হঠাৎ সুর নরম ট্রাম্পের! অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ল ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২২ ১০:১৬:০৭
হঠাৎ সুর নরম ট্রাম্পের! অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ল ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতি
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে এক নতুন মোড়। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) এক বিশেষ ঘোষণায় ট্রাম্প ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বুধবার এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে এসে রক্তক্ষয়ী হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, মূলত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের বিশেষ অনুরোধে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, "আমি আমাদের সেনাবাহিনীকে অবরোধ চালিয়ে যেতে এবং সব দিক থেকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছি। ইরানের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রস্তাব জমা দেওয়া এবং আলোচনা শেষ হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকবে।" তবে হামলা স্থগিত থাকলেও ইরানের বন্দরে মার্কিন নৌ-অবরোধ আগের মতোই কঠোরভাবে চলবে বলে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন।

ট্রাম্পের এই নমনীয়তা বিশ্ববাসীকে অবাক করেছে, কারণ মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও তিনি ‘বোমাবর্ষণের মানসিকতা’ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন যে, ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় উভয় পক্ষ একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

তবে নৌ-অবরোধ চলমান থাকায় ইরানের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই অবরোধকে ‘যুদ্ধের শামিল’ এবং যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান জানে কীভাবে এই বাধা এড়িয়ে নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে হয়। ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে ট্রাম্পের ‘বিভাজনের’ দাবিকেও নাকচ করে দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। আল জাজিরার তথ্যমতে, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর নতুন নেতা মোজতবা খামেনির অধীনে ইরানি নেতৃত্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি একতাবদ্ধ।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতি এখন অনির্দিষ্টকালের রূপ নিল। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ এবং হিজবুল্লাহ-হামাসকে সমর্থন ত্যাগের মতো কঠিন শর্ত নিয়ে দুই পক্ষ এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে তেল আবিবের বড় লক্ষ্য প্রকাশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৪ ২১:৫৩:৫২
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে তেল আবিবের বড় লক্ষ্য প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা উৎখাত করাই ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্য এবং এই লক্ষ্য এখন তাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তেল আবিবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) জেনারেল স্টাফ ফোরামের সঙ্গে রোশ হাশানার এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন বলে জানিয়েছে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল। নেতানিয়াহুর মতে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব ক্রমাগত সামরিক চাপে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং এখন কেবল টিকে থাকার লড়াই চালাচ্ছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিরতরে এই হুমকি দূর করার সক্ষমতা তেল আবিবের রয়েছে এবং তেহরানের সরকার পতন ঘটানো এখন কোনো অসম্ভব বিষয় নয়, বরং পুরোপুরি বাস্তবসম্মত। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে পরিচালিত সামরিক অভিযানের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি শত্রুদের সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে যেন কেউ সংঘাতে না জড়ায়। এর আগে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও একই সুরে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ইসরায়েলে কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে ইরানের শাসনব্যবস্থার সব অবকাঠামো এবং জ্বালানি স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হানা হবে।

অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননের আলি তাহের রিজ এলাকায় হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসের দাবি করেছে আইডিএফ, যার প্রতিক্রিয়ায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর পাল্টা জবাবের হুমকি দিয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, আসন্ন ইহুদি ধর্মীয় উৎসব ও ৭ অক্টোবরের তৃতীয় বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বিদেশে অবস্থানরত ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর হামলার ছক কষছে ইরানের কুদস ফোর্স ও হামাস। তেহরান সরাসরি লড়াইয়ের বাইরে গিয়ে অন্য কোনো ময়দানে বড় ধরনের আঘাত হেনে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে মনে করছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা নেতৃত্ব।

সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল


নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৪ ২১:০৩:৪০
নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে ইরান আকস্মিক কোনো সামরিক বা কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিউনিশিয়ায় দায়িত্ব পালন করা সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জোয়ি হুড। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করে জানান, আগামী নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই সময়ের মধ্যে তেহরান যেকোনো বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত আঘাত হানতে পারে।

জোয়ি হুড উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টদের নির্বাচনী সময়ে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ইরানের। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের শাসনামল থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি নির্বাচনের আবহেই ইরান এ ধরনের চাপ তৈরির নজির তৈরি করেছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে; আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়ে ইরান মার্কিন অর্থনীতিতে আঘাত হানতে পারে। কারণ মার্কিন সাধারণ ভোটাররা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল।

বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে না জানিয়ে সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, উভয় দেশের মধ্যে চরম কূটনৈতিক অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এ অচলাবস্থা কাটাতে তৃতীয় কোনো মধ্যস্থতাকারী দেশের পক্ষ থেকে বড় ধরনের জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। এ সংকট উত্তরণে মক্কা চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মত দেন। উপসাগর ও উত্তর আরব সাগরে ওই দেশগুলোর নৌবহর পাঠিয়ে হরমুজ প্রণালির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া গেলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা রোখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী নৌ-অবরোধের ওপর নির্ভরতাও বহুলাংশে কমে আসবে।

সূত্র: আল জাজিরা


লিপজিগে ড্রোন হামলা: রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ অভিযোগ জার্মানির

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৪ ২০:০৩:৫৮
লিপজিগে ড্রোন হামলা: রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ অভিযোগ জার্মানির
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস। ছবি: সংগৃহীত

লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে জার্মানির আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পর ইউরোপজুড়ে হাইব্রিড যুদ্ধ ও ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। গত ৪ আগস্ট লিপজিগের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কার্গো ঘাঁটিতে ইউক্রেনের আন্তোনভ পরিবহন বিমান লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন উপস্থিতি ও সংঘর্ষের ঘটনার তদন্ত শেষে বার্লিন মস্কোকে সরাসরি দায়ী করেছে। এর জবাবে বার্লিনে রাশিয়ান হাউস ও বনে রুশ কনস্যুলেট বন্ধসহ নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জার্মানি। পাল্টা পদক্ষেপে মস্কোও জার্মানির গ্যেটে ইনস্টিটিউটের একাধিক শাখা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট দাবি করেছেন, ড্রোনের কারিগরি কাঠামো ও বিস্ফোরক রাশিয়ার ‘হাইব্রিড অপারেশনের’ সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং জার্মানি এখন নিয়মিতভাবে হাইব্রিড যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ অস্বীকার করে একে সাজানো এবং অভ্যন্তরীণ সংকট ঢাকার চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী কোনো এক সদস্যের ওপর হামলা যৌথ আক্রমণ হিসেবে গণ্য হলেও, এটি আনুষ্ঠানিকভাবে সক্রিয় করার মতো সরাসরি সামরিক সংঘাত বা যুদ্ধ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি যুদ্ধের বদলে সাইবার হামলা, অবকাঠামোতে নাশকতা এবং অপতথ্য ছড়ানোর মতো অপ্রচলিত হাইব্রিড যুদ্ধের কৌশলেই রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমাদের এই ছায়া-সংঘাত রূপ নিচ্ছে।

এদিকে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক নির্বাচনের প্রাক্কালে কট্টর ডানপন্থী দল এএফডির উত্থান এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই এই সংঘাতের মাত্রা বাড়ল। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস দায়ীদের চড়া মূল্য দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যার সঙ্গে সুর মিলিয়ে দ্রুত ও কার্যকর জবাব দেওয়ার বার্তা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সামরিক জোট ন্যাটো।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যে সেনা নিরাপত্তা জোরদারে পেন্টাগনের নতুন পদক্ষেপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৪ ১৯:০৪:৪৬
মধ্যপ্রাচ্যে সেনা নিরাপত্তা জোরদারে পেন্টাগনের নতুন পদক্ষেপ
মার্কিন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন সামরিক সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করে হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় নিজস্ব ফোন ও কম্পিউটারে সব ধরনের বিজ্ঞাপন ট্র্যাকার বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সিনেটর রন ওয়াইডেনের প্রকাশ করা চিঠি ও রয়টার্সকে দেওয়া সামরিক কর্মকর্তাদের বক্তব্যে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বাণিজ্যিক ডেটা ব্রোকারদের কাছে বিক্রি হওয়া অবস্থানের তথ্য ব্যবহার করে শত্রুপক্ষ মার্কিন সেনাদের গতিবিধি নজরদারি ও নিশানা করতে পারে—এমন গভীর উদ্বেগের মুখেই এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন বিমানবাহিনী সিনেটর ওয়াইডেনকে জানিয়েছে, প্রায় দুই মাস আগেই তাদের ব্যবহৃত কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনে বিজ্ঞাপন ট্র্যাকার সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। ইউএস স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডও পৃথক বার্তায় উইন্ডোজ ডিভাইসে ট্র্যাকার বন্ধের তথ্য নিশ্চিত করেছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের উইন্ডোজ কম্পিউটারে ২০২১ সালের আগে থেকেই ট্র্যাকার বন্ধ ছিল এবং অ্যান্ড্রয়েড ও অ্যাপল ডিভাইসে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

নৌবাহিনীও সামরিক ডিভাইসে ট্র্যাকার নিষ্ক্রিয় করার কথা জানালেও সুনির্দিষ্ট সময়সীমা প্রকাশ করেনি। মূলত ‘মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং আইডি’ (এমএআইডি) ব্যবহার করে বাণিজ্যিক ডেটা ব্রোকাররা ব্যবহারকারীর অবস্থান ও কার্যক্রমের তথ্য কেনাবেচা করে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

তবে সামরিক বাহিনীর এই পদক্ষেপকে হুমকি মোকাবিলায় এখনও পর্যাপ্ত মনে করছেন না মার্কিন আইনপ্রণেতারা। সিনেটর রন ওয়াইডেন ও রিপাবলিকান প্রতিনিধি প্যাট হ্যারিগান শুক্রবার পেন্টাগনের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। হ্যারিগান মন্তব্য করেন, ক্রেডিট কার্ড দিয়ে তথ্য কিনে শত্রুরা মার্কিন সেনাদের নিশানা করবে—এমন সুযোগ থাকা উচিত নয়।

একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত সেনাদের মোবাইল ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরও কঠোর করার বিষয়টি ভাবছে ওয়াশিংটন। এমনকি ব্যক্তিগত ভিডিওর মাধ্যমে যাতে ইরানের মতো প্রতিপক্ষ মার্কিন ঘাঁটির অবস্থান শনাক্ত করতে না পারে, সেজন্য সেনাদের ফোন জমা রাখার নির্দেশনা দেওয়ার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এমএআইডি নিষ্ক্রিয় করা ইতিবাচক হলেও নেটওয়ার্ক ও ডিভাইসের অন্যান্য কারিগরি তথ্য মিলিয়ে নজরদারির ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি।

সূত্র : রয়টার্স


অস্ত্রের মজুদ ফাঁকা হওয়ার খবর ‘শতভাগ ভুল’: ট্রাম্পের হুঙ্কার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ২১:৪৩:৫৩
অস্ত্রের মজুদ ফাঁকা হওয়ার খবর ‘শতভাগ ভুল’: ট্রাম্পের হুঙ্কার
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আধুনিক সমরাস্ত্রের মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ার সংক্রান্ত গণমাধ্যমের প্রতিবেদনকে ‘শতভাগ ভুল’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিচালনায় টমাহক, প্যাট্রিয়ট এবং থাড ক্ষেপণাস্ত্রের মতো দূরপাল্লার ও আকাশ প্রতিরক্ষা সমরাস্ত্রের মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এমনকি মার্কিন বাহিনীর প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের দুই-তৃতীয়াংশ এবং থাডের প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যবহার হয়ে গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এসব দাবি সরাসরি উড়িয়ে দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে এখনো মাঝারি ও উচ্চমানের অস্ত্রের প্রায় ‘সীমাহীন মজুদ’ রয়েছে এবং সমরাস্ত্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন রেকর্ড গতিতে বাড়ানো হচ্ছে। ট্রাম্প জানান, মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করছে। সেই সঙ্গে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সামরিক অস্ত্র স্বল্পতার ভুয়া তথ্য যারা বাইরে ফাঁস করছে, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

অন্যদিকে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, অস্ত্র ঘাটতির বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্প ডেভিডে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে ট্রাম্পের তীব্র মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট। তিনি স্পষ্ট জানান, তিনি নিজে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে এ ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ট্রাম্প আরও নিশ্চিত করেছেন যে সংঘাতের কারণে সুইজারল্যান্ড, জাপান, যুক্তরাজ্য ও পোল্যান্ডের মতো মিত্র রাষ্ট্রগুলোতে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ সাময়িকভাবে কিছুটা বিলম্বিত হলেও দ্রুতই তা পুরোদমে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

/আশিক


কুয়েতে ইরানের ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ১৮:১২:৫০
কুয়েতে ইরানের ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের ধারাবাহিকতায় এবার কুয়েতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কুয়েতের সেনাবাহিনী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তেহরান থেকে ধেয়ে আসা একাধিক আগ্রাসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

হামলার ঘটনার পরপরই কুয়েত কর্তৃপক্ষ দেশটির সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন অঞ্চলে যে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, তা মূলত কুয়েতি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কর্তৃক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে। এই হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা আরও বিপজ্জনক রূপ নিল।

কুয়েতে এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের মাত্র এক দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান সংঘাত খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, তিনি মনে করেন না এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হবে। সেই সঙ্গে তেহরান আর কতটা বৈরী পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এর আগে মঙ্গলবার ইরানে পরিচালিত মার্কিন হামলাকে অত্যন্ত ব্যাপক আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন যে ওয়াশিংটন যেকোনো মুহূর্তে আরও বড় সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তবে ওই হামলার পর ইরান তাৎক্ষণিক তীব্র পাল্টা আঘাত হানে, যার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্র জর্ডান ও বাহরাইন।

এদিকে রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের সঙ্গে এই সামরিক বিরোধ যাতে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সে জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকেরা ভেতরে ভেতরে কাজ করছেন। অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার সঙ্গে যুক্ত চারজন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এই সংঘাতকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই কৌশলের অন্যতম মূল কারণ হলো যুদ্ধাবস্থার কারণে যেন রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী ক্ষতি না হয়, কেননা ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়া নিয়ে খোদ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যেই অসন্তোষ ও বিরূপ মনোভাব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

/আশিক


ইরানের পাশে পুতিন: ‘ক্ষুধার্ত হাঙরদের’ দাঁতভাঙা জবাবের হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ২১:৩৬:২৮
ইরানের পাশে পুতিন: ‘ক্ষুধার্ত হাঙরদের’ দাঁতভাঙা জবাবের হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

ইউক্রেনে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ইরানকে রাশিয়ার পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি মস্কোর এই অনড় অবস্থান তুলে ধরেন। ইউক্রেন সংকট নিরসনে কোনো সম্ভাব্য সমঝোতা বা শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কাজ করতে তিনি পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের মস্কো সফরের পরপরই উইটকফ ও কুশনারকে নিয়ে মন্তব্য করলেন পুতিন। সিআইএ প্রধান তাঁর বিরল ওই সফরে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সংঘাত বন্ধের পক্ষে ওয়াশিংটনের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। র‍্যাটক্লিফের সফর নিয়ে পুতিন উল্লেখ করেন, চরম স্নায়ুযুদ্ধের সময়েও দুই পরাশক্তির শীর্ষ গোয়েন্দা প্রধানদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল, যদিও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা কিছুটা থমকে আছে। তবে ট্রাম্পের দুই দূতের ওপর আস্থা প্রকাশ করে পুতিন বলেন, পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কাজ করতে কোনো দ্বিধা নেই, বিশেষ করে যেহেতু তাঁরা সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে সক্ষম।

বিশকেক সম্মেলনের এই সময়ে ইউক্রেন সংঘাত নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে এবং উভয় পক্ষই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিধি ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। পুতিন জানান, ইউক্রেনের জাতীয় জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের হামলা চালাতে রুশ বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কিয়েভের খাদ্য ও কৃষিপণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশটি মারাত্মক অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের ড্রোনের কারণে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বেসামরিক বিমান চলাচল অনিরাপদ হয়ে পড়বে বলে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, সেটিকে সরাসরি ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট। পুতিন সাফ জানিয়ে দেন, একদিকে তারা আলোচনার টেবিলে বসার অনুরোধ জানাচ্ছে, অন্যদিকে সন্ত্রাসবাদী হুমকি দিচ্ছে; আর মস্কোর নীতি অনুযায়ী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হতে পারে না। এছাড়া রুশ পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর দেশটিতে নতুন করে বাধ্যতামূলক সেনা সমাবেশের যে গুঞ্জন রয়েছে, সেটিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন তিনি।

এদিকে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন পুতিন। সেখানে তিনি জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ইরানি নেতৃত্বের দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করে মস্কোর ধারাবাহিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপট থেকেই ইরানকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পাশে রেখেছে ক্রেমলিন।

পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক তৎপরতার গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি ক্যাস্পিয়ান সাগর হয়ে ড্রোন তৈরির অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রাংশ পাঠিয়ে তেহরানকে সহযোগিতা করে আসছে মস্কো। কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়া প্রসঙ্গে পুতিন পেজেশকিয়ানকে আশ্বস্ত করে বলেন, এই সংকটময় মুহূর্তে ইরানের চাহিদা অনুযায়ী সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা সরবরাহ করছে রাশিয়া।

পশ্চিমা বিশ্বের আধিপত্য বিস্তারকারী নীতির কঠোর সমালোচনা করতে গিয়ে ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, সোভিয়েত যুগে পাশ্চাত্যকে ‘সাম্রাজ্যবাদের হাঙর’ বলে আখ্যা দেওয়া হতো। কেউ যদি খাদ্যশৃঙ্খলের নিয়ম ভেঙে রাশিয়াকে নিচে নামিয়ে দিতে বা গ্রাস করতে চায়, তবে তারা চূড়ান্ত জবাব পাবে। এসব আধিপত্যকামী শক্তির ক্ষুধা ও আক্রমণের প্রবণতা যতই বাড়ুক না কেন, যেকোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ রুখে দিয়ে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার জন্য মস্কো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

/আশিক


ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন থেকেই মধ্যপ্রাচ্য সংকটের শুরু:  শাহবাজ শরিফ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ২০:১৬:০৮
ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন থেকেই মধ্যপ্রাচ্য সংকটের শুরু:  শাহবাজ শরিফ
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে যে তীব্র অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে, তা নিরসনের একমাত্র টেকসই উপায় কূটনীতি বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান সর্বদা শান্তির পক্ষে অবস্থান নেয় এবং বর্তমান সংকট উত্তরণে গঠনমূলক মধ্যস্থতা ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় নিজেদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে ইসলামাবাদ। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে আয়োজিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এসসিও সদস্যরাষ্ট্র ইরান চলতি বছরের শুরুর দিকে সরাসরি হামলার মুখে পড়েছে, যা দেশটির সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক ভয়াবহ আঞ্চলিক সংকট ডেকে এনেছে। সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌ ও পরিবহন পথ বন্ধ বা বিঘ্নিত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তানসহ বিশ্বের বহু দেশ এর প্রত্যক্ষ নেতিবাচক শিকার হচ্ছে বলে তিনি জানান।

শাহবাজ শরিফ স্পষ্টভাবে জানান, সামরিক সংঘাত নয়, বরং কূটনৈতিক সংলাপই পারে এই গভীর খাদ থেকে উত্তরণ ঘটাতে। পাশাপাশি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে তা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সংকট সমাধানে পাকিস্তান যেকোনো আন্তরিক আলোচনার মধ্যস্থতায় সক্রিয় থাকতে প্রস্তুত।

সম্প্রতি পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে হওয়া বহুল আলোচিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়েও কথা বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশ্বস্ত করে জানান, এই চুক্তিটি সম্পূর্ণভাবে আত্মরক্ষামূলক এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে গঠন করা হয়নি। কোনো ধরনের সংঘাত উসকে দেওয়া কিংবা নতুন বিভাজন তৈরির কোনো উদ্দেশ্য এতে নেই।

এছাড়া ফিলিস্তিনের গাজা ও পশ্চিম তীরের মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন শাহবাজ শরিফ। তিনি অবিলম্বে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনগণের পাশে দাঁড়াতে এবং নিজেদের বৈশ্বিক দায়িত্ব পালন করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান তিনি।

/আশিক


দক্ষিণ ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলায় ব্যাপক হতাহত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ০২ ১৮:১৫:১২
দক্ষিণ ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলায় ব্যাপক হতাহত
ছবি: শাফাক নিউজ থেকে নেওয়া

দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলায় কমপক্ষে ১২ জন নিহত এবং ৭৬ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ইরানি কর্তৃপক্ষের বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় ও রাষ্ট্র-সমর্থিত গণমাধ্যমগুলো এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

হামলায় সবচেয়ে বড় ধরনের বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে হরমুজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টির উপকূলীয় কুহেস্তাক এলাকায়। সেখানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফার্স নিউজ জানিয়েছে, ওই একক ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং আরও ৬৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশুও রয়েছে।

অন্যদিকে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, আহভাজ ও আগাজারি এলাকার তিনটি পৃথক স্থানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এসব হামলায় সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন আটজন।

ইরানি গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এছাড়া বন্দর আব্বাস, কেশম, জাস্ক এবং চাবাহার ও কোনারাকের আশপাশের এলাকাগুলোতেও মার্কিন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। তবে সেসব এলাকায় সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকায় দেশজুড়ে মোট হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: শাফাক নিউজ এজেন্সি

পাঠকের মতামত: