছিল এই একই রঙের কিট।

আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে ম্যাচের অফিশিয়াল ম্যাচ রেফারিদের নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি ফিফা। তবে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রেফারি প্যানেল নিশ্চিত করবে সংস্থাটি। রেফারিদের নাম চূড়ান্ত না হলেও তাদের ম্যাচ পরিচালনার কিট নিশ্চিত করেছে ফিফা। মায়ামির মাঠে ম্যাচ পরিচালনার সময় মাঠের রেফারিরা লাল রঙের জার্সির সঙ্গে কালো শর্টস ও কালো মোজা পরে দায়িত্ব পালন করবেন।

/আশিক


ফুটবল বিশ্লেষকদের চোখে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ: ফাইনালের পথে সম্ভাব্য যত প্রতিপক্ষ

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০১ ১৮:২৩:১৫
ফুটবল বিশ্লেষকদের চোখে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ: ফাইনালের পথে সম্ভাব্য যত প্রতিপক্ষ
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশনে নাটকীয়ভাবে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। টুর্নামেন্টের রাউন্ড অব ৩২ বা শেষ ৩২-এর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এশিয়ার পরাশক্তি জাপানের বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ২-১ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে সেলেসাওরা। গ্রুপ ‘সি’র শীর্ষ দল হিসেবে নকআউটে আসা ব্রাজিল এই রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর এখন শেষ ষোলোর মঞ্চে ইউরোপের উদীয়মান শক্তি নরওয়ের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায়।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের এই রুট বা বন্ধনী (ব্র্যাকেট) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ব্রাজিলের ফাইনালের পথটি বেশ কঠিন ও রোমাঞ্চকর সমীকরণে ভরা। আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। সেই ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছাতে হলে ব্রাজিলকে পার হতে হবে আরও তিনটি বড় বাধা। আগামী ৫ জুলাই নিউইয়র্কে রাউন্ড অব সিক্সটিন বা শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে, যা এখন পর্যন্ত ব্রাজিলের জন্য শতভাগ নিশ্চিত পরবর্তী ম্যাচ।

তবে এর পরবর্তী ধাপগুলোর সমীকরণ এখনো সম্ভাব্য প্রজেকশনের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। শেষ ষোলোর বাধা টপকাতে পারলে আগামী ১১ জুলাই মায়ামিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হতে পারে শক্তিশালী ইংল্যান্ড। আর ফুটবলপ্রেমীদের বহুল প্রতীক্ষিত সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আসতে পারে সেমিফাইনালে; ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা যদি নিজ নিজ ম্যাচে জয়ী হয়ে এগিয়ে যেতে পারে, তবে আগামী ১৫ জুলাই আটালান্টায় সেমিফাইনালের মেগা ম্যাচে দেখা হয়ে যেতে পারে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর। আর এই সমস্ত সমীকরণ মিলিয়ে ব্রাজিল যদি ফাইনালে পা রাখতে পারে, তবে ১৯ জুলাইয়ের মহোৎসবে প্রতিপক্ষ হিসেবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন অথবা ফ্রান্সকে পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

যদিও এই পুরো টুর্নামেন্ট বন্ধনী এবং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের তালিকাটি বিভিন্ন ফুটবল বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক পূর্বাভাসভিত্তিক প্রজেকশন থেকে নেওয়া হয়েছে। মাঠের ফুটবলে যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো অঘটন ঘটতে পারে, তাই বাস্তবে এই সমীকরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপও নিতে পারে।

/আশিক


দীর্ঘ ২৮ বছর পর নকআউটে নরওয়ে: আইভরি কোস্টের বিপক্ষে আজ মাঠে নামছেন হালান্ড

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ২১:৩৯:২৭
দীর্ঘ ২৮ বছর পর নকআউটে নরওয়ে: আইভরি কোস্টের বিপক্ষে আজ মাঠে নামছেন হালান্ড
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ২৮ বছরের খরা কাটিয়ে ১৯৯৮ সালের পর পুরুষ ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে খেলার ঐতিহাসিক যোগ্যতা অর্জন করেছে নরওয়ে। আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১১টায় ডালাস স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার বহুল প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হচ্ছে তারা। এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নরওয়ের সবচেয়ে বড় তারকা আর্লিং হালান্ড খেলবেন কি না, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তুমুল আগ্রহ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ফ্রান্সের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ৪-১ ব্যবধানে হারের দিনে হালান্ডকে পুরো সময় সাইডবেঞ্চে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে আজকের বাঁচা-মরার ম্যাচে তিনি শুরু থেকেই মাঠে নামবেন বলে জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

নরওয়ের প্রধান কোচ স্টেল সোলবাকেন এখনো ম্যাচের চূড়ান্ত একাদশ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করলেও হালান্ডকে নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। ফ্রান্সের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচে হালান্ডকে একাদশে না রাখার কারণ ব্যাখ্যা করে কোচ জানান, নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে এই তারকা স্ট্রাইকারকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়াই ছিল তার মূল স্ট্র্যাটেজি বা লক্ষ্য। সোলবাকেন স্পষ্ট করে বলেছেন যে ভক্তরা হালান্ডকে মাঠে দেখতে কতটা উদগ্রীব সেটা তিনি ভালো করেই বোঝেন, তবে টুর্নামেন্টে যতদূর সম্ভব দূর পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়াই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। তাই আজকের কোয়ার্টারে ওঠার লড়াইয়ে হালান্ডকে শুরু থেকেই একাদশে দেখা যাবে তা প্রায় নিশ্চিত।

চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই বিধ্বংসী ফর্মে রয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা স্ট্রাইকার। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ইরাকের বিপক্ষে দুর্দান্ত জোড়া গোল করার পর, সেনেগালের বিপক্ষেও তিনি সমানভাবে জোড়া গোল করেন। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৪টি গোল করা হালান্ড সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের দৌড়েও বেশ ভালো অবস্থানে আছেন। বর্তমানে টুর্নামেন্টের শীর্ষ গোলদাতা লিওনেল মেসির চেয়ে তিনি মাত্র দুই গোল পিছিয়ে রয়েছেন। আজকের ম্যাচে আইভরি কোস্টের শক্তিশালী ও শারীরিক ফুটবল খেলা রক্ষণভাগ ভেঙে নরওয়েকে শেষ ১৬-র বৈতরণী পার করতে হালান্ডের গোলক্ষুধাই হবে দলটির প্রধান ভরসা।

সূত্র: ফক্স স্পোর্টস।


পিছিয়ে পড়েও মেজাজ হারাননি আনচেলত্তি, ড্রেসিংরুমের সেই গোপন বার্তা ফাঁস

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ২১:২৯:৩২
পিছিয়ে পড়েও মেজাজ হারাননি আনচেলত্তি, ড্রেসিংরুমের সেই গোপন বার্তা ফাঁস
ছবি : সংগৃহীত

জাপানের বিরুদ্ধে গোল খেয়ে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর মাঠের ফুটবলার থেকে শুরু করে গ্যালারির কোটি কোটি সমর্থকের মনে যখন চরম উৎকণ্ঠা, ঠিক তখনই ডাগআউটে সম্পূর্ণ বিপরীত এক চিত্রের জন্ম দিলেন ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ম্যাচের ২৯ মিনিটে জাপানের করা দুর্দান্ত গোলের পর গ্যালারির নীল উন্মাদনা আর সেলেসাও খেলোয়াড়দের চরম হতাশার মাঝে যখন সম্প্রচার মাধ্যমের ক্যামেরা ডন কার্লোর দিকে ঘুরল, তখন তার মুখে রাগ বা ক্ষোভের কোনো চিহ্নই দেখা যায়নি। উল্টো দুই হাত নেড়ে ফুটবলারদের উদ্দেশ্যে মাঠের বাইরে থেকে তিনি পরিষ্কার ও জোরালো বার্তা দিলেন— ‘শান্ত হও, মাথা ঠান্ডা রাখো।’

প্রথমার্ধে জাপানের জমাট রক্ষণভাগের কারণে গোল পরিশোধ করতে না পারায়, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিজের চেনা কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ বস। মাঝমাঠের তারকা লুকাস পাকেতাকে তুলে নিয়ে তিনি মাঠে নামিয়ে দেন তরুণ স্ট্রাইকার এনড্রিককে। উইঙ্গে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের চেনা গতির পাশাপাশি অপর প্রান্তে এনড্রিকের দুর্দান্ত গতি, বল নিয়ে বক্সে ঢোকার ক্ষমতা এবং টাইট স্পেসে নিখুঁত শট ও ক্রস দেওয়ার সামর্থ্যকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন কার্লো। ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ডের মাথায় স্পষ্ট ছিল যে, ভিনি-এনড্রিক-কুনিয়ার মতো আক্রমণভাগকে কড়া মার্কিংয়ে আটকে রাখতে জাপান আরও বেশি লো-ব্লক তৈরি করে খেলবে, আর সেই সুযোগেই ক্রস থেকে গোল আদায় করে নেবে সেলেসাওরা।

কৌশলগত এই পরিবর্তনের পাশাপাশি ডন কার্লোর মূল দর্শনই ছিল আক্রমণাত্মক ফুটবল বজায় রেখে চরম ধৈর্য ধারণ করা। পিছিয়ে পড়ার কারণে কোনোভাবেই যেন দলের ফুটবলাররা মাঠে নিজেদের মেজাজ না হারান, সেই সতর্কবার্তাও দিয়ে রেখেছিলেন তিনি। ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি বলেন, ‘হাফ টাইমে আমি ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের শুধু একটি কথাই বলেছিলাম— একদম মাথা ঠান্ডা রাখো। আক্রমণের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে আগে হোক কিংবা পরে আমরা গোল পাবোই। কোনো পরিস্থিতিতেই তাড়াহুড়ো করে দলের মূল গঠন ও খেলার চেনা ধরন থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না।’

ম্যাচের শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে জাপানের বাধা টপকে শেষ ষোলোর টিকিট কাটলেও, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এমন শ্বাসরুদ্ধকর ও টানটান উত্তেজনার জয় পাড় ব্রাজিল ভক্তদের মনঃপূত না হওয়াই স্বাভাবিক। তবে সেলেসাওদের ইতালিয়ান বস এই ম্যাচটিকে একটি নিখুঁত ও পরিপূর্ণ ম্যাচ হিসেবেই দেখছেন। তার ভাষ্যমতে, ‘এটি একেবারেই একটি পরিপূর্ণ ম্যাচ ছিল। জাপান প্রথমার্ধে আমাদের বিন্দুমাত্র জায়গা দেয়নি এবং অত্যন্ত টাইট ডিফেন্স করেছে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আমরা কিছু সুনির্দিষ্ট কৌশলগত পরিবর্তনের মাধ্যমে সেই দেয়াল ভাঙতে সক্ষম হই এবং আক্রমণের জায়গা তৈরি করি।’

মাঠে ব্রাজিলের সমতাসূচক গোল কিংবা পরবর্তীতে ম্যাচজয়ী লিড নেওয়ার মুহূর্তেও ডাগআউটে আইস-কুল বা সম্পূর্ণ স্থির ছিলেন কার্লো আনচেলত্তি। রেফারির শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে যখন ডাগআউটে থাকা নেইমার ও অ্যালেক্স সান্দ্রোরা উল্লাসে ফেটে পড়ে দৌড়ে মাঠে প্রবেশ করছেন, তখনও কার্লো ছিলেন অবিশ্বাস্য রকম সুস্থির। নিজের দলের উদযাপনে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ঐতিহ্য মেনে জাপানের কোচের সঙ্গে হাত মেলাতে এগিয়ে যান। কোচের এই শান্ত ও দূরদর্শী মানসিকতার প্রশংসা করে ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো বলেন, ‘আজকের এই কঠিন জয়ের পেছনে আমাদের মানসিক স্থিরতা ও শান্ত থাকাটাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। লো-ব্লকে খেলা জাপানকে আমরা ক্রমাগত চাপের মুখে রেখেছিলাম এবং আমরা জানতাম শান্ত থেকে সঠিক কৌশল ধরে রাখলে গোল আসবেই।’

/আশিক


১৯৭৪ থেকে ১৯৯০: বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল দ্বৈরথের রোমাঞ্চকর চার অধ্যায়

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ২০:২৪:৪৩
১৯৭৪ থেকে ১৯৯০: বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল দ্বৈরথের রোমাঞ্চকর চার অধ্যায়
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এবং মর্যাদাপূর্ণ দ্বৈরথগুলোর একটি হলো আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিল। আন্তর্জাতিক ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাসে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল একাধিকবার মুখোমুখি হলেও ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চ তথা ফিফা বিশ্বকাপে তাদের দেখা হয়েছে মাত্র চারবার। বিশ্বমঞ্চের এই চারবারের দেখায় জয়ের পরিসংখ্যানে আর্জেন্টিনার চেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে সেলেসাওরা।

ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক সাইট ‘দ্য সকার ওয়ার্ল্ডকাপস’ জানায়, বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই পরাশক্তির প্রথম দেখা হয়েছিল ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে। সেবার পশ্চিম জার্মানিতে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল ব্রাজিল। এর ঠিক পরের আসরে অর্থাৎ ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার ঘরের মাঠে দ্বিতীয়বারের মতো মুখোমুখি হয় এই দুই দল। তবে সেই ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়েছিল।

পরবর্তীতে ১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপে আবারও এই দুই পরাশক্তি একে অপরের মুখোমুখি হয় এবং সেবারও আর্জেন্টিনাকে ৩-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিলিয়ানরা।

তবে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের এই একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান ঘটে ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে। নকআউট পর্বের তথা শেষ ষোলোর সেই ঐতিহাসিক ও উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ক্লদিও ক্যানিজিয়ার করা একমাত্র দর্শনীয় কোলে ব্রাজিলকে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে প্রথমবার বিশ্বকাপের মঞ্চে জয়ের স্বাদ পায় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার পাস থেকে গোলটি করেছিলেন ক্যানিজিয়া। ১৯৯০ সালের পর এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে এই দুই দলের আর কোনো দেখা হয়নি।

সামগ্রিক হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপে হওয়া ৪টি ম্যাচের মধ্যে ব্রাজিল জয় পেয়েছে ২টিতে, আর্জেন্টিনা জিতেছে ১টি ম্যাচে এবং বাকি ১টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে জয়ের দিক থেকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে ব্রাজিল একটি জয়ের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।

তবে বিশ্বকাপ বাদে কোপা আমেরিকা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টসহ সর্বমোট অফিশিয়াল ম্যাচের মুখোমুখি পরিসংখ্যানে দুই দলের জয়-পরাজয়ের হিসাব অত্যন্ত কাছাকাছি এবং তা সবসময়ই এক চুল পরিমাণ ব্যবধানে ওঠানামা করে।

/আশিক


ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের পরবর্তী রোডম্যাপ: সেমিফাইনালে সুপার ক্লাসিকোর আভাস

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ১৮:৩১:২২
ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের পরবর্তী রোডম্যাপ: সেমিফাইনালে সুপার ক্লাসিকোর আভাস
ছবি : সংগৃহীত

জাপানের বাধা টপকে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করল ব্রাজিল। রাউন্ড অব ৩২-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে এশিয়ার পরাশক্তি জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে নকআউটের প্রথম পরীক্ষায় সফলভাবে ‘পাস’ করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ের পর সেলেসাওদের সামনে এখন কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার মিশন। তবে তার আগে তাদের সফলভাবে পার হতে হবে রাউন্ড অব সিক্সটিন বা শেষ ষোলোর কঠিন বৈতরণী।

ব্রাজিলের পরবর্তী মহাগুরুত্বপূর্ণ শেষ ষোলোর ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ জুলাই, বাংলাদেশ সময় রাত দুইটায়। তবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কোন দল হচ্ছে, তা চূড়ান্তভাবে জানা যাবে আজ মঙ্গলবার রাতেই। শেষ ৩২-এর অন্য একটি ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে আইভরি কোস্ট ও নরওয়ে; এই দুই দলের মধ্যকার জয়ী দলই শেষ ষোলোর মঞ্চে ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার টিকিট পাবে।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বাধা টপকে নকআউটে পা রাখা প্রতিটি দলের জন্যই পরবর্তী পথ ও সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের সমীকরণ এরই মধ্যে সম্পূর্ণ স্পষ্ট হয়ে গেছে। ব্রাজিল যদি ৫ জুলাইয়ের ম্যাচে জয়ী হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখতে পারে, তবে সেখানে তাদের মুখোমুখি হতে পারে শক্তিশালী ইংল্যান্ড। আর টুর্নামেন্টে যদি বড় কোনো অঘটন ঘটে এবং ইংল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে না পারে, তবে ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হবে মেক্সিকো, ইকুয়েডর ও ডিআর কঙ্গোর মধ্যে যেকোনো একটি দল। আর ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণের জায়গা হলো সেমিফাইনাল; ব্রাজিল যদি কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা টপকে শেষ চারে পৌঁছাতে পারে, তবে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

/আশিক


ব্রাজিলকে নিয়ে ভুল ভবিষ্যদ্বাণী, জার্মান অর্থনীতিবিদকে নেইমারের খোঁচা

খেলা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ০৯:৫২:২০
ব্রাজিলকে নিয়ে ভুল ভবিষ্যদ্বাণী, জার্মান অর্থনীতিবিদকে নেইমারের খোঁচা
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ শুরুর আগে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন ও বিভিন্ন দলের পারফরম্যান্স নিয়ে করা একটি ভবিষ্যদ্বাণী আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন সম্পর্কে একাধিক সফল পূর্বাভাস দিয়ে পরিচিতি পাওয়া জার্মান অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট এবারও নিজের গাণিতিক মডেলের ভিত্তিতে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফলাফল অনুমান করেছিলেন। তবে জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের নাটকীয় জয়ের পর সেই পূর্বাভাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভেস্তে যায়। আর সেই সুযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার।

চলমান বিশ্বকাপের আগে প্রকাশিত ক্লেমেন্টের গবেষণায় দাবি করা হয়েছিল, এবারের আসরে নেদারল্যান্ডস শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতবে এবং ফাইনালে পর্তুগালকে পরাজিত করবে। একই সঙ্গে তার বিশ্লেষণে বলা হয়, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল প্রত্যাশার তুলনায় হতাশাজনক পারফরম্যান্স করবে এবং নকআউট পর্বে জাপানের কাছে বিদায় নেবে।

সোমবার (২৯ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে শুরুতে ক্লেমেন্টের পূর্বাভাস বাস্তব রূপ নিতে চলেছে বলেই মনে হচ্ছিল। ম্যাচের ২৯তম মিনিটে কাইশু সানোর গোলে এগিয়ে যায় জাপান। ব্রাজিল পিছিয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হতে শুরু করে জার্মান অর্থনীতিবিদের সেই গবেষণা। অনেকেই মন্তব্য করতে থাকেন, আবারও হয়তো মিলতে যাচ্ছে ক্লেমেন্টের হিসাব।

তবে বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়িয়ে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোর গোলে ম্যাচে সমতা আসে। এরপর যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির দুর্দান্ত গোল ব্রাজিলকে এনে দেয় ২-১ ব্যবধানের নাটকীয় জয়। এই জয়ের মধ্য দিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে কার্লো আনচেলত্তির দল এবং একই সঙ্গে ভুল প্রমাণিত হয় ক্লেমেন্টের সবচেয়ে আলোচিত পূর্বাভাসগুলোর একটি।

ব্রাজিলের রোমাঞ্চকর জয়ের কিছুক্ষণ পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান নেইমার। দীর্ঘদিন চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকা এই তারকা সংক্ষিপ্ত কিন্তু ব্যঙ্গাত্মক এক বার্তায় লেখেন, "মিস্টার জোয়াকিম ক্লেমেন্ট... পরের বিশ্বকাপে আবারও চেষ্টা করবেন।" নেইমারের এই মন্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

জোয়াকিম ক্লেমেন্টের গবেষণা সাধারণ ফুটবল বিশ্লেষণের চেয়ে ভিন্নধর্মী। তিনি শুধুমাত্র খেলোয়াড় বা দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নয়, বরং মাথাপিছু জিডিপি, জনসংখ্যা, আয়োজক দেশের আবহাওয়া, অর্থনৈতিক সূচক এবং আরও কয়েকটি অপ্রচলিত ভেরিয়েবল ব্যবহার করে একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেল তৈরি করেন। সেই মডেলের মাধ্যমে প্রতিটি দলের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়।

গত ৯ এপ্রিল প্রকাশিত তার গবেষণাপত্রে ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্ভাব্য ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে পর্তুগালের বিপক্ষে বিজয়ী হিসেবে দেখানো হয়েছিল। যদিও টুর্নামেন্ট এখনও অনেক বাকি এবং নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচই নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। ফলে ক্লেমেন্টের চূড়ান্ত ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে কতটা মিলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: