অপারেশন ‘স্পাইডারওয়েব’-এ কতটা ক্ষতি হলো রাশিয়ার?

রাশিয়ার অভ্যন্তরে সাইবেরিয়া অঞ্চলের চারটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে নজিরবিহীন ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এতে রাশিয়ার ৪০টিরও বেশি কৌশলগত বোমারু বিমান ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপি।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ফ্রন্টলাইন থেকে বহু দূরে অবস্থানরত রুশ সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলার লক্ষ্যেই এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।” তিনি জানান, ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এসবিইউ (SBU) এই হামলা পরিচালনা করেছে।
হামলার মূল লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার টিইউ-৯৫ এবং টিইউ-২২ ধরনের কৌশলগত বোমারু বিমান, যেগুলো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এসব যুদ্ধবিমানই ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রুশ আক্রমণের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাইবেরিয়ার বেলায়া বিমানঘাঁটিসহ অন্তত চারটি ঘাঁটিতে সমন্বিতভাবে আঘাত হানা হয়েছে।
ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম ইউক্রেইনস্কা প্রাভদা জানিয়েছে, এই অভিযানের সাংকেতিক নাম ‘স্পাইডারওয়েব’। এটি ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যার প্রস্তুতি চলেছে প্রায় ১৮ মাস ধরে। প্রথমে ড্রোনগুলো রাশিয়ার অভ্যন্তরে পাচার করা হয় এবং তারপর কাঠের তৈরি গোপন কাঠামোর নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। সেখান থেকেই ড্রোনগুলো লরি বা ট্রাকে করে হামলার নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
প্রকাশিত এক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, টিইউ-৯৫ যুদ্ধবিমানের মতো কয়েকটি বিশাল রুশ বিমান আগুনে পুড়ে যাচ্ছে। টিইউ-৯৫ বিমানগুলো মূলত পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম হলেও বর্তমানে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
হামলার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা না গেলেও, বিষয়টিকে গুরুতর কৌশলগত ঘটনা হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। অনেকে মনে করছেন, শান্তিপূর্ণ আলোচনার আগমুহূর্তে (যেমন—তুরস্কের ইস্তাম্বুলে রাশিয়া-ইউক্রেন আলোচনা) এ ধরনের হামলা, মস্কোর ওপর কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ আরও বাড়াবে।
বিশ্লেষকেরা আরও বলছেন, রাশিয়ার অভ্যন্তরে এমন সফল হামলা প্রমাণ করে যে, ইউক্রেন এখন শুধু প্রতিরক্ষা নয়, কৌশলগত পাল্টা হামলার ক্ষমতাও অর্জন করেছে। বিশেষ করে পশ্চিমা সামরিক সহায়তার ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা চলছে, তখন ইউক্রেন এমন আক্রমণ চালিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের মনোযোগ ও সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
সরকার গঠন ব্যর্থ হলে ৯০ দিনের মধ্যে ইসরায়েলে নতুন নির্বাচনের হাঁকডাক
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট। গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো পক্ষই ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জাদুকরি ৬১টি আসন অর্জন করতে পারেনি। এর ফলে দেশটিতে গভীর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের জোটগত দর-কষাকষির ওপর নির্ভর করছে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ব্লকের দলগুলো সবমিলিয়ে ৫৩টি আসন পেয়েছে। এর মধ্যে তার দল লিকুদ একাই জিতেছে ২৭টি আসন। এ ছাড়া ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ও ওতজমা ইয়েহুদিত সাতটি করে এবং শাস ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম ছয়টি করে আসন পেয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদি দলগুলোর জোট ঝুলিতে পুরেছে ৪৮টি আসন। এর মধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি একাই পেয়েছে সর্বোচ্চ ২১টি আসন। বাকি আসনগুলোর মধ্যে বি’ইয়াচাদ ১২টি, দ্য ডেমোক্র্যাটস আটটি এবং ইসরায়েল বেইতেনু সাতটি আসন অর্জন করেছে। এ ছাড়া আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট ১১টি এবং রা’আম আটটিসহ মোট ১৯টি আসন পেয়েছে।
নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল আগামী ৪ নভেম্বরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। নতুন পার্লামেন্টের সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১০ নভেম্বর এবং ১১ নভেম্বরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার গঠনের জন্য উপযুক্ত কাউকে আমন্ত্রণ জানাবেন। সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া এবং সরকার গঠনের সম্ভাবনা সাপেক্ষে প্রথমে নেতানিয়াহু অথবা বিরোধী শিবিরের গাদি আইজেনকট এই দায়িত্ব পেতে পারেন। নেতানিয়াহুকে হটাতে আরব দলগুলোর সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আইজেনকট এই দৌড়ে এগিয়ে থাকতে পারেন। যদিও অতীতের অনীহা কাটিয়ে রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের মতো আরব দলগুলো নেতানিয়াহুকে হটাতে নতুন এই জোটে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, মনোনীত প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য প্রাথমিক ২৮ দিন সময় পাবেন, যা প্রয়োজন সাপেক্ষে আরও ১৪ দিন বাড়ানো সম্ভব। প্রথম প্রার্থী ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কাউকে সুযোগ দেবেন এবং সেখানেও ব্যর্থতা এলে পার্লামেন্টের সদস্যরা নিজেদের মধ্য থেকে তৃতীয় কাউকে মনোনীত করতে পারবেন। এসব প্রক্রিয়ায় সমাধান না আসলে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন দিতে হবে। তবে নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকায়, সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও আরও বেশ কিছুদিন ক্ষমতায় থাকার পথ খোলা রয়েছে নেতানিয়াহুর সামনে।
সূত্র: আলজাজিরা
শর্ত মানলে দু’দিনে হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণা ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের শর্তসমূহ মেনে নিলে মাত্র দুই দিনের মধ্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে এবং এই নৌপথের নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠাসহ আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান। সোমবার (২ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তথ্য ও বার্তা লেনদেন বজায় রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে প্রথমে সাত দিনের একটি পরিকল্পনার কথা বলা হলেও, চুক্তি হলে মাত্র দুই দিনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে—যা ইরানের সদিচ্ছারই প্রমাণ। ইরানের দেওয়া প্রধান দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে—পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের অবসান, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা, দেশটির তেল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ওয়াশিংটন আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া। অন্যদিকে কাতারভিত্তিক আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী সম্মত নতুন নৌপথ যুক্তরাষ্ট্রকে মেনে নিতে হবে, সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাসংখ্যা কমাতে হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন সামরিক হামলার আশঙ্কার মুখে তেহরান তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্য ইরানের পিকঅ্যাক্স পর্বতসহ বাকি স্থাপনাগুলোতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিলে বাঘাই স্পষ্ট জানান, ইরানের ওপর যেকোনো ধরনের সামরিক হামলা বা আগ্রাসনের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক, শক্তিশালী এবং সর্বাত্মক জবাব দেওয়া হবে।
সূত্র: এএফপি
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন কূটনৈতিক মোড়
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষে কাতারের মধ্যস্থতায় দোহায় চলমান আলোচনা থেকে সাময়িকভাবে কাতার ছেড়েছেন ইরানি প্রতিনিধিরা। তবে কোনো জটিলতা বা আলোচনা ভেঙে যাওয়ার কারণে নয়, বরং একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বর্তমানে পর্যালোচনার কাজ চলছে এবং পরবর্তীতে আরেকটি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, গত সেপ্টেম্বরে তেহরানের তৈরি করা সাত দফার একটি পরিকল্পনাকে এই আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। এই পরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই বার্তা আদান-প্রদান করছিলেন। বাঘাই আরও স্পষ্ট করে জানান যে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের অবসান, ইরানের দাবিগুলোর সম্মান এবং দেশটির বৈধ চাহিদা পূরণ না হলে কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো বা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব নয়। এর আগে আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছিলেন, একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘাত নতুন মোড় নিতে পারে এমন উদ্বেগের মাঝেই এই কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। মঙ্গলবার মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচন নিয়ে তেহরানের বড় কোনো পরিবর্তনের প্রত্যাশা না থাকলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো হামলা চালাবে না এবং আলোচনাও ফলপ্রসূ হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা তিনি পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি।
/আশিক
মাত্র দশ মিনিটে কি ধ্বংস সম্ভব ইরানের পরমাণু শক্তি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে দেশটির পরমাণু কর্মসূচির অবশিষ্টাংশ ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলেছে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কার মুখে কোনো ধরনের ভৌগোলিক সীমারেখা না মেনে কঠোর ও তাৎক্ষণিক পাল্টা জবাব দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
শনিবার ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে প্রায় অকার্যকর করে দিয়েছে। তবে ভূগর্ভস্থ পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনসহ এখনো এক বা দুটি স্থাপনা বাকি রয়েছে, যেগুলোর বিরুদ্ধে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযানের ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি ট্রাম্প এবং প্রশাসন কূটনৈতিক সমাধানকেই প্রধান্য দিচ্ছে।
এদিকে, ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনি এই দায়িত্ব নেন এবং এর পর থেকে এটিই ছিল সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর প্রথম কোনো সরাসরি বৈঠক।
সংঘাতের এই উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত ও কঠোর বিধিনিষেধের আওতায় রেখেছে তেহরান। গত শনিবার এই নৌপথে চলাচলের সময় একটি জাহাজে মাইন বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায় এবং তার আগে তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারও মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক তেলের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হওয়ায় এই নৌপথে বাধার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও।
চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজায়ির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যাকে তেহরান ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে ইরান। এছাড়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে সংঘাতের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমারেখা মানবে না তেহরান।
/আশিক
নেতানিয়াহুর পতনে আইজেনকোটকে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান আহমেদ টিবির
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটাতে বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকোটকে রাজনৈতিক সাহসিকতা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি আইনপ্রণেতা আহমেদ টিবি। সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আইজেনকোটের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া কোনো সংখ্যালঘু সরকারকে বাইরে থেকে পূর্ণ সমর্থন দিতে ফিলিস্তিনি দলগুলো প্রস্তুত রয়েছে।
১৯৯৩ সালের ঐতিহাসিক ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আহমেদ টিবি জানান, সে সময় তৎকালীন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী আইজাক রাবিন ফিলিস্তিনি দলগুলোর পরোক্ষ সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার পরিচালনা করেছিলেন। নেতানিয়াহুর পতন ঘটাতে আইজেনকোটকেও ঠিক তেমনি একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
সম্প্রতি ইসরাইলি নির্বাচনে ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। এর ফলে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনি দলগুলোর সমর্থন ছাড়া নেতানিয়াহু বা বিরোধী দল—কারোর পক্ষেই এককভাবে সরকার গঠন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোটের আসন সংখ্যা আগের ৬৪টি থেকে কমে ৫৩টিতে নেমে এসেছে। ফিলিস্তিনিদের এই নির্বাচনী সাফল্যকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিলেও জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন আহমেদ টিবি। তার স্পষ্ট কথা, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মূল লক্ষ্য হলো নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নেতানিয়াহুর পতন নিশ্চিত করা এবং ইসরাইলে নিজেদের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার আদায় করা।
সূত্র: মিডলইস্ট আই
চাঁদের বুকে পারমাণবিক চুল্লি বসাতে লড়ছে তিন পরাশক্তি
চাঁদের বুকে আধিপত্য বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মধ্যকার প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কেবল নভোচারী পাঠানো নয়, বরং চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ, বরফ থেকে পানি ও রকেটের জ্বালানি উৎপাদন এবং মূল্যবান খনিজ সম্পদ আহরণের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে পরাশক্তিগুলো। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে সামনে এসেছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
চাঁদের মেরু অঞ্চলের গভীর খাদ বা চির-অন্ধকার অঞ্চলে পানির বরফের সন্ধান মিলেছে, যা প্রক্রিয়াজাত করে পানীয় জল, অক্সিজেন ও জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব। এছাড়া চাঁদের মাটিতে থাকা অ্যালুমিনিয়াম, টাইটানিয়াম ও সিলিকন আহরণের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে চাঁদের প্রায় চৌদ্দ পৃথিবী দিন সমমানের দীর্ঘ রাত ও অন্ধকারের কারণে সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়। এই সমস্যার সমাধানেই পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ‘লুনার রিয়্যাক্টর-১’ (LR-1) প্রকল্পের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। ছয় হাজার কেজির কম ওজনের এই চুল্লি পাঁচ বছর পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই বিদ্যুৎ দিতে পারবে। এছাড়া ২০৩০-এর দশকের শুরুতে ৪০ কিলোওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক ব্যবস্থা চালুর কাজও চলছে। অন্যদিকে, চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে আন্তর্জাতিক চন্দ্র গবেষণা কেন্দ্রের জন্য পারমাণবিক বিদ্যুৎব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। রুশ মহাকাশ সংস্থা রসকসমস ২০৩৬ সালের মধ্যে ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই ১০ বছরের বেশি সচল থাকবে।
মহাকাশ খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তারাও পিছিয়ে নেই। ইলন মাস্কের স্পেসএক্স চাঁদের খনিজ ব্যবহার করে মহাকাশেই স্যাটেলাইট ও যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা স্থাপনের কথা ভাবছে। তবে এই উদ্যোগের বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিরাপত্তা। রকেটে করে পারমাণবিক চুল্লি পরিবহনের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। ১৯৭৮ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘কসমস-৯৫৪’ স্যাটেলাইট কানাডায় বিধ্বস্ত হয়ে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি এ ক্ষেত্রে বড় সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।
বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের পাশাপাশি এই প্রতিযোগিতায় রয়েছে কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য। ১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ অনুযায়ী চাঁদের সার্বভৌম মালিকানা দাবির সুযোগ না থাকলেও, বরফ ও খনিজসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের আশঙ্কা রয়েছে।
আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে মোজতবা খামেনির চরম হুঙ্কার: মানা হবে না কোনো সীমানা
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে চরম হুঙ্কার দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান কিংবা দেশটির আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর যদি নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হয়, তবে তার উপযুক্ত জবাব দিতে ইরানি বাহিনী কোনো ধরনের ভৌগোলিক সীমানা বা আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলবে না।
মোজতবা খামেনির অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিশেষ যুদ্ধংদেহী বার্তায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো সম্ভাব্য হামলার বিপরীতে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই বিবৃতিতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলা হয়েছে, শত্রুপক্ষ যদি আবারও কোনো সামরিক বা প্রতিকূল পদক্ষেপ নেওয়ার দুঃসাহস দেখায়, তবে সেই সংঘাত কখন এবং কীভাবে সমাপ্ত হবে, তা নির্ধারণ করবে কেবল তেহরান।
পরিস্থিতি আরও বেশি সংঘাতপূর্ণ করে তোলার নির্দেশ দিয়ে খামেনি ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর এবং সামরিক স্থাপনাকে যেন তেহরানের নতুন ‘টার্গেট লিস্ট’ বা লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর সুদূরপ্রসারী অর্থ হলো, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে সেই লড়াই আর কেবল মধ্যপ্রাচ্যের নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ও ইসরাইলি স্বার্থ এবং স্থাপনাগুলোও সরাসরি ইরানি বাহিনীর হামলার নিশানা হতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তাপ: প্রস্তুত থাকার নির্দেশ আমেরিকার
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে ইরানে নতুন সামরিক হামলার আশঙ্কায় প্রস্তুত থাকার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরদিনই—অর্থাৎ ৪ নভেম্বর থেকে এই সম্ভাব্য হামলা শুরু হতে পারে। যদিও ওয়াশিংটন বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়নি, তবে সম্ভাব্য স্বল্পস্থায়ী ও তীব্র এই সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে উপসাগরীয় অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা বা ব্রিফিং করা হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘এমএস নাও’ এবং ‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ উপসাগরীয় আরব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে নতুন করে হামলা শুরু হলে তার তীব্রতা অনেক বেশি হতে পারে। তবে এই পদক্ষেপে ইরানের পক্ষ থেকে ভয়াবহ পাল্টা আক্রমণের আশঙ্কায় রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। এ কারণে উপসাগরীয় মিত্ররা ওয়াশিংটনকে অতিরিক্ত উত্তেজনা প্রশমিত করার জন্য জোর তাগিদ দিচ্ছে। এমনকি আঞ্চলিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কিছু উপসাগরীয় দেশ তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালানোর বিরোধিতা পর্যন্ত করতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে ইরানে নতুন করে কোনো হামলা চালানো হবে না। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন সমস্ত বিকল্পই খোলা রেখেছে। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে ব্যক্তিগতভাবে প্রস্তুত থাকার এই সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের চূড়ান্ত রূপরেখা বা সময়সূচি নিয়ে এখনো নানা কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েলের
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কায় তেহরান আগাম আক্রমণ চালাতে পারে: এফডিডি কর্মকর্তা
আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আশঙ্কার মুখে তেহরান আগেভাগেই ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে আগাম হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজের (এফডিডি) নির্বাহী পরিচালক জনাথন শ্যানজার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর ইরানে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে। তবে শ্যানজারের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আসন্ন বুঝে তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব হাত গুটিয়ে বসে না থেকে বরং কৌশলগত সুবিধা অর্জনের জন্য আগেভাগেই আক্রমণ চালিয়ে বসার ঝুঁকি রয়েছে।
চলমান এই উত্তেজনার ফলে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, যা নির্বাচনী প্রচারণায় রিপাবলিকান প্রার্থীদের বেশ চাপে ফেলে দিয়েছে। শুধু পেট্রল বা জ্বালানি তেলই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যান্য খাতেও পণ্য ও সেবার ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। পেন্টাগনের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক এই সামরিক কার্যক্রমে মার্কিন করদাতাদের ব্যয় ইতোমধ্যে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭১০ কোটি ডলারে।
তবে শ্যানজারের এই বিশ্লেষণটি একান্তই সম্ভাব্য পরিস্থিতির একটি মূল্যায়ন মাত্র, যেখানে ইরানের সুনির্দিষ্ট কোনো আগাম হামলার পরিকল্পনা বা নিশ্চিত সামরিক পদক্ষেপের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, হামলার সময় নিয়ে এই অনিশ্চয়তা এবং তেহরানের পাল্টা আঘাত হানার আশঙ্কা সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
পাঠকের মতামত:
- ৯ মাসের ব্যবধানে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭১৯ টাকা
- অ্যাম্বুলেন্সে পাওয়া গেল ৬৭২ বোতল ভারতীয় সিরাপ
- নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে দেশে ছাগল-ল্যাপটপ চুরি বাড়বে: রাশেদ খাঁন
- সরকার গঠন ব্যর্থ হলে ৯০ দিনের মধ্যে ইসরায়েলে নতুন নির্বাচনের হাঁকডাক
- আগামী পাঁচ দিন দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার পূর্বাভাস
- বড় ধরনের সাইবার হামলার পরও ক্রিপ্টোবাজারে বড় বিপর্যয় এড়াতে পেরেছে বাইন্যান্স
- রাজনৈতিক জটিলতা এড়িয়ে ভিন্ন পরিচয়ে এপিএলে খেলছেন মোহাম্মদ আমির
- শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠিত হবে এইচএসসির পুনর্বীক্ষা
- ঢাকাকে না জানিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, জবাবের অপেক্ষায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
- মাত্র ৩ উপাদানে ঘরোয়া উপায়ে তৈরি করুন সুগন্ধি সাবান
- রাত আটটা থেকে কার্যকর হচ্ছে এলপিজির নতুন ও বর্ধিত মূল্য
- রাতে অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানতে পারে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’
- শর্ত মানলে দু’দিনে হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণা ইরানের
- জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান দিবসে ডেঙ্গু সচেতনতা ও বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত
- জামায়াতের ‘বিপ্লব’ মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা রুহুল কবীর রিজভীর
- ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম
- হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন কূটনৈতিক মোড়
- শ্রমিকদের কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলন নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- সীমান্ত থেকে পোশাক শিল্পে উসকানি দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- দেশের পাঁচ বিভাগে হতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টি
- প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জেলে পাঠানোর হুংকার রাহুল গান্ধীর
- পোশাক খাতের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক: জামায়াত আমির
- পোশাক খাতের নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- উত্তপ্ত সাজেকে সশস্ত্র দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
- মাত্র দশ মিনিটে কি ধ্বংস সম্ভব ইরানের পরমাণু শক্তি
- শীতের সকালে ব্যায়ামের আগে কী খাবেন
- সারাদেশে তিন দিন গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্প চাপ থাকবে
- ১২৫তম প্রাইজবন্ড ড্র: বিজয়ী হলো যেসব নম্বর
- জুমার খুতবায় শেখ হাসিনাকে ‘স্বৈরাচার’ বলায় খতিবকে অব্যাহতি
- নিউজিল্যান্ড সিরিজেই ঐতিহাসিক ছক্কার মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত
- সোলার এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতে তীব্র রাজনৈতিক সংকট
- এইচএসসিতে শতভাগ ফেল: এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থার নির্দেশ
- নেতানিয়াহুর পতনে আইজেনকোটকে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান আহমেদ টিবির
- বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ: ৭ লাখের বেশি শ্রমিক কর্মবিরতিতে
- কালিয়াকৈর থানার ওসির হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক হলো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক
- বিএনপি মাঠে নামলে পালানোর পথ পাবেন না: মির্জা আব্বাস
- সিসিটিভি ফুটেজে মিলল তাহসিফের মৃত্যুর আগের রাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য
- রাজপথে লংমার্চ নয়, সংবিধান সংস্কারে আলোচনার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- নতুন বেতনকাঠামো: কাল যারা টাকা পাচ্ছেন, যাদের অপেক্ষা করতে হবে
- খুলনায় ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের বহরে ককটেল বিস্ফোরণ
- চীন ও জাপানের বিনিয়োগে সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশের অর্থনীতি
- চোখের নিচে কালো দাগের পেছনে লুকিয়ে থাকা কারণ
- মুক্তির আগেই রেকর্ড গড়ল শাহরুখ খানের ‘কিং’
- ক্যারিবীয় স্পিনারদের বিপক্ষে আবারও ব্যর্থতার পরিচয় বাংলাদেশের
- চাঁদের বুকে পারমাণবিক চুল্লি বসাতে লড়ছে তিন পরাশক্তি
- আইন না মেনে গায়ের জোরে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় বিরোধী দল: রিজভী
- এইচএসসির ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট? যেভাবে আবেদন করবেন অনলাইনে
- সারাদেশের কোমর ভাঙা, তাই দেশ মেরামত করতে হবে: জামায়াত আমির
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে মোজতবা খামেনির চরম হুঙ্কার: মানা হবে না কোনো সীমানা
- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক অঙ্গীকার, গণভোট ও সাংবিধানিক বৈধতার জটিল সমীকরণ
- জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান দিবসে ডেঙ্গু সচেতনতা ও বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত
- আবেদন শুরুর তারিখ ঘোষণা, আবারও আসছে ডিভি লটারি সুযোগ
- নভেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ
- মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
- বিক্রির কদিন না যেতেই অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং আইফোনে ফাটল!
- পর্যটকদের জন্য বড় স্বস্তি: সেন্টমার্টিনে রাতে থাকতে আর বাধা নেই
- হুথিদের হামলা থামাতে তেহরানকে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদির?
- তাপপ্রবাহের পর ভ্যাপসা গরমের মধ্যেই এলো ঘূর্ণিঝড়ের আপডেট
- সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় পতন
- ডিভি লটারি ২০২৭-এ বাংলাদেশ কি সুযোগ পাবে?
- যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- নতুন বেতনকাঠামো: কাল যারা টাকা পাচ্ছেন, যাদের অপেক্ষা করতে হবে
- হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম ব্যবহারে আসছে নতুন কড়াকড়ি
- তাহসিফের সঙ্গে কী ঘটেছিল, পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ জাতিকে জানাতে হবে: নাহিদ ইসলাম








