পাঁচ জেলায় শুরু হবে ই-হেলথ সেবা কার্যক্রম, মিলবে যেসব সুবিধা

দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক ও ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই পদক্ষেপকে নাগরিক সেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও তথ্যনির্ভর করে তুলবে।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান জানান, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই ই-হেলথ কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই কার্ড একটি সমন্বিত ইলেকট্রনিক রোগী ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ফলে একজন রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকবে, যা চিকিৎসা প্রদানকে আরও দ্রুত ও নির্ভুল করবে।
প্রাথমিকভাবে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় এই কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে সেবা চালু হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বিস্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড চালু হলে রোগীকে বারবার একই তথ্য প্রদান করতে হবে না এবং চিকিৎসা সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা সহজ হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে একই অধিবেশনে শিক্ষা খাত নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে, বিশেষ করে ইংরেজি শিক্ষার মান উন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী-এর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
-রফিক
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ, ভারতের জন্য তৈরি হতে পারে অস্বস্তি
পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র মাত্র তিন সপ্তাহ পার হতেই এর ভবিষ্যৎ বিস্তার নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। চুক্তির সম্মিলিত প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির চেয়েও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—নতুন কোন কোন দেশ এই সামরিক বলয়ে যুক্ত হতে যাচ্ছে। নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি ঘটলে এই জোটের ভৌগোলিক পরিসর পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে পারস্য উপসাগর হয়ে ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
সম্ভাব্য সম্প্রসারণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ প্রকাশ্যে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে এবং মিসর বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। অন্যদিকে ইরানের যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এসেছে। পার্লামেন্টের গণমাধ্যম শাখা থেকে তেহরানের আমন্ত্রণ পাওয়ার কথা বলা হলেও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
এই সামরিক জোটের প্রথম সম্প্রসারণ মধ্যপ্রাচ্যের চেয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় ঘটার সম্ভাবনাই বেশি দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সম্প্রতি জানিয়েছেন, ঢাকা এই চুক্তির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে। ঢাকাকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে জোটটিতে আরও একটি বড় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এর প্রভাব বাড়বে।
তবে এটি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত-পাকিস্তানের বিদ্যমান দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ আলী জাফরের মতে, অভ্যন্তরীণ সাম্প্রতিক অস্থিরতা বিবেচনায় নিয়ে ঢাকার পক্ষে এখনই এমন বড় সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি দিল্লির অস্বস্তির কারণ হতে পারে, কারণ চুক্তির যৌথ প্রতিরক্ষা শর্ত অনুযায়ী এক সদস্যের ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের কোনো সংঘাতে ঢাকার জড়িয়ে পড়ার যৌক্তিক কারণ না থাকলেও ইরান বা অন্য দেশগুলো যুক্ত হলে ঢাকা তাদের কৌশলগত অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে।
ইরানের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এই জোটের জন্য যেমন বিরাট তাৎপর্য বহন করে, তেমনি এতে গভীর কৌশলগত ঝুঁকিও রয়েছে। জোটের প্রতিষ্ঠাকালীন তিন দেশই ইরানের আগ্রাসী সামরিক নীতি ও ইসরায়েলের তৎপরতা নিয়ে সতর্ক। তেহরানের ইনস্টিটিউট ফর বিআরআই স্টাডিজের গবেষক আলি হোসেইনির মতে, মক্কা চুক্তির মূল কাঠামোটি মূলত ইরানের সামরিক প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি প্রয়াস।
ফলে এই জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলে ইরানের নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থ ক্ষুণ্ন হতে পারে, বরং বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা জিইয়ে রাখাই তেহরানের জন্য লাভজনক। গবেষক আলী জাফর মনে করেন, ইরান যুক্ত হলে জোটটি বৃহৎ রূপ পেলেও বর্তমান সদস্যরা তেহরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চাইবে না। ফলে জোট বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রতিপক্ষ ও পরস্পরবিরোধী স্বার্থের জটিলতাও তৈরি হবে।
মিসরও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে জোটের প্রস্তাব মূল্যায়ন করছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি জানিয়েছেন, সাংবিধানিক ও আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক অফির উইন্টারের মতে, চুক্তিটি কাদের লক্ষ্য করে গঠিত এবং এতে কী ধরনের সামরিক দায় তৈরি হবে, তা স্পষ্ট না থাকায় কায়রো দ্বিধায় রয়েছে।
ইসরায়েলের সঙ্গে ১৯৭৯ সালের শান্তি চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মিসর সাংঘর্ষিক কোনো সামরিক চুক্তিতে জড়াতে পারে না। একইসঙ্গে গ্রিস, সাইপ্রাস, সৌদি আরব, আমিরাত ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে তারা কোনো একক সামরিক জোটে ঢুকে ভারসাম্য নষ্ট করতে চায় না।
এদিকে তুরস্কের সক্রিয় ভূমিকার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটির ওপর কড়া নজর রাখছে ইসরায়েল। রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্ব, মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতি তাঁর সমর্থন এবং সিরিয়ার বর্তমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আঙ্কারার ঘনিষ্ঠতার কারণে এমন কোনো অক্ষ তৈরি হওয়াকে ইসরায়েল তাদের আব্রাহাম অ্যাকর্ডস কৌশলের বিপরীত বলে মনে করছে। বিপরীতে, এই জোটের মাধ্যমে পাকিস্তানের কৌশলগত প্রভাব দক্ষিণ এশিয়া পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আরও জোরালো হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদ এমন একটি মধ্যম শক্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরছে, যারা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম।
বিশ্বশক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ই নিজ নিজ স্বার্থের জায়গা থেকে এই জোটকে মূল্যায়ন করছে। বেইজিং এটিকে বহুমেরুকেন্দ্রিক ব্যবস্থার ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৭ আগস্ট এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। ওয়াশিংটন চাইছে আঞ্চলিক অংশীদাররা তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেরাই নিক, তবে অস্ত্র বিক্রি, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য যাতে অক্ষুণ্ন থাকে, সেই দিকটিও তারা সতর্কভাবে নিশ্চিত করছে।
(মূল প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক মার্কিন গণমাধ্যম দ্য মিডিয়া লাইন। গত ২৮ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সংক্ষেপে অনুবাদ করা হয়েছে।)
ব্যবসায়ী সংগঠনের আপত্তিতে কর নীতিতে পিছু হটলো এনবিআর
দেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কর পরিশোধের নিয়মে বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বার্ষিক ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার বা বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর কোনো ধরনের টার্নওভার কর দিতে হবে না। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এই আয়ের ওপর ১ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছিল। তবে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর ধারাবাহিক আপত্তি ও দাবির প্রেক্ষিতে সোমবার (৩১ আগস্ট) একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে এনবিআর।
টার্নওভার কর মূলত এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে ব্যবসা বা পেশাগত সেবার মোট আয়ের ওপর ভিত্তি করে কর নির্ধারিত হয়, এতে ব্যবসা লাভজনক হোক কিংবা লোকসানে থাকুক। অতীতে এই করের হার ছিল শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ। মূলত কোম্পানিগুলো যেন ভুয়া লোকসান দেখিয়ে নিয়মিত কর ফাঁকি দিতে না পারে, সেই প্রবণতা আটকাতেই এই ন্যূনতম করের নিয়ম চালু করেছিল কর প্রশাসন। তবে ব্যবসা মহলে এটি বেশ সমালোচিত ছিল। ব্যবসায়ীদের মতে, সত্যিকার অর্থে ক্ষতির মুখে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও লাভ-লোকসান নির্বিশেষে কর দিতে বাধ্য করায় এটি করের ন্যায্যতার পরিপন্থী হয়ে উঠেছিল।
সংশোধিত নীতিমালা অনুসারে, বার্ষিক ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ করমুক্ত সুবিধা পাবে। তবে বিক্রির পরিমাণ ২ কোটি টাকার বেশি কিন্তু ৪ কোটি টাকার মধ্যে হলে অতিরিক্ত আয়ের ওপর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বা আধা শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে, বার্ষিক টার্নওভার ৪ কোটি টাকার বেশি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্বের মতোই ১ শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধ করতে হবে।
এই কর সমন্বয়ের কারণে মূলত প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সরাসরি আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি পাবেন। এর আগে লাভ-লোকসান নির্বিশেষে আরোপিত ১ শতাংশ কর প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছিল ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। পাশাপাশি একই দাবি তুলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে লিখিত চিঠি দিয়েছিল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। তাদের যুক্তি ছিল, স্বল্প মুনাফার ব্যবসাগুলো এই নিয়মের কারণে মাত্রাতিরিক্ত করের বোঝায় পড়ছিল এবং লোকসানি প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেশি আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত হচ্ছিল।
এদিকে আয়কর আইনের ১৬৩ ধারা মোতাবেক কিছু নির্দিষ্ট খাতের জন্য আলাদা টার্নওভার করহার বহাল থাকছে। এর মধ্যে সিগারেট, বিড়ি ও তামাকপণ্য প্রস্তুতকারকদের ৩ শতাংশ, মিষ্টি ও কার্বোনেটেড বেভারেজ প্রস্তুতকারকদের আড়াই শতাংশ এবং মোবাইল ফোন অপারেটরদের দেড় শতাংশ হারে কর দিতে হবে। তবে নতুন শিল্পোদ্যোগের সুরক্ষায় বাণিজ্যিক উৎপাদনের প্রথম তিন বছর ১ শতাংশের পরিবর্তে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ হারে কর দেওয়ার পূর্ববর্তী বিশেষ সুবিধাটি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
/আশিক
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বড় আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা সরকারের
টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যা আজ থেকেই কার্যকর ধরা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বর্তমান বাজারদর ও বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন দরপত্রের মূল্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় প্রতি ইউনিট ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে বিশেষ প্রণোদনা হিসেবে ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যুক্ত করে উৎপাদিত বিদ্যুতের ট্যারিফ বা ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা। নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে কম খরচে সিস্টেম স্থাপন করতে পারলে সাশ্রয়কৃত অর্থ গ্রাহকের অতিরিক্ত লাভ হিসেবে গণ্য হবে।
‘নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫’ অনুসারে, যেসব গ্রাহক ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই সিস্টেম স্থাপন করে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী তিন বছর (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত) প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পাবেন। তবে নির্ধারিত সময়সীমার পর স্থাপিত প্ল্যান্টের ক্ষেত্রে এই প্রণোদনা কার্যকর হবে না। বিতরণ সংস্থাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিডে আসা বিদ্যুতের হিসাব রাখবে এবং প্রণোদনার অর্থ সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পাঠানো হবে; কোনো অবস্থাতেই নগদ লেনদেন করা যাবে না।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, ব্যবহৃত সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার ও মিটারসহ সব যন্ত্রপাতিকে বিএসটিআই এবং স্রেডা (SREDA)-এর নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে। গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি ও নীতিগত সহায়তা দিতে ইতিমধ্যে একটি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু করা হয়েছে, যার সেবা পাওয়া যাবে দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিতরণ কার্যালয়গুলো থেকেও।
/আশিক
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতা বাড়াবে আইপিইউ: শামা ওবায়েদ
তরুণ ও নতুন আইনপ্রণেতাদের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করতে এবং সংসদ সদস্যদের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা জোরদার করবে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সফররত আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শামা ওবায়েদ জানান, আইপিইউ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রতিনিধিদলটি ইতিমধ্যে সরকারি ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ছাড়াও নারী এমপিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে। নতুন সংসদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ এবং প্রথমবারের মতো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তিকে আইপিইউ অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।
বৈঠকে বাংলাদেশি আইনপ্রণেতাদের নীতি প্রণয়ন ও সংসদীয় কার্যক্রমে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জেনেভায় আইপিইউ আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া গণতন্ত্র, মানবাধিকার, নারী ক্ষমতায়ন, এসডিজি এবং জলবায়ু সহনশীলতার মতো অগ্রাধিকারমূলক বিষয়ে আইপিইউর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ঢাকা।
আগামী মাসে তানজানিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আইপিইউ সম্মেলনে বাংলাদেশের স্পিকার ও সংসদ সদস্যরা অংশ নেবেন বলে প্রতিমন্ত্রী নিশ্চিত করেন। উল্লেখ্য, সরকারি সফরে এসে আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ জাতীয় সংসদ পরিদর্শন ছাড়াও শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখেন এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের আলোকচিত্র ও দলিলপত্র প্রত্যক্ষ করেন।
/আশিক
প্রধানমন্ত্রীর কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ বার্তা, দ্রুতই সরাসরি বৈঠকের আভাস
শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে তিনি এই প্রত্যাশার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, নানা প্রতিকূলতা ও জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেলেও তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও এ দেশের জনগণের একটি অত্যন্ত উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। একই সঙ্গে চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর আন্তরিক ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা প্রকাশ করেন।
এছাড়া, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, বোয়িং কখনোই বাংলাদেশকে হতাশ করবে না। একই সঙ্গে উড়োজাহাজ ক্রয়ের প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মনোযোগ ও ইতিবাচক উদ্যোগের কথা তিনি বিশেষভাবে মনে রাখবেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেন।
সূত্র: বাসস
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দুই বছর লাগবে না, সচিবালয়ে উপদেষ্টার বার্তা
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত সংকট পুরোপুরি নিরসনে অর্থমন্ত্রী দুই বছর সময়ের কথা উল্লেখ করলেও চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এত দীর্ঘ সময় লাগবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্য উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং জ্বালানি সরবরাহজনিত সাময়িক জটিলতা কাটলেই অল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তবে অর্থমন্ত্রী মূলত পুরো খাতের স্বনির্ভরতা ও স্থায়ী সমাধানের সময়সীমা নির্দেশ করেছিলেন। দেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পুরোদমে চালু হতে দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে।
এর পাশাপাশি বাপেক্সের মাধ্যমে প্রায় ১৫০টি কূপ খনন ও পুনঃখনন এবং ভোলার গ্যাস জাতীয় পাইপলাইনে যুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে চলতি সেপ্টেম্বরেই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু এবং আগামী বছর পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে এলএনজি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব দেশের ওপর পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে এবং ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের মানুষ বিদ্যুতের স্বাভাবিক সুবিধা পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
/আশিক
ভারত থেকে পালিয়ে আসা সন্ত্রাসীদের ঢাকায় আশ্রয় হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসীকে যেমন ঢাকায় আশ্রয় দেওয়া হবে না, তেমনি বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসীও যেন ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ডে আশ্রয় না পায়—এমন দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সমসাময়িক বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, সফরের বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে পারস্পরিক সম্মান, জাতীয় স্বার্থ এবং উভয় দেশের সরকারপ্রধানের সুবিধাজনক সময় সমন্বয়ের ভিত্তিতে একটি উপযুক্ত সময়ে এই দ্বিপক্ষীয় সফর অনুষ্ঠিত হবে।
সফর নিয়ে সুনির্দিষ্ট তারিখ না থাকায় কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, তারিখ নির্ধারিত না হওয়া মানেই যোগাযোগ বা আলোচনা থমকে যাওয়া নয়; উভয় দেশের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এ সময় ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আলোচনার একটি পর্যায়ে ৫ আগস্টের মতো ঘটনা ঘটেছিল, যা বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে গভীরভাবে আঘাত হানে। ঢাকা সেই উদ্বেগের বিষয়টি দিল্লির কাছে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে এবং সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনা নিয়েই বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা নতুন করে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
/আশিক
অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়ন হবে না, সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের বার্তা
বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে পুরোপুরি ‘জনগণকেন্দ্রিক’ (পিপল টু পিপল) করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দুই দেশের পারস্পরিক চ্যালেঞ্জ ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নিয়ে যৌথ উন্নয়নের স্বার্থে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীত নিয়ে আটকে থাকলে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার এসব কথা বলেন। এ সময় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষেও শুভেচ্ছা জানান তিনি।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও দুই দেশের বর্তমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে দীনেশ ত্রিবেদী স্পষ্ট করেন যে, একজন কূটনীতিক হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করা তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থনে নির্বাচিত সরকার এবং দেশের জনগণই ভালো বুঝবেন তাঁদের জন্য কোনটি কল্যাণকর। তিনি যোগ করেন, দিল্লির প্রতিনিধি হিসেবে ভারত সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও সমতার ভিত্তিতেই অংশীদারত্ব এগিয়ে নিতে চায়। ভৌগোলিক সীমানা ও যৌথ স্বপ্ন ভাগাভাগি করার কারণে প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের দায়িত্বও বেশি।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মুক্তবাণিজ্য আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, অতীতে আটকে না থেকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, এটি মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। বৈঠকে স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ভারতের সাবেক মন্ত্রী হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদী তাঁর অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এসব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করা বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
/আশিক
জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বিএনপি, বিশেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশবাসী ও দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে সোমবার (৩১ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।
বিবৃতিতে তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি সবসময় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের আস্থার প্রতিদান দিতে চায়। দিনটিকে দেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার দিন হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৮ সালের এই দিনে ঢাকার রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান দলটির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় একটি যুগান্তকারী মাইলফলক ছিল। বাকশালের একদলীয় শাসন ব্যবস্থার পর শহীদ জিয়ার হাত ধরেই দেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছিল বলে তিনি স্মরণ করেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান এবং বিএনপিকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে যারা জীবন দিয়েছেন ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের অবদান চিরস্মরণীয়। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিএনপি বারবার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, অতীতে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন ও নারী শিক্ষার প্রসারের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ বিএনপি সরকারই নিয়েছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসনের পর নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আবারও বিএনপিকে দেশ গড়ার ম্যান্ডেট দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি একটি জনকল্যাণমূলক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ, ভারতের জন্য তৈরি হতে পারে অস্বস্তি
- বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে নতুন অনিশ্চয়তা, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রোখার সাধ্য শত্রুর নেই: স্পিকার গালিবাফ
- দেবিদ্বারে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত
- বড় সংঘাতের আশঙ্কায় বেইজিংয়ের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
- ব্যবসায়ী সংগঠনের আপত্তিতে কর নীতিতে পিছু হটলো এনবিআর
- আন্তর্জাতিক বাজারে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামে পতন: রয়টার্স
- মেসিকে ছাড়া বিশ্বকাপ আগের মতো থাকবে না: জোসে মরিনিও
- মধ্যরাত পর্যন্ত ১১ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
- বিপিএলে দুর্নীতির থাবা, সাবেক পরিচালকসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ
- নবম পে-স্কেল অনুমোদনের আড়ালে দুঃসংবাদ: বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা
- ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বড় আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা সরকারের
- বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতা বাড়াবে আইপিইউ: শামা ওবায়েদ
- প্রধানমন্ত্রীর কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ বার্তা, দ্রুতই সরাসরি বৈঠকের আভাস
- বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দুই বছর লাগবে না, সচিবালয়ে উপদেষ্টার বার্তা
- ভারত থেকে পালিয়ে আসা সন্ত্রাসীদের ঢাকায় আশ্রয় হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- ট্রেজারি বন্ড ও বৈশ্বিক প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধাক্কা
- অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়ন হবে না, সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের বার্তা
- টুর্নামেন্টের মাঝপথে ক্যারিবীয় লিগে দল পেলেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার
- দেশের ৬ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস, ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
- থাইল্যান্ডের পাতায়ায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা: যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কড়া সতর্কতা
- জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায় বিএনপি, বিশেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী
- এক ঐতিহাসিক যুগের সমাপ্তি, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন মহাতারকা
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে টানাপোড়েন, সামনে বড় ওঠানামার আভাস
- ইরানকে ‘ব্যর্থ ও মৃত রাষ্ট্র’ ঘোষণা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা
- পেট ফাঁপা ও বদহজম রোধে হেঁশেলের প্রাচীন উপায়ের কার্যকারিতা
- মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে চায় আরও ৬-৭টি দেশ: পাকিস্তান
- ৭ অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে ঝোড়ো হাওয়া, নদীবন্দরে সতর্কতা
- সরকারি চাকরিজীবীদের ৯ম জাতীয় পে-স্কেলের গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো প্রকাশ
- ভারত সিরিজ নিয়ে মুখ খুললেন বোর্ডপ্রধান, জানালেন সর্বশেষ পরিস্থিতি
- ২১ বছরের পুরোনো মায়া কাটিয়ে নতুন স্থায়ী ঠিকানায় বাংলাদেশি মিডফিল্ডার
- আমিরাতের আল মিনহাদ ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের ড্রোন হামলা
- দীর্ঘ এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান, নতুন বেতন কাঠামোয় মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত
- মোদির সঙ্গে বৈঠকে পেজেশকিয়ান: যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধ টিকিয়ে রাখতে আগ্রহী একটি পক্ষ
- একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ঘোষণা, অর্থ ফেরত শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত
- ভূগর্ভস্থ টানেলে আটকা শত শত প্রাণ, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চলছে উদ্ধার অভিযান
- নেপালে বন্যায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি পরিসংখ্যানে ভিন্নতা, নিখোঁজ বাড়ছে
- ইরানে পারমাণবিক হামলার পথ বেছে নিতে পারেন ট্রাম্প: জো কেন্ট
- নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে শত শত শ্রমিক নিখোঁজ, ২৭৯ জন উদ্ধার
- কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ দ্রুত চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ-চীন ঐকমত্য
- রাজবাড়ীতে পুলিশের সামনে নারী উদ্যোক্তাকে মারধর, ভিডিও ভাইরাল
- ইরানে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে আফগান নাগরিকদের ফাঁসি: মানবাধিকার সংস্থা
- এক সপ্তাহে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলার ঘটনায় বিজেপিসির তীব্র নিন্দা
- তিস্তা পাড়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, স্থানীয় সংকট নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা
- সেবা শেষে এবার বকশিশও দাবি করছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি
- নতুন মৌসুমে স্থায়ী ঠিকানায় ফিরছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তারকা
- দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য বদলেই কমবে মাসের বাড়তি বিদ্যুৎ বিল
- তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে চীন-বাংলাদেশ বৈঠক
- বিগত ১৬ বছরে গুমের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘ অপেক্ষার ইতি চায় রাষ্ট্র
- ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা থেকে বাদ পড়ছেন কারা, প্রকাশ পেল অযোগ্যতার তালিকা
- ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, ৪ ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
- ট্রাম্পের ছেলে ব্যারনকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানে ভিডিও প্রকাশ
- লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম, নতুন রেকর্ডের পথে ভরি
- দুবার প্রস্তুতি, তারেক রহমানের দিল্লি সফর বারবার বাতিল, নেপথ্যে কী
- একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় ঘোষণা, অর্থ ফেরত শুরুর দিনক্ষণ চূড়ান্ত
- এক সপ্তাহে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মামলার ঘটনায় বিজেপিসির তীব্র নিন্দা
- বিদ্যুৎ খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া বড় চাপ: প্রতিমন্ত্রী
- নেপালে বিপর্যয়: শত শত মৃত্যু, নিখোঁজ ১৪০০
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশে আবহাওয়ার নতুন পূর্বাভাস
- নবম পে-স্কেল অনুমোদনের আড়ালে দুঃসংবাদ: বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সীমা: যেসব বিষয়ে নির্ভরতা বিপজ্জনক
- গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষমাণদের জন্য এলো বড় সুখবর
- চার বছরের বিরতি ভেঙে বড় পর্দায় ফিরে বক্স অফিসে ঝড়
- বাংলাদেশ একদিন জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে: হামিদুর রহমান আযাদ
- এটা প্রশ্ন না পল্টনের বক্তৃতা: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী








