যুদ্ধ এখন ইরানি ভূখণ্ডে! মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশে চরমে উত্তেজনা

ইরানের মাটিতে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের দুঃসাহসিক অভিযান এবং আকাশপথে ইরানের ভয়াবহ প্রতিরোধের মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইরান যুদ্ধের ৩৫তম দিনে (শুক্রবার, ৩ এপ্রিল) নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার করতে গিয়ে ইরানি বাহিনীর সরাসরি হামলার মুখে পড়ে মার্কিন উদ্ধারকারী দল। শনিবার (৪ এপ্রিল) দ্য টেলিগ্রাফ ও সিবিএস নিউজের বরাতে ইয়াহু নিউজ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরান একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পর তার দুই ক্রু সদস্যকে উদ্ধারে শুক্রবার রাতে এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়। উদ্ধার অভিযানে দুটি সামরিক হেলিকপ্টার এবং নিম্ন উচ্চতায় উড়ন্ত জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান অংশ নেয়।
তবে ইরানি বাহিনীর অতর্কিত হামলায় উদ্ধারকারী দুটি হেলিকপ্টারই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও তারা শেষ পর্যন্ত নিরাপদে ইরাকের দিকে ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছে, তবে একটি হেলিকপ্টারের ক্রুরা ছোট অস্ত্রের গুলিতে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা ঘটে যখন এফ-১৫ই বিমানের পাইলটদের উদ্ধার করতে গিয়ে একটি এ-১০ ওয়ারথগ (A-10 Warthog) যুদ্ধবিমান ইরানি বাহিনীর হামলার শিকার হয়। জীবন বাঁচাতে ওই বিমানের পাইলট সাগরে ঝাঁপ দিতে বাধ্য হন, যাকে পরবর্তীতে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
দ্য টেলিগ্রাফের তথ্যমতে, এফ-১৫ই বিমানের একজন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা গেলেও দ্বিতীয়জনের অবস্থান এখনো অজানা। ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমে ওই নিখোঁজ সেনাকে খুঁজে বের করতে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে চিরুনি তল্লাশি চালানোর দৃশ্য প্রচার করা হচ্ছে। বর্তমানে দ্বিতীয় পাইলটের খোঁজে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের এই বিপজ্জনক উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে অব্যাহত রয়েছে।
/আশিক
ইরানের ক্লাস্টার বোমায় কাঁপছে ইসরায়েল
ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের পর এবার দেশটির মধ্যাঞ্চলেও বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরান যুদ্ধের ৩৫তম দিনে চালানো এই হামলায় তেল আবিবসহ মধ্য ইসরায়েলের বেশ কিছু শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে রোশ হাইয়িন এলাকার একটি বহুতল অ্যাপার্টমেন্টে ভয়াবহ আগুন ধরে গেছে। এ ছাড়া এই হামলায় শহরের একটি উচ্চ-ভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইনে আঘাত হানায় বিশাল এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, পেতাহ তিকভা শহরের একটি ভবন এবং বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিবের বেশ কিছু রাস্তায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বড় ধরনের গর্ত ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বানি ব্রাক এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জানালার কাঁচ ভেঙে ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন, যেখানে বর্তমানে জরুরি উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে গিভাতায়িম এলাকাতেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া দ্য টাইমস অফ ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরানের ক্লাস্টার বোমা বা গুচ্ছবোমার আঘাতে রামাত গানে একটি ভবন ধসে পড়েছে।
এদিকে দক্ষিণ ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমি এলাকার একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, যার ফলে সেখানে তীব্র অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে এই বৃহৎ আকারের হামলা চালিয়েছে।
হামলার পর পুরো মধ্যাঞ্চলে সাইরেন বাজিয়ে সতর্কতা জারি করা হয় এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়। বর্তমানে ইসরায়েলি উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। এই হামলার ভয়াবহতায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন চূড়ান্ত যুদ্ধের দিকে মোড় নিয়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আল-জাজিরা
ইরানের আকাশসীমায় একের পর এক মার্কিন বিমান ধ্বংস
ইরান যুদ্ধের ৩৫তম দিন, গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর জন্য এক চরম বিপর্যয়ের দিন হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো এই দিনটিকে ‘মার্কিন-ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কালো দিন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। উদ্ভূত এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ফ্লোরিডার পূর্বনির্ধারিত সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে জরুরি ভিত্তিতে হোয়াইট হাউসে অবস্থান করছেন এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির আপডেট নিচ্ছেন।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) শনিবার এক বিশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের নতুন ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর দাপট চূর্ণ করা হয়েছে। এদিন ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তত দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, পাঁচটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার পাশাপাশি দুটি সামরিক হেলিকপ্টারে সরাসরি আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, খোমেইন ও জানজান প্রদেশের আকাশে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইসফাহানের আকাশে দুটি ‘এমকিউ-৯’ (MQ-9) অ্যাটাক ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া বুশেহর প্রদেশের আকাশে একটি ‘হার্মিস’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে তেহরান। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুরুতে ক্ষয়ক্ষতি অস্বীকার করে সব বিমান অক্ষত থাকার দাবি করলেও, পরবর্তীতে ইরান ঘটনার অকাট্য ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে দেয়।
এর পরপরই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করে যে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘এফ-১৫ই’ (F-15E) মডেলের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানটিতে থাকা দুজন ক্রুর মধ্যে পাইলটকে উদ্ধার করা গেলেও কো-পাইলট এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
একই দিনে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি ‘এ-১০ ওয়ার্টহগ’ (A-10 Warthog) কমব্যাট বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই বিমানেরও একজন ক্রু নিখোঁজ রয়েছেন। ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের ডিফেন্স সিস্টেমের ট্র্যাকিংয়ের মুখে পড়ে বিমানটি সাগরে আছড়ে পড়ে।
নিখোঁজ সেনাসদস্যদের উদ্ধারে যাওয়া দুটি ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টার লক্ষ্য করেও ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে গুলি চালানো হয়, তবে হেলিকপ্টারগুলো বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক বিস্ময়কর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে—বিধ্বস্ত বিমানের পাইলটদের জীবিত ধরে দিতে পারলে সাধারণ মানুষকে বড় অংকের পুরস্কার দেওয়া হবে। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের নতুন ‘মজিদ ইনফ্রারেড-গাইডেড সিস্টেম’ ব্যবহারের ফলে ইরানের আকাশসীমা এখন শত্রুপক্ষের জন্য সাক্ষাৎ মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী উদ্ধার অভিযান সচল রাখলেও নিখোঁজ ক্রুদের ভাগ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
/আশিক
খামেনির উত্তরসূরির চিঠি! ট্রাম্পের হুমকির মুখে নতুন মোড়
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধংদেহী নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) প্রকাশিত এই চিঠিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ট্রাম্পের এই যুদ্ধ কি আদেও ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা মার্কিনিদের স্বার্থ রক্ষা করছে? রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ান এই যুদ্ধের মাধ্যমে মার্কিন জনগণের অর্জন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
চিঠিতে পেজেশকিয়ান দাবি করেন, ইরান কখনোই আগ্রাসন বা উপনিবেশবাদের পথ বেছে নেয়নি। বরং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোতে সামরিক ঘাঁটি গেড়ে সরাসরি হুমকি তৈরি করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে তিনি 'বৈধ আত্মরক্ষা' হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান বা ইউরোপের সাধারণ মানুষের প্রতি ইরানিদের কোনো শত্রুতা নেই; বরং বিশ্ব রাজনীতির ক্ষমতাবানদের অর্থনৈতিক লালসার কারণেই ইরানকে শত্রু হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি যুদ্ধের বদলে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান।
তবে পেজেশকিয়ানের এই চিঠির পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ইরানকে ‘পৃথিবীর সবচেয়ে সহিংস শাসনব্যবস্থা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র আসা মানেই বিশ্বশান্তি ধ্বংস হওয়া। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুদ্ধের এক মাসেই ইরানের অধিকাংশ সামরিক শক্তি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে এবং এই সংঘাত এখন সমাপ্তির পথে।
/আশিক
১০টি শক্তিশালী মিসাইল! ইসরায়েলের বুক কাঁপিয়ে দিল ইরান
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত এখন এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চল লক্ষ্য করে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদিন প্রায় ১০টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে দেয় তেহরান। ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তেল আবিব, শেফেলা এবং এর আশপাশের এলাকায় সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বেজে ওঠে এবং বাসিন্দারা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, বেশ কিছু স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র বা এর ধ্বংসাবশেষ আঘাত হেনেছে, যেখানে বর্তমানে উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। বিশেষ করে একটি ক্ষেপণাস্ত্রে ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ বা গুচ্ছ বোমা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যা মাঝআকাশে বিস্ফোরিত হয়ে ছোট ছোট অসংখ্য বোমা ছড়িয়ে দেয়। এই হামলার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘বিস্তৃত ও জোরালো হামলা’ শুরু করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় পরিস্থিতি চরম অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই দীর্ঘায়িত সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৩৪০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর প্রতিশোধ নিতে ইরান কেবল ইসরায়েল নয়, বরং জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোর ওপরও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজার ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
সূত্র: আনাদোলু
শত্রুদের জন্য বন্ধ হরমুজ প্রণালি! সাগরে যুদ্ধের নতুন ছক কষছে ইরান
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখন পুরোপুরি তেহরানের নিয়ন্ত্রণে। বুধবার (১ এপ্রিল) এক বিশেষ বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, এই জলপথটি ইরানের শত্রুদের জন্য পুরোপুরি বন্ধ থাকবে এবং এটি বর্তমানে তাদের নৌবাহিনীর দৃঢ় ও কর্তৃত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দাবি করছেন যে ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে, ঠিক তখনই আইআরজিসি এই শক্তিশালী বার্তা দিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের দাবিকে কার্যত নাকচ করে দিল।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে যে, বুধবার ভোর থেকে তারা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ৮৯তম পর্যায়ের অংশ হিসেবে পাঁচটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে কাদির ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার দাবি করেছে তারা।
বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের মধ্যাঞ্চলে ‘অ্যাকুয়া ১’ নামক ইসরায়েলি একটি তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বর্তমানে অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে। ইরানের এই সিরিজ হামলা এটাই প্রমাণ করে যে, তাদের নৌবাহিনী এখনও শত্রুর বিরুদ্ধে পূর্ণ শক্তি নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতছাড়া হয়নি।
তবে এই যুদ্ধকালীন কঠোর পরিস্থিতির মধ্যেও মিত্র ও বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর জন্য নমনীয়তা দেখাচ্ছে ইরান। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো ছাড়া বাকিদের জন্য হরমুজে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে তেহরান। এর অন্যতম বড় উদাহরণ হলো বাংলাদেশে আটকে পড়া জাহাজগুলোর মুক্তি।
বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী এক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজ পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিল। বর্তমানে উভয় পক্ষই এই ছয়টি জাহাজ নিরাপদে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেও বাংলাদেশের জাহাজের এই মুক্তি বড় এক কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
/আশিক
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে আমিরাত? হরমুজ প্রণালি মুক্ত করার বড় পরিকল্পনা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ৩২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক বড় ধরনের মেরুকরণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে এবার সরাসরি সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের প্রধান ধমনী হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা নিরসনেই এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে আবুধাবি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং এশিয়ার কয়েকটি শক্তিশালী দেশ নিয়ে একটি সামরিক জোট গঠনের জোর আহ্বান জানিয়েছে। এই জোটের মূল লক্ষ্য হবে প্রয়োজনে সরাসরি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালিকে ইরানের কবল থেকে মুক্ত করা। আমিরাতের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে সামরিক ভূমিকা ঠিক কী হতে পারে, তা নিয়ে মিত্র দেশগুলোর মধ্যে নিবিড় আলোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা সরাসরি এই তথ্য অস্বীকার করেনি; বরং জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল স্বাধীন রাখতে একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক ঐক্যমত্য তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিবাদে ইরান এই জলপথটি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। আমিরাতের এই সম্ভাব্য সামরিক অংশগ্রহণের খবর মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আমিরাত যদি সরাসরি এই অভিযানে অংশ নেয়, তবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের পরিধি কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদী মন্দার ছায়া ফেলবে।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
হরমুজ প্রণালির মুখে আগুন! ইরানের বাণিজ্যিক বন্দরে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর বন্দর আব্বাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনী। বুধবার (১ এপ্রিল) কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির সন্নিকটে অবস্থিত শহীদ হাক্কানি বন্দরে এই নজিরবিহীন হামলা চালানো হয় বলে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে। এই হামলার ফলে ওই অঞ্চলে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
হরমোজগান প্রদেশের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও সামাজিক বিষয়ক উপ-গভর্নর আহমদ নাফিসি জানিয়েছেন, আক্রান্ত এই শহীদ হাক্কানি বন্দরটি মূলত সাধারণ যাত্রী পরিবহন এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হতো। এটি কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না। হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে দ্রুত অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলের পাশাপাশি বিশাল একটি অগ্নিনির্বাপক বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এই আকস্মিক ও বিধ্বংসী হামলায় কী পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা ঠিক কতজন মানুষ হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি নাফিসি। বর্তমানে উদ্ধারকর্মীরা বিধ্বস্ত এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটির অন্তত ১,৩৪০ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। শহীদ হাক্কানি বন্দরের মতো একটি সম্পূর্ণ অসামরিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা এই যুদ্ধের তীব্রতাকে এক ভয়াবহ রূপ দিয়েছে। এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তেহরানও। তারা জানিয়েছে, ইসরায়েল ছাড়াও জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে তারা নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই এক মাসের যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কেবল দুই দেশের প্রাণহানিই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত, যেখান দিয়ে বৈশ্বিক তেলের একটি বিশাল অংশ পরিবাহিত হয়। এই সংঘাতের ফলে নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম গত কয়েক সপ্তাহে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর এই ধারাবাহিক হামলা মূলত ইরানের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা। অন্যদিকে, তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হলে তারা এর ‘দাঁতভাঙা’ জবাব দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পুরো বিশ্ব অর্থনীতি একটি গভীর মন্দার দিকে ঢেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
যুদ্ধের ১ মাস: ১৬ হাজার গোলাবারুদ আর ৮০০ বিমান হামলায় বিধ্বস্ত ইরান!
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রথম মাস পূর্ণ হতেই সংঘাতের এক ভয়াবহ পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের এক মাসের অভিযানের বিস্তারিত খতিয়ান প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, গত এক মাসে ইরানের অভ্যন্তরে ৮০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালানো হয়েছে এবং প্রায় ১৬ হাজার বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে আইডিএফ (IDF)।
ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, এই হামলায় ২ হাজারেরও বেশি ইরানি সৈন্য ও কমান্ডার নিহত হয়েছেন এবং ৪ হাজার লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলের এই বিশাল সংখ্যার বিপরীতে ইরান এক ভিন্ন ও হৃদয়বিদারক চিত্র তুলে ধরেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৯৩৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যার মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, নিহতদের মধ্যে ২৪০ জন নারী এবং ২১২ জন শিশু রয়েছে; এমনকি আট মাস বয়সী এক শিশুও এই যুদ্ধের বলি হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অতীতেও বেসামরিক নাগরিকদের 'যোদ্ধা' হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের একটি ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছিল যে, ইসরায়েল যাদের যোদ্ধা দাবি করেছিল, বাস্তবে তাদের মাত্র ১৭ শতাংশ ছিল সক্রিয় লড়াকু। ফলে ইরানের ক্ষেত্রেও ইসরায়েলের দেওয়া নিহতের সংখ্যা এবং তাদের পরিচয় নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এখন তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিসংখ্যান যুদ্ধাপরাধের নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
/আশিক
ইরানের পক্ষে লড়বে চেচেন যোদ্ধারা! কাদিরভ বাহিনীর ‘জিহাদ’ ঘোষণা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ এখন এক ভয়ংকর বৈশ্বিক রূপ নিতে যাচ্ছে। সোমবার (৩০ মার্চ) চেচেন নেতা রমজান কাদিরভের অনুগত দুর্ধর্ষ ‘কাদিরভতসি’ যোদ্ধা বাহিনী ঘোষণা করেছে যে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট ইরানে কোনো স্থল অভিযান শুরু করলে তারা তেহরানের পক্ষে লড়তে রণক্ষেত্রে নামতে প্রস্তুত।
প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে চেচেন যোদ্ধারা এই সংঘাতকে ‘শুভ ও অশুভের’ লড়াই এবং মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করাকে ‘জিহাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে লড়ার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই বাহিনী এখন ইরানের সীমান্তে মোতায়েন হওয়ার অপেক্ষায় আছে।
অন্যদিকে, এই যুদ্ধে ইউক্রেনের সরাসরি সম্পৃক্ততা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি দাবি করেছেন যে, কিয়েভ এই অঞ্চলে ‘শত শত বিশেষজ্ঞ’ পাঠিয়েছে যারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছে।
ইরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে, ইউক্রেনের এই হস্তক্ষেপ যুদ্ধের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করবে এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনিকে হত্যার পর শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন চেচেন যোদ্ধা এবং ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে একটি বৈশ্বিক প্রক্সি যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে।
বর্তমানে ইরানও বসে নেই; তারা ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান ও মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে মিনাবে ১৭০ জন স্কুলছাত্রসহ অসংখ্য বেসামরিক নাগরিক নিহতের ঘটনায় ইরানিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
চেচেন যোদ্ধাদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এবং ইউক্রেনের হস্তক্ষেপের খবর এই সংঘাতের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্ব সম্প্রদায় এখন রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছে যে, শেষ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী স্থল অভিযানে নামে কি না এবং চেচেন যোদ্ধারা সরাসরি এই লড়াইয়ে যোগ দেয় কি না।
সূত্র: প্যালেস্টাইন করনিকলস
পাঠকের মতামত:
- ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা হতাহত বাড়ছে, আহত ও নিহত যত
- যুদ্ধ এখন ইরানি ভূখণ্ডে! মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশে চরমে উত্তেজনা
- বিমান পতন সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে আলোচনায় প্রভাব পড়বেনা: ট্রাম্প
- ব্যর্থ হলো পাকিস্তানের মধ্যস্থতা! ওয়াশিংটনের সাথে সংলাপে বসতে নারাজ ইরান
- কে আগে পৌঁছাবে, যুক্তরাষ্ট্র না ইরান? নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে নিয়ে রুদ্ধশ্বাস লড়াই
- ইরানের ক্লাস্টার বোমায় কাঁপছে ইসরায়েল
- ৯ জেলায় তাপপ্রবাহের মরণ কামড়! ঢাকাবাসীর জন্য দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস
- ভরিপ্রতি নতুন দরে কাঁপছে সোনার বাজার
- আজ বের হওয়ার আগে সাবধান! দেখে নিন ঢাকার কোথায় কোথায় দোকান বন্ধ
- আজ ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- জেনে নিন আজকের নামাজের সঠিক সময়সূচি
- ইরানের আকাশসীমায় একের পর এক মার্কিন বিমান ধ্বংস
- কুমিল্লা আইনজীবী নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের একচেটিয়া জয়
- ভোলায় শিশুকে সংঘবদ্ধ নির্যাতনের চেষ্টা, ভর্তি হাসপাতালে
- যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খুব সহজেই হরমুজ খুলে দিতে পারবে: ট্রাম্প
- জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ‘অননুমোদিত যুদ্ধ’ থামাতে চীনের কড়া বার্তা
- ইরানের আকাশে আরো একটি এফ-৩৫ ধ্বংস? ছবি প্রকাশ
- ইরানের তালিকায় উপসাগরের সেতুগুলো: কোথায় আঘাত হানতে পারে তেহরান?
- নতুন নিয়মে সন্ধ্যার পর যেসব বিপণিবিতান খোলা থাকবে
- মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ ধ্বংসের দাবি ইরানের
- সপ্তাহজুড়ে কেমন ছিল শেয়ারবাজার
- আবারও স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরি ছাড়ালো যত
- জ্বালানি বাঁচাতে কয়েকটি কড়া পদক্ষেপে সরকার
- মার্কিন রিপোর্টে ইরানের সামরিক সক্ষমতার চিত্র
- ট্রাম্পের নতুন হুমকি, তেহরানের পাল্টা প্রস্তুতি ও হরমুজ ঘিরে বৈশ্বিক উদ্বেগ
- বাংলাদেশ ব্যাংক–এর সাবেক গভর্নরের দুর্নীতি
- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপছে ইসরায়েল
- আজকের খেলার সূচি, কোথায় কোন ম্যাচ
- ৩ এপ্রিল: আজকের নামাজের সময়সূচি
- ইরান যুদ্ধে দৈনিক কত ডলার ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের
- আজ কোথায় খোলা, কোথায় বন্ধ মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান
- খামেনির উত্তরসূরির চিঠি! ট্রাম্পের হুমকির মুখে নতুন মোড়
- মোস্তাফিজ কেন আইপিএল ছাড়া? অবশেষে মুখ খুললেন আইপিএল চেয়ারম্যান
- ভারতের বিপক্ষে মহাযুদ্ধ! কাল সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের মেগা ফাইনাল
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রেড অ্যালার্ট! দেশে বাড়ছে হামের প্রকোপ
- সাংবাদিক হেনস্তা করা চান্দিনার সেই এসিল্যান্ড সিলেট বিভাগে বদলী
- আবহাওয়া অফিসের রেড অ্যালার্ট! ৪ জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা
- হাসনাত আব্দুল্লাহর তোপ ও মন্ত্রীর সাফাই: জ্বালানি নিয়ে সরগরম জাতীয় সংসদ
- ইরান ইস্যুতে মিত্রদের বিচ্ছেদ! ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনার বিরুদ্ধে সোচ্চার ফ্রান্স
- সংসদে ১৩৩ অধ্যাদেশের মহাযজ্ঞ! ৯৮টি পাস, বাতিল হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ ৪টি
- আদানির চুক্তি এখন ‘গলার কাঁটা’! বড় অ্যাকশনে যাচ্ছে সরকার
- সংসদে বিচার চাইলেন রুমিন ফারহানা
- কালিগঞ্জে কাটুনিয়া রাজবাড়ী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহাব চূড়ান্ত বরখাস্ত
- ট্রাম্পের হুমকির পর যুদ্ধ থামাতে চীনের জরুরি আহ্বান
- ০২ এপ্রিল ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ০২ এপ্রিল ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি
- ০২ এপ্রিল ডিএসই: শীর্ষ ১০ গেইনারের তালিকা প্রকাশ
- জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- টাকার বিপরীতে আজকের ডলার-ইউরো-পাউন্ড রেট, কী বাড়ল
- ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন বর্ষণ
- ভারতের বিপক্ষে মহাযুদ্ধ! কাল সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের মেগা ফাইনাল
- সোমবারও স্বর্ণের বাজারে আগুনের উত্তাপ, রেকর্ড দামে কেনাবেচা
- স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ভরিতে বেড়েছে যত
- স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা তুঙ্গে: মাত্র কয়েক ঘণ্টায় বদলে গেল সব হিসাব
- ৩১ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- চিরদিনই তুমি যে আমার খ্যাত নায়ক রাহুলের অকাল প্রয়াণ
- তাসের ঘরের মতো বিধ্বস্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা: মধ্যপ্রাচ্যের সব ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি ইরানের
- ইরানের পক্ষে লড়বে চেচেন যোদ্ধারা! কাদিরভ বাহিনীর ‘জিহাদ’ ঘোষণা
- ২৯ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের ডাক: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাজপথে নামছে লাখো মানুষ
- চীনের ৫ দফা প্রস্তাব! ইরান যুদ্ধ থামাতে বেইজিং-ইসলামাবাদ ঐতিহাসিক চুক্তি
- কালিগঞ্জে কাটুনিয়া রাজবাড়ী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহাব চূড়ান্ত বরখাস্ত
- বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি: সংকটের মুখে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা
- ২৯ মার্চ ডিএসই: দরপতনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি
- শেষ ৪ মিনিটের ঝড়ে উড়ে গেল ক্রোয়েশিয়া! ব্রাজিলের বিধ্বংসী জয়








