এসএসএফ-এর ফায়ারিং রেঞ্জে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিশানা পরীক্ষা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ১৮:১৩:২৭
এসএসএফ-এর ফায়ারিং রেঞ্জে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিশানা পরীক্ষা
ছবি : সংগৃহীত

স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন শেষে এই অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জে তিনি নিজেই অস্ত্র হাতে নিয়ে নিজের নিশানা পরীক্ষা করেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এই নিশানা পরীক্ষা ও উদ্বোধনী মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে নবনির্মিত এই ফায়ারিং রেঞ্জ নিঃসন্দেহে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আশা করি, নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন এবং নিজেদের পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে আপনারা এই ফায়ারিং রেঞ্জের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।"

নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা। তাই আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ, নিরাপত্তার কড়াকড়ি বা সুরক্ষার ঘেরাটোপ যেন সরকারপ্রধানকে সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে না ফেলে।" ভিআইপিদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হেনস্থা বা দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে এসএসএফ-কে কড়া নির্দেশনা দেন তিনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় এসএসএফ-এর ভূমিকার প্রশংসা:প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকালীন এবং পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যুর পর বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম জানাজা সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে এসএসএফ-এর সমন্বয়কারী ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি স্মৃতিচারণ করে উল্লেখ করেন, তরুণ বয়স থেকেই মায়ের (সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া) সরকারপ্রধান থাকাকালীন তিনি এই এলিট বাহিনীর পেশাদারত্ব ও কার্যক্রম খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়েছেন।

এছাড়াও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে গভীর দেশপ্রেম এবং পেশাদারত্বের সঙ্গে এসএসএফ সদস্যদের চেইন অব কমান্ড বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

/আশিক


মাথা ঝুঁকিয়ে নয়, সংসদে স্পিকারকে সম্মান জানাতে হবে নিজ নিজ ধর্মীয় রীতিতে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ১৮:১০:১৩
মাথা ঝুঁকিয়ে নয়, সংসদে স্পিকারকে সম্মান জানাতে হবে নিজ নিজ ধর্মীয় রীতিতে
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে অধিবেশনকক্ষে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় মাথা ঝুঁকিয়ে স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানানোর দীর্ঘদিনের রীতির অবসান ঘটলো। এখন থেকে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি মেনে স্পিকারের প্রতি সম্মান জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংসদের অধিবেশনে এই রুলিং ও সিদ্ধান্ত দেন তিনি।

এর আগে গত ১৬ জুন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই রীতির তীব্র আপত্তি তুলেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর এই পদ্ধতি ইসলামের আকীদা ও বিশ্বাসের সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’ এবং তা ‘শিরকের কাছাকাছি চলে যায়’। বিষয়টি সুরাহার জন্য তিনি স্পিকারের প্রতি অনুরোধ জানালে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ কার্যপ্রণালি বিধি পরীক্ষা করে পরে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেছিলেন।

আজ সেই বিষয়ে চূড়ান্ত রুলিং দিতে গিয়ে স্পিকার বলেন, জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৭ বিধি অনুযায়ী, সংসদের বৈঠক চলাকালে কক্ষে প্রবেশ, ত্যাগ কিংবা আসন গ্রহণ ও ছাড়ার সময় সদস্যগণ সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। তবে অষ্টম সংসদে বিধিটি সংশোধন করে ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি ইতিমধ্যে বাদ দেওয়া হয়েছে।

স্পিকার আরও স্পষ্ট করেন, অষ্টম সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির উপস্থাপিত প্রতিবেদন সংসদে বিবেচিত ও গৃহীত হয়েছিল, যার মধ্যে ২৬৭ (১) বিধির এই সংশোধনীটি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

যেহেতু কার্যপ্রণালি বিধি থেকে ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাই সংসদ সদস্যদের যার যার ধর্মীয় রীতি (যেমন: সালাম বা অন্যান্য ধর্মীয় সম্ভাষণ) অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানানোর নির্দেশ দেন তিনি।

/আশিক


কবে সরছে গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড জানালেন সেতুমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ১৪:০৪:৪০
কবে সরছে গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড জানালেন সেতুমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খল ও অস্বাস্থ্যকর বাসস্ট্যান্ড ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বর্তমানের ব্যস্ত ও অপরিকল্পিত টার্মিনালগুলো ধাপে ধাপে রাজধানীর বাইরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো নগরীর যানজট কমানো, যাত্রীসেবা উন্নত করা এবং আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, আগামী চার থেকে ছয় মাসের মধ্যেই বিদ্যমান বাসস্ট্যান্ডগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন শুরু হবে। আর দুই বছরের মধ্যে রাজধানীর প্রধান বাস টার্মিনালগুলোর স্থানান্তর কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ)-এর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল গাবতলীকে হেমায়েতপুরে এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালকে কাঁচপুর এলাকায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে রাজধানীর অন্যান্য বড় বাসস্ট্যান্ডও ধীরে ধীরে নতুন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে।

তার ভাষায়, বর্তমান বাসস্ট্যান্ডগুলোর অধিকাংশই আধুনিক নগর পরিবহনের মানদণ্ড পূরণ করতে পারছে না। বিশেষ করে যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত টয়লেট, অপেক্ষাকক্ষ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশের ঘাটতি রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সোহাগ, গ্রীন লাইনসহ কিছু বেসরকারি পরিবহন প্রতিষ্ঠান নিজেদের ব্যবস্থাপনায় উন্নত মানের টার্মিনাল সুবিধা তৈরি করেছে। সেখানে যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকক্ষ, পরিচ্ছন্ন টয়লেট এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ সাধারণ বাসস্ট্যান্ডে এখনো সেই মানের কোনো সেবা নেই।

সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে রাজধানীর সব আন্তঃজেলা পরিবহনকে একটি সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা। এতে করে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে এবং যানবাহন ব্যবস্থাপনায়ও উল্লেখযোগ্য উন্নতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আরও জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বেসরকারি বাস কোম্পানির কাউন্টার ব্যবস্থাপনাও পুনর্বিন্যাস করা হবে। বর্তমানে কলাবাগানসহ বিভিন্ন এলাকায় যেভাবে রাস্তার পাশে অস্থায়ীভাবে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে, ভবিষ্যতে তা আর অনুমোদিত থাকবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর ভেতরে বড় বাস টার্মিনাল থাকার কারণে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ভারী যানবাহন শহরের কেন্দ্রে প্রবেশ করছে। এতে যানজট, বায়ুদূষণ এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের অনেক বড় শহরে আন্তঃনগর পরিবহন টার্মিনাল শহরের কেন্দ্র থেকে দূরে স্থাপন করা হয়। সেখান থেকে মেট্রোরেল, বিআরটি, লোকাল বাস কিংবা ফিডার সার্ভিসের মাধ্যমে যাত্রীরা শহরের ভেতরে প্রবেশ করেন। ঢাকাতেও ধীরে ধীরে একই ধরনের মডেল বাস্তবায়নের চিন্তা করা হচ্ছে।

-রফিক


চীন সফরে তারেক রহমান, যেসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ১১:৩৭:০৬
চীন সফরে তারেক রহমান, যেসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও চীনের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগামী সোমবার (২২ জুন) পাঁচ দিনের সরকারি সফরে বেইজিং যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বর্তমান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, সফরকালে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি কেবল একটি নিয়মিত রাষ্ট্রীয় সফর নয়; বরং দক্ষিণ এশিয়ায় পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার একটি বড় সুযোগ।

সফরসূচি অনুযায়ী, ২২ জুন রাতে ঢাকা থেকে চীনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তারেক রহমান। পাঁচ দিনের এই সফরে রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জলবায়ু কূটনীতি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক অংশীদারত্বের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

পরদিন তিনি উচ্চগতির ট্রেনে বেইজিংয়ে পৌঁছাবেন। সেখানে বাংলাদেশের উদ্যোগে চীনা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে একটি বিশেষ ইনভেস্টমেন্ট সামিট আয়োজন করা হয়েছে। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের শিল্প, অবকাঠামো, উৎপাদন খাত এবং রপ্তানি সক্ষমতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে।

সফরের অংশ হিসেবে চীনের কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে অটোমোবাইল নির্মাতা চেরি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান হান্ডা এবং টেক্সটাইল খাতের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান চায়নাটেক্স।

এ ছাড়া বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হলে চীনের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরদিন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যা সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

-রফিক


জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর আই হ্যাভ এ প্লান এর ব্যাখ্যা: লক্ষ্য জলবায়ু-সহিষ্ণু স্মার্ট কৃষি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৭ ২১:৪১:৪৭
জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর আই হ্যাভ এ প্লান এর ব্যাখ্যা: লক্ষ্য জলবায়ু-সহিষ্ণু স্মার্ট কৃষি
ছবি : সংগৃহীত

একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তি নির্ভর ও কৃষক-কেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিনে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া সংসদ বৈঠকে প্রশ্নোত্তরটি টেবিলে উত্থাপন করা হয়। এদিন রাষ্ট্রীয় কাজে সরকার প্রধান ঢাকার বাইরে ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বহুল জনপ্রিয় স্লোগান ‘আই হ্যাভ এ প্লান’ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, "এই পরিকল্পনার আওতায় উৎপাদন ও বিপণন হবে সম্পূর্ণ তথ্য চালিত, আমাদের প্রান্তিক কৃষকেরা হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা এবং কৃষিখাত হবে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি।"

কৃষকদের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা সরাসরি পৌঁছে দিতে গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রম চলছে এবং এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৮৩২টি কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্যখাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে সরকার। এই লক্ষে চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ১৫৬৭.৯৬ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে, যার ফলে দেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ জন কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে এবং জলাবদ্ধতা নিরসন হবে। পাশাপাশি সুলভ মূল্যে সার ও উচ্চফলনশীল বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং কৃষিতে সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT) ও ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

জলবায়ু মোকাবিলায় ৩৪ হাজার কোটির পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা:টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়ালের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার পানি সম্পদ খাতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদীভাঙন রোধ এবং বন্যায় সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ অন্যতম।

প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১৩ মে ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প ১ম পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মানির্ভর এলাকায় নদী সিস্টেম পুনরুজ্জীবিত হবে, দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা হ্রাস পাবে এবং সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা হবে। এছাড়া এই প্রকল্প থেকে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে, যা দেশের জিডিপিতে অতিরিক্ত শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যোগ করবে।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিশাল কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় জেলাগুলোতে গ্রামীণ প্রাকৃতিক জলাধার গড়ে তোলা হবে যাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে সাধারণ মানুষের পানীয় জলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

/আশিক


অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৭ ২১:৩০:৩৬
অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে সরকার
ছবি : সংগৃহীত

সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক এবং পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে প্রশ্নোত্তরটি টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মিয়ানমার সীমান্তে অপরাধ দমনে ইতোমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে ভারত সীমান্তের স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।

সীমান্তে বিএসএফের হাতে নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ‘মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকগুলোতে এই বিষয়টি সবসময় জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সবসময়ই আত্মরক্ষার অজুহাতে সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র (লেথাল উইপন) ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে। তবে সীমান্তে নিহতদের পরিবারকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা সমঝোতা হয়নি বলে তিনি জানান।

সংসদে অনুপ্রবেশের পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক জোরপূর্বক পুশইন করা ২ হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে ১১ জনকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া ১৮৩ জনকে পুশব্যাক করা হয়েছে এবং বাকিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর বিএসএফের পক্ষ থেকে অন্তত ৩৬ বার পুশইনের প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সফলভাবে প্রতিরোধ করেছে।

/আশিক


আমেরিকার বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা: বিনিয়োগ ও জ্বালানি নিরাপত্তায় আশাবাদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৭ ২০:২৯:১৮
আমেরিকার বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা: বিনিয়োগ ও জ্বালানি নিরাপত্তায় আশাবাদী পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সদ্য স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড’ (এআরটি) চুক্তি দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে এটি উপস্থাপন করা হয়।

রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি ‘এআরটি’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির একটি বড় সুবিধা হলো—মার্কিন তুলা ব্যবহার করে বাংলাদেশে উৎপাদিত তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে এখন শূন্য শুল্ক (Duty-free) সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে।" এই চুক্তিটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কূটনীতিতে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংসদে নতুন নতুন বাজার তৈরি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্কসুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন খলিলুর রহমান। তিনি জানান, বিভিন্ন দেশের সাথে প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ), ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (এফটিএ) এবং কম্প্রেহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) সম্পাদনের প্রক্রিয়া পুরোদমে চলমান।

এর অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে ‘সিইপিএ’ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের সাথে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের কার্যক্রমও অনেকদূর এগিয়েছে। এছাড়া উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা (জিসিসি) ও দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্যিক জোট ‘মারকোসুর’-এর মতো বড় আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথেও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, পণ্য বহুমুখীকরণ, কর্মসংস্থানমুখী প্রবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্য অর্জনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিডা, বেজা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইউরোপ ও আমেরিকার মতো প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি এখন মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান বাজারগুলোতে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।

কৃষিপণ্য ও অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও কূটনৈতিক সফলতা আসছে উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, "সম্প্রতি ভিয়েতনামের বাজারে বাংলাদেশের আলু রপ্তানির সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের আম রপ্তানির প্রক্রিয়াও বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।"

/আশিক


হামের টিকা সংগ্রহে গাফিলতি থাকলে কঠোর ব্যবস্থা: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৭ ১৮:৪৫:৫৯
হামের টিকা সংগ্রহে গাফিলতি থাকলে কঠোর ব্যবস্থা: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং এর ফলে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে কোনো ত্রুটি বা অবহেলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তদন্তে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দেশজুড়ে হামে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ শতাধিক শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করে এর কারণ এবং সরকারের করণীয় সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ, রোগের বিস্তার এবং টিকাদান কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে সাম্প্রতিক কোনো পরিবর্তনের কারণে কর্মসূচিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি না, তা গভীর তথ্য-উপাত্ত ও কারিগরি বিশ্লেষণের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই পরিচালিত হচ্ছে।

হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, টিকার সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা, মজুত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, রোগ নজরদারি বাড়ানো এবং দ্রুত প্রাদুর্ভাব শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া হামের টিকাদানের আওতা আরও সম্প্রসারণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষার আওতায় আনতে সারা দেশে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

/আশিক


সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি হত্যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৭ ১৮:৪০:৫৫
সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি হত্যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক এবং মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, সীমান্তে আত্মরক্ষার অজুহাতে বিএসএফের প্রাণঘাতী অস্ত্র (লেথাল উইপন্স) ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে বাংলাদেশ সরকার। বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের প্রতিটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই হত্যাকাণ্ড ও সীমান্ত সহিংসতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এবং জোরালোভাবে উত্থাপন করা হচ্ছে। সীমান্তে বিএসএফের এই ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট।

সীমান্তে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তি নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, চুক্তি না থাকলেও প্রতিটি আলোচনার স্তরে বিএসএফের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য পরোক্ষভাবে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে আরও আশ্বস্ত করেন যে, বাংলাদেশের ক্রমাগত কূটনৈতিক ও কৌশলগত চাপের কারণে বিএসএফ এখন সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের পরিবর্তে 'নন-লেথাল উইপন্স' বা অমরণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এবং নিহতের সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।

/আশিক


বিগত এক যুগের মতো জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৭ ১৮:০৩:০৫
বিগত এক যুগের মতো জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বিগত এক যুগ ধরে দেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া জনগণের অর্থ আর কোনোভাবেই বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পাচার রোধ করে সেই অর্থ দেশের মানুষের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের অর্থায়ন নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "অনেকেই নানা কথা ও বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়। এরা বলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের টাকা কোথা থেকে আসবে? আপনাদের সবাইকে সাক্ষী রেখে তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই—বিগত এক যুগ ধরে জনগণের অর্থ এই দেশ থেকে পাচার হয়ে গিয়েছিল। আমরা জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না।" তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, জনগণের টাকা দিয়ে জনগণের জন্যই কাজ করা হবে, ফলে দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজে টাকার কোনো অভাব হবে না।

টাকা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আজ থেকে কঠোর অবস্থান গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে চোখ-কান খোলা রাখার আহ্বান জানান। এ সময় দেশের মানুষের ভাগ্য বদলে সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে সমবেত জনতা ঐক্যমত পোষণ করেন কিনা জানতে চাইলে, উপস্থিত হাজার হাজার চা শ্রমিকসহ শ্রীমঙ্গলের সর্বস্তরের মানুষ সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেন।

বিএনপিকে গণমানুষের দল উল্লেখ করে দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "বিএনপি সবসময় জনগণের কাতারে ছিল, সেজন্যই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের শক্তি। সেই জন্যই বিএনপি সবসময় বলে থাকে জনগণই আমাদের সব ক্ষমতার উৎস। যতবার ভোট দেওয়ার সুযোগ এসেছে দেশের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এনেছে।"

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত এবং পরে বিএনপির দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ১০ জন নারীর হাতে সরাসরি ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়ে কম্পিউটারের বাটন চেপে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ডের তৃতীয় পর্যায় কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। একই সাথে তিনি চা শ্রমিকদের আবাসন সমস্যা সমাধানে দুই লাখ টাকা করে অনুদান, চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য বৃত্তি এবং প্রতিবন্ধীদের মাঝে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: