৩১২ থেকে ৫০০ মিলিয়নে উন্নীত জাপানি ঋণ, কোন সংকটে পাশে দাঁড়াচ্ছে টোকিও?

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০১ ২১:৩৬:৫৩
৩১২ থেকে ৫০০ মিলিয়নে উন্নীত জাপানি ঋণ, কোন সংকটে পাশে দাঁড়াচ্ছে টোকিও?
ছবি : সংগৃহীত

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছে জাপানের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক সংসদীয় ভাইস মিনিস্টার শিমাদা তোমাকির নেতৃত্বে আসা জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) একটি প্রতিনিধি দল। বুধবার (১ জুলাই) বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার ও বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকার মেট্রোরেল বা এমআরটি লাইনসমূহ এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনালসহ জাইকার অর্থায়নে বাংলাদেশে চলমান বিভিন্ন মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকের অন্যতম বড় খবর ছিল বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জাপানের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধি। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে জাপানের পূর্বনির্ধারিত ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা বাড়িয়ে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার বিষয়ে টোকিও ইতিবাচক সাড়া দেয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত ‘বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (Bangladesh–Japan Economic Partnership Agreement—EPA) দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ তাদের সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে জাপানি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে যে, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে জাপানের পক্ষ থেকে পাঁচটি অত্যাধুনিক প্যাট্রোল বোট (পাহারাদার জাহাজ) উপহার হিসেবে প্রদান করা হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান মাথাব্যথা ‘রোহিঙ্গা সংকট’ নিয়েও গভীর আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে আশ্রিত লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে সম্পূর্ণ নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে জাপানের অব্যাহত মানবিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা কামনা করেন এবং এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে টোকিওকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

ফলপ্রসূ এই আলোচনা শেষে জাপানি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপান সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানায়। প্রধানমন্ত্রীও কূটনৈতিক শিষ্টাচার মেনে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে দ্বিপাক্ষিক সফরে জাপান যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান।

অন্যদিকে জাপানের পক্ষে ভাইস মিনিস্টারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যুরোর পরিচালক হিরোসে আইকো, জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো এবং জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো।

/আশিক


শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই: শামা ওবায়েদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০১ ২১:৩৩:৩৪
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই: শামা ওবায়েদ
ছবি : সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান বা বলার মতো কোনো নতুন অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, বন্দি বিনিময় চুক্তির সব শর্ত ও নিয়ম মেনেই শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে; তবে আপাতত এই প্রক্রিয়ায় কোনো বাড়তি বা নতুন অগ্রগতি নেই।

দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক সম্পর্কের নীতি ব্যাখ্যা করে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’—এই নীতিতে বিশ্বাসী এবং বিশ্বের সব দেশের সাথেই সুদৃঢ় ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিবিড় হওয়ার বিষয়টি অন্য কোনো তৃতীয় দেশের জন্য চিন্তার কারণ হওয়া উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া এশিয়ার পরাশক্তি চীনের সঙ্গে প্রস্তাবিত ‘২+২ মেকানিজম’ এবং বিশেষ ‘অর্থনৈতিক করিডর’ স্থাপনের বিষয়টি বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক পর্যালোচনা পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরানোর বিষয়ে বড় অগ্রগতি জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্তত ১০টি দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ সফলভাবে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আইনি প্রক্রিয়ায় আরও এক ধাপ এগিয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন, এই রাষ্ট্রীয় সফরটি মূলত দুই মুসলিম দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।

/আশিক


ঢাকার ১১০ কিমি নদী পথে চলবে বিদ্যুৎচালিত যান, মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি জানলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০১ ২০:১৫:৫২
ঢাকার ১১০ কিমি নদী পথে চলবে বিদ্যুৎচালিত যান, মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি জানলেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট নিরসনে ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার সড়ক (ইনার সার্কুলার রিং রোড) ও নৌপথ কার্যকরভাবে চালুর লক্ষ্যে গৃহীত মেগা অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সড়ক ব্যবস্থাপনা ও ঢাকার চারপাশের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক উন্নয়নবিষয়ক এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

উপ-প্রেস সচিব জানান, এই সমন্বিত মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে রাজধানীর যানজট কীভাবে স্থায়ীভাবে নিরসন করা হবে, তা বৈঠকে বিশদ গ্রাফিক্স ও পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাজধানীর ‘ইনার সার্কুলার রিং রোড’ নির্মাণ প্রকল্পের সর্বশেষ ভৌত অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতি অবহিত করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকার এই বৃত্তাকার সড়কের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৯ কিলোমিটার, যা দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত। এর একটি অংশ আব্দুল্লাহপুর রেলগেট থেকে শুরু করে ধউর, বিরুলিয়া, গাবতলী, বছিলা, হাজারীবাগ, সোয়ারিঘাট, কদমতলী, তেঘরিয়া, পোস্তগোলা, ফতুল্লা, চাষাঢ়া ও শিমরাইল হয়ে ডেমরা পর্যন্ত বিস্তৃত। অন্য অংশটি আব্দুল্লাহপুর রেলগেট থেকে তেরমুখ, পূর্বাচল ও বেরাইদ হয়ে সরাসরি ডেমরায় গিয়ে যুক্ত হবে। এই বিশাল রিং রোডের মধ্যে রায়েরবাজার, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর অংশের নির্মাণকাজ বর্তমানে পুরোদমে চলছে। বৈঠকে জানানো হয়, চলমান এই অংশের প্রায় ৪৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

এই বৃত্তাকার সড়কটি সম্পূর্ণরূপে নির্মিত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা যানবাহনগুলোকে রাজধানীর ভেতরের অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবহার না করেই এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নির্বিঘ্নে চলে যেতে পারবে। বিশেষ করে সিলেট, মাওয়া (পদ্মা সেতু) ও চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে আসা দূরপাল্লার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহনগুলো ঢাকার মূল শহরের ভেতরে প্রবেশ না করেই তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। এর ফলে ঢাকা শহরের ওপর থেকে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ অনেকটাই হ্রাস পাবে এবং মহানগরের অভ্যন্তরীণ যানজট পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটবে।

সড়কপথের পাশাপাশি ঢাকাকে ঘিরে থাকা ১১০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদী পথকে পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়েও বৈঠকে জোর দেওয়া হয়। এই বৃত্তাকার নৌপথটি পুরোদমে চালু করা সম্ভব হলে রাজধানীর মূল সড়কের ওপর থেকে যানবাহনের চাপ এক ধাক্কায় বহুগুণ কমে যাবে এবং সাধারণ মানুষ কোনো যানজট ছাড়াই এক গন্তব্য থেকে অন্য গন্তব্যে অনায়াসে যাতায়াত করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, বৈঠকে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা এই নৌপথ চালুর কারিগরি ও পরিবেশগত বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেছেন। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই নদী পথ ব্যবহার করলে ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকবে, জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং সময়ও অনেক কম লাগবে। কারণ, এই বৃত্তাকার নদী পথে যেসব আধুনিক নৌযান চালানো হবে, তার সবগুলোই হবে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ও বিদ্যুৎচালিত (ইলেকট্রিক)।

উচ্চপর্যায়ের এই পর্যালোচনা বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, সড়ক পরিবহন সচিব জিয়াউল হক, নৌপরিবহন সচিব মো. জাকারিয়া, রেলপথ সচিব ফাহমিদুল ইসলাম এবং বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী জহিরুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. বোরহান উদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিঠুন চন্দ্র শীল এবং কারিগরি বিশেষজ্ঞ হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক খান মাহমুদ আমানত ও অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বৈঠকে অংশ নেন।

/আশিক


এইচএসসিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা: কেন্দ্রে বডি ক্যামেরা ও প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০১ ১৮:০২:৪৬
এইচএসসিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা: কেন্দ্রে বডি ক্যামেরা ও প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সম্পূর্ণ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও শতভাগ নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করতে দেশজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা এবং কঠোর তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে জানান, পরীক্ষার সার্বিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবারই প্রথম পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ‘বডি ক্যামেরা’ ব্যবহারের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষা চলাকালীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁস বা যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে অপরাধীদের তাৎক্ষণিকভাবে সনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার (১ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আসন্ন ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কড়া নির্দেশনার কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের পাবলিক পরীক্ষা-সংক্রান্ত প্রচলিত আইন সংশোধন করে প্রশ্নপত্র ফাঁস, ডিজিটাল জালিয়াতি কিংবা পরীক্ষা-সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। প্রশ্নফাঁস বা জালিয়াতির সাথে কোনো শিক্ষক বা পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, যে-ই জড়িত থাকুক না কেন, কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় এবার উত্তরপত্র মূল্যায়ন ব্যবস্থায়ও এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, আগে পরীক্ষার্থীরা খাতা চ্যালেঞ্জ করলে শুধু নম্বর পুনর্নিরীক্ষণের (স্ক্রুটিনি) সুযোগ পেলেও, এখন থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে পুরো উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের (রি-ইভালুয়েশন) সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড থেকে নমুনা উত্তরপত্র (স্যাম্পল স্ক্রিপ্ট) সংগ্রহ করে তা পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে, যাতে বোঝা যায় পরীক্ষকরা পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত কিংবা কম নম্বর দিচ্ছেন কিনা। এজন্য পরীক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ জোরদার করা হয়েছে এবং মূল্যায়নের মান বাড়াতে একজন পরীক্ষকের ওপর উত্তরপত্রের অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সম্ভাব্য দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির প্রস্তুতি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। দেশের কোথাও বন্যা বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অকারণে বা সামান্য কারণে পরীক্ষা স্থগিত করার পক্ষে বর্তমান সরকার কোনোভাবেই নয়।

চলতি বছর নিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কেন এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না, তা মন্ত্রণালয় গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছে। ড্রপ-আউট বা শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার মূল কারণগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে তা রোধে প্রয়োজনীয় কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র চালুর বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশেও সম্পূর্ণ ডিজিটাল পরীক্ষা ব্যবস্থায় হ্যাকিংয়ের মতো বড় ধরনের সাইবার অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। তাই বর্তমান বাস্তবতায় আমাদের প্রচলিত এনালগ ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও জোরদার করাই এই মুহূর্তে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্রের ওয়ান-টাইম ট্র্যাকিং ও নিরাপত্তার বিদ্যমান সব ধরনের প্রযুক্তিগত দুর্বলতা দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে আরও একটি বড় তথ্য দিয়ে জানান, আগামী ২০২৮ সাল থেকে দেশজুড়ে সম্পূর্ণ নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এছাড়া এবার প্রথমবারের মতো সারা দেশে সম্পূর্ণ অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও যাতে অভিন্ন মান নিশ্চিত করা যায়, সেজন্য পরীক্ষকদের বিশেষ নির্দেশনা, প্রশিক্ষণ ও কঠোর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

সবশেষে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আহ্বান জানিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো ধরনের সত্যতা যাচাই না করে পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, এইচএসসি পরীক্ষা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় এবারও দেশজুড়ে অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

/আশিক


ভারতীয় ভিসা আবেদনে বড় পরিবর্তন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ২২:১০:৪৬
ভারতীয় ভিসা আবেদনে বড় পরিবর্তন
ছবি : সংগৃহীত

ভারতীয় ভিসা আবেদনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বরাদ্দে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক)। আগামী বুধবার (১ জুলাই) থেকে সারা দেশে নতুন এই অনলাইন ব্যবস্থা কার্যকর হতে যাচ্ছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভিসা প্রত্যাশী আবেদনকারীরা আর নিজেদের পছন্দমতো অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় (টাইম স্লট) বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন না। এর পরিবর্তে, অনলাইনে আবেদনপত্র চূড়ান্তভাবে জমা দেওয়ার সময় সিস্টেমে খালি থাকা পরবর্তী যেকোনো একটি সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটোমেটিকভাবে) আবেদনকারীর জন্য বরাদ্দ করা হবে।

আইভ্যাক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১ জুলাই থেকে বাংলাদেশের সব কটি ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে সব ধরনের ভিসার (ট্যুরিস্ট, মেডিকেল, বিজনেস ইত্যাদি) ক্ষেত্রে এই নতুন টাইম-স্লটভিত্তিক আবেদন জমা দেওয়ার নিয়ম চালু হচ্ছে। প্রতিটি আইভ্যাক কেন্দ্রের দৈনিক আবেদন গ্রহণ করার সর্বোচ্চ সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে অনলাইন সিস্টেম ক্রমানুসারে আবেদনকারীদের জন্য সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দেবে। ফলে নতুন নিয়মে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং করার সময় আবেদনকারীদের আলাদাভাবে কোনো টাইম স্লট নির্বাচন করার প্রয়োজন পড়বে না।

ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরও নির্বিঘ্ন, সুশৃঙ্খল ও সময়মতো সম্পন্ন করার স্বার্থে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিতকরণ কপিতে (স্লট পেপার) উল্লেখিত নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আইভ্যাক কেন্দ্রে সশরীরে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে আইভ্যাক কর্তৃপক্ষ।

/আশিক


প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো আইন বাতিল করে পাস হলো জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ১৮:৫০:২৭
প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো আইন বাতিল করে পাস হলো জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

দেশে জুয়া ও প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন গ্যাম্বলিংয়ের থাবা থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো ব্রিটিশ আমলের আইন বাতিল করেছে সরকার। জুয়া প্রতিরোধে ১৮৬৭ সালের অত্যন্ত পুরোনো ‘The Public Gambling Act, 1867’ আনুষ্ঠানিকভাবে রহিতকরণ করা হয়েছে। পুরোনো এই আইনের পরিবর্তে সময়ের দাবির প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদে যুগোপযোগী ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে। নতুন এই আইনি কাঠামোতে জুয়া, অনলাইন জুয়া, দূরবর্তী জুয়া, বেটিং (বাজি বা পণ), বাজিকর (Bookmaker), ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, মিরর সাইট ও ভিপিএনসহ আধুনিক যুগের মোট ২৪ ধরনের বিষয়কে সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই ঐতিহাসিক বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এর আগে গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে বিলটি প্রথম উত্থাপন করেছিলেন। পরে বিলটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ ও প্রতিবেদনের পরই মঙ্গলবার বিলটি পাস করা হয়। পাস হওয়া নতুন আইনে অপরাধের তীব্রতা ও ধরন অনুযায়ী ১৪ ধরনের কঠোর কারাদণ্ড, বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিশেষ বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিদ্যমান ‘The Public Gambling Act, 1867’ আইনটি দেড়শ বছরেরও বেশি পুরোনো এবং বর্তমান সময়ের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার নিত্যনতুন ধরন মোকাবিলায় এটি আর কোনোভাবেই যথেষ্ট ছিল না। এছাড়া দেশের মূল সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে জুয়া নিরোধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৮ সালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনেও এই আইনটি যুগোপযোগী করে অপরাধীদের শাস্তির পরিমাণ বহুগুণ বাড়াতে জোরালো সুপারিশ করা হয়েছিল।

তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমানে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, ভুয়া সিম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, বায়োমেট্রিক জালিয়াতি, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া, অর্থপাচার ও সাইবার প্রতারণা দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা এবং সামগ্রিকভাবে তরুণ সমাজের ভবিষ্যতের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে। এসব অপরাধ কঠোরভাবে প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রের নৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার্থেই এই আধুনিক ও সমন্বিত আইন প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল।

পাস হওয়া নতুন আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে সুনির্দিষ্টভাবে ১৪ ধরনের অপরাধ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে— প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যেকোনো জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া পরিচালনা, অনলাইন বেটিং বা বাজি ধরা, জুয়ার নির্দিষ্ট স্থান পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণাবেক্ষণ বা ব্যবহার করা, জুয়ার সামগ্রী প্রস্তুত, সংরক্ষণ, বিক্রি, বিতরণ বা ব্যবহার করা, বাজিকর হিসেবে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করা, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিং করা, জুয়ার বিজ্ঞাপন তৈরি, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ও রেফারেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা। এছাড়া ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, হোস্টিং, ডোমেইন সার্ভিস বা ক্লাউড অবকাঠামো ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা করা, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট ও বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে জুয়া খেলা এবং জুয়ার অর্থ লেনদেন, অর্থপাচার ও লেনদেনে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করাকেও অপরাধের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন আইনে শাস্তির বিধানে বলা হয়েছে, সাধারণ জুয়ার অপরাধের জন্য অপরাধীকে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। তবে অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে শাস্তি অনেক বেশি কঠোর— সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড। অন্যদিকে অনলাইন বেটিং বা বাজির জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত বিশাল অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। জুয়ার স্থান পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও চার লাখ টাকা অর্থদণ্ডের পাশাপাশি আদালতের আদেশে সংশ্লিষ্ট ভবন, কক্ষ, যানবাহন, সার্ভার অবকাঠামো বা যেকোনো সম্পত্তি সরাসরি বাজেয়াপ্ত করা যাবে। জুয়ার সামগ্রী সংরক্ষণ, প্রস্তুত, সরবরাহ, বিক্রি, বিতরণ, আমদানি বা ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং আদালতের মাধ্যমে এসব সামগ্রী বাজেয়াপ্ত বা ধ্বংসের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখা হয়েছে। এছাড়া বাজিকর হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।

ক্রীড়া ক্ষেত্রে কলঙ্ক লেপনকারী ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য আইনে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে আদালত দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অথবা স্থায়ীভাবে যেকোনো ধরনের খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা বা ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণে সম্পূর্ণ অযোগ্য ঘোষণা করতে পারবেন। একইভাবে জুয়ার বিজ্ঞাপন, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, মিথ্যা লাভের প্রলোভন, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা রেফারেল ক্যাম্পেইন পরিচালনার জন্য কোনো ব্যক্তি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী, খেলোয়াড় বা সেলিব্রিটিকে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করার স্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে।

আইন অমান্য করে ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, হোস্টিং, ডোমেইন সার্ভিস, ক্লাউড অবকাঠামো বা কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে জুয়া পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ can সাত বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং এই অপরাধ যদি সংঘবদ্ধভাবে বা সরাসরি অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়, তবে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। জুয়ার অর্থ যদি কোনো ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট, হাওয়ালা, হুন্ডি বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন, গোপন বা বৈধ করার চেষ্টা করা হয়, তবে তা ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২’-এর অধীন সম্পৃক্ত অপরাধ (Predicate Offence) হিসেবে গণ্য হবে এবং সেই আইনেই বিচার করা হবে।

আইনে করপোরেট অপরাধের বিষয়ে বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানি, করপোরেট সংস্থা, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, হোস্টিং প্রোভাইডার, পেমেন্ট গেটওয়ে বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জুয়ার অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট পরিচালক, নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, অংশীদার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সরাসরি দায়ী করা যাবে; যদি না তিনি প্রমাণ করতে পারেন যে অপরাধটি তার সম্পূর্ণ অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে এবং তা প্রতিরোধে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটিকেও পৃথকভাবে অভিযুক্ত করা যাবে এবং আদালত প্রয়োজনে তাদের ব্যবসায়িক নিবন্ধন, লাইসেন্স বা সামগ্রিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত, বাতিল বা স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে পারবেন। একই অপরাধ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পুনরায় সংঘটিত করলে তাকে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির দ্বিগুণ পরিমাণ দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন আইনে অপরাধে ব্যবহৃত বা অপরাধ থেকে অর্জিত সব ধরনের অর্থ, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিম ও ডিজিটাল ডিভাইসসহ অন্যান্য সম্পদ সরকারিভাবে বাজেয়াপ্ত করার পূর্ণ ক্ষমতা আদালতকে দেওয়া হয়েছে। অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিং এবং সাইবার স্পেসে সংঘটিত যাবতীয় অপরাধের বিচার করা হবে দেশের বিশেষায়িত সাইবার ট্রাইব্যুনালে, আর অন্যান্য সাধারণ অপরাধের বিচার হবে এখতিয়ারসম্পন্ন ফৌজদারি আদালতে।

আইনের অধীনে আনা সব ধরনের অপরাধ আমলযোগ্য (Cognizable), জামিন অযোগ্য (Non-Bailable) এবং আপস অযোগ্য (Non-Compoundable) হিসেবে গণ্য হবে। অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে সাব-ইন্সপেক্টরের (এসআই) নিচের পদমর্যাদার কোনো পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না এবং তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ আদালতের অনুমতি নিয়ে অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট বা ক্রিপ্টো ওয়ালেট সাময়িকভাবে ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করতে পারবে।

এছাড়া সরকার বা সরকার-নির্ধারিত যেকোনো কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে জুয়া বা বেটিং-সংশ্লিষ্ট যেকোনো ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার, ডোমেইন, আইপি অ্যাড্রেস, ইউআরএল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ, গ্রুপ, চ্যানেল এবং ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম সরাসরি ব্লক, অপসারণ বা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে পারবে। জুয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, এমএফএস, পেমেন্ট গেটওয়ে, ডিজিটাল ওয়ালেট ও ক্রিপ্টো ওয়ালেট চিরতরে বন্ধের নির্দেশও আদালত দিতে পারবেন।

