১ জুলাই থেকে নতুন অর্থনৈতিক অভিযাত্রা: পাস হলো দেশের অন্যতম বড় জাতীয় বাজেট

জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে পাস হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল ও ঐতিহাসিক জাতীয় বাজেট। এটি পাস হওয়ার মাধ্যমে আগামী বুধবার (১ জুলাই) থেকেই সারা দেশে নতুন এই অর্থবছরের বাজেট কার্যকর হতে যাচ্ছে। দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক গতিশীলতার কথা মাথায় রেখে পাস হওয়া নতুন এই বাজেটে কর, ভ্যাট এবং আবাসন খাতে বিনিয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বেশ কয়েকটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটের মাধ্যমে নতুন অর্থবছরের এই বাজেট সর্বসম্মতিক্রমে পাস করা হয়।
এর আগে, সোমবার (২৯ জুন) দেশের অর্থনীতিকে একটি মানবিক ও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীসহ অর্থবিল পাস করেছিল জাতীয় সংসদ। সাধারণ করদাতাদের বড় স্বস্তি দিয়ে সংশোধিত অর্থবিলে করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুশাসন নিশ্চিত করতে আবাসন খাতে কোনো ধরনের প্রশ্ন ছাড়া কালো টাকা বিনিয়োগ করার যে অনৈতিক সুযোগ ছিল, তা পুরোপুরি বাতিল বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতের ব্যয়ভার সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজের করপোরেট কর বিদ্যমান ১০ শতাংশ থেকে অর্ধেক কমিয়ে মাত্র ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ছোট ও মাঝারি পুঁজির ব্যবসায়ীদের সুরক্ষায় খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন করে ভ্যাট আরোপ করার যে প্রস্তাবটি করা হয়েছিল, তা পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। সোমবারের অর্থবিল পাসের মধ্য দিয়ে দেশের কর ও শুল্কসংক্রান্ত সরকারের সব প্রস্তাব চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।
সোমবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এই বাজেটের ওপর সমাপনী সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজেদের সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপকল্প তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে, গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে নতুন সরকারের পক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এই প্রস্তাবিত বাজেট আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
/আশিক
ভিসা সহজ হতেই বদলাচ্ছে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতের নিয়মিত ভিসা সেবা ধীরে ধীরে পুনরায় চালু হওয়ার প্রক্রিয়াকে কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না কলকাতার কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী মহলের অনেকেই। তাদের মূল্যায়ন, এই পদক্ষেপ দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে নতুন বাস্তবতার দিকে এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক ইঙ্গিত, যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক যোগাযোগ, বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে পারে।
কলকাতাভিত্তিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা ও দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে নিয়মিত সংলাপ ও মানুষের অবাধ যাতায়াতের বিকল্প নেই। তাদের ভাষ্য, একটি নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আস্থা পুনর্গঠনের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নদীর পানিবণ্টন, জ্বালানি সহযোগিতা, আন্তঃদেশীয় যোগাযোগ এবং বাণিজ্যের মতো বহু কৌশলগত বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ফলে মতপার্থক্য থাকলেও তা আলোচনার টেবিলে সমাধান করাই দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের স্বার্থের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কলকাতার ব্যবসায়ী মহলেও নতুন করে আশাবাদের সঞ্চার হয়েছে। বড়বাজার, নিউ মার্কেট, ধর্মতলা, গড়িয়াহাট এবং শহরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি ক্রেতারা ব্যবসার একটি বড় চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। তবে গত দুই বছরে ভিসা সীমাবদ্ধতা এবং যাতায়াত কমে যাওয়ায় পোশাক, স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিকস, প্রসাধনী, হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়সহ বিভিন্ন খাত উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ভিসা সেবা স্বাভাবিক হলে বাংলাদেশি দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়বে এবং কলকাতার খুচরা বাজার আবারও আগের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে।
চিকিৎসা খাতেও একই ধরনের ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। কলকাতা, নিউ টাউন, সল্টলেকসহ ভারতের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রোগীদের অন্যতম চিকিৎসা গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মতে, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত হলে দুই দেশের মধ্যে মেডিকেল ট্যুরিজম আরও সম্প্রসারিত হবে, যা স্বাস্থ্যখাতের পাশাপাশি পর্যটন ও সেবা অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কেবল রাষ্ট্রীয় কূটনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, শিক্ষা, সাহিত্য এবং পারিবারিক যোগাযোগ—এসবই দুই দেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে। ফলে মানুষের যাতায়াত যত বাড়বে, পারস্পরিক বোঝাপড়া, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং সামাজিক আস্থা ততই শক্তিশালী হবে।
কৌশলগত বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্ক উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ায় সংযোগ বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের ক্ষেত্রে দুই দেশের সমন্বয় ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের অভিমত, ভিসা সেবা স্বাভাবিক হওয়ার ফলে সীমান্তবর্তী অর্থনীতি, পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ব্যবসায়িক সফর এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণও ধীরে ধীরে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
-রফিক
ইউনূস সরকারের কর্মকাণ্ডের তদন্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ
জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এবং এসব বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রণীত শ্বেতপত্রের তথ্য-উপাত্ত তদন্তের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বিভিন্ন দলের নেতা এবং মতামত বিশ্লেষকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। কেউ এটিকে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন, যেকোনো তদন্ত অবশ্যই নিরপেক্ষ, তথ্যনির্ভর এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরিচালিত হওয়া উচিত।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে যেসব অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হওয়া প্রয়োজন। তার মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখতে অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন মতামতে দাবি করা হয়েছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম নিয়ে জনপরিসরে প্রশ্ন উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে একটি স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত প্রক্রিয়া প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতাসীন বা সাবেক—যে কোনো সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রাতিষ্ঠানিক তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করাই আইনের শাসনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিযোগের মুখে থাকা ব্যক্তিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করাও ন্যায়বিচারের অপরিহার্য অংশ।
সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান। ফলে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা প্রমাণের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থার ওপর বর্তায় এবং আদালতের রায় ছাড়া কাউকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রমাণিত তথ্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ মনে করছেন, সামনের দিনে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা হতে পারে। তবে এসব ইস্যুতে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আইন, প্রমাণ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়াই হওয়া উচিত প্রধান ভিত্তি।
উল্লেখ্য, এই বিষয়ে যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ বা সমালোচনা উত্থাপিত হয়েছে, তাদের বক্তব্য বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা যুক্ত করলে সংবাদটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ হবে।
-রফিক
একীভূত ৫ ব্যাংকের আমানতের টাকা ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে: সংসদে অর্থমন্ত্রী
একীভূত হওয়া শরীয়াহ্ভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের সাধারণ আমানতকারীদের গচ্ছিত অর্থ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে এবং তা ধাপে ধাপে গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যাংক খাতের গ্রাহকদের জন্য সরকারের এই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
সংসদ অধিবেশনে সংকটে পড়া এই পাঁচ ব্যাংকের লাখ লাখ আমানতকারীদের উদ্দেশ্যে বর্তমান বিএনপি সরকারের নীতিগত ও অনড় অবস্থান তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের সঞ্চয় নিয়ে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা নেই উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমি দেশের সব আমানতকারীকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় আশ্বস্ত করতে চাই যে— সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত আমানত রক্ষা করাই এই সরকারের সবচেয়ে বড় এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়।
ব্যাংকগুলো থেকে গ্রাহকদের টাকা তোলার বর্তমান প্রাথমিক নিয়ম ও পরিধি স্পষ্ট করে অর্থমন্ত্রী বলেন, একীভূত হওয়া ওই পাঁচটি ব্যাংকের ব্যক্তিগত আমানতকারীরা যেন তাৎক্ষণিক সমস্যা মোকাবিলা করতে পারেন, সেজন্য তাদের নিজস্ব চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে আপাতত ২ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ তোলার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। হিসাবের বাকি অবশিষ্ট টাকা যেন গ্রাহকেরা কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়া নিরাপদ উপায়ে ফেরত পান, সেজন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে ধাপে ধাপে তা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
/আশিক
করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে মধ্যবিত্তদের বড় স্বস্তি দিল সরকার
জাতীয় সংসদ কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনবান্ধব সংশোধনী এনে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ বিল-২০২৬ পাশ করেছে। সংশোধনীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো— ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা এক লাফে বেশ খানিকটা বৃদ্ধি করা এবং প্রস্তাবিত বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত বিতর্কিত বিধানটি পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি পাশের জন্য সংসদে উত্থাপন করলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)-এর সভাপতিত্বে সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়।
বাজেট নিয়ে সাধারণ আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বিশেষ নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী জাতীয় বাজেটের বেশ কয়েকটি মূল প্রস্তাবে এই পরিবর্তন ও সংশোধনী এনেছেন। এর মধ্যে দেশের চাকরিজীবী ও মধ্যবিত্তদের বড় স্বস্তি দিয়ে আগামী পাঁচটি অর্থবছরের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। সংশোধিত নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে করমুক্ত আয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ টাকা, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে তা ৫ লাখ টাকা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে মূল প্রস্তাবিত বাজেটে এই করমুক্ত আয়ের সীমা যথাক্রমে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ৪ লাখ টাকা এবং ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছিল।
সংসদকে অর্থমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি জনমনে নানা বিভ্রান্তি ও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করায় তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, মূলত দেশের অনেক জমি আসল বাজারমূল্যের পরিবর্তে সরকারি মৌজা মূল্যে নিবন্ধিত হওয়ায় করদাতাদের যেন কোনো আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে না হয়, সেজন্যই এই প্রস্তাব আনা হয়েছিল। তবে সরকার জনমতের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে এটি প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জনসাধারণের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রান্তি এড়াতে আরও দুটি কর-সংক্রান্ত প্রস্তাব বাতিল করেছে সরকার। এ দুটি হলো— অধিকাংশ সাধারণ ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন (TIN) সনদ বাধ্যতামূলক করা এবং জমির বণ্টন দলিল (পার্টিশান ডিড) ও নামজারি (মিউটেশন) নিবন্ধনের জন্য টিআইএন সনদ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা।
শিক্ষা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উন্নয়নে অর্থমন্ত্রী বেশ কিছু ইতিবাচক প্রস্তাব দেন। তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান ১০ শতাংশ আয়কর হার অর্ধেক কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন। এছাড়া পার্বত্য তিন জেলা ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য চলমান বিশেষ কর-সুবিধা আরও সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তাদের ব্যবসা, কৃষি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আয়ের পাশাপাশি চাকরি থেকে প্রাপ্ত বেতন ভিত্তিক আয়ও সম্পূর্ণ করমুক্ত থাকবে।
দেশের রপ্তানিমুখী চিংড়ি শিল্পকে বড় ধরনের সহায়তা দিতে আমদানি করা চিংড়ির খাদ্য, প্রোবায়োটিক, ভিটামিন, খনিজসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর থেকে সব ধরনের শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট (ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স) প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সাথে দেশীয় শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি ওষুধ ও অন্যান্য উৎপাদন শিল্পে ব্যবহৃত আমদানি করা মধুর ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
শিল্প খাতে বহুল ব্যবহৃত পিভিসি (PVC) ও পিইটি (PET) রেজিনের আমদানি শুল্ক প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ফায়ার ডোর তৈরিতে ব্যবহৃত কোল্ড-রোলড শিট, ফ্ল্যাট স্টিল পণ্যে ব্যবহৃত কোটেড ক্রোমিয়াম অক্সাইড এবং বৈদ্যুতিক কেবল উৎপাদনে ব্যবহৃত রিফাইন্ড কপার ওয়্যারের ওপর প্রস্তাবিত নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি আমদানি করা ফায়ার ব্রিকের ওপর থেকে প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও অগ্রিম কর বাতিলেরও প্রস্তাব দেন তিনি।
দেশীয় কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিকাশ ঘটাতে কাঁচামাল হিসেবে আমদানি করা অপরিশোধিত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পরিবেশবান্ধব LED বাতি এবং প্রিফ্যাব্রিকেটেড ভবন তৈরির কাঁচামাল আমদানির ওপর বিদ্যমান শুল্ক-সুবিধার মেয়াদ আগামী ৩০ জুন ২০৩০ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে হুন্ডি বা অনানুষ্ঠানিক অর্থপ্রদান বন্ধ করে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারে উৎসাহ দিতে ফেসবুক, ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সার্চ ইঞ্জিন ও অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বিজ্ঞাপন প্রচারের বিদ্যমান ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর ফলে বিদেশে অবৈধ উপায়ে অর্থ পাঠানো কমবে এবং সরকারের কর আদায়ের পরিমাণ বাড়বে। এছাড়া সোনা, প্লাটিনাম ও হীরার গহনার ওপর ভ্যাট ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং রুপার গহনার ওপর ১০০ টাকা সুনির্দিষ্ট করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে সরকারের রাজস্ব ভাগাভাগি চুক্তির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি এবং সরবরাহকারী পর্যায়ে সব ধরনের মাছ সরবরাহের ক্ষেত্রে পূর্ণ ভ্যাট মওকুফ করার প্রস্তাবও করা হয়েছে। দেশীয় মোটরগাড়ি শিল্পকে উৎসাহিত করতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ডাবল কেবিন পিকআপ ও মাইক্রোবাসের ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সর্বশেষে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর প্রদানের প্রক্রিয়া সহজ করতে নির্বাচিত কয়েকটি নির্দিষ্ট খাতে ভ্যাট ব্যবস্থার কো-ইফিশিয়েন্ট দাখিলের কঠোর বাধ্যবাধকতা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
/আশিক
তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশকে চীনের পূর্ণ সমর্থন, ভারতের উদ্বেগ নিয়ে বেইজিংয়ের কড়া বার্তা
তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। একই সঙ্গে বেইজিং অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার এই দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে সাজানো হয়নি এবং এই যৌথ উদ্যোগ বাইরের যেকোনো ধরনের প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা উচিত।
বেইজিংয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এই প্রকল্প নিয়ে ভারতের ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এই মন্তব্য করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং এটি অন্য কোনো দেশকে প্রভাবিত করার জন্য নয়।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত এই তিস্তা অববাহিকা। আর এই কারণেই ঢাকা ও বেইজিংয়ের এই বড় যৌথ উদ্যোগ নিয়ে শুরু থেকেই নয়া দিল্লির মনে তীব্র কৌশলগত ও নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সংবেদনশীলতা তৈরি হয়েছে।
ভারতের এই আশঙ্কার জবাবে গুও জিয়াকুন বলেন, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পটি মূলত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। এই সময়োপযোগী প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নে চীন তার সাধ্যের সবটুকু দিয়ে ঢাকাকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সমন্বয় আরও জোরদার করতে বেইজিং অত্যন্ত আগ্রহী। একই সঙ্গে দুই দেশের অর্থনীতি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, যৌথ পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক জনকল্যাণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বৃদ্ধির ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এদিকে প্রকল্পটির সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, তিস্তা প্রকল্পের কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিক খতিয়ে দেখতে এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনা করতে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, এই যৌথ সমীক্ষার বিষয়ে ঢাকা ও বেইজিং ইতোমধ্যে একমত পোষণ করেছে, যার ফলে আগের যেকোনো আলোচনার তুলনায় এবারের পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি অগ্রসর ও বাস্তবসম্মত পর্যায়ে রয়েছে। এই সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় প্রকল্পটি যদি পরিবেশগত ও অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক প্রমাণিত হয়, তবে চীন এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাদের সর্বোচ্চ আর্থিক ও কারিগরি সাহায্য দেবে বলে নিশ্চিত করেছে।
তিস্তাসহ বাংলাদেশের অন্যান্য প্রধান নদীগুলোর টেকসই ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে ঢাকা ও বেইজিং ইতোমধ্যে একটি বড় নীতিগত সমঝোতায় পৌঁছেছে। ফলে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের পক্ষ থেকে কী ধরনের চূড়ান্ত ঘোষণা আসে, সেদিকে ভারতের নীতিনির্ধারকদের একটি নিবিড় ও গভীর নজর থাকবে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি) এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বিখ্যাত প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়নার মধ্যে পূর্ববর্তী সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ বাড়ানোর একটি চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হয়। এই চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়নের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ সামনের দিকে এগিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, ভারতের এই প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম প্রধান কারণ হলো, তিস্তা নদীর এই ভৌগোলিক অবস্থানটি কৌশলগত ও সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেনস নেক’-এর একদম কাছাকাছি। এই নির্দিষ্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চীনের যেকোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রকৌশলগত সম্পৃক্ততা ও উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়াটা স্বাভাবিকভাবেই নয়া দিল্লির নিজস্ব জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিবেচনার ক্ষেত্রে একটি বিশেষ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
/আশিক
আর থাকবে না দীর্ঘ লোডশেডিং, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টার ঘোষণা
দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া দুটি প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র পুনরায় পুরোদমে চালু হওয়ায় সামগ্রিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেকটাই কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধির আওতায় দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে দেশবাসীকে এই স্বস্তির খবর জানান দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রী তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, আকস্মিকভাবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে গতকাল দেশের কিছু কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে লোডশেডিং দিতে হয়েছিল, যা জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তবে দ্রুত মেরামতের পর আজ উৎপাদন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে জানিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, আজকে দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ১৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। এর বিপরীতে বর্তমানে সারা দেশে বিদ্যুতের মোট চাহিদা রয়েছে ১৪ হাজার ৮৩৯ মেগাওয়াট। উৎপাদন ও চাহিদার এই হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ মাত্র ৩৩৯ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে, যা গতকালের তুলনায় অনেক কম।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, বর্তমানে যে সামান্য অবশিষ্ট ঘাটতি রয়েছে, সেটিও দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুরোপুরি কমিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উৎপাদন ও সরবরাহের সমন্বয়ের কারণে কিছু কিছু এলাকায় এখনও হয়তো অত্যন্ত সীমিত আকারে লোডশেডিং থাকতে পারে, তবে দেশ থেকে লোডশেডিং সম্পূর্ণভাবে দূর করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মন্ত্রী আরও যোগ করেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে গতকালের সার্বিক পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশ কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে আজ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে এবং সারা দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
/আশিক
সংসদে অর্থমন্ত্রীর আশ্বাসের বাণী: দেশ ও জনগণের ক্ষতি হয় এমন কোনো চুক্তি নয়
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচি থেকে বাংলাদেশ সরকার ‘শূন্য হাতে’ ফিরে আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হওয়া আইএমএফ কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময় নেওয়া সেই কর্মসূচির বেশ কিছু শর্ত দেশ ও সাধারণ জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী ছিল। সেগুলো আমাদের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য মনে না হওয়ায় আমরা সম্পূর্ণ নিজস্ব সিদ্ধান্তে উক্ত প্রোগ্রাম থেকে বেরিয়ে এসেছি।
তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সংসদকে আশ্বস্ত করেন যে, ভবিষ্যতে যদি আইএমএফের সঙ্গে নতুন কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়, তবে তা অবশ্যই দেশ ও জনগণের স্বার্থকে শতভাগ অগ্রাধিকার দিয়ে এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই করা হবে।
/আশিক
তরুণরা নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, চাকরির জন্য বছর পার করতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী
তরুণদের দীর্ঘকাল ধরে কর্মসংস্থানের জন্য অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তারা যেন নিজেরাই স্বাবলম্বী হতে পারে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, তেমন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারের এই দূরদর্শী ভাবনার কথা প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান।
সংসদে দেওয়া নিজের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের নেতার অর্থনৈতিক সংক্রান্ত বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটকে আড়াল বা অস্বীকার করার কোনো মানসিকতা সরকারের নেই। তবে এই সংকটকে কোনোভাবেই কাজের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। বরং দেশের সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতিমালার মাধ্যমে এই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান দায়িত্বশীল সরকারের যাত্রালগ্ন থেকেই বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম যেন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে, সেজন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চলমান তেল সংকটের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে বিশাল চাপ তৈরি হয়েছিল, তার নেতিবাচক প্রভাব দেশের সাধারণ মানুষও খুব কাছ থেকে অনুধাবন করতে পেরেছে।
এমন একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বহুমুখী অভ্যন্তরীণ সংকটকে সামনে রেখেই এবারের নতুন বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের আপামর জনগণ তাদের পবিত্র আমানত ও যে গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে, তা রক্ষা করতে সরকার সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রীর মতে, বর্তমান সরকারের মূল দর্শনই হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে সংসদে উপস্থাপিত এবারের বাজেটটি কেবলই কোনো প্রথাগত বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং দেশের অর্থনীতিকে একটি সুদৃঢ় ও নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় কিছু সুবিধাভোগী মানুষের হাত থেকে মুক্ত করে এনে দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত করা।
দেশের সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও উৎপাদন ও বিনিয়োগের চাকাকে আরও গতিশীল করতে উন্নয়ন ব্যয় ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি করে ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকল্পের পেছনে কত টাকা খরচ হলো তা সরকারের কাছে বড় বিষয় নয়, বরং সেই প্রকল্প সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কী ধরনের ভূমিকা রাখবে এবং কতটা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, সেটিই সরকারের মূল বিবেচ্য বিষয়।
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারের তিন ধাপের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, প্রথম ধাপে বাজারমূল্য ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে সরকারের লক্ষ্য থাকবে রাজস্ব খাতের সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের প্রয়োজনীয় পুনর্গঠন এবং রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণ করা। আর চূড়ান্ত ধাপে উৎপাদনশীল ও নতুন নতুন উদ্ভাবননির্ভর একটি শক্তিশালী প্রতিযোগিতাপূর্ণ অর্থনীতির ভিত সুদৃঢ় করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে স্পষ্ট করে বলেন, শুধু জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়লেই দেশে প্রকৃত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি আসে না। প্রকৃত উন্নয়ন তখনই নিশ্চিত হয়, যখন দেশের সাধারণ মানুষের ঘরে স্বস্তি ফেরে এবং শিক্ষিত তরুণ সমাজ তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ পায়। ঋণনির্ভর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে নয়, বরং দেশীয় উৎপাদন ও বিনিয়োগের ওপর ভিত্তি করে এমন একটি কর্মসংস্থানবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে তরুণদের চাকরির আশায় বছরের পর বছর ঘুরে বেড়াতে হবে না। দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটানো, বন্ধ ও রুগ্ন শিল্প কারখানাগুলোকে পুনরায় সচল করা এবং নতুন শিল্পাঞ্চল ভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি রপ্তানিমুখী ও উদ্ভাবননির্ভর স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
/আশিক
সংসদে অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অতীতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে আটকে না থেকে এখন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ব্যাপক অর্থ পাচারের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল, যার প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাজেট অধিবেশনে তিনি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সরকারের নীতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি সময়ে বাজেট প্রণয়ন করেছে, যখন অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। অর্থ পাচার, দুর্নীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো বাস্তবতা সামনে রেখেই এবারের বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে। তবুও সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে তাৎক্ষণিক কোনো ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়নি। তার ভাষায়, এটি সরকারের পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখার প্রচেষ্টারই প্রতিফলন। জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকার এমন একটি বাজেট উপস্থাপন করেছে, যা মানুষের জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে কেন্দ্র করে প্রণয়ন করা হয়েছে। এ কারণেই তিনি এবারের বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক স্বস্তি নিশ্চিত করাই এই বাজেটের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, অতীতের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থ পাচারের কারণে দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে ধীরে ধীরে উত্তরণের চেষ্টা করছে সরকার। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বাজেট আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশে এখন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। অতীতের বিরোধ ও সংকটকে পেছনে ফেলে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
পাঠকের মতামত:
- ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থনৈতিক অভিযাত্রা: পাস হলো দেশের অন্যতম বড় জাতীয় বাজেট
- স্বর্ণের পর এবার কমল রুপার দাম, প্রকাশ নতুন তালিকা
- ভিসা সহজ হতেই বদলাচ্ছে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক
- স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- আজ ঢাকার যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- ব্রাজিলকে নিয়ে ভুল ভবিষ্যদ্বাণী, জার্মান অর্থনীতিবিদকে নেইমারের খোঁচা
- ইউনূস সরকারের কর্মকাণ্ডের তদন্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ
- দোহায় আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, দাবি ট্রাম্পের
- দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের খবর নাকচ ইরানের
- আজকের খেলার সূচি, কোন ম্যাচ কখন দেখবেন
- আজকের নামাজের সময়সূচি, জেনে নিন এক নজরে
- মহাকাশের ৩ স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে গেল চীন
- হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হবে জুড়ীতে পাটোয়ারী
- একীভূত ৫ ব্যাংকের আমানতের টাকা ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে: সংসদে অর্থমন্ত্রী
- করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে মধ্যবিত্তদের বড় স্বস্তি দিল সরকার
- হিউস্টনে আজ ব্রাজিলের স্বপ্নভঙ্গ করতে পারে জাপানের যে ৫টি মারাত্মক কৌশল
- জাপানের বিরুদ্ধে নামার আগে দাদির ভিডিও দেখে ক্যামেরার সামনেই কাঁদলেন ভিনিসিয়ুস
- তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশকে চীনের পূর্ণ সমর্থন, ভারতের উদ্বেগ নিয়ে বেইজিংয়ের কড়া বার্তা
- শর্ত পূরণ আর তারিখ চূড়ান্ত না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়: তেহরান
- আর থাকবে না দীর্ঘ লোডশেডিং, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টার ঘোষণা
- ২ গোলের লিড হারিয়েও হারের ক্ষত বুকে নিয়ে জাপানের মুখোমুখি হচ্ছে সেলেসাওরা
- সংসদে অর্থমন্ত্রীর আশ্বাসের বাণী: দেশ ও জনগণের ক্ষতি হয় এমন কোনো চুক্তি নয়
- জুনে ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ: পাঁচ মাস মিলিয়ে যা ছিল, এক মাসেই তার দ্বিগুণের বেশি মৃত্যু
- একাদশ গোপন রেখে জাপানের বিরুদ্ধে রহস্য জিইয়ে রাখলেন ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি
- যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইরানি জনগণের ‘বিশাল বিজয়’: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
- তরুণরা নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, চাকরির জন্য বছর পার করতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী
- ষষ্ঠ বিশ্বকাপের স্বপ্নে আজ বড় পরীক্ষায় ব্রাজিল
- সৌদিতে প্রবাসীদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা
- সংসদে অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
- আজ ঢাকার যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- সেমিনার, সম্মেলনসহ আজকের গুরুত্বপূর্ণ সব কর্মসূচি
- নেইমারকে নিয়ে সুখবর দিলেন আনচেলত্তি
- প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে সবুজায়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনা
- আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় জানুন এক নজরে
- আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম, আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে
- বাংলাদেশ টেস্টসহ আজকের সব খেলার পূর্ণ সূচি
- হামলা থামাতে রাজি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, দোহায় বৈঠক
- ফাইনালের পথে সহজ সমীকরণ: আর্জেন্টিনার সামনে কি টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার হাতছানি?
- নাহিদ ইসলাম কোনো ব্যক্তি নয়, একটি ইতিহাস: ড. ইউনূস
- ঢাকাসহ দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ের আসল কারণ সংসদে জানালেন বিদ্যুৎমন্ত্রী
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের 'মাস্টারমাইন্ড' কে? জাতীয় সংসদে বিএনপি-জামায়াতের তুমুল বিতর্ক
- দীর্ঘ ১০ বছরের লিভ-ইন সম্পর্কের পর অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
- দিনে-রাতে ২০ থেকে ৩০ বার লোডশেডিং, তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত
- দুই দফার বিদেশি হামলার ক্ষতিপূরণে হাজারো আইনি মামলা করার ডাক দিল ইরান
- টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত জাপান কি পারবে ব্রাজিলের জয়রথ থামাতে?
- ১৩তম থেকে সরাসরি ৯ম গ্রেড! প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য সংসদে বড় সুখবর
- পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনে বড় বদল: বাড়ছে শাস্তির মেয়াদ ও জরিমানার পরিমাণ
- ই-চালান ও ভ্যাট সংস্কারে কি মিটবে রাজস্ব ঘাটতি? সংসদে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর বড় আশ্বাস
- সিরিক দ্বীপে মার্কিন বোমাবর্ষণ বনাম উপসাগরীয় ঘাঁটিতে ইরানি ড্রোন: কোন পথে মধ্যপ্রাচ্য?
- 'এ বছরই দেশে ফিরব' এনডিটিভি সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার বিস্ফোরক ঘোষণা
- নকআউটে ব্রাজিল, কবে-কোথায় ম্যাচ? প্রতিপক্ষ কারা
- দোহায় আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, দাবি ট্রাম্পের
- দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের খবর নাকচ ইরানের
- বুধবার বন্ধ থাকবে যমুনা ফিউচার পার্কসহ যেসব মার্কেট
- ‘চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ নাজিরপুরে মাদক নির্মূলে মানববন্ধন
- সোনার বাজারে ধ্বস, ১ লাখ ৮২ হাজার টাকায় মিলবে ভরি
- ভূমিকম্পের আগেই ফোনে সতর্কবার্তা, যেভাবে চালু করবেন এই ফিচার
- স্বর্ণ কিনবেন? জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলা
- আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, জেনে নিন সব সময়
- সৌদিতে প্রবাসীদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা
- সৌদিতে যেতে পারবেন না ৩ দেশের ভ্রমণকারীরা
- হরমুজ ঘিরে নতুন উত্তেজনা, হুঁশিয়ারি আইআরজিসির
- আশুরার রোজা কেন এত ফজিলতপূর্ণ? জেনে নিন
- ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ নাকচ করলেন নেতানিয়াহু