এর পাশাপাশি জুয়া, অনলাইন জুয়া, বেটিং, অর্থপাচার ও সংশ্লিষ্ট সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে একটি ‘জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেজ’ প্রণয়ন, এনআইডি-সিম-এমএফএস লিংকিং সিস্টেম বাস্তবায়ন, বায়োমেট্রিক ও ফেসিয়াল রিকগনিশনভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় যাচাই ব্যবস্থা চালু এবং বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠনের আইনি বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, নতুন এই কঠোর আইনটি দেশজুড়ে পুরোপুরি কার্যকর হলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া, অনলাইন বেটিং, ডিজিটাল আর্থিক প্রতারণা ও অর্থপাচার প্রতিরোধে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তা দেশের সামগ্রিক সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

/আশিক


স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ১৮:২২:২৭
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি: মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন পুরোপুরি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতিমধ্যে সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সরকারি দলের সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের (নওগাঁ-৬) টেবিলে উপস্থাপিত একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

সংসদে মন্ত্রী বলেন, আইন ও নির্ধারিত সময়সূচির মধ্যে একটি সর্বজনগ্রাহ্য, অংশগ্রহণমূলক এবং অবাধ স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন তাদের প্রশাসনিক ও কৌশলগত সব ধরনের পূর্বপ্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

অধিবেশনে এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর অপর এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রবাসীদের সুবিধার্থে প্রথমবারের মতো তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর ‘আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট’ পদ্ধতিতে ভোট প্রদানের জন্য একটি আধুনিক রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সরকারের পক্ষ থেকে এই ডিজিটাল ভোটদানের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিকে এই পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতির আওতায় নিয়ে আসতে নির্বাচন কমিশন নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল করিম (গাইবান্ধা-২)-এর একটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে সমবায় মন্ত্রী জানান, দেশের তৃণমূল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি অর্থাৎ বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সদস্যদের বিদ্যমান বেতন-ভাতা নতুন করে বৃদ্ধি করার কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে সরকারের বিবেচনাধীন নেই।

/আশিক


১ জুলাই থেকে নতুন অর্থনৈতিক অভিযাত্রা: পাস হলো দেশের অন্যতম বড় জাতীয় বাজেট

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ১৮:১০:৫২
১ জুলাই থেকে নতুন অর্থনৈতিক অভিযাত্রা: পাস হলো দেশের অন্যতম বড় জাতীয় বাজেট
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে পাস হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল ও ঐতিহাসিক জাতীয় বাজেট। এটি পাস হওয়ার মাধ্যমে আগামী বুধবার (১ জুলাই) থেকেই সারা দেশে নতুন এই অর্থবছরের বাজেট কার্যকর হতে যাচ্ছে। দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক গতিশীলতার কথা মাথায় রেখে পাস হওয়া নতুন এই বাজেটে কর, ভ্যাট এবং আবাসন খাতে বিনিয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বেশ কয়েকটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটের মাধ্যমে নতুন অর্থবছরের এই বাজেট সর্বসম্মতিক্রমে পাস করা হয়।

এর আগে, সোমবার (২৯ জুন) দেশের অর্থনীতিকে একটি মানবিক ও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীসহ অর্থবিল পাস করেছিল জাতীয় সংসদ। সাধারণ করদাতাদের বড় স্বস্তি দিয়ে সংশোধিত অর্থবিলে করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুশাসন নিশ্চিত করতে আবাসন খাতে কোনো ধরনের প্রশ্ন ছাড়া কালো টাকা বিনিয়োগ করার যে অনৈতিক সুযোগ ছিল, তা পুরোপুরি বাতিল বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতের ব্যয়ভার সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজের করপোরেট কর বিদ্যমান ১০ শতাংশ থেকে অর্ধেক কমিয়ে মাত্র ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ছোট ও মাঝারি পুঁজির ব্যবসায়ীদের সুরক্ষায় খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন করে ভ্যাট আরোপ করার যে প্রস্তাবটি করা হয়েছিল, তা পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। সোমবারের অর্থবিল পাসের মধ্য দিয়ে দেশের কর ও শুল্কসংক্রান্ত সরকারের সব প্রস্তাব চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।

সোমবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এই বাজেটের ওপর সমাপনী সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজেদের সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপকল্প তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে, গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে নতুন সরকারের পক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এই প্রস্তাবিত বাজেট আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

/আশিক


ভিসা সহজ হতেই বদলাচ্ছে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ১১:৩২:৪২
ভিসা সহজ হতেই বদলাচ্ছে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের নিয়মিত ভিসা সেবা ধীরে ধীরে পুনরায় চালু হওয়ার প্রক্রিয়াকে কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না কলকাতার কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী মহলের অনেকেই। তাদের মূল্যায়ন, এই পদক্ষেপ দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে নতুন বাস্তবতার দিকে এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক ইঙ্গিত, যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক যোগাযোগ, বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে পারে।

কলকাতাভিত্তিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা ও দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে নিয়মিত সংলাপ ও মানুষের অবাধ যাতায়াতের বিকল্প নেই। তাদের ভাষ্য, একটি নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আস্থা পুনর্গঠনের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নদীর পানিবণ্টন, জ্বালানি সহযোগিতা, আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ এবং বাণিজ্যের মতো বহু কৌশলগত বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ফলে মতপার্থক্য থাকলেও তা আলোচনার টেবিলে সমাধান করাই দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের স্বার্থের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কলকাতার ব্যবসায়ী মহলেও নতুন করে আশাবাদের সঞ্চার হয়েছে। বড়বাজার, নিউ মার্কেট, ধর্মতলা, গড়িয়াহাট এবং শহরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি ক্রেতারা ব্যবসার একটি বড় চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। তবে গত দুই বছরে ভিসা সীমাবদ্ধতা এবং যাতায়াত কমে যাওয়ায় পোশাক, স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিকস, প্রসাধনী, হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়সহ বিভিন্ন খাত উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ভিসা সেবা স্বাভাবিক হলে বাংলাদেশি দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়বে এবং কলকাতার খুচরা বাজার আবারও আগের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে।

চিকিৎসা খাতেও একই ধরনের ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। কলকাতা, নিউ টাউন, সল্টলেকসহ ভারতের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রোগীদের অন্যতম চিকিৎসা গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মতে, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত হলে দুই দেশের মধ্যে মেডিকেল ট্যুরিজম আরও সম্প্রসারিত হবে, যা স্বাস্থ্যখাতের পাশাপাশি পর্যটন ও সেবা অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কেবল রাষ্ট্রীয় কূটনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, শিক্ষা, সাহিত্য এবং পারিবারিক যোগাযোগ—এসবই দুই দেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে। ফলে মানুষের যাতায়াত যত বাড়বে, পারস্পরিক বোঝাপড়া, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং সামাজিক আস্থা ততই শক্তিশালী হবে।

কৌশলগত বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্ক উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ায় সংযোগ বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের ক্ষেত্রে দুই দেশের সমন্বয় ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের অভিমত, ভিসা সেবা স্বাভাবিক হওয়ার ফলে সীমান্তবর্তী অর্থনীতি, পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ব্যবসায়িক সফর এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণও ধীরে ধীরে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

-রফিক


ইউনূস সরকারের কর্মকাণ্ডের তদন্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ৩০ ০৯:৪৬:১৯
ইউনূস সরকারের কর্মকাণ্ডের তদন্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এবং এসব বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রণীত শ্বেতপত্রের তথ্য-উপাত্ত তদন্তের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বিভিন্ন দলের নেতা এবং মতামত বিশ্লেষকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। কেউ এটিকে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন, যেকোনো তদন্ত অবশ্যই নিরপেক্ষ, তথ্যনির্ভর এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরিচালিত হওয়া উচিত।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে যেসব অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হওয়া প্রয়োজন। তার মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখতে অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন মতামতে দাবি করা হয়েছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম নিয়ে জনপরিসরে প্রশ্ন উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে একটি স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত প্রক্রিয়া প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতাসীন বা সাবেক—যে কোনো সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রাতিষ্ঠানিক তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করাই আইনের শাসনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিযোগের মুখে থাকা ব্যক্তিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করাও ন্যায়বিচারের অপরিহার্য অংশ।

সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান। ফলে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা প্রমাণের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থার ওপর বর্তায় এবং আদালতের রায় ছাড়া কাউকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রমাণিত তথ্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ মনে করছেন, সামনের দিনে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা হতে পারে। তবে এসব ইস্যুতে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আইন, প্রমাণ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়াই হওয়া উচিত প্রধান ভিত্তি।

উল্লেখ্য, এই বিষয়ে যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ বা সমালোচনা উত্থাপিত হয়েছে, তাদের বক্তব্য বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা যুক্ত করলে সংবাদটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ হবে।

-রফিক

পাঠকের মতামত: